Saturday, June 6, 2026







লাভ আফটার ম্যারেজ পর্ব-৩+৪

#লাভ_আফটার_ম্যারেজ
#আনাহিতা_তুলি
#পর্ব_৩

‘অসম্ভম আম্মু! তোমরা কি পাগল হয়ে গেছো? কীভাবে তোমরা মাত্র একদিনের পরিচয়েই বিয়ে পাকা করে ফেলতে পারো? তাও আবার বলছ কিনা সামনেের এই শুক্রবার আকদ! ইটস রিডিকিউলাস।’

নিলুফার মেয়ের এমন হম্বিতম্বি দেখে বললেন,

‘ও গল্প মা, তুই এমন মাথা গরম করছিস কেনো? ছেলেটা আর তার পরিবার কতো ভালো দেখেছিস।
তোকে একমুহূর্তেই কেমন আপন আপন করে নিয়েছিল। আর একদিনের পরিচয় বলছিস কেন! শুভ্রর বাবার সাথে ভাইজানের কতোদিনের পরিচয়; তারা একে-অপরের কতো ভালো বন্ধু! আচ্ছা খুলে বল তো তর আসল সমস্যা টা কোথায়?’

গল্প আবারও বিরক্ত হলো,
‘আমার ওয়ান এন্ড অনলি সমস্যা আমি এখন বিয়ে
করবো না। চেনা নেই জানা নেই একদিনের আলাপেই হুট করে বিয়ে করা যায় নাকি? তাছাড়া সামনে আমার এক্সাম আছে আম্মু। এখন বিয়ে-টিয়ের ঝামেলায় জড়াতে চাই না।’

নিলুফার মেয়েকে টেনে তার পাশে বসালেন। বললেন,

‘ জানাশোনার কথা বলছিস; তর বড়ো মামার চেনা জানার উপর কি তর ভরসা নেই?’

‘বড়ো মামাকে আমি চোখ বন্ধ করে ভরসা করি আম্মু। সেটা তুমিও জানো। কিন্তু এই বিয়ে বিষয়টাতেই আমার আপত্তি আছে এখন। আর শুনো অ্যারেঞ্জ ম্যারেজে বিয়ে হলে পাত্র আর পাত্রি দুজনেই সাধু থাকে। কারন কেউই কাউকে জানে না ঠিকঠাক।’

‘অ্যারেঞ্জ ম্যারেজে এর প্রবলেম হলে; তর কাউকে পছন্দ থাকলে বল। আমরা তার সাথেই তর বিয়ে দিবো।’

গল্প বিরক্ত গলায় বললো,

‘অ্যারেঞ্জ ম্যারেজে প্রবলেম মানে আমার অন্য কাউকে পছন্দ থাকবে বিষয়টা এমন না আম্মু। আমি পড়াশোনা টা কমপ্লিট করে তারপর বিয়ে করতে চাইছি।’

নিলুফার এবার একটু রয়েসয়ে বসলেন। বললো,

‘বিয়ের পরেও তো পড়াশোনা হয়। কল্পকে তো মেডিকেলে পড়ার সময়ই বিয়ে দিয়েছিলাম। সে কি এখন পড়াশোনা করে ডাক্তার হয়নি? কতো বড়ো ডাক্তার তর আপা দেখেছিস! তুইও পারবি।’

গল্প যারপরনাই অবাক হয়ে বললো,

‘আম্মু আপুকে কিন্তু সাজিদ ভাইয়া নিজে পছন্দ করে বিয়ে করেছিল। তাছাড়া ভাইয়া কতো সাপোর্টিভ দেখেছ; তাই আপা নিজের পড়াশোনা টা কন্টিনিউ করে ডক্টর হতে পেরেছে। আমার বেলায় তো এমন নাও হতে পারে।’

মেয়েকে বুঝাতে বুঝাতে নিলুফার এবার ক্লান্ত। তবুও এই মেয়ে বুঝ মানছে না। ছেলে এবং ছেলের পরিবার ভালো না হলে কি আর তারা এই বিয়ের কথাবার্তা আগাতো নাকি? কিন্তু এই কথাটাই সে তার মেয়েকে বুঝাতে পারছে না। তাছাড়া শুভ্র এবং তার বাবা-মা; সকলের ব্যবহারের অমায়িকতা তাদের হৃদয় ছুঁয়েছে। কি মিষ্টি ব্যবহার। নিলুফার অল্প কথাতেই মানুষ চিনার মহিলা; তার চুলের পাক তো আর এমনি এমনি ধরেনি। তিনি বিছানা থেকে উঠে বললেন,

‘আমার আর এই বিষয় নিয়ে তোমার সাথে কিছু বলার নেই মা। এবার যা বলার তুমি তোমার বাবাকে বলো। কারন কথা তোমার বাবাই পাকা করেছে। আমাকে বলেছে তোমাকে জানাতে, জানালাম। এখন আর এসব কিছু আমি জানি না।’

