#হৃদয়ের গভীরে যে তোমারই নাম প্রিয়সী
#পর্বঃ৩
#পাপড়ি জাহান
প্রায় অনেকক্ষণ হয়ে যাওয়ার পরও আয়মান মেহরের হাত ছারলোনা।মেহেরের তো এখন শ্বাস নিতেই কষ্ট হচ্ছে।তবুও প্রচন্ড লজ্জার কারনে কিছু বলতে চেয়েও বলতে পারছেনা।ও পাশে তাকিয়ে দেখতে লাগল সাংবাদিকরা আছে কিনা।কারন একবার যদি তারা টের পায় মন্ত্রী আয়মান সাদিক বিয়ে করেছে তাহলেতো এলাহি কান্ড করে ছারবে।দেখা যাবে ওর চৌদ্দগোষ্ঠির খবর নেওয়ার জন্য উঠে পরে লাগবে।যা মেহেরের একদমই পছন্দ না।
আয়মান হঠাৎ চোখ দিয়ে ইশারা করল ওমনি ওর ফ্রেন্ড সার্কেল সহ ওর দাদী হুর হুর করে বের হয়ে গেল।যা দেখে মেহেরের কাপাকাপি বহুগুন বেরে গেল।একটা নির্জন রুমের ভিতর ও আর আয়মান বসে আছে।ভাবতেই জোরে জোরে শ্বাস টানতে লাগল।হঠাৎ আয়মান কোন কথা না বলে।
ওর পায়ের কাছে বসে পরল।পা- টা আলতো করে স্পর্স করল।মেহের আয়মানের এমন স্পর্স পেয়ে নিজের বোরকাটা ডান হাত দিয়ে খামচে ধরল।ওর মাথা ঘুরতে লাগল।
পা- য়ে কি খুব বেশি ব্যাথা করছে?
আয়মানের এমন নিলিপ্ত প্রশ্নে মেহের কি জবাব দিবে ভেবে পেলনা।তবুও আয়মানকে রাগাতে চায় না তাই খুব নিম্নস্বরে বলতে লাগল আমিতো পায়ে ব্যাথা পায়নি?
আয়মান রাগি দৃষ্টিতে মেহেরের দিকে তাকাল।নিজের চুলগুলো পিছনে চেপে ধরল।সোজা উঠে গিয়ে রুমের চারপাশে পায়চারি করতে লাগল।
মেহের আয়মানের এমন রুপ দেখে ঢোক গিলতে লাগল।এই রে আমি যে নতুন জুতা পরার জন্য পায়ে ব্যাথা পেয়েছি এটা কি লোকটা টের পেয়ে গেল।তাই কি এমন করছে।তবে কেউ তো পেলনা লোকটা কিভাবে পেল।ভালোয় ভালোয় সত্যিটা বলে দেই নাহলে লোকটা আমায় সুট করতে পারে।সেদিন তো শুনলাম লোকটার পকেটে নাকি পিস্তল পাওয়া গিয়েছিল।ভেবেই মেহের চোখ বন্ধ করে বলল আপনি এভাবে প্লিজ রাগ করবেননা।আসলে আমি অল্প একটু পায়ে ব্যাথা পেয়েছি।
আয়মান হাটা থামিয়ে মেহেরের দিকে তাকাল।
একবার পর্যবেক্ষন করে ভাবল মেয়েটাতো পায়ের ব্যাথায় কষ্ট পাচ্ছে তবুও নিজের কষ্ট এভাবে আড়াল করছে কেন।হঠাৎ ওর মনে পরল ওর মাও এমন করত।আর ওর বাবা ওর মায়ের মুখ দেখেই সবকিছু বলে দিত।আজ যদি ওর বাবা বেচে থাকত তাহলে নিশ্চয়ই খুশি হত ছেলের এহেন আচরনে।
আয়মান কোন কথা না বলে মেহেরকে ঠাস করে কোলে তুলে নিল।মেহের ভ্যাবাচেকা খেয়ে গেল।বার বার বলতে লাগল।
প্লিজ আমায় নামিয়ে দিন।প্লিজ…..
কিন্তু আয়মান কোন কথা শুনলোনা দ্রুত হাটা শুরু করল।মেহের ঠোট উল্টিয়ে এবার বলল এই আপনি কি আমায় গুম করবেন তার জন্য কি নিয়ে যাচ্ছেন।বলি যদি গুম করার ইচ্ছায় ছিল তাহলে আমায় বিয়ে করে আমার জামাইকে কেন বিধবা বানালেন হ্যা???
