Friday, June 5, 2026







বাড়ি"ধারাবাহিক গল্প"প্রিয়দর্শিনীপ্রিয়দর্শিনী পর্ব-২৮+২৯

প্রিয়দর্শিনী পর্ব-২৮+২৯

#প্রিয়দর্শিনী🍂
#সুমাইয়া_যোহা

পর্ব-২৮

যদিও শীতকাল কিন্তু আকাশটা আজকে অনেক পরিষ্কার। তবুও হালকা ধূসর কুয়াশায় ছেয়ে আছে প্রকৃতি। আজকে মাহিম আর তিথির এনগেজমেন্ট এবং তরুনিমা আর পান্থরও এনগেজমেন্ট। সন্ধ্যার দিকে মূলত অনুষ্ঠান শুরু হবে। যার কারনে পুরো বাড়ি আজ জমকালো রূপে সাজানো হয়েছে। সবার ড্রেসকোডও দেয়া হয়ে গেছে। নীল রঙের শাড়ি আর ছেলেরা নীল রঙের স্যুট। ড্রেস সিলেকশন পান্থ নিজেই করেছে। তরুনিমার সাথে পান্থর সেদিনের পর এই বিষয়ে আর কোনো কথা হয় নি। পান্থ তরুনিমাকে পর্যাপ্ত সময় দিয়েছে। এই সময়ের মাঝে অনেক কিছুই পরিবর্তন হয়েছে। তরুনিমা নিজের ভেতরের সেই আমিটাকে আবারও খুঁজে পেয়েছে। পান্থ সিলেট আসা সত্ত্বেও তরুনিমা পান্থকে কোনো কিছু বুঝতে দেয় নি। তরুনিমা ওর এনগেজমেন্টের ব্যাপারে কিছুই জানে না। পান্থর পরিবার এবং পান্থ মিলেই কবির হাসনাতের সাথে কথা বলে সবকিছু ঠিক করেন। মেয়ের সুখ যেখানে নিহিত সেখানেই মেয়ের বিয়ে ঠিক করতে পেরে তিনি অনেকটা খুশি। তরুনিমা দুদিন হলো সিলেট থেকে ফিরেছে। মিনহাজের পরিবারসহ সবাই ঢাকায় ফিরেছে অনেক আগেই কিন্তু তিথি মাহিম এবং তরুনিমা সমস্ত কাজ শেষ করে সিলেট থেকে একসাথেই ঢাকায় ব্যাক করেছে। তরুনিমা তিথি সাথে গিয়ে তিথির এনগেজমেন্টের সব শপিং করেছে। সবার ড্রেসকোড এক হওয়াতে কোনো সমস্যা হয় নি। তবে যেহেতু হবু বধুকে সবার থেকে একটু হলেও ভিন্ন থাকতে হবে আর সে সুবাদে তিথির জন্য যা কিনা হয়েছে তরুনিমার জন্য তাই কিনা হয়েছে তবে সেটা তরুনিমার আড়ালে। তরুনিমা এখন অবদি পান্থর বাসায় যায় নি। এই দুদিনে তরুনিমার সাথে একবারও অন্তত পান্থর দেখা মিলবে সেই আশাতেই ছিল। কিন্তু পান্থ তরুনিমার ঢাকায় আসার পর থেকে একটা ফোনও দেয় নি। তরুনিমা উপর থেকে পান্থর প্রতি যতোটা শক্ত দেখাচ্ছে, তার অনুভূতি গুলো লুকিয়ে রাখার চেষ্টা করছে কোনো না কোনোভাবে পান্থর কাছে সে ধরা পড়ে যায়। পান্থ তরুনিমা প্রতিটা পদক্ষেপে যেন অক্ষরে অক্ষরে চিনে ফেলেছে।

