#হৃদয়ের গভীরে যে তোমারই নাম প্রিয়সী
#পর্বঃ১১
#পাপড়ি জাহান
কাজি এসে গেছে।তাই মেহের ও আয়মানকে একটা ঘরে নিয়ে বসান হল।আয়মান যাতে মেহেরকে দেখতে না পারে তাই একটা সাদা পর্দা টানিয়ে দিল।যা দেখে আয়মান বিরক্ত হল।সবাই আছে কিছু বলতে গিয়েও বলতে পারলনা।নিরা তা দেখে মুখ টিপে হাসল।তার ভাই ভালোয় জব্দ হয়েছে।এসব যে রিমির প্লান তা ঠিকই বুজতে পারল রাফি।তাই রিমির পিছনে আস্তে করে একটা সাইনবোর্ড টানিয়ে দিল।সেখানে লেখা আমার পাত্র লাগবে তাই দ্রুত আমার সাথে যোগাযোগ করুন।
কজি তার কাজ করতে লাগল।মেহেরকে কবুল বলতে বললো।মেহের একটু থেমে রাদের দিকে তাকিয়ে কবুল বললো।রাদ মেহেরের মাথায় হাত বুলিয়ে দিল।আয়মান কবুল বলতে বলা হলে সে ফটাফট করে কবুল বলে দিল।
মেহেরের বাবা এককোনে বসে কাদতে লাগলেন।আদরের মেয়েটা আজ চলে যাবে ভাবতেই তার বুকের ভিতরটা হু হু করে উঠল।রায়ান দাদার কোলে চুপটি করে ঘুমিয়ে আছে।ছোট্র ছেলেটা জেগে থাকলে হয়ত মেহের আয়মানের বাড়িতে যেতেই পারত না।
মেহের উঠে এসে বাবার বুকে মুখ লুকিয়ে কাদতে লাগল।একপর্যায় ওর হেচকি উঠে গেল তবুও কান্না থামল না।
মেহের বাবা বললেন মেয়ে আমার শ্বশুড় যাওয়া আগে কাদতে নেই।আর অনেক উপদেশ দিলেন মেয়েকে।
বিদায়ের ঘন্টা বেজে গেছে কিন্তু মেহের আয়মানের সাথে যেতে রাজি হচ্ছেনা।শুধু রায়ানের কথা ভেবে।ও এই বাড়ি থেকে গেলে কে দেখবে রায়ানকে।কে ও কে সামলাবে।রোদ অবশেষে এসে বোনকে জরিয়ে ধরে কেদে দিল।
জিদ করিস না বোন তুই আয়মানের সাথে যা।আমি রায়ানকে দেখে রাখব কথা দিলাম।
মেহের তবুও রায়ানকে জরিয়ে ধরে কাদতে লাগল।হঠাৎ রায়ানের ঘুম ভাংলো।কেউ একজন বলল ওর সাম্মা চলে চাচ্ছে একেবারের জন্য।
তা শুনে রায়ান জোরে জোরে চিৎকার করে কাদতে লাগল।বলতে লাগল।
তুমি কোতাও দাবেনা সাম্মা কোতাও না….
