Thursday, June 4, 2026







বাড়ি"ধারাবাহিক গল্প"তোকে চাই (সিজন -২)তোকে চাই❤(সিজন -২)পর্ব:১+২+৩

তোকে চাই❤(সিজন -২)পর্ব:১+২+৩

তোকে চাই❤(সিজন -২)পর্ব:১+২+৩
#writer : নৌশিন আহমেদ রোদেলা❤
#part: 1
.
.
?
.
ভার্সিটির প্রথম দিনেই যে কোনো ছেলের হাতে দাবাং মার্কা চড় খেয়ে মানসম্মান খোয়াতে হবে ভাবি নি কখনো।আমি নৌশিন রোদেলা।।পরিবারের ছোট মেয়ে হওয়ায় চড়,থাপ্পড় নামক বস্তুগুলো আমার কপালে খুব কমই জুটেছে।যেখানে বদ্ধ ঘরে একটা থাপ্পড়েই আমার মুখ চোখ লাল হয়ে ওঠে সেখানে ভার্সিটির মেইন গেইটে কোনো ছেলের হাতে থাপ্পড় খেয়ে এভাবে সং এর মতো দাঁড়িয়ে আছি ভাবতেই কান্না পাচ্ছে আমার। শুধু কান্না নয় ভীষনরকম কান্না।।সেই সাথে রাগও হচ্ছে ব্যাপক,,ইচ্ছে হচ্ছে সামনে দাঁড়িয়ে থাকা ছেলেটার চুলগুলো টেনেটুনে ছিঁড়ে ফেলি, অসভ্য ছেলে একটা।। এসব ছেলের জন্যই আজ বাংলাদেশ রসাতলে।।রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে বলেই উঠলাম….
.
এই এই আপনি আমায় মারলেন কেন??হাউ ডেয়ার ইউ??
.
আপনি আমায় মারলেন কেন সেটা আগে বলুন। তারপর না হয় আমি বলছি।
.
কথাটা বলেই নির্বিকার ভঙ্গিতে প্যান্টের পকেটে হাত গুঁজে দাঁড়ালো ছেলেটা।ছেলেটার ভাব ভঙ্গি দেখেই বুঝা যাচ্ছে সে ব্যাপক মুডে আছে। দরকার পড়লে আরেকটা চড়ও বিনা দ্বিধায় বসিয়ে দিতে পারে আমার গালে।কিন্তু আমিও তো ছেড়ে দেওয়ার পাত্রী নই…আমাকে চড় মেরে চলে যাবে তা আমি কিছুতেই হতে দিতে পারি না ইম্পসিবল।। কিন্তু কি বলবো সেটাও বুঝতে পারছি না,,পেটে কথার পসরা সাজানো থাকলেও গলার কাছে এসে অদ্ভুত ভাবে জড়িয়ে যাচ্ছে কথাগুলো।।ব্যাপারটা ব্যাপক বিরক্তিকর।।এবং আমিও তাতে চরম রকম বিরক্ত।আমার বান্ধবী চিত্রার সাথে গল্প করতে করতেই ভার্সিটির গেইটে পা রেখেছিলাম কিছুক্ষণ আগে।কিন্তু ভাগ্য নামক জিনিসটা যে এভাবে বেইমানি করবে বুঝতে পারি নি।। তাইতো ভাগ্যের চক্রান্তে নিজের প্লাজুর সাথেই পা লেগে উল্টে পড়লাম মুহূর্তেই।।শুধু উল্টে পড়লেও মানসম্মান কিছু বাঁচলেও বাঁচতো কিন্তু পড়লাম তো পড়লাম কোথায়?? একদম এই খাটাসটার উপর।। আর সে আমায় সামলাতে না পেড়ে আমাকে নিয়ে একদম নিচে।।বিনা টিকেটে সবাইকে বাংলা রোমান্স দেখিয়ে উঠে দাঁড়িয়েই ব্যাটাকে দিলাম এক থাপ্পড়।।ছেলেটা গালে হাত দিয়ে অবাক চোখে আমার দিকে তাকাতেই আমার হার্টবিট মুহূর্তেই হাজার গতিতে ছুটতে লাগলো।।চোখগুলো যেনো আটকে গেছে ছেলেটার চোখে মুখে।।ছেলেটা কি সত্যিই এতোটা সুন্দর নাকি আমার কাছেই এতোটা সুন্দর লাগছে ঠিক বুঝতে পারছি না।।তবে এটা ঠিকই বুঝতে পারছি ১৮ বছরের রেকর্ড ভেঙে আজ আমিও কারো উপর ক্রাশড।।কিন্তু এই ক্রাশ বেশিক্ষণ টিকলো না।।উনার হাতের ভুবন কাঁপানো থাপ্পর খেয়ে ক্রাশটা হজম হয়ে গেলো মুহূর্তেই।।পাশের ছেলেটার বাজখাঁই গলায় ভাবনার প্রহর কাটিয়ে ভ্রু কুচঁকে তাকালাম…..
.
