গল্প_নয়_সত্যি
#পর্ব_৪
#কলমে_প্রমা_মজুমদার
কেটে গেছে বেশ কয়েকদিন সবার জীবন চলছে নিজের গতিতে, কিন্তু পরিবর্তন এসেছে পিউয়ের জীবন ধারায়।
সে একটা প্রাইভেট ভার্সিটিতে বিবিএ ভর্তি হয়েছে আর ঢাকায় এসেছে প্রায় দেড়মাস হতে চললো।
ভার্সিটির ক্যাম্পাসের পাশেই ওর হোস্টেল,সেখানেই আছে আপাতত।
এই দেড় মাসে মধ্যে দুইবার নীলা আন্টির বাড়ি গিয়েছিল।
চলুন পিউয়ের মুখ থেকেই শুনে আসি কেমন চলছে তার দিনকাল,,,,
“আহা কি আনন্দ,বলে বোঝানো যাবে না এই কয়দিনে আমি আমার জীবনের সবচেয়ে ভালো সময় কাটিয়েছি।আমার শহরে তো একটা ধরাবাঁধা জীবন ছিলো স্কুল কলেজ আর প্রাইভেট কোচিং এর বাইরে আর কিছু না।সেখানে সবাই বাবার পরিচিত তাই ইচ্ছা থাকলেও কিছু করতে পারতাম না।
আর আদি ভাইয়ার একটা বন্ধু ছিলো সায়ান ভাইয়া সে সবসময় আমার উপর নজর রাখতো আসা যাওয়ার পথে যদি কোনো ছেলের সাথে কথা বলতাম বা দুষ্টুমি করতাম সব তার বন্ধুকে জানিয়ে দিতো।
আর এর জন্য আমাকে যে কতোদিন বকা শুনতে হয়েছে তার কোনো হিসেব নেই।
এখানে তো আমার উপর নজর রাখার কেউ নেই নতুন ক্যাম্পাস,নতুন শহর,নতুন বন্ধু সবাইকেই ভালো লাগছে।
মা বাবার জন্য খারাপ লাগলেও সারাদিনে কয়েকবার কথা বলে সেটা কাটিয়ে ওঠা যায়।আর নীলা আন্টি তো আছেই।
যদিও এখন সে আমার শাশুড়ি কিন্তু আগে তো মায়ের বান্ধবী একদম মায়ের মতোই।
ঢাকা আসার পর প্রথম দুই দিন তার বাড়িতেই ছিলাম।
সেদিন আন্টি একটা ভয়ংকর কাজ করেছে আগে যদিও দুই একবার তার বাড়ি আসা হয়েছিল কিন্তু ছেলের বউ হিসেবে সেটাই প্রথম।
আন্টি ফুলের পাপড়ি ছিটিয়ে মিষ্টি মুখ করিয়ে আমাকে বরণ করে নিয়েছিল।
খুব লজ্জা লাগলেও মুখে কিছু বলতে পারিনি,আসলে আমি মানুষটাই এমন কাউকে নিজে থেকে কষ্ট দিতে পারিনা!
এই যে দেখো আন্টির ছেলের সাথে আমাকে ধরে বেধে বিয়ে দিয়ে দিলো এই নিয়েও কোনো ঝামেলা করিনি কি লাভ অযথা কথা বলে সম্পর্ক নষ্ট করে।
তারচেয়ে এখনই ভালো আছি বিবাহিত ব্যাচেলর!
তবে আমার নামমাত্র বিবাহিত স্বামী কিন্তু আমার ব্যাপার খুব সিরিয়াস।
সেদিন আমার সাথে আমার মা-ও এসেছিল তবে তার হাব ভাব দেখে মনে হচ্ছিলো সে আমার জন্য না বন্ধুর সাথে সময় কাটাতেই এসেছে।আমাকে ওই শিম্পাঞ্জির সাথে একা বাসায় রেখে তারা দুই বন্ধু শপিং করতে চলে গিয়েছিল।
ফিরেছেও রাত করে তবে খালি হাতে তাদের নাকি তেমন কিছু পছন্দ হয়নি একবার ভাবো কেমন ডেঞ্জারাস মহিলা এরা চার ঘন্টায়ও কিছু কিনতে পারেনি?
