Friday, June 5, 2026







বাড়ি"ধারাবাহিক গল্প"অনুভূতির সুপ্ত কোণে পর্ব-২০ এবং শেষ পর্ব

অনুভূতির সুপ্ত কোণে পর্ব-২০ এবং শেষ পর্ব

#অনুভূতির_সুপ্ত_কোণে🍂
#কায়ানাত_আফরিন
অন্তিম পর্ব
.
ঘ্ড়ির কাটা ৬টা ৩০ ছুই ছুই। পশ্চিম আকাশে সূর্য ডুবে দেখা যাচ্ছে রক্তিম আভা। শহরের কোলাহলপূর্ণ দালানকোঠা পেরিয়ে গাড়িটি এগিয়ে যাচ্ছে সবুজ সমারোহের পরিবেশের দিকে। মেহের অবাক নয়নে উপভোগ করছে পরিবেশটুকু। কিছুটা কৌতুহলের সাথে আদ্রাফের দিকে তাকায় সে। আদ্রাফ আজ ব্লু ডেনিম প্যান্টের সাথে পড়েছে হোয়াইট শার্ট। গলার কাছে ব্রাউন সানগ্লাসটি ঝুলিয়ে রেখেছে। তবে বরাবরের মতো এবার সেই গম্ভীরতাটি আর নেই ; রয়েছে স্মিত হাসি।
——আমরা কোথায় যাচ্ছি আদ্রাফ?
.
——ইটস সারপ্রাইজ !
.
আদ্রাফের প্রতিউত্তরে মেহেরের কৌতুহলতাটি যেন আরও দ্বিগুন হারে বেড়ে যায়। তবুও এবার আদ্রাফকে কিছু জিজ্ঞেস করেনা যেহেতু সে বলেই দিয়েছে যে এটা সারপ্রাইজ। পশ্চিম আকাশের রক্তিম আভাটা এবার অনেকটাই মিলিয়ে গিয়েছে। পরিবেশে ঘনিয়ে পড়েছে অন্ধকার। আর এই আবছা অন্ধকারে মেহেরকে দেখতে খুবই মায়াবী লাগছে। তার পরনে হলুদ কামিজটি যে ফর্সা গায়ে নিঁখুতভাবে ফুটে উঠেছে। আদ্রাফ তা দেখে বলে…….
——মেহু?
——-হুম?
——-আজ তোমায় খুব সুন্দর লাগছে। এক কথায় যাকে বলে হলদে পরী।
——-এই প্রথম আমায় সুন্দর বললে। আর এতদিন তো আমায় উল্টাপাল্টা নাম ধরে রাখতে।
ভ্রু কুচকে ফেলে আদ্রাফ। অবাক স্বরে বলে……….
——যেমন?
.
——এই যে : শাকচুন্নি , ডাইনী ব্লা ব্লা ব্লা।
.
আদ্রাফ সশব্দে হেসে দেয় মেহেরের কথা শুনে। গাড়িটা অন্যদিকে বাকিয়ে বলে……
——-আরও একটা নাম ধরে ডাকতাম।
——–কি?
——-শ্যাওড়া গাছের পেত্নী।
একথা বলেই আদ্রাফ ঠোঁট চেপে হাসি থামানোর ব্যর্থ প্রচেষ্টা করে। মেহের চোখ ছোট ছোট করে তাকিয়ে আছে আদ্রাফের দিকে। এই আদ্রাফ যতটা গম্ভীর সেজে থাকে ততটাও গম্ভীর না। ওর হাস্যোজ্জল রূপটা আদ্রাফ শুধু কাছের মানুষের কাছেই প্রকাশ করতে ভালোবাসে। বাইরে ঠান্ডা প্রবাহের কারণে গাড়ির গ্লাসটা আদ্রাফ খুলে দেয়। বাইরে বৃষ্টি বৃষ্টি ঘ্রাণ আসছে। অর্থাৎ যেকোনো সময়ই বৃষ্টির দাপটে এই পরিবেশ উন্মাদনায় মেতে যাবে। গাড়ি যতই দূরে যাচ্ছে ততই ঝিঁঝিঁ পোকার সমাগম যেন বাড়ছে।
মেহের চোখ বাকিয়ে আদ্রাফের দিকে তাকায়। সড়কের লাইটের মৃদু হলদে আলোটি আবছা ভাবে ছড়িয়ে পড়ছে আদ্রাফের শুভ্র রঙের শার্টে। হাতের নীল রগগুলোও অনেকটা আবেদনময় করে তুলছে আদ্রাফকে যার দিকে একটা লম্বা সময় তাকিয়ে ছিলো মেহের।
ভাবতেই অবাক লাগে এই চমৎকার পারসোনালিটির ছেলেটা ওর লাইফ পার্টনার। যার প্রতিটা রন্ধ্রে রন্ধ্রেই রয়েছে শুধুমাত্র মেহুর নাম।
.
