Saturday, June 6, 2026







বাড়ি"ধারাবাহিক গল্প"বিষাক্তফুলের আসক্তিবিষাক্তফুলের আসক্তি পর্ব-০১+০২

বিষাক্তফুলের আসক্তি পর্ব-০১+০২

#বিষাক্তফুলের আসক্তি
লেখনীতেঃ তাহমিনা তমা
পর্ব-০১+০২
১.
বিয়ের আসরে কনে প্রেগনেন্সির রিপোর্ট হাতে নিয়ে স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। না না রিপোর্টটা কিন্তু তার নয়। রিপোর্টটা বিয়ের আসরে হাজির হয়ে বরের প্রেমিকা দাবি করা মেয়েটার। আশেপাশের এতো সেলিব্রিটি আর মিডিয়ার হইচই কিছুই কানে যাচ্ছে না মৌয়ের। রিপোর্টে পজিটিভ লেখাটা জ্বলজ্বল করছে চোখের সামনে। একজন ডাক্তার হওয়ার দরুন রিপোর্টটা ফেইক নয় সেটা বুঝতে অসুবিধা হলো না মৌয়ের। জলে টইটম্বুর চোখে সামনে দাঁড়িয়ে থাকা বর বেশের ছোটবেলার প্রিয় বন্ধু, কিশোরী মনের প্রথম মুগ্ধতা, প্রথম প্রেম আর মনের কোণে লুকানো গভীর ভালোবাসার মানুষটার দিকে তাকালো। চিরচেনা মানুষটাকে আজ বড্ড বেশি অচেনা লাগছে।

এসব কী তাজ ?

তাজ রাগী গলায় বললো, আমিও তো সেটাই জানতে চাইছি এসবের মানে কী ?

তাজের বাবা ইকবাল খান রক্তবর্ণ চোখে ছেলের দিকে তাকিয়ে সজোরে থাপ্পড় লাগিয়ে দিলো ছেলের গালে। এতক্ষণের অশান্ত পরিবেশ এক নিমিষেই শান্ত হয়ে গেলো একটা থাপ্পড়ের আওয়াজে।

বর্তমানে দুই বাংলার মানুষের কাছে সবচেয়ে জনপ্রিয় মুখ সুপারস্টার তাজওয়ার খান তাজ। চলচ্চিত্র জগতে পদার্পণ করেছে বছর পাঁচেক হয়েছে কিন্তু জনপ্রিয়তা তার তুঙ্গে আর সে দাঁড়িয়ে আছে সফলতার চূড়ায়। ৬ ফুট উচ্চতার ছেলেটা যেমন হ্যান্ডসাম দেখতে, তেমনই তার আকর্ষণীয় পার্সোনালিটি, সাথে আছে মনোমুগ্ধকর গানের গলা আর অভিনয় দক্ষতা। এতেই দুই বাংলার মানুষের মনে জায়গা করেছে গভীরভাবে। হাজারো তরুণীর স্বপ্ন পুরুষ আজ সবার মন ভেঙে বিয়ের পিড়িতে বসেছিলো বাবার অনুরোধে। পাত্রী তারই ছোটবেলার বান্ধবী মৌমিতা রহমান। কাজী কেবলই তাজকে কবুল বলতে বলেছে তখনই মেয়েলি কণ্ঠে সবাই থমকে গেলো।

এই বিয়ে হবে না কাজী সাহেব ?

গলার আওয়াজ অনুসরণ করে সামনে তাকিয়ে নিজের ম্যানেজার মিস মুসকান মাহমুদ তিতিরকে দেখে বেশ অবাক হয়ে গেলো তাজ। তিতির তার নিজের ব্যক্তিগত গুরুত্বপূর্ণ কাজের কথা বলে বিয়ের কোনো অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেনি। তাজের প্রফেশনাল লাইফের বড় একটা দ্বায়িত্ব সামলায় তিতির। আজ দু’বছর ধরেই সেই কাজ করে আসছে। সে কেনো হঠাৎ তাজের বিয়ে আটকাচ্ছে কেউ বুঝতে পারছে না।

তাজ ভ্রু কুঁচকে বললো, এসব কী বলছো তুমি তিতির ?

