#নিষ্ঠুর_নিয়তি
সমাপ্তি – পর্ব
Kzal Mithun
মাহবুবের মুখের দিকে তাকিয়ে আমার ঘৃণাটুকুও যেন বাষ্প হয়ে উড়ে গেল। একটা মানুষ চব্বিশ বছর একসঙ্গে থাকার পর, এতগুলো স্মৃতি আর সন্তানের বাবা হওয়ার পরও কতটা নিচে নামতে পারে, তা আজ আমার চোখের সামনে স্পষ্ট। মাহবুব তোতলানো গলায় বলল, “নাজমা… তুমি যা ভাবছো তা নয়। শায়লা আসলে… মানে আমার পুরানো ..দিনের একটা রসিকতা…”
“চুপ করো মাহবুব! একদম মুখ বন্ধ করো!” আমার গলার স্বর চিৎকার করে উঠল না, কিন্তু তাতে এমন এক তীব্র জেদ ছিল যে , মাহবুবের মুখের রসালো গল্পটা যেনো ওখানেই আটকে গেল। চব্বিশ বছর ধরে যে মানুষটা আমাকে ‘ক্ষ্যাত’ আর ‘ভুটকি’ বলে অবহেলা করেছে, তার দিকে তাকিয়ে আজ আমার চোখে কোনো পানি ছিল না, ছিল কেবল জমাটবদ্ধ ঘৃণা।
আমি সোফা ছেড়ে সোজা হয়ে দাঁড়ালাম লাঠি ছাড়াই। ভাঙা পায়ে তীব্র মোচড় দিয়ে একটা ব্যথা মাথার চাঁদি পর্যন্ত উঠে গেল, কিন্তু আমি যন্ত্রনায় মুখ বিকৃত করলাম না। মাহবুবের চোখের দিকে স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে বললাম, “তুমি ভেবেছ পা মচকে আমি ঘরে বসে আছি বলে আমার চোখের দেখাও অন্ধ হয়ে গেছে? চব্বিশটা বছর এই সংসারের দেয়ালে দেয়ালে নিজের হাড়-মাস খসিয়েছি শুধু তোমাদের একটু স্বস্তি দিতে। নিজের পছন্দের খাবারের স্বাদ ভুলে গেছি , তোমার মুখে টাটকা খাবার তুলে দেবো বলে। আর তুমি সেই ত্যাগের প্রতিদান দিলে অন্য নারীর আঁচল ধরে সুখ ভিক্ষা করে? এই তোমার পুরুষত্ব? অনেক সহ্য করেছি আমি । আর না ! কাল সকালের মধ্যে তুমি এবং তোমার আত্মীয়দের নিয়ে আমার বাসা থেকে বের হয়ে যাবা “ । এক নিশ্বাসে আমি কথাগুলো বলে ফেললাম ।
আমার মুখে ‘বের হয়ে যাবা ‘ কথাটা শুনে মাহবুবের পুরুষতান্ত্রিক অহংকারে যেনো দগদগে ঘা লাগল। তার চোখ দুটো রাগে লাল হয়ে উঠল। সে দাঁত মুখ খিচিয়ে আঙুল উচিয়ে চিৎকার করে উঠল, “নাজমা, তুমি কিন্তু এবার সীমা লঙ্ঘন করছো! এই সংসার, এই ছাদ আমার উপার্জনের টাকায় চলে। বেশি বাড়াবাড়ি করলে গলা ধাক্কা দিয়ে তোমাকে আমি রাস্তায় নামিয়ে দেবো!”
