#হৃদয়ের গভীরে যে তোমারই নাম প্রিয়সী
#পর্বঃ৮
#পাপড়ি জাহান
আয়মানের ওমন রোমান্টিক কথা শুনে মেহেরের বুকটা কেমন যেন ধক করে উঠল।মুখ শুকিয়ে গেল, গলা শুকনো মরুভূমির মতো হয়ে গেল।তাই একদমে দুই গ্লাস পানি খেল।
পাশ থেকে কলি অবাক চোখে তাকিয়ে বলল,
— “হায় আল্লাহ! তোর এ অবস্থা কেন মেহের? মনে হচ্ছে আয়মান ভাই শুধু কথা না, তোর হার্টের বিটও বাড়িয়ে দিয়েছে !” 😏
মেহের লজ্জায় মুখ ঘুরিয়ে ফিসফিস করে বলল,
— “চুপ কর কলি, কেউ শুনে ফেলবে…” 💓
কলি বলল তুই বাসর রাতে কি করবি মেহের।আমার মনে হচ্ছে তুই সারা রাত অজ্ঞান হয়েই থাকবি?
কলির ওমন কথা শুনে মেহেরের মুখটা পাকা ডালিমের মতো লাল হয়ে উঠল। কলি সেটা দেখে আরও মজা করে বলল,
— “ওরে বাবা! আমাদের মন্ত্রীর বউতো লজ্জা পেয়ে পাকা ডালিম হয়ে গেছে🤣🤣🤣।
মেহের থেমে গেল এক মুহূর্ত। গ্লাসটা ধীরে নামিয়ে বলল,
— “চুপ কর কলি, প্লিজ…
কলি হাসতে হাসতে মেহেরের কাঁধে চাপড় দিয়ে বলল,
— “ওকে আমি চুপ করে গেলাম… কিন্তু আয়মান ভাই যদি আবার এমন কথা বলে, আমি কিন্তু পরের বার অডিও করে রাখব!” 😜
মেহের মুখ ঢেকে হেসে ফেলল, আর কলি পেছন থেকে বলল,
— “প্রেমে পড়েছিস বোন, এখন পালিয়ে লাভ নাই!” 💞
-++++++
🥰🥰🥰🥰🥰🥰🥰🥰🥰🥰
৩০মিনিট পর মেহের ওয়াশরুম থেকে এসে দেখল।
ফোনটা টেবিলের উপর বারবার ভাইব্রেট হচ্ছে।মেহের ফোন হাতে নিয়ে দেখল আয়মান মেসেজ করেছে —
“Ayman: তুমি কি এখন ব্যস্ত?”
মেহের কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইল, তারপর একটা ছোট নিশ্বাস ফেলে রিপ্লাই দিল —
“না, বলুন।”
কয়েক সেকেন্ড পরেই মেসেজটা এল —
“আজ তোমাকে দেখে চোখ সরাতে পারিনি। তোমাকে কাছে পেতে মন চাই, মেহের…” ❤️তোমার চোখের দিকে তাকিয়ে তোমার ভিতরে হারিয়ে যেতে মন চাই।
“তোমার ওই লজ্জায় লাল মুখটা এখনো চোখে ভাসছে,। মনে হচ্ছে আবার দেখলে হয়তো তোমার ভেতরেই হারিয়ে যাব…” ❤️
মেহেরের গাল লজ্জায় লাল হয়ে উঠল।তাই সে লিখল—
“আপনি প্লিজ এমন নিলজ্জ মার্কা কথা সবার সামনে বলবেন না, ওকে?” 😒
সেন্ড বাটন চাপার সঙ্গে সঙ্গে মেহের বুকটা ধক করে উঠল।
মেহের মনে মনে বলল,
“আমি কি একটু বেশি কড়া হয়ে গেলাম?”
ঠিক তখনই ফোনটা বেজে উঠল— আয়মানের কল।
ফোন ধরতেই ওপাশ থেকে গম্ভীর গলায় আয়মান বলল—
“আমাকে কি তোমার বিরক্ত লাগে, মেহের?”
মেহের চমকে উঠল।
— “কি ? আমি কবে এমন বললাম ?”
— “তুমি সরাসরি না বললেও, তোমার কথার ভেতরে সেটা বোঝা যাচ্ছিল।”
মেহের একটু চুপ করে থেকে বলল,
— “আমি শুধু বলেছি, সবাই যখন পাশে থাকবে তখন এসব বলবেনা। আমি চাই না আমাকে নিয়ে কেউ হাসাহাসি করুক।
আয়মানের কণ্ঠে বিরক্তির ছোঁয়া—
— “তাহলে আমি ভুল করলাম? ভালোবেসে কিছু বললেই এখন সেটা নিলজ্জ মার্কা কথা হয়ে গেল?”
