Friday, June 5, 2026







বাড়ি"ধারাবাহিক গল্প"হৃদয়ের গভীরে যে তোমারই নাম প্রিয়সীহৃদয়ের গভীরে যে তোমারই নাম প্রিয়সী পর্ব-০৪

হৃদয়ের গভীরে যে তোমারই নাম প্রিয়সী পর্ব-০৪

#হৃদয়ের গভীরে যে তোমারই নাম প্রিয়সী
#পর্বঃ৪
#পাপড়ি জাহান

গত পাচদিন পর আয়মান নিজের বাবার করা ভার্সিটিতে এসেছে খুব জরুরি কাজের জন্য।কারন সিএসসি ডিপার্টমেন্টের অভিজ্ঞ টিচার খুজে পাওয়া যাচ্ছেনা তাই কিছুটা চিন্তিত হয়ে ভার্সিটিতে এসেছে।মুখে মাস্ক মাথায় কেপ চোখ কাল সানগ্লাস পরে এসেছে যাতে কেউ ওকে চিনতে না পারে।কারন ওকে চিনলেই শুরু হয়ে জায় ছেলে মেয়েদের ছবি তুলা। আর আটোগ্রাফ নেওয়া।আর মেয়েরা তো একেবারে গায়ে পরতে চাই।যতই হোক মন্ত্রী বলে কথা।

ক্যাম্পাসের গেট পার হতেই আয়মান মাথাটা আরও নিচু করে ফেলল।পায়ে চলার ভঙ্গিও বদলে নিয়েছে, যেন কেউ চিনে না ফেলে।ভেতরে প্রবেশ করতেই চারপাশে ছড়িয়ে থাকা ছাত্র-ছাত্রীদের চোখ পরল তার ওপর পড়ল।

— “এই যে, ওই লোকটাকে দেখছিস? কেমন যেন পরিচিত মনে হচ্ছে।”
— “হুম… মুখটা ঢাকা, কিন্তু হাইট, হেঁটে যাওয়ার স্টাইল… আয়মান স্যারের মতো না?”
— “উফ্! সম্ভব না রে, এত সহজে তিনি আসবেন নাকি? তথ্যমন্ত্রী বলে কথা!”

ছেলেমেয়েরা ফিসফিস করতে লাগল, কেউবা ফোন বের করে দূর থেকে ছবি তোলার চেষ্টা করছে।আয়মান বিষয়টা টের পেল।
এক মুহূর্তের জন্য বিরক্তি ঝলসে উঠল তার চোখে,
কিন্তু দ্রুত মাথা নিচু করে সরাসরি এগিয়ে গেল সিএসসি ডিপার্টমেন্ট হেডের অফিসের দিকে।

অফিসে ঢুকেই দরজা বন্ধ করে ফেলল।
সামনে বসা হেড অব ডিপার্টমেন্ট উঠে অবাক হয়ে দাঁড়ালেন। মাস্ক আর সানগ্লাস খুলে ফেলতেই কক্ষ ভরে গেল পরিচিত এক গাম্ভীর্যে।

তথ্যমন্ত্রী আয়মান!

হেড অব ডিপার্টমেন্ট স্যালুট করে দাঁড়িয়ে বললেন—
— “স্যার, আপনি এখানে! আগে খবর দিলেন না কেন? নিরাপত্তা তো দিতে পারতাম।”

আয়মান ক্লান্ত গলায় জবাব দিলেন—
— “খবর দিলে পুরো ক্যাম্পাস ভরে যেত সাংবাদিক আর ছাত্র-ছাত্রীর ভিড়ে। আমার জরুরি কাজ আছে, তাই চুপিসারে এলাম। সিএসসি ডিপার্টমেন্টে অভিজ্ঞ শিক্ষক পাচ্ছেন না শুনলাম?”এটা আমাকে এতদিন জানাননি কেন?

