#নিষিদ্ধা
#পর্ব_২
#তাসমিয়া_তাসনিন_প্রিয়া
কোনোরকমে জামাকাপড় পরে বাসা থেকে বেরিয়ে যায় মেহরাব। উদ্দেশ্য মিরাজকে সাথে নিয়ে হুজুরের কাছে যাওয়া। কিন্তু তার আগে ডাক্তার শিয়ার কাছে যেতে হবে একবার। এভাবে চললে পাগল হয়ে যাবে সে। ভয়ে কলিজা শুকিয়ে গেছে মেহরাবের।
ডাক্তার শিয়ার সামনে বসে আছে মেহরাব। আজও তাকে বেশ চিন্তিত দেখাচ্ছে। শিয়া মেহরাবকে সতর্ক দৃষ্টিতে দেখে নিয়ে প্রশ্ন করল,
“কী হয়েছে, মিস্টার মেহরাব? আপনাকে এমন দেখাচ্ছে কেন?”
মেহরাব কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে গভীর নিশ্বাস নিলো। তারপর বলতে শুরু করল, “আপনার কথামতো ওষুধ খেয়ে ঘুমিয়েছিলাম। কিন্তু সকালে উঠে…।”
সে থেমে গেল। শুকনো ঢোক গিলে পুনরায় বলতে লাগল, “সকালে উঠে আবারো একজন মেয়ের লাশ দেখতে পেলাম। যথারীতি ঘন্টাখানেক পরে লাশ উধাও হয়ে গেল। আর আমার পরনেও কোনো পোশাক ছিল না। ডক্টর, আমার খুব অসহায় লাগছে। প্লিজ হেল্প মি।”
মেহরাবের কথায় বেশ অবাক হলো শিয়া। এরকম কেস আগে কখনো হাতে পড়েনি ওর। লোকটার সাথে কি সত্যি এসব ঘটছে? নাকি মিথ্যা বলছে? নিজের ভাবনায় অবাক হলো শিয়া। মেহরাবকে আস্বস্ত করে বললো,
” দেখুন আপনি কিছুদিনের জন্য বাইরে থেকে ঘুরে আসুন। একা একা থাকলে মানুষের মন মানসিকতা খারাপ হয়ে যায়। ঘোরাঘুরি করলে মন মেজাজ ভালো থাকে। আশা করি ঘুরে আসার পর আপানার সাথে এসবকিছু আর ঘটবে না । ”
” ঠিক আছে। ”
মেহরাব ডাক্তার শিয়ার কথায় সম্মতি জানিয়ে চেম্বার থেকে বেরিয়ে আসে। ডাক্তারকে দিয়ে কাজ হবে না সেটা খুব ভালো করেই বুঝে গেছে মেহরাব। কারণ ডাক্তার শিয়া মেহরাবের কথা বিশ্বাসই করছে না। এখন একমাত্র উপায় হচ্ছে হুজুরের কাছে যাওয়া।
সেদিনই মিরাজকে নিয়ে একজন হুজুরের সাথে দেখা করে মেহরাব। হুজুর সবকিছু শুনে বলে, উনি পরে জানাবেন। আপাতত বাসায় গিয়ে বেশি বেশি ইস্তেগফার ও নামাজ পড়তে। মেহরাব হুজুরের ফোন নম্বর নিয়ে বাসায় চলে আসে। মিরাজ মেহরাবকে শান্ত থাকতে বলে। কারণ যত বড়ো বিপদই হোক মাথা ঠান্ডা রাখলে দ্রুত সমাধান পাওয়া যায়।