মেহের একটু রেগে বলল,
— “আপনি কেন বুঝতে পারছেন না, নেতা সাহেব! সবাই যখন আশেপাশে থাকে, তখন এমন কথা মানায় না। আমি চাই না কেউ আমাকে নিয়ে মজা করুক।”
আয়মানের কণ্ঠ ঠাণ্ডা, কিন্তু কষ্টভরা—
— “তাহলে আমি তোমার জন্য বিব্রতকর?”
— “আবার এমন কথা বলছেন কেন?”
— “কারণ তুমি এমনভাবে কথা বলছ যেন আমি তোমার জীবনে এক ধরনের ভুল!”
মেহেরের ভেতরটা কেমন করে উঠল। গলায় জমে থাকা কান্না চেপে বলল,
— “আপনি সবসময় নিজের মতো করে কথা বোঝেন! আমি আপনাকে কষ্ট দিতে চাইনি। শুধু সীমার মধ্যে থাকতে চেয়েছি!”
আয়মান তাচ্ছিল্যের সুরে হেসে বলল,
— “সীমা? প্রেমে কোনো সীমা থাকে না, মেহের। আমি হৃদয়ের কথা বলেছি, অশ্লীল কিছু না।”
মেহেরের চোখে জল চলে এলো। তবুও শান্তভাবে বলল—
— “প্রেম মানে শুধু আবেগ না, সম্মানও থাকে সেখানে। আমি চাই না আপনার সম্মান নিয়ে কেউ আঙুল তুলুক।”
আয়মান কিছুক্ষণ চুপ। তারপর নিচু স্বরে বলল,
— “তুমি জানো, আজ সারাদিন তোমার হাসিটাই মাথায় ঘুরছিল? আমি তোমায় কষ্ট দিতে চাইনি, শুধু অনুভূতিটা প্রকাশ করেছি।”
মেহেরের কণ্ঠ কেঁপে উঠল,
— “আমি জানি, নেতা সাহেব… কিন্তু সেই অনুভূতি প্রকাশেরও একটা সময়, একটা জায়গা থাকা দরকার, তাই না?”
আয়মানের গলা ভারী হয়ে উঠল,
— “তাহলে তোমার কাছে আমার অনুভূতি লজ্জার? এতদিন পর জানলাম আমি তোমার কাছে একটা ভুল।”
— “না নেতা সাহেব, আপনি ভুল না… আপনি তো আমার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর একটি অধ্যায়। কিন্তু আপনি যখন রাগ করেন, তখন আমার মনটা ভেঙে যায়।”
— “তোমার মন এ কারণেই ভেঙে যায়, কারণ তুমি কখনো আমাকে বোঝার চেষ্টা করো না, মেহের।”
— “আপনি-ই বোঝেন না আমায়!”
— “আমি না তুমি বুঝো না!”
দুজনেই চুপ। শুধু নিঃশ্বাসের শব্দ ফোনের ওপারে বাজতে লাগল।
হঠাৎ আয়মান নিঃশব্দে বলল,
— “ঠিক আছে, আজ থেকে আর কিছু বলব না। হয়তো আমার কথা তোমার পছন্দ নয়।”
মেহের কেঁপে উঠল, কণ্ঠ ভারী হয়ে গেল—
— “আয়মান, প্লিজ এমন বলবেন না…”স্যরি আমি আর এমন ভুল করবনা
কিন্তু ওপাশ থেকে এল শুধু একটা ঠাণ্ডা উত্তর—
“গুড বাই, মেহের।”
কল কেটে গেল।
মেহের চুপচাপ বসে রইল। চোখের কোণে জমে থাকা জল গড়িয়ে পড়ল। বুকের ভেতরটা টান টান করে উঠল, যেন কিছু একটা ধীরে ধীরে ভেঙে পড়েছে।
পাশে বসা কলি আস্তে করে বলল,
— “কি হয়েছে রে?”
মেহের নিচু স্বরে বলল,
— “আয়মান রাগ করেছে… শুধু একটা কথার জন্য।”
কিছুক্ষনপর নিরা এসে মেহেরকে নিচে নিয়ে গেল।সিড়ি বেয়ে নামছে আর বক বক করছে।
ভাবমনি তোমায় দেখতে দারুন লাগছে।
মেহেরের কানে সেসব কথা গেল না।ও শুধু চোখ ঘুরিয়ে আয়মানকে খুজতে লাগল।নিরা বলল ইস কবে যে আমার বিয়ে হবে তোমার মত কে জানে?
