#হৃদয়ের গভীরে যে তোমারই নাম প্রিয়সী
#পর্বঃ১০
#পাপড়ি জাহান
দীর্ঘ অপেক্ষার পর অবশেষে সেই মূহর্তটা এসেই গেল।আজ আয়মান ও মেহেরের আবার বিয়ে হবে সবার সামনে।এবার আর কোন লুকোচুরি বা জোরাজুরি চলবে না।মেহের বধু বেশে চুপটি করে বসে আছে অবশেষে তার ইচ্ছা পুরন হল।হঠাৎ চিৎকার চেঁচামেচির আওয়াজ শোনা গেল।সবাই গেটের দিকে ছুটছে আর বলছে বর এসেছে বর এসেছে।
আয়মানকে মেহেরের চাচী মিষ্টি মুখ করাল।একটু পরেই শুরু হল ঝগরা আর কথা কাটাকাটি বরপক্ষের প্রবেশের টাকা নিয়ে।আয়মান ঝামেলা চাই না তাই টাকা দিতে চেয়েছে কিন্তু আয়মানের বন্ধুরা ওকে শাসিয়ে চুপ করে দিয়েছে।
মেহের জানালা দিয়ে এসব দেখে ভয়ে কাপতে লাগল।যদি আয়মান কিছু বলে বা রাগ করে তখন কি হবে।হঠাৎ আয়মানের দিকে তাকাতেই ওর বুকের ভিতর একরাশ লজ্জা এসে ঝেকে বসল।অস্থিরভাবে শ্বাস টানতে লাগল।আয়মানের একটা কথা বার বার কানে বাজছে তোমাকে কাছে পেতে মন চাই মেহের।
মেহের নিজের হাত টেনে দেখল ওর হাতের তালুতে ছোট করে লেখা ( আয়মান)।যা দেখে মেহের মুচকি মুচকি হাসতে লাগল।হঠাৎ ফোনে মেসেজ আসল।
Ayman:
তোমার একটা ছবি দিবে মেহের।
মেহের কোন জবাব না দিয়ে ফোন টা বালিশের নিচে রেখে দিল।ঠোট কামড়ে নিজেকে দেখতে লাগল আয়নায়।ওর পরনে লাল টকটকে একটা শাড়ি সাথে ভাড়ি সোনার গহনা।মাথা লাল ওরনা।মুখে করা ব্রাইডাল মেকাব। চুলে গোলাপ ফুল ও বেলি ফুলের মালা পরানো।দেখতে একদম রানির মত লাগছে মেহেরকে।আয়মান ওকে দেখলে কি পাগলামি না করবে ভাবতেই মেহের বালিশের নিচে মুখ গুজল।
+++++++++++++
এইদিকে আয়মানের বন্ধুরা তুমুল ঝগরা করছে।
এই আপনার এত ঝগরা করেন কেন?মেহের ভাবিতো এমন না?
এমন কথা শুনে মেহেরের মেয়ে কাজিন রিমি রেগে গিয়ে বলল ওই বাটপার থামেন আপনি।আমরা আপনার কাছে টাকা চাইনি। ওকে
তুমুল ঝগরা চলছে তাই আয়মান রেগে গিয়ে বলল
টাকা দিয়ে দে জামেলা করিস না আর।
মেহেরের কাজিন রিমি বলল
দেখছো আমাদের দুলাভাই কত ভালো।ভাগ্য করে মেহের এমন একটা বর পেল।
আয়মানের বন্ধু রাফি হেসে বলল হুম আপনার বোন তো ভালো বর পেল আর আমার ভাই পেল ঝগরাটে কয়টা শালি হাহা….
রিমি দাত কামড়ে বলল
কিহ আমি ঝগারাটে
রাফি চোখ টিপ দিয়ে বলল
সন্দেহ আছে নাকি…..
