Saturday, June 6, 2026







বাড়ি"ধারাবাহিক গল্প"লাভ আফটার ম্যারেজলাভ আফটার ম্যারেজ পর্ব-৩৩+৩৪

লাভ আফটার ম্যারেজ পর্ব-৩৩+৩৪

#লাভ_আফটার_ম্যারেজ
#আনাহিতা_তুলি
#পর্ব_৩৩

গল্পর জ্ঞান ফিরেছে ঠিক চারদিনের মাথায়। শুভ্র তখন তার কেবিনের বাহিরে নিশ্চুপ মনে অপেক্ষার প্রহর গুনছিল আর ঠিক তখুনি ভিতর থেকে একজন নার্স এসে জানাল,

‘স্যার, আপনার ওয়াইফের জ্ঞান ফিরেছে। আপনারা দেখা করতে পারেন। তবে এখন যেকোনো একজনই দেখা করতে পারবেন।’

শুভ্র এবং বাকি সবাই তড়াক করে দাঁড়িয়ে গেলো। অবিশ্বাস্য কন্ঠে বলল,

‘কি! তাহিয়াতের জ্ঞান ফিরেছে সত্যিই?’

হসপিটালের নার্স এবং ডাক্তারদের সামনে থাকা লোকটিকে তাদের ভালো করে চেনা হয়ে গেছে– শেহজাদ আহমেদ শুভ্র। গত তিনদিন ধরে লোকটি যেনো হসপিটালেই বাসা বেঁধেছে –ভদ্রলোককে এখানে তার ওয়াইফের কেবিনের সামনেই সারাক্ষণ অস্থির চিত্তে পায়চারী করেছে তো আবার কখনো একটু পরপরই ডক্টর- নার্স তাদের জিজ্ঞেস করেছে “আমার ওয়াইফের জ্ঞান কখন ফিরবে? তার কন্ডিশন এখন কেমন?” এই এক প্রশ্ন তারা দিনে কতবার যে শুনেছে তার কোনো ইয়ত্তা নেই। মাঝেমধ্যে তারা শুভ্রর টানা এক প্রশ্নে বিরক্ত হলেও পরক্ষণই তারা মুগ্ধও হতো নিজের স্ত্রীর প্রতি তার ভালোবাসা দেখে।

‘হ্যাঁ শুভ্র। অবশেষে আমাদের সমস্ত দুশ্চিন্তার অবসান ঘটিয়ে তোমার বউয়ের জ্ঞান ফিরেছে।’

পিছন থেকে কল্প হাসি মুখে শুভ্রকে বলে উঠলো। বোনের এমন অবস্থার কথা শুনে সেও সেদিনই ছুটে এসেছিল; যদিও সে এই হসপিটালে জব করে না তবুও এ্যাজ এ্যা ডক্টর হিসেবে সে এখানেই অবস্থান করছে বোনের জন্য। নিলুফার আর জাহানারা দুজনেই আল্লাহ তায়ালা শুকরিয়া আদায় করতে করতে চোখ দিয়ে পানি ছেড়ে দিলেন।

শুভ্র এবার আর কোনো এদিক-সেদিক না তাকিয়ে পাগলের মতো ছুটলো।
গল্প চোখ বন্ধ করে আধ- শুয়াছিল হঠাৎ করে দরজা খুলার শব্দ শুনে সামনে তাকাতেই দেখে শুভ্র। সে এক মুহুর্তের জন্য থমকে যায়। এটা কি সেই শুভ্র যাকে সে চিনত! শুভ্রকে ভীষণ উষ্কখুষ্ক দেখাচ্ছিল দেখে তো মনে হচ্ছে ওজনও কিছুটা হয়তো কমেছেই; কিন্তু তবুও সে বরাবরের মতো মুগ্ধ হলো সামনে থাকা পুরুষটিকে দেখে। তার আর কিছু ভাবার বা পর্যবেক্ষণ করার আগেই শুভ্র তড়িৎ এগিয়ে এসে তাকে নিজের বুকের সাথে মিশিয়ে নিলো।

শুভ্র এতোটা জুড়েই তাকে জড়িয়ে ধরেছে মনে হচ্ছে সে একপ্রকার তার বুকে পিষে যাচ্ছে। গল্প শুভ্রর পিঠে হাত রেখে বলল,

‘আমাকে কি আজ পিষে ফেলার পায়তারা করা হচ্ছে নাকি? মনে হচ্ছে তো পিষে যাচ্ছি।’

কথা গুলো বলে গল্প আলতো হাসলো কিন্তু শুভ্রর কোনো নড়চড় লক্ষ্য করা গেলো না; সে আগের মতোই তাকে শক্ত বাহুবন্ধনে আবদ্ধ করে রেখেছে। গল্প হঠাৎই উপলব্ধি করলো তার কাঁধে উষ্ণ কোনো তরল পদার্থ গড়িয়ে পড়ছে টুপটাপ। গল্প বিস্ময়ে হতবিহ্বল হয়ে গেলো।

‘শুভ্র! আপনি কাঁদছেন!?’