মেহের রায়ানকে বুকে আগলে নিল। রায়ান মেহেরের বুকে মাথা রেখে কাদতে লাগল।
প্রায় ১ ঘন্টা হয়ে যাওয়ার পরও রায়ানের কান্না কেউ থামাতে পারলোনা।অবশেষে রোদ বাধ্য হয়ে রায়ানকে নিয়ে নিজের রুমে গেল।রায়ান চিৎকার করে কাদছে আর বলছে
ও ওর সাম্মাকে চেলে কোতাও দাবেনা।
রোদের চুল ধরে টানছে গালে কামড় দিচ্ছে যাতে রোদ ওকে ছেড়ে দেয়।কিন্তু রোদ রুমে নিয়ে গিয়ে ছেলেকে বুকে জরিয়ে ধরে কাদতে লাগল।
পাশ থেকে এসব দেখে নিরাও কাদতে লাগল। তবে লুকিয়ে।কারন আয়মানের চোখে পরলে ওর আর রক্ষে নেই।
মেহেরের বাবা কেদে কেদে বললেন আয়মান বাবা তুমি আমার মেয়েটাকে দেখ রেখ।আমার মেয়েটা বড্ড অভিমানি তাই সময় করে ওর অভিমানটা ভাঙ্গিও।
আয়মান শান্ত গলায় বলল আমি সবসময় ওকে দেখে রাখব কথা দিলাম।
মেহেরের বাবার কান্না বেগ থামছেনা তা দেখে নিরা বলল চাচা চিন্তা করবেনন ভাবিমনিকে আমরা দেখে রাখব।যত্নও নিব।
মেহেরের বাবা হুম বলে সোফায় বসে পরলেন।মেহেরের চাচারা এসে তাকা সামলালো।
+++++++++++
অন্যদিকে রিমি দ্রুত হাটছে মেহেরের কাছে যাবে বলে তবে হঠাৎ একটা পাগল এসে ওকে ঘিরে ধরল। বলল
আমি রেডি আছি চল বিয়ে করি।বলেই হাত ধরে টেনে নিয়ে যাচ্ছে।
রিমি বলল ছাড় আমার হাত
কিন্ত পাগল তো পাগলি ছাড়ল না উল্টো বলল বউ রাগ করে না চল আমরা বিয়ে করে ডেরেনের পাশে বসে সংসার করি।
রিমি রেগে গিয়ে বলল ছাড় আমার হাত না হলে তোর পা ভাংবো।বলেই জোরে লাথি দিয়ে দৌড়াতে লাগল।
পাগলটাও ওর পিছন পিছন দৌড়াচ্ছে আর বলছে বউ যেও না যেওনা।
দৌড়াতে দৌড়াতে ছাদে আসল।পাগলটাও ছাদে এসে বলল এবার কোথায় পালাবে বউ চল পায়খানার ভিতর গিয়ে খাবার খায়।
রিমি ভয় পেয়ে পেছাতে লাগল।রাফি ছাদের এককোনে দারিয়ে হাসতে হাসতে গড়াগড়ি খেতে লাগল।
তা দেখে রিমির আর বুঝতে বাকি রইল না যে এসব রাফির প্লান।
+++++++++++++++++++++++
প্রাইভেট কারে আয়মান ও মেহের বসে আছে।আড়চোখে আয়মান মেহেরের দিকে তাকাল।মেহের এখন হেচকি তুলে কাদছে।আর বলছে রায়ানের কি হবে আমিতো এসে পরলাম।
মেহের হঠাৎ চিৎকার করে বলল স্টপ দ্যা কার….
গাড়ি থেমে গেল।মেহের ছুটে গিয়ে হর হর করে বমি করে দিল।আয়মান মেহের মাথাটা হাত দিয়ে চেপে ধরল।মুখ ধুয়ে এনে নিজের বুকে নিয়ে গাড়িত বসাল।
আর একফোঁটা কান্না করলে তোমার খবর আছে মেহের।দুদিন পর তো এমনিতেই আবার বাড়িতে আসবে। তাহলে এমন মরা কান্না কেন করছ।
মেহের ঠোঁট উল্টিয়ে আয়মানের বুকে মুখ গুঁজে দিল। দু’হাত দিয়ে আয়মানকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল — যেন ওর বুকের ভিতর আশ্রয় খুঁজছে।
আয়মান মৃদু হাতে মেহেরের চোখের জল মুছে দিয়ে বলল,
— “মেয়েদের জীবন এমনই মেহের… যাদের কোলে বড় হয়, শেষমেশ তাদের কাছেই আর থাকতে পারে না।”
মেহের কেঁদে ফিসফিস করে বলল,
“তবুও মন চায়, একবার রায়ানের সঙ্গে দেখা করতে পারলে…”
আয়মান মেহেরের কপালে হালকা চুম্বন দিয়ে বলল,মেহের এবার তো কন্না থামাও।তুমি যখন চাইবে তখন তোমাকে রায়ানের সাথে দেখা করাতে নিয়ে আসব আই প্রমিজ।
মেহের চোখ বড় করে তাকিয়ে বলল,
“সত্যি?”
