Thursday, June 4, 2026







বাড়ি"ধারাবাহিক গল্প"আপনাকেই চাইআপনাকেই চাই পর্ব-০৮ এবং শেষ পর্ব

আপনাকেই চাই পর্ব-০৮ এবং শেষ পর্ব

#আপনাকেই_চাই
#Sumaiya_Moni
#পর্ব_০৮(অন্তিম পর্ব)
________________________
সকালের আলো ফুটতেই অহানের ঘুম ভাঙে। রাতে দেরি করে বাসায় ফিরেছে। তবুও,আজ তাড়াতাড়ি ঘুম ভেঙেছে৷ আজকের সকালটাকে নতুন ভাবে শুরু করতে চায় অহান। নতুন ভাবে সব কিছু শুরু করবে। জীবনটাকে নতুন ভাবে সাজাবে। জানালার পর্দা সরিয়ে দেয়। রৌদ্দ এসে অহানের গায়ে পড়ে। অহান সূর্যের দিকে তাকিয়ে মৃদ হাসে। প্রথমে ফ্রেশ হয়ে নেয়। তারপর কানে ব্লুটুথ লাগিয়ে কিচেনে আসে। এবং কল দেয় হামিদা বানুকে।

ঘুমাবার প্রস্তুতি নিচ্ছেলেন হামিদা বানু। তখনি পাশে থাকা ফোনটা বেজে উঠায় কিঞ্চিৎ পরিমাণ বিরক্তি নিয়ে ফোন হাতে নিতেই তিনি কিছুটা চমকে গেলেন। সে যেন নিজের চোখকে বিশ্বাস করাতে পারছেন না,এটা অহানের নাম্বার। তার এমন চমকানো চেহারা দেখে আজমল রহমানও ফোনের দিকে তাকায়। তিনিও বেশ চমকে গেলেন। ফোন বেজে কেটে যায় তাদের এমন চমকারো রিয়াকশনের মাধ্যমে। হামিদা বানু আজমল রহমানের দিকে তাকিয়ে বললেন,
-“মনে হয় ভুলে ফোন ঢুকে গেছে নাম্বারে।” বলেই ফোন পাশে রাখতে নিলেই আবার ফোন বেজে উঠে। এবারও অহানের নাম্বার দেখে তারা হতবাক হয়ে তাকিয়ে রয়। পরক্ষণে আজমল রহমান বলেন,
-“রিসিভ করো। দেখো কি বলতে চায় অহান।”

হামিদা বানু আজমল রহমানের দিকে চোখ পিটপিট করে তাকিয়ে পরক্ষণে চোর সরিয়ে নিয়ে ফোন রিসিভ করে কানে দেয়। অপর পাশ থেকে অহান অভিমানী স্বরে বলে,
-“ছেলের ফোন ধরতে এত সময় লাগে? কি করছিলে এতক্ষণ? ”

প্রশ্ন করে বসে অহান। হামিদা বানু অবাক হয়ে আজমল রহমানের দিকে তাকিয়ে রয়। এর আগে কখনোই অহান এভাবে কথা বলেনি। তাই বেশ অবাক হচ্ছেন।

-“চুপ করে আছো কেন,কথা বলো অহানের সাথে।” আজমল রহমান বললেন।

-“হ্যাঁ,মানে। ঘুমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম তো। তখন তুই কল দিলি… ”

-“এভাবে কথা বলছো কেন? আমি কি অন্য কারো ছেলে নাকি। ঠিক মতো কথা বলো আম্মু।”

-“তুই কি ঠিক আছিস?”

-“অবশ্যই! মায়ের দোয়া সাথে থাকলে সব সন্তানই সুস্থ থাকবে ইনশাআল্লাহ!”

হামিদা বানু আরো অবাক হলেন। তার চোখের কোণায় ক্ষুদ্র জল এসে জমেছে। আজমল রহমান তার কাছ থেকে ফোন নিয়ে বলে,
-“বাবা কিছু হয়েছে কি? এভাবে কথা বলছিস যে তোর মায়ের সাথে।”

-“কথা বলতে গেলে কি কিছু হওয়া লাগবে আব্বু। আর আমি তো তোমাদের ছেলে তাই না। এমন ভাবে কি কথা বলতে পারি না?”

