#হৃদিতে_রিদি
#নীতি_জাহিদ
অন্তিম পাতা.
বর্তমান প্রেক্ষাপট,
৬ এপ্রিল, ২০২৪
মাসুদের উপর প্রচন্ড রেগে আছে দ্বীপ। যদিও মাসুদের কোনো দোষ নেই। উপর থেকে চেক করে এসে দেখে রিদির বাসায় তালা ঝুলছে। এতটা রাস্তা জার্নি করে এসে যদি দেখে বাসায় তালা ঝুলছে সেই মুহুর্ত কতটা বেদনাদায়ক এই মেয়ে কি কখনো বুঝবে! এই মেয়ের হেয়ালীপনার জন্য সবসময় ঝামেলায় পড়তে হয়েছে দ্বীপকে।
দ্বীপ ক্রোধে অন্ধ হয়ে রাহাকে ফোন দিল। রাহা জানাল রিদি তার বাসায়। রাহার বাসার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলো দ্বীপ।
রায়হান দ্রুত অফিস থেকে চলে এসেছে। বহুবার রিদি এবং দ্বীপ উভয়কে বুঝানো হয়েছে সম্পর্কে বিচ্ছেদ যেন না টানে । এরা কেউই মানতে বা বুঝতে রাজি হয় নি। রিদির একটাই কথা তার বিচ্ছেদ চাই। কারণ টা কাউকে খুলে বলে নি। দ্বীপের সাথে সরাসরি আলোচনায় বসতেও রাজি নয় এই মেয়ে।
ঘড়িতে সন্ধ্যা সাতটা। কলিং বেল বেজে উঠেছে। নুভা ছুটে গিয়ে দরজা খুলে দিল। দ্বীপকে সালাম দিতেই দ্বীপ হেসে প্রশ্ন করল, ‘ কেমন আছ মা?’
নুভাকে সবসময় মা সম্বোধন করে এসেছে দ্বীপ। দ্বীপ মামুকে নুভা এবং নুহাশ দুজনই অনেক ভালোবাসে।কিন্তু গত এক বছরে একবারও মামু তাদের বাসায় আসেনি। ফোনে অনুরোধ করলেও আসেনি। আজ আসাতে দুজনই অনেক খুশি। নুভা হেসে হেসে বলল, ‘ মামু তুমি কিন্তু আজ থাকবে? আমি রান্না শিখেছি।’
‘ আচ্ছা, ঠিক আছে আমি খেয়ে যাব আজ নুভা মায়ের হাতের রান্না।’
বাচ্চারা চলে যেতেই রায়হান এবং রাহা দুজনকে নিয়ে আলোচনায় বসল। রায়হান প্রশ্ন করল, ‘ তোমরা আরেকটু সময় নাও। ‘
দ্বীপ ভারী গলায় বলল, ‘ না ভাইয়া। আর সময়ের প্রয়োজন নেই। সময় নিলে তিনমাস একসাথে থাকতে বলবে, আরও আরও অনেক কাহিনি হবে। আপনার বোন যেখানে আমাকে সহ্যই করতে পারছেনা সেখানে সময় নেয়াটাও সময়ের অপচয়। আপনি ওকে ডাকুন। ‘
হাল ছেড়ে দিয়ে রাহা রিদিকে ডেকে নিয়ে আসল। রিদি ধীর পায়ে এসে ড্রইং রুমের সোফায় বসল। দ্বীপকে সালাম দিল। দ্বীপ রিদির দিকে না তাকিয়ে ফাইল খুলতে ব্যস্ত। মাথা নিচু করে কলম এবং ফাইল এগিয়ে দিল রিদির দিকে। রিদি নিজেকে যথেষ্ট শক্ত রাখার চেষ্টা করছে। রাহা এবং রায়হান উঠে চলে গেল। দ্বীপের আঙুল দিয়ে দেখানো জায়গা গুলোতে সই দেয়া শেষ রিদির। দ্বীপ উঠে দাঁড়াল।
রিদির দিকে এবার তাকিয়ে বলল, ‘ ধন্যবাদ মিস রিধিমা, আমাকে এভাবে একা ফেলে চলে আসার জন্য। অসংখ্য ধন্যবাদ আমার একাকিত্বের দিন গুলোতে পাশে না থাকার জন্য। এবং কৃতজ্ঞতা আমার জীবনের সুন্দর একটা বছর নষ্ট করার জন্য। কারণ সেই বছর আমি আপনাকে নিয়ে সিঙ্গাপুর ঘুরে আসার পরিকল্পনা করেছিলাম। আপনি তাতে জল ঢেলে দিয়েছেন। প্রতিবার আমাকে আপনার দুয়ার থেকে ফিরিয়ে দেয়ার জন্য ধন্যবাদ। জানিনা কি অপরাধে এত বড় শাস্তি দিলেন। আপনি আমার ভালবাসা নিয়ে কতদিন একা থাকতে পারবেন জানিনা, আমি আপনার দেয়া বিষাদ নিয়ে এক জীবন পার করে দিব। ‘
রিদি চুপ করে আছে। দ্বীপ রিদির একেবারে কাছে এসে আলতো করে গাল ছুঁলো। কেঁপে উঠল রিদি। ধাক্কা দিয়ে দ্বীপকে সরাতে চাইলেও ব্যর্থ হল। প্রথমবারের মত জোর করে রিদির অধরদ্বয় নিজের নিয়ন্ত্রণে নিল । এত যত্ন, ভালোবাসা দিয়ে আদর সম্ভবত এত বছর সংসার জীবনের কোনোদিন পায় নি।