গল্প বিস্ময় নিয়ে বললো,

‘আম্মু তুমি জানো আব্বুর সামনে এসব বলতে পারবো না। আব্বুর কথার উপর কথা বলতে পারি না সেটা তুমি জানো, তবে! ’

‘তাহলে আর কি! ভাবো কি করবে। তবে একটা কথা মনে রেখো তোমার বাবা-মা কিন্তু তোমাদের দুবোন কে সবসময়ই সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছে। আর এবারও তাই। ভরসা করেই দেখো না একবার। ইনশাআল্লাহ ঠকবে না।’

কথাগুলো বলেই নিলুফার গল্পর ঘর থেকে বেরিয়ে গেলো। তার মাথায় আসছে না গল্পর এতো অনীহা কেন এই বিয়ে বিষয় টা নিয়ে। আজকালকার ছেলেমেয়ে গুলো কিছু হয় বিয়ে পাগল; আর কিছু হয় বিয়ে বিরোধী। ভালো সম্বন্ধো কি রোজ রোজ আসে নাকি! তার হয়েছে যত জ্বালা। এদিকে মেয়ের এককথা; আর ওদিকে স্বামীর আরকে কথা। দুজনকেই তার সামলানো লাগে। কি এক যন্ত্রণা!!

___________________
‘তাহলে ওই কথাই রইলো। আগামী শুক্রবার আমরা তবে আত্মীয়তার বন্ধনে আবদ্ধ হচ্ছি! আপনি একদম চিন্তা করবেন না ভাইসাব; গল্প মা আমার বাড়িতে মেয়ে হয়েই আসবে।’

শাহিনুজ্জামান আরও কিছু কথাবার্তা বলে কল কাটলো। এতোক্ষণ তিনি ইমতিয়াজ রহমানের সাথে কথা বলছিলেন। তাদের কথা হলো.. ছেলে-মেয়ে যখন দু’পক্ষই পছন্দ করেছে তবে দেরি না করে এখন আপাতত আকদ টা করিয়ে রাখবেন। গল্পর সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষার পর তাকে উঠিয়ে নিয়ে আসা হবে। এমন কথাই আপাতত হয়েছে। আকদ করিয়ে রাখার মূল উদ্দেশ্য হলো- ছেলে- মেয়ে জেনো একে অপরকে একটু ভালোভাবে জানার সুযোগ পায়। সম্পর্ক টা যেনো একটু একটু করে সহজ হয়ে উঠে। তাছাড়া ভালো কাজ যত তাড়াতাড়ি করা যায় ততই ভালো।

জাহানারা ডাইনিং সাজাতে সাজাতে এতোক্ষণ স্বামীর কথোপকথন গুলো মন দিয়ে শুনছিলেন। এবার তিনি এগিয়ে এসে বললেন,

‘শুনোন, আচ্ছা আকদের সময় এতো আগে নিয়ে শুভ্রর কোনো দ্বিমত নেই তো? পরে আবার বেঁকে বসবে না তো?’

‘আমি কি তোমার ছেলের মতামত না নিয়েই আকদের ডেইট ঠিক করেছি! তাই মনে হয় তোমার!’

‘ও এতো দ্রুতই সম্মতি দিয়ে দিল! কিন্তু পাত্রী দেখতে যাওয়ার সময় তো নিজেই রাজি ছিল না। আর এখন সোজা আকদে রাজি হয়ে গেলো?’

শাহিনুজ্জামান কিছু বলার আগেই শুভ্রর নিরেট গলার আওয়াজ আসল। সিড়ি দিয়ে নামতে নামতে জবাব দিলো,

‘কেনো আম্মু, তোমার ছেলে বিয়ে তে রাজি হয়েছে তুমি কি খুশি হওনি?’

জাহানারা ছেলের কথা শুনে অপ্রস্তুত হেসে বলল,

‘এ কেমন কথা শুভ্র! সন্তানের বিয়েতে মা খুশি হবে না-তো কে হবে! আমি অবশ্যই খুশি। এটা বলার কারন; তুই তো দুদিন আগেও বিয়ের জন্য রাজি ছিলি না। মেয়ে দেখতেই জবরদস্তি করে নিয়ে গেলাম। তাই।’

শুভ্র হাসলো। ডাইনিং টেবিলের চেয়ার টেনে বসতে বসতে বললো,

‘ভেবে দেখলাম বিয়ে খুবই উত্তম কাজ। এই বিষয়ে বেশি লেইট না করাই ভালো। তাই আকদে দ্রুতই সম্মতি দিলাম।’

জাহানারা ছেলের এমন ভোল পল্টানো দেখে বিস্মিত হলো ভিষণ। যে ছেলে দুদিন আগেও বিয়ের জন্য নাকচ করছিল; একপ্রকার জোর করেই মেয়ে দেখাতে নিয়ে গেলো। সে কিনা এখন বলছে বিয়ে করা উত্তম কাজ। বিষয় টা আসলেই বিস্ময়কর তার কছে। পরপরই ভাবলেন গল্পর মতো ওমন একটা মিষ্টি মেয়েকে দেখেই হয়তো ছেলের মন গলেছে। তার ভাবনার মধ্যেই শুভ্র হাঁক ছাড়ল,

‘আম্মু তোমার চিন্তা ভাবনা পরে করো। এখন খাবার দাও ক্ষুধা পেয়েছে।’

‘দিচ্ছি দিচ্ছি।’

জাহানারা শুভ্রর প্লেটে খাবার দিতে দিতে বললেন,

‘শাওনের সাথে তর কথা হয়েছে? কি বলেছে আসতে পারবে আকদে?’