ও যা বলছিলাম সেই মাথামোটা শিম্পাঞ্জি আমাকে সেদিন অনেক জ্ঞান দিয়েছিল।
কোন সাবজেক্ট পড়বো,কোনটা মেইন সাবজেক্ট রাখবো কার কাছে প্রাইভেট পড়বো সব কিছু।আবার ক্যাম্পাসের বাইরে যেনো না যাই,বই দরকার হলে তাকে যেনো জানাই ফোন সবসময় খোলা রাখি,বেশি বকবক জেনো না করি,সবার সাথে না মিশি এমন আরও হাজারটা উপদেশ দিয়েছিল।
এরপর অবশ্য আমার সেরকম কোনো খোঁজ খবর নেয়নি।
আমার আর তার যে একটা সম্পর্ক আছে সেটা হয়তো ভুলেই গেছে,তবে একটা পরিবর্তন হয়েছে তার বকাঝকা গুল এখন একটু কমে গেছে তাদের বাড়িতে গেলেও বিয়ের ব্যাপার নিয়ে রাগারাগি করে না। আমার সাথেও ঠিকঠাক কথা বলে।
আমার সাথে নিজে থেকে যোগাযোগ করে না এর মধ্যে বেশ কয়েকদিন নীলা আন্টি খাবার পাঠিয়েছিলো ওকে দিয়ে ওগুলো ক্লাস ছুটির পর রাস্তায় দাঁড়িয়েই দিয়ে গেছে। আর আজ এলো এখানে এত্তো কিছু নিয়ে।”
খুব আস্তে ধীরে গুছিয়ে কথাগুলো বলে পিউ তার রুমমেট মিথিলাকে।
মিথিলা থার্ড সেমিস্টারে পড়ে
গত একমাস ধরে সে পিউয়ের সাথে আছে।
পিউ রেডি হচ্ছে আজ ওর ক্লাস নেই কয়েকজন মিলে বসুন্ধরা শপিংমলে যাবে মুভি দেখতে।
মিথিলা সবার সাথে কথা বলে তবেই পিউকে যেতে দিচ্ছে।
বয়সে একটু বড় তাই একটু সাবধান করার চেষ্টা।
পিউ মেয়েটা খুব মিশুকে আর মনটাও খুব ভালো,অনেক আদুরে আদুরে লাগে ওকে।
মা বাবার আদরের রাজকন্যা যাকে বলে ও একদম তাই,তবে বাবার বন্ধুর পরিবারও তাকে খুব আদর করে।
সপ্তাহন্তে এখানে আসে ওর সাথে দেখা করে যায়।আর রোজ রোজ ফোন তো আছেই।
তবে তাদের ছেলে টা আজই প্রথম এসেছিলো হোস্টেলে,একটা বস্তার মতো বড় ব্যাগ ভর্তি খাবার নিয়ে।
এতো খাবার পিউ একা খেয়ে তিন মাসেও শেষ করতে পারবেনা।
ছেলেটাকে মিথিলা আড়াল থেকে দেখেছে তারপরই ওর সন্দেহ হয় নিশ্চয়ই অন্য কিছু আছে দুজনের মধ্যে।
পিউকে একটু জোর করে চেপে ধরায় গরগর করে বলে দেয় তার বিয়ে নামক অঘটনের কথা।
মিথিলার খুব চিন্তা হয় পিউকে নিয়ে,ছেলেটা কজ সত্যিই এতোটাই দায়সারা গোছের নাকি অন্য কিছু আছে?
