বাজির প্রেম পাঠঃ ১

2
1928

বাজির প্রেম পাঠঃ ১

লেখকঃ তৌহিদুল ইসলাম
নিরবঃ এই জয় শোন তোকে নিলীমা ডাকছে
আমিঃ কেন
নিরবঃ আমি কিভাবে জানব। তুই গিয়ে দেখ।
আমিঃ আচ্ছা ও এখন কোথায় আছে
নিরবঃ ঐ বড় আমগাছটার নিচে বসে আছে।
আমিঃ আচ্ছা তুই থাক আমি দেখে আসছি কি জন্য ডাকছে।
তারপর আমি নিরবকে রেখে আমগাছের দিকে হাটা দিলাম।
আমি জয় বাবা মায়ের আদরের সন্তান। আর যে আমাকে ডাকছে সে নিলীমা আমাদের ভার্সিটির প্রিন্সিপাল স্যারের মেয়ে। আমি ওকে মনে মনে খুব ভালবাসি কিন্তু এটা ও জানে না। আর তাছারা ওর সাথে আমি বেশি একটা কথা বলি না আবার ও আমার সাথেও বেশি একটা কথা বলে না।
তো যাই হোক আমি আমগাছটার কাছে গিয়ে দেখি নিলীমা আর ওর কিছু বান্ধবি বসে আছে। তাই আমি নিলীমাকে ডাক দিয়ে বললাম
আমিঃ নিলীমা।
নিলীমাঃ হুম।
আমিঃ তুমি কি আমাকে ডেকেছিলে।
নিলীমাঃ হুম।
আমিঃ কেন
নিলীমাঃ একটু ঐ দিকে চল বলছি।
তারপর নিলীমার সাথে আমি একটু সাইডে গেলাম।
আমিঃ হুম এবার বল।
নিলীমাঃ দেখ জয় আমি কথা ঘুরিয়ে ফিরিয়ে বলতে পারি না। তাই সোজাসুজি বলছি
আমিঃ হুম বল কি বলবে
নিলীমাঃ আমি তোমাকে ভালবাসি জয়।
আমিঃ কিহহহ(অবাক হয়ে)
নিলীমাঃ অবাক হওয়ার কিছু নেই আমি তোমাকে সত্যিই ভালবাসি।
নিলীমার কথা শুনে আমার নাচতে ইচ্ছা করছে কারন আমি তো ওকে মনে মনে ভালবাসি। আর আজ ও আমাকে প্রপোজ করছে। পরক্ষনেই আমার মনটা খারাপ হয়ে গেল কারন আমি মধ্যবিত্ত ঘরের সন্তান আর ও বড়লোক বাবার আদরের মেয়ে। ওর সাথে আমার যায় না। তাই আমি নিলীমাকে বললাম
আমিঃ স্যরি নিলীমা। এটা সম্ভব না।
নিলীমাঃ কেন
আমিঃ জানি না। বায়।
একথা বলে আমি হাটা ধরলাম।
পেছন থেকে নিলীমা ডাকছে। কিন্তু আমি তাতে কান দিচ্ছি না। কারন বড়লোকদের সাথে মধ্যবিত্তদের ভালবাসা হয় না।আর যদিও হয় সেটা অসমাপ্তই থেকে যায়। আর আমি যদি নিলীমার সাথে রিলেশন করি আর সেটা যদি অসমাপ্ত থেকে যায় তাহলে আমি সেটা সহ্য করতে পারব না। তাই আমি বাসায় চলে এলাম।
পরদিন ভার্সিটি গিয়ে আমি নিরব শান্ত রাকিব আড্ডা দিচ্ছি তখনি কোথা থেকে যেন নিলীমা আমাদের সামনে আসল আর বলল
নিলীমাঃ জয় তোমার সাথে আমার কথা আছে।
আমিঃ হুম বল
নিলীমাঃ একটু ঐ দিকে চল
আমিঃ হুম চল।
নিলীমাঃ দেখ জয় আমি তোমাকে সত্যিই ভালবাসি।
আমিঃ দেখ নিলীমা পাগলামি করো না। এটা হয় না
নিলীমাঃ কেন।
আমিঃ কারন আমি মধ্যবিত্ত।
নিলীমাঃ তো
আমিঃ তুমি বড়লোক বাবার মেয়ে তোমার বাবা এই সম্পর্ক মেনে নিবে না
