Saturday, June 6, 2026







বাড়ি"ধারাবাহিক গল্প"লাভ আফটার ম্যারেজলাভ আফটার ম্যারেজ পর্ব-৩৫ এবং শেষ পর্ব

লাভ আফটার ম্যারেজ পর্ব-৩৫ এবং শেষ পর্ব

#লাভ_আফটার_ম্যারেজ
#আনাহিতা_তুলি
#শেষ_পর্ব

গল্প অফিস থেকে যখন বের হবে তখনই বাড়ি থেকে ফোন এলো। রিসিভ করে কানে নিতেই ওপাশ থেকে ভেসে আসলো আধো আধো মিষ্টি একটা ডাক।

‘আম্মু!’

সারাদিনের সমস্ত ক্লান্তি যেনো একমুহূর্তের জন্য ছুটে পালালো ওই মিষ্টি আওয়াজে। গল্প এক গাল হেসে বলল,

‘হ্য আম্মু বলো আমি শুনছি।’

‘তুমি আতো!’

গল্প আবারও হাসলো। বলল,
‘এইতো আমি আসছি আম্মু। ততক্ষণে তুমি গুড গার্ল হয়ে থাকো আর দাদুমনিকে একদম জ্বালাতন করবে না, ওকে!’

ওপাশ থেকে বিজ্ঞদের মতো উত্তর এলো,
‘ওকে।’

গল্প ফোন রাখতেই তুশি পাশ থেকে আফসোসের স্বরে বললো,

‘তর মেয়েটা কি মিষ্টি রে। ইশ যদি আগে আমি বিয়ে করতাম তাহলে আমি তর মেয়েকেই আমার ছেলের বউ করে নিতাম।’

গল্প হেসে বললো,

‘আর দেখ, সেখানে তুই এখনো নিজেই বিয়ে করিস নি! আবার স্বপ্ন দেখছিস আমার মেয়েকে পুত্রবধূ করার।’

তুশি ভাবুক হয়ে বলল,
‘আসলেই তো! তবে এবার তো আমি বিয়ে করছিই। তারপর নাহয় আমাদের বেয়াই বেয়াইন এর রিস্তা পাক্কা, ওকে!’

গল্প হাসল আবারও। তারপর তুশিকে তাড়া দিয়ে বলল,

‘ওকে, ওকে। এবার বের হতে হবে মেয়ে অপেক্ষা করছে।’

গল্প আর তুশি দুজনেই আরও নানান গল্প করতে করতে বের হলো অফিস থেকে। গল্প একটা ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিতে জব করছে এইতো ছ’মাস হবে; আর তুশি তারও আগে থেকে এইখানে জব করে। ভাগ্যক্রমে দুজনেরই একই কোম্পানিতে জব হয়ে যায়।

____________________
‘মা তুমি ঘরে যাও এবার রেস্ট নাও। আমি বাকিটা নিজেই করে নিচ্ছি।’

‘তুই একা পারবি! এতোগুলা কাজ, আমি একটু হেল্প করি।’

‘আমি পারব তুমি যাও।’

গল্প জাহানারাকে একপ্রকার জোর করে ঘরে পাঠিয়ে দিলো। আজ ছুটির দিন থাকায় সে সারাদিন বাড়িতেই ছিলো। জাহানারাকে ঘরে পাঠিয়ে কোমরে আঁচল গুঁজে সে রান্না ঘরের কাজ সব একাই পাঁকা গিন্নীর মতো করতে লাগলো।

___
‘বাবা কোতায় আম্মু?’

গল্প অসহায় চোখে তার মেয়েকে দেখে। এই মেয়ে এতো বাবা পাগল হলো কিকরে সে সেটাই বুঝে পায় না। এই নিয়ে সন্ধ্যা থেকে হাজারবার জিজ্ঞেস করে ফেলেছে বাবার কথা। সুপ্রভা টলমল চোখে আবারও বলে,

‘আমি বাবা যাবো।’

গল্প মেয়েকে আদর করতে করতে বলে,

‘বাবা তো অফিসে আম্মু। একটু পরেই চলে আসবে তুমি তার আগে খাবারটা খেয়ে নাও আম্মু।’

সুপ্রভা মায়ের সান্ত্বনা বুলির ধার ধারল না সেই আবারও একরোখা গলায় বললো,

‘বাবা যাবো!’

