#গোপনে
#শেষ_পর্ব
মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে আদর করল অর্ক…. কলকল করে পাহাড়ি ঝর্ণার সুরে কথা বলতে লাগল সে! দেখাতে লাগল খেলনা, রঙ পেন্সিল| মায়ের হাত ধরে বেরিয়েছিল… পছন্দের জিনিসপত্র প্রাণ ভরে কিনেছে সে| পছন্দের আইসক্রিমটা বাবার মুখের সামনে ধরে বলল, খাও| এখুনি|
আহা, মধু… অর্কর মনে হল কেউ তার কানে মধু বর্ষণ করছে! জিতাকে কোলে বসিয়ে হাত বাড়িয়ে শুচিকে জড়িয়ে নিল সে, পরিপূর্ণতা বুঝি একেই বলে| দুনিয়ার যেখানে যাই ঘটুক, সে আর তার পরিবার নিরাপদে থাকলেই হল|
স্যার, প্রৌঢ় ভদ্রলোক, ভদ্রমহিলা আমাদের কাছে বড় আশা নিয়ে এসেছিলেন| সেকেন্ড অফিসার সন্তোষ নতমুখে বললেন| আমরা কি পারি না একবার অন্ততঃ তদন্ত করে দেখতে, যদি কিছু তথ্য পাওয়া যায়!
ব ডি দিয়ে দাও, গম্ভীর মুখে বললেন থানার ভারপ্রাপ্ত অফিসার|ভাদুরিয়ার দিকে একবার রে ইড করতে হবে, আজ রাতেই| একটু আগেই অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার ফোন করেছিলেন, একটা দু ষ্কৃতী পা লিয়ে এসে পুরনো বাড়ির কোন ভেঙে পড়া অংশে লুকিয়ে রয়েছে| সামনে পেলেই এন কাউন্টার করার নির্দেশ আছে, যাও, সবাইকে এখুনি অ্যালার্ট করে দাও| শোনো সন্তোষ, একটা কথা বলি তোমায়| পুলিশের উর্দি গায়ে চাপিয়েছ যখন, তখন সবকিছুকে স্বাভাবিকভাবে নিতে শেখ! খামোখা মানসিক চাপ নিলে শরীর খারাপ করবে, বিপি বাড়বে| ইমোশন বাড়িতে, কাজের জায়গায় নয়| এখানে খু ন, জ খম নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার| এত ভাবলে কাজ করবে কখন! বয়সে বড়, তাই খানিক উপদেশ দিলুম, খারাপভাবে নিও না যেন| চরি ত্রহীন মেয়েদের অমন পরিণতিই হয়, তাদের জন্য পুলিশের ডায়েরিতে সময় থাকে না|
মাথা নীচু করে বেরিয়ে যাচ্ছিল সন্তোষ, হঠাৎ ঘুরে দাঁড়িয়ে অফিসারের চোখে চোখ রেখে বলল, আর স্যার, এই মেয়েটাই যদি কোনো প্রভাবশালী পরিবারের হত? তখনও কি সে চরি ত্রহীন বলে বিচার পেত না?
প্রভাবশালীদের চরিত্র কখনো খারাপ হয় না সন্তোষ, কথাটা মাথায় রেখো| পয়সা চরিত্রের দাগ ঢেকে দেয়| তাই তারা বিচারও পায়| এখন এসো, আমায় অনেকগুলো কাজ করতে হবে|
গভীর রাত| ঘুমিয়ে পড়েছে জিতা| মেয়ে পাশ থেকে উঠে পড়ল শুচিস্মিতা| সিঁড়ি দিয়ে পা টিপে টিপে উঠে দেওয়ালে মেশানো দরজার সামনে এসে দাঁড়াল| বোতামে হাত ছোঁয়াতেই খুলে গেল দরজা… ভেতরে তারটা নেই, নেই তৃষার ঘর থেকে আনা জিনিসপত্রও| মৃদু একটা হাসি খেলে গেল মুখে! অঙ্ক মিলে গেলে মানুষের মুখে যে হাসি দেখা যায়…
শব্দহীন ভঙ্গিতে দরজাটা বন্ধ করে বেরিয়ে এল সে… ছাদের কিনারে দাঁড়িয়ে অর্ক গাইছে, ” তোমারেই ভালোবাসিয়াছি শতরূপে শতবার| ”
দুজনে দুজনের দিকে খানিক তাকিয়ে রইল নির্নিমেষ| যেন কোনো শি কারী একনিষ্ঠ মনোযোগে পর্যবেক্ষণ করছে শি কারকে| যদিও এখানে কে শি কার আর কে শি কারি… তারা নিজেরাই জানে না!
খানিক অপেক্ষার পর মুখ খুলল শুচি, আর কতবার?
হাসল অর্ক| এত ভালোবাসো কেন আমায়?
কে বলল ভালোবাসি? রহস্যময় হাসি ফুটল শুচির ঠোঁটে!
তাহলে? কেমন যেন ভা ঙাচো রা শোনালো অর্কর গলা| আমি কিন্তু তোমাকে ছাড়া কোনদিন কাউকে ভালোবাসিনি| শুধু…
আমি জানি, গম্ভীর মুখে বলল শুচি| আর এটাও জানি লগ্নজিতা তার বাবাকে প্রচন্ডরকম ভালোবাসে| বাবাকে ছাড়া এক মুহূর্তের জন্যও বেঁচে থাকার কথা সে ভাবতে পারে না| আর আমি জিতাকে ছাড়া| তুমি ভালভাবেই জানো সেটা….
হাসল অর্ক| সেই হাসিতে চুঁইয়ে পড়ছে আত্মবিশ্বাস| অভ্যেস ছাড়তে আমি পারব না হয়ত… কিন্তু এটা জানি তুমি আছো পাশে!
জানি, অভ্যেস ছাড়া বড় কঠিন| ধীরে ধীরে শুচির ঠোঁটে চেনা হাসি ফুটে উঠল, সেই হাসিতে যোগ দিল অর্কও|
একটা পাহাড়ি ঝর্ণার মতো মেয়ে সমতলে এসে হা রিয়ে গেলে কার কি যায় আসে!
( সমাপ্ত )
©️ Monkemoner dakbakso – Anindita