আয়মান এবার প্রচন্ড রেগে গিয়ে মেহেরকে ছেড়ে দিল।মেহের কোন উপায় না পেয়ে আয়মানকে শক্ত করে জাপটে ধরল।আর হু হু করে কেদে উঠল।
আয়মান সেসবে পাওা না দিয়ে বলল কি জেদ কমেছে।
মেহের আর জোরে কেদে দিল।কেমন নির্দয় লোক দেখেছো।আমাকে কষ্ট দিয়েছে স্যরি না বলে উল্টো ঘাড় ত্যাড়ামো কথা বলছে।হাই আল্লাহ আমি এমন রাক্ষসের সাথে কিভাবে সংসার করব… খুব আস্তে করে বির বির করে বললেই মরা কান্না জুরে দিল।
আয়মান দাতে দাত চেপে এমন জোরে ধমক দিল যে মেহের কান্না আপনাআপনি থেমে গেল।চোখ বর বড় করে তাকিয়ে রইল।
এতটুকুতেই এত হাইপার হচ্ছো তো আমার সাথে যখন থাকবে তখন কি করবে মেহের জান।
তখনকার টা তখন দেখা যাবে… ( বির বির করে বলল)
এখন থেকেই প্রাক্টিস করে নেও মেহেরজান নাহলে তো তোমার কষ্ট হবে।আর আমি একজন সচেতন মন্ত্রি হয়ে তোমাকে কষ্ট পেতে কোনভাবেই দেব না।কথাগুলো শেষ করে মেহেরকে গাড়িতে বসিয়ে দিল।
বিয়ে বাড়িতে খাওয়া দাওয়া শেষ করে সেতারা খান ও নিরা হাসতে হাসতে এসে গাড়িতে উঠে বসল।উঠেই নিরা বকবক শুরু করে দিল।
ভাবিমনি আজ কিন্তু আমরা অনেক জায়গায় ঘুরতে যাবো ওকে…হিহি…
নিরা আজকে আমি খুব ক্লান্ত তাই ঘুরতে যাওয়ার মুঠ নেই।তোমরা বরং আজকে ঘুরতে যাও আমি নাহয় অন্যদিন যাব।
মেহেরের এমন কথা শুনে আয়মানের কোন হেলদোল হলোনা উল্টো খুব জোরে গাড়ি চালাতে লাগল।
যা দেখে সেতারা খান ও নিরা ঢোক গিলতে লাগল।ওরা২ জন বুঝে গেছে যে ওদের শান্তশিষ্ট ভাইটা প্রচন্ড রেগে গেছে।
কিন্তু মেহেরের সেদিকে কোন খেয়াল নেই সে তো নিজের মত করে বকবক করেই যাচ্ছে…
নিরা মিথ্যা হাসি ঝুলিয়ে বলল ভাবিমনি তুমি একটু চুপ করবে।
কেমন হয়েছে পর্বটা।আর মন্ত্রীসাহেবের এই রুপ টা কেমন লাগল????
কেন চুপ করব ননদিনী। আমিতো ঘুরতে যেতে চাইনা আমাকে নামিয়ে দেও।
এইকথাটুকু বলার সাথে সাথে আয়মান গাড়ি থামিয়ে বলল নাম তুই গাড়ি থেকে এখুনি।
নিরা বলল বলছিলাম কি দাদা ভাই ভাবিমনি ভুল করে বলে ফেলেছে প্লিজ ভাবি মনিকে শাস্তিস্বরুপ এই মাঝ রাস্তায় নামিয়ে দিসনা প্লিজ।….
উওরার ফ্লাটে এসেগেছি তাই তোদের নামতে বলেছি।আজকে গুলসানে যাওয়ার দরকার নেই।তোরা না হয় আজকে উওরার ফ্লাটেই থাক।আমি না হয় মেহেরকে ওদের বাড়িতে নামিয়ে দিব।
মেহের কথাটা শোনা মাত্রই কিছু বলতে চাইল।কিন্তু বলার আগেই আয়মান কঠোর দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলল এ নিয়ে আমি আর একটা কথা শুনতে চাই না তোমার মুখ থেকে।আমি যখন বলেছি নামিয়ে দেব সো আমি তোমাকে নামিয়ে দেবোই।
মেহের সাথে সাথে এদিক ওদিক তাকাতে লাগল।বলতে চাওয়া কথাটাই পেটের ভিতর জমিয়ে রাখল।যা দেখে নিরা হো হো করে হেসে উঠল।আয়মান তা দেখে ধমক দিয়ে বলল এই তুই না নেমে এমন দাত কেলিয়ে হাসছিস কেন?