-“তা নয়! এই প্রথম তুই আমাদের কাছে নিজ থেকে ফোন দিয়েছিস। তা আবার এভাবে কথা বলছিস। খুব ভাবাচ্ছে!”

-“আগের অহান নেই বাবা। তাকে আর খুঁজলেও পাবে না। এতদিন তোমাদের সাথে যা করেছি তার প্রায়শ্চিত্ত করার সময় এসে গেছে। আমি খুব শীগ্রই ভাবিকে নিয়ে বাংলাদেশে আসছি। দোয়া রেখো। মাফ করে দিও আগের অহানকে।” বলেই অহান ফোন কেটে দেয়। আবেগের মোহে তার চোখেও জলকণা এসে ভর করেছে। দীর্ঘশ্বাস ফেলে রান্না করতে শুরু করে। রান্না শেষ করেই ইহিতাকে ডাক দিবে। কাল রাতের খাবার গুলো তেমনি ভাবে টেবিলের উপর রাখা ছিল। যার কারণে অহান বুঝে যায় ইহিতাও রাতে কিছু খায়নি।
.
আজমল রহমান আবেগ প্রবল হয়ে ফোনের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে আছে। পাশেই হামিদা বানু ফুঁপিয়ে কাঁদছে। এ যে সুখের কান্না। এতো দিনে আল্লাহ তার ডাক শুনেছে। তার ছেলেকে ভালো পথে ফিরিয়ে দিয়েছে। আজমল রহমান পুরো ব্যাপারটা ক্লিয়ার হওয়ার জন্য আনিকাকে কল দেয়।
আনিকা হতাশ কন্ঠে কাল রাতের কথা জানালে। আজমল রহমান ও হামিদা বানু সব কিছু বুঝতে পারে। আজমল রহমান যখন আনিকাকে বলেন অহান কল দিয়েছে,শুনে আনিকাও তখন বেশ অবাক হয়েছে। পরক্ষণে আনিকাও খুশি হয় আজমল রহমানের পুরো কথা শুনে।
.
.
অহানের রান্না শেষ। হাত ধুয়েমুছে ইহিতার রুমে এসে নক করে। ইহিতা তখনো ফ্লোরেই শুয়ে ছিল। বেশ কয়েকবার নক করার পরও দরজা খুলে না। এবার অহান জোরে জোরে নক করে। যার ফলে ইহিতার ঘুম হালকা হয়ে যায়। চোখ মেলে তাকাতেই সামনের সব কিছু ঘোলাটে দেখতে পায় । কাল রাতে অধিক মাত্রায় কান্না করার ফলে চোখ ফুলে গেছে। মাথা ঝিম মেরে আছে। বহু কষ্টে উঠে বসে। দরজা ধাক্কানোর আওয়াজ শুনতে পেয়ে বুঝতে পারে অহান ডাকছে। পরক্ষণে কার রাতের কথা মনে পড়ে। কিন্তু ইহিতা এটাও বুঝতে পারে এতে অহানের কোনো দোষ ছিল না। অহান তো সত্যিটা জানতো না। সে তার বউ নয়,ভাবিই হয়! চোখ বন্ধ করে দীর্ঘশ্বাস ফেলে দেয়াল ধরে উঠে দাঁড়াল। দরজা খুলে দিতেই হুড়মুড় করে অহান ভেতরে প্রবেশ করে। জোরে নিশ্বাস নিয়ে বলে,
-“এতক্ষণ লাগে দরজা খুলতে। আমি কতক্ষণ ধরে ডাকছি আপনাকে।”

ইহিতা নিচের দিকে তাকিয়ে মৃদ স্বরে বলে,
-“কেনো?”

