Friday, June 5, 2026







কে বাঁশি বাজায় রে পর্ব-০৪

#কে_বাঁশি_বাজায়_রে
#পর্ব_০৪
#নুর_নবী_হাসান_অধির

গ্রাম পঞ্চায়েত বাড়ির বউ হতে চলছে পরী৷ সারা গ্রাম জুড়ে পরীর কথা লটে যাচ্ছে৷ বিয়ের বাকী মাত্র একদিন৷ সমস্ত গ্রাম জুড়ে এলাহি আয়োজন। শহর থেকে রাজকীয় পালকি ভাড়া করে নিয়ে আসা হয়েছে। আসিফের জন্য ঘোড়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে৷ আসিফ ঘোড়ার পিঠে চড়ে বিয়ে করতে যাবে৷

পলক হোসাইন পা স্থির রাখার সুযোগ পাচ্ছে না৷ মেয়ের বিয়ের জন্য দৌড়ে দৌড়ে কাজ করছে৷ রমরমা পরিবেশ। বাড়িতে অনেক লোকের আগমন। পরী মাকে জড়িয়ে ধরে বসে আছে৷ ভেজা গলায় বলল,

“আমি কিছুতেই আসিফকে বিয়ে করব না৷ আসিফের মতো খারাপ ছেলের সাথে সারাজীবন সংসার করতে পারব না৷ সেখানে কিছুতেই সুখী হতে পারব না৷ আসিফ এক নারীতে আসক্ত নয়৷ আমার টাকা পয়সা চাইনা৷ যে পুরুষ এক নারীতে আসক্ত সেই পুরুষকে ভালোবাসতে চাই৷”

মেয়ের পিঠে আলতো করে হাত রেখে বলল,

“চিন্তার কোন কারণ নেই৷ আমাদের কাছে পুরো দিনটাই আছে৷ আল্লাহর নীলা খেলা কেউ বুঝতে পারে না! কে বলতে পারে কাল সূর্যোদয় আসিফের নসিবে নেই?”
পরী চকিত স্বরে বলল,

“মা, তোমার কথার মাঝে কেমন জানি রহস্যের গন্ধ পাচ্ছি৷ তুমি কি করতে চাও৷ একবার মনে হয় বিয়েটা হবে৷ আরেকবার মনে হয় বিয়েটা হবে না৷

“সময়ের হাতে সবকিছু ছেড়ে দে৷ সময় সবকিছু মানুষকে ফিরিয়ে দিবে৷ আমার কানে এখনও পারুলের কন্ঠ ভেসে আসে৷ আমি কাউকে ছাড়ব না৷”

বলতে বলতে চোখ দু’টো ভেজে উঠল৷ পরীর চোখের জল টলমল করছে৷ ভারাক্রান্ত মন নিয়ে বলল,

“আপু আমাদের মাঝে থাকতে আমরা কতই না সুখে ছিলাম৷ মাঝ রাতে মাঝে মধ্যে নৌকা নিয়ে দক্ষিণ দিকে ছুঁড়ে চলতাম৷ নদীর বয়ে চলা পানি দেখতাম৷ এখন সবকিছু স্মৃতি হয়ে রবে৷ আমাদের মন থেকে ভালোবাসা নামক শব্দটির পরিসমাপ্তি ঘটেছে৷”

“পারুলের জন্য মন খারাপ করবি না৷ আল্লাহর কাছে পারুলের জন্য দোয়া কর৷ পরকালে পারুল যেন ভালো থাকে৷ মনে মনে পণ নে, পারুলের এমন অবস্থার পিছনে যারা আছে তাদের ছেড়ে কথা বলবি না৷”
___________

রাতের খাবার শেষ করে মা মেয়ে চুপিসারে বেরিয়ে পড়ে৷ প্রকৃতি আজ নৌকা ভবনে তাদের সঙ্গী হচ্ছে না৷ সন্ধ্যার দিকে চাঁদের দেখা পেলেও রাতে মেঘমালার সাথে মিশে গেছে। নৌকার বৈঠা নিয়ে মাটিতে ধাক্কা দিয়ে নদীর মাঝে আসল৷ নৌকা চলল আইয়ুব আলী বাড়ির দিকে৷ প্রতিদিন দক্ষিণ দিকে নৌকা নিয়ে ঘুরতে যেত৷ সেদিকে নদীর স্রোতে যাওয়া যায়৷ নদীর প্রসস্থ বেশি৷ আজ স্রোতের বিপরীত দিকে যাচ্ছে৷ কৌতুহল নিয়ে পরী প্রশ্ন করল,