তরুনিমা নিজের ঘরে চুপিচুপি বসে ফোন গুতোচ্ছে। হুট করেই চেনা পরিচিত কন্ঠে পেয়ে সে ড্রয়িং রুমে পা দিতে দেখে পান্থ এসে উপস্থিত। তরুনিমার খুশি আর কে দেখে। সে যেন এখনই লাফাতে লাফাতে পান্থর কাছে গিয়ে ধরা দেয়। তবুও নিজেকে সংযত রেখে অভিমানে মুখ ফুলিয়ে আবার ঘরের উদ্দেশ্যে পা বাড়াতেই অন্তু বলে উঠে-

: এই আপু! কোথায় যাচ্ছো? দেখো পান্থ ভাইয়া কতো মজার খাবার এনেছে। তোমার ফেবারিট কাপকেকও এনেছে। তাও চকলেট ফ্লেভারের। ইয়াম্মি…

: কাপকেক খাওয়ার বয়স আছে নাকি তোমার আপুর! আমি তো তোমার, উষা আর ইশানের জন্য এনেছি। ওর এগুলো খেতে হবে না। তোমরা খাও।

পান্থর ফোনের দিকে তাকিয়ে থেকে কথাগুলো তরুনিমাকে একপ্রকার রাগানোর জন্যই বলে। তরুনিমা ঘাড় ঘুরিয়ে পান্থর দিকে তাকাতে লক্ষ্য করল পান্থ নিজের ফোনের দিকে অনবরত তাকিয়ে আছে এবং তার গভীর মনোযোগ সেই ফোনের দিকেই। এসব দেখে তরুনিমা রেগেমেগে হনহন করে ঘরের ভেতর চলে যায়। অন্তু তৃষা আর ইশান কাপকেক গুলো ভাগাভাগি করে খেতে নিলে তৃষা উঠে গিয়ে তরুনিমার জন্য কাপকেক নিতে নিলে পান্থ এবার ফোনটা একপাশে রেখে বলে-

: কি হলো তৃষা? কাপকেক নিয়ে কোথায় যাচ্ছো?

: তরু আপুকে দিতে। আপু ঘরের ভেতর মুখ ফুলিয়ে বসে থাকবে আর আমরা খাবো সেটা হতেই পারেনা।

: ডোন্ট ওরি তোমরা খাও। তোমাদের তরু আপুর জন্য অন্য সারপ্রাইজ আছে। তবে তার আগে একটা ওয়ানডারফুল আইডিয়া মাথায় এসেছে আমার।

: কি আইডিয়া?

সবাই উৎসুক হয়ে একাসাথে কথাটা বলে পান্থ বিপরীতে শুধু ঠোঁটের কোণে বাঁকা হাসি ফুটিয়ে তুলল। খুব অদ্ভুত এক দুষ্টুমি লুকিয়ে আছে এই হাসিতে।

———————————————————–

ঘরের দরজা বন্ধ করে গাল দুটো টমেটোর মতো ফুলিয়ে হাত গুটিয়ে চুপচাপ বসে আছি। বড্ড বেশি রাগ উঠছে আমার। একে তো ঢাকায়াসার পর একটা বারের জন্য ফোন দেয় নি। আজকে আসার পর ভাবলাম যে আমার সাথে দেখা করতে এসেছে সাথে আবার এনেছেও চকলেট কাপকেক। জানে আমার অনেক প্রিয় কিন্তু কি বললো যে আমার খাওয়ার বয়স নেই। এহহহ..! ইচ্ছে তো করছে ড্রয়িং রুমের গিয়ে সবগুলো কাপকেক নিজের ঘরে নিয়ে আসি। অন্যসময় হলে ঠিকই নিয়ে আসতাম। এখন পান্থর সামনে গিয়ে কাপকেক গুলো নিয়ে আসলে আমাকে নিতান্ত বেহায়া আর ছ্যাঁচড়া ভাববে। এইটা যদিও না ভাবলেও তাও তো উনার কি বিশ্বাস? উনার মুখ মাঝে মাঝে যেভাবে লাগামহীন ভাবে চলে আমি নিজেই ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে যাই।