রিমি থতমত খেয়ে বলল
ফালতু লোক একটা
ফালতু মহিলা একটা।
নিরা বলল
রাফি ভাই প্লিজ এমন ঝগরা কর না।
রাফি উত্তরে বলল,
আমি কই ঝগরা করছি উল্টো এই শাতচুন্নি ঝগরা করছে।
শুরু হল তুমুল ঝগরা অবশেষে আয়মান বিরক্ত হয়ে ৪০ হাজার টাকা দিয়ে দিল।রিমি টাকাটা পেয়ে দৌড়ে ভিতরে চলে গেল।সাথে ওর সকল কাজিনরা।
-+–++++++++++++++++++++++++++++++
আয়মান স্টেজে বসে আছে।চারপাশে ওর বন্ধুরা হাসি তামাসা করছে।রাফি হঠাৎ চিৎকার করে বলল আমার জুতা খুজে পাচ্ছি না আয়মান?
আয়মান ভ্রুকুচকে বলল তা তুই জুতা পায়ে না রেখে বাহিরে রেখেছিস কেন?
রাফি থতমত গলায় বলল আমার পা চুল কাচ্ছিল এলার্জির কারনে তাই বাহিরে রেখেছিলাম।কিন্তু কে চুরি করল আমার জুতা ।
রিমি সামনে এসে দাত কেলিয়ে বলল জুতা পেতে হলে ২০ হাজার টাকা দিতে হবে বেয়াই সাহেব?
রাফি রেগে গিয়ে বলল
অসম্ভব আমি একটাকাও দিব না
রিমি ভেংচি কেটে বলল
ওকে তাহলে আমিও জুতা দিবনা।
রাফি চোখ গরম করে বলল
চুন্নি মহিলা একটা
রিমিও চোখ গরম করে বলল
বাপটার পোলা একটা…
রাফি চোখে আগুন জ্বালিয়ে বলল,
এই ভালোভাবে বলছি আমার জুতা দিয়ে দিন না হলে কিন্তু ফল ভালো হবে না।
রিমি ভেঙ্গিয়ে বলল
এই ভালোভাবে বলছি আমার নিধার্রিত করা টাকা দিয়ে দিন না হলে কিন্তু ফল ভালো হবে না।
এই আপনার এত সাহস আপনি আমায় ভেঙ্গাচ্ছেন।
রিমি আবারও ভেঙ্গাল।রাফি রেগে আগুন হয়ে গেল।আয়মান অবাক হয়ে তাকিয়ে ঝগরা দেখতে লাগল।
রাফি একটা ফন্দি এটে বলল
“ওকে, আমি টাকা দেব… তবে একটা শর্ত আছে।”
রিমি ঘুরে তাকিয়ে বলল,
“কি শর্ত?”
রাফি ঠোঁটে শয়তানি হাসি নিয়ে বলল,
মেহের ভাবিকে ফোন করে বলতে হবে টাকা দিতে।
রিমি ভ্রু তুলে বলল,
“অসম্ভব! মেহের এখন রেস্ট নিচ্ছে। ও এখন ফোন করতে পারবেনা।।
রাফি শান্ত স্বরে বলল
ওকে আমিও তাহলে টাকা দিব না।
রিমি তীব্র উপহাস মিশিয়ে বলল, “
আপনার মত হারকিপটা লোক আমি জীবনেও দেখেনি।
রাফি নির্বিকার ভঙ্গিতে বলল,
আমিও তোমার মত ছ্যাচড়া মেয়ে জীবনেও দেখেনি।
রিমি গর্জে উঠল,
আপনাকে আমার খুন করতে ইচ্ছা করছে।
রাফি ঠোঁট কুণ্ঠিত করে বলল,
আমার তোমাকে বিয়ে করতে মন চাইছে রিমি পাখি।
রিমি হাত কোমরে রেখে চেঁচিয়ে উঠল,
এই আপনি তো ভারি অসভ্য।
রাফি ঠোঁট বাঁকিয়ে জবাব দিল,
হুম তা আছি একটু আরকি….তোমার সাথে বিয়ে হলে না হয় অসভ্য কত প্রকার তা দেখিয়ে দিব।
রিমি মুখ লাল করে ভিতরে চলে গেল।রাফি হতভম্ব হয়ে বলল;
এই শাতচুন্নি সত্যিই কি ভাবিকে দিয়ে কল করাবে নাকি?