শুভ্র নড়ল না জায়গা থেকে কিন্তু তার শরীর মৃদু মৃদু কাঁপছিল হয়তো সেটা কান্নার প্রতিফলনই ছিলো। গল্পর কাঁধ ভিজে যাচ্ছে গরম উষ্ণতায়; সে হতবিহ্বল হয়ে রইলো কিছু পল। শুভ্রর পিঠে আলতো করে হাত বুলিয়ে নরম স্বরে বলল,

‘আপনি তো বাচ্চাদের মতো করছেন এবার মশাই। মাথা তুলুন তো একটু দেখি আপনাকে! আপনার অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে কতোদিন আমাদের দেখা হয়নি!’

গল্পর গলার আওয়াজে শুভ্রর হৃদয় শীতল হচ্ছিল। এতোদিন সে যে উত্তপ্ত অবস্থায় তৃষ্ণায় কাতরাচ্ছিল তা থেকে যেনো একটু একটু করে মুক্তি মেলছে এবার। গল্পর হাত দুটো নিজের মুঠোয় নিয়ে চুমু খেলো অগুনিত।

‘এইট্টি-টু আওয়ারস তাহিয়াত! তিনদিনেরও অধিক সময়। কতগুলো ঘন্টা, কতগুলো সেকেন্ড আর কতগুলো মুহুর্ত হয় বলতে পারো? পারবে কি করে –তুমি তো তখন সবাইকে দুশ্চিন্তায় রেখে নিজে শান্তিতে ঘুমিয়ে ছিলে। ডু ইউ নো তাহিয়াত – গত বিরাশি ঘন্টা আমার কাছে এক একটা মুহূর্ত কতোটা পেইনফুল ছিলো! মনে হচ্ছিল আমি কোনো উত্তপ্ত মরুভূমি পাড়ি দিচ্ছি একটু ছায়ার আশায়; একটু শীতলতার আশায়। কিন্তু আমাকে সেই ছায়া দানকারী কিংবা যার একটু স্পর্শে, একটু উষ্ণ আলিঙ্গনে আমি এক টুকরো প্রশান্তি পেতে পারতাম সেই নিষ্ঠুর রমনীটি তো তখন দিন-দুনিয়ার হুঁশ খুইয়ে আরামসে ঘুমিয়ে; সে তো গভীর ঘুমে তলিয়ে ছিলো। এই প্রথম তোমাকে আমার নিষ্ঠুর মনে হলো তাহিয়াত, বড্ড নিষ্ঠুর!’

শুভ্র এবার মাথা তুললো। গল্প অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলো,

‘কিহ! আমি তিনদিনেরও বেশি সময় অচেতন ছিলাম?’

শুভ্র গল্পর চোখের পাপড়িতে আলতো করে চুমু খেলো। বলল,

‘জ্বি। আমাদের সবার ঘুম হারাম করে দিয়ে আপনি গত তিনদিন নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে ছিলেন। এতো ঘুমাতে তোমার কি ক্লান্ত লাগে নি? আমাকে তো ভয়ংকর ক্লান্তি আর যন্ত্রণা এসে হানা দিয়েছিল তোমাকে এতো ঘুমোতে দেখে।’

গল্প যেনো কোনো অলীক কথা শুনছে। সে গত তিনদিন ধরে অচেতন ছিলো! কই তার তো কিছুই মনে পড়ছে না। হুট করেই তার একটা হাত অবচেতন মনেই তার পেটের উপর চলে যায়; এবং চমকে উঠে। তার ধীরে ধীরে ওইদিনের রিক্সার এক্সিডেন্টের কথা মনে হতে থাকলো। নিশ্বাস আটকে জিজ্ঞেস করলো,

‘শুভ্র, শুভ্র আমার বেবি? আমার বেবির কি হয়েছে? ও ঠিক আছে তো?’

গল্পর হঠাৎ এমন প্রশ্নে শুভ্র তার দিকে চেয়ে রইলো কিছুক্ষণ। গল্পর যেনো শুভ্রর ওই নিশ্চুপ তাকিয়ে থাকা সহ্য হলো না। আবারও অস্থির হয়ে জিজ্ঞেস করলো,

‘আপনি কথা বলছেন না কেনো? আমার বেবি কোথায় শুভ্র বলুন প্লিজ! ও…ওর কিছু হলে আমি মরে যাবো শুভ্র!’

গল্প ক্রমশ অস্থির হয়ে উঠছে। শুভ্র এই পর্যায়ে তার মাথাটা ফের তার বুকে চাপলো। মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে নরম স্বরে বললো,

‘শান্ত হও তাহিয়াত, শান্ত হও। তুমি এখনো পুরোপুরি সুস্থ হওনি এভাবে রিয়েক্ট করলে শরীর খারাপ বাড়বে।’

গল্প যেনো কোনোকিছু শুনতে কিংবা মানতেই প্রস্তুত নয়। সে শুভ্রকে দূর টেলে দেওয়ার চেষ্টা করতে করতে কান্না জড়ানো গলায় বললো,

‘আমাদের বেবিটা ঠিক আছে তো শুভ্র! ও কোথায় আমাকে বলুন প্লিজ আমার এবার দম বন্ধ লাগছে।’