কথাটা গলা দিয়ে বের হতে হতেই চোখ দিয়েও ঝরঝর করে পানি বের হয়ে এলো। ধীরে ধীরে কান্নার বেগও বৃদ্ধি পেলো। গল্প মন চাইছে মেয়েকে দুটো থাপ্পড় দিতে –এতো কেনো জেদ এই মেয়ের! অবশ্য জেদ হবেই না কেনো বাড়ির সকলেই তো তাকে এতো আহ্লাদ দেয় যে আহ্লাদে আহ্লাদে পুরো জেদি হয়েছে একেবারে। গল্প সুপ্রভার ভেজা চোখ দুটো মুছে দিয়ে বলল,

‘আম্মু তুমি কি এখন আমার থেকে মার খেতে চাচ্ছো?’

সুপ্রভা ঠোঁট ফুলিয়ে মাথা নাড়ায় –সে মার খেতে চায় না। গল্পর হাসি পেলো এটা দেখে তবে তা চেপে বলল,

‘তাহলে কান্না বন্ধ কর আম্মু। তুমি তো বাবার প্রিন্সেস –প্রিন্সেসরা তো এভাবে কান্না করে না মা।’

সুপ্রভা গম্ভীর ভাবে মাথা নাড়ায়। গল্প মেয়ের কপালে চুমু খেয়ে তাকে বুকে জড়িয়ে নেয়। আর ঠিক তখুনি শুভ্র ঘরে ডুকে। দরজায় আওয়াজ শুনে সুপ্রভা ছট করে মায়ের কাঁধ থেকে মাথা উঠিয়ে নিলো; সামনে বাবা কে দেখেই খুশিতে ঝুমঝুম করে উঠলো।

‘বাবা… বাবা কোলে।’

দুহাত প্রসারিত করে দিয়ে বাবাকে ডাকল সে –শুভ্র তার হাতে থাকা ব্যাগ আর ফুল গুলো টেবিলের উপর রেখে মেয়েকে কোলে নিলো। তুলোর মতো নরম ছোট্ট পুতুলটা কে কোলে নিতেই এক লহমায় শুভ্রর সারাদিনের ক্লান্তি আর ক্লেশের অবসান ঘটলো। শরীর মন জুড়িয়ে গেল অদ্ভুত এক প্রশান্তিতে। সুপ্রভা বাবার কাঁধে আরাম করে মাথা হেলিয়ে দিল শুভ্র তার মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে আদুরে গলায় বলল,

‘আমার প্রিন্সেস কি খেয়েছে?’

সুপ্রভা কিছু না বলে ওভাবেই মাথা হেলিয়ে রাখল। গল্প রাগী গলায় বলল,

‘আপনার মেয়ে দিন দিনকে দিন পাঁজি হচ্ছে। কখন থেকে ওর সামনে খাবার নিয়ে বসে আছি আর সে কিনা জেদ ধরেছে বাবা না এলে খাবে না! এদিকে বিকেলে করেছে আরেক কান্ড –বারান্দায় ফুলের টব থেকে মাটি কুঁড়ে সারা শরীর মাটিতে মাখামাখি করে ফেলেছে। তারপর যখন জিজ্ঞেস করলাম এসব কেনো করেছ তখন আপনার আদরের দুলালি বলে –সে নাকি টব গাছ উপরে গাছের কেয়ার করছিল। তারপর সন্ধ্যায় আমি যখন ওয়াশরুমে গেলাম এসে দেখি উনি লোশন আর ক্রিম দিয়ে পুরো মেঝে মাখিয়ে ফেলেছে। মানে চোখের একটু আড়াল হলেই উনি কিছু না কিছু একটা অঘটন ঘটাবেই! দুপুরে আবার তার দাদার চশমা টা নিচে ফেলে ভেঙে দিয়েছে। আমি আর পারছি না ওকে নিয়ে। আপনি আপনার মেয়েকে নিয়ে কাল থেকে অফিসে সঙ্গে নিয়ে যাবেন তারপর দুই বাপ-বেটি মিলে যা খুশি তাই করুন।’

শুভ্র মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে আদর করে জিজ্ঞেস করলো,

‘মা, তোমার আম্মু এসব কি বলছে হু? তুমি না আমার প্রিন্সেস! তাহলে দুষ্টুমি করে মা’কে কষ্ট কেনো দাও আম্মু!’