সবাই একসাথে বলল আমরা কি জানি।
++((((++++++++++
মেহের ওর চাচীদের সাথে কথা বলছে।তখন রিমি রেগে মেগে রুমে ডুকল।বিছানায় ধপ করে বসে পরল।তা দেখে মেহের বলল কি হয়েছে রিমি?এমন করে এলি কেন?
রিমি দাত কামড়ে বলল তোর জামাইয়ের হারকিপটা একটা বন্ধু এসেছে।যে একটাকাও দিতে চাই না।মন চাইতেছে ওই রাফিকে করল্লার জুস খাইয়ে মেরে ফেলি।
………….
তুই ভাইয়াকে কল কর।তুই কল করে না বললে নাকি টাকা দিবে না।তাইদ্রুত কল কর।আমি আজ ওই শয়তানটার থেকে টাকা নিয়েই ছাড়ব হুহ….
মেহের থতমত খেয়ে।আয়মানের নাম্বারে কল করল।কয়েকবার রিং বাজল তবে আয়মান কল ধরলনা।কল ধরবে কিভাবে সে তো তখন ব্যাস্ত।কারন আইনমন্ত্রী এসেছে তাই কথা বলছে।
একের। পর একেক কল করতে লাগল মেহের। আয়মান কল কেটে দিল।
রিমি তা দেখে আর রেগে গেল।একা একা বকবক করতে লাগল।
৪০ মিনিট পর আয়মান ফ্রি হয়ে কল ব্যাক করল।
কোন সমস্যা হয়েছি কি মেহের?
মেহের আয়মানের ক্লান্ত গলায় শুনে চমকে উঠল।
আপনি ঠিক আছেন নেতাসাহেব।
হুম ঠিক আছি
তুমি কি জন্য কল করেছ বল
রিমি অস্থির হয়ে বলল কিরে বল কি বলবি?
মেহের হালকা গলায় বলল রিমি যে টাকা চাইছে তা রাফি ভাইকে দিতে বলুননা নেতা সাহেব।
রাফি নরম গলায় বলল আপনি এটা ঠিক করলেন না ভাবিমনি…..
রিমি তো খুশিতে উচ্চস্বরে সিটি বাজাতে লাগল।তা দেখে রাফি রেগে গিয়ে বলল
শাতচুন্নিকে লাফাতে মানা করুন।
রিমি তা শুনে বলল ওই ফাজিল পোলা থামেন। আমি টাকা নিতে আসছি জাস্ট ওয়েট।
রিমি লাফাতে লাফাতে স্টেজে গেল।রাফিও বাধ্য হয়ে রিমির হাতে ২০ হাজার টাকা দিল।রিমিও নাচতে নাচতে জুতা এনে হাতে দিল।বরপক্ষ হেরে গেছে কনে পক্ষের কাছে বলেই মেহেরের কাজিনরা খেপাতে লাগল।
রাফি তা দেখে বলল ডাকাত মহিলা কিভাবে যে মেহের ভাবির বোন হল ভাবতেই পারছিনা।
রিমি এসব শুনে রাফির গায়ে ভালো পানি ছুড়ে মারল।রাফিও কম কিসে ও পাশে থাকা ময়লা পানি এনে ছুড়ে মারল।
🥰🥰🥰🥰🥰🥰🥰🥰🥰🥰🥰🥰🥰
মেহের ও আয়মানের বিয়ের আয়োজন চলছে। ঘর সাজানো, অতিথিরা এসেছে, পুরো বাড়ি আলো ও হাসি দিয়ে ভরা। রোদ ব্যস্ত হাতে অনুষ্ঠানের সবকিছু সামলাচ্ছে। হঠাৎ সে লক্ষ্য করল—নিরা রায়ানকে উপেক্ষা করছে।রায়ান ছুটে গিয়ে নিরার দিকে হাত বাড়াল, কিন্তু নিরা তাকে কোলে নিল না।ছোট্ট ছেলেটি রোদের দিকে ছুটে এল, কাদতে কাদতে বলল — “পাপ্পা… মাম্মা, আমাকে কোলে নিচ্ছেনা কেন?”