নিরা হাসতে হাসতে বলল দাদা ভাই আমার বিশ্বাসই হচ্ছেনা যে দ্যা গ্রেট আয়মান সাদিক কিনা নিজের টাইম ওয়েস্ট করবে তাও একটা মেয়ের পিছনে ব্যপারটা ইন্টারেস্টিং না…
সেতারা খান নিরাকে থামিয়ে বলল নিরা চুপ কর। ওদের কে ওদের মত কোয়ালিটি টামইম স্পেন্ড করতে দেও। আমাদের বরং এখন যাওয়া উচিত।
নিরা গাড়ি থেকে নেমে মেহেরকে বলল ভাবিমনি আবার দেখা হবে ওকে।আজকে আমরা যায় টাটা…
মেহের গাড়ির দরজা খুলে নেমে যাওয়া ধরল।আয়মান গম্ভির গলায় বলল আমার কিন্তু তেড়ামি পছন্দ না মেহের তাই চুপ চাপ বসে থাক।
গাড়িটা কিছু দুর গিয়ে প্রাইভেট মেডিকেলের সামনে গিয়ে থামল।আয়মান মাথায় কেপ মুখে মাক্র পরে আবারও মেহেরকে কোলে তুলে নিল।
তারপর একটা মহিলা ডাক্তারের চেম্বারে গিয়ে থামল।ওকে খুব আস্তে করে চেম্বারে নিয়ে গিয়ে বসাল।ওমনি মহিলা ডাক্তারটা উঠে গিয়ে আয়মানকে জরিয়ে ধরল।ও যে একটা মেয়েকে কোলে করে নিয়ে এসেছে সেদিকে বিন্দুমাত্র খেয়াল নেই মহিলা ডাক্তারটার।
এতদিন পর তোর আমার কথা মনে পরল জান…..
অপরিচিত মেয়ের মুখ থেকে এমন অশালীন কথা শুনে মেহেরের মুখটা রাগে লাল হয়ে উঠল।ধীর পায়ে উঠে দারল।
কিছু বলতে যাবে তার আগেই আয়মান মহিলা ডাক্তারকে নিজের বুক থেকে ছাড়িয়ে বলল
এসব কি ধরনের আচারন রিমি…তোকে কতবার বলেছি আমাকে যেখানে সেখানে জরিয়ে ধরবি না।২য়ত আমাকে জান বলে ডাকবিনা কতবার বলেছি বল।তবুও কেন ভুলে জাস এটা লন্ডন না এটা বাংলাদেশ।লাস্ট টাইম বলছি তোকে যেন আর এমন ভুল করতে না দেখি মাইন্টডিট..
মহিলা ডাক্তারটা নেকা কান্না শুরু করে দিল।যা দেখে মেহের ভ্রুকুচকে তাকিয়ে রইল।
আয়মান দাতে দাত চেপে বলল
ড্রামা বন্ধ হলে মেহেরের পা পরিষ্কার করে বেন্ডিস করে দে ও পায়ে ব্যাথা পেয়েছে।
রিমি চমকে উঠে বলল মেহেরকে আয়মান?