গাড়িটি যে কখন থেমে গেলো মেহের যেন তা টেরই পেলো না। একটা লম্বা সময় সে আদ্রাফের ঘোরে ছিলো। আদ্রাফ মেহেরের দিকে তাকিয়ে দেখে মেহের একদৃষ্টে তাকিয়ে আছে ওর দিকে। তাই সে মেহেরের চোখের সামনে চুটকি বাজায়।
——-হ্যালো ! এসে পড়েছি আমরা?
.
——-হুমমমম? এসে পড়েছি?
.
——-হ্যাঁ।
.
——–মেহের গাড়ি থেকে নামতেই আদ্রাফ হাত চেপে মেহেরকে নিজের কাছে নিয়ে আছে। চোখে মুখে রয়েছে কিঞ্চিত অবাকতার ছাপ।
——–এতক্ষণ আমার কথা ভাবছিলে?
.
আদ্রাফের কথায় মেহের বিভ্রান্তিতে পড়ে গিয়েছে। একে তো এই নীরব পরিবেশে নিজের আর আদ্রাফের হৃদস্পন্দন স্পষ্ট শুনতে পারছে সে। আমতা আমতা করে সে বলে ওঠে……….
.
———-আ-আ-আসলে এ-একটু অন্য ধ্যানে ছিলাম। এখন এসব কথা রাখো না। আমি একটু দেখতে চাই যে তুমি আমায় কোথায় নিয়ে এসেছো?
.
——ওকে।
.
.
.
.
একটা অন্ধকার পথ দিয়ে এগোচ্ছে দুজনে। দুজনের হাতেই রয়েছে মোবাইলের ফ্ল্যাশলাইট যার আলোতে অন্ধকার কাটিয়ে ওঠা যাচ্ছে না।মেহেরের কোতূহলটা এবার রূপ নিয়েছে ভয়ে। কেমন যেন গা ছমছম করা পরিবেশ। এমনিতেও আকাশে ক্ষণে ক্ষণে বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে যার জন্য ওর কেমন যেন লাগছে। আদ্রাফের বাহু খামচে ধরে বলে…….
.
——এই আদ্রাফ ! আমারে কি এখানে খুন করার জন্য এনেছো নাকি?
.
——-What rubbish ! বললাম তো সারপ্রাইজ আছে!
.
—–ধ্যুর ! রাখো তোমার সারপ্রাইজ । ভূতে আমাদের ঘাড় মটকে ওদের বউ বাচ্চা নিয়ে সারপ্রাইজ পার্টি করবে।
.
——করবে না।
.
——কেন?
.
——ভূতে কখনও শ্যাওড়া গাছের পেত্নীর ঘাড় মটকাবে না।
মেহের চোখ পাকিয়ে তাকাতেই আদ্রাফ সিটি বাজাতে বাজাতে একটু এগোতে গেলেই মেহের চিল্লিয়ে বলে ওঠে…….
.
——এই ছ্যামড়া ! আমারে রেখে যাও কেন?
.