‘শশশ…. আমাদের বেবি একদম ঠিক আছে তাহিয়াত। আল্লাহর রহমতে ওর কিছুই হয়নি।’

গল্প যেনো এবার হুট করেই একদম শান্ত হয়ে গেলো। কিছুক্ষণ আগে তার নিশ্বাসই যেনো আটকে আসছিল কিন্তু এখন….এখন তার শ্বাস প্রশ্বাসের গতি যেনো আবারও স্বাভাবিক হয়েছে। শুভ্র গল্পর মাথায় চুমু খেয়ে বলল,

‘তুমি জানো তাহিয়াত –আমাদের একটা মেয়ে হয়েছে। একদম পুতুল পুতুল দেখতে অবিকল তোমার মতোই।’

গল্প এবার শুভ্রর বুক থেকে মাথা উঠিয়ে আকুল চোখে চেয়ে বলল,

‘ও-কে প্লিজ আমার কাছে নিয়ে আসুন। আমি দেখতে চাই; নিয়ে আসুন প্লিজ।’

শুভ্র চিন্তিত হয়ে বলল,

‘কিন্তু ডক্টর যে বলেছে বেবিকে এখনই তোমার কাছে আনা যাবে না, তোমাকে আরেকটু সুস্থ হতে হবে।’

গল্প কোনো বিধিনিষেধ মানতে প্রস্তুত নয়। সে একরোখা গলায় বললো,

‘আমি ওসব কথা এখন মোটেই শুনতে চাই না। সন্তানকে তার মার কাছে দেওয়া যাবে না এটা আবার কেমন কথা! আপনি ওকে আনলে ভালো নয়তো আমি নিজেই ওর কাছে যাচ্ছি।’

গল্প কথাগুলো বলেই বেড থেকে উঠতে চাইলো। শুভ্র তড়িঘড়ি করে তাকে আটকে বলল,

‘আরে আরে কি করছো? তোমার সম্পূর্ণ বেড রেস্ট এখন। কোথাও যাবে না আমিই নিয়ে আসছি।ওয়েট করো।’

শুভ্র গল্পর গায়ে চাদর টা উঠিয়ে দিয়ে কেবিন থেকে বের হলো। কিছুক্ষণ পর যখন ফিরল তখন তার কোলে সাদা তোয়ালে তে মোড়ানো তুলোর মতো দেখতে একটা পুতুল ছিল –যে কিনা তখন তার বাবার দিকে ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে আলতো করে হাত নাড়াচ্ছিল।

গল্প চাতক পাখির ন্যায় শুভ্রর কোলে থাকা ওই ছোট্ট প্রাণ টির দিকে তাকিয়ে ছিলো যে কিনা এতো গুলো মাস তার পেটেই বেড়ে উঠেছিল। শুভ্র বেডের কাছে যেতেই গল্প হাত বাড়িয়ে অস্থির কন্ঠে বলল,

‘ওকে আমার কোলে দিন শুভ্র।’

শুভ্র খুব সাবধানে গল্পর কোলে দিলো ছোট্ট পুতুলটাকে। গল্প ওকে কোলে নিয়েই কেন জনি ঝরঝর করে কেঁদে দিলো –চুমুতে চুমুতে ভরিয়ে দিলো তুলোর মতো শরীরটা কে। শুভ্রর দিকে এক জোড়া খুশিতে টলমল করা চোখ নিয়ে তাকিয়ে বলল,

‘এটা আমার বেবি শুভ্র, আমার। এই ছোট্ট প্রাণ টা এতোদিন আমার ভিতরই বেড়ে উঠছিল –কি আশ্চর্য!’

শুভ্র তাকে একটু শুধরে দিয়ে বলল,

‘উহুম… ও আপনার একার বেবি কে বলল! ও তোমার আর আমার বেবি দ্যাট মিনস আমাদের। মনে থাকে যেনো।’

গল্প হেসে মাথা নাড়িয়ে সম্মতি জানিয়ে বলল,

‘হ্যাঁ হ্যাঁ খুব মনে থাকবে। ও আমার আর আপনার বেবি –আমাদের দুজনের বেবি।’

শুভ্র হাসলো। গল্প হুট করেই বলল,

‘ওর নাম কি রেখেছেন? প্রায় চারদিন তো হতে চলল।’

‘আমরা তো ঠিক করেছিলাম দুজনে একসঙ্গে ওর নাম ঠিক করবো। কিন্তু তুমি তো সেই অবস্থাতেই ছিলে না, তাই এটা নিয়ে আমি তখন ভাবিনি।’

গল্পর চোয়াল ঝুলে পড়লো বিস্ময়ে। মানে কি? ও অসুস্থ ছিলো বলে কি তার মেয়ের নাম রাখা যাবে না!

‘এটা কি বলছেন আপনারা এখনো ওর নাম রাখেন নি! কি আশ্চর্য!’

‘এইতো এবার রাখব। ইনফেক্ট আজকেই আমার মেয়ের জন্য একটা সুন্দর নাম খুঁজব। ওকে… প্রিন্সেস!’