তিতির রোবটের মতো বললো, আপনি এই বিয়ে করতে পারেন না স্যার ?

তাজ এবার রাগী গলায় বললো, But why Titir ?

তিতির পূর্বের ন্যায় বললো, আপনি এভাবে আমাকে ধোঁকা দিতে পারেন না স্যার।

তাজ অবাক আর বিস্মিত গলায় বললো, What are you talking nonsense ?

ইতিমধ্যে পুরো বিয়ের আসরে নানা গুঞ্জন শুরু হয়ে গেছে। সবাই নিজেদের মধ্যে নানা রকম কথাবার্তা বলে চলেছে। মৌমিতা আর চুপ করে থাকতে পারলো না এবার।

কাঁপা গলায় বললো, এসবের মানে কী তিতির ? কেনো এসব বলছো তুমি ?

তিতির বরাবরের মতোই যান্ত্রিক গলায় বললো, স্যারের সাথে আমার এক বছরের সম্পর্ক। আমি স্যারের সন্তানের মা হতে চলেছি। এই বিয়ে হলে আমি আমাদের সন্তানকে কার পরিচয়ে বড় করে তুলবো ?

তিতিরের কথা শুনে সবার মাথায় বাজ পড়ার মতো অবস্থা। মৌ দুই কদম পিছিয়ে গেলো তিতিরের কথা শুনে। বাকি সবাই স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে, তিতিরের কথা বুঝতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে সবার।

তাজ হতবিহ্বল হয়ে চেঁচিয়ে বললো, What ?

তিতির নির্বিকার হয়ে দাঁড়িয়ে আছে৷ যেনো অনুভূতিহীন কোনো জড়পদার্থ সে। একটা দীর্ঘ শ্বাস ছেড়ে নিজের ব্যাগ থেকে প্রেগনেন্সি রিপোর্ট বের করে তাজের দিকে এগিয়ে দিলে মৌ খপ করে নিয়ে যায় সেটা। তারপরেই উপরিউক্ত ঘটনা ঘটে গেছে।

ইকবাল খান রাগে দাঁত খিঁচিয়ে বললো, এজন্যই আমি ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি এতটা ঘৃণা করি। এজন্যই আমি বারবার নিষেধ করেছিলাম। বলেছিলাম তোমাকে এই নোংরা জগতে পা রেখো না। কিন্তু তুমি আমার কথা একবারের জন্যেও গুরুত্ব দাওনি। নর্দমায় নামলে গায়ে সেই নর্দমা আবর্জনা লাগবে এটা অস্বাভাবিক আর কী ? তুমি আমার ছেলে এটা ভাবতেই লজ্জায়, ঘৃণায় মরে যেতে ইচ্ছে করছে আমার।

তাজ অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে নিজের বাবার দিকে। এটা তারই বাবা তো ? যে বাবা কখনো তার গায়ে ফুলের টোকা দেয়নি সেই বাবা আজ সারাদেশের মানুষের সামনে তাকে থাপ্পড় মারলো। নিউজ চ্যানেলগুলো সরাসরি সম্প্রচার করছে এই অনুষ্ঠানের সব নিউজ। তাজ নিজের বিস্ময় কাটিয়ে উঠতে পারছে না। কী হচ্ছে সে কিছুই বুঝতে পারছে না এই মুহুর্তে, মাথা ফাঁকা ফাঁকা লাগছে তার। পাঁচ বছর ধরে একটু একটু করে কুড়ানো সম্মান, ভালোবাসা সবই আজ মাটির সাথে মিশে গেছে এক নিমিষেই।

তাজ ভাঙা গলায় বললো, সবকিছু মিথ্যা। She is lying.