‘কথা হয়েছে আম্মু। কিন্তু তার এক্সাম নেক্সট উইকে। সো, আকদে থাকার সম্ভাবনা একেবারেই নেই।’

জাহানারার মুখ আধার হলো। শাওন তার ছোট ছেলে। পড়াশোনা করতে কানাডা থাকে। সেই কবে গেছে ছেলেটা; আর এখন কিনা ভাইয়ের বিয়েতেও থাকতে পারবে না। ভাবতেই তার মনটা খারাপ হয়ে এলো। শুভ্র মায়ের অভিলাষ বুঝল,

‘মন খারাপ করো না তো আম্মু। এখন শুধু আকদই হচ্ছে। কিন্তু বিয়ের অনুষ্ঠানে ঠিকই প্রেজেন্ট থাকবে বলেছে আমায়। তাছাড়া ওর দেশে আসার ডেইট শুনে তবেই আমি আমার বউ উঠিয়ে আনার ডেইট ঠিক করব। এবার একটু হাসো তো; হাসো না একটু প্রিটি লেইডি!’

ছেলের এমন আহ্লাদী কথায় জাহানারা সত্যিই হেসে ফেললেন। শুভ্র মায়ের হাসি দেখে নিজেও হেসে ফেললো। শাহিনুজ্জামান মা-ছেলের এমন খুশামোদ দেখে তিনিও মাথা নিচু করে নিঃশব্দে হাসলেন।

___________________
গল্প সারা ঘরজুড়ে পায়চারি করছে। একটু আগেই তার বাবা তার সাথে এই বিয়ের বিষয়ে আলোচনা করতে এসেছিলো। আলোচনা বলতে, মেয়ের এই বিষয়ে কোন কথা আছে কিনা তাই জানতে চেয়েছিল। কিন্তু হায়! গল্প বরাবরের ন্যায় এবারও বাবার সামনে নিজের কথা গুলো বলতে চেয়েও তা পারেনি। কোনো এক অজানা কারনে সে তার বাবাকে বেশ ভয় পায়। ইমতিয়াজ রহমান সাবেক জেনারেল আর্মি অফিসার। যার কারনেই সম্ভবত তিনি বেশ ডিসিপ্লিন ও কাঠখোট্টা স্বভাবের। আর এই গম্ভীর কাঠখোট্টা স্বভাবের জন্যই হয়তো তার পরিবার তাকে একটু বেশিই সমীহ করে চলে। ইমতিয়াজ মেয়ের কোনো মতবিরোধ না পেয়ে খুশিমনে ঘর থেকে বের হয়ে যান।

আগামী শুক্রবারে আকদ মনে হতেই গল্পর মাথা ভো ভো করছে। কয়েকমাস বাদেই তার সেমিস্টার ফাইনাল। আর এখন কিনা তার বিয়ের তোড়জোড় চলছে! ব্যাপারটা তার মনকে উদ্বেগ করে তুলছে। সেলফোনটা হাতে নিয়ে শুভ্রর নাম্বারটা একবার দেখল। শুভ্রর নাম্বার টা তাকে কল্প পাঠিয়েছে। যদিও শুভ্রর নাম্বার থেকে এখন পর্যন্ত তার ফোনে কোনো কল আসিনি। তবে তাকে এখন কলটা করতে হবে। দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে; মেয়েলি ইগো সরিয়ে সে শুভ্রর নাম্বারে ডায়াল করলো। কয়েক সেকেন্ড মধ্যেই কল রিসিভও হলো।

গল্প ফোন কানে নিয়ে চুপচাপ বসে রইলো। এবার কি বলবে সে নিজেই কথা পাচ্ছে না। তবে ওপাশ থেকে শুভ্রর গলার আওয়াজ এলো,

‘মিস তাহিয়াত আপনি কি শুধু নিশ্বাসের শব্দই শুনাবেন? নাকি গলার আওয়াজও শুনাবেন? অবশ্য আমি দুটোই শুনতে পারি; যদি আপনি শুনাতে চান!’