আয়মান রাগি গলায় বলল কে সেটা পরে জানতে পারবি আগে জেটা করতে বলেছি সেটা কর।
রিমি ধীর পায়ে এসে মেহেরের পাশে বসল।যেই মেহের নিজের পায়ের মুজা খুলতে যাবে তার আগেই আয়মান উচ্চস্বরে বলল ওয়েট আ মিনিট মেহের।এগিয়ে এসে নিচে বসে মেহেরের পা থেকে খুব যত্নসহকারে মুজা খুলে দিল।যা দেখে রিমি নিজের হাত দুটো মুষ্টি বদ্ধ করে ফেললো।
আয়মানঃ রিমি দ্রুত ফাস্টেট বক্র দে ওর পা পরিষ্কার করতে হবে…
রিমি বাধ্য হয়ে এগিয়ে দিল।নাহলে আয়মান ওকে খুনও করতে পারে।
আয়মান ফাস্টেট বক্র থেকে সব বের করে খুব যত্নসহকারে পরিষ্কার করতে লাগল।এমনভাবে পরিস্কার করতে লাগল যে ব্যাথাটা মেহের না সেই পেয়েছে।
খুব জ্বালা করছে তাই না মেহের বলতে বলতে আয়মান পায়ে ফু দিতে লাগল।
মেহের হা হয়ে তাকিয়ে রইল।কি বলবে বুজতে পারছেনা।ও জে ব্যাথা পেয়েছে সেটা আয়মানের আচরনে ভুলেই গেছে।হঠাৎ যেই সেভলোন দিয়ে পরিষ্কার করতে লাগল।ওমনি মেহের ভ্যা ভ্যা করে কেদে দিল।আয়মান ভ্যাবাচেকা খেয়ে গেল।তবুও মেহেরের মাথায় হাত বুলিয়ে চোখের পানি মুছিয়ে কপালে চুমু দিয়ে বলল একটু ব্যাথা করবে তবে ঠিক হয়ে যাবে মেহের জান প্লিজ কান্না কর না।
মেহের আয়মানের চুমু স্পর্সে খানিকটা কেপে উঠল।বুকের ভিতরটা ঢক ঢক করে বাজতে লাগল।
—–++-++++++++++
রাত ১২ টা আয়মান ধীরে ধীরে গাড়ি চালাচ্ছে কারন সে জানে জোরে গারি চালালে মেহেরের প্যানিক অ্যাটাক হয়।মেহের জানালা দিয়ে বাহিরে তাকিয়ে আছে।রাস্তায় কিছু একটা দেখে মেহের চিৎকার করে বলে গাড়ি থামান….
আয়মান ঠাস করে গাড়ি থামাল।
কি হয়েছে মেহের।এমন চিৎকার করছ কেন?
মেহের জ্বীবাহাটা ভিজিয়ে হাতের আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে বলল ফুসকা খাব।প্লিজ কিনে দিবেন….
আয়মান নাক সিটকিয়ে বলল ছিহ মেহের এসব খাবার তুমি খাবে।জান এসব খেলে শরীরের কতটা ক্ষতি হয়।
মেহের কোন কথা না বলে ঠোট উল্টিয়ে বসে রইল।আয়মান তা দেখে নেমে ফুসকা নিয়ে আসল।এভাবো নামাও ঠিক না তবুও বউয়ের কথা ফেলতে না পারার কারনে নামল।
মেহের গপ গপ করে ফুসকা খাচ্চে।আর আয়মান মনোমুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে আছে।ফুসকাগুলো প্রচুর ঝাল তবুও মেয়েটা খেয়েই যাচ্ছে যা দেখে আয়মান অবাক নাহয়ে পারলনা।
মেহেরের হঠাৎ খাওয়া থামিয়ে বলল পানি পানি…..
আয়মান দ্রুত বোতল খুলে পানি দিল।মেহের একটানে একবোতল পানি খেয়ে ফেলল।আয়মান তা দেখে গাড়ি চালাতে চালাতে রাগারাগি করল।এতটায় রাগারাগি করল যে মেহের মাথা হেলিয়ে বসে রইল।হঠাৎ মেহেরের লাল রাঙ্গা ঠোট দেখে আয়মান ঢোক গিললো।ওর নিজেকে পাগল পাগল লাগছে।এসির পাওয়ার বাড়িয়ে দিল।চোখ বন্ধ করে ঠোট কামরে বলল….