যাওয়ার আগে বলল, ‘ এই আদরের রেশ আমার মরণ পর্যন্ত থাকুক। আসি। ভালো থাকবেন। ‘
দ্বীপ বেরিয়ে গেল। রিদির শ্বাস আটকে এলো। চিৎকার দিয়ে কেঁদে উঠল। রাহা এবং রায়হান ছুটে এলো। রিদিকে সামলানো যাচ্ছে না। দ্বীপের গাড়ি রাহাদের গ্যারেজ থেকে বেরিয়ে গিয়েছে। রিদির চিৎকারে রায়হান দ্বীপকে ফোন দিলো। এদিকে রিদি আজ মুখ খুলেছে,
‘ আমাকে ধন্যবাদ কেন দিয়েছে বেঈমানটা। কেন ভালবেসে গেল এখন? কেন আমি থাকা অবস্থায় অন্য নারীতে মেতে উঠেছিল? কেন ফারহিনের সাথে ঘন্টার পর ঘন্টা কথা বলেছে? আমাকে কেন বলেনি সে ফারহিন নামে অন্য কারো সাথে সম্পর্কে আছে। আমি তো নিজেও তাকে বহুবার বলেছিলাম বিয়ে করো। কিন্তু সে আমাকে কেন ঠকাল? কি অন্যায় ছিল আমার? ডাক্তার তো আমাকে এ কথা বলেনি যে আমি মা হতে পারব না? শুধু বলেছিল ট্রিটমেন্ট করলে সম্ভাবনা আছে। কেন সে অপেক্ষা করেনি আমার জন্য। পুরুষ মানুষ এত্ত বেঈমান কেন হয়? আমি ডিভোর্স দিতে চেয়েছিলাম অথচ মুখের উপর অপমান করে আমাকে ডিভোর্স দিয়েছে কেন? আমাকে অযোগ্য প্রমান করতে এত মরিয়া হয়ে উঠল কেন?’
রায়হান আর রাহার দম আটকে আসল। এদিকে রায়হান দ্বীপকে কলে করেছিল যে সেই ফোন রিসিভ করে দ্বীপ লাইনে ছিল এতক্ষণ । হুঁশ আসলে সাথে সাথে কল কেটে দিল রায়হান। কি শুনল এতক্ষণ! দ্বীপ পরকীয়া করেছে? নুভা আর নুহাশ পর্দার আড়াল থেকে খাম্মার কান্না দেখছে। রায়হানের ফোনে দ্বীপের কল আসল। রায়হান রিসিভ করতেই বলল,
‘ ভাই স্পিকার দিয়ে রিদিকে শোনান আমি যা যা বলি।’
রায়হান স্পিকারে রাখল। দ্বীপ বলা শুরু করল, ‘ তুমি ভাবলে কি করে তুমি আমাকে ডিভোর্স দিয়ে অপমান করবে আর আমি মুখ বুজে সহ্য করব? তোমাকে আমি ডিভোর্স দিয়েছি এই কথাই বা কে বলেছে ? সারাজীবন তো দুই লাইন বেশি বুঝেছ রিধিমা জাবেদ। আমি বেঈমান? পরকীয়া করেছি? কার সাথে? ফারহিনের সাথে ঘন্টার পর ঘন্টা কথা বলেছি সেটা তুমি কি করে জানতে? আমার ফোন চেক করেছ তুমি? এত সন্দেহ করতে আমাকে? সন্দেহ করতেই পারো। যখন করলে জিজ্ঞেস করলে না কেন ফারহিন সম্বন্ধে? ফারহিন কে জানো তুমি? যে কাগজটাতে সাইন করেছো সেটা কিসের কাগজ দেখেছ? রায়হান ভাই আপনি একবার ওকে দেখান।’
রায়হান কাগজ উলটে স্তব্ধ। রাহা প্রশ্ন করতেই বলল, ‘ এটা তো একটা বাড়ির দলিল।’
দ্বীপ ও পাশ থেকেই বলল,
‘ জি ভাই, বাড়ির দলিল। ম্যাডাম তো কোনটা ডিভোর্স পেপার আর কোনটা বাড়ির দলিল পরোখ না করেই সাইন করে হাউমাউ করছে। আর যে ফারহিনের নাম নিয়েছে ওই ফারহিন আমার ফ্রেন্ডের ছোট বোন। এই বাড়ির আর্কিটেক্ট। বাড়ির কাজ চলছে আজ প্রায় দেড় বছর ধরে। ম্যাডামের মনের মত বাড়ি বানাতে একটা মেয়ের সাথে ঘন্টার পর ঘন্টা কথা বলেছি ভিডিও কলে এবং ফোনে । এক টানা দেশে থাকা হত না তখন ভিডিও কলে স্ট্রাকচার, ডিজাইন দেখাতো। আপনার সময় হলে রিদিকে নিয়ে বাড়িটা ঘুরে আসবেন। আমার জীবনের সব টুকু সঞ্চয় দিয়ে আমি তার নামে বাড়িটা করে দিয়েছি। কারণ সে আমাকে একদিন ঝগড়ার পর বলেছিল, ‘ আজ আমার নিজের বাড়ি থাকলে সেখানে চলে যেতাম। মেয়েদের কেন কোনো বাড়ি হয় না?’ সেদিন কথাটা মাথায় চেপে বসেছিল। আমি চাই নি আমার স্ত্রী আফসোস করুক তার বাড়ি নেই বলে। আমি কত বোকা! আমি ভেবেছি রিদির বোধ হয় আমাকে আর ভালো লাগছে না। তাই আমাকে ছেড়ে চলে গিয়েছে। হয়ত একটু ব্রেক চাইছে, আগের মত সময় দিতে পারিনা বলে। ভাবলাম বাড়ির কাজ টা শেষ হলে সারপ্রাইজ দিব। এই সুযোগে বিসিএস এর পড়াশোনাটাও আগাবে। কিন্তু ওর মনে যে এসব ছিল তা তো ঘুনাক্ষরে ও টের পাইনি। কিসব জঘন্য কারণ খুঁজে বের করল বিচ্ছেদের জন্য । তাকে বলে দিবেন প্রয়োজন হলে ঘোষণা দিয়ে আরেকটা বিয়ে করতাম, পরকীয়া করার কি প্রয়োজন? দুই বউ পালার ক্ষমতা দ্বীপের আছে। এতবড় অপবাদ মেনে নিতে পারছি না আমি। এরচেয়ে মরণ ই তো ভালো ছিল। কি করিনি আমি তার জন্য? তাকে বলে দিন দ্বীপ আর কোনোদিনও কাছে টানবে না তাকে । সে আমার স্ত্রী হয়েই বিচ্ছেদ গ্রহন করুক। তার সাথে আমার আর দেখা না হোক । আল্লাহ হাফেজ।’
রাহা রিদির গালে কষে একটা থাপ্পড় দিল। রিদি নিশ্চুপ। রায়হান বাধা দিল। রিদির চোখের সামনে ভেসে উঠল ফারহিনের সেই মেসেজ,
‘ আপনি চাইলেও ভুলতে পারবেন না আমাকে । আমি নিজের সেরাটা দিব। ভালোবাসার জায়গায় নো কম্প্রোমাইজ। ‘
এই মেসেজ টা এমন ছিল যে কেউ সন্দেহ করবে। এর মানে কী দাঁড়ায়? রিদি কি করে জানবে এই মেসজের অর্থ ভিন্ন ছিল। তখন রায়হান রিদিকে প্রশ্ন করল, ‘ ফারহিনের পুরা নাম কি?’
রিদি ভেজা গলায় বলল, ‘ ফারহিন আহমেদ’
রায়হান দাঁত কিড়মিড়িয়ে বলল, ‘ আসলেই তুই ছাগল। ফারহিন আহমেদের কাছে কাজ করানোর জন্য সিরিয়াল লাগে। উনি কত বড় আর্কিটেক্ট তুই জানিস? জিহান সেলিব্রিটি বলেই বাড়ির কাজটা করাতে পেরেছে। কিসের সাথে কি মিলাস তুই? ফারহিন ম্যারিড। ওর হাসবেন্ড ও অনেক বড় মাপের আর্কিটেক্ট। দুজনের একটা ফার্ম আছে। ওদের বেবিও আছে। বোকার মত কাজ করেছিস রিদি।’
রিদি চুপ করে আছে। রাহা চিল্লাতে চিল্লাতে ঘর মাথায় তুলে ফেলেছে। বেশি আহ্লাদ দিয়ে রিদিকে সবাই মাথায় তুলেছে বলে বকে যাচ্ছে বাবা মাকে ফোন দিয়ে। রিদিকে বাসা থেকে বের হয়ে যেতে বলেছে। রিদিও বের হয়ে গেল জেদ করে। রায়হান পড়েছে চিপায়। তবে শান্তি এই ভেবে যে ডিভোর্স হয় নি।
বাসার নিচে নেমে রিদির মনে সব পুরনো স্মৃতি ভাসছে। এই ফারহিনের সাথেই নিয়াজ ছবি তুলে রিদিকে পাঠিয়েছিল। রিদি না হয় এসব আর্কিটেক্ট চিনলো না, নিয়াজ কি চিনে নি? নাকি কাজটা ইচ্ছাকৃত ছিল? সম্পর্কে তৃতীয় ব্যক্তির অনুপ্রবেশ কতটা জঘন্য আজ রিদি বুঝতে পারছে।
পুরো পরিস্থিতি এভাবে ঘেটে গেল কেন? চুলগুলোতে হাত খোঁপা করল রিদি। ওড়না তুলে ঘোমটা দিল মাথায়। রাস্তায় নেমে দ্বীপের নাম্বার টা ব্লক খুলে দিল। কল করল। বার বার কেটে যাচ্ছে। এবার মনে হলো দ্বীপ রিদিকে ব্লক করে দিয়েছে। একটা রিকশাও নেই রাস্তায়। বৃষ্টি হচ্ছে। সবসময় বৃষ্টিই কেন তার সব পরিস্থিতিতে হাজির হয়। নেমে পড়ল পানিতে। অন্য আরেকটা সিম থেকে দ্বীপকে কল দিতেই রিসিভ করল দ্বীপ। রিদি ও পাশ থেকে চিৎকার দিয়ে বলল,
‘ খবরদার কল কাটবেনা। আগে আমার কথা শোনো?’