মেহের এবার মুখ ঘুরিয়ে বলল খুব তারাতারিই তোমায় বিয়ে দিব চিন্তা কর না।
নিরা লজ্জা পেয়ে চুপ করে রইল।
হঠাৎ মেহেরের বাবা এসে বলল কি রে মা তোর কি মন খারাপ।
মেহের চমকে ঘুরে তাকাল। হাসির আড়ালে মুখের বিষণ্ণতা লুকাতে চাইল,না বাবা মন খারাপ হবে কেন?
মেহেরের বাবা একটু এগিয়ে এসে মেয়ের মুখের দিকে তাকালেন।
চোখে যেন স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে—মেহের হাসছে, কিন্তু হাসির নিচে লুকানো আছে ভারী একটা চাপা মনখারাপ।
তিনি মৃদু গলায় বললেন,
— “মা, তুই কি আয়মানের সাথে ঝগড়া করেছিস?”
প্রশ্নটা শুনে মেহের এক মুহূর্ত থমকে গেল। চোখ নামিয়ে ফেলল নিচের দিকে। হাতে থাকা চুড়িগুলো ঘুরাতে লাগল, যেন প্রশ্নটা শুনতেই পায়নি।অবশেষে মেহের জোর করে ঠোঁটের কোণে একটুখানি হাসি এনে বললো
— “না বাবা… ঝগড়া করব কেন?” — ।
বাবা একটু কপাল কুঁচকে বললেন,
— “আমার তো বিশ্বাস হচ্ছেনা মা। চোখের ভাষা কিন্তু সব বলে দেয়। তোকে আমি ছোটবেলা থেকে চিনি। কিছু একটা হয়েছে, তাই না?”
মেহের একটু গিলে ফেলল গলার দলা। বুকটা ভারী হয়ে উঠছে। কিন্তু তবুও মুখে হাসি টেনে বলল,
— “না বাবা, কিছু হয়নি সত্যি বলছি… আমি শুধু একটু ক্লান্ত।”
বাবা দীর্ঘশ্বাস ফেললেন,
— “মেহের, ক্লান্তি চোখে এমন করে ভাসে না রে মা। মন খারাপ থাকলে তোর মুখ এমন হয়ে যায়। আয়মান যদি কিছু বলে থাকে, তবে আমি…”
— “না বাবা!” — হঠাৎ করেই একটু জোরে বলে উঠল মেহের।
— “আপনি কিছু বলবেন না ওকে নিয়ে। আমি ঠিক আছি।”
মুহূর্তেই সিড়ির চারপাশে নীরবতা নেমে এলো। শুধু মেহেরের বুকের ধুকপুক শব্দ যেন স্পষ্ট শোনা যাচ্ছিল।
বাবা তাকিয়ে রইলেন মেয়ের মুখের দিকে, তারপর নরম গলায় বললেন,
— “আচ্ছা, থাক… আমি আর কিছু জিজ্ঞাসা করব না। কিন্তু মনে রাখিস, রাগ-অভিমান যত বড়ই হোক, ভালোবাসা তার চেয়েও বড়।” ❤️
বাবা ধীরে ধীরে চলে গেলেন।
আর মেহের দাঁড়িয়ে রইল সিঁড়ির ধাপে, বুকের ভেতর ঝড় বয়ে যাচ্ছে। মনে মনে বলল—
“আমি মন খারাপ করিনি, বাবা… আমি শুধু কষ্ট পেয়েছি আয়মানের আচারনে…” 💔
——————————–
মেহের নিচে নামতেই চারদিক থেকে সবাই ওর গায়ে গোলাপ ফুল ছিটাতে লাগল।কিন্তু মেহেরের নজর নেতাকর্মীদের সাথে রেগে কথা বলা মানুষটির উপর।এতটায় রেগে কথা বলছে যে আশেপাশের সবাই ভয়ে চুপ করে তাকিয়ে আছে।মেহের চোখ দিয়ে পরক্ষ করে দেখল আয়মানের পরনে সাদা শার্ট ও সাদা,ব্লেজার।যা ওর ফর্সা শরীরে দারুন মানিয়েছে।
মেহেরকে নিয়ে স্টেজের সামনে যেতেই নিরা আয়মানের কানে কানে বলল ভাইয়া ভাবিমনি এসেছে গেছে তুমি দ্রুত আস।
আয়মান সে সব কথা কানে না তুলে নেতাকর্মীদের সাথে কথা বলতে লাগল।তা দেখে নিরা বিরক্ত হয়ে বলল ভাইয়া এমন করছ কেন?দ্রুত আস…
আয়মান এবার পিছন ঘুরে তাকাল নিরার দিকে।নিরা আয়মানের চেহারা দেখে অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল।ফর্সা মুখটা রাগের কারনে টকটকে লাল হয়ে গেছে।চোখ দুটোও রক্তের মত লাল।নিরা ভাবল একটু আগেই তো সব ঠিক ছিল কিন্তু হঠাৎ করে কি হল।
ভাইয়া কিছু কি হয়েছে?