গল্প অবাক হলো ভিষণ। মনে প্রশ্ন এলো, শুভ্র বুঝলো কি করে যে এটা তারই কল ছিল! তবে লোকটা তো বেশ ভালোই ফ্ল্যার্টিং করতে পারে। কেমন করে বলছে! সে এবার গলা ঝেড়ে বলল,

‘আমার আপনার সাথে কিছু দরকারি কথা ছিল।’

‘বলুন শুনছি।’

গল্পর ভীষন অস্বস্তি হচ্ছে কথা গুলো বলতে। কিন্তু এই কথা গুলো বলা প্রয়োজন। খানিকক্ষণ ইতস্তত করে ধরা গলায় বললো,

‘আমাদের বিয়ের তারিখ সামনের শুক্রবারে ঠিক করা হয়েছে। তা নিয়েই বলার ছিল।’

শুভ্র ফোন কানে নিয়ে বারান্দায় আসলো। আকাশের দিকে তাকিয়ে নিরেট গলার বলল,

‘বিয়ের বিষয়ে! শুনছি বলুন। কোনো সমস্যা?’

গল্প এবার আর সময় নেয়নি। জলদিই বলল,

‘আপনার কি মনে হচ্ছে না; আমরা বিয়ের সিদ্ধান্ত টা খুব তাড়াতাড়িই নিয়ে নিচ্ছি? আমাদের কি আরেকটু সময় নিয়ে ভাবা উচিত ছিল না?’

শুভ্র এবার একটু গম্ভীর হলো,

‘মিস তাহিয়াত আপনার কি বিয়েটা নিয়ে অন্য কোনো সমস্যা আছে? অ্যাই মিন অন্য কাউকে লাইক করেন বা ভালোবাসেন এমন টাইপ কিছু? ’

গল্প তাড়াহুড়ো করে বলল,

‘আরে না না। আমার ওমন কোনো বিষয় নেই। আব্বু যে রাগী, যদি তার কানে এসব কথা যায় তবে আমি শ্যা ষ। এই ভয়েই কাউকে আর ভালো লাগেনি।’

শুভ্র যেন স্বস্তির নিশ্বাস ফেলল। তার ঠোঁটে ভাঁজে হাসির রেখা খেলে গেলো; যা গল্পর অজানা।

‘তাহলে আপনার এক্সাক্ট প্রবলেম টা কি? অ্যাই মিন কোন বিষয় টা আপনাকে এতো ওয়ারিড করছে?’

গল্প ইতিউতি করে উড়নার কোন আঙুলে পেঁচাতে পেঁচাতে বলে,

‘যেহেতু আমাদের অ্যারেঞ্জ ম্যারেজ; তাই বলছিলাম… আমাদের কি নিজেদের মধ্যে বোঝাপোড়ার জন্য আরেকটু টাইম নেওয়া উচিত ছিল না?’

শুভ্র বুঝল গল্পর বিয়ে নিয়ে একটা চাপা ভয় কাজ করছে। তবে সে সেসবে না গিয়ে একটু অন্য রকম গলায় বললো,

‘মিস তাহিয়াত, বোঝাপোড়ার জন্য সবচেয়ে ভালো ওয়ে কি জানেন?’

গল্প উৎসুক গলায় জানতে চাইল,
‘কি? বলেন!’

শুভ্র কোমল গলায় বললো,

‘অ্যাই থিঙ্ক, নিজেদের মধ্যে ভালো আন্ডারস্ট্যান্ডিং বা একে-অপরকে জানার সবচেয়ে বেস্ট ওয়ে-ই হচ্ছে ম্যারেজ। তো, আসুন প্রথমে নাহয় বিয়েটা সেরে নেই। ওসব বোঝাপোড়া বা একে-অপরকে জানার জন্য তো গোটা একটা জীবন পড়েই আছে।’

গল্প বিস্ময় নিয়ে শুভ্রর কথা গুলো শুনে গেলো। ভদ্রলোক কতো সহজেই তাকে বিয়ের জন্য এপ্রোচ করার ট্রাই করছে। গল্প তা ভালোই বুঝতে পারলো। তার এসব চিন্তা ভাবনার মধ্যেই আবারও শুভ্রর গলা ভেসে আসলো,

‘তাছাড়া সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখলাম সিঙ্গেল লাইফ নিয়ে আপনার দুঃখের কোনো কমতি নেই। সেই দুঃখ কমানোর জন্য হলেও তো আপনার বিয়েটা দ্রুতই সারা উচিত। ’

গল্প বিস্ময়ে হতবিহ্বল হয়ে বলল,

‘আপনি লুকিয়ে আমার আইডি স্টক করেছেন?’

‘আইডি পাবলিক করা থাকলে তো যেকেউই স্টক করতে পারবে। যাইহোক; আমি কিন্তু আপনার এই সিঙ্গেল লাইফের দুঃখ টা কমাতে হেল্প করতে পারি। কারও দুঃখ আবার আমার সহ্য হয় না!’