আয়মান হেসে বলল
“হুম।
মেহের আবারও আয়মানের বুকে মুখ গুঁজল, যেন এই মুহূর্তটাই ধরে রাখতে চায় চিরকাল।
আয়মান ধীরে ধীরে বলল,
“অবশেষে, আমার রানির কান্না থামলো…”
মেহের চোখ বন্ধ করে ফিসফিস করল,
“তুমি থাকলে সবকিছুই সহজ মনে হয়… সবকিছু।”
— “মেহের, তুমি হয়ত জানো না তুমি আমার জীবনে কি? তুমি হচ্ছে আমার জীবনের সবচেয়ে বড় শান্তি। তোমার হাসি, তোমার কান্না, তোমার নিঃশ্বাস… সবকিছু আমার জন্য অমূল্য।”
মেহের কাঁপা কণ্ঠে ফিসফিস করে বলল,
— “কিন্তু তুমি এত ভালো কেন?”
আয়মান হেসে তার হাতে হালকা চুম্বন দিয়ে বলল,
— “কারণ তুমি আমার রানী। আমার রানীর কান্না আমি সহ্য করতে পারি না। তোমাকে সুখি দেখলে আমার মনটা পূর্ণতা পায়।
মেহের ধীরে ধীরে তার বুকে মাথা রেখে ফিসফিস করল,
— “তোমার সঙ্গে থাকলে মনে হয়, পৃথিবীর সব দুঃখ যেন শেষ হয়ে যায়… শুধু তুমি আর আমি…”
আয়মান হেসে বলল,
— “ঠিক তাই, মেহের। শুধু আমরা। আর এই মুহূর্ত, চিরকাল আমাদের।” ❤️
#চলবে
নোটঃযা যা মনে করলে শিরক হয়……….
২১) বাড়ি থেকে বের হলে রাস্তায় যদি হোঁচট খেয়ে পড়ে যায় তাহলে যাত্রা অশুভহবে মনে করা।
২২) সকাল বেলা দোকান খুলে বনি না করে কাউকে বাকী দেয়া যাবে না মনে করা।
২৩) সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠেই ঘর ঝাড়- দেয়ার পূর্বে কাউকে কোন কিছু দেয়া যাবে না।
২৪) দা, কাচি বা ছুরি ডিঙ্গিয়ে গেলে হাত-পা কেটে যাবে। ছোট বাচ্চা ডিঙ্গিয়ে গেলে লম্বা হয় না মনে করা।
২৫) লেন দেনের জোড় সংখ্যা রাখা যাবে না। এক লক্ষ হলে একলক্ষ-এক টাকা ধার্য করতে হবে মনে করা।
২৬) স্ত্রী নাকে নাক ফুল না রাখলে স্বামী বাচে না মনে করা
২৭) দোকানের প্রথম কাস্টমার ফেরত দিতে নাই মনে করা।
২৮) হোঁচট খেলে মনে করা ভাগ্যে দুর্ভোগ আছে মনে করা।
২৯) বদ নযর থেকে হেফাযতের জন্য শিশুর কপালে টিপ দিতে হয় মনে করা
৩১) বিয়ের পর মুরব্বিদের দাড়িয়ে সালাম করতে হয়, মনে করা।
৩২) ঈদের রাতে, সবেবরাতের রাতে মৃত আপন জনের আত্মা ঘরে আসে মনে করা।
৩৩) স্বামীর নাম, শশুরের নাম উচ্চারন করা যাবে না।মনে করা
৩৪) জন্মের পর বার বার সন্তান মারা গেলে অরুচিকর নাম রাখলে সন্তান বেঁচে যায় মনে করা।
৩৫) বুড়া হলে হজ্ব করা উচিত, যুবক বয়সে হজ্ব “রাখা(!)” যায় না মনে করা
৩৬) চন্দ্র ও সূর্যগ্রহণের সময় গর্ভবতী মহিলা কিছু কাটলে গর্ভের সন্তানের ক্ষতি হয়।মনে করা
৩৭)রত্ন-পাথর ব্যবহারে ভাগ্য পরিবর্তন হয়, ভাগ্যে শনির প্রভাব পড়ে, হাতে ভাগ্য লিখা থাকে মনে করা
৩৮) শবে বরাতে হালুয়া-রুটি বানালে আরশের নিচে ছায়া হবে মনে করা
৩৯) দোকান ঝাড় দেয়ার আগে ভিক্ষা দেয়া বা বেচা-কেনা করা যাবে নামনে করা
৪০) আকিকার গোস্ত বাবা-মা খেতে পারবে না মনে করা