“মা, আমরা তো এদিকে কোনদিন যাইনি৷ আমরা সব সময় দক্ষিণপাড়ার দিকে যেতাম৷”

“সময়ের সাথে সাথে সবার চাওয়া পাওয়া ভিন্ন হয়৷ আজ তোকে বিশেষ দু’জন মানুষের সাথে পরিচয় করিয়ে দিব৷”

রাতের আঁধারে মা মেয়ের মুখমন্ডল স্পষ্ট দেখা না গেলেও পরীর মুখে ভয়ের ছাঁপ বুঝা যাচ্ছে৷ চকিত হয়ে উত্তেজিত কন্ঠে বলল,

“কে আসবে আমাদের সাথে দেখা করতে? প্রতিটি মানুষ এখন ঘুমের দেশে।”

“আজ তোর জীবনের পরীক্ষা হবে৷ যেই আসুক তোকে পরীক্ষা দিতেই হবে৷ এটা তোর জীবনের পরীক্ষা। তুমি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে না পারলে আসিফকে তোমার বিয়ে করতে হবে৷”

আয়েশা বেগমের কথা শুনে পরীর মুখ শুকিয়ে যায়৷ কি বলবে বুঝতে পারছে না? মনের সাথে রীতিমতো যুদ্ধ করে যাচ্ছে৷ পরী ভীতু কন্ঠে বলল,

“চরিত্রহীন ছেলে কোনদিন বিয়ে করব না৷ প্রয়োজন পড়লে নিজেকে শেষ করে দিব৷ তবুও আসিফকে বিয়ে করব না৷”
নৌকার গতি কমিয়ে বলল,

“নিজেকে নয়৷ অন্যকে শেষ করতে হবে৷ পারবি তুই নিজেকে বাঁচানোর জন্য অন্যকে হত্যা করতে! পারবি কি কাউকে খুন করতে৷ পারবি কি হাতে অস্ত্র তুলে নিতে?”

পরীর হাত পায়ে কম্পন শুরু হয়েছে রীতিমতো৷ ভীতু মন পরিস্থিতির সাথে যুদ্ধ করতে পারছে না৷ কি বলবে বুঝতে পারছে না? আয়েশা বেগম লন্ঠনের প্রতীপ তুলে লন্ঠনের আলো বাড়িয়ে দিল৷ নৌকার পাঠা থেকে বের করল দুইটা রামদা৷ দু’টো হাতে নিয়ে বললেন,

“তুই যদি কাউকে খুন করতে না পারিস আজ আমি নিজেকে শেষ করে দিব৷ কোনদিন মায়ের মুখ দেখতে পারবি না৷ মা নামক ছায়া তোর জীবনে থাকবে না৷ এখনই নিজেকে শেষ করে দিব৷”
রামদা আয়েশা বেগম নিজের গলার দিকে নিয়ে যেতেই পরী চিৎকার করে বলল,

“আমি তোমার জন্য সবকিছু করতে পারি৷ একটা কেন হাজারটা খু’ন করতে পারি।”
গম্ভীর স্বরে বলেন,

“চোখের জল মুছে ফেল৷ সময় আসন্ন। এখনই তোর পরীক্ষা শুরু হবে৷ মনে ভয় থাকলে আমাকে চিরদিনের জন্য হারাবি৷”

পরী হাতের পিছনের অংশ দিয়ে চোখের পানি মুছল৷ মন কিছুতেই সায় দিচ্ছে না৷ কখনও মা’কে এমন নিষ্ঠুর হতে দেখেনি৷ কাউকে মা’রার জন্য উৎসাহিত করবে। চোখে মুখে প্রতিশোধের আগুন৷ কিছুক্ষণের মাঝে নৌকা ঘাটে থামল৷ আসিফ এবং তুহিন নৌকায় উঠল৷ তাদের দেখে পরী রীতিমতো অবাক৷ মনে পড়ল দুপুরের কথা৷ ‘আসিফের নসিবে সূর্যোদয় না থাকে৷’ মনে পড়তে সমস্ত শরীর শিহরিত হয়ে মনের অজান্তেঔ ঝাঁকুনি দিল৷ আয়েশা বেগম স্বাভাবিক কন্ঠে বলল,