শুভ্র আর কিছু বলার আগেই গল্প রাগে-লজ্জায় ফোন কাটলো। সে তো এগুলো ফান ফ্যাক্ট হিসেবে শেয়ার করতো। শুভ্র সেটা বুঝেও যে তার মজা নিলো এটা গল্প বেশ ভালোই বুঝতে পারছে। তবে লোকটার সঙ্গে কথা বলে গল্পর মন্দ লাগেনি। শুভ্রর কথার টোন টা তার ভালোই লেগেছে। কিন্তু বিয়েটা যে হওয়ার সম্ভাবনা নিশ্চিত সেটা সে ভালোই বুঝতে পারলো। শুভ্রর শেষ কথা মনে হতেই তার গাল গুলো গরম হয়ে যাচ্ছে। তবে সেটা রাগে নাকি লজ্জায় তা বুঝা গেলো না।

#চলবে

#লাভ_আফটার_ম্যারেজ
#আনাহিতা_তুলি
#পর্ব_৪

আজ সকাল থেকেই গল্পদের বাসায় কাজের হিড়িক পড়ে গেছে। নিলুফার বিনুকে নিয়ে রাজ্যর কাজ জুড়েছে। আগামীকাল শুক্রবার; গল্প আর শুভ্রর আকদ। আকদ যদিও খুব ছোট পরিসরে একান্ত কাছের আত্মীয়দের উপস্থিতিতে করা হবে; তারপরও কাজের তো আর কমতি নেই। বিয়ে বলে কথা। ঘরবাড়ি ঝাড়- মুছ দিয়ে পরিস্কার করছে বিনু। নিলুফার বাজারে লিস্ট করছে স্বামীর সাথে। এর মধ্যেই বাড়িতে হৈ হৈ করতে করতে প্রবেশ করে গল্পর কাজিন গ্রুপ। এদের মধ্যে থেকে অনু দৌড়ে এসে নিলুফারকে জড়িয়ে ধরে বলে,

‘সারপ্রাইজ ফুপিমনি। কেমন আছো তোমরা? গল্প আপু কোথায়? আর কল্প আপু- দুলাভাই তারা এসেছে?’

একসাথে এতো প্রশ্ন শুনে নিলুফার হেসে ফেললো। অনু এমনই ভীষণ চঞ্চল। পিছন থেকে নিষাদ এসে অনুর মাথায় চাটি দিয়ে বলে,

‘একটু দম নে। ফুপিমণি কোথায়ও পালিয়ে যাচ্ছে না।’

অনু ক্ষেপে গিয়ে ফুপির কাছে আহ্লাদী হয়ে বিচার দিল,

‘দেখেছো ফুপিমণি, নিষাদ ভাই সবসময় আমার সাথে লাগতে আসে। কিছু বলো তো!’

নিষাদ অনুর কথায় তাকে ভেঙিয়ে বলপ,

‘কিছু বলো তো ফুপিমণি! ওলে…লে’

নিষাদ এর ভাবভঙ্গি দেখে পিছনে থাকা মিষ্টি আর বিনু হেসে ফেললো। নিলুফারও হাসি চেপে নিষাদ কে অযথাই পিঠে চাপর দিলেন। বললেন,

‘হয়েছে হয়েছে থাম এবার। তোদের ঝগড়া আর কখনো শেষ হবে না। আমার মিষ্টি মামনি কে আমার কাছে আসতে দে তো এবার।’

বলেই নিলুফার ওদের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা চুপচাপ মিষ্টি দেখতে মিষ্টিকে কোলে তুলে নিলেন। মিষ্টি হচ্ছে অনুর ছোট বোন; বয়স সবে ছয় বছর। অনু আর মিষ্টি হচ্ছে উনার ছোট ভাইয়ের মেয়ে। আর নিষাদ হচ্ছে বড় ভাইয়ের ছেলে। বড় ভাই মোতালেব সাহেবের দু ছেলে; নিরব আর নিষাদ। নিরব পড়াশোনা পড়াশোনা কমপ্লিট করে অস্ট্রেলিয়ায় স্যাটেল হয়েছে। দেশে আসে বছরে একবার। আর নিষাদ এবার অনার্স ফাইনাল ইয়ার। গল্পর কাজিন বলতে শুধু এই মামাদের ছেলে-মেয়েগুলোই। ইমতিয়াজ রহমানের ভাই বোন না থাকায় এদিকের কোনো কাজিন নেই আর তার।
নিলুফার জিজ্ঞেস করলো,

‘ভাইয়া- ভাবিরা আসবে কখন?’

‘তারা তো কাল সকাল সকাল আসবে বলেছে। বাড়ি ফাঁকা তো তাই।’

তাদের কথার মধ্যেই কল্পও বাড়িতে ডুকল। অনু কল্পকে দেখেই জড়িয়ে ধরলো। কল্পও আদুরে ভঙ্গিতে অনুর পিঠে হাত রাখল। নিলুফার মেয়েকে একা আসতে দেখে উদ্বিগ্ন হয়ে প্রশ্ন করল,

‘ও কল্প তুই একা কেনো? জামাই আসেনি?’

কল্প অনুকে ছাড়িয়ে বলতে লাগে,

‘আর বলো না আম্মু; তোমার জামাইয়ের ছুটিটা হতে হতেও হয়নি। আজ ইমার্জেন্সিতে কোনো ডক্টর না থাকায় সেদিক টা সামলানোর দায়িত্ব পড়েছে তার উপর। বলেছে রাতে ম্যানেজ করে আসবে।’

নিলুফার মুখ ভার করে বললো,

‘তোদের ডাক্তারদের ছুটি পেতে এতো ঝামেলা হয় কেন বলত?’