শুভ্র কথা বলতে বলতে তার ছোট্ট হাতে চুমু খেলো। গল্প মাথা নাড়িয়ে তার কোলে থাকা ছোট্ট শিশুটিকে দেখতে থাকলো কুটিয়ে কুটিয়ে। তারপর হুট করে বলল,

‘শুভ্র ও তো আপনার মতো দেখতে হয়েছে। দেখুন ভালো করে।’

শুভ্র হেসে বলল,

‘দেখলাম আর বুঝলাম প্রিন্সেস আমাদের দুজনের মতোই হয়েছে।’

শুভ্র এবার গল্পর কোল থেকে মেয়েকে নিজের কোলে নিলো। মুগ্ধতায় ভরপুর দৃষ্টিতে থাকিয়ে তার কপালে স্নেহ ভরে চুমু খেলো। ফিসফিসিয়ে বললো,

‘থ্যাঙ্ক ইউ মা, বাবার কথা শুনার জন্য।’

শুভ্র ফিসফিস করে বললেও গল্প সেটা শুনে ফেললো। আগ্রহ নিয়ে বললো,

‘কি কথা রেখেছে আপনার প্রিন্সেস?’

শুভ্র মুচকি হাসলো। সকালে যখন সে তার মেয়ের কাছে একটা অবান্তর নিছকই আবদার করছিলো যে সে যেনো তার মায়ের কাছে আসলে একটু কান্নার মাধ্যমে যেনো তাকে ডাকে। তখন এই অবুঝ শিশুটি কি বুঝেছিল কে জানে! কিন্তু শুভ্র যখন ওকে কোলে নিয়ে গল্পর কেবিনে প্রবেশ করে তখন আশ্চর্যজনক ভাবেই তার সেই অবুঝ মেয়েটি কিছুক্ষণের মাথায় কান্নায় কান্নায় অস্থির হয়ে উঠে। শুভ্র বিস্ময় নিয়ে তার কান্না দেখছিল তখনই একজন ডক্টর এসে শুভ্রকে বের হতে বলে; কেননা কোনো প্রকার আওয়াজে গল্পর সমস্যা হতে পারে বলে তাদের ধারণা।

শুভ্রর ছোট্ট কন্যাটি হয়তো খিদের জন্য কান্না করছিল কিংবা অন্য কোনো কারণে –কে জানে তা! তবে সবচেয়ে আশ্চর্য জনক বিষয় হলো এর কয়েক ঘন্টা পরই গল্প জ্ঞান ফিরে আসে।

‘কি হলো বললেন না তো মেয়ের কানে কানে তাকে শুকরিয়া জানাচ্ছেন কি জন্যে!’

শুভ্রকে চুপ থাকতে দেখে গল্প আবারও প্রশ্ন করল। শুভ্র মিটিমিটি হেসে বলল,

‘ওটা সিক্রেট। আমার আর আমার প্রিন্সেসের।’

গল্প ত্যাছড়া নজরে শুভ্রকে দেখতে লাগলো। শুভ্র গল্পর নজর এড়িয়ে উৎসুক গলায় বলল,

‘তাহিয়াত চলো প্রিন্সেসের একটা নাম ঠিক করি।’

হঠাৎ প্রসঙ্গ পাল্টানোতে গল্প বোকা বনে গেলো। তবে প্রসঙ্গ যখন মেয়ের নাম নির্ধারণ নিয়ে তখন সে প্রফুল্লচিত্তে বলে,

‘আপনি কি কোনো নাম ভেবেছেন?’

শুভ্রর তার মেয়ের দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসলো। অতঃপর মুগ্ধ গলায় বললো,

‘সুপ্রভা। তোমার পছন্দ হলে বলো রাখি!’

গল্প আনমনে আওড়াল,

‘সুপ্রভা! মানে সুন্দর একটি আলোকিত সকাল। বাহ নামটা তো চমৎকার।’

‘তোমার পছন্দ হয়েছে? রাখব তাহলে?’

গল্প ঝলমলে গলার বলল,

‘অবশ্যই পছন্দ হয়েছে। এটাই রাখুন। কিন্তু আপনার হঠাৎ এই নামের খেয়াল কীভাবে এলো তাও আবার নিজের নামের সাথে এতো মিল রেখে!’

শুভ্র হেসে ছোট্ট সুপ্রভার নরম নরম গাল দুটোতে আদর করতে করতে বলল,

‘ব্যাস, এমনই। একটি ঝলমলে সুন্দর আলোকিত সকাল দেখলে যেমন আমাদের মন অজান্তেই ভালো হয়ে যায়; ঠিক তেমনি আমার প্রিন্সেসকে যখনই আমি দেখি তখনই আমার মন থেকে মেঘ দূর হয়ে যায়।’

ছোট্ট সুপ্রভা কি বুঝল কে জানে বাবার উষ্ণ আদর পেয়ে দন্তহীন মুখে হেসে উঠলো। শুভ্রর আর গল্পর হার্ট ম্যাল্ট হতে আর কি লাগে!!

