Home "ধারাবাহিক গল্প" Dangerous_Crazy_Lover Part-12( Last Part)

Dangerous_Crazy_Lover Part-12( Last Part)

#Dangerous_Crazy_Lover_💓.
#Sumaiya_Moni.
#Part-12.[ Last ]

তিন দিন পর…..

ধর্ষণের আইনগত দন্ডবিধির ৩৭৫ নং ধারা অনুযায়ী –
কোনো নারীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে অথবা কোনো
নারীর সম্মতি ছাড়া অথবা কোনো নারীকে মৃত্যু বা
শারীরিক আঘাতের ভয় দেখিয়ে সম্মতি দিতে বাধ্য
করলে ও নাবালিকা অর্থাৎ‌ ১৬ বছরের কম
বয়স্ক শিশু সম্মতি দিলে কিংবা না দিলে (সে যদি
নিজ স্ত্রীও হয়) অথবা কোনো নারীকে বিয়ে না
করেই ব্যক্তিটি তার আইনসঙ্গত স্বামী এই
বিশ্বাস দিয়ে যদি কোনো পুরুষ যৌন সম্পর্ক
স্থাপন করে তাকে আইনের ভাষায় ধর্ষণ বলা হয়।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০
(সংশোধিত ২০০৩) – এর ৯ ধারা অনুযায়ী ধর্ষণের
অপরাধের শাস্তির বিধান রয়েছে ।
ধর্ষণের ফলে কোনো নারী বা শিশুর মৃত্যু হলে
ধর্ষণকারীর জন্য রয়েছে মৃত্যুদন্ড বা যাবজ্জীবন
সশ্রম কারাদন্ড। সমস্ত সাক্ষ্যপ্রমাণ এর ভিত্তিতে রবি ও তার ৪বন্ধুরা মিলে রিমা নামের মেয়েটিকে একাধিক ধর্ষণ করে। রবি কে ৩০২ নং ধারা অনুযায়ী ফাঁসির রায় ঘোশনা করা হল। রবির ৪জন বন্ধুকে ১২২ নং ধারা অনুযায়ী যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ডে দন্ডিত করা হল।

ঘোশনা শেষ করেই জর্জ চেয়ার ছেড়ে উঠে চলে যায় ।

রবি রাগী চোখে বিদ্যুতের দিকে তাকিয়ে আছে । রবির বাবা জালাল হোসেন ক্রোধ নিয়ে কোর্ট থেকে বেরিয়ে যায় ।

বিদ্যুত ৫মিনিট চোখ বন্ধ করে রাখলো। ওর বিশ্বাস হচ্ছে না কেস টা ও জিতে যাবে। অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করা বিদ্যুত আজ জই হয়েছে । যে যার মতো কোর্ট থেকে বের হতে লাগলো । বিদ্যুত ওর ডান হাতে কালো পোশাক টা নিয়ে কোর্ট থেকে বের হল। কোর্টের বাহিরে লোক জনের চোখ বিদ্যুতের উপর স্থির। যে বিদ্যুত অন্যায় কে ওর সৎ পথ মনে করতো। টাকার বিনিময় হাজার হাজার কেস ধামা চাপা দিয়ে দিত,আর আজ বিদ্যুত সত্যের পথে লড়াই করে জিতে ফিরেছে। সবাই আশ্চর্যবোধক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে বিদ্যুতের দিকে । বিদ্যুত মাথা নিচু করে হেঁটে হেঁটে গাড়ির কাছে যেতে লাগলো । রিমার মা এসে বিদ্যুতের পা জড়িয়ে ধরল ।

বিদ্যুত: আরে এ কী করছেন ? উঠুন বলছি।

রিমার মা: বাবা তুমি আজ আমার জন্য যা করলে আমি হেইডা কোন দিন ভুলতে পারমু না। …….[ কান্না করে ].