মায়ের অবুঝ কথায় কল্প হেসে ফেললো,

‘কারন ডাক্তারদের কাছে তো সবচেয়ে ইম্পরট্যান্ট একজন রোগীর সুস্থতা, তার লাইফ। তারপর তার ব্যাক্তিগত জীবন। আর তুমি ভেবো না তো; সাজিদ বলেছে রাতে যেভাবেই হোক ম্যানেজ করে আসবে।’

ইমতিয়াজ রহমান এবার নিলুফার উদ্দেশ্য বললেন,

‘হয়েছে, এবার বাকি কথা পরে বলো। এদেরকে ঠান্ডা জুস আর কিছু খেতে দাও; বাহিরে যে গরম।’

নিলুফারও এবার খেয়ালে এলো; বাহিরে প্রচুর রোদ। ছেলেমেয়ে গুলো এতো কষ্ট করে এসেছে; আর তিনি তাদের সাথে শুধু আলাপই করে যাচ্ছে। দ্রুত পা চালিয়ে কিচেনে গেলেন। বাচ্চাদের জন্য জুস আর কিছু নাস্তা আনতে।

_____________________
‘কি বলিস শুভ্র? ফাইনালি তুই বিয়ে করতে যাচ্ছিস! আমার তো বিশ্বাসই হচ্ছে না।’

ফাহিমের কথায় শুভ্র বিরক্তি নিয়ে থাকালো। বলল,

‘তরা এমন রিয়েক্ট দিচ্ছিস যেনো আমি বিয়ে না; পৃথিবীর অষ্টম আশ্চর্য ঘটাতে যাচ্ছি।’

আরাফ কথা টেনে বলল,

‘আরে কথা তো তা না। কথা হচ্ছে, যে ছেলে দুদিন আগেও বিয়ে করা নিয়ে তীব্র নাকচ ছিল; যাকে মেয়ে দেখতে পাঠানোর জন্য আন্টি আমাদের হায়ার করেছিল তকে বুঝাতে। আর সেই শুভ্র কিনা এখন একেবারে আকদের সংবাদ দিচ্ছে আমাদের! হাউ ভাই…হাউ?’

শুভ্র আনমনে হাসলো। খানিকটা রহস্য করে বলল,

‘ অভিসন্ধিত কারও হদিস পেলে তো বিয়ে করে নেওয়াই উচিত। তাছাড়া সিঙ্গেল লাইফ আর কতোদিন? একদিন না একদিন তো বিয়ে করতেই হতো; তাই ভাবলাম এবার নাহয় ফরজ কাজ সেরেই নেই।’

শুভ্রর কথায় একটু রহস্যের গন্ধ। ফাহিম সন্দিহান চোখে চেয়ে বলে,

‘অভিসন্ধিত মানে? এ্যাই শুভ্র মেয়েকে কি তুই আগে থেকেই চিনতিস নাকি? সত্যি করে বল তো!’

শুভ্র চেয়ার ছেড়ে উঠতে উঠতে বলল,

‘হয়তো হ্যাঁ; কিংবা না। কিন্তু সে আমার কাছে ভীষণই অভিসন্ধিত কেউ।’

ফাহিম আরাফ দুজনের কেউই কিছু বুঝল না শুভ্রর এমন হেয়ালি কথা। তাদেরকে এমন ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে থাকতে দেখে শুভ্র হেসে ফেললো,

‘আমাকে নিয়ে রিসার্চ করা থামা এবার। কাল সকাল সকাল চলে আসবি কিন্তু; দ্রুতই বের হতে হবে। মনে থাকে যেনো।’

কথাগুলো বলেই শুভ্র কফিশপ থেকে বেরিয়ে গেলো। পিছনে রেখে গেলো দুটো চিন্তিত মুখমণ্ডল। তারা শুভ্রর কথার মানে পুরোপুরি বুঝতে না পারলেও এটুকু বুঝল— তাদের প্রিয় বন্ধুটি কাউকে মন দিয়েছে। কিন্তু সেই মন এখন নাকি আরও আগেই দিয়েছে তাই বুঝতে পারছে না। শুভ্রটা ভারী ধুরন্ধর। পুরো কথাটা বলেও বলল না!!