একথা বলেই আদ্রাফের হাত ধরে সে। আদ্রাফ বিনিময়ে আর কিছু না বলে এগিয়ে যেতে থাকে। দু তিন মিনিট কাচা রাস্তা দিয়ে হাটার পরপরই তারা এসে থামে একতল বিশিষ্টবেশ বড়সড় একটি বাড়ির সামনে। আশপাশ নারিকেল আর সুপারি গাছ দিয়ে ঘেরা। দক্ষিণ দিকে বয়ে যাচ্ছে ছোট্ট একটি খাল। সেখানে একটি বড় বটগাছ দেখে মেহেরর কাছে ওই জায়গাটি ভুতের ডিস্কোক্লাব মনে হচ্ছে।আদ্রাফের দিকে না তাকিয়েই সে বলে……..
.
——এটা কার বাড়ি?
.
——আমার বাড়ি। দেড় বছর আগেই কিনেছি এক বৃদ্ধ দম্পতি থেকে। তারা এখন তাদের ছেলেমেয়ের কাছে আ্যমেরিকায় চলে গিয়েছেন।
.
——ওহ !
.
.
.
বাড়িটা বেশ বড় হলেও অনেক সাদামাটা ধরনের। একমাস পরপর লোক দিয়ে আদ্রাফ এটা পরিষ্কার করায় তবে এখানে ধুলোবালির পরিমাণ কিছুটা কম বলে তেমন অপরিষ্কার হয় না আর সাফ করতেও কষ্ট হয় না। চারটা বেডরুম , সাথে এডজাস্ট ওয়াশরুম , তিনটা বারান্দা , কিচেন আর লিভিং রুম সবমিলিয়ে বাসাটা আসলেই খুব বড়। তবে মেহেরের মনে হচ্ছে বাইরের পরিবেশটা এর থেকে আরও বেশি সুন্দর।
.
——-পছন্দ হয়েছে? [আদ্রাফ]
——-অনেক……………..চমৎকার সারপ্রাইজ এটা।
——-আমি কি একবারও বলেছি এটা আমার সারপ্রাইজ?
.
মেহের অবাক চোখে তাকায় আদ্রাফের দিকে।
——মানে? তাহলে সারপ্রাইজ কোনটা?
আদ্রাফ মেহেরের পেছনে গিয়ে রুমাল দিয়ে চোখ বেঁধে দেয় মেহেরের। তারপর কানে ফিসফিসিয়ে বলে ওঠে……..
.
—–Just some more time Mehu……
.
আদ্রাফের কন্ঠ শুনে মেহেরের চাঞ্চল্যতাটি স্থির হয়ে গিয়েছে। তার চোখের সামনে সবকিছু লাগছে অন্ধকার। আদ্রাফের হাত ধরে মেহের এগিয়ে যাচ্ছে বাইরের। একরাশ ঠান্ডা হওয়া মেহেরের দুধে আলতা শরীরটিকে অদ্ভুদভাবে গ্রাস করে নিলো। নাকে ভেসে আসছে বৃষ্টির মৃদু ঘ্রাণ। যতই এগোচ্ছে পানির কলকল শব্দটি আরও গভীরভাবে শুনছেসে। বেশ কিছুক্ষণ পর আদ্রাফ থামে। তার সাথে তাল মিলিয়ে মেহেরও। আদ্রাফ ওর চোখের রুমাল খুলে দিতেই মেহের পিটপিট করে চোখ খুলে।
প্রথম মেহেরের মনে হচ্ছিলো সে যা দেখছে এগুলো সব ভ্রম। কিন্ত না। সে যা দেখছে সবকিছুই সত্যি। মেহেরের সামনে ছোট্ট একটি ছাউনিযুক্ত ঘর দেখতে পাচ্ছে যেখানে শুধু উপরের ছাদটাই ঢাকা আর চারপাশে পিলার হিসেবে চারটি মোটাবাঁশ দেওয়া আছে। সেখানেই রয়েছে অনেকরকম বেলুন দিয়ে সাজানোর কারনে আরও সুন্দর লাগছে। বেতের টেবিলটির ওপর দুটো হা্যরিক্যান রাখা। আদ্রাফ মেহেরের হাত ধরে সেখানে থাকা ঘাসের গালিচায় বসিয়ে দেয়। মেহেরের ঠিক মুখোমুখি হাটু ভেঙ্গে বসে আদ্রাফ। মিহি কন্ঠে বলে ওঠে……………….