নিলীমাঃ তো তুমি আমি মেনে নিলেই তো হয়
আমিঃ দেখ পরিবারের বিরুদ্ধে কিছু করা ঠিক না।
নিলীমাঃ ঠিক নাকি ভুল আমি কিছু জানি না আমি শুধু জানি আমি তোমাকে ভালবাসি।
আমিঃ দেখ নিলীমা এক কথা বার বার কেন বলছ।
নিলীমাঃ তুমি কি আমাকে ভাল বাসবা। যদি না বাস তাহলে আমি সুইসাইড করব।
আমিঃ কি বল এইসব।
নিলীমাঃ হুম ঠিকি বলছি। এখন বল আমাকে ভালবাস।
আমিঃ আমাকে একটু ভাবার সময় দাও।
নিলীমাঃ হুম দিলাম কিন্তু আমার উত্তর হ্যা হওয়া চাই।
আমিঃ আচ্ছা দেখা যাক।
একথা বলে আমি বন্ধুদের আড্ডায় চলে গেলাম।
রাতে আমি বিছানায় শুয়ে শুয়ে ভাবছি।
আমি নিলীমার সামনে গেলে আমারও বলতে ইচ্ছে হয় নিলীমা আমিও তোমাকে ভালবাসি কিন্তু বলতে পারি না। কারন আমি মধ্যবিও। আবার ওকে ভুলতে যেতে চাইলেও পারি না কারন ওকে মন থেকে ভালবাসি তো তাই।
তাই আমি সিদ্ধান্ত নিলাম কাল নিলিমাকে বলে দিব আমিও নিলীমাকে ভালবাসি।
পরদিন কলেজে গিয়ে নিলীমাকে খুজছি তখনি দেখলাম নিলীমা আমার দিকে আসছে। আমার মনে হয় ও আমাকে অনেক ভালবাসে তাইতো আমার পেছনে এভাবে পরে আছে।
তো নিলীমা এসে সোজা আমার হাত ধরে পুকুর ঘাটে নিয়ে গেল।
নিলীমাঃ আমার উওর দাও
আমিঃ কিসের
নিলীমাঃ কাল না বললে ভেবে উওর দিবে।
আমিঃ ওহ।
নিলীমাঃ বল বল।
আমিঃ আসলে নিলীমা আমিও তোমাকে ভালবাসি(এক নিশ্বাসে বলে ফেল্লাম)
নিলীমাঃ সত্যিই (খুশি হয়ে)
আমিঃ হুম।
নিলীমাঃ তাহলে চল আমরা কোথাও ঘুরে আসি।
আমিঃ কিহ। ক্লাস করবে না।
নিলীমাঃ আরে একদিন ক্লাস না করলে কিছু হবে না। চল তো
একথা বলে নিলীমা একপ্রকার জোর করেই আমাকে টেনে নিয়ে গেল।
আমরা দুজন পাশাপাশি রিক্সায় বসে আছি। আমার কেমন যেন অসস্থি লাগছে। তা দেখে নিলীমা বলল
নিলীমাঃ এই তুমি এভাবে চুপটি করে বসে আছ কেন
আমিঃ আসলে এর আগে কোন মেয়ের সাথে রিক্সায় উঠি নি তো তাই একটু অসস্হি লাহছে।
নিলীমাঃ হি হি হি। তাই নাকি। আচ্ছা আস্তে আস্তে সব ঠিক হয়ে যাবে।
তারপর আমরা একটা পার্কে ঢুকলাম। চারদিকে কাপলের অভাব নেই।
আমরা দুজন পাশাপাশি বসে আছি তখন নিলীমা বলল
নিলীমাঃ এই চল না ফুসকা খাই
আমিঃ কি বল ফুসকা
নিলীমাঃ হুম
আমিঃ না আমি ফুসকা খাই না। তারচেয়ে বরং আমরা বাদাম খাই।
নিলীমাঃ ধুর এই সময় কেউ বাদাম খায় নাকি।
আমিঃ আরে চল তো। ফুচকা খেলে পেট খারাপ হতে পারে কিন্তু বাদাম খেলে হবে না। আর বাদামে কিন্তু অনেক শক্তি।
নিলীমাঃ ধুর বাদাম খাব না।