: এই বেটা মি: শিমপাঞ্জির সাহস কতো বড়? সময় দিয়েছিল তাই না? ভেবেছিলাম এবার নিজের মনের কথাটা বলে দিব। কিন্তু না বলবো না আমি। অন্যকাউকে বিয়ে করে ফেলব। তখন বুঝবে ঠেলা! উফফফ… ধুর তরু! অন্যকাউকে বিয়ে করবি সেইটারও সুযোগ নেই দেখবি তার আগেই কিডন্যাপ করে উঠিয়ে চলে নিয়ে আসবে। এই বেটা জব্বর খারাপ চিজ হ্যা তরু!

: এই তরু আপু.. কি হলো তোমার? দরজা খুলো। পান্থ ভাইয়া চলে গেছে তো। এবার বের হও। তরু আপু…

ইশানা দরজায় নক করতেই পাগলের মতো প্রলাপ ছেড়ে দিলাম। আর যখনই কানে পৌঁছালো যে ব্যাটা শিমপাঞ্জি চলে গেছে আমাকে আর কে আমি দরজা খুলেই ছুট লাগাই ড্রয়িং রুমের দিকে। আর গিয়ে আমার চোখ পুরোই ছানাবড়া হয়ে গেল। একটা কাপকেকও এগুলো রাখে নি আমার জন্য। সবগুলো কাপকেক খেয়ে সাবার করে ফেলেছে। আর প্যাকেটগুলো কে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রেখে দিয়েছে। এবার রাগের সাথে সাথে কান্নাও পাচ্ছে। আমি রক্ত চক্ষু নিয়ে ঘাড় বাকিয়ে আমার ভাইবোনদের দিকে তাকাতেই ওরা যেন চুপসে গেল। একজন তো ডাইনিং টেবিলের সেদিকে থেকে দৌড় দিল যাতে আমি তাকে ধরতে না পারি। আর বাকি রইল দাঁড়িয়ে ইশান আর অন্তু। আমি ওদের সামনে যেতেই দেখি ওরা যতো দুয়া দুরুদ পারে সব পড়া শুরু করে দিল। আমি ওদের কর্মকান্ড দেখে নিজের সাক্ষাৎ কোনো মুভির ডাইনি আর চুন্নির রোল প্লে করছি এমন মনে হচ্ছে। আমি কোমরে হাত গুঁজে দিয়ে রাগান্বিত সুরে বলি-

: আমার কাপকেক কোথায় রেখেছিস? এখন তো আর পান্থ নেই এখন কে বাচাবে তোদের? বল কাপকেক কোথায়?

: এই যে টেবিলের উপর আছে।

আমি টেবিলের দিকে তাকাতেই দেখি বড় সর একটা মিডিয়াম প্লেটে ঢাকনা দেয়া। আমি টেবিলের চেয়ারটা টেনে খুব শখ করে বসে প্লেটটা নিজের কাছে এগুতে যেইনা ঢাকনা উঠালাম আমার চোখ যেন আর চোখের জায়গায় রইল না। মাত্র একটা কাপকেক। তাও নিজেকে সান্ত্বনা দিয়ে কাপকেক খেতে নিলে হুট করে কেউ এসে বলল-

: আমি এখনো কাপকেক খাইনি। এইটা আমার কাপকেক।

পাশে তাকাতেই দেখি পান্থ দাঁড়িয়ে আছেন। আমি তীক্ষ্ণ দৃষ্টি নিক্ষেম করে উনাকে জিজ্ঞেস করলাম-

: আপনি এখন কোথা থেকে উদয় হলেন? আর উদয় হয়েছেন ভালো কথা কিন্তু কাপকেক কেন চাচ্ছেন? এইটা আমার কাপকেক! আমি খাবো এইটা!