#চলবে

#লাভ_আফটার_ম্যারেজ
#আনাহিতা_তুলি
#পর্ব_৩৪

‘মি. আহমেদ আপনার ওয়াইফ সেকেন্ড টাইম আর কনসিভ করতে পারবে না। যদিও হয় তবে সেটা হবে উনার লাইফ রিস্ক; যদিও উনার সেকেন্ড টাইম কনসিভ করার পসিবিলিটি একেবারে নেই বললেই চলে।’

শুভ্রর স্তব্ধের ন্যায় ডাক্তারের বলা কথা গুলো শুনে গেলো। তারপর নিজেকে স্বাভাবিক করে জানতে চাইল,

‘এটা ছাড়া আর অন্য কোনো প্রবলেম আছে কি?’

‘না। এটা ছাড়া মেজর কোনো প্রবলেম নেই; একটা কথা বলতেই হয় আপনার ওয়াইফ ভীষণ লাকি। নাহলে উনার যে কন্ডিশন হয়েছিল তাতে আরও খারাপ কিছুই হতে পারত –তো সেই অনুযায়ী আপনার ওয়াইফ খুব দ্রুতই রিকোভার করেছে। তবে উনাকে পুরো একমাস বেড রেস্টে থাকতে হবে।’

শুভ্র হ্যাঁ সূচক মাথা নাড়িয়ে ডাক্তারের সাথে আরও কিছু প্রয়োজনীয় কথাবার্তা বলে চেম্বার থেকে বেরিয়ে গেলো। প্রায় পনেরো দিন পর আজ গল্পকে ডিসচার্জ দিবে। জাহানারা একটু পরপর ফোন করে জানতে চাইছে তারা কখন বের হবে!

হসপিটাল থেকে বের হওয়ার সময় একজন নার্স বললেন,

‘স্যার উনাকে হাঁটিয়ে নেওয়া ঠিক হবে না; আমরা হুইলচেয়ার এর ব্যাবস্থা করছি গাড়ি পর্যন্ত দিয়ে আসবে।’

শুভ্র দ্বিমত করলো,

‘তার কোনো প্রয়োজন নেই। ওর জন্য ওর হাজব্যান্ড-ই এনাফ। শাওন প্রিন্সেস কে তুই কোলে নে।’

কথাটা বলেই শুভ্র কালবিলম্ব না করে গল্পকে কোলে তুলে নিলো। শাওন বাহবা দেওয়ার মতো করে বলল,

‘জিও ভাইয়া! আমি তো ভাবতাম তুই নিরামিষ; এখন তো দেখি….

শাওনের কথা শেষ হওয়ার আগেই শুভ্র তাকে দমকে উঠলো,

‘শাট আপ শাওন। যা বলেছি তা কর।’

শুভ্র বেরিয়ে যেতেই শাওন তার ছোট্ট সুপ্রভার কানে কানে বলল,

‘দেখলে প্রিন্সেস, আজকাল হক কথার দাম নেই। চলো চলো মা চলো আমারও বেরিয়ে পড়ি –নাহলে তোমার বাবা আবারও চেতে যাবে।’

__
শাহিনুজ্জামান নাতি আর পুত্রবধূ আসার খুশিতে পুরো বাড়ি ফুল আর বেলুন দিয়ে সাজিয়ে ফেলেছেন। জাহানারা কয়েক পদের মিষ্টি বানিয়ে ফেলেছেন সঙ্গে আছে আরও অনেক পদের রান্না। শাহিনুজ্জামান অস্থির চিত্তে ঘরে-বাইরে পায়চারি করছে। জাহানারা এবার বিরক্ত হলো,

‘আপনি এমন পায়চারি করছেন কেনো? তারা এলে তো গেইট থেকেই গাড়ির হর্ণ শুনতেই পাবেন। এবার একটু শান্ত হয়ে বসুন তো।’

শাহিনুজ্জামান শুনলেন না। স্ত্রীকে থামিয়ে বলে উঠলেন,

‘আহ্ জাহান তুমি বুঝতে পারছ না! আমার বাড়িতে এই প্রথম আমার নাতনি আসছে আর তুমি কিনা আমাকে স্থির হয়ে বসতে বলছ! এটা সম্ভব না জাহান। আচ্ছা আরেকবার ফোন করে দেখো তো ওরা কতদূর এলো!’

জাহানারা অতিষ্ঠ হয়ে বলল,

‘আরও ফোন দিব! এই নিয়ে তো কম করে হলে বিশ বর ফোন করে ফেলেছি…’

জাহানারার কথা শেষ হওয়ার আগেই বাহির থেকে গাড়ির আওয়াজ ভেসে আসলো। তারা দুজনই একে-অপরের দিকে চাওয়া চাওয়ি করল। অতঃপর দুজনেই বিস্তর হেসে সদর দরজার বাহিরে ছুটলো।

শুভ্র তখন গাড়ি থেকে সবে বের হয়েছে। জাহানারা তড়িঘড়ি করে এসে বলল,

‘গল্প মা শরীর খারাপ লাগছে না তো? আর আমার দাদুমনি কোথায় দেখি!’