.
—–আমি জানি কি ভাবছো তুমি? মনে চলছে তোমার অনেক প্রশ্ন যে কি উপলক্ষে এমন সারপ্রাইজ । তাই না?
.
—–হুমমমম।
.
একটা লম্বা শ্বাস নেয় আদ্রাফ। তারপর শীতল গলায় বলা শুরু করে……….
.
—–আজ ২০ শে মার্চ। আর ঠিক এই দিনেই আরও দশবছর আগে তোমাকে প্রথম দেখি আমি যেদিন তোমার আর নাদিয়া স্কুলে ফার্স্ট টার্ম এক্সাম ছিলো।
এমনি মেঘাচ্ছন্ন দিন ছিলো সেটা। প্রচন্ড বিরক্তি নিয়ে তখন দাঁড়িয়েছিলাম আমি নাদিয়াকে বাসায় নিয়ে যাওয়ার জন্য। তখনই স্কুল ছুটি হওয়ার পর অনেক ছেলে-মেয়ে বের হতে থাকে স্কুল দেখে। হঠাৎই আমি একটা দৃশ্য দেখে ভড়কে যাই। দু বেণী করা স্কুল ড্রেস পরিহিতা এক মেয়ে একটা ছেলের কান টেনে বাইরে নিয়ে আসছে। তারপাশেই কাচুমাচু হয়ে এগিয়ে আসছে নাদিয়া।
আমি একটু অবাক হই এ দৃশ্য দেখে। স্কুল গেট থেকে বের হয়েই ছেলেটার কান ছেড়ে দেয় মেয়েটি। আর চিল্লিয়ে বলে ওঠে……….
.
——-সাহস তো কম না তোর? আমার বেস্টিরে প্রোপোজ করস? একেবারে টেংড়ি ভেঙ্গে দিমু নেক্সট টাইম ওর আশেপাশে দেখলে। এখন দূর হ।
.
ছেলেটা চিল্লিয়ে মেয়েটাকে বলে ওঠে……..
——তোরে প্রপোজ করছি কুত্তী? তোর বান্ধুবীরে করসি তুই চেতস ক্যান?
.
——তুই কুত্তা তোর চৌদ্দ গুষ্ঠি কুত্তা। আমি বলসি ওরে লাইন মারবিনা মানে মারবিনা। সর তো।
.
——তোরে আমি দেইখা নিমু মেহের।
.
——ভালোমতো দেইখা নে যিতে নেক্সট টাইম আমার থাপ্পড় খাইয়া আবার আমারে ভুইল্লা যে না যাস। এখন চোখের সামনে থেকে সরবি নাকি লাথথি মারমু?
.
—–যাইতাসি।
.
আমি জাস্ট হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে আছি সেদিকে। তখনই তোমার দস্যু রূপ প্রথমে দেখেছিলাম আমি। আর দেখো সময়ের তালে সেদিন নাদিয়ার বিয়ের সাথেই তোমার আর আমার বিয়ে হয়ে গেলো”
.
এতটুকু বলেই থামে আদ্রাফ। মেহের ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে আছে আদ্রাফের দিকে। আদ্রাফ এবার আলতো করে মেহেরের হাত আগলে ধরে বলে………
.
——-তখন থেকেই তোমায় আলাদা চোখে দেখা শুরু করি আমি। তোমার হাসি-কান্না-রাগ-দুষ্টুমি সবকিছুই পাগল করে দিতো আমাকে। আর আজ দেখো? আমার রন্ধ্রে রন্ধ্রে এখন শুধু তোমার বিচরণ।
.
বেশ কিছুক্ষণ কেটে যায় নিস্তব্ধতা। মেহের এখন বসে আছে পুতুলের ন্যায়। তার ধারনাই ছিলো না যে আদ্রাফ তাকে এত আগের থেকেই ভালোবাসতো।
.
.
.