__________
গল্প বিরক্তি নিয়ে অনুর কাছে হাত পেতে বসে আছে। হাতে মেহেদী দেওয়ার জন্য সবাই তাকে ঝেকে ধরেছে একেবারে। সবাই বলতে অনু আর কল্প। আর তাদের দেখাদেখি ছোট্ট মিষ্টিও গল্পর হাত ঝাঁকিয়ে বলছিল,

‘ওও গল্পপু গল্পপু মেহেদী দাও না! তুমি দিলে অনু আপু আমাকেও দিয়ে দিবে বলেছে। দাও না প্লিজ।’

ছোট্ট মিষ্টির এমন আদো আদো মিষ্টি কথা শুনে গল্প হেসে ফেলেছিল। অবশেষে সে হার মেনে হাতে মেহেদী দিতে বসলো। অনু দারুণ মেহেদী দিতে পারে। প্রথমে না করলেও এখন মেহেদীর এতো সুন্দর ডিজাইন দেখে তার মন ভালো হয়ে গেছে। তার ভাবনার মাঝেই অনু বলে উঠে,

‘গল্প আপু দুলাভাইয়ের নামটা যেন কি? আমার মনে হচ্ছে না বলো তো!’

গল্প সন্দিহান গলায় বলল,

‘কেনো তার নাম দিয়ে কি হবে?’

‘আরে কি হবে মানে? তোমার হাতে দুলাভাইয়ের নামটা লিখব। এটাতো সব ব্রাইডের হাতেই থাকে।’

গল্প সাফ মানা করে দিল,

‘কোনো নাম-টাম লিখতে হবে না। আর দুলাভাই দুলাভাই করছিস কেনো? আমি কি তাকে বিয়ে করেছি এখনো?’

অনু বোকা বনে গেলো,

‘রাত পোহালেই তো বিয়ে। তখন তো দুলাভাই-ই হবে। আগে থেকে থেকে ডাকলে কি হয়!’

‘যখন হবে তখন ডাকবি। আগে থেকে কেনো ডাকতে হবে! আচ্ছা এখন যা ঘুমা গিয়ে; অনেক রাত হয়েছে। মেহেদী দেয়া তো শেষেই।’

অনু মুখ ভার করে বলল,

‘শেষ আর কোথায় হলো? তুমি তো হাতে দু…মানে ভাইয়ার নামটাই লিখতে দাওনি! ’

গল্প বসা থেকে উঠতে উঠতে বলল,

‘ভাইয়ার নাম লিখতে হবে না। আমার এসব আজগুবি কারবার ভালো লাগে না। এখন যা ঘুমা গিয়ে; আমারও ঘুম পেয়েছে।’

অনু দাঁড়িয়ে বিস্ময় নিয়ে বললো,

‘হাতে হবু বরের নাম লেখা তোমার কাছে আজগুবি কারবার! তুমি তো ভারী আনরোমান্টিক গল্পপু।’

গল্প অবাক চোখে চেয়ে বলল,

‘ কি বললি আমি আনরোমান্টিক! এ্যাই তর বয়স কত রে? রোমান্টিকের কি বুঝিস? দাঁড়া…

অনু তখন এক ছোটে ঘর থেকে বাহির। গল্প তা দেখে হেসে ফেললো। এটুকু মেয়ে সবে কলেজে উঠেছে। আর আজই কিনা রোমান্টিকতা চিনে! বাবা যায়!
গল্প বিছানায় শুলো; কিন্তু কাল তার বিয়ে। কথাটা মনে হতেই যেনো সব ঘুম পালিয়ে যাচ্ছে। অদ্ভুত এক অস্থিরতায় ঘিরে ধরছে তাকে।

_________________
নিষাদ আর অনুরা মিলে ঘরোয়া ভাবেই বেশ চমৎকার নজরকাড়া ডেকোরেট করছে ড্রয়িং রুমটা। নিচে বড়ো নরম গদি বিছানো হয়েছে ফ্লোর জুড়ে। তারউপর আবার সাদা চাদর আর কুশন দেয়া হয়েছে। সবথেকে বেশি যে জিনিসটা নজর কেড়েছে তা হলো; গদির মাঝ বরাবর একটা একটা সাদা ফুলের আস্তরণের মতো পর্দা। বেলি- ফুলের মালায় গাঁথা ফুলের পর্দা; যা সারা ঘরময় সুগন্ধি ছড়াচ্ছে।

শুভ্রকে ফুলের পর্দার একপাশে বসানো হয়েছে। মুরুব্বিরা সবাই যে যার জায়গা মতো গদিতে হাঁটু মুড়ে বসলো। কিছুক্ষণের মধ্যেই গল্পকেও নিয়ে আসা হলো। কল্প অনু এরা সবাই মিলে গল্পকে হাত ধরে নিয়ে এসেছে। শুভ্রর মুখোমুখি অর্থাৎ ফুলের আস্তরণের ওপাশে গল্পকে বসানো হলো। শুভ্র চোখ তুলে চাইলো; ফুলের ফাঁকফোকর দিয়ে দেখা যাচ্ছে তারই নামে বধূ সজ্জিত হওয়া মিষ্টি একটি মেয়েকে। যদিও ফুলের জন্য পুরোপুরি দেখা যাচ্ছে না।

কাজি বিয়ে পড়ানো শুরু করলেন। শুরুতেই কনেকে কবুল বলতে বলা হয়। তাই গল্পকে কবুল বলতে বলা হলো। এদিকে গল্প নার্ভাসনেসের জন্য এসির মধ্যেও ঘামছে খানিকটা। পাশেই কল্পর হাতটা শক্ত করে ধরে নিলো। কল্প গল্পের হাত ধরে আশ্বস্ত করছে। কিন্তু তাতেও যেনো সে স্বাভাবিক হতে পারছে না। ধরা গলায় অস্ফুট স্বরে বললো,

‘আব্বু-আম্মু কোথায়?’