ভাই?আপনি যান…এই মাইয়ারে আমরা দেখতাছি।।দেইখ্যা তো মনে হয় ফার্স্ট ইয়ার।।আগে তো কখনও দেখি নাই ভার্সিটি চত্তরে।
এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ফেসবুক গ্রুপে।
আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি মাসে জিতে নিন নগদ টাকা এবং বই সামগ্রী উপহার।
শুধুমাত্র আপনার লেখা মানসম্মত গল্প/কবিতাগুলোই আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হবে। এবং সেই সাথে আপনাদের জন্য থাকছে আকর্ষণীয় পুরষ্কার।

গল্পপোকার এবারের আয়োজন
ধারাবাহিক গল্প প্রতিযোগিতা

◆লেখক ৬ জন পাবে ৫০০ টাকা করে মোট ৩০০০ টাকা
◆পাঠক ২ জন পাবে ৫০০ টাকা করে ১০০০ টাকা।

আমাদের গল্প পোকা ফেসবুক গ্রুপে জয়েন করার জন্য এই লিংকে ক্লিক করুন: https://www.facebook.com/groups/golpopoka/?ref=share


কথাটা শুনে মুচকি হেসে আমার দিকে এগিয়ে এলো ছেলেটি।।হাজার সাহস দেখালেও উনাকে এগিয়ে আসতে দেখে পিছিয়ে গেলাম কয়েক পা।গেইটের গায়ে লেগে দাঁড়াতেই একহাতে পথ আটকে আমার উপর ঝুঁকে পড়লেন উনি।।এতোক্ষণে বুঝতে পারছি মারাত্মক রকমের ভুল করে ফেলেছি আমি।এরা নিশ্চয় ভার্সিটির সিনিয়র ভাই।।ভার্সিটির রেগিং এর কথা আগেই শুনেছি আর এতো কাহিনীর পর আমার উপর কত ডিগ্রী অত্যাচার করা হবে তাও বেশ আন্দাজ করতে পারছি।।উনি আমার দিকে আরো ঝুঁকে এসে বলে উঠলেন-” ফাস্ট ইয়ার তবু এতো তেজ?” আরো কিছু বলতে যাবেন তারআগেই পেছন থেকে একটা ছেলে বলে উঠলো…
.
শুভ্র?তোকে প্রিন্সিপাল স্যার ডাকে….
.
কথাটা কানে যেতেই ঘাড়টা হালকা বাঁকিয়ে ভ্রু কুচঁকে বলে উঠলো সে…” কেন??”
.
নবীনবরনের অনুষ্ঠান নিয়ে কিছু বলবে মে বি।।
.
ওহ্ হ্যা।।রাজ্জাক স্যার বলেছিলো আমায়।।ওকে চল।।
.
কথাটা বলে আমার দিকে তাকিয়ে বাম হাতে রাখা সানগ্লাসটা পড়তে পড়তে একটা ডেবিলমার্কা হাসি দিয়ে বলে উঠলেন…”তোমায় তো আমি পরে দেখে নিবো…জাস্ট ওয়েট এন্ড ওয়াচ”
.
.
?
.
.
ক্যান্টিনের এককোনে বসে পা দুলাচ্ছি আর কফি খাচ্ছি।।আশেপাশে যে আমায় নিয়ে ফিসফাস হচ্ছে তাও বুঝতে পারছি।।এদিকে চিত্রা গালদুটোকে কলা গাছের মতো ফুলিয়ে অফ মেরে বসে আছে।।এমন ভাব করছে যেন তার সদ্য বিবাহিতা জামাই বাসরের আগেই ভেগে গেছে….
.
ওই তোর কি হইছে?এভাবে গাল ফুলিয়ে বসে আছিস কেন??(ভ্রু কুচঁকে)
.
তো কি করবো শুনি??এটা তুই কি করলি বল তো?
.
আমি আবার কি করলাম??(অবাক হয়ে)
.
কিছুই করিস নি??সকালে এমন একটা ঘটনা ঘটিয়ে এখন নিশ্চিন্তে কফি খাচ্ছিস??কেমনে পারিস তুই??
.
আরে…কি এমন করেছি বল তো??একটা থাপ্পড়ই তো মারছি।।শোন…ওই ছেলেকে গণদোলাই দিতে পারলে শান্তি পেতাম।ভেবে দেখ, কতো এতো বড় সাহস আমায় মারে??হুহ
.
তার আগে নিজে গণদোলাই থেকে বাঁচ,, তারপর নাহয় উনাকে নিয়ে ভাবিস।।
.
মানে??
.
মানে সিম্পল।।উনি কে জানিস??(ভ্রু নাচিয়ে)
.
কেন রে উনি কি প্রধানমন্ত্রীর পোলা?
.
না…তবে তার থেকে কমও না।।উনি হলেন পলিটিক্যাল লিডার তারসাথে ক্লাস টপার।।(একটু নড়েচড়ে বসে)উনার ডিপার্টমেন্টে এই ৩৫ বছরে উনিই একমাত্র সিজিপিএ ৪ পেয়ে গ্রেজুয়েশন কমপ্লিট করেছেন।।পয়ত্রিশ বছরের রেকট ভেঙে চুরমার করে নতুন ইতিহাসটা তিনিই তৈরি করলেন এবার।।পলিটিক্স, পড়াশোনা দুটো একসাথে কিভাবে কভার করেন কে জানে??এখন মাস্টার্স করছেন।।যেকেনো সময় এই ভার্সিটিতেই টিচার হয়ে যেতে পারেন।।প্রফেসরদের ফেবরিট স্টুডেন্ট।।ছেলেদের ফেবরিট বড় ভাই।।আর মেয়েদের ক্রাশ আইকন।। বন্ধুদের কথা না হয় বাদই দিলাম।।সো এবার বল….গণদোলাই কে খাবে তুই নাকি সে??(দাঁত কেলিয়ে)
.
চিত্রার কথায় এবার চিন্তা বাবাজি আমার মাথায় বেশ কড়াকড়িভাবে চড়ে বসলেন৷।সত্যি তো।।ভার্সিটি পপুলার ছেলেকে চড় মেরেছি ব্যাপারটা নিঃসন্দেহে ভয়ানক দুঃসাহস।।কিন্তু আমি কি করে জানবো যে সে এত্তো পপুলার।।একটা সাইনবোর্ড গলায় ঝুলিয়ে ঘুরলেই তো পারে।।যত্তসব।। ।।কিছুক্ষণ চুপ থেকে শুকনো গলায় একটা ঢুক গিলে নিয়েই বলে উঠলাম…
.
তুই জানলি কিভাবে এতো সব কাহিনী??(ভ্রু কুচঁকে)
.
আপুর কাছে শুনেছি।।আপু তো এই ভার্সিটিতেই পড়ে আর উনি আপুরও ক্রাশ।।আম অলসো ক্রাশড অন হিম রোদ।।
.
