#গোপনে
Monkemoner dakbakso
তুমি কিন্তু কথা দিয়েছিলে অর্ক| আর এখন বলছ আরো সময় লাগবে? শুচিস্মিতার সঙ্গে তুমি সেপারেশনে ছিলে বলেছিলে না, অথচ পরশু দিন পার্টিতে তোমাদের দুজনকে একসঙ্গে দেখা গেল কিভাবে? মিথ্যে বলবে না একদম| নয়ন নিজের চোখে দেখেছে তোমাদের, ছবিও পাঠিয়েছে|
হঠাৎই রে গে উঠল অর্ক| পার নাইট টুয়েলভ থ্যাউজান্ড দিয়ে সুপার ডিলাক্স রুম বুক করেছি তোমার এই প্যানপ্যানানি শোনার জন্য নয়, বেশি বাড়াবাড়ি করো না তৃষা| কোম্পানিতে তোমায় যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হয়… প্রমোশন, পার্কস, ফুল ফার্নিশড রেন্টেড ফ্ল্যাট এসব কি এমনি এমনি আসে?
কিন্তু আমি কোম্পানিতে গুরুত্ব চাই না অর্ক, আমি তোমার কাছে গুরুত্ব চাই শুধু| চাই জীবনের একমাত্র সঙ্গিনী হতে চাই, কাঁদো কাঁদো ভঙ্গিতে বলে তৃষা, আমি চাই তুমি শুধু আমার হও… আমার হয়েই থাকো সারাজীবন|
তাই তো হবে সোনা, তুমি তো জানো আমি তোমাকে কতখানি ভালোবাসি| কিন্তু শুচিস্মিতা যে আমার মেয়ের মা| আর কিছুদিন সময় তো দিতে হবে আমায়, আমার মেয়ে লগ্নজিতাকে আমি প্রাণের চেয়েও বেশি ভালোবাসি, ওকে ছেড়ে একটা মুহূর্তও বাঁচব না আমি… জানো যখন ও জন্মায় আমি নিজের হাতে কাঁথা কেচেছি, পটি পরিস্কার করেছি, কোলে নিয়ে খাইয়ে দিয়েছি| তাই তো হাজার চেয়েও শুচিকে নিজের থেকে দূরে সরাতে পারছি না| যদি রে গে গিয়ে ও লগ্নজিতার কাস্টডি চেয়ে বসে…
বিরক্তিতে মুখ বেঁকাল তৃষা, একবার সে শুধু অর্ককে আইনিভাবে নিজের করে পাক, তারপর লগ্নজিতা নামটাও যদি না ভুলিয়ে দেয় তবে তৃষা, তৃষাই নয়| ওই মেয়েকে হোস্টেলে পাঠিয়ে, তারা দুজনের সুখের স্বর্গ রচনা করবে| একটা ঝকঝকে জীবন, সুন্দর সংসার… আর কি বা জীবনে চেয়েছে সে?
বিয়ের পর কি লগ্নজিতা আমাদের সঙ্গেই থাকবে? কৌশলে নিজের বিরক্তি লুকিয়ে ফেলল তৃষা| সেক্ষেত্রে কিন্তু আমাদের নতুন ডুপ্লেক্সে যে কোন সময় শুচিস্মিতা আসতে পারবে, মেয়েকে দেখার ছুতোয়… তখন যদি তুমি আবার দুর্বল হয়ে পড়ো| আমি কিন্তু তোমাকে আর কখনো কারোর সঙ্গে শেয়ার করতে পারব না…
শুচিস্মিতা হ্যাং লা নয়, মেয়ের সঙ্গে দেখা করতে হলে বাইরে করে নেবে|
তোমার বউ একজন গৃহবধূ| নিজস্ব রোজগার নেই! তার আবার আত্মসম্মান বোধ? হেসে ওঠে তৃষা| আমার মতো চাকরি করলে কি করত?
একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল অর্ক| এই মেয়েটার সঙ্গে হঠাৎ করে জড়িয়ে বড্ড ভুল করে ফেলেছে সে! আসলে এমন সুন্দর ত্বক, ঝকঝকে চুল আর স্মার্ট অ্যাপিয়ারেন্স দেখে নিজেকে সামলাতে পারে নি| কিন্তু এটুকুই… তৃষাকে জীবনে এন্ট্রি দেওয়ার কথা ভাবতেও পারে না সে| এ জীবনে সে কখনোই শুচিকে ছাড়বে না… এমন শান্ত শিষ্ট ঘরোয়া বউ ক’জনের ভাগ্যে জোটে? সংসারের যাবতীয় দায়িত্ব একা হাতে পালন করে অথচ কোন রা গ নেই, অভিমান নেই… মন থেকে ভালোবাসে তাকে, যত্নে সংসার সামলায়| এমন ভাল কে বাসবে তাকে? কিন্তু ভালোবাসার পাশাপাশি আরো তো কিছু দরকার হয় জীবনে, তাই এখন সে অফিস ট্যুরের নামে তৃষার পাশে শুয়ে আছে!
তুমি এসো, আমি কিন্তু অপেক্ষা করছি | সময় হলে সব হবে! বিরক্তিটা গি লে অর্ক বলে ওঠে… মুডটা ন ষ্ট করো না প্লিজ!
আশা ভরা চোখে অর্কর দিকে তাকায় তৃষা| কাউকে না জানিয়ে আমরা সিক্রেট ম্যারেজ করতে পারি না…. তাহলে হয়ত!
ভেবে দেখব| এসো এখন… তৃষার আ দুর পিঠে ভালোবাসার ছোঁয়া এঁকে দেয় অর্ক| তারপর দুই নরনারী মেতে ওঠে আ দিম খেলায়| সমুদ্রের ঢেউয়ের মতো উচ্ছল তৃষা হারিয়ে যায় অর্কর সুঠাম বাহুর বন্ধনে|
লগ্নজিতাকে নিয়ে যথা সময়ে স্কুল থেকে ফেরে শুচিস্মিতা| এখন তার ছোট্ট কাজ আছে| মেয়েকে আঁকতে বসিয়ে কিচেনে যায় সে|স্প্যাগেটি বড় ভালোবাসে মেয়েটা, সব্জি কেটে, চিকেন আর ডিম আর সস দিয়ে দুজনের জন্যই পরিমাণমতো বানিয়ে নেয়| তারপর… একসঙ্গে বসে জিতার স্কুলের গল্প শুনতে থাকে|
আস্তে ধীরে খাচ্ছে মেয়েটা| সেই সঙ্গে হাসিমুখে বলছে সুনন্দা, পাপিয়া, পুষ্কর ঠিক কি কি করেছে আজ| তখনই চেনা নম্বর থেকে নোটিফিকেশন এল শুচির মোবাইলে| হাত থেকে ফোনটা নামিয়ে রাখল| গল্পটা কি সে জানে, কিন্তু এই মুহূর্তে মেয়ের সঙ্গ তার কাছে বেশি উপভোগ্য|
মাম্মা বিকেলে কিন্তু মেলায় যাব, তুমি আর আমি| সামান্য থামল জিতা, অবুঝ স্বরে বলল, বাবা কবে ফিরবে মা? দুদিন তো হল…
তুমি তো জানো সোনা, বাবা অফিস ট্যুরে গেছে| ট্যুরে না গেলে, মিটিং অ্যাটেন্ড না করলে সোনার নতুন প্রিন্সেস বার্বির সেটটা আসবে কোত্থেকে?
কি মজা| কি মজা| সত্যি ট্যুর থেকে ফিরে প্রিন্সেস বার্বির সেটটা বাবা আমায় কিনে দেবে?
দেবেই তো| জিতা বাবার একমাত্র প্রিন্সেস না! কিন্তু এবার যে ঘুমিয়ে পড়তে হবে সুইটহার্ট… তবে না বিকেলে মেলায় গিয়ে আমরা আনন্দ করতে পারব| আজ জিলিপি খাব, পকোড়া খাব|
আর চিপস, আইসক্রিম?
তাও খাব| জিতা যা বলবে তাই কিনে দেবে মাম্মা|
তুমিই আমার সিক্রেট সান্তা মাম্মা| কেমন সব ইচ্ছেগুলো বুঝে যাও| চুলে বিলি কেটে দিতে লাগল শুচি, ঘুমিয়ে পড়ল জিতা|
ভয়েস কলটা প্লে করল শুচি| শুনতে পেল অর্ক ফোনে কাউকে বলছে তৃষা দিন দিন কেমন তার কাছে বিরক্তকর হয়ে উঠছে|
একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল শুচি, তৃষার আগে অহনা, সৌমিলিও বিরক্তিকর হয়ে উঠেছিল অর্কর দৃষ্টিতে! তারপর…
( ক্রমশ )
©️ Monkemoner dakbakso – Anindita