————–
আজ বারে না গিয়ে শাওন বসে আছে ভার্সিটির বড় পুকুরটির সামনে। আকাশে ঘনঘন বজ্রপাত হচ্ছে তবে সেদিকে পরোয়া না করে শাওন উদাসীনভাবে ঢিল ছুঁড়ে মারছে দীঘির টলটলে পানিতে। আজ চিৎকার করে কাদতে মন চাচ্ছে শাওনের যে কেন মেহেরকে সে বলতে পারলো না ওর আসল পরিচয়। কেন ওকে বলতে পারলো না যে—বোন? আমিই তোমার ভাই। কে বলেছে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই?
আফসোস ! শাওন কিছুই বলতে পারবে না। ওর পাশেই অবহেলিতভাবে পড়ে আছে অনেকগুলো আ্যলকোহলের বোতল। কিন্ত মোটেও নেশা হলোনা এতে। শাওন চেয়েছিলো নেশাটা হোক। একবার নেশাটা চড়ে বসলে আর কোনো কষ্টই হতো না।
.
.
——–শাওন?
.
কারও মেয়েলি কন্ঠ শুনে পিছে ঘুরে সে। নিশাকে দেখা যাচ্ছে। শাওন শীতল কন্ঠে বলে ওঠে……..
.
——এখানে কেন এসেছিস?
.
——-তোর জন্য।
শাওন একটা ব্যঙ্গ হাসি দেয়। মুখ ফিরিয়ে বলে ওঠে……..
——-আসতে হবে না আমার জন্য। এই শাওন চৌধুরি বড্ড নিঃস্ব মানুষ। তার কেউ নেই।
নিশির বুকটা ছ্যাঁত করে ওঠে।শাওনের পাশে বসে সে আলতো করে শাওনের মুখ আগলে ধরে। দুর্বল গলায় বলে……….
.
——–ক-ক-কে বলেছে কেউ নেই? সবাই আছি। শোভা , রাতুল , রাহাত…….
.
——–আর তুই?
.
চুপ হয়ে যায় নিশা। শাওনের দৃষ্টিতে রয়েছে হাজারো হাহাকার। নিশি মাথা নাড়ায়।
——-আছি তো। সবসময় থাকবো তোর সুখ-দুঃখের ভাগীদার হয়ে !
.
——-সত্যি?
.
——-হুমমম।
.
শাওন এবার নিশির কাধে মাথা রাখে। হয়তো সে আজ পেয়ে গিয়েছে তার পথচলার সঙ্গীকে যার সূচনায় একবারও ভালোবাসি কথাটা বলে হয়নি। শুধু এ সম্পর্কের সূচনাটাই হয়েছে অগাধ বিশ্বাসের সাথে।
.
.
.
.
————
টিমটিম বৃষ্টিটি এখন বয়ে যাচ্ছে মুষল ধারায়। আদ্রাফের বুকে মাথা রেখে মেহের ছাউনির নিচে সে দৃশ্য উপভোগ করতে ব্যস্ত। বৃষ্টির দাপটে দুজনের জামাই আংশিক ভিজে গিয়েছে। শোঁ শোঁ করে বহমান আল্লাহর দান এই হাওয়া। মেহের এবার আদ্রাফকে বাচ্চা কন্ঠে বলে ওঠে……….
.
——চলোনা বৃষ্টিতে ভিজি?
.
——এই রাতে ভিজবে? বৃষ্টি দেখছো এটাই অনেক।
.
মেহের তবুও হার মানে না। আদ্রাফের নাকে চুমু দিয়ে বলে .
.