‘আম্মু ডক্টর তাহিয়াত কে হাঁটা চলা করতে নিষেধ করছে কিছুদিন। তুমি একটু এদিকে আসো তো।’

জাহানারা সরতেই শুভ্র মা-মেয়ে সহ দুজনকেই পাঁজা কোলে তুলে নিলো। হসপিটালের টা মানতে পারলেও নিজের শ্বশুর শ্বাশুড়ির সামনে বরের কোলে চড়া টা সে কিছুতেই মানতে পারছে না।

‘কি করছেন কি! এতটুকু আমি নিজেই যেতে পারবো নামান আমাকে। আহ নামন বলছি।’

শুভ্র কিছু বলবে তার আগেই শাহিনুজ্জামান বলে উঠলো,

‘না না মা। এখন হাঁটা চলা করার প্রয়োজন নেই তারউপর সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠতে হবে অনেক রিস্ক হয়ে যাবে। তার চেয়ে বরং শুভ্রই নিয়ে যাক। এ্যাই শুভ্র গল্প মা আর আমার নাতিকে ভালো করে ধর যেনো না পড়ে।’

গল্প হতভম্ব হয়ে সবাইকে দেখলো। এদিকে তার লজ্জায় হাসফাস অবস্থা আর তারা আছে ডাক্তারের কথা নিয়ে। শুভ্র সাপোর্ট পেয়ে গল্পর কানের কাছে ফিসফিসিয়ে বললো,

‘যাদের জন্য লজ্জা পাচ্ছিলে তারাই কিন্তু তোমাকে কোলে তুলে নিয়ে যেতে বলছে। নাউ বি নরমাল, হু!’

“নাউ বি নরমাল” বললেই হলো নাকি! গল্প মনে মনে শুভ্রকে কিছু ভয়াবহ গালি দিতে ইচ্ছে করল।

শুভ্র সদরদরজায় পা রাখতেই দেখে সামনের পুরো মেঝেতে এক সারি অব্ধি গোলাপের পাপড়ি দিয়ে ছিটানো একেবারে সিঁড়ি অব্ধি। গল্প পুরো বাড়িতে চোখ বুলাতেই বিস্মিত হয়ে গেলো। পুরো বাড়িটা কি সুন্দর করে সাজানো –ফুল আর বেলুন দিয়ে।

শাওন পাশ থেকে বলে উঠলো,

‘ভাবি পছন্দ হয়েছে? আমি নিজ হাতে সাজিয়েছি যতই হোক আমার ছোট মা আসবে বলে কথা।’

শাওনের কথা শুনে শাহিনুজ্জামান চেতে উঠে বললেন,

‘পুরোটা নিজের ক্রেডিট নিচ্ছো এখন! আমিও কিন্তু হেল্প করেছি আমার দাদুভাই আসবে বলে।’

‘ঠিকাছে ঠিকাছে তুমিও করেছো। নাউ হ্যাপি!’

শাহিনুজ্জামান আরও কিছু বলতে যাবে তার আগেই জাহানারা বাপ ছেলের উদ্দেশ্য দমকে উঠলো,

‘তোমরা কি শুরু করেছো কি? ওদের ভিতরে ডুকতে দাও আগে।’

গল্পর হাসি পেলো ভীষণ বাপ ছেলের এমন খুনসটি দেখে। তবে হাসিটা চেপে বলল,

‘অনেক অনেক পছন্দ হয়েছে। এতো সুন্দর করে ওয়েলকাম করার জন্য আমি এবং আমার মেয়ে দুজনেই অনেক অনেক থ্যাঙ্কফুল।’

শুভ্র সামনে এগিয়ে যায়। ড্রয়িং রুমের সোফায় গল্পকে বসাতেই জাহানারা একে একে নিজের হাতে বানানো মিষ্টি গুলো নিয়ে আসলো। তারপর সুপ্রভাকে কোলে নিলো কিন্তু এখানেই বাঁধল বিপত্তিটা কারন তখন শাহিনুজ্জামানও তার নাতনিকে কোলে নেওয়া চাই। এই নিয়ে দুজনের মধ্যে অলরেডি তর্ক বির্তক শুরু হয়ে গেছে।
গল্প তার শ্বশুর শ্বাশুড়ির ছেলেমানুষী দেখে হেসে ফেললো।
____________________
‘শশশ…. আমার আর কাউকে প্রয়োজন নেই তাহিয়াত, কাউকে না। তুমি আমি আর আমাদের প্রিন্সেস মিলে একটা জীবন কাটিয়ে দেওয়ার জন্য কি যথেষ্ট নয়! এবার শান্ত হও। আমি বুঝতে পারছি না তুমি এভাবে কাঁদছ কেনো! কত কত মানুষ সারাজীবন কাটিয়ে দেয় একবার পিতৃত্ব আর মাতৃত্বের স্বাদ অনুভব করতে; কিন্তু তা কখনো কখনো হয়ে উঠে না। কিন্তু আমাদের দেখো কি সৌভাগ্য আমাদের –আমরা সেই নিয়ামত থেকে তো আর বঞ্চিত হয়নি। আমাদের একটা ফুলের মতো কোমল মেয়ে আছে যে আমাদের আর কিছুদিন পর বাবা-মা বলে ডাকবে; ওর মুখে ওই ডাক শুনে কি আমাদের হৃদয় শীতল হয়ে আসবে না! তুমিই বল! একবার তাদের দিকে তাকাও যারা সারাজীবন অপেক্ষা করেও কোনো সন্তানের মুখ থেকে বাবা-মা ডাকটা অব্ধি শুনতে পারে না; কিন্তু তুমি আর আমি তো অচিরেই সেই আধো আধো কন্ঠে বাবা-মা ডাক শুনব –ইনশাল্লাহ।’

গল্প চোখ মুছতে মুছতে বলল,

‘আপনার একটুও কষ্ট হয়নি এটা শুনে যে –আপনার ওয়াইফ আর কখনো মা হতে পারবে না! আফসোস হয়নি?’

