Friday, June 5, 2026







শিশির বিন্দুর জীবন পর্ব-০১

#শিশির_বিন্দুর_জীবন
#লেখিকাঃশুভ্রতা_শুভ্রা
#পর্বঃ১

রাহাত আকাশের পূর্ণ চাঁদের দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে বলতে লাগল

-“আফরিন আমি তোমাকে বিয়ে করতে পারবো না। আমি কখনোই আমার সাত বছরের ভালোবাসাকে ভুলে তোমাকে বিয়ে করতে পারবো না। আর তুমি তো ভালো করে জানো আমি তোমাকে সবসময় নিজের ছোটবোন ভেবে এসেছি। আমি কখনো তোমার বোনের জায়গায় তোমাকে বসাতে পারবোনা।”

রাহাতে কথা শুনে আফরিন পানিপূর্ণ চোখে রাহাতে দিকে তাকালো। মুখে তার হাসি ফুটে উঠলো। আফরিন ও চাঁদের দিকে তাকিয়ে বলল

-“ভাইয়া আমি কখনো ভাবতে ও পারিনি যে আমাকে এমন একটা পরিস্থিতিতে পরতে হবে। ভাইয়া আমি অনেক চেষ্টা করেছি বিয়েটা আটকানোর কিন্তু ফলাফল শূন্য। সবাই খালি ইশরাকে কে দেখবে এই কথা বলে আমাকে আটকে দেয়। আমি কি বিয়ে না করে ওকে মানুষ করতে পারিনা!”

রাহাত বলল
-“অবশ‍্যই তুমি তা পারবে। আমার মা বাবাও আমাকে একই কথা বলছেন। যাইহোক তুমি টেনশন নিওনা। আমি এই বিয়ে প্রাণ থাকতে হতে দিবো না। কথা দিলাম তোমায়।”

——————-

ওই রাতের কথা মনে পড়তেই আফরিন অঝোর ধারায় ইশরাকে জড়িয়ে ধরে কান্না করতে লাগল। রাহাত তার কথা রেখেছে বিয়েটা সে হতে দেয়নি। তাই তো সে নিথর দেহ নিয়ে পড়ে আছে সাদা কাফন পেঁচিয়ে। আফরিনের মা আফরিনকে ঝাকিয়ে বলল

-“তুই কি বলেছিলি ওকে। যে ছেলেটা সুইসাইড করলো। মুখপুড়ি কি করলি এটা। ছেলেটা আজ তোর জন‍্যই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে।”

আফরিন আরো হুহু করে কেঁদে উঠলো। কিছু বলতে নিবে তার আগেই রাহাতে মা গম্ভীর কন্ঠে বললেন

-“আপা ওকে কেন বোকছেন। ও কি করেছে। আমার ছেলে নিজের ইচ্ছামতোই এমনটা করেছে। আর ও একটা ছোট্ট মেয়ে। আর আমি আমার ছেলেকে চিনি।”

রাহাতের মায়ের অবাক করা এমন স্বাভাবিক কন্ঠ শুনে অনেকটাই অবাক হলেন আফরিনের মা। আফরিনের মা কিছু বলতে নিলেও কি যেন ভেবে থেমে যায়।

হটাৎ একজনকে দেখে অবাকের শেষ সীমায় পৌঁছে যায় আফরিন। কান্না থেমে হিচকি পড়তে থাকে। ছেলেটা দেখতে একদম রাহাতের মতোই কিন্তু সে একদম ধবধবে ফর্সা আর রাহাত ছিল শ‍্যামলাবর্ণের। তাছাড়া আর কোনো পার্থক্য খুঁজে পেল না আফরিন।

ছেলেটি রাহাতের কাফন মোড়ানো দেহের পাশে ধপ করে বসে পড়লো। ছেলেটির চোখটা লাল বর্ণের ধারণ করেছে। মুখটা ফেকাসে হয়ে গিয়েছে। সবটাই তীক্ষ্ণ চোখে দেখলো আফরিন।

রাহাতের মা ছেলেটা ঘাড়ে হাত রেখে বললেন

-“বাবা, রাদ!”

