#হৃদয়ের গভীরে যে তোমারই নাম প্রিয়সী
#পর্বঃ১
#পাপড়ি জাহান…
মন্ত্রী আয়মান সাদিক কে বিয়ে না করার কারন কি শুধু বয়সের ডিফারেন্স?আমি বুড়ো তাই কি আমায় বিয়ে করতে চাচ্ছো না?
নিজের সামনে বসে থাকা সুদর্শন পুরুষটির মুখ থেকে এমন কথা শুনে খানিকটা নিশ্চুপ হয়ে গেল মেহের।কি জবাব দিবে ভেবে পেলনা।নিজের থেকে বয়স এত বড় যুবকে সে কোনভাবেই স্বামী হিসেবে মানতে পারবেনা তাইতো যত বাহানা বিয়ে ভাঙার জন্য।কিন্তু শেষ রক্ষা আর হলো না।
আড়চোখে সুদর্শন যুবকটার দিকে একবার তাকালো মেহের।নিঃসন্দেহে এমন সুদর্সন পুরুষ সে আগে কখনো দেখেনি।যুবকটির বয়স ৩০। কিন্তু অতিরিক্ত সুদর্সন হওয়ার কারনে বুঝার উপায় নেই যে লোকটার বয়স ৩০।পরনে হালকা সাদা শার্ট, তার ওপর নীলচে ব্লেজার, যা তার উজ্জ্বল ফর্সা গায়ের সঙ্গে দারুণ মানিয়েছে।
গভীর বাদামী চোখ দুটি রহস্যময়, যেন একবার তাকালেই হারিয়ে যেতে হয়। ঘন কালো চুলগুলো সামান্য এলোমেলো, তবুও মোহনীয়।সুঠাম চিবুক, নিখুঁত নাক আর ঠোট দুটো টকটকে গোলাপি রংয়ের যা তার গম্ভীর মুখবয়ের সাথে চমৎকার মানিয়েছে।।
অন্যদিকে আয়মান কফির কাপে চুমুক দিয়ে নিজের হবু বউয়ের দিকে কিছুটা বিরক্তি নিয়ে তাকিয়ে রইল।১০ দিন পর বিয়ে আর সেখানে কিনা এই মেয়ে বলছে বিয়ে করবেনা।এটা কোন কথা হলো।এই মেয়ের পাগলামির জন্য সব কাজ ফেলে তাকে এই ভরদুপুরে ভার্সিটিতে আসতে হলো।খানিকটা রেগেও আছে আয়মান।এই মেয়ে কে কি দেখে যে তার দাদী পছন্দ করল।সেটাই ভেবে পাচ্ছেনা।এই মেয়েতো প্রথম থেকেই বিয়েতে রাজি ছিল।তাহলে হঠাৎ করে কেন এমন বেকে বসল।এসব ভেবেই ভ্রুকুচকে তাকিয়ে রইল মেহেরের দিকে।
অনেকক্ষন হওয়ার পরও মেহেরের থেকে কোন জবাব না পেয়ে তার রাগ মাথায় উঠে গেল।কিন্তু নিজের গলাটা কিছুটা নরম করল।যতই হোক মেয়েটা তার হবু বউ।তার সাথেতো আর খারাপ ব্যবহার করতে পারেনা।
কিন্তু নিজের মন্ত্রী পেশার কারনে আয়মানের গলাটা খানিকটা গম্ভির শুনালো।
কি ব্যাপার তুমি কথা বলছো না কেন।বোবা নাকি তুমি।
মেহের নিজের ভাবনায় মশগুল ছিল।হঠাৎ এমন গম্ভির কন্ঠ শুনে চমকে উঠল।নিজেকে সামলিয়ে বলল মানে – আসলে।বলেই তোতলাতে লাগল।
আয়মান এবার প্রচুর রেগে গেল।তাই রাগি কন্ঠে বলল এই শুনো আমার সামনে সবসময় স্পষ্ট ভাবে কথা বলবে।এরকম তোতলাতে জেন তোমাকে নেক্সট টাইম আর না দেখি। মাইডন্ট ইট।
মেহের এবার চোখ ঘুরিয়ে চারপাশে তাকালো।ভার্সিটির লাইব্রেরি হওয়ার কারনে সবারই ব্যস্ত থাকার কথা।কিন্তু না ভার্সিটির মেয়েরা চোখ দিয়ে গিলে খাচ্ছে মন্ত্রী আয়মান সাদিককে।একে তো মন্ত্রী তার উপর দেশের সব থেকে ধনী পরিবারের ছেলে সে।প্রতিটা নিউজ চ্যানেলে তাকে প্রায় দেখানো হয়।কখনো সুনাম করে আবার কখনো বা দুর্নাম করে।আর মেহের যে ভার্সিটিতে পরে।সে ভার্সিটি আয়মানের বাবার তৈরি করা।তাই ভার্সিটি সবাই তাকে এক নামে চেনে।
মেহেরের খানিকটা রাগ লাগল।কেন এভাবে মেয়েরা আয়মানের দিকে তাকিয়ে থাকবে। আয়মান শুধু তো তার।হঠাৎ চমকে উঠল। নিজের ভাবনার কথা ভেবে।আমি কেন এসব ভাবছি।আমি কি এই সুদর্শন যুবকটির প্রেমে পরলাম নাকি??