বিদ্যুত কিছু বলছে না চুপ করে রিমার মার কথা শুনছে।

রিমার মা: তোমার জন্য‌ ওই জানোরের দল গুলোর শাস্তি হইছে। আমি তোমার কাছে কৃতজ্ঞ । দোয়া করি আল্লাহ্ তোমায় সব সময় ভালো রাখুক। ভালো থাকো বাবা ,ভালো থাকো…….[ শাড়ির আঁচলে চোখ মুছে চলে গেল ]

বিদ্যুত রিমার মার যাওয়ার দিকে তাকিয়ে আছে।

মিডিয়ার লোক জন বিদ্যুতের সাথে কথা বলার জন্য চার দিক ঘিরে দাঁড়িয়ে আছে। কিন্ত পুলিশের কারনে বিদ্যুত কাছে আসতে পারছে না। টিভি চ্যালেনে এই একি নিউজ চলছে।
বিদ্যুত হেঁটে গাড়ির সামনে এসে দাঁড়ায় । রবিন খুশি মুডে গাড়ির দরজা খুলে দিলে বিদ্যুত রবিনের উদ্দেশ্যে বললো ।

বিদ্যুত: আমি একা যাবো….।

বলেই ড্রাইভিং সিটে বসে গাড়ি স্টার্ট দিয়ে কোর্ট থেকে বেরিয়ে পড়লো। রবিন অবাক হয়ে বিদ্যুতের গাড়ির দিকে তাকিয়ে থাকে । বিদ্যুত গাড়ি নিয়ে একটা সুনশার জাগায় চলে আসে। সেখানে নেই কোন কোলাহল,নেই চিৎকার চেচামেচি। চার দিকে সবুজে ঘেরা গাছ-গাছালিতে ভরপুর। বিদ্যুত গাড়ি থেকে নেমে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে দূরে ওই সবুজে ঘেরা গাছ-পালার দিকে। সেখান থেকে চোখ সরিয়ে ওর দু হাত সামনে দিকে ধরে ভালো করে চোখ বুলিয়ে দেখতে লাগলো।

এই সেই হাত? যেই হাত দিয়ে আমি কত না অন্যায়ের ও সত্যের বিরুদ্ধে লড়েছি। এই সেই হাত যে হাত দিয়ে কত সত্য কে টাকার বিনিময় ধামা চাপা দিয়েছি। অন্যায় পথে লড়ে জিৎ হাছিল করেছি। কিন্তু কখনোই নিজের প্রতি গর্বিত বোধ অনুভব করিনি। আজ নিজের প্রতি গর্ববোধ করছি। হ্যাঁ! আজ আমি নিজের প্রতি নিজে গর্বিত। আজকে থেকে বিদ্যুত আরিয়ার চৌধুরী সত্যের পথে লড়াই করবে। মুছে দিবে নামের‌ পিছনে ক্রিমিনাল লইয়ার নামটি। অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবে বিদ্যুত ।

চিৎকার দিয়ে কথা গুলো বললো…….।

বিদ্যুত: আরিয়া….তুমি আমার জীবনে না আসলে আমার ভিতরের অমানুষটা কে আমি বের করে ছুড়ে ফেলে দিতে পারতাম না। তুমি আমাকে পরিবর্তন করে দিয়েছ আরিয়া। আরিয়া ইউ আর এ গ্রেট গার্ল। আমার জীবনের লাকি পারসন তুমি….। আই লাভ ইউ আরিয়া……।

বিদ্যুত খুশি মুড নিয়ে গাড়িতে বসে সেখান থেকে বাসার উদ্দেশ্যে রওনা দিল। বাসায় পৌঁছে চিল্লিয়ে আরিয়া কে ডাকছে।

বিদ্যুত: আরিয়া….. আরিয়া….কোথায় তুমি আরিয়া….[ মুচকি হেসে ]

বিদ্যুত বাসায় কাউ কেই দেখতে পাচ্ছে না। লিলি,রাইমা,রবিন কেও দেখছে না। বিদ্যুত সিঁড়ি বেয়ে উপরে ওর রুমে চলে এলো। রুমে এসে জোরে জোরে আরিয়ার নাম ধরে ডাকছে।