সারাদিন কোনো অঘটন ঘটেনি; স্বাভাবিকভাবেই দিনটা কেটেছে মেহরাবের। সন্ধ্যার পর মিরাজ কল দিয়ে বলে আগামীকাল ওর বাসায় গিয়ে থাকতে। বাসা পরিবর্তন করলে হয়তো সবকিছু স্বাভাবিক হতে পারে। মেহরাব রাজি হলো। ঠিক করলো পরেরদিন সকালে মিরাজের বাসায় যাবে। একটু আগেও সবকিছু স্বাভাবিক ছিল, কিন্তু বিপত্তি বাঁধে মিরাজের সাথে কথা বলার পর থেকেই। হঠাৎ করে ঘরে আরেকজনের উপস্থিতি টের পাচ্ছে সে। শোবার ঘরে বসে আছে মেহরাব। কিছুক্ষণ ধরে বসার ঘর থেকে একের পর এক মেয়ের কান্নার আওয়াজ শুনতে পাচ্ছে, কিন্তু রুম থেকে বের হয়ে দেখার সাহস তার নেই। তাছাড়া সারাদিনের ক্লান্তি তাকে আচ্ছন্ন করে ফেলেছে। ফলে রাতের খাবার না খেয়েই মেহরাব শুয়ে পড়ে।
মাঝরাতে ভীষণ অস্বস্তিতে ঘুম ভেঙে যায় মেহরাবের। চোখ মেলে তাকিয়ে বোঝার চেষ্টা করে সকাল হয়েছে কি-না। কিন্তু নাহ এখনো সকাল হয়নি। হঠাৎ ডাইনিং রুম থেকে খুটখাট আওয়াজ ভেসে আসায় শোয়া থেকে উঠে বসে মেহরাব। আবার কি সেই মহিলা এসেছে? না-কি ইদুর! অশান্তি লাগছে তার। এভাবে বসে থেকেও লাভ নেই, না গিয়েও থাকতে পারবে না। অশান্তি অশান্তি অনুভব হবে । এসব ভেবে বেডরুম থেকে বেরিয়ে ডাইনিং রুমের দিকে এগোলো মেহরাব। কিন্তু সেখানে গিয়ে যা দেখল তাতে ভয়ে কলিজা শুকিয়ে গেছে তার। পুরো ফ্লোর জুড়ে রক্ত! হঠাৎ করে ফ্লোরে বসে পড়লো মেহরাব। সামনেই পড়ে আছে মিরাজের ছিন্নভিন্ন লাশ। আকস্মিক ঘটনায় ভয়ে মুখ থেকে কোনো আওয়াজ বের হচ্ছে না ওর। কিছুটা সময় নিয়ে বসা থেকে উঠে পেছনে ফিরে তাকাতেই দ্বিতীয় বারের মতো আঁতকে উঠল সে। হুজুরের লাশ ভাসছে শূন্যে। চোখমুখ কেমন ফ্যাকাসে হয়ে গেছে উনার। চোখগুলো উপরে ফেলা হয়েছে। মেহরাব আরকিছু সহ্য করতে পারছে না। নিজের সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে দৌড়ে বাসা থেকে বেরিয়ে যায় সে। সারারাত বাড়ির বাইরের রাস্তায় বসে কাটায়। ভোরের আলো ফুটতেই পাগলের মতে হন্তদন্ত হয়ে আবারও ডাক্তার শিয়ার চেম্বারে গিয়ে উপস্থিত হয় মেহরাব। কিন্তু ডাক্তার শিয়া এখনো চেম্বারে এসে পৌঁছেনি। অগত্যা চেম্বারের সামনে চেয়ারে বসে আছে মেহরাব। সকাল সাড়ে ন’টায় চেম্বারে আসে শিয়া। চেম্বারে আসার সময় মেহরাবকে বাইরে বসে থাকতে দেখে কিছুটা বিরক্ত হলো। লোকটার অদ্ভুত কথাবার্তার কোনো ভিত্তি নেই। কয়েকজন রোগী দেখার পর মেহরাবকে ডেকে পাঠায় শিয়া। মেহরাব চেম্বারে ঢুকেই পাগলের মতো বলতে লাগলো,
” ডক্টর আমি বলেছিলাম না? এসব আমার ভ্রম না? গতকাল আমার এক বন্ধুকে নিয়ে ভালো একজন হুজুরের সাথে দেখা করেছিলাম। কিন্তু গতকাল রাতে….. ”
শিয়া কিছুটা বিরক্তি নিয়ে শুধালো,
” রাতে কী? ”