দ্বীপ ফোন কেটে দিল। রিদি বৃষ্টিতে ভিজে বাসায় পৌঁছাল। রিদি হাঁচি দিতে দিতে ব্যাগ গুছাতে লাগল। রাতের ট্রেন ধরে রওয়ানা হলো চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে। রিদি আর দ্বীপের সেপারেশনের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের পাশে বাসা ভাড়া নিয়েছিল এক বান্ধবীর সাথে। এই বাসাটাও যে দ্বীপ পছন্দ করে নিয়ে দিয়েছে কিছুক্ষণ আগে তার বান্ধবী জানাল।
বাসা নেয়ার পর স্নাতকোত্তরে ভর্তি হল। গত এক বছর দ্বীপ বহুবার চেষ্টা করেছে রিদির সাথে যোগাযোগ করতে। দেখাও করতে চেয়েছে। রিদির আকস্মিক পরিবর্তন দ্বীপকে ভাবিয়েছে। বহুবার প্রশ্ন করেছে। উত্তর মেলে নি। দেখতে দেখতে সময় পেরিয়ে গিয়েছে। দ্বীপের উপর খেলা, বাড়ির কাজ সব মিলিয়ে মানসিক চাপ এসেছিল। ভেবেছিল রিদির জন্মদিনে এই বাড়ি উপহার দিবে। কিন্তু গত মাসে রিদি ডিভোর্স ফাইল করার পর দ্বীপের দুনিয়া হেলে গেল। ঠান্ডা মাথায় ভেবে চিনতে আজকের সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে। ডিভোর্স না দিয়েই সম্পর্কে বিচ্ছেদ টানবে যা ডিভোর্স এর চেয়েও বেশি যন্ত্রণাদায়ক।
___
সকাল আটটা। ট্রেন চট্টগ্রাম এসে থামল । একটা সি এন জি নিয়ে নিজের শ্বশুর বাড়ি গিয়ে উঠল। রাহেলা খানম খুশিতে ছেলের বউকে জড়িয়ে ধরলেন। সাজিনা ভাইয়ের বউ পেয়ে মহাখুশি। রিদনের স্ত্রী প্রমি বাবার বাড়ি বেড়াতে গিয়েছিল। রিদি আসার খবর পেয়ে খুশিতে চলে এসেছে।
মিজান সাহেব বললেন, ‘ অথর্ব টা তাহলে ডিভোর্স দেয় নি। যাক আমার ছেলে তো বুদ্ধিমানের কাজ করেছে। কিন্তু বৌমা তুমিও কিছু কাজ বোকার মত করলে। ওর সাথে ঝগড়া হয়েছে তো কি হয়েছে এই বাড়ি আসা বন্ধ করলে কেন?’
রাহেলা ইশারা দিল স্বামীকে যেন এটা নিয়ে আর কথা না বাড়ায়। মিজান সাহেব কথা না বাড়িয়ে নিজের কামরায় চলে গেলেন। রিদি জামা পালটে কোমড়ে ওড়না গুঁজে আগের মত কাজে নেমে পড়ল ননদ এবং শাশুড়ির সাথে। সেই মুহুর্তে কলিং বেল বেজে উঠল। তফুরা এসেছে তার কন্যা অঞ্জনাকে নিয়ে। অঞ্জনা রিদিকে দেখে চমকে গেল। রাহেলা বিরক্ত হয়ে রিদিকে বলল,
‘ সংসারের চাবি তোমার হাতে তুলে দিলাম। যদি পারো এই মা মেয়েকে দমিয়ে সংসারে সুখ আনো। আমি ক্লান্ত মা। এদের সাথে আর পারব না। আমার দোয়া রইল।’
অঞ্জনা ভেতরে ঢুকে রিদনকে প্রশ্ন করল, ‘ এই মেয়ে এখানে কী করছে? ওর না জিহান ভাইয়ের সাথে সেপারেশন হয়েছে?’