সুপ্রভা অবুঝের মতো মাথা নাড়িয়ে ঠোঁট উল্টে নিজের পক্ষে সাফাই দিল,

‘আমি দুত্তমি করি না তো।’

‘তাহলে কি মা মিথ্যা বলছে?’

সুপ্রভা আবারও মাথা নাড়িয়ে না বুঝালো –মা মিথ্যা বলছে না।
‘তোমার আম্মুও মিথ্যা বলছে না আর এদিকে তুমিও সত্যি বলছ, তাহলে দুষ্টুমিটা করলো কে?’

শুভ্র ঠোঁট চেপে ভাবুক হয়ে মেয়েকে জিজ্ঞেস করলো। সুপ্রভা ইনোসেন্ট ফেস করে বলল,

‘জানি না।’

তারপর হুট করে তার চোখ গেলো টেবিলের উপর রাখা প্যাকেটে মোড়ানো পুতুলের দিকে। ওমনি তার চোখ চকচক করে উঠলো।

‘বাবা বাবা পুতুল। আমাল জন্য পুতুল এয়েছো।’

শুভ্র হেসে হাত বাড়িয়ে টেবিলের উপর থাকা প্যাকেট থেকে একটা সুন্দর দেখতে তুলতুলে পুতুল বের করে মেয়ের হাতে দিলো। সুপ্রভা বাবার থেকে উপহার পেয়ে বাবার গালে টুপটাপ কিছু চুমু দিলো।
গল্প তীক্ষ্ণ চোখে চেয়ে বললো,

‘আপনি আবারও মেয়ের জন্য পুতুল এনেছেন! এমনেতেই তো সারা ঘর তার খেলনা দিয়ে ভরপুর।
আর এতো যে আদর করেন –উনি তো কথাই শুনে না। এখনো কিছু খায়নি এবার মেয়েকে খাওয়ান।’

শুভ্র মেয়ের নরম গালে চুমু দিয়ে বলল,

‘বাবা এখন খাবে, ঠিকাছে? আমি নিজেই খাইয়ে দিব প্রিন্সেসকে, ওকে মা!’

সুপ্রভা বাধ্য মেয়ের মতো মাথা দুলিয়ে সম্মতি জানাল। শুভ্র সোফায় বসে মেয়েকে একটু একটু করে খাইয়ে দিতে লাগল। সুপ্রভাও কোনো ইতিউতি না করে চুপচাপ খেয়ে নিলো।
গল্প তা দেখে বিস্ময়ে বাকহারা –কই সে যে এতোক্ষণ ধরে খাওয়ানোর চেষ্টা করছে তখন তো খেলো না। আর এখন তার বাবা মুখে দিতেই কোনো টালবাহানা না করেই খেয়ে নিচ্ছে! একেই বলে বাপকা বেটি –বাপ যেমন ধুরন্ধর মেয়েও তেমন ধুরন্ধর। গল্প নিচে চলে গেলো তার আরও কাজ আছে।

‘বাবা ফুল!’

সুপ্রভা খেতে খেতে বলল। শুভ্রও মেয়ের কথায় সম্মতি জানিয়ে বলল,

‘হ্য মা ফুল।’

‘আমাল?’

শুভ্র মেয়ের মুখ টিস্যু দিয়ে মুছে দিতে দিতে বলল,
‘না মা, এইগুলো তোমার আম্মুর জন্য।’

‘আম্মুল জন্য!’

শুভ্র খাবারের প্লেট টা টেবিলে রাখতে রাখতে বলল,

‘হ্য মা, তোমার আম্মুর জন্য। তোমার আম্মু তো আমাকে একটা কোমল মিষ্টি ফুল গিফট করেছে। তোমার আম্মু একটা কুইন তাই তাকেও তো কুইন ট্রিটমেন্ট করতে হবে। তুমি জানো, এই ফুলগুলো তোমার আম্মুর অনেক পছন্দের তাই তো বাবা রোজ নিয়ে আসে।’

সুপ্রভা চোখ বড় বড় করে বলে,
‘লোজ নিয়ে আতো?’