আয়মান নিজের হাতদুটো মুষ্টিবদ্ধ করে বলল কিছু হয়নি তুই যা এখান থেকে…
বল না ভাইয়া কি হয়েছে তোমার?
তুমি যাবি এখান থেকে…
নিরা কিছু না বলে চলে গেল।আশেপাশে তাকিয়ে অবশেষে আয়মান স্টেজের দিকে এগিয়ে এল।একবারও মেহেরের দিকে তাকাচ্ছে না।মনে হচ্ছে ও মেহেরকে চিনিই না।আয়মান পাশে এসে মেহেরের দিকে হাত বাড়িয়ে বলল উঠ
মেহের উঠলনা।আয়মান রাগি চোখে তাকিয়ে বলল উঠছ না কেন?
আয়মানের এমন রাগি কন্ঠশুনে মেহের কাপা কাপা হাতটা ওর হাতে দিল।আয়মান একটান দিয়ে মেহেরকে স্টেজে উঠাল।ক্যামেরাম্যান দ্রুত দৌড়ে এসে ছবি তুলতে লাগল।
নিরা দেখল তার ভাই হাসছে না।তাই স্টেজে উঠে বলল হাসো ভাই না হলে সবাই খারাপ ভাববে?
আয়মান নিরার কথা শুনে একটু হাসল।কিছুখন পর দারিয়ে ছবি তুলতে লাগল।দুজন নানাভাবে পোজ দিতে লাগল।আয়মান টান দিয়ে মেহেরকে নিজের কাছে নিয়ে আসল।মেহের এবার রাগি গলায় বলল কি হয়েছে আপনার এমন ব্যবহার করছেন কেন😔?
……….
কথা বলছেননা কেন আপনি? কি হয়েছে আপনার?
আয়মান মেহের দিকে না তাকিয়ে বলল
Shut up, shut up. I don’t want to hear anything from you.
মেহেরের এবার কান্না পেল।কোন রকম কান্না চেপে বলল এমন রাগি গলায় কথা বলছেন কেন আয়মান।আমিতো বলেছি আমি স্যরি।তবুও কেন মাফ করতে পারছেননা।
বেশি কথা বলা আমার একদম পছন্দ না মেহের।
আপনি কি জানেন আমি আপনার এমন ব্যবহারে কষ্ট পাচ্ছি?
চুপ করতে বলেছি তোমায়…
প্লিজ মাফ করে দিননা আর এমন হবে না।প্লিজ আমায় এমন কষ্ট দিয়েননা।
………………
আমাকে আপনি কখনো ক্ষমা করবেননা তাই না?.
নাহ….
তাহলে ডিভোর্স দিয়ে দিন।
আয়মান এবার মেহের হাত দুটো জোরে চেপে দরল।মেহের ব্যাথার চোটে কেদে দিল।
আর কখনো তোমার মুখে ডিভোর্সের কথা শুনলে জাস্ট মাটিতে পুতে ফেলব।
মেহের নিজেকে সামলাতে না পেরে আয়মান ধাক্কা দিয়ে দৌড়ে ছুটে গেল।
নোটঃ
যে গুলোর কসম শিরক
১/ চোখের কসম।
২/ মাটির কসম।
৩/ পিতামাতার কসম।
৪/ কুরআনের কসম।
৫/ কাবার কসম।
৬/ সন্তানের কসম
৭/ মসজিদের কসম
৮/ মাথার কসম।
ইত্যাদি যত আছে সব শিরক।রাসূল (সাঃ) বলেন, “যে ব্যক্তি আল্লাহ্ তা’আলা ছাড়া অন্য কোন ব্যক্তি বা বস্তুর কসম খাবে সে মুশরিক হয়ে যাবে’।তিরমিযী-১৫৩৫