রিদন ভ্রু কুচকে বলল, ‘ যার যেখানে জায়গা সে সেখানে এসেছে। আর ভাবী বলবি, ‘ এই মেয়ে ‘ কি কথা? তুই কেন এসেছিস? ফাঁকা মাঠে গোল দিতে? প্রয়োজনে আরো অনেক গুলো প্লেয়ার ভাড়া করব তোকে পেটানোর জন্য তবুও ভাইকে তোর হাত থেকে বাঁচাব। কসম।’
প্রমিও পেছন থেকে দরজায় গোড়ায় এসে দাঁড়াল। রিদিকে জড়িয়ে ধরল। তফুরা রিদিকে আগাগোড়া পরোখ করে বলল, ‘ ওই ভাতার বুঝি দাম দেয় না যে ভাতারের জন্য আমার ভাইপুত রে ছাইড়া গেছিলা। ‘
রিদি ঠোঁট বেঁকে বলল, ‘ আমার জন্য তো রাস্তায় লাইন পড়ে যায় ছেলেদের। কিন্তু কি করব আপনার ভাইপুত তো আমাকে ছাড়া কিছু বুঝেনা। একটা বাড়িও বানিয়ে দিয়েছে। এছাড়া কত শাকচুন্নির নজর আছে আমার দ্বীপের দিকে। তাকে বাঁচাতে এলাম।’
‘ তাহলে গেছ কেন ছাইড়া? অন্য বেডাগো বিছানায় যাইয়া চাখা শেষ তাই এখন এখানে আসছ । হাছা কতা কও।’
প্রমি দাঁত খিচিয়ে বলল, ‘ হ সব তো আপনার মেয়ের মতো।’
অঞ্জনা চেতে প্রমির দিকে এগিয়ে আসবে রিদি প্রমির সামনে দাঁড়াল। রিদন তো পারলে মারামারি বাঁধিয়ে দিবে। রিদি সব সামলে বলল,
‘ চাখার জন্য কি বিছানা লাগে, চোখ দিয়েও চাখা যায়। এই যেমন অঞ্জনার সংসার না টেকার পেছনে কারণ আপনি। অথচ রাজ্যের সবাইকে বলে বেড়াচ্ছেন ওর প্রাক্তন স্বামী খারাপ ছিল। ‘
তফুরা চোখ ক্ষীণ করে বলল, ‘ মুখ সামলে কথা বলবা। আর তুমি তো ওর জামাই রে ভালোই বলবা । রতনে রতন চিনে। যেমন তুমি তেমন ওর আগের স্বামী।’
রিদি একপেশে হাসি দিয়ে বলল, ‘ আর অর্ধেক বলেন, শূয়রে চিনে কচু। কচু হচ্ছে আপনাদের ছেলে। আর আপনি কি সেটা তো বলতে হবে না নিশ্চয়ই। আপনাদের করোনার সময়ে চেনা শেষ আমার। কোথায় ছিল আপনার মেয়ের ভালবাসা তখন। কই করোনায় তার ভালবাসার জিহান ভাই যখন আধমরা হয়ে গিয়েছিল তখন কেউ একবারও তো আসলেন না। এখন দরদ উতলে পড়ছে।’
রিদন সবার সামনে ফোন ধরল। কলের ওপাশে দ্বীপ ছিল। স্পিকারে দেয়া ফোন, ‘ আমার রিদিকে নিয়ে কেউ একটা বাজে কথা বললে তার জিব টেনে ছিঁড়ে ফেলব। বড়, ছোট কোনো লেহাজ করব না। ‘
ফোন কেটে গেল। রিদির থেমে গেল । দ্বীপের বলা বাক্য গুলো তার ভেতর টা পুড়িয়ে দিচ্ছে। এখনও রিদিকে সব ঝামেলা থেকে আগলে নিচ্ছে। রিদি কি করে পারল দ্বীপকে অবিশ্বাস করতে? সবার সামনে থেকে নিজের রুমে চলে আসল। দরজা আটকে দিল। তফুরার সাথে আর গলা মেলাতে ইচ্ছে করছে না। নিয়াজের ফোন এসেছে। রিদি রিসিভ করে বলল,
‘ ফারহিনকে চিনিস না?’
‘ চিনি তো তোর হাসবেন্ড এর সাথে দেখেছিলাম।’
‘ বললিনা কেন তবে?’