আয়মান মেহেরের এমন নিশ্চুপ হয়ে বসে থাকা দেখে। খানিকটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল।
দেখ দাদীজান তোমাকে পছন্দ করেছে।তাই আমি না করেনি বিয়েতে।আর আমি যতদুর জানি তুমি শুরু থেকেই বিয়েতে রাজি ছিলে।কিন্তু হঠাৎ কি এমন হলো যে তুমি বিয়ে করবে না??
মেহের পানি খেয়ে গলা ভিজিয়ে বলল
আমি নিজের থেকে বয়সে ১০বছরের বড় কাউকে বিয়ে করতে চাইনা।ছোট বেলা থেকেই আমার পছন্দ ছিল আমি যাকে বিয়ে করব তার বয়স আমার থেকে ৩/৫ বছরের বেশি হবে।তার বেশি নয়।
আয়মান মেহেরের কথা শুনে রেগে বোম হয়ে গেল।এইটুকুনি একটা পিচ্ছি মেয়ে কিনা তার বয়স নিয়ে কথা বলছে।যেখানে কিনা পুরো দেশের মেয়েরা তার জন্য পাগল।সেখানে কিনা এই মেয়ে তাকে বয়সের জন্য রিজেক্ট করছে।এটা ভাবতেই আয়মান নিজের সিল্কি চুলগুলো পিছনে চেপে ধরল।
মেহের আয়মানের এই অবস্থা দেখে ভয়ে কেপে উঠল।আয়মানের রাগ সম্পর্কে সে জানে।এই লোক সহজে রাগে না কিন্তু একবার রেগে গেলে তাকে থামানো বড্ড কঠিন হয়ে যায়।এটা আয়মানের দাদীই মেহেরকে বলেছে।আয়মান নাকি তার দাদার স্বভাব পেয়েছে।
তারপর ১০ মিনিট যাওয়ার পর ।আয়মান নিজের পকেট থেকে ফোন বের করে একটা নাম্বারে ডায়াল করল।
হ্যালো দাদীজান। আমি বলছিলাম কি বিয়েতো একদিন হবেই তাই না। তো আমি চাইছিলাম আজকেই নাহয় কবিনটা হয়ে যাক।বিয়ের অনুষ্ঠানিকতা না হয় ১০ দিন পর হবে।
আয়মানের এমন কথাশুনে খানিকটা চিন্তায় পরলেন সেতারা খান। তবুও নিজেকে সামলিয়ে বললেন হঠাৎ এ কথা কেন বলছো আয়মান।
Actually দাদীজান নিজের হবু বউয়ের প্রতি বড্ড প্রেম প্রেম পাচ্ছে।তাই বিয়ের কাজটা আজকেই সারতে চাই।তুমিও এ বয়সটা পার করে আসছো।আশা করি তোমাকে বুঝাতে হবে না।
নিজের প্রানপ্রিয় নাতির মুখ থেকে এমন আবেগি কথা শুনে খানিকটা সস্তির নিশ্বাস ফেললেন
সেতারা খান।তারপর বললেন ওকে তাহলে আমি আজকেই মেহেরের বাবাকে আসতে বলব যাতে করে আজকেই বিয়ের কাজটা সারা হয়।
আয়মান যদিও কিছুটা রেগে আছে।তবুও দাদীর কাছে স্বাভাবিক থাকার জন্য একগাল হেসে বলল দ্যা গ্রেট দাদী। অবশেষে তুমি আমার প্রেমটা বুঝলে।আর কিছুক্ষুন কথা বলে ফোনটা কেটে দিল।
মেহের আয়মানের এমন কার্যকলাপ দেখে চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে রইল।ও আল্লাহ এই লোক এগুলো কি বললো।আমায় কি সত্যিই এই লোককে বিয়ে করতে হবে।হ্যা মানছি আমি এই লোকটাকে অম্ভব পছন্দ করি। তাইতো বিয়েতে রাজি হয়েছি।কিন্তু উনার রাজনীতীর ভয়ংকর কাহিনির কারনে আমি উনাকে কোনভাবেই স্বামী হিসেবে মানতে পারবোনা।যে করেই হোক বিয়েটা ভাংতেই হবে। at any cost…….