মাথা নিচু করে চোখের পানি ফেলছে তিতির। মৌ পাথরের মুর্তির মতো দাঁড়িয়ে আছে। মৌকে আগলে ধরে রেখেছে তার মা।

তাজ এবার চিৎকার করে বললো, সব মিথ্যা। ওর বলা প্রত্যেকটা শব্দ মিথ্যা।

তিতির মনে মনে বললো, আমাকে মাফ করবেন স্যার। আমার যে কিছুই করার নেই আজ। সময় আমাকে স্বার্থপর হতে বাধ্য করছে।

তিতির নিজের ব্যাগ থেকে আরো কিছু প্রমাণ বের করে সামনের টেবিলে রাখলো। আপাতত যেখানে তাজ আর মৌয়ের বিয়ের চকচকে সাদা কাগজের কাবিনখানা রয়েছে। শুধু সাইন করা হয়ে উঠেনি কারো। তিতিরের প্রমাণগুলোর মধ্যে অনেকগুলো ছবি, যেখানে হাসোজ্জল কিছু ছবি তিতির আর তাজের। দেখে কারো বুঝতে অসুবিধা হবে না তারা সুখী কাপল, কারণ ছবিগুলো তেমন পোজে তোলা, একটা মোবাইল, যাতে আছে কিছু কল রেকর্ড আর ভিডিও ক্লিপ। মৌ এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে ছবিগুলোর দিকে। কেউ আর বাকি প্রমাণ যাচাই করে দেখার আগ্রহ দেখালো না। দেখার মতো মানসিক অবস্থাও নেই কারো এখন। তাজ তাকিয়ে আছে তিতিরের দিকে আর তিতির নিজের দৃষ্টি মাটিতেই আবদ্ধ রেখেছে। তিতিরের যে আজ তাজের চোখে চোখ রাখার সাহস নেই, যদিও আগেও কোনোদিন ছিলো না। তবে আজকের পর আর কোনোদিনই হয়তো সেই সাহস আর হয়ে উঠবে না। আর তাজ তিতিরকে চিনতে পারছে না আজ। তার সমানে দাঁড়িয়ে থাকা মেয়েটার মাঝে গত দুই বছরের চেনা তিতিরকে খোঁজে পাচ্ছে না। এদিকে পরিস্থিতি ক্রমশ খারাপের দিকে যাচ্ছে। তাজ আর ইকবাল খানের সব গার্ড মিলেও প্রেস মিডিয়া কন্ট্রোল করতে পারছে না৷ তারা নানারকম প্রশ্ন ছুঁড়ে দিচ্ছে তিতির আর তাজের দিকে। ইতিমধ্যে নিজেদের মনগড়া কাহিনী বানিয়ে প্রচার করাও হয়ে গেছে।

ইকবাল খান পরিস্থিতি সামলাতে বললো, তাজের বিয়ে হবে আর সেটা আজ আর এখনই। তবে মৌমিতার সাথে নয় তিতিরের সাথে।

ইকবাল খানের এক কথায় সকলেই তাকালো তার দিকে, একমাত্র তিতির ছাড়া। তাজ তাকিয়ে আছে নিজের বাবার দিকে। মৌমিতা আর এতোটা সহ্য করতে পারলো না সেন্সলেস হয়ে নেতিয়ে পড়লো।

২.
সুপারস্টার তাজওয়ার খান তাজের স্ত্রী হয়ে খুব আনন্দ হচ্ছে মিস তিতির উপস সরি মিসেস তিতির, উপফে মিসেস তাজওয়ার খান তাজ।

তাজের রুমের বেলকনিতে দাঁড়িয়ে চোখের পানি ফেলছিলো তিতির। ভাবছিলো কী থেকে কী করে ফেললো আজ সে ? তখনই তাজের মাতাল কণ্ঠে কেঁপে উঠলো তিতির। ভয়ে হাত-পা জমে আসছে তার। তার জানা মতে তাজ কখনো ড্রিংস করে না, তবে আজ ?

তাজ তিতিরের কাঁধ ধরে এক ঝটকায় নিজের দিকে ঘুরিয়ে নিলো।

গাল চেপে ধরে বললো, কেনো করলে এমন ? কী ক্ষতি করেছিলাম আমি তোমার ?