শুভ্র গল্পর মাথাটা নিজের বুকে মিশিয়ে বলল,

‘আমি কখনো আফসোস করি না তাহিয়াত। আর যেখানে আমাদের অলরেডি একটা প্রিন্সেস আছে; যে কিনা বাগানের ফোঁটা সদ্য তাজা ফুলের থেকেও সুন্দর এবং স্নিগ্ধ সেখানে অন্য কারও জন্য আফসোস করা তো আমার কাছে বিলাসিতা। এন্ড ইউ নো ভেরি ওয়েল অ্যাই ডোন্ট লাইক –বিলাসিতা।’

গল্প শুভ্রর বুকের সঙ্গে মিশে রইলো শান্ত হয়ে। শুভ্র আবারও বলল,

‘আমি যেমন আফসোস করছি না ঠিক তেমনি আমি চাই তুমিও যেনো এই বিষয় টা নিয়ে আর আফসোস না করো। আর যদি করো তাহলে আমি ভাবব তুমি হয়তো আমাকে আর প্রিন্সেসকে নিয়ে হ্যাপি হতে পারছ না।’

গল্প চট করে মাথা তুলে বলল,

‘এটা কখনো হতে পারে যে –আমি আপনাকে আর আমাদের মেয়েকে নিয়ে খুশি হতে পারব না! এটা তো অসম্ভব শুভ্র। আমি খুব খুব হ্যাপি আমার বর আর সন্তান নিয়ে যারা আমার পুরো দুনিয়া এবং আমার সুখের মূলমন্ত্র।’

গল্প শুভ্রকে আরেকটু শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বলল,

‘আজ থেকে আমারও কোনো আফসোস নেই। আমার যা আছে তা নিয়েই আমি খুশি। এটাই আমার অনেক বড় নিয়ামত –তার জন্য খোদার কাছে অনেক অনেক শুকরিয়া।’

__________________________
শুভ্র যখন বাসায় ফিরল রাত তখন প্রায় বারোটা। রুমে ডুকেই তার হৃদয় শীতল করা দৃশ্যটি চোখে ধরলো। গল্প আর সুপ্রভা কি নিশ্চিন্ত মনে ঘুমাচ্ছে; ছোট্ট সুপ্রভা তখন ঘুমের ঘোরে তার মায়ের গলা জড়িয়ে ধরেছে। এটা মূলত তার অভ্যাস সে ঘুমানোর সময় বাবা কিংবা মা’র গলা এভাবেই জড়িয়ে ঘুমাবে; যদিও বেশির ভাগ সময় সে তার বাবার দিকেই ঝুঁকে। দরজায় দাঁড়িয়ে সে ঠোঁটে হাসি টেনে কিছুসময় তার দুটো পৃথিবীকে দেখল। দেখতে দেখতে ছোট্ট সুপ্রভার বয়স ছ’মাস হয়ে গেলো। সে এখনই অস্পষ্ট স্বরে “বা..বা” বলে ডাকে। ছোট্ট সুপ্রভার ওই আধো আধো ডাক শুনে শুভ্রর বুক কি যেনো এক অদ্ভুত শীতলতায় ভরে উঠে। মাঝেমধ্যে গল্প গাল ফুলিয়ে বলে,

‘শুভ্র আপনার মেয়ে আমার পেটে এতো মাস থেকে এখন দুনিয়ায় পৌঁছে শুধু বাবা বাবা করে। এটা কেমন কথা বলুন তো! পেটে রাখলাম আমি, কষ্ট করলাম আমি আর মেয়ে কিনা সারাদিন বাপ বাপ করে!’

কথাগুলো ভাবতেই শুভ্র ঠোঁট কামড়ে হেসে ফেললো। সুপ্রভা আসলেই এমনটা করে। এককথায় বলতে গেলে যাকে বলে বাপ সোহাগি সে একেবারে। তবে মা’কে কিছুক্ষণ চোখের সামনে না দেখলে কেঁদেকেটে বাড়ি মাথায় তুলে ফেলে একেবারে। তার বাবা-মা সমান সমান চাই।

শুভ্র প্রথমে ফ্রেশ হয়ে এসে তারপর মা-মেয়ের কাছে গেলো। ঝুঁকে প্রথমে মেয়ের গালে ও কপালে দশ-বারোটা টুপটাপ চুমু খেলো তারপর চুমু খেলো মেয়ের মায়ের ফুলকো ফুলকো গালে। এতে করে গল্প কিছু টা নড়েচড়ে উঠল এবং ধীরে ধীরে চোখ মেলতেই দেখে শুভ্র তাদের উপর একপ্রকার ঝোঁকে আছে।

‘আপনি কখন এসেছেন?’