তরুনিমা কাপকেকটা হাতে নিয়ে মুখে দিতে পান্থ চেয়ার টেনে বসে সেইটা নিজের হাতে নিয়ে বলল-

: উহু…. পসিবল না। এইটা আমি খাবো। এগুলো বাচ্চাদের জিনিস।

তরুনিমা এবার পান্থর হাত থেকে কাপকেকটা নিয়ে আবার ও বলল-

: আপনি বাচ্চা? আপনি তো একটা বুইড়া ব্যাডা। বাচ্চা আমি, সো কাপকেক ইজ মাইন।

ওদিক থেকে ইশান আর অন্তু ওদের বোঝাপড়া দেখেই চলেছে। মাঝখান থেকে অন্তু সুর করে বলে উঠে-

” বিধি তুমি বলে দাও এই কাপকেক কার…?
দুটি মানুষ একটি কাপকেকের দাবিদার…।”

অন্তুর এমনভাবে গানটাকে বিকৃত করে গাইল যে পান্থ আর তরুনিমা একবার অন্তুর দিকে তাকিয়ে রইল। পান্থ কাপকেকটা নিয়ে দাঁড়াতেই কাপকেকটা মেঝে পড়ে গেল। আর পান্থর চেহারাটা যেন কাচুমাচু হয়ে গেল। তরুনিমা এতে হাসা শুরু করে দিয়েছে। প্রাণভরে হাসছে ও। পান্থ যেমনটা চেয়েছিল তেমনভাবেই কাজটা সম্পন্ন করতে পেরে সার্থক হয়েছে। সবাই তরুনিমা আজকে প্রাণখুলে হাসি দেখছে। তরুনিমা হাসতে হাসতে বলে-

: লে… এবার খান কাপকেক। খাওয়া তোর পান্থ ভাইয়াকে কাপকেক।

তরুনিমা এখনো হাসছে। হুট করে সবার তাকিয়ে থাকতে দেখে তরুনিমা হুশ আসলে সে নিজেকে সমালে নিয়ে চোখমুখে রাগ রাগ একটা ভাব এনে রুমে চলে যায়।

#চলবে____

#প্রিয়দর্শিনী🍂
#সুমাইয়া_যোহা

পর্ব-২৯

সন্ধ্যার দিকে সবাই শাহরিয়ার ভিলাতে উপস্থিত। তরুনিমা আজ প্রথম শাহরিয়ার ভিলাতে এসেছে। বাড়ির বাহ্যিক দিকে বিভিন্ন সাদা আর নীল লাইট দিকে আলোকসজ্জা করা হয়েছে। চারিদিকে হরেক রকম গাছের সমারোহ রয়েছে। বাড়ির ভিতর প্রবেশ করতেই দেখা যায় আলাদা করে সুসজ্জিত ভাবে বসার জায়গা তৈরি করা হয়েছে। তরুনিভার পরিবার বাড়ির সদর দরজা দিয়ে ভেতরে ঢুকতেই আহসান শাহরিয়ার এবং রুবিনা শাহরিয়ার ওদের সাথে কুশল বিনিময় করেন। তরুনিমা নীল শাড়ির সাথে বুট গলার ব্লাউজ পরেছে। চুলের মাঝ বরাবর সিথি করে দুইপাশে বেনুনী করে খোপা করে রেখেছে। কিছু চুল সামনে এবং কানের পেছন এসে পড়ে আছে। কানে এনটিকের ঝুমকো আর কপালে ছোট একটা নীল টিপ। চোখে টানা টানা কাজল আর ঠৌঁটে ম্যাট লিপিস্টিক। তেমন কোনো সাজই ও সাজে নি। সবার থেকে ওকে অনেকটা নরমাল দেখালেও ও যেন এতোই কমফর্টেবল ফিল করছে।