আমি চিত্রার দিকে একবার অসহায় দৃষ্টিতে তাকিয়েই কফি খাওয়ায় মন দিলাম।।ঠিক তখনই সেই সাদা বিলাই আই মিন আমাদের শ্রদ্ধেয় শুভ্র ভাইয়া এসে চেয়ার টেনে,ঠিক আমার মুখ বরাবর বসে পড়লেন।।তারসাথে আরো সাত আটজন ছেলেমেয়ে ঘিরে বসলো আমাদের।।এরমধ্যে পাঁচজন ছেলে আর দুজন মেয়ে।।এদের হাবভাবে দেখেই বুঝা যাচ্ছে… এরা আমায় বাঁশ দিতেই এসেছে।। আমি শুকনো গলায় কয়েকটা ঢুক গিলে চারপাশে তাকাতে লাগলাম,,উদ্দেশ্য কোনো ফাঁকফুকুর পেলেই দৌড় লাগাবো।।কিন্তু সেটা যে নিতান্তই নিরাশা তা বুঝতে বাকি রইলো না আমার।চিত্রার দিকে তাকিয়ে দেখি তার মুখও ফ্যাকাশে হয়ে এসেছে।।দেখেই বুঝা যাচ্ছে বেচারী ব্যাপক ভয় পেয়েছে।।আমিও যে কম পেয়েছি তা না,,,কিন্তু এদের কাছে নিজের ভয়টাকে কিছুতেই প্রকাশ করতে চাচ্ছি না।।তাই অসীম সাহস নিয়ে বলে উঠলাম…”কি ব্যাপার?”
.
#চলবে?
#তোকে চাই❤
………(সিজন -২)
#writer : নৌশিন আহমেদ রোদেলা❤
#part: 2
.
.
?
.
কি ব্যাপার?(ভ্রু কুচঁকে)
.
কোনো ব্যাপার না।(শয়তানী হাসি দিয়ে)
.
তাহলে আমাদের মতো মাসুম মেয়েদের এভাবে ঘিরে বসেছেন কেন??
.
আমার কথায় সবকটা হুহা করে হেসে উঠলো।।ওদের মধ্যে ফর্সা করে একটা ছেলে বলে উঠলো…
.
দোস্ত?এরা নাকি মাসুম।।তো এই মাসুম বান্দীদের নিয়ে কি করা যায় বল তো।(বাঁকা হেসে)
.
সাহেল?তোর কি মনে হচ্ছে না আমাদের ব্যাপারটা সেলিব্রেট করা দরকার।।আমরা যে কতোটা লাকি সেটা তো ভার্সিটির সবাইকে জানাতে হবে।।দুইটা মাসুম,, ধোয়া তুলশিপাতা পেয়ে তো আমরা ধন্য,,কি বলিস?
.
অবিয়েসলি দোস্ত।আমাদের লাক দেখে আমার এতো খুশি লাগছে যে খুশির চোটে আইটেম সং দেখতে ইচ্ছে করছে।।
.
পাশের ছেলেগুলোও চেঁচিয়ে উঠলো,,তারমানে সাহেল নামক ছেলেটার সাথে তারাও একমত।।আমি ব্যাপারটা ঠিক বুঝে উঠতে পারছি না।।এরা আমার সাথে ঠিক কি করতে চাইছে এবং কতটুকুই বা করতে চাইছে??তা আমার বোধগম্য হচ্ছে না তবে এটা বুঝতে পারছি ভয়ঙ্কর কিছু একটা ঘটবে আমার সাথে আর তা এখনই।।চিত্রা আমার দিকে অসহায় দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে৷ ওকে দেখে মনে হচ্ছে সে যেকোনো সময় ভ্যা ভ্যা করে কেঁদে উঠবে।।আমি চোখটা সরিয়ে সামনের দিকে তাকালাম,ভয় একটা ছোঁয়াচে রোগ।কারো হাসি দেখলে যেমন হাসি পায় ঠিক তেমনি কাউকে ভয় পেয়ে কাঁপা-কাঁপি করতে দেখলে নিজের মধ্যেও একটা কাঁপা-কাঁপি ভাব চলে আসে।।তাই এই মুহূর্তে চিত্রার দিকে না তাকানোটাই উত্তম বলে আমি মনে করছি।।ভাবনার সুতো কেটে পাশের টপস,জিন্স পড়া মেয়েটা কথা বলে উঠায় চোখ ঘুরিয়ে বামপাশে তাকালাম।।মেয়েটা বেশ গোছালো। বাঙালি মেয়েদের দেখলেই এক অজানা কারনেই মনে হয়… নাহ্ হয়তো শাড়িতেই মেয়েটাকে বেশি সুন্দর লাগবে।।কিন্তু আশ্চর্যকর বিষয় হলো এই মেয়েটাকে দেখে আমার তেমন কিছু মনে হচ্ছে না।।।মেয়েটাকে দেখে মনে হচ্চে শাড়ি নয় এই ড্রেসটাতেই তাকে বেশি মানিয়েছে।।এই ড্রেসটা না পড়লে যেনো মেয়েটাকে মানাতো না।।এটাই তার জন্য সর্ব্বোচ্চ পোশাক।।মেয়েটা আমার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসি দিয়ে বলে উঠলো…
.
শুভ্র?তুই আমাদের লিডার তো আমাদের সামান্য ইচ্ছে পূরণ করবি না??বেচারা সাহেল আইটেম সং দেখতে চাচ্ছে সো তোর উচিত ব্যবস্থা করা।।দেখ না,ছেলেটার মুখটা কি শুকিয়ে গেছে।।
.
কথাটা বলেই সবাই একসাথে হেসে উঠলো।।সবাই কে চুপ করার ইশারা করে শুভ্র ভাইয়া সানগ্লাসটা খুলে টেবিলে রেখে শয়তানী হাসি দিয়ে বলে উঠলো…
.
অবিয়েসলি নীলি তোরা চাইবি আর আমি পূরন করবো না তাই কি হয়??তাছাড়া আজ তো গ্র্যান্ড সেলিব্রেশনের দিন।।এতো ইনোসেন্ট দুইটা বাচ্চা পাইছি।।যারা নাকি গেইট দিয়ে ঢুকতেই সিনিয়রের গায়ে হাত তুলে।।ভাবা যায়??সেলিব্রেশন তো হবে দোস্ত।।
.