তাজ এতো শক্ত করে গাল ধরেছে তিতিরের মনে হচ্ছে দাঁত ও ভেঙে ভেতরে ঢুকে যাবে। তবু তিতির একটা আওয়াজও করলো না। চোখ বন্ধ করে ব্যাথা সহ্য করতে লাগলো।

তাজ আবার বললো, সোনার চামচে খেয়ে বড় হয়েছে এই তাজওয়ার খান তাজ। খান গ্রুপ অব কোম্পানির একমাত্র উত্তরাধিকারী। এই সবকিছু ফেলে নিজের স্বপ্ন পুরণের পিছনে ছুটেছে এই তাজ। পাঁচ বছরে নিজের বাবার পরিচয়ের বাইরে আলাদা একটা পরিচয় তৈরি করেছে একটু একটু করে। স্বপ্ন পূরণের স্বাদ যখন উপভোগ করার সময় এসেছে ঠিক তখনই এক মিনিটে তুই সব মাটির সাথে মিশিয়ে ফেললি। যে তাজ বলতে মেয়েটা পাগল ছিলো তারাই আজ তাকে ছি ছি করছে। একটা অটোগ্রাফ নেওয়ার জন্য যারা হুমড়ি খেয়ে পড়তো তারাই ঘৃণায় মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে আজ।

তাজ এবার তিতিরের গলা টিপে ধরে বললো, সবকিছু হয়েছে শুধুমাত্র তোর জন্য। আমার বাবা-মাও আমাকে ভুল বুঝেছে শুধুমাত্র তোর জন্য।

দম বন্ধ হয়ে আসছে তিতিরের। তবে কী আজই তার জীবনের শেষ দিন ? কিন্তু তার তো এখনই মরলে চলবে না। যার জন্য সে এতোটা স্বার্থপর হয়ে তাজকে ধ্বংস করে দিলো, তিতির মরে গেলে তার কী হবে ? এই পৃথিবীর নিষ্ঠুরতম মানুষগুলো তো শিয়াল শকুনের মতো ছিঁড়ে খাবে অবুঝ প্রাণটাকে। না না তিতিরকে বাঁচতে হবে, নিজের জন্য নয় সেই প্রাণটার জন্য হলেও আজ নিজের প্রাণ বাঁচাতে হবে।

তিতির মনে মনে আওড়াতে লাগলো, আমাকে বাঁচতে হবে ?

নিজের সর্বশক্তি দিয়ে তাজকে ধাক্কা দিলো। তাজ খানিকটা পিছিয়ে গেলো তিতিরের থেকে। কিছুটা ড্রাংক থাকায় তাজকে সরাতে সক্ষম হয়েছে তিতির। তাজ সরে যেতেই তিতির কাশতে কাশতে নিচে বসে পড়লো। চোখ থেকে অঝোরে পানি গড়িয়ে পড়ছে তার। নিয়তি বরাবরই তার জন্য নিষ্ঠুর। গত দুই বছর তো ভালোই ছিলো সে। তাজ অসম্ভব ভালো একজন মানুষ। হাসিখুশি আর বন্ধুসুলভ সবার জন্য। এতো বড় একজন মানুষ হয়েও বিন্দুমাত্র অহংকার নেই তার মধ্যে। তিতিরকে কতোটা সাহায্য করেছে সেটা একমাত্র তিতির বলতে পারবে। আজ অসহায় হয়ে সেই মানুষটার সবচেয়ে বড় ক্ষতি করেছে তিতির। বলতে গেলে যার নুন খেয়েছে তার সাথেই নিমকহারামি করেছে। কিন্তু তিতিরের যে হাত-পা বাঁধা। দু’হাতে মুখ লুকিয়ে চিৎকার করে কাঁদতে লাগলো তিতির।

ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেওয়ায় দিগুণ রেগে গেলো তাজ। এগিয়ে এসে তিতিরের চুলের মুঠি ধরে দাড় করালো। ব্যাথায় কুঁকড়ে উঠলো তিতির কিন্তু মুখে একটা শব্দও করছে না।

তাজ দাঁত খিঁচিয়ে বললো, এতবড় সাহস তোর ? এই তাজওয়ার খান তাজকে ধাক্কা দিস। যার বিছানা সঙ্গী হওয়ার জন্য এতো বড় নাটক করলি তাকেই ধাক্কা দিয়ে দূরে সরিয়ে দিচ্ছিস কেনো ? তুই এতবড় অভিনেত্রী আগে জানলে আমার মুভির হিরোইন বানাতাম।

তিতির চোখ বন্ধ করে আছে। এখন পর্যন্ত একবারও চোখ তুলে তাকায়নি তাজের দিকে। এবার পিটপিট করে তাকালো তাজের দিকে। তিতিরের মুখ থেকে মাত্র কয়েক ইঞ্চি দূরে তাজের মুখখানা। রাগে পুরো মুখ লাল হয়ে আছে, যে চোখ দেখে তিতির একসময় তার প্রেমে পড়েছিলো সেই চোখদুটো আজ ভয়ংকর লাগছে তিতিরের কাছে। তাজের গায়ের এলকোহলের গন্ধে তিতির নাড়িভুড়ি দলা পাকিয়ে বের হয়ে আসতে চাইছে যেনো।

তিতির অনেক কষ্টে বললো, স্যার আমার লাগছে, প্লিজ ছাড়ুন।

তিতিরের কথায় তাজ আরো রেগে গেলো যেনো। হাতের মুঠোয় আরো শক্ত করে ধরলো তিতিরের চুল।

তাজ বুকের বা পাশে আঙ্গুল রেখে বললো, আমারও লাগছে ঠিক এখানে। তোর জন্য আজ আমি কী কী হারিয়েছি তোর কোনো ধারণা আছে ? তোকে প্রথম যেদিন দেখেছিলাম মনে হয়েছিলো ফুটফুটে পবিত্র একটা ফুল। কিন্তু তুই তো বিষাক্তফুলের রুপ নিলি আমার জীবনে।

তিতির আবারও কেঁদে উঠলো। নোনাজল গাল বেয়ে নিচে নামতে লাগলো। তাজ বা’হাতে তিতিরের চুল ধরে আছে। ডান হাতের তর্জনী আঙ্গুলের ডগায় তিতিরের এক ফোটা চোখের পানি তুলে নিলো।

গম্ভীর গলায় বললো, এটা তো কেবল শুরু মিসেস তিতির। আজ থেকে তোমার জীবনের প্রতিটা মুহুর্তে এই নোনাজলের স্বাদ পাবে তুমি। যতটা কষ্ট আমাকে দিয়েছো তার থেকেও হাজার গুণ কষ্ট তোমাকে ফিরিয়ে দিবো। স্বপ্ন ভাঙার কষ্ট ঠিক কতটা হাড়ে হাড়ে টের পারে। আপন মানুষগুলোর ঘৃণার দৃষ্টি কতটা ক্ষত বিক্ষত করে তুমি বুঝতে পারবে।

কিছুটা সময় চুপ করে তিতিরের দিকে তাকিয়ে রইলো তাজ। কতটা নিষ্পাপ মেয়েটার মুখ। কেউ কী বিশ্বাস করবে এই মেয়েটা এমন জঘন্য একটা কাজ করেছে। এই মায়াভরা মুখটা দেখে যে কেউ ধোঁকা খেয়ে যাবে। ফর্সা মুখটা লাল বর্ণ ধারণ করেছে কাঁদতে কাঁদতে। নাকের ডগা টকটকে লাল হয়ে গেছে, লাল রঙা ঠোঁট দুটো মৃদু কাঁপছে।