” গতকাল রাতে ঘুম থেকে উঠে দেখি আমার বাসার ডাইনিং রুমে আমার সেই বন্ধু এবং হুজুরের লাশ পড়ে আছে। ওসব কিছু সহ্য করতে না পেরে আমি মাঝরাতে বাসা থেকে বেরিয়ে আসি। তারপর সারারাত রাস্তায় কাটিয়ে সকালে আপনার এখানে এসেছি। ”
এতদিন মেহরাবকে অসুস্থ মনে হলেও আজকে নাটকবাজ বলেই মনে হচ্ছে শিয়ার। এরকম অবাস্তব কথার কোনো ভিত্তি আছে? অহেতুক মিথ্যা বলে সময় নষ্ট করছে। বিরক্তিতে কিছুটা রেগে গেছে শিয়া।
” দেখুন আপনি যা বলছেন এসবের চিকিৎসা আমার কাছে নেই। আমি কোনো ভুত তাড়ানোর ওঝা নই৷ আপনি দরকার হলে আরো ভালো হুজুর খুঁজুন। দয়া করে এখন আসুন। ”
শিয়ার কথায় কোনো ভাবান্তর হলোনা মেহরাবের। হয়তো মনে মনে আগেই জানতো, ডাক্তার কী বলবে। সেজন্য ডাক্তারের কথায় কোনো হেলদোল নেই মেহরাবের। পকেট থেকে একটা হলদে খাম বের করে টেবিলের ওপর রেখে চেম্বার থেকে বেরিয়ে যায় মেহরাব। ডাক্তার শিয়া খামটা হাতে নিয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে। যাক লোকটা অন্তত বাটপার না, টাকাটা দিয়ে গেছে।
এই পৃথিবীতে যার সমস্যা কেবল সেই বোঝে সমস্যার গভীরতা কতটুকু। বাকিরা কখনোই সেটা অনুভব করতে পারে না। মেহরাবের অবস্থা আজ ভীষণ খারাপ। সারাদিন উদভ্রান্তের মতো রাস্তায় কাটিয়ে শেষমেশ রাত একটায় বাসায় ফিরেছে সে। বড্ড ক্লান্ত লাগছে। কোনোমতে গোসল করে খাবার খেতেই গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে গেছে মেহরাব৷ যদিও আজ কিছুতেই ঘুমাবে না বলে পণ করেছিল সে। কিন্তু শরীরের সাথে পেরে ওঠেনি। মেহরাবের ঘুমানো মানেই যেন প্রতিদিন একজন মেয়ের জীবন চলে যাওয়া। যে মানুষ জীবনে একটা পিঁপড়েও মারেনি, আজ তার জন্য এতগুলো মেয়ের প্রাণ ঝরছে। এসব নিয়ে মেহরাব ভেতর থেকে ভীষণভাবে ভেঙে পড়েছে। মানসিকভাবে সে যেন পুরোপুরি দূর্বল হয়ে গেছে।
সারাদিনের কাজকর্ম শেষে বাসায় ফিরে এসে না খেয়েই বিছানায় শরীর এলিয়ে দিয়েছে ডাক্তার শিয়া। শিয়ার বাবা একজন নামকরা হার্ট স্পেশালিষ্ট। আপাতত কাজের সূত্রে দেশের বাইরে আছেন তিনি। ফোন নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করতে করতে হঠাৎ মেহরাবের কথা মনে পড়ে শিয়ার। লোকটা আজগুবি কথা বললেও তার চোখেমুখে অসহায় একটা ছাপ স্পষ্ট ছিল। দেখে মনে হয়েছিল, সে সত্যিই খুব কষ্টে আছে। কিন্তু শিয়া কী করবে? মানুষটার সমস্যা কি সত্যিই মানসিক, নাকি এর পেছনে