কথাগুলো আমার দিকে তাকিয়ে বলেই জোড়ে চেচিয়ে রনি নামে কাউকে ডাকলেন।।উনার এই ডাকেই কেনো জানি আমার অন্তর আত্মা কেঁপে উঠলো খানিকটা।।পরক্ষনেই পাশে এসে দাঁড়ালো হ্যাংলা পাতলা একটা ছেলে।।
.
জি ভাই?
.
বক্স নিয়ে আয় ফাস্ট
.
জি ভাই
.
ছেলেটা যতো দ্রুত এসেছিলো তার থেকেও দ্রুত পা চালালো।।যেনো এই কাজটা সম্পন্ন না করতে পারলে পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যেতে পারে যা ছেলেটা কিছুতেই হতে দিতে পারে না।।আমি চুপচাপ বসে আছি।।গলা শুকিয়ে কাঠ,,, ইচ্ছে করছে ফ্লোরে বসে পা ছড়িয়ে কাঁদি।।এই ভার্সিটিতে জীবন যে আমার নরকে পরিনত হবে তা বেশ বুঝতে পারছি আমি।এত্তো কিউট একটা ছেলে যে এত্তো ডেঞ্জারাস হতে পারে কে জানতো??কিছুক্ষণের মধ্যেই হ্যাংলা ছেলেটা একটা বিশাল সাউন্ড বক্স এনে পাশের টেবিলের উপর রেখে দিলো।।শুভ্র ভাইয়া শরীরটা টানা দিয়ে চেয়ারে আরাম করে বসে আমাকে উদ্দেশ্যে করে বলে উঠলেন….
.
হেই হোয়াটস ইউর নেইম??
.
রররোদ…(জড়ানো গলায়)
.
হোয়াট?রররোদ কারো নাম হয় নাকি?(ভ্রু কুচঁকে)
.
রররোদ নয় রোদ।(মুখ ফুলিয়ে)
.
আমার কথাটা শুনেই শুভ্র ভাইয়া চোখ মুখ কুঁচকে বলে উঠলেন….
.
হোয়াট? রোদ??হেই গাইস শীতের দিকে একে একটু কাছে কাছে রাখতে হবে তাহলে আর টাকা খরচ করে সুয়েটার কিনতে হবে না, কি বলিস??
.
উনার কথায় আবারও সবাই হুহা করে হেসে উঠলো।।একজন তো বলেই ফেললো…” দোস্ত আমি তো ভাবছি শীতের রাতে একে সাথে করেই নিয়ে যাবো।।আরে রাতে রোদ পাওয়ার ভাগ্য সবার হয় নাকি??” এবার আমার চোখদুটো টলমল করে উঠলো।।এতোটা অপমানিত এই জীবনে কখনো হয়েছি বলে মনে হয় না।।এই একদিনেই আমার অবস্থা যে এমন হবে জানলে কখনো ভার্সিটিতে ভর্তিই হতাম না।।উনাদের হাসাহাসি শেষ হলে শুভ্র ভাইয়া আবারও আমাকে উদ্দেশ্য করে বলে উঠলেন।।
.
হেই সানশাইন।।মাথা নিচু করে বসে আছো কেন??উপরের দিকে তাকাও।।তো..তোমার নাম শুধুই সানশাইন??আই মিন শুধু রোদ?আগে পিছে ঝর বৃষ্টি কিছু নেই??
.
আমি কোনোরকম নিজের কান্না আটকিয়ে কিছু একটা বলতে যাবো তখনই পাশ থেকে একজন বলে উঠলো…”দোস্ত জিজ্ঞেস কর তো নামের আগে পিছে ঠাডা, বজ্রপাত কিছু আছে কি না??”উনার কথায় আবারও সবাই একপত্তন হেসে নিয়ে আমার দিকে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিলো…” পুুরো নাম কি?”
.
নৌশিন আহমেদ রোদেলা।(মাথা নিচু করে)
.
রো-দে-লা??(টেনে টেনে)
.
নট বেডডড।।এনিওয়েস ঝটপট টেবিলের উপর দাঁড়িয়ে পড়ো।।ফাস্ট ফাস্ট
.
আমি অবাক চোখে মাথা তুলে উনার দিকে তাকিয়েই বলে উঠলাম -“কেন???'”সাথে সাথে আবারও হেসে উঠলো সবাই।।ডানপাশে বসা লং স্কার্ট পড়া মেয়েটা আমার জুটি করে রাখা চুলগুলো একটানে খুলে দিয়ে বলে উঠলেন…”দোস্ত?এই মেয়ের এতো দেখি ব্যাপক কিউরিওসিটি রে।।আমাদের প্রশ্ন করে।।কি করা যায় একে??”
.
আন্সারটা দিয়েই দে।।আচ্ছা আমিই বলছি,,এই যে সানশাইন…তোমাকে এই টেবিলের উপর উঠে আনটেম সং এর সাথে ডান্স করতে হবে।।এক্চুয়েলি আমার ফ্রেন্ডসদের আইটেম সং দেখতে ইচ্ছে করছে সো স্টার্ট করো।(শয়তানী হাসি দিয়ে)
.
উনার কথাটা শুনে মাথাটা যেন ঘুরে গেলো আমার।।বলে কি এই ছেলে?পুরো ভার্সিটির সামনে আমি টেবিলের উপর আইটেম সং এ নাচবো??পাগল নাকি??
.
দদদেখুন আআমি নাচ পারি ননা।
.
না পারলেও সমস্যা নেই।।নাচতে নাচতে শিখে যাবে।।তাছাড়া তুমি চাইলে আমার পেছনে দাঁড়িয়ে থাকা ছেলেগুলোও তোমায় সঙ্গ দিতে পারে….কি লাগবে??
.
দেখুন আমি নাচবো না।আর আপনার কথা শুনতে আমি বাধ্য নই।।ভার্সিটিতে রেগিং এলাউড নয় ,, আপনারা বেশি বাড়াবাড়ি করলে আমি ভিসি স্যারকে জানাতে বাধ্য হবো।।
.