মেয়ের কথা শুনে শুভ্র হেসে ফেললো; এমন একটা মিষ্টি মেয়ে তাকে উপহার দেওয়ার জন্য সে সবসময়ই গল্পর কাছে কৃতজ্ঞ। ছোট্ট সুপ্রভা আর গল্প তার স্বত্বার সাথে এমন ভাবে জড়িয়ে আছে যে এখান থেকে একজন দূরে গেলে তার মৃত্যু অবধারিত মনে হয়। মেয়েকে বুকের সাথে মিশিয়ে বলল,

‘হ্য মা, রোজ নিয়ে আসি। চলো এবার গুড গার্লের মতো ঘুমিয়ে পড়ো।’

___________________________
তখন সুনশান নিশীথ। শহর প্রায় অধিকাংশই ঘুমন্ত। গল্প ধীরে ধীরে মেয়ের থেকে হাত ছাড়িয়ে বারান্দায় গেলো। মেয়েকে ঘুম পারিয়ে; শুভ্র তখন স্টাডি রুমে কিসব বিল্ডিংয়ের ডিজাইন আঁকায় মত্ত –মেয়ে ঘুমানোর পর সেও চুপিচুপি নিজের অসম্পূর্ণ কাজ সম্পূর্ণ করতে গেছে এইতো ঘন্টাখানিক হবে! হালকা মৃদু মৃদু বাতাসে খোলা চুলগুলো অল্পবিস্তর উড়ছে; পাশের টেবিলে পড়ে থাকা নিশিগন্ধার থেকে মিষ্টি ঘ্রাণ ভেসে আসছে। হঠাৎ করেই পাশে কারও উপস্থিতি টের পেয়ে থাকাতেই দেখে দু-মগ গরম ধোঁয়া উঠা কফি নিয়ে শুভ্র তার কাছ ঘেঁষে দাঁড়িয়ে।
গল্প তাকাতেই শুভ্র মুচকি হেসে তার দিকে একটা কফির মগ বাড়িয়ে দিলো। গল্প তা নিতে নিতে জানতে চাইল,

‘কাজ শেষ?’

শুভ্র এক চুমুক কফি মুখে নিতে নিতে জবাব দিলো,

‘না, কিছুটা বাকি। হঠাৎই মনে হলো বেশ কিছুদিনের ব্যাস্ততায় আমাদের মধ্যেরাতের কফির আড্ডাটা ঠিক হয়ে উঠছে না। তাই সব কাজ ফেলে চলে এলাম মনের খোঁড়াক মিটাতে।’

গল্প চমৎকার হাসল। বলল,

‘আচ্ছা, তবে বসুন এখানে। বসেই নাহয় বাকি কথা সারি।’

শুভ্র আর গল্প পাশাপাশি দুটো বেতের চেয়ারে বসলো। গল্প হুট করেই বলল,

‘আজকে মা বলছিল আপনি নাকি বেশ ভালো কবিতা আবৃত্তি পারেন! কই, আমাকে তো কখনো শুনান নি!’

‘খুব ভালো কিনা জানি না; তবে আগে একটু আধটু করতাম –এইযা!’

গল্প আগ্রহ নিয়ে বললো,

‘শুনি তবে…’

শুভ্র আরেক চুমুক কফি গিলে গল্পর চোখে চোখ রাখল; খানিক পরই ভেসে এলো তার হাস্কি গলার স্বর,

ধরো; একটা পূর্ণিমা রাত
জনশূন্য কোলাহল কেবল তুমি আর আমি
চাঁদ তাঁরা ভরা মনোমুগ্ধকর বিশালতার আকাশ
চারিদিকে দারুণ আলো, সাথে ঝিঁঝি পোকার ডাক

ধরো; দুইটা কেদারা সাথে দুইটা কফির মগ
মৃদু মৃদু বাতাস, সাথে তোমার ঠোঁটে গানের আবাশ
দুজনের মুখোমুখি জোনাকিপোকার বসবাস
তুমি ধরতে চাইছ গান আর
আমি জন্ম দিতে চাইছি শব্দ দিয়ে কবিতার প্রাণ