তরুনিমা তিথির কাছে গিয়ে ওকে আলিঙ্গন করে। তিথিও আজকে নীল শাড়ি পড়েছে। তিথির চুলগুলোও একইভাবে সেট করা। শুধু পার্থক্য হলো তিথি সাজটা একটু ডিপ আর কপালের মাঝ বরাবর একটা মাঝারি আকারে নীল টিপ দেয়া। কানে আর গলায় হাতে এনটিকের উপরে শ্বেত পাথরের খোদাই করার জুয়েলারি। কিছুক্ষণ পর মাহিম সিড়ি দিয়ে নেমে আসতেই তিথির যেন মাহিমের উপর চোখ আটকে গেছে। মাহিম নীল কমপ্লিট স্যুট পরেছে। চোখে সেই চিকন ফ্রেমের চশমা। ভ্রুযুগল যেন আজকেও কপালের মাঝে এসে সুন্দর করে সম্মিলিত হয়ে আছে। আর ঠোঁটের কোণে এক প্রশান্তির হাসি ফুটে আছে। তিথি লজ্জার মাথা খেয়ে মাহিমের দিকে ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে আছে। তরুনিমা তিথি এমন ভাবে মাহিমকে দেখার ভঙ্গি দেখে মুখ টিপে টিপে হাসছে। মাহিম তিথির সামনে এসে তুড়ি বাজাতেই তিথি যেন ওর ভাবনা বেরিয়ে এসে রীতিমতো লজ্জায় পালানোর পথ খুঁজতে শুরু করে। মাহিম তিথি পাশে দাঁড়িয়ে তিথি কানে কানে বলে-

: এখনই এই অবস্থা। উপরওয়ালাই জানে বিয়ের দিন পর্যন্ত নিজেকে সামলে রাখতে পারবে তো?

মাহিমের এমন নির্লজ্জের মতো কথা শুনে তিথি বাকহীন হয়ে পড়ে। তিথি মাহিমের দিকে চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে থাকতেই তরুনিমা হালকা কেশে বলে উঠে-

: আরো ফাংশন আছে তো তিথি এবং মাহিম ভাইয়া। ওইগুলোর জন্য হলেও কিছুটা বাকি রাখো তোমরা। হিহি…

এনগেজমেন্টের পর্ব শুরু হলে তরুনিমার কিছু ব্যাপারে বেশ খটকা লাগে। কারন তরুনিমার পুরো পরিবারকেও আমন্ত্রণ দেয়া হয়েছে। মাহিম আর তিথির এনগেজমেন্টে ওর পুরো পরিবার থাকাটা একটু অস্বাভাবিক লাগছে ওর কাছে। উপর থেকে পান্থকেও সে দেখছে না। তরুনিমা এসব নানা রকম কথা ওর ভাবনা চেপে বসতে হঠাৎ ওর কাধে একজনের হাত রাখতেই তরুনিমা পেছন ফিরে তাকাতেই দেখে রিন্তা জুস হাতে দাঁড়িয়ে আছে। রিন্তাও ব্লু কালারের শাড়ি পরেছে তবে সেটা টিস্যুর উপর কাজ করা। চুলগুলো কার্লি করা। আর সাথে তো কানে ডায়মন্ডের ভারি ঝুমকো। ডান হাতে ব্রেসলেট আর বাম হাতে চুরি। সাজও মোটামুটি ভারি। রিন্তা তরুনিমাকে হালকা সাজে দেখে করুণ সুরে বলে-

: এটা কোনো কথা তরু আপু তুমি একটা এনগেজমেন্টে এসেছো তাও এতো সিম্পলভাবে? হাউ ইজ দিস পসিবল?

: পসিবল রিন্তা। কজ আই এম কমফর্টেবল উইথ দিজ। বাই দ্য ওয়ে ইউ লুক সো প্রিটি।

: থ্যাংকস আ লট। বাট তুমি চাইলে আরেকটু গর্জিয়াস সাজতে পারতে।

: পরে তোমার মতো পেত্নী লাগুক আমার বোনকে তাইতো।

পাশ থেকে তৃষা বিড়বিড় করে কথা বললে তরুনিমা তৃষাকে একটা চিমটি দিয়ে থামিয়ে দেয়। রিন্তা কিঞ্চিত ভ্রু কুচকে সন্দেহ ভাজন নিক্ষেপ করে বলে-

: স্যরি? কি বললে তুমি?