আমার কথায় আবারও হেসে উঠলো সবাই।।তারমধ্যে পাশে বসা আপুটি আমার চুলগুলো শক্ত করে চেপে ধরে মাথাটা একটু তুলে ধরলো…ব্যাথায় কুকিয়ে উঠলাম।।কিন্তু তাতে মেয়েটার কোনো ভাবান্তর হলো বলে মনে হচ্ছে না।।বরং আরো শক্ত করে চেপে ধরে দাঁতে দাঁত চেপে বলে উঠলেন….
.
ভিসি স্যার,,রেগিং হোয়াটএভার এসব তোমার “আবরার আহমেদ শুভ্র” এর গায়ে হাত তোলার আগে চিন্তা করা উচিত ছিলো খুকি।।নাও ইউ আর গন।
.
কথাটা বলেই টেবিলে থাকা পানিভর্তি জগের পানিগুলো ছুঁড়ে মারলেন আমার গায়ে।।এমন কিছুর জন্য তৈরি ছিলাম না আমি।।জামাটা পুরো ভিজে একাকার।।ঠান্ডায় শরীরটা হালকা কেঁপে কেঁপে উঠছে।।এবার আর নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারলাম না।।চোখ থেকে ঝরে পড়লো দু’ফোটা জল।।তার সাথে চেপে বসলো জেদ।।জেদের বশেই করে ফেললাম আরেকটা মারাত্মক ভুল।।হাতের কাছের গ্লাসের পানিগুলো ছুঁড়ে মারলাম শুভ্র ভাইয়ার মুখে।আমি এমন কিছু করবো তা হয়তো চিন্তাই করতে পারে নি কেউ।।চিত্রাকে দেখলাম মুখ চেপে ধরে আছে,, ওর চশমার উপর দিয়েও বুঝা যাচ্ছে ও কাঁদছে।।কয়েকমিনিটে পুরো ক্যান্টিন অস্বাভাবিক রকম শান্ত হয়ে গেলো যেনো ঝড় আসার পূর্ব নীরবতা চারপাশে।।হঠাৎ করেই প্রচন্ড শব্দে চমকে উঠলাম আমি।।শরীরটা ভয়ে কুঁচকে গেছে একদম।।অবাক চোখে সামনের দিকে তাকাতেই দেখি আমার সামনের টেবিলটা আর নেই।।ওটা ছিটকে পড়ে আছে আমাদের থেকে একটু দূরে,,আর শুভ্র ভাইয়া চোখ মুখ লাল করে দাঁড়িয়ে আছেন।।ভয়ে আমার প্রাণপাখি রীতিমতো উড়াউড়ি শুরু করে দিয়েছে।।আমার ভয়টাকে আরো দুইগুণ বাড়িয়ে দিয়ে উনি একহাত আমার চেয়ারের হাতলে রেখে অন্যহাতে গাল চেপে ধরলেন আমার।।উনার লাল লাল চোখগুলোর দিকে তাকানোর সাহস খুঁজে পাচ্ছিলাম না যেনো।।কি ভয়ানক দুটি চোখ।।উনি গম্ভীর গলায় দাঁতে দাঁত চেপে বলে উঠলেন…
.
হাউ ডেয়ার ইউ??এতো সাহ..
.
এটুকু বলেই আমার শরীরের দিকে তাকালেন উনি।।কয়েক সেকেন্ড তাকিয়ে রইলেন একদৃষ্টে পরক্ষণেই আমায় ছেড়ে দিয়ে ঘুরে দাঁড়ালেন উনি।।গায়ের জ্যাকেটটা খুলে আমার উপর ছুঁড়ে ফেলে,,”কাল ওর ক্লাস নেবো” কথাটা বলেই বন্ধুদের নিয়ে বেরিয়ে গেলেন উনি।।চারপাশের সবাই আমার দিকে অদ্ভুতভাবে তাকিয়ে আছে আর মেয়েরা ফিসফাস করে চলেছে।।ব্যাপারটা বুঝতে না পেরে নিজের দিকে তাকিয়েই লজ্জায় কুকড়ে উঠলাম আমি।।পানিতে ভেজা সাদা জামায় শরীরের প্রতিটা ভাজ স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে।।ছিহ্ কি লজ্জার ব্যাপার,,তাই তো ছেলেগুলো মুখের লালা ফেলে এভাবে আমার দিকে তাকিয়ে আছে।।ভাবতেই শরীরটা ঘিনঘিন করে উঠলো…লজ্জায় আর অপমানে চোখ দিয়ে পানি পড়তে লাগলো অনবরত।।ঠিক তখনই পাশ থেকে চিত্রা ভাঙা ভাঙা গলায় বলে উঠলো…..
.
ররোদ?জ্যাকেটটা শরীরে জড়িয়ে নে সসব বুঝা যাচ্ছে খুবই বিশ্রী দেখাচ্ছে।।এজন্যই হয়তো শুভ্র ভাইয়া জ্যাকেটটা দিয়ে গেলো তোকে।।
.
আমিও আর কিছু না ভেবে জ্যাকেটটা পড়ে নিলাম।।এছাড়া আর কোনো অপশন আমার কাছে নেই।।এই অবস্থায় ভার্সিটি গেইট পর্যন্ত যাওয়া মৃত্যু যন্ত্রনার চেয়ে কম কিছু নয় বরং তার চেয়েও বেশি।।জ্যাকেটের চেইন লাগাতে লাগাতে আবারও বলে উঠলো চিত্রা…
.
আবারও একই ভুল করলি রোদ।।পানি মারার ছিলো তো আমার মুখে মারতি।।শুভ্র ভাই কেই মারতে হলো??এবার কাল যে তোর সাথে কি হবে সেটা ভেবেই হাত পা ঠান্ডা হয়ে আসছে আমার।।
.

আমিও বুঝতে পারছি আবারও ভয়ানক একটা কাজ করেছি আমি।।এর পরিনতি কি হতে পারে ভেবেই গলা শুকিয়ে আসছে বারবার।।
.
.
?
.
.