বাইরে এদিকে ছাত্র-ছাত্রীরা আরও ভিড় জমাচ্ছে।
কারও কণ্ঠ ভেসে আসছে—
— “আমি বলছি, উনিই আয়মান স্যার! এভাবে মাস্ক পরে গোপনে এসেছেন।”

অফিসের ভেতরে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা শুরু হলো, আর বাইরে কৌতূহল ধীরে ধীরে সন্দেহে রূপ নিচ্ছিল।

হেড অব ডিপার্টমেন্ট বললেন স্যার বলছিলাম কি আপনি যদি ক্লাসগুলো নিতেন নতুন টিচার না পাওয়া প্রর্যন্ত তাহলে বেটার হত।কারন সাংবাদিকরা এ-খবর পেলে অনেক ঝামেলা বাড়তে পারে।

আয়মান কিছু বললোনা শুধু কিছু একটা চিন্তা করতে লাগল।

_____

মেহের জানেনা যে আয়মান এসেছে।জানবেও বা কিভাবে কারন ওদের সম্পর্ক আর ১০ টা স্বামী- স্ত্রীর মত নই।২ টা ক্লাস করার পর মেহের ক্লাস থেকে বের হয়েছে ছাদে যাওয়ার উদ্দেশ্য যদিও বা এই টাইমে ছাদে কেউ থাকে না।

ছাদে গিয়ে মেহের থ হয়ে দারিয়ে রইল।কারন ও গিয়ে দেখল আয়মানের বুকের মাঝে মাথা রেখে রিমি কান্না করছে।আর আয়মান নির্বিকার হয়ে দারিয়ে আছে।না চাইতেও মেহেরের মুখটা রাগে লাল হয়ে উঠল।কি বলবে ভেবে পেলনা।সামনে গিয়ে আয়মানকে জোরে ধাক্কা দিল যার ফলে আয়মানের মাথা দেয়ালে গিয়ে বাড়ি খেল। টপ টপ করে তার মাথা থেকে রক্ত পরতে লাগল।

লম্পট কোথাকার লজ্জা করেনা ঘরে বউ রেখে অন্য মেয়ের সাথে রং তামাশা করতে।এজন্যই তোকে আমি বিয়ে করতে চাইনি তুই জোর করে আমায় বিয়ে করছিস।আমিতো জানি মন্ত্রীদের চরিত্র ভালো হয়না।বলেই মেহের রাগে ফোস ফোস করতে লাগল।

অন্যদিকে আয়মান রেগে আগুন হয়ে উঠে দারানোর চেষ্টা করছে।

আয়মানের সাথে কি করেছে সেদিকে বিন্দুমাত্র মেহেরের খেয়াল নেই সে তো রিমির সামনে এসে চুল ধরে টানতে লাগল।

শয়তান মেয়ে তোকে আমি জেন্ত খুন করে ফেলব তোর সাহস কি করে হল আমার কিউট শয়তান লুচু স্বামীকে জরিয়ে ধরার।আজকে আমি তোর মুখে মরিচের গুড়া লাগিয়ে দিব ফেসপ্যাক হিসেবে।তারপর তোর গা আমি ব্লেট দিয়ে কেটে লবন লাগাব।ডায়নি তোকে আমি আজকে মেরেই ফেলব।

রিমিতো কেদে কেটে অস্থির তবুও মেহের চুল ছারলনা উল্টো বলল

এই ডায়নি তুই কাদছিস কেন হ্যা..

এইদিকে….
আয়মানের ফর্সা মুখ ও গোলাপি ঠোট দুটো প্রচন্ড রাগের কারনে লাল হয়ে উঠেছে।নিজের চুলগুলো পিছনে চেপে ধরল।তবুও ওর রাগ কমল না।চিৎকার করে বলল মেহের রিমির চুল ছাড়।

মেহের খানিকটা চমকে উঠে রিমির চুল ছারল।আয়মানের দিকে তাকিয়ে ভয়ে থর থর করে কাপতে লাগল।

আয়মান সেদিকে পাওা না দিয়ে মেহেরের হাত ধরে টানতে টানতে ভার্সিটি থেকে বের করে নিয়ে যাওয়া ধরল।

গেটের সামনে মেহেরের বান্ধবী দাড়ান ছিল।অচেনা হুডি পড়া একটা ছেলেকে নিজ প্রানপ্রিয় বান্ধবীকে টেনে নিয়ে যেতে দেখে ভয় পেয়ে গেল।ছুটে গিয়ে পিছন থেকে ডাকা শুরু করল।
“এই! আপনি… আপনি কী করছেন? ছেড়ে দিন ওকে!”