-“ফ্রেশ হয়ে নিন। ব্রেকফাস্ট করবেন।” নরম স্বরে বলে অহান।

ইহিতা অহানকে কিছু না বলেই বাথরুমের দিকে পা বাড়াতেই অহান পিছন থেকে বলে উঠে,
-“মাফ করে দিবেন ভাবি। আমি…”

-“আমি এই টপিকে কোনো কথা বলতে চাই না। ভুলে যাও সব।” কাঠ কন্ঠে বলে বাথরুমে ঢুকে যায় ইহিতা।

অহান বুঝতে পারে ইহিতা এখনো রেগে আছে তার উপর। অহান কিছুক্ষণ মৌন হয়ে রয়। তারপর চলে আসে ড্রইংরুমে।একটু আগেই অহান রিফাত ও আনিকাকে ওর ফ্ল্যাটে আসতে বলেছে। ওদের জন্যও ব্রেকফাস্ট বানিয়েছে অহান।
রীতিমতো ওরাও সেখানে উপস্থিত হয়। অহান ওদের সাথে হাসি মুখে কথা বলে সোফায় বসতে বলে। অহানের এমন আচরণে আজ ওরা বেশ অবাক হলেও ভেতরে ভেতরে বেশ খুশি হয়। অহান রিফাত ও আনিকার উদ্দেশ্যে বলে,
-“স্যরি রে! এতদিন অজানতেই তোদের অনেক কষ্ট দিয়েছি। কাল তোরা সব কিছু চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছিস। এখন কি আমি আর আগের মতো থাকতে পারি বল। আমি সেই আগের অহান হয়েগেছি। যাকে তোরা চেয়েছিস। মাফ করেছিস তোরা।”

আনিকা এক মনে অহানকে দেখছে। খুশিময় এক চিতলে হাসি ফুটে উঠে ঠোঁটে। রিফাত অন্যদিকে মুখ ঘুরিয়ে অহানের সামনে ডান পা এগিয়ে দিয়ে বলে,
-“পা ধর,তাহলে মাফ করে দিবো।”

অহান দুষ্ট হাসি দিয়ে রিফাতের পা ধরে,কিন্তু পরক্ষণে পা ধরে টেনে ফ্লোরে ফেলে দেয়। যেটা দেখে আনিকা ও অহান দু’জনেই খিলখিল করে হেসে উঠে। এদিকে ইহিতা রুম থেকে বেরিয়ে দু’হাত বগলদাবা করে দাঁড়িয়ে ভারী কন্ঠে বলে,
-“আমার পা ধরবে কে শুনি?”

হাসি থামিয়ে ওরা ইহিতার দিকে তাকায়। অহান ইহিতার সামনে হাঁটু গেড়ে বসে হাত ভাজ করে বলে,
-“মাফ করে দেয় ভাবি। আমার এত্ত বড় ভুল হয়েগেছে। আর কখনো খারাপ কাজ করব না। সৎ পথে চলব। আর আপনার কথা পাই টু পাই নামবো।”

-“শুধু আমার কথা?” এক ভ্রু উঁচু করে বলে।

-“সবার কথা শুনবো। তবুও,মাফ করেন ভাবি ।”

-“ঠিক আছে,ঠিক আছে। সরো।”

অহান উঠে দাঁড়াতেই ইহিতা হেঁটে গিয়ে আনিকার পাশে বসে। খুব হাসি খুশিতেই সকালের নাস্তা সারে। এবং প্রোগ্রাম করে আজ ওরা পিকনিকে যাবে। তবে তার আগে অহান ওর অফিসে গিয়ে রিজাইন দিয়ে আসতে চায়। ওদের সব ব্যবস্থা করতে বলে অহান অফিসে আসে।
.
.
কাল রাতের কথা রিফাত ও আনিকা ইহিতাকে খুলে বলে। কিন্তু ইহিতা অহানের মিসবিহেভের কথা বলে না। অহানকে ছোট করতে চায় না ওদের কাছে। আর এমনেতেও এতে তো অহানের কোনো দোষ ছিল না। হামিদা বানু ইহিতাকে ফোন দিয়ে অনেক কান্নাকাটি করে। বলে,
-“মা তুই পারলি অহানকে ভালো বানাতে। তোর কাছে ঋনি আমি।”