আরও গভীর কোনো কারণ লুকিয়ে আছে—এমন ভাবনায় অস্বস্তি বোধ করে শিয়া। মেহরাবের নম্বর বের করে বার দুয়েক কল দিল শিয়া, কিন্তু কোনো সাড়া পেল না। ফোনটা বালিশের পাশে রেখে ঘুমানোর চেষ্টা করতেই হঠাৎ বারান্দায় কারো উপস্থিতি টের পেল সে। বিষয়টা পরিষ্কার বোঝার জন্য শোয়া থেকে উঠে বারান্দায় গেল শিয়া। কিন্তু সেখানে কেউ নেই। তবুও, একটু আগেই সে স্পষ্ট কারো অবয়ব দেখেছিল! কাউকে দেখতে না পেয়ে মনের ভুল ভেবে খানিকটা অস্বস্তি নিয়ে শিয়া আবার শুয়ে পড়ল।
পূর্ব আকাশে সূর্য উঠেছে। শহরজুড়ে রোদের আলোয় মাখামাখি হয়ে উঠেছে প্রতিটি পথ, প্রতিটি গলি। কর্মজীবী মানুষ ছুটছে নিজেদের গন্তব্যে, আর যানবাহনের কোলাহলে মুখরিত হয়ে উঠছে শহরটা।
কিন্তু প্রতিদিনের মতোই আজও মেহরাবের রুমে আরেকটি লাশ শূন্যে ভাসছে। মেহরাব থমথমে হয়ে চুপচাপ বসে আছে, চোখেমুখে ভয় আর অসহায়তার ছাপ স্পষ্ট। তার চারপাশে দিনের আলো ঝলমল করলেও, মেহরাবের ভেতরটা যেন ঘন কালো অন্ধকারে ডুবে আছে। কী করবে এখন কিছু মাথায় আসছে না। বসা থেকে উঠে নিজের পোশাক পরে নেয় সে। আজকের মেয়েটার চেহারা এখনো দেখতে পায়নি মেহরাব। চুলগুলো কেমন এলোমেলো হয়ে মুখ ঢেকে আছে। জানালা দিয়ে হালকা বাতাস আসতেই মেয়েটির মুখের ওপর থেকে চুলগুলো সরে গেলো। মুহুর্তেই বিস্ময়ের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে গেল মেহরাব। আজকের লাশটা আর কারোর নয় স্বয়ং ডাক্তার শিয়ার! মেহরাবের কেমন পাগল পাগল লাগছে। ফোন হাতে নিয়ে শিয়াকে কল করবে ভাবতেই দেখে কতগুলো মিসড কল! শিয়া কেনো গতকাল রাতে কল করেছিল ওকে? তাহলে কি আগে থেকেই কিছু বুঝতে পেরেছিল শিয়া? না-কি অন্য কিছু! তাহলে কি সত্যি শিয়া মারা গেছে! উফ আরকিছুই ভাবতে পারছে না মেহরাব। চোখেমুখে পানির ছিটে দিয়ে বাসা থেকে বেরিয়ে গেলো সে। শিয়ার চেম্বারে গিয়ে সবকিছুর সত্যতা নিশ্চিত হয়ে আরো ভেঙে পড়ে মেহরাব। সত্যিই শিয়া নিখোঁজ। শিয়ার নিখোঁজের বিষয় নিয়ে ইতিমধ্যে প্রশাসন তোরজোর শুরু করে দিয়েছে। কেউ না জানলেও মেহরাব তো জানে শিয়ার কী হয়েছে! কিন্তু এখন কী করবে? লাশ তো আপনাআপনি উধাও হয়ে যাবে। কিন্তু পুলিশ যদি শিয়ার লাস্ট কল চেক করে তাহলেই তো মেহরাব বাজেভাবে ফেঁসে যাবে। এসব ভাবতে ভাবতে আবারো বাসায় ফিরে এলো সে। পুলিশের ভয়ে সারাদিন নিজেকে ঘরবন্দী করে রাখলো। যতই সমস্যা থেকে দূরে পালাতে চাইছে আরো সমস্যা ঝেকে বসছে।