“ ছাদ তোমার উপার্জনের টাকায় হতে পারে মাহবুব, কিন্তু এই ফ্ল্যাটের দলিল আমার বাবার দেওয়া!” কথার মাঝখানেই আমি আলমারি থেকে ফাইলটা বের করে ওর বুকের ওপর ছুড়ে মারলাম। “ভুলে যেও না, বিয়ের সময় আমার বাবা এই ফ্ল্যাটটা আমার নামে দিয়েছিলেন, যা তুমি কৌশলে পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি করিয়ে নিয়েছিলে। কাল সকালের মধ্যে আমার উকিল তোমার এই জালের হিসাব নেবে। এই বাসা থেকে যদি কাউকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের হতে হয়, তবে সেটা তুমি!” রাগে আমার পুরো শরীর তখন থর থর কাঁপতে শুরু করেছে ।
অপমানে আর রাগে অন্ধ হয়ে মাহবুব আচমকা তার ডান হাতটা তুলল। সে সজোরে আমার গালে একটা থাপ্পড় মারতে গেল।
চব্বিশ বছরের চেনা নরম, বাধ্য নাজমা এবার আর থাপ্পড় খাওয়ার ভয়ে চোখ বন্ধ করল না। মাহবুবের হাতটা আমার গালে পৌঁছানোর ঠিক এক ইঞ্চি আগে , আমি তার কবজিটা লোহার মতো শক্ত করে চেপে ধরলাম। আমার নিজের গায়ের সমস্ত শক্তি যেন সেই মুহূর্তে আমার ডান হাতে এসে ভর করেছে। মাহবুব স্তব্ধ হয়ে গেল, সে কল্পনাও করতে পারেনি যে এই দুর্বল, অসুস্থ নারী তার হাত মাঝপথে আটকে দিতে পারে।
আমি তার হাতটা এক ঝটকায় সরিয়ে দিয়ে জলন্ত আগুনের মতো গলায় বললাম, “খবরদার মাহবুব! আর একটা ইঞ্চি এগোলে চব্বিশ বছরের চেনা রূপ আমি ভুলে যাবো। এই হাত দিয়ে চব্বিশ বছর তোমার সেবা করেছি, কিন্তু আজ যদি এই হাত আমার আত্মসম্মানে আঘাত করে, তবে এই ভাঙা পা নিয়েই তোমাকে আমি আইনের কাঠগড়ায় দাঁড় করাবো। চড় মারার ক্ষমতা তোমার মতো কাপুরুষের নেই!”
মাহবুবের হাতটা কাঁপতে লাগল। সে বুঝতে পারল, চেনা নাজমা আজ মরে গেছে, তার সামনে এখন এক অন্য নারী দাঁড়িয়ে আছে।
পরের দিন সকাল। ঘরের পরিবেশ বরফের মতো ঠাণ্ডা। কিন্তু আমার ভেতরের নাজমা ততক্ষণে এক অপরাজেয় মানুষে রূপান্তরিত হয়েছে। আমি শুধু মাহবুবকে নয়, এই নোংরা খেলার মূল খলনায়িকা শায়লাকেও শিক্ষা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম।
আমি বড় ভাশুরকে সাথে নিয়ে সরাসরি শায়লার বাসায় গিয়ে হাজির হলাম। শায়লা তখন ড্রইংরুমে বসে আরাম করে কফি খাচ্ছিল। আমাদের দেখে সে একটু থতমত খেলেও পরক্ষণেই স্মার্টনেস দেখানোর চেষ্টা করল, “আরে দুলাভাই, মেজো ভাবি! হঠাৎ?”