তাজ হঠাৎ কঠিন গলায় বলে উঠলো, আচ্ছা বল তো কার পাপের ফসল আমার উপর চাপিয়ে দিলি ? আমি কখনো কল্পনাও করিনি মানুষ চিনতে আমার এতটা ভুল হবে। তোকে দেখে বরাবরই নিষ্পাপ আর পবিত্র মনে হয়েছে। কিন্তু তুই তো একটা চরিত্রহীন মেয়ে। তোর পেটের পাঁপটা কার বল তো।

তিতির অসহায় চোখে তাকালো তাজের দিকে। যে মেয়ের হাত কোনো ছেলে এখন পর্যন্ত স্পর্শ করতে পারেনি তাকে আজ চরিত্রহীন অপবাদ শুনতে হচ্ছে। কিন্তু সে কিছুই বলতে পারছে না। চিৎকার করে বলতে পারছে না আমি চরিত্রহীন নই, নেই কারো পাপের ফসল আমার পেটে, নই আমি চরিত্রহীন। আমি তো কেবল কারো নোংরা খেলার একটা গুটি মাত্র। আমার জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল আপনার চাকরিটা করা। তা নাহলে আজ এতবড় একটা মিথ্যা অপবাদ নিজের কাঁধে নিতে হতো না। আপনি সব হারিয়ে থাকলে আমিও সব হারিয়েছি। কারণ আমার মতো মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ের কাছে তার সম্মানই সবকিছু। যেটা আমি সারাদেশের মানুষের সামনে নিজ হাতে জলাঞ্জলি দিয়েছি।

তাজ তিতিরের থেকে দূরে সরে দাঁড়িয়ে বললো, যার পাপ পেটে নিয়ে ঘুরছিস তার কাছে না গিয়ে আমাকে কেনো ফাঁসালি ? তাজওয়ার খান তাজের স্ত্রী হওয়ার লোভে ? পাওয়ার, প্রোপার্টি এসবের লোভে ?

এলকোহলের নেশা অনেকটাই কেটে গেছে তাজের। এসবে অভ্যস্ত না থাকায় খেতে পারেনি খুব একটা। এলকোহলের নেশা কেটে গিয়ে তাজের মাথায় প্রতিশোধের নেশা চেপে বসেছে।

তিতিরের দিকে ঘৃণার দৃষ্টিতে তাকিয়ে বললো, খুব শখ সুপারস্টার তাজওয়ার খান তাজের স্ত্রী হওয়ার। আজ সেই শখ পূরণ করবো আমি তোর। নরক যন্ত্রণা ভোগ করবি আজ তুই।

তিতির মাথা নিচু করে কাঁদছিলো। তাজের কথা শুনে প্রশ্নবোধক দৃষ্টিতে তাকালো তার দিকে। তিতির কিছু বুঝে উঠার আগেই তাজ হাত বাড়িয়ে তিতিরের চুল মুঠি ধরে কাছে টেনে আনলো। ব্যাথায় চোখ বন্ধ করে করে ফেললো তিতির। ঠোঁটে আরেক জোড়া ঠোঁটের অস্তিত্ব অনুভব হতেই বড়বড় চোখে তাকালো। জীবনের প্রথম কোনো পুরুষের স্পর্শ পেয়ে শিহরিত হওয়ার আগেই তীব্র ব্যাথায় কুঁকড়ে গেলো। তীক্ষ্ণ ধারালো দাঁতের আঘাতে মুহূর্তে ঠোঁট কেটে নোনতা স্বাদের তরল বেড়িয়ে এলো। এতে হেলদোল হলো না অপর পাশের ব্যক্তির। সে নিজের রাগ মেটাতে ব্যস্ত। অনেকটা সময় পর তাজ ছেড়ে দিলো তিতিরকে। ব্যাথায় চোখ বন্ধ করে আছে তিতির।