গল্পর কন্ঠ বুজে আসছে। চোখ টলমল করছে। কল্প কিছু বলার আগেই দেখলো তার বাবা-মা দুজনেই এদিকে এগিয়ে আসছে। ইমতিয়াজ রহমান মেয়ের মাথায় চুমু খেলো। বড্ড আদুরে গলায় বলল,

‘এইতো আব্বু, পাশেই আছি। ভয় পাচ্ছো কেন মা? দেখো তোমার আম্মুও তোমার পাশেই। আমরা সবাই এখানে তোমার আপনজন আছি। কবুল বলার মাধ্যমে এখানে উপস্থিত আরও কিছু মানুষ তোমার আপনজন হওয়ার অপেক্ষায়।’

বাবার এমন আদুরে স্বরে গল্পর আরও কান্না পাচ্ছে। এবার নিলুফারও মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে বললো,

‘ভয় নেই মা। এটা একটা পবিত্র হালাল সম্পর্কের শুরু। যারা তোমায় আপন করতে তোমার কাছে এসেছে; কবুল বলে তুমিও তাদের আপন করে নাও।’

বাবা-মায়ের এমন বিশ্বাস আর আদুরে ভালোবাসায় গল্প সিক্ত হলো। চোখ নামিয়ে ধরা গলায় ধীরে ধীরে বলে উঠলো,

‘ আলহামদুলিল্লাহ- কবুল, কবুল, কবুল। ’

কবুল বলার সাথে সাথেই তার চোখ দিয়ে টুপটাপ দুফোঁটা পানি গড়িয়ে পড়লো। ঘরের সবাই আলহামদুলিল্লাহ বলে উঠে। এবার শুভ্রকে কবুল বলতে বলা হলো। শুভ্র ফুলের আড়ালে গুটিশুটি হয়ে বসে থাকা গল্পর দিকে চেয়ে মুগ্ধ গলায় আওড়ালো,

‘ আলহামদুলিল্লাহ কবুল, কবুল, কবুল। ’

ঘরজুড়ে আবারও সবাই এক সমন্বয়ে বলে উঠে আলহামদুলিল্লাহ। গল্পর বুক কাঁপছে। এই মাত্র সে কবুল বলার মাধ্যমে একজনের জীবনের অংশ হয়ে গেলো। কারও জীবনের সাথে তার গোটা একটা জীবন জড়িয়ে গেলো। যে জীবনের সামনে তার জন্য কি আছে তা সে জানে না।

নিষাদ নব বরবধূর মাঝখানে থাকা ফুলের আস্তরণ টা দুভাগে সরিয়ে দিলো। শুভ্র চোখ তুলে চাইলো তার সদ্য বিবাহিতা বধূর দিকে। সঙ্গে সঙ্গেই তার চোখে মুগ্ধতা এসে ভীর করল। একটা অরগাঞ্জা মধ্যে অফ-হোয়াইট এর নান্দনিক শাড়ি। হাতে সাদা রঙের ছোট ছোট টিউব রোজ; তার মধ্য হালকা পিঙ্ক রঙের গোলাপের পাপড়ি ব্যবহার করা দু’হাতে দুটো দারুণ গাজরা। এতো স্নিগ্ধ সাজে কেউ বধূ সাজে বুঝি! শুভ্র হঠাৎ অনুভব করল তার বুকটা ঢিপঢিপ করছে।

শুভ্র আর গল্পকে এবার পাশাপাশি বসানো হলো। অনু কোথ থেকে একটা সুন্দর দেখতে গোল আয়না নিয়ে আসলো। বলল,

‘নতুন বর বউদের আয়নায় মুখ দেখার একটা রিচ্যুয়াল কিন্তু বিয়েতে হয়। এটা কিন্তু করতেই হবে; কেউ মানা করবে না কিন্তু।’

অনুর কথায় কেউ আর কিছু বলেনি। বাচ্চা মানুষ একটু মজা করতে চাইছে করুক। কিন্তু গল্প পারছেনা অনুকে ধরে দুটো থাপ্পড় লাগাতে শুধু। তার এমনেতেই লজ্জায় অস্বস্তি লাগছে। আর এদিকে এই মেয়ে কোথা থেকে কোন রিচ্যুয়াল নিয়ে আসলো! সবাই আবার সায়ও দিচ্ছে। অদ্ভুত! শুভ্র গল্পর অভিব্যক্তি কিছুটা আন্দাজ করে। কিন্তু সে এটাতে বেশ ভালোই মজা পাচ্ছে। এবার আয়নায় তার নববধূর লজ্জা মাখা মুখটি দেখার অপেক্ষা।।

#চলবে

গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