পিউ একটা লাল কূর্তির সাথে ব্যাগি জিন্স পরেছে,গলায় সাদা রঙের একটা স্কার্ফ কোমড় সমান চুলগুলো পোনিটেল করে বাধা।
চোখে হালকা আইলাইনার আর ঠোঁটে ন্যুড কালারের লিপস্টিক এতেই মেয়েটার সৌন্দর্য্য ঠিকরে পরছে গোলগাল মুখটায় মায়া আছে অনেকক্ষানি।
পিউ গুণগুণ করে গান করে রেডি হয়ে নেয়,রুম লাগোয়া বারান্দায় গিয়ে দাঁড়ায় বন্ধুরা নিচে এসে ওকে কল দিবে।
মিথিলা বই নিয়ে বসেছে।
পিউ একটু মুচকি হাসে মিথিলা আপুকে সব বলা হলেও এটা বলা হয়নি আজ খাবারগুলো তার দুইমাস পুরোনো স্বামী এনেছে।যদিও বলেছে আন্টি পাঠিয়েছে কিন্তু মা আর নীলা আন্টি দুজনের কেউই তাকে এই ধরনের চিপস চকলেট কোল্ড ড্রিংকস খেতে দেয়না।
আজকে ওদের বিয়ের গুণে গুণে দুইমাস পূর্ণ হয়েছে ও কি এটা মনে রেখেছে নাকি এমনিতেই নিয়ে এসেছে?
পিউয়ের নতুন বন্ধু অর্না ফোন দিয়েছে,সে আর দিয়া নিচে চলে এসেছে।
পিউ তাদের সাথেই যাচ্ছে, তিনজনই যাবে তবে পিউ অবশ্য শর্ত দিয়েছে বিকেলের মধ্যেই ফিরে আসতে হবে।ওর নতুন বন্ধুরা কেউই ওর বিয়ের ব্যাপারে জানে না তাই এই নিয়ে বেশি ভাবতে হয়না।মিথিলা আপুকেই আজ প্রথম জানিয়েছে এই কথাটা।
সকাল থেকেই আকাশটা বেশ মেঘলা পিউ ঘুম থেকে উঠলেও বিছানায় বসে আছে আজ ক্লাসে যেতে ইচ্ছে করছে না কিন্তু একটা এসাইনমেন্ট জমা দিতে হবে তাই আলস্য কাটিয়ে উঠে পরে।
পরশুদিন শুক্রবার ইচ্ছা আছে কাল ক্লাস শেষে বাড়ি যাবে দুই দিনের জন্য, রবিবার ফিরে ক্লাস এটেন্ড করবে।
বাবা মাকে ছাড়া এই প্রথম এতোদিন বাড়ির বাইরে তাই মনটা কেমন উদাস হয়ে যাচ্ছে।
কথাগুলো ভেবে পিউ তৈরি হয়ে নেয় আজও একটা শর্ট কুর্তি আর জিন্স পরেছে সাথে স্কার্ফটা সুন্দর করে পিন আপ করে নিয়েছে।
পরপর তিনটা ক্লাস করার পর পিউ বেশ ক্লান্ত হয়ে গেছে,শেষ ক্লাসটা করে বন্ধুদের বলে বেরিয়ে আসে।
গেইটের কাছে আসতেই চোখ যায় দূরে দাঁড়ানো কালো বাইকটার দিকে।
ওর জীবনে এতো কিছুর বদল হলেও এই একটা জিনিস একটুও বদল হয়নি,এই যে কালো বাইক আর হেলমেটের আড়ালে থাকা মানুষটা!
কলেজে পড়ার সময় প্রথম খেয়াল করে এই বাইকটাকে ওর থেকে বেশ খানিকটা দূরত্ব নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতো,বসে থাকা ছেলেটা ঠিক কোনদিকে তাকিয়ে থাকতো তা বোঝা না গেলেও পিউ প্রায়ই তার আশেপাশে এই বাইকটা লক্ষ্য করেছে।
কিন্তু কোনো ডিস্টার্ব করতো না বলে এই ব্যাপারে বেশি গুরুত্ব দেয়নি আর এই নিয়ে কিছু ভাবেনি।
কিন্তু এই শহরেও যখন এই বাইক দেখে পিউ কিছুটা ঘাবড়ে যায়।কিন্তু সে শান্তি প্রিয় মানুষ তাই নিজে থেকে ঝামেলায় জড়ায় না।
তবে বাইক আরোহীর প্রতি তার খুব আগ্রহ আছে।
পিউ হোস্টেলে ঢুকে পরার পর বাইকটা চলতে শুরু করে।
এই গরমে রোদের মধ্যে বসে থেকে আদির ফর্সা মুখটা লাল হয়ে গেছে,কিন্তু কি করবে তার বেয়াদব বউ টা তো তাকে শাস্তি দিয়েই শান্তি পায়।
তাকে ফোন করলেও রিসিভ করে না দেখা করতে গেলেও বেশিক্ষণ সামনে বসে না।কি আশ্চর্য স্বামী হিসেবে কি তার কোনো মূল্য নেই ওর কাছে?