আয়মান কোন কথা না শুনে মেহেরকে একপ্রকার
গাড়ির ভিতর ছুরে ফেলল।

মেহের প্রচন্ড ব্যাথা পেয়ে আহ বলে শব্দ করল।

আয়মান গাড়িতে উঠে দ্রুতবেগে গাড়ি চালাতে লাগল।মেহের তো ভয়ের চোটে কান্না করতে লাগল।হঠাৎ আয়মানের কপাল থেকে রক্ত পরতে দেখে হাত বাড়িয়ে কপালটা ছোয়া ধরল। ওমনি আয়মান বজ্রকন্ঠে বলল ডোন্ট টাচ মি. মেহের….

মেহের দ্রুত হাতটা সরিয়ে নিল। আর গাড়ি সাথে মাথাটা হেলিয়ে দিয়ে কাদতে লাগল।আয়মান তা দেখে আর রেগে গেল।প্রচন্ড শব্দ করে ব্রেক কসল।মেহের তাল সামলাতে না পেরে সামনের দিকে পরে যাওয়া ধরলে আয়মান টান দিয়ে ওকে বুকে টেনে নিল।যার কারনে ও আর ব্যাথা পেলনা।
হঠাৎ ধাক্কা মেরে ফেলে দিল।

সিটবেল্ট বাধোনি কেন মেহের?

মেহের কোন কথা না বলে কাদতে লাগল।কারন ও ব্যাথা পেয়েছে এভাবে ধাক্কা দিয়ে ফেলার কারনে।
আয়মান রাগি কন্ঠে দাতে দাত চেপে বলল

Stop crying, Meher….

মেহের আয়মানের এমন রাগি কন্ঠ শুনে ভয়ের চোটে আর জোরে কেদে উঠল।

আয়মান তা দেখে প্রচন্ড রেগে গিয়ে মেহেরের গাল দুটো চেপে ধরল।

Stop crying or I will kill you.

আয়মানের এমন হুমকি ও ধমক শুনে মেহের কান্না বন্ধ করে ফেলল।নতুন জুটিটা কেমন লাগল।সবাই বলবেন কিন্তু। আর
আজকে কি লিখছি নিজেও জানিনা।টানা কয়েকদিন জার্নি করে আমি খুবই ক্লান্ত।চোখ বড্ড ঘুম পাচ্ছে বলার বাহিরে।তাই ভুলত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।কেমন হয়েছে পর্বটা।আর কে কে আয়মানের মত স্বামী+ মেহেরের মত বউ চান কমেন্টে বলুন????

আয়মানে প্রচন্ড জোরে গাড়ি চালিয়ে এনে একটা নির্জন জায়গায় এসে থামল।যেটা কিছুটা পাহারি এলাকার মত।মেহের কৌতূহলী চোখে জানালা খুলে বাহিরে তাকাল।

যতদূর দৃষ্টি যায়, চারপাশটা যেন পাহাড়ের আলিঙ্গনে ডুবে আছে। উঁচু–নিচু সবুজ টিলা, ঢেকে আছে ঘন শ্যামল বৃক্ষরাজিতে। দূরের ঢালে লতাপাতায় মোড়া গাছগুলো বাতাসে দুলছে, আর কাছাকাছি ঝোপঝাড় থেকে অচেনা পাখির ডাক ভেসে আসছে।সূর্যের আলো ফোঁটা ফোঁটা হয়ে গাছের পাতার ফাঁকে গলে পড়ছে পাহাড়ি মাটির গায়ে, কোথাও আবার ছায়ার চাদরে মোড়া। ঢাল বেয়ে ছোট ছোট ঝরনার মতো পানি নেমে আসছে, শব্দে যেন এক ধরনের প্রশান্তি আছে। বাতাসটা শহরের মত গুমোট নয়, ঠাণ্ডা আর নির্মল—ফুসফুস ভরে নিতে ইচ্ছে করে বারবার।একেবারে নির্জন পরিবেশ, কেবল দূর থেকে ঝিঁঝিঁ পোকার শব্দ শোনা যায়। মনে হয় যেন ঢাকা শহরের ভিড়ভাট্টা, শব্দ, ধোঁয়ার পৃথিবীকে ছাড়িয়ে হঠাৎ অন্য জগতে এসে পড়েছে। পাহাড়ের বুক জুড়ে এই অচেনা নীরবতা, প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য—সব মিলিয়ে জায়গাটা যেন কোনো গল্পের পাতার মতো অবাস্তব, অথচ বাস্তবের ভেতরেই লুকিয়ে আছে।মেহের বিস্ময়ে তাকিয়ে রইল। তার চোখে অজানা এক মুগ্ধতা—
ঢাকায় এমন জায়গা আছে, আমিতো জানতামই না…!