কোনোরকম মুখ লুকিয়ে বাসায় ঢুকে গেলাম আমি।।মার সামনে পড়তে হয় নি ভেবে স্বস্তির নিশ্বাস ফেললাম।। মার সামনে পড়লেই হাজারও প্রশ্নে জড়জড়িত হতে হতো আমাকে।গায়ের জ্যাকেট কার?আমার এই অবস্থা কেন?হেন তেন কতো কিছু।।তারপর সবশুনেই শুরু হতো উনার টেনশন নামক পীড়া তারসাথে প্যাশার আপ ডাউন।।এক্সট্রা ঝামেলা!!! মা নামক মানুষগুলো এমনি হয়,,,এদের টেনশন না করলে পেটের ভাত হজম হয় না।।সিম্পল বিষয়গুলো নিয়েও উনারা খাওয়া-নাওয়া বাদ দিয়ে টেনশন করতে বসে যাবেন।।আর এটা তো সিরিয়াস ইস্যু।।রুমে ঢুকে কোনোরকম শাওয়ার নিয়েই বিছানায় গা এলিয়ে দিলাম।।আজকের দিনটা আমার জীবনের সবচেয়ে বাজে দিনগুলোর তালিকায় প্রথম।।আর শুভ্র নামের মানুষটা ভালো লাগা আর খারাপ লাগার মাঝে বিরক্তিকর একটা পার্সোনালিটি যাকে আমি ইহকালে দ্বিতীয়বার দুচোখ মেলে দেখতে চাই না।।কখনো না।।
.
.
#চলবে?
#তোকে চাই❤
………(সিজন -২)
#writer : নৌশিন আহমেদ রোদেলা❤
#part: 3
.
.
?
.
ভার্সিটির গেইটে দাঁড়িয়ে আছি।।উদ্দেশ্য শুভ্র ভাইয়াকে সরি বলা।।হুমায়ূন স্যার একটা কথা বলেছেন-” দুঃসময়ে কোনো অপমান গায়ে মাখতে নেই” আমিও ঠিক একই কাজ করতে চলেছি।।শুভ্র ভাইয়া এবং তার গ্যাং হয়তো ধুয়ে দিবে আমায় তবু এতে করে ব্যাপারটা কিছুটা শিথিল হলেও হতে পারে।।আপুর ধারনা দোষটা আমার,, অনেক ভাবার পর আমিও বুঝতে পারছি দোষটা আসলেই আমার সো সরি টা বলা উচিত।।আর এই উদ্দেশ্য কে সামনে রেখেই আধ ঘন্টা যাবৎ দাঁড়িয়ে আছি মেইন গেইটে।কিন্তু শুভ্র ভাইয়ার খবর নেই।।চিত্রা মুখ কাচুমাচু করে আমার পাশে দাঁড়িয়ে আছে।।ওর মুখ দেখেই বুঝা যাচ্ছে সে কিছু বলতে চায়।।নিচের ঠোঁটটা চেপে ধরে ভ্রু কুচঁকে ওর দিকে তাকিয়েই বলে উঠলাম-
.
কিছু বলবি??হাপাঁনির পেশেন্টের মতো এভাবে ছটফট করছিস কেন?
.
দোস্ত? শুভ্র ভাইয়া যদি বকা দেই তাহলে??আর ওর সাথে তো উনার হারামি ফ্রেন্ডগুলো আছেই।।এগুলো শুভ্র ভাইয়ার থেকেও ফাজিল।।শুভ্র ভাইয়া কখনো মেয়েদের সাথে মিসবিহেভ করে না।।তোর সাথেও করতো না আমি সিউর কিন্তু তুই উনার গালে চড়টা মেরেই ফেঁসে গেলি।।
.
এই শুভ্র ভাইয়ার চামচা চুপ থাক তো,, এতো ভ্যা ভ্যা করিস না।।বকা এমনিও দিবে ওমনিও দিবে। সো চিল মার।
.
আমাদের কথার মাঝেই বাইক ছুটিয়ে চলে এলেন শুভ্র ভাইয়া।।চিত্রা তো রীতিমতো “হা” করে তাকিয়ে আছে।আমারও সেই একই অবস্থা।।”পোলা তো নয় সে তো আগুনের গোলা রে” মমতাজ আন্টি এই লাইনটা উনাকে ডেডিকেট করার জন্যই হয়তো গেয়েছিলেন।।রেড কালার বাইকে ফুল ব্ল্যাক ড্রেসআপে বসে আছেন উনি।মনে হচ্ছে কোনো শোকসভায় এসেছেন।।তবে যায় বলি না কেনো উনাকে যে একদম চকলেট বয় লাগছে তা স্বীকার করতে আমি বাধ্য।।কোনোরকম নিজের চোখটা সরিয়ে নিয়ে আশেপাশে তাকিয়ে দেখি সব মাইয়াই যে যার জায়গায় হ্যাং মেরে দাঁড়িয়ে আছে।।মুখের “হা” এর সাইজ অনুযায়ী দুই তিন কেজি মশা ঢুকিয়ে দেওয়া যাবে অনায়াসে।। শুভ্র ভাইয়া পার্কিং এ বাইকটা রেখেই চাবিটা পকেটে ঢুকিয়ে ধীর পায়ে আমাদের পাশ কাটিয়ে চলে গেলেন।।এমন একটা ভাব যেনো আমাদের দেখতেই পান নি।। এটিটিউট দেখলে বাঁচি না।।নিজেকে কি জন আব্রাহাম মনে করে নাকি??যত্তোসব আবুল কোথাকার।।এদিকে চিত্রা আমায় গুতিয়েই চলেছে।।ওর গুতাগুতি দেখে মনে হচ্ছে আমার হাতের চামড়াগুলো তুলে ফেলায় ওর জীবনের একমাত্র উদ্দেশ্য।। বিরক্তিমাখা চাহনী দিয়ে তাকিয়েই বলে উঠলাম- “কি সমস্যা তোর?”
.
আরে ভাইয়া কে ডাক দে নয়তো সরি বলবি কেমনে??
.