রোদ কিছুক্ষণের জন্য থমকে গেল। তার বুক ভেতরে মিশ্র অনুভূতি—একদিকে ছোট ছেলের চোখে কষ্ট, অন্যদিকে নিজের হারানো সুহানার স্মৃতি। সে ধীরে ধীরে বলল—
— “এমনি, বাবা… এমনি।”
রায়ান কেঁদে কেঁদে করুণভাবে বলল—
— “পাপ্পা… আমি চাই মাম্মা আমাকে কোলে নিক।”
রোদ গভীর নিশ্বাস ফেলে, ছোট ছেলেটির মাথায় হাত বুলিয়ে বলল—নিরা তোমার মাম্মা না তাই ওর কাছে যেওনা বাবা।
রায়াব চিৎকার করে কাদতে লাগল তাই রোদ নিরুপায় হয়ে নিরার কাছে গেল।
এমন করছ কেন নিরা।
নিরা ঠোঁটকাটা ভঙ্গিতে বলল—
আপনার ছেলের দায়িত্ব আমার না নিশ্চয়ই?
রোদ গভীর নিশ্বাস ফেলে বলল—হুম তোমার না তবে ও তোমাকে অনেক ভালোবাসে তাই ওকে। একটু কোলে নিলে কি সমস্যা।
নিরা চুপচাপ রোদকে দেখল। কিছুক্ষণ চুপ থাকার পর বলল—
আমিতো আপনাকে ভালোবাসি তবে আপনার আমাকে বিয়ে করতে বহুত সমস্যা।তাই যেদিন বিয়ে করবেন সেদিন না হয় রায়ানকে কোলে নিব।
রায়ান রোদের কোলে বসে নিরার দিকে আবারও হাত বাড়িয়ে দিল।কিন্তু নিরা তা উপেক্ষা করে অন্যদিকে চলে গেল।
# চলবে
নোটঃ যা যা মনে করলে শিরক হয়!………..
১) প্রেম-ভালোবাসায় কোন পাপ নেই মনে করা।
২) ভাঙ্গা আয়না দিয়ে চেহারা দেখা যাবে না মনে করা।
৩) ডান হাতের তালু চুলকালে টাকা আসবে। আর বাম হাতের তালু চুলকালে বিপদ হয় বলে মনে করা।
+++++++++++++—
৭) বাচ্চাদের দাঁত পড়লে ইঁদুরের গর্তে দাঁত ফেললে সুন্দর দাত উঠে মনে করা।
৮) গলায় কাটা বিঁধলে বিড়ালের পা ধরে মাপ চাইতে হয় মনে করা
৯) জোড়া কলা খেলে জোড়া সন্তান জন্ম নিবে মনে করা।
১০) পরীক্ষা পূর্বে ডিম খাওয়া যাবে না। খেলে পরীক্ষায় ডিম (শুন্য) পায় মনে করা।
১১) ঘরের ময়লা পানি রাতে বাইরে ফেলা যাবে না মনে কারা।
১২) শকুন ডাকলে, বিড়াল কাদলে মানুষ মারা যাবে। পেঁচা ডাকলে বিপদ আসবে মনে করা।
১৩) রাতে নখ, চুল ইত্যাদি কাটতে নাই মনে করা
১৪) পিতা-মাতা, সন্তান, নেতা-নেত্রী, পীরের ছবি ঘরে রাখলে বরকত হয় মনে করা।
১৫) দোকানে বরকতের জন্য সকালে গোলাপজল সন্ধ্যায় আগরবাতি জ্বালাতে হয় মনে করা
১৬) দাঁত উঠতে বিলম্ব হলে সাত ঘরের চাউল উঠিয়ে রান্না করে কাককে খাওয়াতে হবে এবং নিজেকেও খেতে হবে মনে করা।
১৭) মানুষ মরে ভুত হয় মনে করা
১৮) একবার মাথায় টাক খেলে দ্বিতীয় বার টাক দিতে হবে, নতুবা সিং উঠবে মনে করা।
১৯) খানা একবার নেওয়া যাবে না, দুই-তিন বার নিতে হবে। মনে করা
২০) অষ্ট ধাতুর আংটি, বালা ব্যবহার করলে বাত/বাতজ্বর/রক্ত চাপ ইত্যাদি অসুখ ভাল হয়। মনে করা