তাজ তিতিরের দিকে তাকিয়ে বাঁকা হেঁসে বৃদ্ধাঙ্গুলি দিয়ে তিতিরের ঠোঁটের রক্ত মুছে নিয়ে রক্তমাখা আঙ্গুলের দিকে তাকিয়ে বললো, তাজ এই প্রথম কোনো মেয়েকে স্পর্শ করলো। কেমন লাগলো মিসেস তিতির ? আমার যদিও এটা প্রথম কিন্তু আপনার তো প্রথম নয়। আগে হয়তো স্বর্গ সুখ উপভোগ করেছিলেন এবার নরক যন্ত্রণা ভোগ করবেন। নিজেকে তো আমি নির্দোষ প্রমাণ করবোই তার আগে তোর জীবন নরক করে দিবো।

কথাটা শেষ করে তিতিরের চুলের মুঠি ধরে টেনে রুমে নিয়ে বিছানায় ছুঁড়ে ফেললো। তিতির তাজের দিকে তাকিয়ে ভয়ে কুঁকড়ে গেলো। তাজ নিজের শেরওয়ানীটা খোলে ফেলে দিলো ছুঁড়ে। রাগে হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছে তাজ। মৌ ছাড়া কোনো মেয়ের সাথে তাজ কখনো ফ্রী ভাবে কথাও বলেনি। হিরোইনদের সাথেও কাজের বাইরে খুব একটা কথা হয় না তার। সেই ছেলেটাকে সবাই চরিত্রহীন উপাধি প্রদান করেছে এই মেয়ের জন্য ৷ কীভাবে মেনে নিবে তাজ ? তাজের সব শেষ করে দিয়েছে মেয়েটা। এবার তাকে শেষ করে তাজ। হিংস্র বাঘের মতো ঝাঁপিয়ে পড়লো তিতিরের উপর। তাজ ব্যস্ত নিজের রাগ মেটাতে আর তিতির নরক যন্ত্রণায় ছটফট করছে।

৩.
তাজের মা মিসেস ইরিনা রহমান নিচু গলায় বললো, এভাবে তাড়াহুড়ো করে বিয়েটা দিয়ে কী ঠিক করলেন আপনি ? নিজের ছেলেটার কথা একবার বিশ্বাস করতে পারলেন না। একবার সত্যি মিথ্যা যাচাই করা উচিত ছিলো না কী ?

ইকবাল খান ইজি চেয়ারে বসে আছে চোখ বন্ধ করে। স্ত্রীর কথা শুনে তার দিকে তাকিয়ে বললো, পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে গিয়েছিলো। কোনটা ঠিক কোনটা ভুল ভাবার সময় ছিলো না। তবে এখন কেনো জানি মনে হচ্ছে অনেক বড় ভুল হয়ে গেলো। আমাদের শিক্ষা তো এমন নয়। আমাদের ছেলে এমনটা করতে পারে না।

ইরিনা দীর্ঘ শ্বাস ছেড়ে বললো, আপনি চাইলেই সত্যিটা যাচাই করতে পারতেন খুব সহজে।

এমন একটা পরিস্থিতিতে পড়লে কারো মাথায় ঠিকভাবে কাজ করবে না। এখন তো অনেক কিছুই মনে হচ্ছে। কথায় আছে না, “চোর গেলে বুদ্ধির উদয় হয় “। এখন নিজের অবস্থা তেমনই মনে হচ্ছে।

ইরিনা বললো, তিতির মেয়েটাকেও আমি ভালো করেই চিনি। খুবই ভদ্র আর শান্তশিষ্ট একটা মেয়ে। ঐ মেয়েটাই বা মিথ্যা বলবে কেনো বুঝতে পারছি না।