আমি কোনো ভনিতা করলাম না। ব্যাগ থেকে মাহবুবের সাথে তার চ্যাটের প্রিন্টআউট আর ছবিগুলো ওর সামনের টেবিলে ছুড়ে দিলাম। শায়লার মুখের রঙ মুহূর্তেই ফ্যাকাশে হয়ে গেল।
আমি অত্যন্ত ঠাণ্ডা ও কঠোর গলায় শায়লাকে বললাম, “ডিভোর্স পেয়েছ বলে ভেবেছ অন্যের সংসার ভাঙা তোমার শখ? বড় ভাবির বোন বলে আজ তোমাকে আমি সামাজিকভাবে জাস্ট ওয়ার্নিং দিয়ে গেলাম। তোমার এই কীর্তি যদি তোমার বাবার বাড়ির লোকজন আর তোমার শ্বশুরবাড়ির লোক—যারা তোমার বাচ্চার কাস্টডি নিয়ে মামলা করছে, তাদের কাছে পৌঁছায়, তবে তুমি রাস্তায় দাঁড়ানোর জায়গা পাবে না। কোনো পুরুষের হাত ধরে নিজের স্বার্থ খোঁজার দিন তোমার শেষ শায়লা। মনে রেখো, অন্যের সংসার পুড়িয়ে কেউ নিজের ঘরে আলো জ্বালাতে পারে না। আমার সংসারে আর যদি কোনোদিন তোমার ছায়া দেখি, তবে তোমাকে কিন্তু আমি জেলের ভাত খাইয়ে ছাড়বো “ ।
এদিকে, ছোট বউ সুমির পরিণতি হলো আরও ভয়াবহ ও নির্মম। আমি রফিকের ফোনে যে চ্যাট আর ভিডিওগুলো পাঠিয়েছিলাম, তা ছিল সুমির অনলাইন জুয়া, বিগো লাইভে অর্থ উপার্জন আর দেনাগ্রস্ত জীবনের অকাট্য প্রমাণ। রফিক নিজের বাসায় ফিরে ঐদিনই সুমিকে চরম অপমান করে বাসা থেকে বের করে দেয়।
সুমির অহংকার আর লোভ তাকে অন্ধ করে দিয়েছিল। সে ভাবত ফেসবুকের ভার্চুয়াল লাইক আর ভিউই বুঝি জীবন। কিন্তু বাস্তব দুনিয়ার মানুষগুলো যে অত্যন্ত নিষ্ঠুর হয় , সেটা ও পরে বুঝতে পারে । কয়েক লাখ টাকার দেনা শোধ করতে না পেরে সুমিকে আইনি ঝামেলায় পড়তে হলো। রফিক তাকে ডিভোর্স নোটিশ পাঠিয়ে দেয় এবং তার সন্তান পিকলুর কাস্টডি সুমি চিরতরে হারায়। যে সুমি অন্যের মেয়েকে ভাইরাল করে ভিউ কামাতে চেয়েছিল, আজ সে নিজেই সামাজিকভাবে এমন এক কলঙ্কিত চরিত্রে পরিণত হলো যে, নিজের বাপের বাড়িতেও তার ঠাঁই হলো না। লোকলজ্জা আর ঋণের দায়ে সে এখন এক প্রকার ফেরারি জীবন কাটাচ্ছে। ফেসবুকের সস্তা জনপ্রিয়তা যে বাস্তব জীবন আর সংসার টেকাতে পারে না, সুমি তার জীবন্ত ও ভয়াবহ উদাহরণ হয়ে রইল।
একই সপ্তাহের মধ্যে আমাদের প্রতিবেশী ভাবির (যিনি স্ট্রোক করে মারা গিয়েছিলেন) পরিবারের এক করুণ খবর ভেসে এলো। পায়েলের সেই তথাকথিত স্বামী, যার হাত ধরে সে পালিয়েছিল, সে আসলে এক প্রতারক ছিল। বিয়ের মাত্র কয়েক সপ্তাহের মাথায় পায়েলের সমস্ত গহনা আর টাকা-পয়সা নিয়ে সে চম্পট দেয়। পায়েলের ভাইটাও এক নোংরা মাদক চক্রের সাথে জড়িয়ে পুলিশে ধরা পড়ে এখন জেলে আছে ।