আয়মান দু’হাতে স্টিয়ারিং চেপে ধরল।শ্বাসপ্রশ্বাস যেন স্বাভাবিকের চেয়ে দ্রুত হয়ে গেছে।ফর্সা মুখে রাগের আগুন জ্বলছে, ঠোঁট দুটো শক্ত হয়ে আছে।একটু পর হঠাৎ করেই দরজাটা খুলে দিয়ে গলা চড়িয়ে বলল—

“নামো!”

কণ্ঠটায় এমন এক দৃঢ়তা আর রাগ মিশে ছিল যে মেহের থরথর করে কেঁপে উঠল।

মেহের তোতলাতে তোতলাতে বলল আ—-প—নি আ—-মা—য় এখা—নে কে—-ন নি—-য়ে এসে–ছেছ—-ছ—–ন

আয়মান কোন মতে রাগ কন্ট্রোল করে দাতে দাত চেপে বলল তোকে নামতে বলেছি তাই দ্রুত নাম।বেশি প্রশ্ন করা আমার একদম পছন্দ না।

মেহের বুঝল আয়মান প্রচন্ড রেগে আছে।তাই একপ্রকার বাধ্য হয়ে গাড়ি থেকে নামল।

আয়মান গাড়ি থেকে ধীর পায়ে নামল।তারপর মেহেরের হাত ধরে টানতে টানতে তাকে উচু পাহাড়ের চুড়ায় নিয়ে গেল।মেহের তো বার বার আয়মানকে বলছে নেতা সাহেব প্লিজ আমাকে ওত উচুতে নিবেননা।…

আয়মান কোন কথা না বলে একেবারে পাহাড়ের শেষ প্রান্তে দারাল।এমনভাবে দারাল যে একটু নড়াচড়া করলেই ওরা নিচে পরে যাবে।আয়মান পকেটে হাত গুজে বলল Look down.মেহের…

মেহের ভয় পাওয়া গলায় বলল
“Wh…Why?”

আয়মান দাঁত চেপে আরও ভয়ঙ্কর ভঙ্গিতে গর্জে উঠল—
“I told you to look. Don’t ask questions.”

আয়মান এমন গলা শুনে মেহেরের শরীর ঘামতে শুরু করল, ঠোঁট শুকিয়ে গেল।কাঁপতে কাঁপতে ধীরে ধীরে চোখ নামাতেই পাহাড়ের নিচের গভীর অন্ধকার খাদ চোখে পড়ল।মুহূর্তেই মাথা ঘুরে উঠল, বুকের ভেতর ধুকপুক ধ্বনি যেন বিস্ফোরণের মতো বাজতে লাগল।একমিনিট তাকিয়ে মেহের জোরে চিৎকার দিয়ে আয়মানকে জরিয়ে ধরল।কারন মেহের উচু জায়গা দেখলে ভয় পায়।

আয়মান নিথর ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে রইল।কিন্তু বুকের কাছে মেহেরের কাঁপতে থাকা শরীর, ভয়ে কুঁকড়ে যাওয়া মুখ আর অশ্রুসিক্ত চোখ তার ভেতরে এক অদ্ভুত আলোড়ন তুলল।মুহূর্তের জন্য তার কঠিন মুখশ্রী নরম হয়ে এল, অথচ ঠোঁটের কোণে দমিয়ে রাখা রাগের ছাপ এখনও স্পষ্ট।

মেহের ছার আমায়….