“তোমরা এখানে এসেছো কেউ জানে না? কেউ জানলে আমি কাল বিয়ে ভেঙে দিব৷”

গোপনে তুহিনের সাথে আয়েশা বেগমের কথা হয়৷ তিনি তুহিনকে বলেন,
“পরীকে তোমার সাথে বিয়ে দিব৷ তার বিনিময়ে আসিফকে এক জায়গায় বন্ধি করে রেখে দিব৷ বিয়ের পর আমরা তাকে ছাড়িয়ে নিয়ে আসব৷” বোকা তুহিন আয়েশা বেগমের কথায় ভুলে যায়৷ অবশ্য পরী দেখতে শুনতে বাবার মতোন৷ গায়ের রং উজ্জল ফর্সা৷ সমাজে ফর্সা চেহারার কদর বেশি৷ তুহিন বলল,

“কেউ জানে না৷ সবাই ঘুমিয়ে পড়েছেন৷ কবিরাজের কাছ থেকে ঘুমের ওষুধ নিয়ে গেছিলাম৷ তরকারির সাথে মিশিয়ে দিয়েছিলাম। খাওয়ার কিছুক্ষণ পরই ঘুমিয়ে পড়েছে৷ আমরা দু’জন সে খাবার খাইনি৷”

আসিফ পরীর দিকে তাকাচ্ছে আর মুচকি হাসি দিচ্ছে৷ পরী অনমনে অন্য দিকে তাকিয়ে আছে। সবকিছু লক্ষ্য করল আয়েশা বেগম৷ আসিফের চাহনি খুবই বাজে৷ মুচকি হাসির সাথে জিহ্ব দিয়ে ঠোঁট ভেজাচ্ছে৷ নৌকা ঘাটে থামাল৷ লাফ দিয়ে আসিফ আর তুহিন নেমে পড়ে৷ পরী নামার আগে আয়েশা বেগম পরীর হাত ধরে ফিসফিস করে বলল,

“তুই তুহিনের মাথায় আঘাত করে অজ্ঞান করে দিবি৷ তারপর হাত পা বেঁধে এখানে দাঁড়াবি।”

আয়েশা বেগম নৌকা থেকে নেমে আসিফকে নিজের কাছে ঢেকে বলল,

“তোমার সাথে কিছু কথা আছে৷ কথাগুলো আমি একান্ত বলতে চাই৷ তাই এতো রাতে তোমাকে নিয়ে এসেছি৷”
তুহিনকে উদ্দেশ্য করে বলল,

“পরী একা ভয় পাবে৷ তুমি একটু তার সাথে যাও৷ দূরে কোথাও যাবে না৷ এখানেই থাকবে৷”

তুহিন পরীর কাছে আসতেই পরী তুহিনের মাথায় পরপর দুইটা আঘাত করল৷ তুহিনের চিৎকারে আসিফ পিছনে ঘুরার সঙ্গে সঙ্গে আয়েশা বেগম রামদা দিয়ে আসিফের পায়ে আঘাত করে একটা পা কেটে দেন৷ ঘটনা এতো তাড়াতাড়ি ঘটে যে কিছুই বুঝতে পারেনা৷

পরী রশি দিয়ে তুহিনের হাত পা বেঁধে ফেলে৷ মাথা থেকে রক্তের ফোয়ারা বয়ে যাচ্ছে৷ এই মুহুর্তে নিজেকে সব থেকে নিষ্ঠুর মানুষ মনে হচ্ছে৷ পরী আসিফের চিৎকার শুনে কাছে আসে৷ এতোক্ষণে আসিফের দুটো পা কেটে ফেলেছে৷ আসিফ বাঁচার জন্য আকুতি মিনতি করছে৷ হাত জোড় করে বলল,

“আপনাকে মা’রবেন না৷ আমি আপনার পায়ে পড়ি৷ আমি পরীকে বিয়ে করব না৷ এখন আমার পা দু’টোর মাঝে একটিও নেই৷ তবুও আমি বাঁচতে চাই৷ আমাকে বাঁচতে দেন৷”
আয়েশা বেগম গম্ভীর স্বরে বলেন,