‘ বলেছি তো দুজনকে খুব কাছাকাছি দেখেছি একই টেবিলে খাচ্ছে। ‘
‘ কারো সংসার ভাঙা যে অপরাধ জানিস? সংসার আল্লাহর রহমত। পরিচিত মুখ আমার স্বামী। তাই বলে ওর নামে এমন একটা কথা বলা তোর ঠিক হয় নি।সত্যিটা তুই আমার মুখ থেকে শোন। ফারহিন আর আমার স্বামী দুজনই কাজের ব্যাপারে কথা বলেছিল। তাদের মধ্যে কোনো অঅভ্যন্তরীণ সম্পর্ক নেই। আমি ফারহিন আপুর সাথে কথা বলেছি। দুই লাইন বাড়িয়ে বলা তোর ঠিক হয়নি। আর কখনো আমার সাথে যোগাযোগ করবিনা।’
দ্বীপকে বেশ কয়েকবার ফোন দিয়েও পেল না। দীর্ঘ শ্বাস রিদির। কাঁদল সময় নিয়ে। এবার দ্বীপ সত্যি বিচ্ছেদ ঘটাল। মনের বিচ্ছেদ। একটা বছর যে ভুল ধারণা নিয়ে বিচ্ছেদ ছিল সেটিই তো ভালো ছিল। এখন তাদের সম্পর্ক থেকেও নেই। দ্বীপ আর কাছে আসবে না হয়ত। শাশুড়ির মুখে শুনেছিল, দ্বীপের রাগ উঠলে সেই রাগ সহজে কেউ ভাঙাতে পারে না। সহজে রাগে না এমন ধারার মানুষ গুলোর রাগ ভাঙানো জটিল।
__
সাজিনা বাবা মায়ের কাছে বসে আছে। এই মুহুর্তে রুমে থমথমে পরিবেশ। মিজান সাহেব বলল,
‘ কাকে যে দোষ দিব আর কার প্রতি যে সহানুভূতি দেখাব বুঝতে পারছিনা। ভুল তো ভেঙে গেল দুজনের মধ্যে। এখন উচিত কাছাকাছি থাকা।’
সাজিনা বলল, ‘ ভাবী কেঁদেই যাচ্ছে রুমের দরজা আটকে।’
প্রমি এবং রিদন ও এলো। বাবা মায়ের পায়ের কাছে বসল দুজন। রিদন বাবাকে বলল, ‘ আব্বু আমাদের সব কি আগের মত ঠিক হবে না?’
ভেতর থেকে ফোস করে শ্বাস ফেলল মিজান সাহেব। রাহেলা হা হুতাশ করে বললেন,
‘ সুখের সংসারে নজর লেগেছে। তোমার তিনবোনের নজর ই যথেষ্ট সব ধ্বংস করার জন্য। না হলে তোমার এত বুঝদার ছেলে মেয়েটাকে কেন বুঝল না? তোমরা ছেলেরা কি করে বুঝবে মা না হওয়ার কষ্ট। রিদির বুকের ভেতর কী চলছে আমরা বুঝি। রিদি ছোট মানুষ হাজার ভুল করবে কিন্তু জিহানের উচিত ওকে আগলে নেয়া। ও কেন সব ছেড়ে ছুড়ে দূরে সরে যাবে। আমি এই ব্যাপারে কোনো সহযোগীতাই করব না জিহানকে। অবশ্য তোমার ছেলে এর চেয়ে আর কি ভাল হবে। তোমরা তো বিপদে পালিয়ে যাও। এখন তুমি ভদ্রলোক হয়েছ, আগে তুমিও এমন ছিলা। ‘
মিজান সাহেব ভ্রু কুচকে বললেন, ‘ মাঝখান থেকে আমাকে টানবে না। দোষ করেছে তোমার ছেলে। আমাকে কেন টানছ?’
সাজিনা দুজনকে থামিয়ে বলল, ‘ কি শুরু করেছেন আব্বু আম্মু । থামুন আপনারা। ভাবী যদি ভাইয়ার সাথে সরাসরি কথা বলত এত ঝামেলা হত ই না।’
রাহেলা বললেন, ‘ বলে নি তো, কি করার আছে? খুন করবি নাকি মেয়েটাকে সবাই মিলে? এই কথা বলে আর কোনো লাভ আছে? ভুল তো মানুষ ই করে, জন্তু জানোয়ার তো নয়। ‘
প্রমি বলল, ‘ এখন দেখার বিষয় কবে ভাইয়া-ভাবীর সংসার জোড়া লাগে? আমাদের পারফেক্ট কাপল আলাদা হয়ে গেল এটা ভাবতেই কষ্ট হচ্ছে। ‘
___
পরিশিষ্টঃ
সাল ২০২৫
রিদির সিস্টের আকার ছোট হয়ে এসেছে। ডাক্তার বলেছে যত দ্রুত সম্ভব বেবির জন্য চেষ্টা করতে। দেরি করলে সমস্যা বাড়বে বৈ কমবে না। রিদি ইষৎ হাসে। সংসারটাই তো তার হারিয়েই গেল নিজের ভুলের জন্য। বেবির আশা করা মানে আকাশ কুসুম চিন্তা।
বিসিএস এর ফলাফল ঘোষণা হয়েছে। রিদি পেরেছে নিজের স্বপ্ন পূরণ করতে। এই আনন্দ পরিবারের সবার মাঝে ছড়িয়ে পড়লেও গোমড়া মুখ রিদির। আজ দ্বীপ পাশে থাকার কথা ছিল। যে বিচ্ছেদের সূচনা রিদি করেছিল প্রায় দু বছর আগে তা এখনও শেষ হয় নি। রাহেলা প্রায় নিরবে কাঁদেন ছেলের জন্য। ছেলে বাড়ি ফিরে না। বাড়ির সবার সাথে মাঝে মাঝে কথা হলেও রিদির সাথে হয় না। রিদিও জোর করে না। শুরু টা তো রিদি করেছিল, কোন মুখে শেষের কথা বলবে?