মেহের কাদতে কাদতে বলল নাহ ছাড়বনা আমি…

আয়মান ভ্রু কুঁচকে দাঁতে দাত চেপে জিজ্ঞেস করল—
“কেন?”

মেহের কাঁপা কণ্ঠে উত্তর দিল—
“ছেড়ে দিলে যদি আমি পড়ে যায়… তখন কী হবে আমার। আমি…আ—মি এত তারাতারি মরতে চাইনা।”

কথাটা শুনে আয়মানের চোখে এক মুহূর্তের জন্য অদ্ভুত দৃষ্টি ভেসে উঠল।কিন্তু সাথে সাথেই সে নিজের ভেতরের ঝড় চেপে রেখে কঠিন গলায় বলল—
“ভয়কে জয় করতে শিখো মেহের।”

মেহের মাথা নেড়ে কাঁদতে কাঁদতে বলল—
“লাগবে না জয় করা আমার…
আয়মান হঠাৎ বজ্রের মতো গর্জে উঠল—
“আমি বলেছি ছাড়ো!”

আতঙ্কিত হয়ে মেহের হাত ছেড়ে দিল। বুকটা হঠাৎ খালি হয়ে গেল তার, মনে হলো চারপাশের বাতাসটাও গায়েব হয়ে গেছে।

কিছুক্ষণ নীরব দাঁড়িয়ে থেকে আয়মান গভীর নিঃশ্বাস ফেলল।


“পাহাড়ের কিনারায় পা ঝুলিয়ে বসো।”

মেহের ভয়ে ফিসফিস করে বলল—
“মানে…? আপনি কি পাগল? আমি কখনো…”

আয়মান কোন কথা না বলে মেহেরকে নিয়ে জোর করে পাহারের কিনারায় বসল। তাদের পা শূন্যে ঝুলছে, নিচে ভয়ঙ্কর গভীরতা। বাতাস হাহাকার করে বয়ে যাচ্ছে, যেন প্রতিটি ঝাপটা মেহেরকে টেনে নিতে চাইছে অজানা অতল গহ্বরে।

মেহের বুকের ভেতর জোরে জোরে ধড়ফড় করতে লাগল, কাঁপতে কাঁপতে সে ফিসফিস করে বলল—
“নেতা সাহেব… আমি ভয় পাচ্ছি…”

আয়মান পাশে বসে অচেনা এক শান্ত অথচ তীব্র দৃষ্টিতে তার দিকে তাকাল। ঠোঁটের কোণে অল্প হাসি টেনে নিয়ে ধীর স্বরে বলল—
“ভয়কে আলিঙ্গন করতে শিখো, মেহের। ভয় যখন তোমার কাছে হার মানবে, তখন সত্যিই তুমি মুক্ত পাবে।”

আয়মানের কথাগুলো বাতাসের সঙ্গে মিশে গিয়ে পাহাড়ের বুক থেকে প্রতিধ্বনি হয়ে ফিরল, আর মেহের অনুভব করল—এই মানুষটা যতই রাগী হোক, তার উপস্থিতি যেন ভয়কেও কাঁপিয়ে দেয়।

****************—*******-*****–**********

মেহেরের বড় ভাই রোদ জামান পেশায় একজন ডাক্তার সমস্ত কাজ শেষ করে সবেমাত্র বাসায় ফেরার জন্য রওয়ানা হলো।নিজের ঘুমান্ত ছেলেটাকে কোলে তুলে নিল।সারা মুখে চুমু খেল

তুই অনেক কপাল পোরা রে যে জন্মের পরই মাকে দেখতে পেলিনা।তোকে তোর মায়ের ভালোবাসা দিত পারচ্ছি তো আমি।বলেই হু হু করে রোদ কেদে উঠল।

হসপিটাল থেকে বের হয়ে রিকশা ডেকে রিকশায় উঠে পরল।সারা রাস্তায় রোদ নিজের মৃত্য স্ত্রীর কথা মনে করতে লাগল।না চাইতেও রোদের চোখ থেকে পানি পরতে লাগল।

