Friday, June 5, 2026







অপূর্ণতা পর্ব-৩০+৩১

#গল্প_অপূর্ণতা
#Ritu_Bonna
#পর্ব_৩০_৩১

অদ্রিতার কথা শুনে নিলয় কিছুক্ষন নিচের দিকে তাকিয়ে পরে বলা শুরু করে,আজ থেকে দেড়বছর আগের কথা। আমি কলেজ থেকে বাড়িতে পৌঁছেই দেখি আব্বু মেঝেতে পড়ে আছে।আব্বুকে এই অবস্থায় দেখে আমার মাথা কাজ করা বন্ধ করে দেয়।ছোট থেকে আব্বুই আমার সব।তাকে ছাড়া আমি নিজেকে কল্পনাও করতে পারি না।আর সেই আব্বুকে এইভাবে দেখবো তা কখনো কল্পনাও করিনি।নিজেকে সামলিয়ে আমি আব্বুর কাছে যাই,পার্লস চেক করে দেখি আব্বু বেঁচে আছে।তখন যেন নিজের প্রাণ ফিরে পেলাম।আব্বু অজ্ঞান হয়ে মেঝেতে পরে ছিল অনেক চেষ্টা করি কিন্তু কিছুতেই ওনার জ্ঞান ফিরাতে পারিনি তাই তাড়াতাড়ি হাসপাতালে নিয়ে যাই।হাসপাতালে ওনার জ্ঞান ফিরে।ডাক্তারের সাথে কথা বলে জানতে পারি আব্বুর ব্রেন টিউমার হয়েছে এবং তা এখন লাস্ট স্টেজে আছে, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ওনার অপারেশন করাতে হবে।কিন্তু এদেশে তা সম্ভব ছিলনা।তাই বিদেশে নিয়ে যেতে বলে।তখন আমার মাথায় আর অন্য কিছু ছিল না।শুধু কিভাবে আব্বুকে সুস্থ করবো তাছাড়া।তাই কাউকে কিছু না বলে আব্বুকে নিয়ে বিদেশে চলে আসি।সেখানে যাওয়ার ১ সপ্তাহ পরে আব্বুর অপারেশন করা হয়।ও.টি থেকে ডাক্তার বের হওয়ার জিজ্ঞেস করলে বলে ২৪ ঘন্টা না গেলে কিছুই বলতে পারবে না।এইটুকু বলে নিলয় একটু থামে,তার চোখ দিয়ে পানি পরতে থাকে।

অদ্রিতা কি বলবে তা বুঝতে না পেরে চুপ করে থাকে। নিলয় নিজেকে শান্ত করে আবার বলা শুরু করে,এই ২৪ ঘন্টা আমি কি করে পার করেছি তা আমি নিজেই জানি না।সারাক্ষণ আল্লাহকে ডেকেছি। মোনাজাতে শুধু একটা জিনিস চেয়েছি,আব্বু যেন সুস্থ হয়ে যায়।২৪ ঘন্টা পরে ডাক্তার বললো আব্বু এখন মোটামুটি সুস্থ কিন্তু সম্পূর্ণ সুস্থ হতে আরও কিছু দিন সময় লাগবে।তখন যেন আমি আবার নিজেকে ফিরে পেলাম।প্রায় ১ মাস পরে সেদিন আমি শান্তিতে ঘুমিয়ে ছিলাম।পরিস্থিতির হাতে আমি সত্যিই অনেক নিরুপায় ছিলাম।তাই তো তোমার সাথে কোন যোগাযোগ করতে পারি নি,কিন্তু সব কিছু ঠিক হওয়ার পরে তোমার সাথে যোগাযোগ করার অনেক চেষ্টা করি কিন্তু পারি নি। যতবারই তোমাকে কল করার চেষ্টা করেছি তোমার ফোন সুইচঅফ বলেছে।আব্বু তখন সম্পূর্ণ সুস্থ হয়নি।এততা পথ যার্নি করা ওনার জন্য আরও ঝুঁকিপূর্ণ হতো, তাই ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও দেশে আসতে পারিনি।তবুও তোমার সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করি।কিন্তু হয়তো আল্লাহ চায়নি তাই তো আমার শতচেষ্টা করা সত্ত্বেও তোমার সাথে যোগাযোগ করতে পারিনি।দেশে ফিরেই আমি তোমার বাড়িতে গিয়েছিলাম।সেদিন দেখি তোমার বিয়ে হয়ে গেছে।এটা দেখার পরে আমার শরীরে আর বিন্দু পরিমাণ শক্তি ছিল না,তাই তো কার সাথে তোমার বিয়ে হয়েছে তা না দেখেই সেখান থেকে আমি চলে আসি।আমি যদি জানতাম আরিয়ানের সাথে তোমার বিয়ে হয়েছে তবে কিছুতেই সেদিন আমি তোমার বউভাতে যেতাম না। কারণ তোমাকে অন্য কারো সাথে দেখে আমার খুব কষ্ট হয়। বুকের ভিতরটা জ্বলে-পুঁড়ে শেষ হয়ে যায়। তখন অনেক কষ্টে আমি নিজেকে সামলিয়েছি৷ বিশ্বাস করো আমি এতটা খারাপ নই যে তোমার বিবাহিত জীবনে কোন প্রকার পবলেম করবো।তুমি কখনো আমার হতে পারবে না,আর এটাই আমার নিয়তি। আমি তা মেনে নিয়েছি।