-“আমি না মা। রিফাত ও আনিকার কারণে অহান আজ ভালো পথে ফিরে এসেছে। ওরা যদি সব কিছু খুলে না বলতো তাহলে হয়তো অহান এসব জানতো না।”

-“হ্যাঁ! ওরাও অনেক সাহায্য করেছে। আমি তোদের তিন জনের কাছেই ঋনি।”

-“এসব কথা থাক। আপনি এখন আর এসব নিয়ে টেনশন করবেন না।”

-“এখন আর টেনশন কিসের। আমার ছেলে ফিরে আসছে আমার কাছে। এটাই তো এত বছর চেয়েছিলাম। আল্লাহ আমার আশা পূরন করেছে।”

-“নামাজ পড়ে শুকরিয়া আদায় করুন আল্লাহর কাছে। আমি রাখছি মা।”

-“আচ্ছা!”

ফোন কেটে দেয় ইহিতা। রিফাত ও ইহিতাকে বসতে বলে রুমের ভেতরে আসে ইহিতা। দরজা লাগিয়ে মাটিতে বসে পড়ে। মাথায় খুব যন্ত্রণা হচ্ছে। কিন্তু না! তবুও সে মেডিসিন নিবে না। এখন আর কোনো পিছুটান নেই। হামিদা বানুর ওয়াদা সে রেখেছে। ইহিতা অতি কষ্টে হামাগুড়ি দিয়ে হেঁটে বাথরুমে আসে। দেয়াল ধরে উঠে দাঁড়িয়ে পানির টেপ ছেড়ে মাথায় পানি দিতে থাকে। কিছুক্ষণ পর মাথার ব্যথা নিয়ন্ত্রণ হতে থাকে। পুরো ব্যথা কমে যাওয়ার পর মাথায় তোয়ালে বেঁধে বাহিরে আসে।

-” মাথায় তোয়ালে বেঁধেছো কেন?” আনিকা জিজ্ঞেস করে।

-“মাথা ব্যথা বলছিল। তাই পানি দিয়েছিলাম।”

-“মেডিসিন নেও।”

-“না লাগবে না। কমে গেছে।”

-“তুমিও না। এসব ডাক্তারি কোথায় পেয়েছো কে জানে। এখন এখানে এসে দেখো কোথায় যাবে পিকনিকে।” ল্যাপটপে দিকে তাকিয়ে বলে আনিকা।ইহিতা আনিকার পাশে এসে বসে।
_____________________
এদিকে…

মিষ্টি নিয়ে অফিসে হাজির হয় অহান। যাকে পাচ্ছে সামনে, খুশিতে মিষ্টিমুখ করাচ্ছে। অহানের এমন কাণ্ডে রীতিমতো সবাই অবাক।চমকিত দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে ওঁর দিকে।
অফিসের পিয়ন ও যাদের সাথে এতদিন খারাপ আচরণ করেছে তাদের সবার কাছে অহান মাফ চায়।এবং-কি যে মেয়েদের সাথে অহান ফ্লার্ট করতো তাদেরকে আপু বলে সম্মোধন করে মাফ চায়। মেয়েরা অহানের এমন আচরণ দেখে পাল্টা জবাব না দিয়ে তাকিয়ে রয়। তারপর চলে যায় বসের কেবিনে। তার সাথে কিছুক্ষণ কথা বলে বাহিরে চলে আসে। এবং সবার উদ্দেশ্যে রিজাইন করার কথা বলে ফের মাফ চেয়ে চলে আসে বাহিরে। অহানের প্রতি সবার উপর ক্ষোভ থাকলেও এখন সবাই অবাক হচ্ছে এমন ব্যবহার দেখে। এবং সবার মনে অহানের করা অন্যায় গুলো মুছে গেছে।