বিদ্যুত: আরিয়া …..তুমি কোথায়..? আরিয়া….।

বারান্দায়,বাথরুমে ভালো করে দেখলো। কিন্ত আরিয়া কোথাও নেই। বিদ্যুতের মন নিমিষেই খারাপ হয়ে যায়। এক রাশ ভয় এসে বিদ্যুতের মনে ভর করল । আরিয়া কে হারানোর ভয়। হুট করে বিদ্যুতের চোখ যায় ফুলদানির উপর। ফুলদানির নিচে একটা ছোট্ট চিরকুট দেখতে পেল। বিদ্যুত দেরি না করে তাড়াতারি করে চিরকুট টা হাতে নিয়ে পড়তে লাগলো।

বিদ্যুত আরিয়ার চৌধুরী……

প্রথমেই কংগ্রেস….আজকের কেস আপনি জিতে গিয়েছেন। আজ আপনাকে একটা সত্যি কথা বলতে চাই। যেটা আপনার অজানা ছিল। আমার স্মৃতি-শক্তি হারায় নি। আমার সব কিছু মনে আছে। আমি জ্ঞ্যান ফিরার পর থেকেই সুস্থ ছিলাম। যখন আমার জ্ঞ্যান ফিরে, তখন আমি দু জন নার্সের কথা শুনতে পাই। তারা আমাকে নিয়েই কথা বলছিল। স্মৃতি শক্তি হারানোর কথা আমি তাদের মুখ থেকেই শুনি । আর তখনি আমি স্মৃতি শক্তি হারিয়ে ফেলার অভিনয়টা করি। তবে এই অভিনয় টা করার বিষেশ কারন আছে। আর সেই কারনটা হচ্ছে আপনি ? টাকা-পয়সা,নাম-জোশ,খ্যাতি সবি আপনার আছে । কিন্ত আপনার মধ্যে নেই কোন ভালোবাস,মায়া,সততা। আছে শুধু অহংকার ও হিংস্রতা। নিজের মাকছাত হাছিল করার জন্য আপনি সব কিছু করতে পারেন। মানুষের জীবনের কোন মূল্যই নেই আপনার কাছে। আমকে পাবার জন্য আপনি আপনার হিংস্রাতাই দেখিয়েছেন। সেখানে ছিল না ভালোবাসা নামক চিহ্নটা। আমার প্রিয়া দু জন কে আপনি কেড়ে নিয়েছেন। আমাকে আমার আপন মানুষদের কাছ থেকে পর করে দিয়েছেন। তখন আমি কিভাবে প্রতিটা মুহূর্ত কাটিয়েছি জানেন? জানেন না। জিন্দা লাশ হয়ে জীবন কাঁটিয়ে ছিলাম। আমি চাই নি আপনার সাথে অভিনয় করতে। কিন্তু আপনি আমাকে বাধ্য করেছেন। টিংকু হারিয়ে যায় নি। টিংকুকে আমি লুকিয়ে রেখেছি। তারপর বাহানা করে আপনাকে ওই এতিম খানায় ও বৃদ্ধা আশ্রমে নিয়ে গিয়েছিলাম। গাড়ির ড্রাইভার চাচা কে আমি এই ব্যাপারে আগেই বলে রেখেছিলাম। তিনি আমাকে এই ব্যাপারে অনেকটাই সাহায্য করেন। লিলি,রাইমা,রবিন ওরা জানতে পারে তৃতীয় দিন। সেদিন আমি অন্য রুমে বসে টিংকুকে নিয়ে খেলা করছিলাম । ওরাও আমাকে সাহায্য করে। এতো নাটক,এতো অভিনয় শুধু আপনার জন্যই করা হয়েছে । কেননা অভিনয় করে আমি আপনাকে এটা বুঝাতে চেয়েছিলাম যে মানুষ কে কিভাবে ভালোবাসতে হয়। কিভাবে মানুষকে আপন করে নিতে হয়। জীবনের মূল্যটা কী এবং এই জীবনে বেঁচে থাকার জন্য কী কী প্রয়জন,এটা বুঝাতে চেয়েছিলাম। আমার প্রতি আপনার কেয়ার করার মধ্যে আমি ভালোবাসা খুঁজে পাই নি। হিংস্রতা,রাগ খুঁজে পেয়েছি। যখন দেখলাম আপনি আস্তে আস্তে ভালো পথে ফিরে আসছিলেন এবং সব কিছু বুঝতে পারছিলেন তখন আমিও আপনার প্রতি দিনে দিনে দূর্বল হয়ে পড়তে থাকি। আর সেদিন যখন আপনি রিমা কে হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করিয়ে,রিমার কেস টা হেনডের করার দায়িত্ব আপনি নিবেন বলছিলেন তখন মনে মনে অনেক খুশি হয়েছিলাম আর আপনার প্রতি আমার ভালোবাসা টাও বেড়ে যায়। কিন্ত আমি আমার মনকে সংযত করি। আমি তখন আপনার মধ্যে একজন সৎ বিদ্যুত আরিয়ার চৌধুরী কে দেখতে পেয়েছিলাম। রিমার কেস নিয়ে এই তিন দিন আপনি অনেকটা পরিশ্রম করেছেন। সেটা আমি লুকিয়ে লুকিয়ে সবটা দেখেছি। আমি যানতাম আপনি এই কেসটা জিতে যাবেন। আসা করি আপনি এবাবেই সত্যের পথে লড়াই করে যাবেন। আমার তরফ থেকে আপনার জন্য রইলো অনেক অনেক শুভকামনা। ভালো থাকবেন অল টাইম । আর হ্যাঁ! আমি আপনার জীবন থেকে দূরে চলে গেলাম। আমার কাজ শেষ। আপনাকে ভালো পথে ফিরিয়ে আনাটায় আমার টার্গেট ছিল। সেটা পূর্ন হয়েছে…..”বাই”…..।