নিলয় দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে আবারও বলা শুরু করে,আসলে আমি শুধু এটাই চেয়েছি তুমি যাতে আমাকে ঘৃণা না করো।ভুল না বুঝ,তাই শুধু সত্যিটা তোমাকে বলতে চেয়েছি। তুমি যদি এখন বলো আর কোনদিন তোমার সামনে না আসতে।বিশ্বাস করো আজকের পর থেকে আর কোনদিন আমি তোমার সামনে আসবো না।আমি শুধু এটাই চাই তুমি যেখানেই থাকো না কেন সুখে থাকো।তবেই আমি সুখে থাকবো।সবার ভালোবাসা পূর্ণতা পায় না।আমারটাও না হয় অপূর্ণই থাকোক।আমি জানি তুমি আরিয়ানকে নিজের স্বামী হিসেবে মেনে নিয়েছো,হয়তো এখন তাকেই ভালোবাসো।আর এতে তোমার কোন দোষ নেই, তুমি আমাকে ঠকাও নি। ঠকিয়েছে তো আমাদের ভাগ্য আমাদের। দোয়া করি তুমি আর আরিয়ান সবসময় সুখে থাকো।

অদ্রিতার চোখ দিয়ে পানি পরছে।সে ভাবতেও পারেনি নিলয় এমন একটি পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে গিয়েছে।যখন তাকে তার সবচেয়ে বেশি দরকার ছিল তখনই সে তাকে ভুল বুঝেছে।কি করে সব সত্যিটা না জেনে সে নিলয়কে ভুল বুঝলো?তার তো উচিত ছিল নিলয়কে সব কিছু জিজ্ঞেস করা।অথৈ সব কিছু সত্যি বলছে কিনা তা যাচাই করা।কিন্তু সে কি করলো,উল্টো নিলয়কে ভুল বুঝে তার থেকে দূরে সরে এসেছে।যা হয়ে গেছে তা কি বদলানো সম্ভব!কখনোই সম্ভব নয়।এখন সে নিলয়কে কি বলবে সে নিজেই জানে না।কেউ তাকে এততা ভালোবাসতে পারে তা তার জানা ছিল না।নিজেকে শান্ত করে সে নিলয়কে বলে,আমাকে ক্ষমা করে দিন।ভুলটা আমারই ছিল। আমারই উচিত হয়নি সব সত্যিটা না জেনে আপনাকে ভুল বুঝা।আপনার চরিত্র সম্পর্কে বাজে কথা বলা।কিন্তু এখন আমার হাতে কিছু নেই।আগের সব কথা ভুলে গিয়ে নতুন করে জীবন শুরু করুন।অন্য কাউকে নিয়ে সুখে থাকুন।আমি চাইনা আপনি আগের কথা ভেবে আর কষ্ট পান,,,,আমি এখন অন্য কারো স্ত্রী আর তাকে আমি নিজের মন থেকে স্বামী হিসেবে মেনে নিয়েছি।আপনিও নিজের জীবনে এগিয়ে যান।আপনার বন্ধু হিসেবে আমাকে আপনার পাশে পাবেন।