বাসায় ফিরে পিকনিকের সব বন্দবস্ত করে একটি সুন্দর এরিয়ার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়। সেখানে আসতে বেশিক্ষণ লাগে না ওঁদের। এখানে এসে ছোট্ট একটা টেন্ট লাগিয়ে বারবিকিউ করতে থাকে। হামিদা বানু ও আজমল রহমানকে ভিডিও কলে ওঁদের পিকনিকের মোমেন্ট দেখাচ্ছে। ওদেরকে হ্যাপি দেখে তারাও হ্যাপি। ওঁরা খুব এনজয় করে আজকের পিকনিক টা। এরি মাঝে ইহিতার মাথায় পেইন উঠলে পাত্তা দেয় না। ঠোঁটে হাসি ফুটিয়ে সবার সাথে স্বাভাবিক ব্যবহার করে। সন্ধ্যার দিকে ওঁরা গাড়িতে বাসায় ফিরছে। গাড়িতে বসে অহান ঘুমিয়ে যায়। ওঁদের চেয়েও অহান বেশি পরিশ্রম করেছে আজ। তাই শরীর বেশ ক্লান ছিল। ক্লান্তিতে চোখে ঘুম এসে পড়েছে। গাড়ির পিছনের সিটের মাঝখানে ছিল অহান। ওঁর দু’পাশে ছিল ইহিতা ও আনিকা। রিফাত ছিল সামনে ড্রাইভারের সাথে। অহান ঘুমিয়ে যাওয়ার ফলে ওঁর মাথাটা বার বার আনিকার কাঁধের উপর পড়ছিল। আনিকা এটা দেখে অহানের মাথাটা ইহিতার কাঁধের উপর রাখে। আনিকার এমন কাণ্ডে ইহিতা ওঁর দিকে তাকায়। আনিকা মুচকি হেসে আস্তে করে বলে,
-“তোমার দেবর।”

ইহিতা অহানের মাথাটা আনিকার কাঁধের উপর রেখে দেয়। মুচকি হেসে আস্তে করে বলে,
-“আর তোমার ভালোবাসা।”

কথাটা শুনে যেন আনিকা কিছুটা লজ্জা পেল।চোখ সরিয়ে নেয় ইহিতার উপর থেকে। ইহিতা এটা বুঝতে পেরে মুচকি মুচকি হাসে। এদিকে অহান ইহিতা ও আনিকার কথা শুনতে পেয়ছে। প্রথম যখন আনিকা অহানের মাথা সরিয়ে ইহিতার কাঁধে রাখে তখনি ওর ঘুম পাতলা হয়ে যায়। তবুও,চোখ মেলে তাকায় না। ওঁদের দু’জনের কথা শুনে অহান আড়ালে মুচকি হাসে। বাসায় এসে ফ্রেশ হয়ে হালকা খাবার খেয়ে যে যার মতো শুয়ে পড়ে। কিন্তু ইহিতার চোখে ঘুম নেই। ফ্লোরে বসে একটি কাগজে কিছু একটা লিখতে ব্যস্ত সে। লিখা শেষ করে বিছানায় এসে ঘুমিয়ে পড়ে ইহিতা।
_______________________
দু’দিন পর….

অহান,ইহিতা সহ রিফাত ও আনিকাও বাংলাদেশে একেবারের জন্য চলে আসে। ওরাও আর যাবে না চায়না।এখানে থেকেই জব করবে। বাবা-মায়ের সাথে থাকবে।হামিদা বানুর ঘরে সেই আগের মতো হাসি-খুশির আমেজ ফিরে আসে। যেটা হারিয়ে গিয়েছিল বহু আগে। তারা বেশ খুশি। মরা সরা পরিবার যেন জীবন্ত হয়ে উঠে। এই খুশি ভাগাভাগি করে নিতে ইহিতার বাবা-মাও আসে এ বাড়িতে বেড়াতে। অনেকদিন পর তারা তাদের মেয়েকে দেখতে পেয়ে বেশ খুশি। এরি মধ্যে অহান আরমানের অফিসে চাকরির জন্য এপ্লাই করে। আরমানের ভাই হবার সুবাদে অহান সেই কোম্পানিতেই ভালো পোস্টে চাকরি পেয়ে যায়। সাথে রিফাতেও সেই একি কোম্পানিতে চাকরি হয়। এই বিষয় নিয়ে তারা আরো বেশি হ্যাপি ছিল। ঠিক মতো চলছিল তাদের দিন। অহান আরমানের মতো অফিসে যেত। রাত পার হলেই বাসায় ফিরতো। আর মাঝেসাঝে ভাবি দেবরের খুনসুটি তো আছেই। এখন অহান আর হামিদা বানুকে ভয় পায় না। তবে বাবা-মায়ের প্রতি অনেক শ্রদ্ধাশীল হয়েছে অহান।আনিকার বাবা-মা অহানের বাবা মায়ের সাথে কথা বলে ওদের বিয়ের ব্যাপারে। হামিদা বানু ও আজমল রহমানের কোনো আপত্তি ছিল না এই বিয়েতে। আর অহানও আনিকাকে বিয়ে করার জন্য রাজি ছিল। সামনের শুক্রবার ওঁদের এনগেজমেন্ট। সব কিছুই ঠিক ঠাক চলছিল। হাসি খুশি পরিবারের ছিল না কোনো কিছুর ত্রুটি।