আমি বললাম, “তাইতো”। চিত্রাকে নিয়ে হাঁটা দিলাম শুভ্র ভাইয়ার পিছু পিছু।।কিছুটা এগিয়ে যেতেই চোখে পড়লো শুভ্র ভাই।উনি উনার ওই হারামি বন্ধুদের সাথে দাঁড়িয়ে কিছু একটা নিয়ে হাসছেন।।আহা! কি মারাত্মক হাসি।।আবারও ক্রাশ খেলাম বলে মনে হচ্ছে।ছেলেরা এতো সুন্দট হয় নাকি??যায়হোক ক্রাশটা মুহূর্তেই হজম করে নিলাম।।হাজার মেয়ের ক্রাশের প্রেমে পড়া যাবে না।।তাতে ওয়েটিং লিস্টে থাকার চান্স আছে আর রোদ কখনও ওয়েটিং লিস্টে থাকতে রাজি নয়।।মন এবং প্রাণকে জোড় করে বোঝালাম সে আমার ভাই।।মনপ্রাণ কতটুকু বুঝলো জানি না।।সে নিয়ে মাথাও ঘামালাম না তেমন।।হালকা পায়ে উনাদের সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম।।ঠিক তখনই সাহেল ভাইয়া দাঁত কেলিয়ে বলে উঠলেন-
.
আরে সানশাইন নাকি?বাহ দোস্ত! সকাল সকাল বাঁশ খেতে চলে এসেছে রে।
.
শুভ্র ভাইয়া ডেবিল হাসি দিয়ে কিছু একটা বলতে যাবেন তার আগেই চোখ মুখ খিঁচে বলে উঠলাম…
.
সরি ভাইয়া।।আই এক্সট্রেমলি সরি।।আমার তেমনটা করা উচিত হয় নি।।আই ওয়াজ রং।।বুঝে উঠতে পারি না।।না বুঝেই এমনটা করে ফেলছি সরি ভাইয়া।।(মাথা নিচু করে)
.
সামনে কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে চোখ তুলে তাকালাম।।শুভ্র ভাইয়া শান্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে।।আরো একটা থাপ্পড় দিয়ে বসবেন কি না কে জানে???কিন্তু আমাকে অবাক দিয়ে উনি একটা মিষ্টি হাসি দিয়ে বলে উঠলেন…
.
ইটস ওকে।।
.
আমি তো চরম অবাক।কই কি পোলা??আমার সাথে কেউ এমন করলে তাকে আমি জিন্দিগিতে মাফ করতে পারতাম কি না সন্দেহ আর সে কি না একটা সরিতেই কুপোকাত?আমি অবাক চোখে তাকিয়ে আছি।পাশ থেকে নিলি নামের মেয়েটি বলে উঠলো…
.
এতো সহজে মাফ করে দিলি শুভ্র??তোর এই দয়া দেখে আমার সুইসাইড করতে ইচ্ছে করে…
.
তো করে ফেল মানা করেছে কে?তবে নীলি আগে রোহানকে বিয়ে করার পর সুইসাইড টা করলে ভালো হয় না??আমরা তোর বিয়ের দাওয়াত আর চল্লিশার দাওয়াত দুইটাই খেতে পারি আরকি।।কি বলিস শুভ্র??
.
সাহেল ভাইয়ার কথায় মুচকি হেসে শুণ্ভ্র ভাইয়াও বলে উঠলেন..”একদম”
.
তোদের কি মনে হয়? আমার বিয়েতে তোদের দাওয়াত দিবো??ইম্পসিবল!!! রোহানকেও বলে দিবো যেনো সে তোদের এলাউ না করে।।দরকার হলে এক্সট্রা গার্ড রাখবো।। তবু তোরা এলাউড নস।।হুহ
.
কথাটা বলেই চোখ মুখ লাল করে উল্টো পথে হাঁটা দিলেন নীলি আপু।।বাকি সবাই ব্যাপারটাকে হেসে উড়িয়ে দিয়ে আমার দিকে ফিরে তাকালেন।
.
কি ব্যাপার?দাঁড়িয়ে আছো কেন ক্লাসে যাও।(আমি মাথা হেলিয়ে সম্মতি জানাতেই) আর হ্যা দোষ করে সরি বলাটা দোষের কিছু নয় বরং দোষটা অন্যের ঘাড়ে চাপিয়ে দেওয়াটা দোষের।। আই থিংক ইউ ক্যান আন্ডারস্ট্যান্ড।।
.
কথাটা বলেই বন্ধুদের সাথে চলে গেলেন উনি।।আমি উনার যাওয়ার দিকেই তাকিয়ে আছি একদৃষ্টে।।এদিকে চিত্রা ননস্টপ উনার সুনাম করেই যাচ্ছে।।কিন্তু কোনো কথায় যেন কানে ঢুকছে না আমার।।শুধু অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছি।।একটা মানুষের মধ্যে এতো ডিফারেন্ট টাইপ এটিটিউট থাকে কিভাব? কাল যতোটা রাগী শুভ্রকে দেখেছি।।আজ ততটাই শান্ত শুভ্রকে চোখে পড়লো আমার।।জাস্ট আ স্ট্রেঞ্জ পারসন।
.
.
?
.
.
ভার্সিটি লাইব্রেরীতে দাঁড়িয়ে বই দেখছি।।হাজারও বইয়ের সমারোহ চারদিকে।। তারমধ্যে থেকে একটা বই সিলেক্ট করলাম পড়বো বলে।।কিন্তু হায় নিয়তি! বই ধরে এতো টানছি বাট বইটা আমার হাতে আসছে না।।আজিব কারবার কাহিনী কি?বইটা হালকা কাত করে বইয়ের ফাঁক দিয়ে অপরপাশে উঁকি দিতেই একটা হাত চোখে পড়লো।।সেই ব্যাক্তিও সেইম বই ই নিতে চাচ্ছেন।।লোকটার চেহারা দেখার অসীম কৌতূহল নিয়ে বইটা ছেড়ে দিয়ে পাশের সারির দিকে ঝুঁকে পড়তেই কপালে কারো ঠোঁটের স্পর্শ পেলাম।।চমকে উঠে অপরের দিকে তাকাতেই দেখি শুভ্র ভাইয়া।।দুজনেই চোখ বড়বড় করে তাকিয়ে আছি।।ব্যাপারটা যে আনফরচুনেটলি হয়ে গেছে তা বেশ বুঝতে পারছি।।কিছুক্ষণ ওভাবে থেকে ব্যাপারটা বুঝতে পেরেই দুজন দুদিকে ছিটকে গেলাম।।লজ্জায় লাল হয়ে কোনো রকম ব্যাগটা নিয়ে বেরিয়ে এলাম লাইব্রেরি থেকে।।কি ভয়ংকর অবস্থা।।ভাবতেই লজ্জায় মাটিতে মিশে যেতে ইচ্ছে করছে আমার।।থেংক গড কেউ দেখে নি নয়তো কি হতো??