—————–
হঠাৎ একা গাড়ি এসে রোদের রিকশার সামনে এসে থামল।রোদ কিছুটা ভ্রুকচকে সেদিকে তাকাল।গাড়িতে থেকে বের হয়ে আসল জিন্স টপস পরা একটা মেয়ে।চুলগুলো জুটি করা ঠোটে হালকা পিংক লিপিস্টিক। হাতে ছোট একটা পার্স।
মেয়েটা দৌড়ে এসে হাঁপাতে হাঁপাতে বলল—
“আজ এত তাড়াতাড়ি কেন বের হলেন গোমড়ামুখো ডাক্তার? জানেন আমি কতক্ষণ ধরে বাইরে দাঁড়িয়ে ছিলাম! তারপর হঠাৎ শুনলাম আপনি চলে গেছেন, তাই আমিও চলে এলাম। কারণ, হবু জামাই যেখানে, হবু বউও সেখানেই থাকবে… তাই না?”

রোদ নিজের রাগ সামলাতে পারলনা।তাই একপ্রাকার চিৎকার করে বলল বেয়াদব মেয়ে তোমার কি লজ্জা বলতে কিছু নেই।আমি তোমার থেকে ১৭ বছরের বড় তুমি কিভাবে এত বড় একজন সিনিয়র কে এসব বলতে পার।আন্সার মি ইডিয়েট

মেয়েটি নিজের ঝুটি ঠিক করে বলল হবু স্বামীর সামনে লজ্জা কিসের বলুন তো।হবু স্বামীর সাথে হবে শুধু রোমান্স লজ্জা না ওকে…বলেই চোখ টিপ দিল।

এসব কথা শুনে রিকশাওয়ালা জোরে হেসে উঠল।যা দেখে বিরক্ত হল রোদ।

মামা আফনে মামীরে মাইন্মা নেন।মামী আফনের মেলা ভালোবাসে….

রোদ নিজের ঠোট দুটো চেপে ধরে নিজের রাগ নিয়ন্ত্রন করার চেষ্টা করল।

এই পিচ্ছি মেয়েকে কি বলবে ভেবে পাচ্ছেনা।যতই হোক নিজ আপন বোনের ননদ বলে কথা কিছু বলাওতো জায় না ।তবুও কিছুটা রাগ নিয়ে বলল নিরা প্লিজ আমার মাথা গরম করো না দ্রুত বাসায় যাও।আর শোন এসব আবেগ বাদ দিয়ে পড়াশোনায় মনোযোগ দেও।

নীরা ঠোঁট বাঁকিয়ে একরকম অভিমানী ভঙ্গিতে বলল,
— “না গোমড়ামুখো ডাক্তার, আমি এখন বাসায় যাচ্ছি না।

রোদ বিরক্ত হয়ে চোখ ফিরিয়ে নিল। ভেতরে ভেতরে সে চেষ্টা করছিল কঠিন থাকতে। কিন্তু মেয়েটার চোখেমুখে অদ্ভুত এক আকর্ষণ—যেটা বারবার তার ভেতরের দেয়ালগুলোতে ধাক্কা মারছিল।

রিকশাওয়ালা আবার হেসে বলল,
— “মামী, আফনের জেদ তো মামারে একদিন ধরবই! হেই দিন বেশি দূরে না!”

রোদ তিরিক্ষি হয়ে গম্ভীর গলায় বলল,
— “চুপ করো মামা!”