কিন্তু কথায় আছে। হাসি-খুশি দিনগুলো বেশিদিন স্থানী রয় না। একদিন দুঃখ প্রকাশ পাবেই! আজ না হয় কাল।
সকাল থেকে ইহিতাকে ডেকে উঠাতে পারেনি হামিদা বানু। আজমল রহমানও কয়েকবার ডেকেছে। কিন্তু কোনো সাড়া পায়নি। শেষে বাধ্য হয়ে ঘুমন্ত অহানকে ডেকে তুলে হামিদা বানু। অহান ব্যাপারটা শুনেই তড়িঘড়ি করে উঠে ইহিতার রুমের সামনে আসে। অহানও কয়েকবার ভাবি বলে ডাক দেয়। কিন্তু ভেতর থেকে কোনো সাড়া পায় না। সবার মনের মধ্যে ভয়ের আশঙ্কা দানা বেঁধেছে। অহান দ্রুত দরজা ভাঙার চেষ্টা করে। একা কিছুক্ষণ চেষ্টা করে। পরক্ষণে রিফাতকে ডাক দেয়। রীতিমতো সেখানে কিছু এলাকার মানুষ এসে জড়ো হয়েছে। দু’জনলে মিলে জোরে ধাক্কাতে থাকে। কাঠের দরজা হওয়ায় এক পর্যায়ে ভেঙে যায়। রুমের ভেতরে অহান,রিফাত,হামিদা বানু, আজমল রহমান ঢুকেই থমকে যায়। কথা বলার ভাষা তারা হারিয়ে ফেলেছে। বাকরুদ্ধ হয়ে গেছে তারা। ইহিতা বেশ স্বাচ্ছন্দ্যে সাথে ঘুমিয়ে আছে। এক হাত ঝুলে আছে বিছানার নিচে। পরনে ছিল সেই শাড়িটি। যেটা আরমান দিয়েছিল। সেই একি রকম সাজ ছিল চেহারাতে। তাদের বুঝতে আর বাকি থাকে না ইহিতা আর নেই। তাদের ছেড়ে বহু দূরে চলে গেছে। যেখানে আছে এ বাড়ির বড় ছেলে আরমান!

হামিদা বানু জোরে চিৎকার করে কান্না করে মাটিতে বসে পড়ে। আজমল রহমান হামিদা বানুকে বুকের সাথে জড়িয়ে ধরে শান্তনা দেওয়ার বৃথা চেষ্টা করছে। কারণ সে নিজেও কাঁদছে। অহান ঠোঁটে কৃত্রিম হাসি ফুটিয়ে রিফাতের কাঁধে হাত রেখে বলে,
-“রিফাত ভাবি তো ঘুমিয়ে আছে তাই না। সে তো মারা যায়নি। সামনে গিয়ে দেখ ভাবি সত্যি ঘুমাচ্ছে। সে মারা যায়নি রে। বল,তুই আম্মুকে বল। সে ঘুমিয়ে আছে।বল, বল না।”