থাকবে কিভাবে একটা মাথামোটা রামছাগল কিনা!
কিছু বুঝতেও চায় না বলতেও চায় না,এই মেয়ের সাথে সংসার শুরু করতে গিয়ে হয়তো দাদু হওয়ার বয়স পেরিয়ে যাবে!
ধ্যাৎ আর ভালো লাগে না।
আদি কথাগুলো ভাবতে ভাবতে অফিসের দিকে এগিয়ে যায়।
পরদিন পিউ রুম থেকে বাড়ি যাওয়ার উদ্দেশ্য নিয়েই বেরিয়ে আসে। ক্লাস শেষ করে সোজা বাসস্ট্যান্ডে যাবে তবে বাবা মাকে কিছু জানায়নি তাদের সারপ্রাইজ দিতে চাইছে।
শেষ ক্লাসটা না করেই পিউ বন্ধুদের নিয়ে বেড়িয়ে আসে। হাতে এক ঘন্টা আছে তাই সবাই রাস্তার উল্টো পাশের একটা ফুচকার স্টলের সামনে যায়।
পিউ ফোনের দিকে তাকিয়ে ছিলো এমন সময় তার পাশে এসে থামে সেই বাইকটা পিউ উল্টো দিকে ঘুরে দাঁড়ায়।
আজ তার খুব ইচ্ছা হচ্ছে আগন্তুকের চেহারাটা দেখার।তাই ফোনের ফ্রন্ট ক্যামেরা অন করে সামনে ধরে রাখে।
বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়না,আগন্তুক নিজেই হেলমেট খুলে ঘামে ভেজা চুলগুলো ঠিক করে নেয়।
পিউয়ের দম বন্ধ হয়ে আসে, এটা কিভাবে সম্ভব!
আগন্তুকের পরনে ফর্মাল শার্ট আকাশী রঙের যা ঘামে ভিজে গেছে বেশ অনেকটা অংশ।মুখের উপর বিন্দু বিন্দু ঘাম যা সে হাত দিয়ে মুছে নিচ্ছে।
আদি ভাইয়া তো এখন অফিসে, এখানে কিভাবে আসবে?
আন্টি যদি খাবার পাঠায় তাহলে তো সে ফোন করে বলে নয়তো আদি ভাইয়া ভার্সিটির গেইটের সামনে দাঁড়িয়ে থাকে।
পিউ যতোদূর জানে আদির বাইক নেই,কোনোদিন তাকে বাইক চালাতেও দেখেনি কিন্তু এই বাইকটা কার?
পিউ এতো প্রশ্ন পেটের ভিতর চেপে রাখতে পারছে না তাই সোজা হয়ে আদির পাশে দাঁড়ায়।
পিউকে দেখে আদি কিছুটা ঘাবড়ে গেলেও মুখে তার প্রকাশ নেই।
সে স্বাভাবিক ভাবেই বলে,মা তোর জন্য খাবার দিয়েছে তাই এগুলো দিতে এলাম।
ওহ্ আচ্ছা,কিন্তু আমি তো আজ বাড়িতে যাবো একটু পর এগুলো নিয়ে যাও।
পিউয়ের কথা টা শুনে আদি ভ্রু কুচকে ওর দিকে তাকিয়ে বলে, “কার সাথে যাবি?”