রিদিকে উপহার দেয়া বাড়ি থেকে রিদি ঘুরে এসেছে। তবে এই বাড়িতে দ্বীপকে ছাড়া কখনোই থাকতে পারবেনা। বাড়ির দিকে তাকিয়ে সেই মেসেজের প্রতিটি শব্দ মিলিয়ে দেখল সত্যি ফারহিনের ভালোবাসা দিয়ে তৈরি এই বাড়ি। নিজের দিক থেকে সেরা টাই দিয়েছে ফারহিন। বাড়ির নাম ‘ হৃদিতে রিদি’। এমন একটা কাজের জন্য ফারহিনকে প্রকৃতপক্ষে চাইলেও ভুলা যাবে না। তার সবটুকু ভালবাসা দিয়ে এই বাড়ির ডিজাইন সে করেছে।
বাড়ির নিচ তলায় দ্বীপের নির্দেশে রিদির জন্য লাইব্রেরি করা হয়েছে। লাইব্রেরির একটা নাম দিয়েছে, ‘ হৃদয় সখার শাখা ‘। আসলেই তো! বই তো হৃদয়েরই সখা। দ্বীপের প্রতি হয়ত রিদি একজীবন কৃতজ্ঞতা আদায় করেও শেষ করতে পারবেনা। কারণ দ্বীপ মানুষটাই এমন, যার মেজাজ রিদির ক্ষেত্রে বরফের মত শীতল , যার মন তুলোর মত কোমল। তবে সেই কোমল মনের বরফ শীতল দ্বীপ এখন অনল। তাকে ধরা যায় না, ছোঁয়া যায় না। অজানাতে হারিয়েছে মানুষটা। ফিরে আসার প্রত্যাশায় দিন কাটে রিদির।
___
এক বসন্ত পেরিয়ে আরেক বসন্ত চলে এলো। কিন্তু দ্বীপ এলো না। বাবার বাড়ি বেড়াতে এসেছে রিদি। একা একা শাড়ি, দু হাত ভর্তি কাচের চুড়ি পরে কলেজে ঘুরতে এসেছে। মাঠের গ্যালারিতে কত জুটি দেখা যাচ্ছে। বিকেলে মিষ্টি রোদ গা ছুঁয়ে যাচ্ছে। রিদি হাঁটছে কলেজ মাঠের রাস্তা ধরে। আচমকা একটা ফুটবল সামনে চলে এলো। রিদি ছিটকে গেল। ঘাড় ঘুরিয়ে দেখে দ্বীপ দাঁড়িয়ে আছে। বিস্মিত হল। এ যেন ভ্রম! খুশিতে নেচে উঠল মন। ইচ্ছে করল ছুটে গিয়ে জড়িয়ে ধরতে। নিচ থেকে ফুটবলটা নিয়ে দ্বীপের দিকে তাকাতেই দেখল সেখানে দ্বীপ নয় অন্য একটা ছেলে দাঁড়িয়ে আছে। মুখের সেই উজ্জ্বল হাসিটা মুহুর্তেই নিভে গেল। ছেলেটাকে বল টা দিয়ে সামনে পা বাড়ালো।
ইদানীং দ্বীপকে হ্যালুসিনেট করে। প্রায় সময় রাতে মনে হয় দ্বীপ পাশে আছে। রিদির রাগ, অভিমান ভাঙাচ্ছে। আগে রিদি যখন রাগ করত, দু গাল ধরে ঠেসে চুমু খেত আর রিদি বার বার গাল মুছত। দ্বীপ হেসে প্রতিবার চুমু দিয়ে বলত,
‘ আমি তো দিব-ই। তুমি কতবার মুছতে পারো দেখি।’
এখন আর রিদি রাগ করে না, কারণ ভাঙানোর মানুষ টাই নিরুদ্দেশ। ফোন নাম্বার ব্লক করলেও মেসেজ দেয়া যায়। রিদি একটা মেসেজ লিখল দ্বীপকে ,
‘ আট বছর পর কলেজে এসেছি । একা হাঁটছি। পাশে হাত ধরার মানুষ টা নেই। আমি তাকে ভীষণ মিস করছি।’
কোনো প্রতুত্তর এলো না। বেশ কিচ্ছুক্ষন পর জবাব এলো,
‘ এক বছর পূর্ণ হতে আরও একদিন বাকি।’
বাহ, কি বিষাদময় প্রতিশোধ! সুদে-আসলে বদলা নেয়া হচ্ছে । রিদির এখন উপলব্ধি হয় দ্বীপের কষ্ট টা। সে কিভাবে দ্বীপকে দূরে সরিয়ে রেখেছিল সেই এক বছর? কমলা রঙের সূর্যটা ধীরে ধীরে অস্ত যাচ্ছে। রিদি সেদিকে তাকিয়ে দেখছে দ্বীপকে ছাড়া আরও একটা দিনের সমাপ্তি। ফুটবলটা পুনরায় রিদির সামনে এলো তবে এবার সামান্য কোমড়ে লেগেছে। রিদি তেঁতে উঠে পেছন ফিরে বলল,
‘ খেলতে যখন পারেন না খেলতে আসেন কেন?’