সবচেয়ে বড় নিয়তির আঘাতটা এলো পায়েলের বাবার ওপর। যে নতুন বউকে নিয়ে তিনি ফ্লাটে উঠেছিলেন, সেই মহিলা পায়েলের বাবার সমস্ত সম্পত্তি কৌশলে নিজের নামে লিখিয়ে নিয়ে এক মাস পার হতে না হতেই অন্য এক যুবকের সাথে পালিয়ে যায়। পায়েলের বাবা এখন নিঃস্ব, স্ট্রোক করে প্যারালাইজড হয়ে হাসপাতালের বেডে পড়ে আছেন। টাকার অভাবে তার ঠিকমতো চিকিৎসাও হচ্ছে না। যে মানুষটি নিজের স্ত্রীকে অবহেলা করে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছিল, আজ তার পাশে পানি দেওয়ার মতোও কেউ নেই।
আমি আমার সন্তানদের বুকে জড়িয়ে ধরে শান্ত গলায় বললাম, “দেখছিস তো চোখের সামনে? ওই মা-মরা বাচ্চা দুটো মায়ের মৃত্যুর এক মাস পার হতে না হতেই নিজেদের ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিল। আর ওদের বাবা ভাবির আত্মাটাকে অভিশাপ দিয়ে যে সুখ চেয়েছিল, নিয়তি তাকে কেমন পঙ্গু করে বিছানায় ফেলে দিল? এখান থেকে শিক্ষা নে। অন্যায় কখনো ঢাকা থাকে না, আর মা-বাবার মনে কষ্ট দিয়ে কেউ কোনোদিন সুখী হতে পারে না।”
মাহবুবের অহংকার তখন পুরোপুরি ভেঙে গেছে। শায়লা তাকে চিরতরে ব্লক করে দিয়েছে, সুমির সংসার ভেঙে চুরমার ।
মাহবুবকে এখন নিজের সন্তানরাই তাকে চোরের মতো দেখে। ভাশুরের চাপে এবং আইনি মারপ্যাঁচে পড়ে মাহবুব ফ্ল্যাটের সম্পূর্ণ মালিকানা আমার নামে ফিরিয়ে দিতে বাধ্য হলো। সামাজিকভাবে তার সম্মান ধুলোয় মিশে গেল।মনে মনে একটা তৃপ্তি অনুভব করতে লাগলাম । অবশেষে আমি নিজের অপমানের সেরা প্রতিশোধটা নিতে পেরেছি । মাহবুবকে করেছি বাস্তুহারা ।
সেদিন ছিল শুক্রবার। চব্বিশ বছর পর এই প্রথম আমি মাহবুবের জন্য দুপুরের খাবার রান্না করিনি। সে ডাইনিংটেবিলে এসে খাবার না পেয়ে চরম অপমানিত বোধ করল। নিজের অহংকারে আঘাত লাগায় সে চিৎকার করে বলল, ” তুমি ভেবেছো ফ্ল্যাট পেয়ে গেছ বলে আমি রাস্তায় ভেসে গেছি? আমার ব্যবসার টাকা দিয়ে আমি শায়লার চেয়েও হাজার গুণ ভালো মেয়ে বিয়ে করে দেখাবো!” তোমাকে আমি ডিভোর্স দিবো নাজমা !
রাগ আর ক্ষোভে অন্ধ হয়ে মাহবুব গাড়ি নিয়ে তীব্র গতিতে বাসা থেকে বের হয়ে গেল। হাইওয়েতে তখন ঝুম বৃষ্টি নামছিল। অতিরিক্ত গতি আর মানসিক ভারসাম্যের অভাবই ছিল তার কাল। ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে এক দ্রুতগামী ট্রাকের সাথে মাহবুবের গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। স্পট ডেড।
তার ঠিক দুই ঘণ্টা পর, হাইওয়ে পুলিশের ফোন এলো। খবরটা শুনে আমার বুকের ভেতরটা মুহুর্তে কেমন যেন ফাঁকা হয়ে গেল। হাত থেকে আমার ফোনটা মেঝেতে পড়ে গেল। চব্বিশটা বছর যে মানুষের সাথে একই বিছানা শেয়ার করেছি। সুখে দুখে দুজনে ভালো মন্দ কতকিছু ভাগাভাগি করেছি । মানুষটাকে যে আমি অনেক ভালোবাসতাম !