এবার পিউ একটু ঘাবড়ে যায় এখানে আসার পর একবার বাড়ি গিয়েছিল তাও নীলা আন্টি আর রায়হান আংকেলের সাথে।
কিন্তু আজ তো সে সাহস করে একাই যেতে চাইছে কথাটা বললে নিশ্চয়ই তাকে মাথায় তুলে আছাড় মারবে। কিন্তু মিথ্যা আর কিভাবে বলবে তাই আস্তে আস্তে বলে, একাই যাবো।
কথাটা কানে যাওয়ার সাথে সাথে আদি চোখ বড় বড় করে ওর দিকে তাকায় রাগে মাথাটা গরম হয়ে যাচ্ছে। যে মেয়েকে একা কোথাও যেতে দেয়া হয় না সে একা বাসে করে বাড়ি যেতে চাইছে!
দূরে থাকলেও যাকে আগলে রাখার জন্য এলাকার ছেলেদের সাথে ঝামেলা করতেও পিছপা হয়নি আদি সেই মেয়ে এতো বড় সাহস দেখাচ্ছে,সারপ্রাইজ দেয়ার নাম করে তার হার্ট এট্যাকের ব্যবস্থা করতে যাচ্ছে।
বলদ কোথাকার!
আদি চোখ ছোট ছোট করে ওর দিকে তাকায়।
সাথে পিউয়ের বন্ধুরা আছে তাই আদি সবার সামনে কিছু বলে না।
কিন্তু ওর হাত ধরে বলে,”চল ওই ক্যাফেতে বসে কথা বলি।”
পিউ আর কথা বাড়ায় না,সবার থেকে বিদায় নিয়ে আদির পিছু পিছু এগিয়ে যায়।
আদি একটা কর্ণার এর টেবিলে গিয়ে বসে।
সারাদিন অফিসে খাটাখাটি করে একটু সময় ম্যানেজ করে এখানে আসে এই পাগলীটাকে দেখার জন্য।
একটা হোম মেড খাবারের পেজ থেকে ওর জন্য খাবার নিয়ে আসে আর বলে মা পাঠিয়েছে তা-ও এই মেয়ে কিচ্ছু বুঝতে পারে না।
আজ তো সব ধৈর্য্যের বাধ ভেঙে দিয়েছে, একা একা বাড়ি যেতে চায় যদি সে সময় মতো না আসতো তাহলে হয়তো এতোক্ষণে বাসস্ট্যান্ডে চলে যেতো।
রাগে ওর মাথার শিড়া গুলো দপদপ করছে।
তারপরও শান্ত গলায় বলে,”আজ বাড়ি যেতে হবে না,কাল আমি দিয়ে আসবো এখন এগুলো খেয়ে নে।”
পিউ এই লোকের মেজাজ সম্পর্কে জানে তাই আর কথা না বলে খাবারের বক্সটা নিজের দিকে টেনে নেয়।
সত্যি বলতে খুব ক্ষিধেও পেয়েছে, ভেবেছিল যাওয়ার পথে কেএফসি থেকে কিছু খেয়ে যাবে।
এখন যেহেতু বাড়ির খাবার আছে তাই সে আর না করে না।
আর আছেও তার প্রিয় মোরগ পোলাও তাই বিনা বাক্য ব্যয়ে খাওয়া শুরু করে।
আদি নিজের জন্য এককাপ কফি অর্ডার করে একটু আরাম করে বসে।
এই মেয়েটা তার জীবনটা একদম এলোমেলো করে দিয়েছে।
অনেক দিন অপেক্ষা করেছে এই বোকা গর্ধবটা নিজে থেকে কিছু বুঝতে পারবে না তাই সে ঠিক করেছে নিজের মনের কথা এবার ওকে বলেই দেবে।
আদি মনে মনে নিজেকে তৈরি করছে।
পিউ তৃপ্তি করে খেয়েছে এবার নিজের জন্য একবাটি আইসক্রিমের অর্ডার দিয়ে আদির উল্টো পাশে এসে বসে।
বারবার ওর চোখ বাইকটার দিকে চলে যাচ্ছে।
“আচ্ছা তুমি তো কখনও বাইক চালাও না এটা কার?”