ধরো; দেখছি দূর আকাশ হাতে রেখে হাত
সাথে তোমার মুখে ছন্দ বিলাস
সীমাহীন খুনসুটি যেনো ভালোবাসা পায় প্রাণ
কে হবে তাঁরা, কে হবে চাঁদ
এই নিয়ে দুজনের মধ্যে তুমুল অভিমান

ধরো; দেখলে তোমার রাগান্বিত গোমরা মুখ
যেনো এখনো কাটেনি অমাবস্যার ঘোর
তোমার এক জ্বলক হাসি
যেনো আকাশে লেপ্টে থাকা চাঁদের খনি

ধরো; তুমি অকপটে বলে দিলে ভালোবাসি
আচ্ছা, তখন কি চুমু আবশ্যক?
( সংগৃহীত)
গল্প মুগ্ধ চোখে নির্নিমেষ তাকিয়ে রইল শুভ্রর দিকে। তারপর অকপটে বলে উঠলো,

‘ভালোবাসি, ভালোবাসি, ভালোবাসি। ভীষণ ভীষণ ভালোবাসি।’

শুভ্র কিছুটা বিস্ময় নিয়ে তাকিয়ে রইলো গল্পর দিকে। আজকের আগে গল্প কখনো নিজে মুখ ফুটে এভাবে সরাসরি তাকে ভালোবাসার কথা বলেনি তাও আবার এতোটা আবেগি হয়ে। এই প্রথম গল্পর থেকে শুনে হয়তো তার ভীষণই অবাক লাগছে অথবা আনন্দ হচ্ছে কিন্তু সেটা তার মুখ দেখে বুঝা গেলো না। গল্প তার বিস্ময় আরেকটু বাড়াতে তার গালে টুপ করে একটা চুমু খেয়ে বলল,

‘আর হ্য এটা আবশ্যক ছিলো। আমাকে প্রতি মুহুর্তে স্পেশাল ফিল করানোর জন্য এটা আবশ্যক ছিল। এতোটা ভালোবেসে আমার জীবনটা ফুল ফুল করে তুলার জন্য এটা আবশ্যক ছিল। সবশেষে আমি আপনাকে ভালোবাসি তার জন্যও এটা আবশ্যক ছিল।’

শুভ্র মুগ্ধ হয়ে শুনে গেলো গল্পর কথাগুলো। তার বুকটা অদ্ভুত শীতলতায় ভরে উঠছে। গল্প তার কাছে হ্যাপি হাজব্যান্ড হিসেবে তার স্ত্রীর থেকে এটা শুনা তার জন্য বিশাল এক প্রাপ্তি। গল্প শুভ্রর বুকে মাথা গুঁজল। তাদের খোলা বারান্দাটায় আধ রেলিঙের জড়িয়ে থাকা বাগানবিলাস গুলো তখন জোস্নায় জ্বলজ্বল করছিল। সঙ্গে মৃদুমন্দ বাতাস, নাকে ঠেকছে নিশিগন্ধার মিষ্টি ঘ্রাণ। শুভ্র গল্পকে নিজের সাথে আরও খানিকটা শক্ত করে জড়িয়ে হালকা হাসল। মাথায় টুপটাপ কয়েকটা চুমু দিয়ে গাঢ় গলায় বলল,

‘ধন্যবাদ আমার সন্তানের মা হওয়ার জন্য –একটা আদুরে পুতুল উপহার দেওয়ার জন্য; যার বাবা ডাকে আমার হৃদয়ে শত বর্ষন নামে। কৃতজ্ঞ আমি, আমাকে এতোটা বুঝার জন্য, আমার ব্যাক্তিগত নিশিগন্ধা হয়ে আমার গোটা জীবনটা ফুলেল করার জন্য। ভালোবাসি কথাটা বোধ করি বলার আর প্রয়োজন রাখে না, তবুও বলছি ভালোবাসি ভীষণ।’

তাদের টুকটাক খুচরো কথাবার্তা চলতে থাকল বেশ রাত অব্ধি। যার সাক্ষী রয়ে গেল আকাশের ওই নির্জন চাঁদ, সামনে থাকা খালি কফির মগ আর তাদের বারান্দায় আধ রেলিঙে জড়িয়ে থাকা বাগানবিলাস।

#সমাপ্ত।

পূর্ববর্তী নিবন্ধ
পরবর্তী নিবন্ধ
গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