রাদ রক্তচোখ নিয়ে তাকালো রাহাতের মায়ের দিকে। হুট করেই রাদ রাহাতের মায়ের কোমর জরিয়ে ধরে বলল

-“মা এমনটা কিভাবে হলো। আমার ভাইয়া তো কখননোই এমন করার মানুষ ছিল না। তাহলে কিভাবে এমনটা হলো মা।”

আফরিন আরো অবাক হলো তার জানা মতে রাহাতের ছোট বোন আছে ভাইও যে আছে তার জানা ছিল না।

আফরিনের ভাবনায় ছেদ পড়লো ইশরার কান্নার আওয়াজ শুনে। ইশরার কান্নার গতি বাড়তে দেখে আফরিন উঠে দাড়ালো। কিছু সময় ওকে নিয়ে ঘুরলো। তারপর ও বাচ্চাটা থামছেনা। আফরিনের নিজেকে বড় অসহায় মনে হচ্ছে। ইশরার এমন কান্না দেখে আফরিনের ও চোখ বেয়ে নোনা জল গড়িয়ে পরলো। কি করবে সে কিছুতেই বুঝতে পারছেনা। পরিস্থিতি কেমন যেন ঘোলাটে লাগছে। ছোট বাচ্চাটা হয় তো আপনজন হারানোর আভাস পেয়েছে।

আফরিন কি যেন ভেবে তাড়াতাড়ি রান্নাঘরে গেল। তাড়াহুড়ো করে দুধ গরম করে ফিডারে ঢালতে গিয়ে কিছুটা দুধ তার হাতেও পড়ে গেল। কিন্তু সেদিকে সে পাত্তা না দিয়ে দুধ কিছুটা সহনীয় পর্যায়ে এনে খাওয়াতে শুরু করলো ইশরাকে। কিন্তু ইশরা কিছুতে খেতে চাইছেনা। এবার আরো কান্না পেল আফরিনের।

অপরদিকে রাহাতকে দাফন করতে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি চলছে। আফরিন আবার ছুটে গেল দরজার দিকে। নিজের কোনো ভাই না থাকায় রাহাতকে নিজের আপন বড় ভাই মনে করেছে আফরিন। রাহাতও আফরিনকে নিজের ছোট বোনের মতো স্নেহ করত।

হুট করেই ইশরা থ মেরে গিয়েছে। কান্না করছেনা শুধু চোখে পানি নিয়ে তাকিয়ে রইলো রাহাতকে নিয়ে যাওয়ার দিকে। রাহাত চোখের আড়ালে চলে যেতেই ইশরা

-“বাবা, বা‍বা”
বলে কান্না করতে লাগলো। ইশরার এমন অবস্থা দেখে উপস্থিত সবার চোখে পানি চলে এলো। চারপাশে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। সেখানে ইশরার কান্নাটা কেমন একটা শোনাচ্ছে। আফরিন থ মেরে বসে আছে। কি থেকে কি হয়ে গেল। সবকিছুই স্বপ্নের মতো লাগছে। তার কানে শুধু ভেসে আসছে রাহাতের সেই কথা

-“আমি প্রাণ থাকতে এই বিয়ে হতে দিবো না।”

রাহাতের মনের কথা যদি সে আগে বুঝতে পারতো তাহলে সে কিছু না বলেই বিয়েতে রাজি হয়ে যেতো।

————-

রাত হয়ে এসেছে কিছুক্ষণ আগেই রাহাতের দাফন কাজ সম্পূর্ণ করে সবাই বাসায় ফিরেছে। আফরিনের মা ইশরাকে ঘুম পারিয়ে দিতেছেন। আফরিন সেই বিকাল থেকে রাহাতের রুমে যেখানে রাহাত আর ইশিতার একটা বড় ছবি রয়েছে সেখানে তাকিয়ে বসে আছে। পাশেই ইশরা ঘুমাচ্ছে। আফরিন মনে মনে ছবির দিকে তাকিয়ে বলতে লাগলো

-“তোমরা এটা কি করলে বলো তো। একবার ও আমার কথা ভাবলে না। আমার কথা নাই ভাবলে একবার তো তোমাদের বাচ্চাটার কথা ভাবতে পারতে। এখন আমি ওকে কিভাবে সামলাবো। আপু তোর উপর আমি অনেক অভিমান করেছি তুই নিজে চলে গেলি তো গেলি এখন ভাইয়াকেও নিয়ে গেলি।”

বলেই ঠোঁট উল্টিয়ে কান্না করতে লাগলো আফরিন। তার চোখ জ্বলে যাচ্ছে। ইশরার জন‍্যই এই বাড়িতে থাকা তাদের। আফরিন একবার তাকালো ইশরার দিকে। বাচ্চাটার মুখও ফেকাসে হয়ে গেছে। সকাল থেকে কিছু খায়নি। বাবা বাবা করতে করতেই ঘুমিয়ে গিয়েছে কিছু খায়নি।

আফরিন ইশরার কাছে এগিয়ে গিয়ে ইশরার মাথায় হাত রাখতেই আতকে উঠলো

#চলবে

গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