অদ্রিতার কথা শুনে নিলয়ের মন খুশিতে ভরে যায়।অদ্রিতা তার বন্ধু হয়ে তার পাশে থাকবে এটাই তার জন্য অনেক। তাই সে বলে,তুমি আমার বন্ধু হয়ে আমার পাশে থাকবে তবেই হবে।আমার আর কিছু চাই না।অন্য কাউকে নিজের জীবনের সাথে জড়াতে পারবো কিনা তা আমার জানা নেই কিন্তু ভালো থাকার চেষ্টা করবো। তুমি ভালো থেকো,আমার জন্য চিন্তা করতে হবে না।আমি ভালোই থাকবো।তুমি কোন বিপদে পড়লে সব সময় আমাকে পাশে পাবে।দোয়া করি সব সময় ভালো থেকো আর নিজের যত্ন নিও।

অদ্রিতা কোন কথা বলে না।আসলে এখন তার কি বলা উচিত তা সে নিজেই জানে না।তাই শুধু মাথা নেড়ে হ্যাঁ বলে। নিলয় তার অবস্থা বুঝতে পেরে জিজ্ঞেস করে,সন্ধ্যা তো হয়ে গেছে বাড়িতে যাবে না?

হুমম যাবো,আচ্ছা যাই।

সন্ধ্যা হয়ে গেছে,আমি তোমাকে দিয়ে আসি।এখন তোমাকে আমি একা ছাড়তে পারবো না।পরে অথৈকে জিজ্ঞেস করে তুমি কখন যাবে?

অথৈ নিলয়ের দিকে তাকিয়ে অবাক হয়। এতকিছুর পরেও তার জন্য চিন্তা করার জন্য। সে শান্ত স্বরে বলে, কাল যাব।আজ রাতে হোটেলে থাকবো,আপনারা যান।

আচ্ছা আর কিছু না বলে অদ্রিতাকে নিয়ে রেস্টুরেন্ট থেকে বাহিরে চলে আসে।রেস্টুরেন্ট থেকে বাহিরে এসে অদ্রিতা বলে,আমি একা যেতে পারবো আপনি যান।এই বলে সে চলে যেতে নেয় কিন্তু নিলয় তাকে পিছন থেকে ডাক দেয়।অদ্রিতা থেমে পিছনে তাকায়।

নিলয় ভরশা দিয়ে বলে, চিন্তা করো না আমি তোমার শ্বশুরবাড়িতে যাবো না।কিন্তু এই সময় একটি মেয়েকে আমি একা ছাড়তে পারবো না।তোমার শ্বশুরবাড়ির একটু সামনেই তোমাকে নামিয়ে দিব।

অদ্রিতা আর কিছু না বলে নিলয়ের গাড়িতে উঠে। গাড়িতে কেউ আর কোনো কথা বলেনি।নিলয় অদ্রিতার শ্বশুরবাড়ির সামনেই তাকে নামিয়ে দিয়ে চলে যায়।অদ্রিতা কিছুক্ষন নিলয়ের যাওয়ার দিকে তাকিয়ে থাকে পরে বাড়িতে চলে আসে।কলিংবেল
বাজাতেই তার শ্বাশুড়ি দরজা খুলে দেয়।ভিতরে ঢুকতেই জিজ্ঞেস করে,আসতে কোন অসুবিধা হয়নি তো।

না মা,,,,,,,

আচ্ছা যাও।গিয়ে রেস্ট নিয়ে নাও,,,,,

জি, মা।বলে রুমে গিয়ে ফ্রেস হয়ে রেস্ট নেয়,,,,,
.
..

চলবে,,,,,

#গল্প_অপূর্ণতা
#Ritu_Bonna
#পর্ব_৩১

এভাবেই কেটে যায় ১ সপ্তাহ। যদিও তার শ্বশুর-শ্বাশুড়ি তাকে অনেক ভালোবাসে। তাকে নিজের মেয়ের মতো স্নেহ করে তবুও তার ভিতরে খারাপ লাগা কাজ করে।আরিয়ান এতদিনেও তাকে মেনে নিতে পারেনি।

আদৌও কি ওনি কখনো আমাকে মেনে নিবেন?না কালো বলে সবসময় এই ভাবে আমাকে অপমান করবেন, অবহেলা করবেন।ওনিই বা কি করে আমাকে মেনে নিবেন?আমার মতো কালো মেয়েতো সত্যিই ওনার সাথে মানায় না। ওনার সাথে তো কোন সুন্দরী, স্মার্ট ও মর্ডান মেয়েকেই মানায়।যাকে দেখে সবাই তার রুপের প্রশংসা করবে।আমি তো কোন সুন্দরী মেয়ে না।কি করে ওনি আমাকে মেনে নিবেন?বেলকনিতে বসে নিজেই মনে মনে ভাবছে এইসব।