.
আপনি এটা কি করলেন দাদীজানকে এসব কেন বললেন??
আয়মান কিছুটা তাচ্ছিল্য করে বলল ইউনো মেহের জান।তোমার বুড়ো বরটার তোমার প্রতি বড্ড প্রেম প্রেম পাচ্ছে তাই এত দ্রুততার সাথে বিয়েটা করছে।
মেহের আয়মানের তাচ্ছিল্য ভরা কন্ঠ শুনে খানিকটা রেগে গেল।
দেখুন আমি কিন্তু খুব জেদি।আমাকে দিয়ে জোর করে কোন কিছু হবে না বলেদিলাম।
আয়মান হো হো করে হেসে দিল।
তো মিস জেদি রানী।আমি তো চেয়েছিলাম তোমার জীবনে হির হতে কিন্তু তুমি তো তা হতে দিলে না তাই ভিলেন হয়েই নাহয় তোমার জীবনে ডুকলাম।ব্যাপারটা ইন্টারেস্টিং না।
মেহের কিছু বলতে যাবে কিন্তু তার আগেই আয়মানের সহকারি দৌড়ে এসে মাথা নিচু করে কাপতে কাপতে বলল স্যার দুপুর ২ টায় আপনার মিটিং আছে।এখন বাজে ১.৫০। তাই বলছিলাম কি স্য্য্যা…..
আর কিছু বলার আগেই আয়মান হাত উঠিয়ে সহকারি মুখ বন্ধ করে দিল।হাত দিয়ে ইশারা করল।চলে যাওয়ার জন্য।
সহকারী খানিকটা ভয় পেয়ে একবার আয়মানের দিকে তাকিয়ে চলে গেল।ভুল করেও মেহেরের দিকে তাকালো না।কারন তাদের নিষেধ আছে মন্ত্রী আয়মান সাদিকের হবু বউয়ের দিকে না তাকানোর।
আয়মান চেয়ার থেকে উঠে নিজের সানগ্লাসটা ফু দিয়ে পরিস্কার করে চোখে পরল।তারপর মেহেরের দিকে তাকিয়ে বলল তো মিস জেদি রানী কাবিনের পর না হয় আপনার সাথে সাক্ষাত করব।তখন বুঝবেন আপনার বুড়ো বর টা ঠিক কতটা রোমান্টিক। বলেই আয়মান হন হন করে সামনের দিকে হেটে চলে গেল।পিছন পিছন তার ৬ জন বর্ডিগার্ড গেল।সহকারি ফাইলপত্র নিয়ে তাল মিলিয়ে হাটতে লাগল।আশেপাশের মেয়েরা এখনও হা করে তাদের স্বপ্নপুরুষকে দেখছে।
মেহের আয়মানের যাওয়ার দিকে তাকিয়ে রইল।কিছু বলতে গিয়েও বলতে পারছেনা।প্রচুর কান্না পাচ্ছে।এই লোক বিয়ের আগেই এমন না জানি বিয়ের পর কেমন হবে।আদো তার মতামতের গরুত্ব দিবেতো।
চলবে।