রিফাত অহানের কথা শুনে অন্যদিকে মুখ ঘুরিয়ে কান্না আটকানো চেষ্টা করছে। রিফাতের উত্তর না পেয়ে অহান শেষে চিৎকার করে বলে,
-“বল না….। কেন বলছিস না তুই। ভাবি তো ঘুমিয়ে আছে রে। বল দোস্ত।” জোরে ধাক্কা দিয়ে রিফাতকে সরিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ে অহান। হাঁটু গেড়ে বসে বাচ্চাদের মতো কাঁদছে। এমন কান্না বোধহয় তার ভাই মারা যাওয়ার সময়ও কাঁদেনি। রিফাত আনিকা ও ইহিতার পরিবানের সবাইকে খবর দিয়ে দেয়।আনিকা অহানদের পাশের এলাকায় থাকতো। খবর পেয়ে দৌড়ে ছুটে আসে অহানদের বাসায়। রুমে ঢুকে ইহিতাকে দেখে দেয়ালের সাথে পিঠ ঠেকিয়ে কান্না করে।

অহানের আগেন দিন গুলোর কথা মনে পড়ে যায়। ইহিতার সাথে কাঁটানো প্রতিটা খুশির,রাগারাগি,দুষ্টুমি গুলো খুব মনে পড়ছে। চিৎকার করে কান্না করছে অহান। কিভাবে মেনে নিবে? তার বড়ো ভাবি আর এই পৃথিবীতে নেই।
কিভাবে মনকে বোঝাবে এটা! মন যে বুঝতে চাইছে না।
কান্নার এক পর্যায় অহান ইহিতার হাতের পাশে দুইটি কাগজ দেখতে পায়। অহান দ্রুত হামাগুড়ি দিয়ে বিছানার কাছে এসে প্রথম কাগজটি হাতে নিয়ে খুলে পড়তে থাকে। সেই কাগজে কিছু লিখা ছিল।

কিভাবে বলবে বা শুরু করব জানি না। প্রথমেই সবার কাছে ক্ষমা চেয়ে নেই। আমার ব্রেইন ক্যানসার হয়েছিল। বিয়ের পর আমার প্রচুর মাথা ব্যথা করতো। ঔষধ খেলে কমে যেতো কিন্তু পরে তার চেয়ে বেশি ব্যথা করতো। যার কারণে আরমান আমাকে বাবা-মায়ের বিবাহ বার্ষিকীর পরেরদিন ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাবার কথা বলেছিল। কিন্তু তার আগেই আমার দুনিয়া পাল্টে গেল। আরমান যাওয়ার পর আমি অনেকদিন যাবত পাগলের মতো আচরণ করেছিলাম। এক কথায় পাগল ছিলাম। এসব আমার কাছে অজানা ছিল। আমাকে চিকিৎসা করিয়েছে ঠিকি। কিন্তু ভাগ্যের কি নির্মম খেলা। ডাক্তার রা আমার ব্রেইন ক্যান্সারের কথা জানতে পারেনি। আমি সুস্থ হয়ে একা মাথার ব্যথার জন্য ডাক্তারের কাছে যাই। কিছু পরিক্ষা নিরীক্ষা করার পর জানতে পারি আমার ব্রেইন ক্যান্সার হয়েছে। তাও লাস্টের পর্যায় আছি। যদি অপারেশন করা হয় তারপরও ভালো হবে না।
আমি বেশ খুশি হয় কথাটা শুনে। প্রতিনিয়তে আমরানের স্মৃতিকে আঁকড়ে ধরে ধুঁকে ধুঁকে মরার চেয়ে ক্যান্সারে মরা ভালো। তাই এটাকেই বেছে নেই। কিছু মেডিসিন দিয়েছিল। এই ঔষধ রেগুলার সেবন করলে বড়জোর এক বছর আমি বেঁচে থাকবো। আমি ঔষধ খেতাম না। কিন্তু কয়দিন পর যখন মা তোমাকে বিয়ে করার কথা বলে রাজি হই না। কিন্তু যখন মিথ্যে বিয়ের নাটক করে তোমাকে ভালো পথে ফিরিয়ে আনার কথা বলে তখন রাজি হই। ঔষধ একে বারে বেশি করে কিনে নিয়ে আসি। তারপর তোমার সাথে চায়নাতে যাই। সেখানে যাওয়ার পরও মাঝে মাঝে আমি মেডিসিন নিতাম না। আর যখন তুমি ভালো হলে তখন অবশিষ্ট মেডিসিন সব ফেলে দেই। আমি জানতাম। আজ না হয় কাল মরে যাব। তাই এখানে আসার পর প্রতিদিন আরমানের দেওয়া এই শাড়িটা পড়ে সেজেগুজে থাকি। পরিশেষে বলছো। আমাকে মাফ করে দিবেন সবাই। সবার কাছ থেকে এত বড় সত্য লুকানোর জন্য। দয়া করে আমার উপর রেগে থাকবেন না।
আর অহান! যদি কোনো ভুল করে থাকি তাহলে মাফ করে দিও। আনিকাকে বিয়ে করে সুখে থেকো। দূর থেকে না-হয় দোয়া করব তোমাদের জন্য। ভালো থাকবেন সবাই।