: কিছু বলেনি রিন্তা। ও আমাকে বলছিল যে ডেকোরেশনটা সুন্দর হয়েছে।

: তা তো হবেই। পান্থ ইজ দ্য বেস্ট। ও ছাড়া এতো সুন্দর আইডিয়া আর কার হবে!

রিন্তা খুশিতে গদগদ হয়ে কথাটা বলল। তরুনিমা বিপরীতে মৃদু হাসলো। তার কাছে এওসবে কোনোটাই গুরুত্ব বহন করে না। সাজ দিয়ে হয়তো চেহারায় সাময়িকে জন্য একটা প্রলেপ পরে যায়। কিন্তু যখন এই প্রলেপটা উঠে যায় তখন একটা মানুষের আসল চেহারা ফুটে উঠে। আর বাহ্যিকভাবে সৌন্দর্য্য ফুটিয়ে তোলা খুবই সহজ কিন্তু অন্তরের সৌন্দর্য্যটা কেউ সহজে ফুটিয়ে তুলতে পারে না।

——————————————————

নিজের অজান্তেই হোক না কেন আমার চোখজোড়া যেন বারবার সবার ভিড়ে পান্থকে খুঁজে বেরাচ্ছে। এনগেজমেন্টের অনুষ্ঠান শুরু হয়ে গেছে ঠিকই। তবুও কেমন যেন একটা ফাকা ফাকা লাগছে। কোনো কিছুই ভালো লাগছে না। এরই মাঝে আবার হুট করে লাইটগুলো অফ হয়ে যাওয়াতে এনগেজমেন্টের অনুষ্ঠানে বিঘ্ন ঘটে গেল। আমার সেদিকে কোনো হুশ নেই। নিজের ভেতরটাও বড্ড ভার ভার লাগছে। হঠাৎ করে সিড়িতে সাদা লাইট পড়তে দেখলাম একজন ব্যক্তি দাঁড়িয়ে আছে। মানুষটার পেছন দেখে কিছুটা চেনা চেনা লাগল আমার। রিন্তাকে পাশ কাটিয়ে সামনে এগিয়ে মানুষটাকে দেখতে গিয়ে নিজেই টাসকি খেয়ে গেলাম। চোখগুলো যেন সেই মানুষটার উপর আটকে গেছে। আজকে চোখে চশমা পড়েনি তাই হয়তো চোখগুলো আজকেও চিকচিক করছে। চুলগুলো প্রতিদিনের মতো আজকেও পিছনে দিকে জেল দিয়ে ফেলে রেখেছে। আর সামনে দুটো চুল তার মালিকের অবাধ্য হয়ে সামনে পড়ে আছে। আর ঠোঁটে সেই মায়াবী হাসি। যেই হাসিটাই ওর প্রতি আমাকে বারবার দুর্বল হতে বাধ্য করেছে। এক প্রকার বেহায়া হয়েই তার দিকে আছি। সে কানে মাইক্রোফোন লাগিয়ে গিটারে টুং টাং সুরে গেয়ে উঠে-

“শোনো! কোন একদিন
আকাশ, বাতাস জুড়ে রিমঝিম বরষায়
দেখি, তোমার চুলের মত মেঘ সব ছড়ানো
চাঁদের মুখের পাশে জড়ানো

মন হারালো, হারালো, মন হারালো
মন হারালো, হারালো, মন হারালো
মন হারালো, হারালো, মন হারালো
মন হারালো, হারালো, মন হারালো
সেইদিন..”