আমিঃ আরে খেয়েই দেখ না। এ সময় বাদাম ভাল লাগবে।
একথা বলে আমি উঠে কিছু বাদাম কিনে নিয়ে আসলাম।
তারপর আমি বাদাম খাচ্ছি কিন্তু নিলীমা খাচ্ছে না। তাই আমি বললাম
আমিঃ নাও খেয়ে দেখ ভাল না লাগলে খাওয়ার দরকার নেই।
তারপর নিলীমা বাদাম খেল। একটুপর নিলীমা বলল
নিলীমাঃ আসলেই তো। এসময় বাদাম তো ভালই লাগছে।
তারপর আমরা কিছুক্ষন পার্কে থেকে যে যার বাসায় চলে এলাম।
এখন নিলীমার সাথে ভালই যাচ্ছে আমার দিনকাল।
আজকে খুব ভোরে উঠে নিলীমাকে ফোন দিলাম।
নিলীমা প্রথম দুবার ধরল না। তিনবারের সময় নিলীমা ফোন ধরে বলল
নিলীমাঃ হেল।
আমিঃ কি করছ
নিলীমাঃ এই শিতের সকালে মানুষ কি করে গাধা।
আমিঃ ওহ তার মানে ঘুমাচ্ছিলে
নিলীমাঃ হুম। তা কি জন্য ফোন দিয়েছ এত সকালে
আমিঃ একটু বাইরে আস না।
নিলীমাঃ কিহহহ বাইরে। কেন
আমিঃ আমি বাইরে দারিয়ে আছি।
নিলীমাঃ এত সকালে আর এই ঠান্ডার মধ্যে তুমি বাইরে তাও আবার আমাদের বাসার সামনে
আমিঃ হুম। এখন কথা না বলে বাইরে আস।
একথা বলে আমি ফোন রেখে দিলাম। একটুপর নিলীমা বাইরে আসল।
নিলীমাঃ তুমি কি পাগল। এত সকালে কেউ বের হয়।
আমিঃ হুম পাগল। তোমার জন্য পাগল। আর আমি বের হই।
নিলীমাঃ হয়েছে এবার বল কেন এসেছ।
আমিঃ এই কুয়াশা ভেজা ঘাসের মধ্যে তুমি আমি খালিপায়ে একে অপরের হাত ধরে হাটব বলে
নিলীমাঃ কি। এই ঠান্ডায় শিশির ভেজা ঘাসে খালিপায়ে হাটব অসম্ভব।
আমিঃ আরে কিসের অসম্ভব। এটার মধ্যে একটা রোমান্টিকতা কাজ করে। আর বিয়ের পর আমরা দুজন শিতের শকালে শিশির ভেজা ঘাসে হাটব বুঝেছ।
নিলীমাঃ আগে বিয়ে হক তারপর।
আমিঃ মানে
নিলীমাঃ না কিছু না।
আমিঃ তাহলে জুতা খোল আমরা হাটি।
তারপর আর কি আমরা দুজন একে অপরের হাত ধরে শিশির ভেজা ঘাসে কিছুক্ষন হাটলাম। আমার খুব ভাল লেগেছে কিন্তু নিলীমার কেমন লেগেছে তা আমি জানি না। কিন্তু ওর মুখ দেখে বোঝা যাচ্ছে ওর ও ভাল লেগেছে।
এখন আমরা মাঝে মাঝে ঘুরতে যাই। বিকেলে নদীর পারে ও ঘুরতে যাই। নিলীমাকে আমি সবসময় হাসিখুসি রাখতে চেষ্টা করি। যেদিন ওর মন খারাপ থাকে সেদিন ওর মন ভাল করার চেষ্টা করি। বিভিন্ন মাধ্যমে ওকে হাসাই। এভাবেই চলছে দিন।
দেখতে দেখতে আমাদের রিলেশনের একমাস হয়ে গেল।
আমি নিজেকে খুব সুখি মনে করতাম। কিন্তু বেশ কিছুদিন ধরে নিলীমা কেমন যেন পাল্টে যাচ্ছে। আমার সাথে ঠিকমত কথা বলে না ফোন দিলে ফোন ধরে না
চলবে

2 COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here