ইতি
আরিয়া নূর……।

চিঠিটা পড়ে বিদ্যুত দুপ করে বিছানায় বসে পড়ে। এতো দিন সত্যিটা আরিয়া বিদ্যুতের কাছ থেকে লুকিয়ে রেখেছিল। ওকে ভালো করার জন্য।

বিদ্যুত: আমি তোমাকে হারাতে চাই না আরিয়া….আমি শুধু তোমাকে চাই আরিয়া।

বলেই গাড়ি নিয়ে আরিয়াদের বাসায় চলে এলো। কলিংবেল চাপ দেবার সাথে সাথে রাজু হোসেন এসে দরজা খুলে দিল । রাজু হোসেন বিদ্যুত কে দেখে ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞেস করলো?

রাজু হোসেন: কী চাই?

বিদ্যুত: আরিয়া কোথায়? আরিয়া কে নিয়ে যেতে এসেছি আমি ।

রাজু হোসেন: আরিয়া কে অনেক আগেই আমার কাছ থেকে নিয়ে গিয়েছ,সেটা কী তুমি ভুলে গিয়েছ? আরিয়া আমার কাছে নেই? চলে যাও এখান থেকে ।

বিদ্যুত: আরিয়া আপনার কাছেই আছে প্লিজ আরিয়া কে একটু ডাক দিন আমি ওর সাথে কথা বলতে চাই?……[ বিনয়ি স্বুরে ]

রাজু হোসেন: আরিয়া আমার কাছে নেই?

বিদ্যুত: আপনি মিথ্যে বলছেন। আরিয়া আপনার কাছে আছে ।

রাজু হোসেন: মিথ্যের কথা বলার অভ্যাস তোমার আছে আমার নেই। এখান থেকে চলে যাও।….[ বলেই মুখের উপর দরজা লাগিয়ে দিল ]

বিদ্যুত বুঝে গেছে আরিয়া এখানে নেই। তাই দেরি না করে গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে পড়ে আরিয়া কে খুঁজতে। সারা জাগায় তন্নতন্ন করে খোঁজ করে। তারপরও আরিয়ার দেখা মিললো না বিদ্যুতের । বিদ্যুত পাগল হয়ে যায় আরিয়া কে কোথাও খুঁজে না পেয়ে। আরিয়ার কলেজ থেকে শুরু করে বান্ধবিদের বাসায় খোঁজ করে। এবং কি বাস,রেল,লঞ্চ,এয়ারপোর্ট সব জাগায় লোক দিয়ে খোঁজ করে বিদ্যুতের লোকেরা। কিন্ত ফল শূন্য ।