আমাকে ভাবতে দাও ইরি। এখানে অনেক বড় ষড়যন্ত্র লুকিয়ে আছে মনে হচ্ছে।

এদিকে বিয়ের বেনারসিটা এখনো গায়ে জড়িয়ে আছে মৌ। চোখের পানিও শুকিয়ে গেছে তার। এখনো বিশ্বাস করতে পারছে না তাজ এমনটা করেছে। একই সাথে বড় হয়েছে তারা। তাজ মৌয়ের দেড় বছরের বড়, তবু তাদের বন্ধুত্ব ছোটবেলা থেকে। তাজ বরাবরই মেয়েদের থেকে একটু দূরত্ব বজায় রাখতো। এজন্যই মুভিতে কাজ করতে গিয়ে প্রথম দিকে হিরোইনদের সাথে কাজ করতে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে তাকে। পরে ধীরে ধীরে সহজ হয়েছে। তবে কী এই ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি তাজের এতোটা অধঃপতনের কারণ। তাজের ফিল্মে যাওয়া নিয়ে ইকবাল খানকে মৌ রাজি করিয়েছিলো অনেক কষ্টে। সেটাই জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল মনে হচ্ছে মৌয়ের কাছে।

হঠাৎ মৌয়ের মনে হলো, আচ্ছা আমি কোনো ভুল করলাম না তো ? তাজ তো বলছিলো মেয়েটা সব মিথ্যে বলেছে। কিন্তু একটা মেয়ে কীভাবে নিজের নামে এতবড় একটা মিথ্যা বলবে ? আর রিপোর্টটা তো ফেইক ছিলো না, সেটা বুঝতে আমার ভুল হতে পারে না। আর সেই ছবিগুলো, সেগুলো দেখেই তো আমার দুনিয়া উলটপালট হয়ে গেছে। সত্যি মিথ্যা যাচাই করার শক্তিটুকুও ছিলো না।

মৌ আর ভাবতে পারছে না। একবার মনে হচ্ছে তাজ সত্যি বলছে আবার মনে হচ্ছে মেয়েটার প্রমাণগুলো তো মিথ্যা ছিলো না। ক্লান্ত শরীর নিয়ে ওয়াশরুমে ঢোকে গেলো মৌ। বাথটবে গিয়ে শুয়ে পড়লো। চোখ বন্ধ করতেই চোখের কোণ বেয়ে নোনাজল গড়িয়ে পড়লো। চোখে ভাসতে লাগলো তাজের সাথে কাটানো হাজারো মধুর স্মৃতি। মুহুর্তে কেঁদে উঠলো মৌ।

তিনটা হাসোজ্জল মুখের ছবির দিকে তাকিয়ে আছে এক জোড়া চোখ। ঠোঁটের কোণে তার পৈশাচিক হাসি। একটা লাইটার দিয়ে ছবির এক কোণে আগুন জ্বালিয়ে দিলো লোকটা।

তারপর উচ্চ স্বরে হাসতে হাসতে বললো, দুই বছরের সাজানো খেলা এতো সহজে নষ্ট করতে পারবি না মিস্টার তাজওয়ার খান তাজ। দুই বছর ধরে খেলাটা সাজিয়েছি আমি। তারপর জাস্ট একটা চাল এতেই তোর সবকিছু চোখের পলকে মাটির সাথে মিশিয়ে দিলাম। তোর মানসম্মান, ক্যারিয়ার, আপনজন, ভালোবাসা সব এক চালেই শেষ। অনেক কষ্টে সাজিয়েছি খেলাটা। বেচারি তিতির বোনটা আমার। ও তো আমার খেলার একটা গুটি মাত্র। যে গুটিটা চেলেছি আরো দুই বছর আগে। যত ইচ্ছে যাচাই করে নে কিন্তু কিছুতেই সত্যিটা সামনে আনতে পারবি না। রিপোর্ট তো সেটাই আসবে যেটা আমি চাইবো। আমি যে কাঁচা খেলোয়াড় নই। বাচ্চাটা তোর নয় সেটা প্রমাণ করা তো দূর তুই এটাই প্রমাণ করতে পারবি না তিতির প্রেগনেন্ট নয়। একটা সময় ছিলো তুই আমার থেকে এগিয়ে ছিলি কিন্তু এখন আমার ক্ষমতার কাছে তুই কিছুই না। এবার আমি যেমন চাইবো তেমনই হবে তোর জীবনে। শুধু তোকে হারাবো বলে অন্ধকার জগতে পা রাখার আগে একবারও ভাবিনি আমি।

চলবে,,,,,

গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