নিরা হঠাৎ রোদের একদম কাছে গিয়ে ফিসফিস করে বলল,
— “জানেন আমি আপনার রাগী মুখটা সবচেয়ে বেশি ভালোবাসি।আপনার চোখ যখন রাগে লাল হয়ে ওঠে, তখন মনে হয়—এই চোখের আড়ালে একটা বড় সমুদ্র লুকিয়ে আছে।”

রোদ হঠাৎ থমকে গেল। বুকের ভেতরটা কেমন যেন দোলা দিয়ে উঠল। ।কিন্তু নিজের মনকে শক্ত করে সে জবাব দিল,
— “নীরা, প্লিজ এসব খেলা বাদ দেও। আমি অনেক বড় দায়িত্বের মানুষ। তোমার এখন আবেগের বয়স।তাই আমার জীবনে এমন অনেক শূন্যতা আছে, যেটা তুমি বুঝবে না।”

নীরা হেসে বলল,
— “আপনি যতই এড়িয়ে যাননা কেন , কিন্তু আমি জানি একদিন আপনার শূন্য জায়গাটা আমিই পূরণ করব।”বলেই মুগ্ধ নয়নে রোদের দিকে তাকিয়ে রইল।আচ্ছা লোকটা শ্যামবর্ণের হয়েও এত সুন্দর কেন।যে বার বার তাকিয়ে থাকতে ইচ্ছে করে।চুলগুলো ঘামের কারনে লেপটে আছে।যা দেখে নিরা ইচ্ছা হল চুলগুলো ছুয়ে দিতে।কিন্তু রোদ যা রাগি তাই ভয় পেয়ে আর কিছু করলনা।মুখ ফুলিয়ে বলল

গোমরামুখো ডাক্তার প্লিজ আমাকে এভাবে তারিয়ে দিবেননা।আপনি জানেন শুধুমাত্র আপনার সাথে দেখা করার জন্য কলেজের ক্লাস ফাকি দিয়ে আপনার কাছে এসেছি।

রোদ দাতে দাত চেপে বলল আমি কি তোমায় আসতে বলেছি বেয়াদব মেয়ে।দুর হও সামনে থেকে আমি বাসায় যাব।রায়ান অনেকক্ষণ ধরে না খেয়ে আছে ওকে খাওয়াতে হবে।

নিরা এটা শোনা মাত্রই আর একমূহর্ত না দারিয়ে দৌড়ে গিয়ে গারি থেকে একটা ফিটার নিয়ে এসে বলল আমাকে একটু কোলে দিননা রায়ানকে।আমি রায়ানকে খুব যত্ন করে ফিটার খাওয়াব প্রমিজ।

রোদ কি বলবে ভেবে পেলনা।নিজ ছেলের খিদে লেগেছে ভেবে নিরার কোলে দিল।

নিরা হাসতে হাসতে কোলে নিয়ে গাড়ির ভিতর বসল।খুব মমতা ভরে ফিটার খাওয়াতে লাগল।

রোদ সেদিকে অবাক নয়নে তাকিয়ে রইল।নিজেই বাচ্ছা হয়ে আরেকটা বাচ্ছার সেবা করছে ভাবতেই রোদের ঠোটের কোনে হাসি খেলে গেল।।

নিরা ফিটার খাওয়াচ্ছে।আর রায়ান নিরার আঙ্গুল দরে দ্রুত ফিটার খাচ্ছে।মনে হচ্ছে অনেকক্ষণ দরে সে অভুক্ত ছিল।নিরা তা দেখে রায়ানের কপালে অনেকগুলো চুমু দিল।

(কলকে কেউ গল্প পাবেননা তাই অপেক্ষায় থাকবেননা।)

সোনা বাচ্ছা আমার।খুব খিদে পেয়েছিল তোমার তাইনা।তোমার বাবা পচা তাইতো তোমায় এতক্ষন না খাইয়ে রেখেছিল।তুমি যখন বড় হবে তখন তুমি আর আমি মিলে তোমার বাবাকে আচ্ছা,রকম পিটাব।

ছোট রায়ান কি বুঝল জানা গেলনা।শুধু খিল খিল করে হেসে দিল।হাত পা নারিয়ে খেতে লাগল।

নোটঃ
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
“তোমাদের মধ্যে উত্তম সেই ব্যক্তি, যে কুরআন শেখে এবং অন্যকে শেখায়।”
(সহিহ বুখারি, হাদিস: 5027)

হাদিস ২:
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
“মানুষের মধ্যে উত্তম সেই ব্যক্তি, যে মানুষের জন্য সবচেয়ে বেশি উপকারী।”
(মু’আজ্জাম আল-আওসাত, হাদিস: 5787)

গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