#গোপনে
#পর্ব_২
সন্ধ্যেবেলা অর্ক, শুচিস্মিতা আর লগ্নজিতা শহরের এক নামী শপিং মলে গেছে প্রিন্সেস বার্বির নতুন সেটটা কিনতে| গতকালই অফিস ট্যুর থেকে ক্লান্ত অর্ক বাড়ি ফিরেছে| আর আজকের দিনটা মেয়ের কথামতো তাকে স্পেশাল লিভ নিতে হয়েছে, এতদিন বাড়িতে থাকতে পারে নি বলে, ক্ষ তিপূরণের জন্য! স্পষ্ট বলে দিয়েছিল জিতা, আজকের গোটা দিনটা পাপাকে তার সঙ্গে কাটাতে হবে, তাকে খাইয়ে দিতে হবে|
দুপুরবেলা খিচুড়ি ছোট ছোট গ্ৰাসে খাওয়ানোর সময়ই সে বলে দিয়েছিল আজ সন্ধ্যেবেলাই সে যাবে মাম্মি পাপার সঙ্গে, বার্বির নতুন সেট কিনতে…
প্রিন্সেস বার্বির সেট সঙ্গে একটা বড়সড় ডলস হাউস কিনে তিনজনে ফুড কোর্টে খেতে ঢুকেছে| ডলস হাউসটা এত মিষ্টি, দেখেই জিতার পছন্দ হয়ে গেল| আর মেয়ের বিষয়ে অর্ক উপুড় হস্ত, সঙ্গে সঙ্গে কিনেও ফেলল| এমন সময় উল্টোদিক থেকে এগিয়ে এল তৃষা, ঠোঁটে তার বি ষাক্ত হাসি| জিতার দিকে এক ঝলক তাকিয়ে বলল, তুমিই বুঝি লগ্নজিতা?
তুমি চেন আমায়? রিনরিনে গলাটা বলে উঠল|
চিনি তো| অফিসে বসে তোমার পাপার কাছে কত গল্প শুনেছি তোমার| একটা বড় চকোলেট বার বের করে জিতার হাতে ধরিয়ে দিল সে| তোমার ফেভারিট তো?
বড় করে ঘাড় নাড়ল সে, থ্যাঙ্ক ইয়্যু আন্টি| তুমি বুঝি পাপার সঙ্গে অফিসে কাজ করো? তৃষা ঘাড় নাড়ল| চকোলেটটা পাপার হাতে ধরিয়ে দিয়ে বলল সে, এটা বাড়ি ফিরে খাব| এখন কিন্তু পিৎজা খাব, চিজ বার্স্ট| আর মোমো|
অন্যমনস্ক ভঙ্গিতে মেয়ের হাত ধরে পিৎজা কাউন্টারের দিকে এগিয়ে গেল অর্ক| তারা যে এই মলে আসছে আজ তৃষাকে সে খবর কে দিল? নয়ন? পেছন ঘুরে দেখছিল বারবার, তৃষা কি আজ শুচিকে কিছু বলে দেবে? যদি দেয়? তারপর…
বুকের ভেতর হিমেল স্রোত ভালরকম টের পাচ্ছে অর্ক| শুচিকে বোঝাতে পারবে তো সে? এতদিন সব মেনে নেওয়া শুচি যদি হঠাৎ করে অবুঝ হয়? জিতাকে নিয়ে চলে যায় যদি… যদি হা রিয়ে যায় শহরের জনারণ্যে| তৃষার সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে কি ভুল করে ফেলল সে? কিন্তু শুচি তাকে ভালোবাসে, পাগলের মতো| এই ভালোবাসা ফেলে কি সে যেতে পারবে?
পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় ফিসফিসিয়ে বলল তৃষা, তোমরা নাকি ক’দিন আগেও সেপারেশনে ছিলে… তা কখন মিল হল দুজনের? মধ্য রাতে? বিছানায়? এই হাতির মতো ধুম সো গ তর নিয়ে ঝ ড় তুলতে পারো?
হিলের শব্দ তুলে অহঙ্কারী ভঙ্গিতে চলে যাচ্ছে তৃষা| সেদিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে রইল শুচি, তার ঠোঁটে ফুটে উঠেছে অচেনা এক হাসি, যে হাসি খবর অর্ক, তৃষা কেউ রাখে না…
নিজেদের জন্য চিজ বার্স্ট পিৎজা আর শুচির জন্য ট্রিপল স্কুপ আইসক্রিম| চকোলেট, বাটার স্কচ আর কেশর পিস্তা… চকোলেট, ক্যারামেল সস ছড়ানো, ওপর থেকে রকমারি টপিংস দেওয়া| পুরো আইসক্রিমটা খুব সুন্দর করে কাঁচের বোলে সাজানো, শুচির সামনে রেখে একগাল হাসল অর্ক, আমার গোলুমোলু বউটার আরো সুন্দরী হয়ে ওঠার জন্য!
আমাদের সেপারেশন কবে হল অর্ক?
সেপারেশন? কি উল্টোপাল্টা বলছ তুমি… অবাক চোখে তাকায় অর্ক| সামনে তৃষা সরি জিতা আছে ভুলে যেও না… ইংলিশটা কিন্তু ভালই বোঝে!
তোমার কলিগই বলছিল| তুমি নাকি বলেছ ওকে আমরা সেপারেশনে আছি|
ওহ্, গড! তুমি কিনা ওর কথা ধরে বসে আছ! ও একটা আস্ত পাগল| সমস্ত অফিসে ওকে নিয়ে হাসাহাসি হয়| এমন সিরিয়াস মুখে ইয়ার্কি করে যে লোকজন ঘাবড়ে যায়| এখন সবাই জেনে গেছে তাই, নইলে আগে যা সব কান্ড হয়েছে! নির্ঘাত মজা করেছে তোমার সঙ্গে…. ভেবেছে কলিগের বউ যখন, মজা করাই যায়| নিজের অভিনয় দক্ষতা দেখে মনে মনে নিজের পিঠ চাপড়ে দিল সে, শুচি এতক্ষণে সবটাই বিশ্বাস করে নিয়েছে|
পরক্ষণেই শুচির দিকে চোখ ফেরায় অর্ক| মনে হয় ওর চোখ দুটো জ্ব লছে| কি চলছে মনে ওর….
মাম্মা আমি কিন্তু আইসক্রিম খাব| তোমার আইসক্রিমটা ভীষণ সুন্দর| পাপা স্পেশাল অর্ডার দিয়ে বানিয়েছে|
মেয়ের গলা শুনে শুচির চোখ দুটো কোমল হয়ে আসে| চামচে করে সে মেয়ের মুখে আইসক্রিম তুলে দিতে থাকে| আর মনের মধ্যে ঘুরে ফিরে আসতে থাকে, অহনা, সৌমিলির কথা| কবে যেন হা রিয়ে গেল মেয়ে দুটো… কাগজে বেশ কয়েকদিন লেখালিখি হয়েছিল না? তারপরেই তো অর্ক কোম্পানি বদল করল| নতুন শহর, নতুন মানুষ… নতুন ফ্ল্যাটে সাজানো সংসার| কিন্তু স্বভাব? চাইলেই কি বদল আসে?
( ক্রমশ )
©️ Monkemoner dakbakso – Anindita