বিদ্যুত মন খারাপ করে সন্ধ্যার দিকে বাসায় চলে আসে। মনে মধ্যে ঝড় বয়ে যাচ্ছে । এভাবে আরিয়া কে হারিয়ে ফেলবে ওর জীবন থেকে সেটা ওর ভাবনার বাহিরে ছিল । বিছন্ন মনে হেঁটে হেঁটে হল রুমের সোফায় ধপ করে বসে পড়লো। এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে নিচের দিকে । অজানতেই চোখ থেকে দু ফোটা পানি গড়িয়ে মাটিতে পড়ল। শার্টের হাতায় চোখের পানি মুছে নিল। অতি কষ্টে ছেলেরা কাঁদে আর নয়তো পাথর হয়ে যায়। বিদ্যুত আজ আরিয়ার জন্য কাঁদছে।

কিছুক্ষন মাথা নিচ করে বসার পর হঠাৎ বিদ্যুতের মনে হচ্ছে ওর পাশে বসে শব্দ করে কেই কিছু একটা খাচ্ছে। বিদ্যুত মাথা তুলে দেখে আরিয়া । আরিয়া আরাম করে চাকুম চুকুম শব্দ করে তেতুল খাচ্ছে। বিদ্যুত কে তাকাতে দেখে আরিয়া বলে উঠল।

আরিয়া: খাবেন ?

বিদ্যুত আরিয়ার কথা শুনে কিছু না বলেই আবার ও মন মরা হয়ে নিচের দিকে তাকিয়ে আছে। ওর মনে হচ্ছে ও সপ্ন দেখছে। হুট করেই খেয়াল করলো ওর সামনে সত্যি সত্যি আরিয়া বসে আছে। বিদ্যুত ঘাড় ঘুরিয়ে রাগী চোখে আরিয়ার দিকে তাকাল।

আরিয়া বিদ্যুত কে এবাবে তাকাতে দেখে তেতুল খাওয়া বন্ধ করে বললো।

আরিয়া: কী হয়েছে এভাবে তাকিয়ে আছেন কেন? আমি কী আগের চেয়ে আরো সুন্দর হয়েছি নাকি? হতেই পারি,তাতে এবাবে তাকানোর কী আছে হুহহহ? দেখুন এবাবে তাকাবেন না ? আমার নজর লেগে যেতে পারে। নজর লাগলে করুন হাল হয়ে যাবে আমার। তারপর আমার চেহার নষ্ট হয়ে যাবে। তারপর আমাকে কেউ পছন্দ করবে না। তারপর আমি মরে……….।

বাকি কথা বলতে না দিয়ে বিদ্যুত আরিয়াকে চেপে ধরে আলতো স্পর্শে আরিয়ার ঠোঁটের স্বাদ নিতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে……।
আরিয়া কিছুই বলতে পারছে না। চোখ দুটো রসগোল্লার মতো হয়ে গেছে। ধাক্কা দিয়েও বিদ্যুত কে সরাতেই পারছে না আরিয়া।

কিছুক্ষন পর আরিয়া কাছ থেকে সরে আসে বিদ্যুত। আরিয়া জোরে জোরে নিশ্বাস নিচ্ছে। বিদ্যুত মুচকি হেসে বললো।

বিদ্যুত: এবার বল এতোক্ষন কোথায় ছিলে?

আরিয়া: …………….

বিদ্যুত: বলবে নাকি আবারও…..।

আরিয়া: না না না…..ইয়ে মানে বাসায় ছিলাম। দেখছিলাম আপনি কী করেন ? আমাকে ছাড়া থাকতে পারেন কি না।………[ মৃদ স্বুরে বললো ]

বিদ্যুত: তো দেখে নিয়েছ?

আরিয়া: হুমম…।

বিদ্যুত: সকাল হতে আমাকে হয়রান করার ফল তোমাকে আরো ভোগ করতে হবে। ওইটা তো ট্রেলার ছিল । পিকচার তো আরো বাকি আছে।……[ টেডি স্মাইল দিয়ে ]

আরিয়া: মাফ চাই….দোয়া চাই….ভিক্ষা চাই প্লিজ…. [ হাত জোর করে বললো ]

বিদ্যুত: মাফ করতে পারি এক সর্তে যদি তুমি আমাকে আই লাভ ইউ বল তাহলে…….[ বাঁকা হেসে ]

আরিয়া: পারবো না…..বয়ে গেছে আমার বলতে,ঠেঙ্গা….[ ভেংচি দিয়ে ]

বিদ্যুত: তাহলে আর কী করার….শুরু করা যাক….[ মুচকি হেসে ]

আরিয়া: এই না না না না…..আমি বলছি…।

বিদ্যুত: বল?