এই প্রথমে উনার কন্ঠে আমি গান শুনলাম। এর আগে একাবার গাড়িতে শুধু দুই লাইন গাইতে শুনেছিলাম যদিও ওইভাবে শুনা হয়নি। উনার গানের মাঝে যেন নিজেকে হারিয়ে ফেলেছি রীতিমতো।

“শোনো! কোন একদিন
আকাশ, বাতাস জুড়ে রিমঝিম বরষায়
দেখি, তোমার চুলের মত মেঘ সব ছড়ানো
চাঁদের মুখের পাশে জড়ানো

মন হারালো, হারালো, মন হারালো
মন হারালো, হারালো, মন হারালো
মন হারালো, হারালো, মন হারালো
মন হারালো, হারালো, মন হারালো
সেইদিন..

আরো একদিন
তামসী তমস্বিনী রাত্রি
ঘুম ঘুম,নিঝঝুম-
জীবন পথের সব যাত্রি..

পান্থ মেহু আর তিথিকে চোখের ইশারায় তরুনিমার দিকে উদ্দেশ্য করে। মেহু আর তিথি তরুনিমার দুইপাশে গিয়ে দাঁড়াতেই তরুনিমা ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে যায়। মেহু আর তিথি তরুনিমাকে ওদের সাথে গেস্ট রুমে নিয়ে যায়। তরুনিমা কিছু জিজ্ঞেস করার আগে সেখানে মিসেস রুবিনা এসেও উপস্থিত হয়। তরুনিমার যেন সবকিছু মাথার উপর দিয়ে যাচ্ছে। মিসেস রুবিনা তরুনিমার হাতে চূড় পরিয়ে দিয়ে বলেন-

: আহসান শাহরিয়ারের বড় ছেলে মাহিম শাহরিয়ার ওয়াইফ হিসবে স্বীকৃতি পেয়েছে তিথি। আর আহসান শাহরিয়ারের ছোট ছেলে পান্থ শাহরিয়ারের ওয়াইফ হিসেবে আজকে স্বীকৃত পেল তরুনিমা। অনেক প্রশ্ন আছে তোমার মনে। তোমার সব প্রশ্নের একটাই উত্তর আর তা হলো এসব কিছু পান্থ করেছে।

মেহু তরুনিমার সামনে এসে দাঁড়িয়ে পুরোটা খুলে তিথিও তরুনিমাকে সবটা বলল। তরুনিমা এখন কি সিদ্ধান্ত নিবে ও বুঝতে পারছে না।

পান্থ গিটারে সুর তুলছে আর তরুনিভার আসার দিকে লক্ষ্য করছে। হুট করে পেছন থেকে পান্থর কাধে হাত রেখে মাহিম গেয়ে উঠে-

আমি একেলা
চলেছি নিরুদ্দেশ যাত্রি
রাতজাগা একপাখি
শুনি জীবনজয়ের গীতগাত্রি
মনে হল মোর দুখরাতে
যেমন করে ভোলাতে

মাহিম চোখে ইশারায় পান্থকে সামনে দিকে তাকাতে বলে। পান্থ সাভনে দিকে তাকিয়ে দেখে তরুনিমা আসছে। তরুনিমা আগের সাজে এবং এখনকার সাজে কোনো পার্থক্য নেই। শুধু জুয়েলারির পরিবর্তন হয়েছে। তিথির আর তরুনিমার সবকিছুই এখন একই। শুধু সাজ বাদে। পান্থ যেন গানের লিরিক্সই ভুলে গেছে এখন। মাহিম গাইতে গাইতে তিথির হাত ধরে ওকে সামনে নিয়ে এসে রিং পরিয়ে দেয়।

মন হারালো, হারালো, মন হারালো
মন হারালো, হারালো, মন হারালো
মন হারালো, হারালো, মন হারালো
মন হারালো, হারালো, মন হারালো
সেইদিন..”