লোকটা সামনে এগিয়ে এসে ফুটবলটা তুলল ৷ রিদি এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে ভাবছে বার বার একই ভুল করছে কেন? ঘুরে গেল রিদি। পেছন থেকে পরিচিত স্বরে বলল,
‘ একা খেলতে খেলতে ক্লান্ত হয়ে নতুন ভাবে খেলা শিখতে এসেছি আপনার কাছে। ‘
রিদি ঘাড় ঘুরিয়ে দেখল সত্যি দ্বীপ দাঁড়িয়ে আছে। এবার আর হ্যালুসিনেশন হচ্ছে না রিদির। অঝোর ধারায় ঝরছে অনিমন্ত্রিত চোখের জল। নাকের পাটাতন ফুলে উঠেছে। উচ্চশব্দে কেঁদে কেঁদে বলছে,
‘ কেন ছেড়ে গিয়েছিলে আমায়? না হয় একটা বড় ভুল করে-ই ছিলাম। তাই বলে এমন সমুদ্রসম শাস্তি দিবে যে শাস্তির কোনো কূল কিনারা নেই। ‘
দ্বীপ হেসে বলল,’ তরী ভিড়াতে জানতে হয় মিসেস রিধিমা জাবেদ।’
‘ আমার তরীটাই যে ভাঙা। সাঁতার পারিনা, উদ্ধার করার মানুষ টাও নেই। ডুবে ডুবে জল খাচ্ছি। সে কি জানে না যে তার চেয়ে বেশি কেউ বোঝে না তার রিদিকে , বেশি কেউ ভালবাসে না। ভালবাসা টা কি কমে গেল তবে?’
‘ তাকে এতটাই ভালবাসলাম যে নিজেকে ভালবাসতে ভুলে গেলাম। অথচ সে ভালবাসাকে পায়ে ঠেলে দিয়ে বিচ্ছেদ চাইল। আমি কি তবে বিচ্ছেদেরই যোগ্য?’
রিদি কাঁদতে কাঁদতে বলল, ‘ বলেছি তো ভুল করেছি। মা না হওয়ার যন্ত্রণা নিতে পারিনি আমি। যে মানুষটা আগলে রাখত তার ব্যস্ততার দূরত্ব মেনে নিতে পারিনি। স্বামীর ফোনে পরনারীর মেসেজ দেখে আমার জায়গায় অন্য যেকোনো নারী রিয়েক্ট করত। হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে বাসা ছেড়েছি। ভুলের পর ভুল করেছি। প্রশ্ন করা উচিত ছিল করিনি। আমি না হয় ভুল করেছি কিন্তু সে কেন পাষাণ হলো? সে কেন উঁচু গলায় সবাইকে বলল যে আমাকে ভালবেসে ভুল করেছে।’
‘ মাঝে মাঝে নিজের গুরুত্ব বোঝাতে পাষাণ হতে হয়। ভুল তো অবুঝকে ভালোবেসে অবশ্যই করেছি তাই দূরত্ব টেনেছি। কিন্তু পারলাম কই, সেই তো আকাশসম অভিযোগের ভার কাঁধে নিয়ে ফিরে এলাম।’
রিদি কেঁদে কেঁদে প্রশ্ন করল , ‘ আরেকবার কি নতুন করে শুরু করা যায় না?’
খানিকটা এগিয়ে এলো দ্বীপ, রিদির কপালে কপাল ঠেকিয়ে জিজ্ঞেস করল, ‘ কোথায় থেকে, একদম প্রথম থেকে?’
রিদি নাক টেনে মাথা নাড়ল। দ্বীপ হেসে খানিকটা পেছালো। পকেট থেকে একটা লাল গোলাপ বের করে রিদির দিকে এগিয়ে দিল। হাত বাড়িয়ে দিল হ্যান্ডশেক করার জন্য,
‘ আসসালামু আলাইকুম , আমি শাহদ্বীপ জিহান। বাংলাদেশ ফুটবল টিমের ক্যাপ্টেন। আর আপনি? ‘
গোলাপ টা নিয়ে দ্বীপের বাড়িয়ে দেয়া হাতের দিকে তাকিয়ে রিদি মুচকি হাসল। নাক টেনে হাত এগিয়ে দিয়ে হ্যান্ডশেক করে বলল,
‘ ওয়ালাইকুমুস সালাম , আমি রিধিমা জাবেদ। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, চুয়াল্লিশ তম বিসিএস। আপনার সাথে পরিচিত হয়ে ভাল লাগল। বন্ধু হবেন?’
‘ উঁহু, সংসার করব। আবার ভালোবাসার মতো ভুল কাজ করব। বার বার করব, বুক ফুলিয়ে করব। ভুল করে বলব আমি এই ভুল হাজার বার করতে চাই। রিদিকে হৃদিতে রাখতে চাই। ‘
সমাপ্ত।