.
.
রিক্সায় চেপে বাড়ি ফিরছিলাম।।হাতে দুটো আইসক্রিম।। আজ আর ক্লাসে মনোযোগ বসবে না তাই এতো আয়োজন করে বাড়ি ফেরা।।মাঝরাস্তায় এসে একটা মধ্যবয়স্ক লোককে চোখে পড়লো।।লোকটিকে দেখে মনে হচ্ছে বেশ দুশ্চিন্তায় আছেন আর বারবার গাড়ির দিকে তাকাচ্ছেন হয়তো গাড়িটা নষ্ট হয়ে গেছে।।কি মনে করে উনার কাছাকাছি এসে রিক্সা থামাতে বললাম।।লোকটিকে উদ্দেশ্য করে বলে উঠলাম….
.
আংকেল লিফ্ট লাগবে??
.
লোকটি আমার দিকে তাকিয়েই যেনো চমকে উঠলেন।।কোনোরকম নিজেকে সামলে নিয়েই বলে উঠলেন..
.
অনেক দূরে যেতে হবে রে মা।।তোমার রিক্সায় হবে না।
.
কেনো জানি না উনার “মা” কথাটা আমার বেশ ভালো লাগলো।।বাবা-মা ছাড়া আর কারো মুখে মা ডাক শুনার ভাগ্য কখনো হয়নি আমার।।আমার জানা মতে মার কোনো ভাই বোন নেই।।বাবাও দাদু-দিদার একমাত্র সন্তান সো আত্মীয় স্বজন বলতে গেলে আমাদের কেউই নেই।।যায়হোক উনার মুখে মা ডাকটা শুনেই রিক্সা থেকে নেমে গেলাম।ড্রাইভারকে উদ্দেশ্য করে বলে উঠলাম…
.
চাচা? আপনি এই রিক্সা নিয়ে চলে যান একটু সামনেই গ্যারেজ আছে।।এখানে রিক্সা পাওয়া দুষ্কর।আপনি বরং গ্যারেজ থেকে কাউকে নিয়ে আসুন।।ততক্ষণ আমি এখানে ওয়েট করছি।।
.
ড্রাইভার লোকটির দিকে তাকাতেই লোকটি মাথা নেড়ে সম্মতি জানালো,, আর সাথে সাথে রিক্সায় উঠে গ্যারেজের পথে পাড়ি জমালো সে।।আমি মুচকি হাসি দিয়ে উনার দিকে আইসক্রিম বাড়িয়ে দিয়ে বলে উঠলাম,,,”নিন আইসক্রিম খান”।।
.
না রে মা আমি আইসক্রিম খাই না।
.
একটা খেলে কিছু হয় না।।নিন তো।
.
উনি কিছু বলতে গিয়েও থেমে গেলেন।।আমার হাত থেকপ আইসক্রিমটা নিয়ে আমার চোখের দিকে তাকিয়ে বলে উঠলেন…
.
তোমার চেহারাটা একদম আমার ছোট বোনের মতো।
.
তাই নাকি??তাহলে তো দেখতে হচ্ছে।।কোথায় থাকে আপনার বোন?
.
(দীর্ঘশ্বাস ফেলে) জানি না।।
.
কেন??(অবাক হয়ে)
.
প্রায় ২৮ বছর হতে চললো বাবার সাথে রাগ করে বাড়ি ছেড়েছি।। বাবাও খুব রাগী,, রাগ করেই ত্যাজ্য করে দিলেন আমায়।।চলে আসার সময় বলেছিলেন,,তার শেষ ইচ্ছে এ জীবনে যেন আমার মুখ আর না দেখতে হয়।।তাই আর ফিরা হয়ে উঠে নি কখনো।।বোনটা কোথায় আছে জানি না।।তবে যদিন চলে আসি সেদিন ওর বিয়ে ছিলো।।।কি কান্না করছিলো সেদিন।।কলিজার টুকরা ছিলো সে৷। খুব ভালোবাসতাম ওকে এখনও বাসি।।অনেক খুঁজেছি কিন্তু খুঁজে পাইনি ওকে।।হয়তো স্বামী সংসার নিয়ে ভালোই আছে।।(মুচকি হাসি দিয়ে)
.
হয়তো….দোয়া করি আপনার বোনকে খুব তাড়াতাড়ি খুজে পেয়ে যান।
.
আচ্ছা তোমার নাম কি??
.
রোদেলা।তবে সবাই রোদ বলেই ডাকে।আপনিও রোদ বলেই ডাকতে পারেন।।(মুচকি হেসে)
.
রোদ? সুন্দর নাম।।আর তুমি আমায় মামু ডেকো আমার ভালো লাগবে।।আচ্ছা তোমার মার নাম কি??
.
আম্মুর নাম আরিয়ানা আঞ্জুমান।
.
নামটা শুনেই চমকে উঠলেন উনি,,,আমার দিকে স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়েই বলে উঠলেন-“অরি”
.
অরি নামে তো নানুভাই ডাকতো মাকে।।কিন্তু আপনি কি করে জানলেন??
.
আমার কথার উত্তর না দিয়ে হুট করেই জড়িয়ে ধরলেন আমায়।।ঘটনার আকস্মিকতায় আমি হতবাক।।
.
.
#চলবে?

পূর্ববর্তী নিবন্ধ
পরবর্তী নিবন্ধ
গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

1 মন্তব্য

  1. Plz plz এই গল্পটার সিজন ৩ দেন,দারুন একটা গল্প??? তবে রোদ – শুভ্র নামটা changeকরবেন না, ??

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