সারাদিন নিজেকে ঘরবন্দী করে রাখে মেহরাব। ভয়ে,দুশ্চিন্তায় খাওয়াদাওয়া ঘুম সব উবে গেছে তার। সন্ধ্যার দিকে হঠাৎ কলিংবেলের আওয়াজে চমকে ওঠে মেহরাব। নিশ্চিত পুলিশ এসেছে! অস্থিরতা তৈরি হয়েছে তার মনে। কিন্তু এভাবে কতদিন? প্রতিদিন এই অশান্তির চেয়ে পুলিশের কাছে ধরা দেওয়াই ভালো। অন্তত জেলে গেলে তো আর প্রতিদিন মেয়েদের খুন হতে হবে না। মেহরাব মনে মনে ভাবল এসব। এই ভয়ংকর ঘটনার শেষ কোথায়, তা সে জানে না। কিন্তু এভাবে বাঁচার চেয়ে শাস্তি গ্রহণ করাই যেন তার জন্য স্বস্তির একমাত্র পথ।
মেহরাব সবকিছু ভেবে নিজেকে শান্ত করে দরজা খুলে দেয়। কিন্তু দরজা খুলতেই অবাক হয়ে যায় সে। দরজার বাইরে ডাক্তার শিয়া দাঁড়িয়ে আছে! কিন্তু কীভাবে? সে তো সকালেই মারা গেল। তাহলে কি শিয়া মারা যায়নি? মেহরাব মনে মনে নিজেকে নিজেই প্রশ্ন করে যাচ্ছে। কিন্তু শিয়াকে কিছু বলতে পারছে না। হঠাৎ শিয়া মেহরাবকে হাত দিয়ে সরিয়ে দরজা পেরিয়ে বাসার ভেতরে ঢুকল। মেহরাব শুধু অবাক হয়ে যাচ্ছে। বিস্ময়ের রেশ কাটতে মিনিট পাঁচেক লাগলো তার। শিয়া বাসার মধ্যে ঢুকেছে মনে পড়তেই মেহরাবও ঘরে ঢুকে সবজায়গায় খুঁজতে থাকে। কিন্তু শিয়াকে কোথাও খুঁজে পায় না। ভ্রম নাকি সত্যি শিয়ার আত্মা ফিরে এসেছে কিছুই বুঝতে পারছে না মেহরাব। হঠাৎ সিঁড়ির দিকে দৃষ্টিপাত করতেই মেহরাবের মেরুদণ্ড বেয়ে ভয়ের শীতল স্রোত বয়ে গেলো। সাদা শাড়ি পরিহিত সেই বিশ্রী চেহারার মহিলা দাঁড়িয়ে মেহরাবের দিকে কেমন অদ্ভুতভাবে তাকিয়ে আছে। মেহরাব কী করবে বুঝতে পারছে না। বাসায় থাকলে আবারও ঘুমিয়ে পড়বে। আর ঘুমিয়ে পড়া মানে আবার একটা খুন! নাহ আর কিছু ভাবতে পারে না মেহরাব। ভয়ে ভয়ে সিড়ি বেয়ে নিচে নামে। তারপর দ্রুত বাসা থেকে বেরিয়ে যায়। আজকের রাতটাও রাস্তায় শুয়ে কাটাবে সে।
রাতটা রাস্তার পাশে ঘুমিয়ে কাটানোর পর সকালে বাসায় ফিরে যায় মেহরাব। কিন্তু বাসায় ফিরে বেশ অবাক হয় সে। এমনিতে খুন হওয়ার পর সব এলোমেলো থাকলেও কিছুক্ষণের মধ্যেই সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে যেতো। কিন্তু আজকে ঘরের এই অবস্থা কেন! সমস্ত ঘর এলোমেলো। দেখে মনে হচ্ছে কেউ তন্নতন্ন করে কিছু একটা খুঁজেছে। তবে কি পুলিশ এসেছিল? কিন্তু পুলিশ এলে তো বাসায় ঢোকার জন্য দরজা খুলতো।
চলবে…..