গল্প ঘুম জড়ানো গলায় বলল কথাটা। শুভ্র তার উত্তর না দিয়ে হুট করেই বুকের বা পাশে হাত দিয়ে বলল,
‘উফফ….।’

শুভ্রর এমন রিয়াকশনে গল্প ঘুম ছাড়িয়ে উঠে বসে উদ্বিগ্ন হয়ে বলল,

‘কি হয়েছে? বুকে হাত দিয়ে আছেন কেনো? ব্যাথা হচ্ছে নাকি?’

শুভ্র তার বুকে ওভাবেই হাত দিয়ে আফসোসের স্বরে বলল,

‘এই ব্যাথা তো কবে থেকেই শুরু হয়েছে তাহিয়াত! এ আর নতুন কি!’

গল্পর উদ্বিগ্নতা বাড়লো বৈ কমলো না। শুভ্রর কাছে এগিয়ে এসে চিন্তিত হয়ে বলল,

‘কি বলেন এসব! কবে থেকে আপনার এই বুকে ব্যাথা? আমাকে এতোদিন জানান নি কেনো আপনি! চলুন ডক্টরের কাছে যাই।’

শুভ্র গল্পর হাত দুটো নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে বলল,

‘এ ব্যাথা ডক্টর দেখালে থামবে না তাহিয়াত। এ ব্যাথা তো তোমাকে দেখার পর থেকেই শুরু হয়েছে। এন্ড ওনলি ইউ ক্যান ট্রিটমেন্ট মি। প্লিজ আমার ট্রিটমেন্ট করো তাহিয়াত!’

শুভ্রর ড্রামাবাজি এতোক্ষণে গল্পর বুঝে এলো। মশাই তবে এতোক্ষণ ধরে নাটক চালাচ্ছিল –কি ধুরন্ধর পুরুষ! গল্প সরু চোখে তাকিয়ে বলল,

‘তা কিভাবে আপনার ট্রিটমেন্ট করতে পারি শুনি একটু!’

শুভ্র গল্পর একটা হাত তার বুকের বা পাশে রেখে কানের লতিতে ভীষণ আশ্লেষে ঠোঁট ছুঁইয়ে কিছু –ফিসফিস করে কিছু একটা বলতেই গল্পর গাল দুটো লাল হয়ে এলো। গল্প শুভ্রর বুকে ধাক্কা দিয়ে বলল,

‘এ্যাহ… শখ কতো!’

গল্প সরতে চাইলে শুভ্র তার শাড়ির আঁচলে হাত পেঁচাতে পেঁচাতে তার কাছে এসে গল্পর উন্মুক্ত কাঁধে ঠোঁট ছুঁইয়ে বলে,

‘শখ তো ভীষণ তাহিয়াত, ভীষণ। তবে আপাতত একটাই শখ হচ্ছে…! ’

গল্প শুভ্রর চোখের চাহনি বুঝতে পারছে। তবুও অবুঝের ন্যয় বলল,

‘কি শখ শুনি!’

‘বলছি…’

শুভ্রর কথাটা শেষ হতেই গল্প এক লহমায় নিজেকে শুভ্রর দীর্ঘকায় শরীরটার নিচে আবিষ্কার করল। গল্পর গলায় মুখ ডুবিয়ে চুমু খেলো ভীষণ আশ্লেষে। নেশালো চোখে চেয়ে বলল,

‘আজ আসার সময় তোমার জন্য নিশিগন্ধা আনতে মনে ছিলো না। কিন্তু এখন আবার আমারই নিশিগন্ধার ঘ্রাণ নিতে ভীষণ মন চাইছে। জানোই তো আমার আবার একটা ব্যাক্তিগত নিশিগন্ধা আছে তার ঘ্রাণ টা আবার আমার ভীষণ প্রিয়, ভীষণ। এতোটাই প্রিয় যে সেটা আবার কখনো সখনো আমার অক্সিজেন হিসেবে কাজ করে।’

গল্প মন্থ মুগ্ধর ন্যায় শুনে গেলো শুভ্রর কথাগুলো। এই মানুষ টা অলওয়েজ থাকে এভাবেই রানীর মতো ট্রিট করে; এতো কেনো ভালোবাসে তাকে! তার তো নিজেকে ভীষণ লাকি মনে হয় যে সে এমন একটা কেয়ারিং বর পেয়েছে –যার ভালোবাসা আর নিজের উপর তার মুগ্ধতা সে প্রতি মুহুর্তে ফিল করে। শুভ্র ভীষণ যত্ন নিয়ে তার ব্যাক্তিগত নিশিগন্ধার সর্বাঙ্গ ছোঁয়ে দিতে লাগলো। গল্পও ভীষণ লোভী নারীর মতো শুভ্রর থেকে পাওয়া একের পর এক মাতাল করা আদর স্পর্শ লুফে নিতে লাগলো।

#চলবে

গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