_আরমানের
মিষ্টি
বউ
ইহিতা_

অহানের চোখের পানি কাগজের উপর পড়ছে। রিফাত হাত থেকে কাগজটা নিয়ে পড়তে শুরু করে। অহান বিড়বিড় করে বলে,
-“আমি ভালো না হলে হয়তো আরো কয়দিন বেশি বেঁচে থাকতেন আপনি। কেনো ভালো হলাম আমি। কেনো ভালো হলাম…..।” চিৎকার করে কেঁদে কেঁদে বলে অহান।

ইহিতার বাবা-মা সেখানে এসে উপস্থিত হয়। মেয়ের লাশ দেখে তারা পুরো ভেঙে পড়ে। কি অদ্ভুত মৃত্যু! এ বাড়ির ঠিক এই রুমিতে এসেছিল কনে সেজে। আর আজ লাশ হয়ে বের হবে এ রুম থেকে।

পুরো বাড়ি জুড়ে কান্নার আওয়াজ প্রতিধ্বনি হচ্ছে। কে কাকে সামলাবে। সবার অবস্থা এক! ইহিতার এমন মৃত্যু কেউ মেনে নিতে পারছে না।
অহান চোখ মুখে ইহিতার হাত ধরে পাগলের মতো বলে,
-“এখন কে আমাকে বকবে? কে আমার গাল টেনে দিবে? কে আমাকে পিচ্চি অহান বলে ডাকবে? কে বলবে আম্মুকে কল দেবো? কে আমাকে শাসন করবে? কার সাথে আমি আমার সুখ-দুঃখ শেয়ার করব? ভাত না খেলে কে আমাকে খাইয়ে দিবে? কাকে নিয়ে আমি ঘুরতে যাব? বলুন? সব কথার উত্তর আমাকে দিতে হবে। এভাবে না বলে আপনি যেতে পারেন না। উত্তর চাই আমার। উত্তর চাই…উত্তর চাই…!” হাতের সাথে ওঁর মাথা ঠেকিয়ে বলে। ইহিতার হাত প্রচণ্ড শীতল ছিল।

অহান ইহিতার পাশে থাকা দ্বিতীয় কাগজটি দেখে। কাঁপা কাঁপা হাতে সেটি হাতে নিয়ে ঘোলাটে চোখে খুলে দেখে এটা সেই কাগজ। যেটাতে অহান ও ইহিতার বিয়ের সাইন ছিল। অহান হাতের উল্টো পিঠে চোখের পানি মুছে। স্পষ্ট ভাবে অহানের সাইন আছে সেখানে। কিন্তু ইহিতার সাইনের সেখানে ছিল না। সেই স্থানে লেখা ছিল….!

প্রিয় আরমান।
আমার ভালোবাসার শুরুটা যখন আপনাকে দিয়েই হয়েছে।
আপনাকে ভালোবেসেই মরতে চাই।
আমি শুধু আপনাকেই_চাই।

সমাপ্ত।

পূর্ববর্তী নিবন্ধ
পরবর্তী নিবন্ধ
গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

1 মন্তব্য

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