আলিফ আর মাইশা ! ওরা আমাদের দুজনার ভালোবাসার দুই সন্তান ! হ্যা , ভালো ছিল না মানুষটা । বেইমানি করেছিল আমার সাথে । কিন্তু সে তো আমার সন্তানদের পিতা ছিল! এক সুদীর্ঘ চব্বিশ বছরের অভ্যাসের এই আকস্মিক ও বীভৎস সমাপ্তি আমি নিতে পারলাম না। আমার চোখের কোণ দিয়ে দু ফোটা তপ্ত অশ্রু গড়িয়ে পড়ল। এই কান্না ভালোবাসার নয়, এই কান্না চব্বিশ বছরের এক অপূর্ণ সংসারের ভাঙা টুকরো গুলোর জন্য। বুক চিরে একটা তীব্র দীর্ঘনিশ্বাস বের হয়ে এলো আমার – নিয়তি আসলেই বড্ড নিষ্ঠুর মাহবুব। তুমি যাকে এতদিন অবহেলা করেছ, আজ তাকেই একা ফেলে নিজে চিরতরে চলে গেলে।’
পরদিন মাহবুবের জানাজা আর দাফন সম্পন্ন হলো। সাদা কাফনে মোড়ানো মাহবুবের নিথর দেহের দিকে তাকিয়ে আমার মনে হলো, মানুষের এত অহংকার, এত লোভ, এত কামনা—সবকিছুর শেষ পরিণতি কত শান্ত, কত নীরব। কবরের মাটিতে তাকে শুইয়ে দেওয়ার পর আমার ভেতরের শেষ দুর্বলতাটুকুও যেন দাফন হয়ে গেল।
কয়েকটা মাস কেটে গেছে। ইদ্দত পালনের দিনগুলো আর আইনি ঝামেলাগুলো শেষ হয়েছে। নিয়তি হয়তো নিষ্ঠুর ছিল, কিন্তু সেই নিষ্ঠুরতা আমার চোখের সামনের অন্ধত্বের পর্দাটা চিরতরে ছিঁড়ে ফেলেছে।
আমার পায়ের প্লাস্টার কেটে ফেলা হয়েছে। ঠোঁটের দাগটা হালকা হয়ে এসেছে, তবে পুরোপুরি মিলিয়ে যায়নি। আয়নায় নিজের দিকে তাকালে এখন আর আমার আফসোস হয় না। এই দাগটা আমার নতুন জন্মের প্রতীক। মাহবুবের রেখে যাওয়া ব্যবসার হাল আলিফ শক্ত হাতে ধরেছে। আমি নিজে এখন প্রতিদিন অফিসে বসি, ব্যবসার লাভ-ক্ষতির হিসেব রাখি।
একদিন সন্ধ্যায় বারান্দায় বসে আমি মাইশাকে কাছে টেনে নিলাম। ওর মাথায় হাত বুলিয়ে জীবনের সবচেয়ে বড় ও কঠিন সত্যটা বললাম, “মা রে, আমার জীবন থেকে একটা বড় শিক্ষা তোকে দিয়ে যাই। জীবনে কখনো কোনো পুরুষ মানুষকে অন্ধের মতো বিশ্বাস করবি না। পুরুষ মানুষের ভালোবাসা আর প্রতিশ্রুতি বড্ড ক্ষণস্থায়ী হয়, যখন তাদের স্বার্থ ফুরিয়ে যায়, তখন তারা অবলীলায় চব্বিশ বছরের চেনা মানুষকেও ‘ ক্ষ্যাত ‘ বলে ছুড়ে ফেলে দিতে পারে। নিজের পায়ে দাঁড়া, নিজের ক্যারিয়ার গড়। পৃথিবীতে নিজের আত্মসম্মান আর নিজের যোগ্যতার চেয়ে বড় কোনো আশ্রয় আর নেই রে মা “।
মাইশা আমার বুকে মাথা রাখল। সে আমাকে কথা দিলো যে ,তার ইউনিভার্সিটি শেষ করার পর সে একটি ক্লাসিক্যাল নাচের একাডেমি চালু করবে । তার কথায় বুঝা গেলো যে সে এখন নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে ভিষণ ব্যস্ত ও সচেতন।
বিকেলের এক চিলতে রোদে বারান্দায় বসে এখন যখন চায়ের কাপে চুমুক দিই, তখন বুক চিরে আর কোনো দীর্ঘনিশ্বাস বের হয় না। নিয়তি মাহবুবের জন্য নিষ্ঠুর হতে পারে, কিন্তু সেই নিষ্ঠুরতাই আজ মেজো বউকে নিজের আত্মসম্মান, নতুন করে বাঁচার শক্তি আর নিজের এক স্বাধীন, মেঘমুক্ত আকাশ চিনিয়ে দিয়েছে।
(সমাপ্ত)