অন্যদিকে আরিয়ান অফিসে বসে আছে।যদিও তার কাজ অনেক আগেই শেষ তবুও বাড়িতে আসছে না।নিজের কেবিনেই বসে আছে।তার কাছে অদ্রিতার ব্যবহার,আচার-আচরণ, মূল্যবোধ,নম্নতা,বড়দের সম্মান করা, ছোটোদের স্নেহ করা এইসবই অনেক ভালো লাগে। তবুও তার মনের ভিতরে একটা দুটানা রয়েই যায়। মাঝে মাঝে মনে হয় সে হয়তো অদ্রিতাকে পছন্দ করে ফেলেছে কিন্তু পরক্ষনেই সে ভাবে,সে কখনোই অদ্রিতাকে পছন্দ করতে পারে না।অদ্রিতা তো তার যোগ্যই না।কোথায় সে আর কোথায় অদ্রিতা।তার সাথে তো অদ্রিতাকে একদমই মানায় না। তার সাথে তো মানাতো রাইসাকে। যেমন সুন্দরী তেমন স্মার্ট আর ধনী। সবদিক থেকে সে তার জন্য পারফেক্ট আর সে তো তাকে ভালোবাসে।সতিই কি তাকে ভালোবাসে কিনা তা এখন বুঝতে পারছে না! এইসব ভাবছে ঠিক সেই সময়ই একটি মেয়ে এসে বলে স্যার, আপনি বাড়ি যাবেন না?মেয়েটি হচ্ছে তার পি.এ। মেয়েটির কথা তার মাথায় ঢুকছে না সে আপন মনে ভেবেই যাচ্ছে। ৩-৪ বার ডাক দেওয়ার পরে আরিয়ানের ভাবনার ছেদ পরে,,,,

আরিয়ান কিছুটা বিরক্ত হয়ে বলে, What’s happen?

আরিশা বুঝতে পেরে নম্র স্বরে বলে,১০ টা বাজে আপনি বাড়িতে যাবেন না?না,মানে আমি তো বাড়িতে যাবো তাই বলছি।তার পি,এ এর নাম আরিশা, আরিয়ানের কথা শুনেই কিছুটা ভয় পায় তাই একটু ভয় পেয়েই কথাটা বলে।

আরিয়ান গম্ভীর স্বরে বলে,আমি কখন বাড়িতে যাবো না যাবো তার কৈফিয়ত কি আমি তোমাকে দিবো নাকি?আর তোমাকে কি আমি যেতে নিষেধ করেছি নাকি?কাজ শেষ হলে চলে যাও।

আরিশা শান্ত স্বরে বলে, জি স্যার সব কাজ শেষ।

তো যাও,,,,,

আরিশা সেখানে আর একমুহূর্তও থাকে না।সাথে সাথেই কেবিন থেকে বের হয়ে নিজের বাড়িতে চলে যায়।আরিয়ান এখনো কেবিনেই বসে আছে প্রায় ১১ টা বাজে।

অন্যদিকে অদ্রিতা তার জন্য না খেয়ে অপেক্ষা করছে সেদিকে কোন খেয়ালই নেই। অদ্রিতা তার জন্য টেনশন করছে। ওনি কি কোন পমলেমে পরেছে নাকি নয়তো প্রতিদিন তো ১০ টা সময়ই বাড়িতে চলে আসে। আজ ১১ টা বাজে এখনো এলেন না।আমি কি ওনাকে ফোন দিয়ে জিজ্ঞেস করবো?না, থাক। আমি ফোন দিলে তো আবার ওনি রাগ করেন। কিন্তু তার মন মানছে না। তাই কল দেয়,যা-ই হোক পরে দেখা যাবে। অদ্রিতা কল দিতেই আরিয়ান ফোন রিসিভ করে কর্কশ স্বরে বলে, কেন কল দিয়েছো?

অদ্রিতা আরিয়ানের কন্ঠ শুনে ভয় পেয়ে বলে, কিছু না।মানে, অনেক রাত হয়ে গেছে আপনি কখন বাড়িতে আসবেন?

আরিয়ান বিরক্তির স্বরে বলে,একটু পরেই আসবো আর কিছু বলবে?