“আমার কলিজার টুকরো, আমার পারুলকে তোরা বাঁচতে দেসনি৷ সারারাত তার উপর অমানবিক নির্যাতন করেছিস৷ ক্ষুধার্ত পশুর মতো ঝাপিয়ে পড়ছিলি৷ আমাকে মেয়ে বাঁচতে দিলি না৷ আমি তোকে কিভাবে বাঁচতে দিব৷”
আসিফ হামাগুড়ি দিয়ে আয়েশা বেগমের দিকে আসতে আসতে বলল,

“জীবনেও এমন কাজ করব না৷ আমাকে পৃথিবীর আলো দেখার একটা সুযোগ দেন৷”
আসিফের দেহ থেকে একটা হাত কেটে ফেলল। দেহ থেকে রক্ত ছিঁটকে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ল৷ গম্ভীর স্বরে বলেন,

“তুই বেঁচে থাকলে তো ভালো হবি৷ তোদের এমন শাস্তি দিব যে ধ’র্ষণ তো দূর কেউ কোন মেয়ের দিকে খারাপ নজরে তাকাতেও পারবে না৷”

আসিফের চিৎকার কেউ শুনতে পাচ্ছে না৷ জনমানবহীন এলাকায় কেউ নেই৷ চারদিকে ধূ ধূ বন৷ ঠান্ডা বাতাস বয়ে যাচ্ছে৷ আসিফকে আর কিছু বলার সুযোগ দিল না৷ আসিফের আরও একটা হাত কেটে ফেলল। বাঁচার জন্য অনেক আকুতি মিনতি করছে৷ নিশ্চিত মৃত্যু জেনেও বাঁচার জন্য একটু চেষ্টা করছে৷ তারপর আসিফের লিঙ্ক কেটে ফেলল৷ সর্বশেষে আসিফের গলা কেটে ফেলল৷ তবুও থেমে নেই৷ বুকের উপর একের পর এক আঘাত করে৷ উম্মাত হয়ে গেছে৷
আসিফের রক্ত দিয়ে মাটির উপর লিখেল, ❝ধ’র্ষকদের পৃথিবীতে বেঁচে থাকার অধিকার নেই।❞

তুহিনকেও বাঁচতে দেয়নি৷ তুহিনকে নির্মম মৃত্যু দেয়নি৷ কিন্তু রামদা দিয়ে গলা কেটে দিয়েছে৷
_____________

পরী মাকে জড়িয়ে ধরে শুয়ে আছে৷ জ্বরে গা পুড়ে যাচ্ছে৷ আয়েশা বেগম মেয়েকে ছেড়ে উঠতে পারছে না৷ এদিকে খবর এসেছে উত্তর পাড়ায় আসিফের মৃত দেহ পাওয়া গেছে৷ কে বা কারা জানি নির্মমভাবে হত্যা করেছে৷ বেলা ১০ টার দিকে আয়েশা বেগম পরীকে উঠানের চেয়ারে বসিয়ে দিল৷ সকালের রান্না পরীর সৎ মা করেছে৷ পরীর বিয়ে উপলক্ষে এসেছিল৷ গ্রাম বাসীর ধারনা আসিফের মৃত্যুতে পরীর এমন জ্বর এসেছে৷ অনেকে বলাবলি করছে সুন্দরী মেয়ের কপালে ভালো বর পাওয়া যায় না৷ মেয়ে সুন্দরী হলে কি হবে? পরী একজন অপয়া। তা নাহলে বিয়ের দিন হবু বর খুন হয়৷

আয়েশা বেগম পাড়া প্রতিবেশীর কথায় কান দেন না৷ অনেকে অনেক প্রশ্ন করে যাচ্ছে৷ তিনি তাদের কথার কোন কান দিলেন না৷ আশালতা সবার উদ্দেশ্যে বলেন,

“পরীর কেন জ্বর আসল? কিসের জন্য অসুস্থ? এসব নিয়ে আপনাদের ভাবতে কে বলেছে? পরীকে নিয়ে ভাবার লোক আছে৷ পরীর মা আছে, বাবা আছে।”