আরিয়া: আই…..।

বিদ্যুত: হুমম…ইউ…।

আরিয়া: আই……।

বিদ্যুত: হুমম….ইউ.?

আরিয়া: আই….।

বিদ্যুত: মজা করা হচ্ছে….দাঁড়াও……[ উঠে আসতে নিলে ]

আরিয়া: আই লাভ ইউ পঁচা আমসত্ত্বা……..[ বলেই উঠে উপরে দৌড় ]

বিদ্যুত: কীহহহ!…..আরিয়া দাঁড়াও…..তোমাকে আজ দেখাবো #Dangerous_Crazy_Lover_💓.কাকে বলে। ………[ জোরে চিল্লিয়ে ]

আরিয়া: আমাকে ধরতে পারলে তো দেখাবেন… ক্রেজি লাভার…..[ পিছন দিক ফিরে মুচকি হেসে বললো ]

বিদ্যুত মুচকি হেসে আরিয়ার পিছু পিছু দৌড়ে উপরে যেতে লাগলো।
শুরু হয়ে গেল ওদের খুনশুটি ভালোবাসা ।
নেই কোন রাগ । নেই কোন হিংস্রতা। আছে শুধু ভালোবাসা । এবাবেই ওদের ভালোবাসা সারা জীবন অটুট থাকুক।

…………………..সমাপ্ত…………………।

[ সবাইকে অনেক অনেক ধন্যবাদ প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত গল্পটা পড়ার জন্য। জানি না আপনাদের কাছে এই গল্পটা কেমন লেগেছে। অবশ্যই কমেন্ট করে বলে দিবেন গল্পটা কেমন লেগেছে। আর ভুলত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।]

গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

প্রভুভক্তি | গল্প পোকা ছোট গল্প

#গল্পপোকা_ছোটগল্প_প্রতিযোগিতা_নভেম্বর_২০২০ প্রভুভক্তি লেখা : সাইক শিবলী গ্রামের নাম মেঘলাপুকুর। একদিন সকালে গ্রামের একটি কাঁচা রাস্তার পাশে ঝোপের পিছনে একটি কুকুরছানা ব্যথায় ছটফট করছিল। তার সেই মর্মভেদী আর্তনাদে...

অবহেলা | সম্পর্কের কাঁচি | কষ্টের গল্প

#গল্পপোকা_ছোটগল্প_প্রতিযোগিতা_নভেম্বর_২০২০ গল্পঃ অবহেলা (সম্পর্কের কাঁচি) ক্যাটাগরিঃ কষ্টের গল্প লেখকঃ ইলিয়াস বিন মাজহার ‘বাবা, কিছু খেয়ে...

সামিরার ডায়রী | রোমান্টিক থ্রিলার

#গল্পপোকা_ছোটগল্প_প্রতিযোগিতা_নভেম্বর_২০২০ গল্প:সামিরার ডায়রী লেখনীতে:রেজওয়ানা ফেরদৌস ক্যাটাগরী: রোমান্টিক থ্রিলার। বাসর রাতেই আমার স্বামী মারা যান।পরে জানতে পারলাম উনি ব্লাড ক্যানসারের রোগী ছিলেন।ছেলেপক্ষ তরিঘরি বিয়ে দিতে চেয়েছিল বংশ রক্ষার আশায়...

এক জীবনের গল্প

#গল্পপোকা_ছোটগল্প_প্রতিযোগিতা_নভেম্বর_২০২০ "এক জীবনের গল্প" - আর্নিসা ইসলাম রিদ্দি পাগলের মতো কান্না করে চলেছে আছিয়া।আজ যেন আছিয়ার চোখের জল কিছুতেই বাধা মানছে না। মনে হচ্ছে পৃথিবী থমকে...
error: ©গল্পপোকা ডট কম