——তুমিই দেখো বৃষ্টি। আমি একটু ভিজে আসি।
এটা বলেই মেহের বেরিয়ে আসে ছাউনির বাইরে। দুহাত মেলে উপভোগ করতে থাকে বৃষ্টির ছন্দ। পানিগুলো যেন সর্বাঙ্গে ছড়িয়ে পড়েছে। বৃষ্টিতে এই প্রথম মেহের রাত করে ভিজলো। যার বর্ণণা মেহের হয়তো নিপুণভাবে দিতেও পারবে না। মেহেরকে এতো প্রাণোচ্ছো্যল দেখে আদ্রারও তৃপ্তির হাসি হাসে। আজ সেও ভিজবে তার হলদে মেহুপরীর সাথে। ছাউনি থেকে বেরোতেই বৃষ্টির ভারী কণাগুণো ওর গা শিরশির করে দিয়েছে। মুহূর্তের মধ্যে সেও ভিজে গেলো বৃষ্টির স্রোতের ধারায়। সামনের ছোট খালও বৃষ্টির ছন্দে মধুময় লাগছে।
মেহের এবার পিছে ঘুরে তাকায় আদ্রাফের দিকে। আদ্রাফের নেশাক্ত দৃষ্টিতে যেন নিজেকে আবদ্ধ করে ফেলেছে সে। আদ্রাফের সাদা শার্টটি একেবারে গায়ের সাথে লেপ্টে থাকার জন্যে প্রতিটা অ্যাবস স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। মেহের তা দেখে চোখ বন্ধ করে নেয়। এই ছেলেকে সুন্দর বললে ভুল হবে……………ভয়ঙ্কর রকম সুন্দর লাগছে।
.
মেহেরকে অবাক করে দিয়ে আদ্রাফ মেহেরের কোমড় চেপে মিশিয়ে নেয় নিজের সাথে। আলতো হাতে বুলাতে থাকে মেহেরের ঠোঁটযুগল। মেহেরের গোলাপি ঠোঁটদুটো থেকে অবিরাম ধারায় পানি গরিয়ে পড়ছে যার রাজত্ব আদ্রাফ সহ্য করতে না পেরে দখলে নিয়ে নেয় সেই ঠোঁটজোড়া সাথে আঁকড়ে ধরে সেই ঠোঁটজোড়ার মালিককে। দুজনের কাছেই সময়টা যেন থমকে গিয়েছে।
.
বেশ কিছুক্ষণ পর আদ্রাফ মেহেরের ঠোঁট ছেড়ে দিতেই মেহের আদ্রাফের বুকে মিশে গিয়ে চোখ বন্ধ করে নেয়। আদ্রাফ তা দেখে মুচকি হাসে। ভাবতেই আজব লাগে এই দুষ্টুমেয়েটাই তার প্রেয়সী।
আদ্রাফ মেহেরকে আগলেই নিজের গলায় সুর তোলে। কেননা আজ মেহেরের উদ্দেশ্যে গান গেতে খুবই ইচ্ছে করছে। আনমনেই সে গান শুরু করে…..
.
” কেন জানিনা………….মিষ্টি এ ব্যাথা!
থাকছি খেয়ালে…………………ভাছি তোর কথা !
….তোর প্রেমে বৃষ্টিতে হায় ভিজছি সারা দিন !
….তোর প্রেমে বৃষ্টিতে হায় ভিজছি সারা রাত !”💕💕💕
.
আর এভাবেই হয়তো চলতে থাকবে মেহেরাদ্রাফের দুষ্টু মিষ্টি অধ্যায়। হয়তো এভাবেই চলমান থাকবে দুজনের খুনশুটিময় ভালোবাসা।
.
.
.
.
.
.
……..*সমাপ্ত*………..
প্রায় আড়াই ঘন্টা ধরে লিখা এই শেষ পর্বটি। আমি শুরুতেই ভেবে রেখেছিলাম গল্পটি অল্প পর্বে শেষ করবো। তাই মেহেরাদ্রাফ ভক্তরা এ বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ করবেননা আশা করি।
আমার আড়াইঘন্টা ধরে লেখার ফলাফলটা আপনাদের আড়াই মিনিটেরও কম লেখা মন্তব্যে পাবো। গঠনমূলক কমেন্ট করবেন আশা করবো। আর কিছুদিন পরেই নিয়ে আসবো নতুন গল্পটির প্রথম পর্ব নিয়ে। অবিরাম ভালোবাসা।

গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

2 মন্তব্য

  1. Sotti khub valo laglo golpo ti ei vabei beche thakuk prithibir somosto valo basa ei vabei sobai jeno nijer valo basar manus tike sob smy agle rakhe r apni o emn Onk golpo likhen

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