তোমার বাড়িতে এসে পরেছি দ্রুত নাম।
মেহের কেন জেন কথাটা গায়ে লাগল রেগে গিয়ে নামতে লাগল।তবে আয়মান হাত ধরে টেনে বুকে ফেলে বলল
এভাবে লাল ঠোট নিয়ে আমার সামনে আসবে না মেহের।আমি না তোমার রক্তের বর্নের মত লাল ঠোট দেখলে নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারি না।মন চাই একটু ছুয়ে দেখি।
কথাগুলো শুনে মেহের দ্রুত নিজের ঠোট দুটো মুখের ভিতর নিয়ে নিল।আয়মান তা দেখে মেহেরের দিকে এগিয়ে গেল।যেই ঠোট ছুতে যাবে ওমনি মেহের আয়মানকে ধাক্কা দিয়ে দ্রুত গাড়ি থেকে নেমে দৌরে পালালো।
কিছু দুর গিয়ে থেমে আবার নিজের বাড়ির নিয়মের কথা মনে করে ফিরে আসল।ওদের বাড়িতে নিয়ম আছে নতুন জামাই আসলে তাকে আদর- আপ্যায়ন করার।দরজা থেকে ফিরিয়ে না দেওয়া।তাই গাড়ির দরজার কাছে এসে দেখল আয়মান এখন চোখ বন্ধ করে আছে। মেহের মিন মিন করে বলল বাড়িতে আসবেন প্লিজ।শুধু এক কাপ চা খেয়েই না হয় চলে যাবেন।
আয়মান চোখ খুলে তাকিয়ে বলল আমার চা খেলে হবে না অন্যকিছুই লাগবে তুমি কি খাওয়াবে…
মেহের ভাবনার সাগরে পরে গেল।আয়মানের কথার মিনিং বুজতে পারছেনা।
আয়মান ঠোট কামড়ে হেসে বলল থাক আর আকাশ- পাতাল ভাবতে হবে না।তুমি যা ভিতু তুমি চায়ের সাথে অন্যকিছু খাওয়াতে পারবেনা তাই আজ না,হয় যায় যখন তোমার সময় হবে তখন ডেকো তখন না হয় অন্যকিছু টেস্ট করে দেখব।কথাগুলো বলেই আয়মান একমূহর্ত দেরি না করে গাড়ি নিয়ে দ্রুত চলে গেল।
মেহের হা হয়ে সেদিকে তাকিয়ে রইল।সে আয়মান এমন আচারন নিতে পারছেনা।একদমই পারছেনা।ওর মাথাটা হঠাৎ চক্কর দিয়ে উঠল।ও কোন মতে নিজেকে সামলিয়ে বাড়ির ভিতর ডুকল।মেহেরের বাড়ির কাজের লোক দরজা খুলে দিল।মেহের বাবা লিভিংরুমে বসে পত্রিকা পরছিলেন। মেহেরকে যেতে দেখে কড়া গলায় জিজ্ঞাসা করলেন রাত ১ টা কিভাবে বাজল মেহের? আমি তোমায় সন্ধার আগে আসতে বলেছিলাম সে কথা কি ভুলে গেছ মেহের।
মেহের কিছু বলতে যাবে তার আগেই মেহের বাবার ফোনে কল আসল।মেহেরের বাবা খুশিতে গদ গদ হয়ে ফোনটা ধরলেন।কিছুক্ষুন কথা বললেেন খুব উৎসাহ সহকারে।তারপর মেহেরকে বললেন রুমে যাও।
মেহের দ্রুত রুমে গিয়ে হাপাতে লাগল।ওর জান যায় যায় অবস্থা। একটানে ফ্রিজ থেকে ঠান্ডা পানি বের করে ঢক ঢক করে খেয়ে ফেলল।তারপর কোন কথা না বলে বিছানায় ঠাস করে শুয়ে পরল।বার বার আয়মানের লাস্ট কথাগুলো ভাবতে লাগল।
আর আকাশ- পাতাল ভাবতে হবে না।তুমি যা ভিতু তুমি চায়ের সাথে অন্যকিছু খাওয়াতে পারবেনা তাই আজ না,হয় যায়। যখন তোমার সময় হবে তখন ডেকো তখন না হয় অন্যকিছু টেস্ট করে দেখব।
১০ মিনিট পর….
মেহের হঠাৎ উঠে বসল। বুকের ভেতর ধুকপুকানি এখান কমেনি। কপালে হাত রাখল, শরীরটা হালকা কাঁপছে।
– “আল্লাহ! আমি কেন বারবার ওর কথা ভাবছি?”
শুয়ে থেকে আঙুল দিয়ে চাদর মুচড়ে ধরল। ঠোঁট কামড়ে নিজেকে সামলানোর চেষ্টা করছে। বিছানার মাথার দিকে তাকিয়ে মিনমিন করে বলল—
“এভাবে চলতে থাকলে আমি একেবারে পাগল হয়ে যাবো…”
#চলবে————-
ভুলত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।
নোটঃ হাদিস ১
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
“যে ব্যক্তি ফজরের নামাজ জামাতে পড়বে, সে আল্লাহর হেফাজতে থাকবে।”
(সহিহ মুসলিম, হাদিস: 657)
হাদিস ২
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
“যে দুই শীতল নামাজ (ফজর ও আসর) আদায় করবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।”
(সহিহ বুখারি, হাদিস: 574; সহিহ মুসলিম, হাদিস: 635)