আদি হকচকিয়ে গেল কথাটা শুনে তারপর ঠান্ডা গলায় বলে,
” মা আমার বাইক চালানো পছন্দ করে না তাই বাবা আমাকে কখনও বাইক কিনে দেয়নি।এটা আমার এক বন্ধুর,মাঝে মধ্যে আমি চালাই।”
“তুমি কি এটা নিয়ে কখনও আমাদের শহরে গিয়েছ?”
আদি আবার থতমত খেয়ে যায় কথাটা শুনে,সে একটু জোর গলায় বলে,”কেন এটা কেন বলছিস?”
“আমার কলেজের সামনে এই রকম একটা বাইক নিয়ে একজন আসতো,তাই বললাম তুমি আসতে নাকি?”
“পাগল হয়েছিস তুই?
আমি গেলে তো তুই জানতেই পারতি আমার কেন লুকিয়ে যেতে হবে।”
“হ্যা সেই তো তাহলে হয়তো অন্য কেউ হবে।”
“জানো,একটা বিষয় আমি বেশ বুঝতে পেরেছি।”
“কি?”
“এই যে আমাদের বাবা মায়েরা আমাদের দুজনের জীবন নিয়ে কাবাডি খেলছে এটা কিন্তু ঠিক না।আমাদের দুজনের অমতে আমাদের বিয়ে দিয়ে দিয়েছে।কিন্তু একবারও ভাবেনি এর ভবিষ্যৎ কি হবে?”
কথাগুলো বলে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে পিউ।
আদি এই মেয়েটার সাথে যতোই ভালো কথা বলার চেষ্টা করে মেয়েটা ততোবারই সব ঘেটে দেয়।
এগুলো কেমন কথা ভবিষ্যৎ নেই মানে কি?
তবে আজ নিজের রাগটা কন্ট্রোল করতেই হবে এই মেয়ের মাথায় কি চলছে জানতেই হবে।
তাই আদি গলাটা শান্ত রেখেই বলে,”হঠাৎ এমন কথা বলছিস কেন?”
“এই যে তুমি আমাকে ভালোবাস না,আমিও তোমাকে অন্য চোখে দেখিনি কখনও তাই ভাবছিলাম আরকি।”
“ও,তা তুই ভালোবাসার কি বুঝিস?”
“ওমা ভালোবাসা বুঝবো না!
“জানো আমার ফ্রেন্ড অর্ণার বয়ফ্রেন্ড কাল ওকে মল থেকে একটা বড় সাইজের টেডি কিনে দিয়েছে আমাদের সবাইকে ট্রিট দিয়েছে।আবার ওকে আড়ালে নিয়ে গিয়ে একটা জামা কিনে দিয়েছে।”
একদমে কথাগুলো বলে পিউ একটু দম ফেলে।
“এই কাল না তুই শুধু বান্ধবীদের সঙ্গে গিয়েছিলি তাহলে বয়ফ্রেন্ড আসলো কোথা থেকে?”
পিউ ধরা পরে যাওয়ার মতো মুখ করে বলে,
“আমি তো জানতাম না, যাওয়ার পর দেখেছি।”
ও কথা ঘুরানোর জন্য বলে,”তুমি কিন্তু চাইলে অন্য কাউকে বিয়ে করতে পারো আমার কোনো আপত্তি নেই।”
কথাটা শুনে আদির পায়ের রক্ত মাথায় উঠে যায়।
“আমি বিয়ে করলে তুই কি করবি?”
“আমিও নিজের পছন্দ মতো কাউকে বিয়ে করে নেবো।”
“ও আচ্ছা,কাউকে নিশ্চয়ই এখন পছন্দ করেছিস,নাহলে বিয়ে যখন হয়েছিল তখন বলিস নি কেন?”
“না তেমন না,তবে একজনকে ভালো লাগে কিন্তু সেদিন সাহস করে বলতে পারিনি।”
আদির বুকটা ধ্বক করে ওঠে, কি বলছে এই মেয়ে!
চলবে?