না

তবে রাখি বলে ফোন কেটে দেয়।

প্রায় সাড়ে ১১ টার দিকে আরিয়ান বাড়িতে আসে। কলিংবেলটা বাজাটেই অদ্রিতা দরজা খোলে দিয়ে বলে,আপনি ফ্রেস হয়ে আসেন আমি খাবার গরম করে দিচ্ছি।

আমি খেয়ে এসেছি,তুমি খেয়েছো?

অদ্রিতা কিছুটা অবাক হয় আরিয়ানের কথায়।আরিয়ান তো কখনো জিজ্ঞেস করে না সে খেয়েছে কি না?আবার কিছুটা খুশিও হয়। সে বলে, না।

আরিয়ান ছোট করে বলে,কেন?

আপনার জন্য অপেক্ষা করছিলাম। তাছাড়া আপনি খেয়েছেন কিনা তা না জেনে কি করে খাই?

আরিয়ান বিরক্ত হয়ে বলে, যত্তসব ঢং।এইসব আধিক্ষেতা আমার একদম পছন্দ না।এরপর থেকে যেন এইসব না দেখি।এই বলে রুমে চলে যায়।

আরিয়ানের কথায় সে অনেক কষ্ট পায়। তার ভালোবাসা, কেয়ার তাকে নিয়ে টেনশন করাকে তার ঢং মনে হয়। এখন তার গলাদিয়ে আর খাবার নামবে না।তাই সে কিছু না খেয়েই সবকিছু গুছিয়ে রুমে চলে যায়। রুমে গিয়ে দেখে আরিয়ান ফ্রেস হয়ে বিছানায় শুয়ে ফোন টিপছে।সে কিছু না বলে ওয়াশরুমে চলে যায় ফ্রেস হতে। ফ্রেস হয়ে এসে নিজের বাঁধা চুলগুলো খোলে আয়নার সামনে দাঁড়ায়। চিড়ুনি দিয়ে নিজের চুল আঁচড়াছে। অন্যদিকে আরিয়ান একদৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে আছে।আরিয়ান যেন একধরনের ঘোরের মধ্যে চলে গেছে।আজকে কি খুব ভুল হবে অদ্রিতাকে নিজের করে নিলে।অদ্রিতার চুলের ঘ্রাণ তাকে মাতাল করে দিচ্ছে।সে কিছুতেই নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারছে না।

আজকের রাতটা কেমন যেন অন্যরকম।এখন ডিসেম্বর মাস বাহিরে প্রচন্ড ঠান্ডা পরছে।কিন্তু অদ্রিতার রুমে থাকতে একটুও ভালো লাগছে না।তাই সে একটা চাদর নিয়ে বেলকনিতে চলে যায়।আজ জোসনা রাত। চাঁদের আলোয় চারিদিকটা অনেক সুন্দর লাগছে।কুয়াশা পরছে তার সাথে এই চাঁদের আলো কেন জানি তার এই পরিবেশটা অসম্ভব ভালো লাগছে।আবার মাঝে মাঝেই হালকা বাতাস বইছে।তাতে ঠান্ডাটা যেন আরও একটু বেশিই লাগছে।অদ্রিতার মন চাচ্ছে এমন একটি রাতে আরিয়ানের হাতে হাত রেখে ছাদে গিয়ে প্রকৃতির এই সৌন্দর্যটা উপভোগ করতে।তার কাঁধে মাথা রেখে বসে বসে গল্প করতে। কিন্তু আপসোস এইসবই কোন দিনই সম্ভব নয়।আরিয়ান তো তাকে সহ্যই করতে পারে না। তাকে ভালোবেসে কাছে নেওয়া তো অনেক দূরের কথা।বেলকনিতে দাঁড়িয়ে আছে আর এই কথাগুলো ভাবছে,,,,,,,

অন্যদিকে আজকে আরিয়ানের চোখে ঘুম আসছে না। নিজের মনের ভিতর অদ্ভুত একধরনের অনুভূতি কাজ করছে। আজ সে একধরনের ঘোরে মধ্যে আছে। কিছুতেই সেই ঘোর কাটাতে পারছে না।সে যেন আজ নিজের মাঝেই নেই।কিছু না ভেবে সেও বেলকনিতে গিয়ে দাঁড়ায়। অদ্রিতার পিছনে দাঁড়িয়ে তার চুলের মাতাল করা ঘ্রান নিতে থাকে,,,,,,
.
.
.
চলবে,,,,,,৷

পূর্ববর্তী নিবন্ধ
পরবর্তী নিবন্ধ
গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