তাদের মাঝে একজন মহিলা বলে উঠল,
“পরীর বাপ তো আর এখানে থাকে না৷ পরীর বাপ তোমার লগে থাকে। সোয়ামিকে হাত করে রাখছো৷”
আশালতা কিছু বলতে যাবে তার আগেই আয়েশা বেগম বলেন,

“আপনাদের কি এখানে ডাকা হয়েছে। নাটক দেখতে আসছেন এখানে৷ যার যার বাড়িতে যান৷ বাঁচলেও আমার মেয়ে, মরলেও আমার মেয়ে৷ পরীকে নিয়ে চিন্তা করতে হবে না৷”

আয়েশার টান টান কথায় সবাই চলে যায়৷ ভাত মাখিয়ে পরী আর আরিয়ানকে খাইয়ে দিচ্ছে৷ আরিয়ান এক লোকমা খাবার মুখে নিয়ে বলল,

“বড় মা আমাদের সাথে ঢাকা যাবে। আমরা সবাই একসাথে থাকব৷ তুমি আম্মু, আব্বু৷ আমরা সবাই থাকব৷”
আর এক লোকমা খাবার মুখে দিয়ে বলল,

“না রে বাবা! আমার কাছে গ্রাম ভালো লাগে৷ আমি ঢাকা যাব না৷ মনে পড়লে আমাকে দেখতে চলে আসবে৷”
পিছন থেকে আশালতা বলে উঠল,

“আফা, আপনি তো কোনদিন আমাদের বাসায় গেলেন না৷ সেখানে না থাকলেন একবার তো ঘুরেও আসা যায়৷”

আশালতার কথার কোন প্রতিউত্তর করলেন না৷ মেয়েটার কোন দোষ নেই৷ মেয়েটা সবাইকে আপন করেই নিয়েছে৷ পারুল, পরীকে অনেক ভালোবাসত৷ মায়ার মোহে পড়ে বিয়ে করেছিল। অনেক মিশুক৷ পলক হোসাইন বাড়িতে ক্ষোভ নিয়ে ঢুকতে ঢুকতে বলেন,

“পঞ্চায়েত মশাই নিজেকে কি মনে করেন? উনি আমাদের শাসিয়ে যান৷ আমার মেয়ের জন্য এমন হয়েছে৷ উনার লাফাঙ্গা ছেলে বিয়ের রাতেও বেরিয়ে পড়ে৷ কোন মেয়েকে ধ’র্ষণ করতে গিয়ে ধরা পড়ে৷ দোষ দিচ্ছে আমার মেয়ের। ভালো হয়েছে বিয়ে না হওয়ায়৷”

আয়েশা বেগম ইশারায় পানি দিতে বলেন৷ আশালতা রান্না ঘর থেকে পানি এনে দিল৷ পলক হোসাইন একা একা বকে যাচ্ছেন৷ আয়েশা বেগম শান্ত গলায় বলল,

“রাগারাগির কি আছে? উনার ছেলেকে হারিয়েছেন৷ উনার কথায় কান দিতে হবে না৷ সকাল থেকে তো কিছুই খাননি৷ ভাত খেয়ে নেন৷ ঘাট থেকে হাত মুখ ধুয়ে আসেন৷”

পরীর মাথায় বিলি কেটে তেল দিয়ে দিচ্ছে৷ সবাই চলে গেলে আয়েশা বেগম বলেন,

“মানুষের জীবন দুইদিনের৷ তুই যা দেখেছিস সব কাল্পনিক মনে কর৷ যুদ্ধের কথা মনে কর৷ পাক সেনারা কিভাবে আমাদের হত্যা করেছে৷ বুকে সাহস রাখ৷”

“আমি সে জন্য ভয় পাচ্ছি না৷ যদি কেউ কিছু জেনে যায়৷ পুলিশ যদি জানতে পারে৷ আমাদের জেল হয়ে যাবে৷”

“কিছুই জানতে পারবে না৷ সেখানে কোন প্রমান নেই৷ রক্তমাখা পোশাক পুড়িয়ে ফেলেছি৷ শুধু কথাগুলো দু’জনের মাঝে থাকলেই হবে৷”

চলবে…….
ভুল ত্রুটিগুলো মার্জনীয় দৃষ্টিতে দেখবেন।

পূর্ববর্তী নিবন্ধ
পরবর্তী নিবন্ধ
গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