এদিকে পান্থও কম যায় না। সে এবার গাইতে গাইতে গিটারটা মাহিমকে দিয়ে গাইতে গাইতে তরুনিমা দিকে হাত বাড়ায়-

“আরও একদিন
আমার খাঁচার পাখি চন্দনা
গীতহীনা, আনমনা,
কি যে ভাবে বসে তা জানি না।

সন্ধ্যাবেলায়
হঠাৎ ঘরেতে ফিরে দেখি
উড়ে গেছে, চলে গেছে
আমার খাঁচার পাখি চন্দনা
মনে হল মোরে পিছে ফেলে
যেদিন তুমি চলে গেলে

তরুনিমা ওর হাতে হাত রেখে একটা লাজুক হাসি দিল। পান্থ ওর হাত ধরে সেখানেই হাটু ভেঙে বসে পড়ে ওর হাতে রিং পরিয়ে দেয়।

মন হারালো, হারালো, মন হারালো
মন হারালো, হারালো, মন হারালো
মন হারালো, হারালো, মন হারালো
মন হারালো, হারালো, মন হারালো
সেইদিন..

শোনো! কোন একদিন
আকাশ, বাতাস জুড়ে রিমঝিম বরষায়
দেখি, তোমার চুলের মত মেঘ সব ছড়ানো
চাঁদের মুখের পাশে জড়ানো

মন হারালো, হারালো, মন হারালো
মন হারালো, হারালো, মন হারালো
মন হারালো, হারালো, মন হারালো
মন হারালো, হারালো, মন হারালো
সেইদিন…”

গানের সাথে সাথে আংটি বদলের পর্বও যেন শেষ হলো। সবার চেহারায় আজকে তৃপ্তির হাসি। কিন্তু একজনের চাহনিতে ফুটে উঠেছে প্রচন্ড ক্ষোভ আর জেদ। কিছুতেই মেনে নিতে পারছে যেন কিছু।

——————————————————–

প্রায় দুইঘন্টা যাবত রিন্তা ঘরের দরজা বন্ধ করে আছে। রাগ করবে নাকি কান্না কোনো কিছুই সে বুঝতে পারছে না। তবে তার ভেতর এক তীব্র ক্ষোভ জন্মেছে একজনের প্রতি। তার ইচ্ছে সবকিছু ভেঙে চুরমার করে দিতে।

আসিফ শিকদার ড্রয়িং রুমে মাথায় কোল্ড প্যাক দিয়ে পায়চারি করছেন। ডাক্তারও উনার সাথে একবার এদিক আবার আরেকবার ওদিক হাটছেন। আর বারবার উপরের দিকে তাকিয়ে মেয়ে ঘরের দরজার দিকে তাকাচ্ছেন। দুটো গার্ড মেয়ের দরজার এপাশে দাঁড় করিয়ে রেখেছেন। যদি উল্টো পাল্টা কিছু করে বসে তাহলে তাড়াতাড়ি যেন কিছু করতে পারেন। মেয়ের রাগ জেদ সবকিছু সম্পর্কে তিনি অবগত। আসিফ শিকদারের ওয়াইফ আরিফা শিকদার চুপচাপ সোফায় বসে আছেন। তিনি বাবা আর মেয়ের কান্ড দেখছেন। মেয়েকে অতিরিক্ত আদর দিয়ে আজ এতোটা বেখেয়ালি তৈরি করছেন আসিফ শিকদার। আরিফা শিকদার যখন মেয়েকে শাসন করতে নেন তখন আসিফ শিকদারের জন্য আর করতে পারেন না। তাই আজ তিনি কিছু বলছেন না। আসিফ শিকদার মিসেস আরিফাকে এতোটা ভাবলেশহীন হয়ে বসে থাকতে দেখে উচ্চস্বরে চেচিয়ে বলেন-

: কেমন মাম্মা তুমি? মেয়ে দুঘন্টা যাবত ঘরের দরজা বন্ধ করে আছে! এদিকে আমার টেনশনে বিপি বাড়ছে আর কমছে! আর তুমি এখানে এতোটা স্বাভাবিক হয়ে বসে আছো? হাউউ?!

: স্যার প্লিজ ঠান্ঠা হন। আপনার…

ডাক্তার সাহেব পুরো কথাটা শেষ করার আগে আসিফ শিকদার তাকে এক ধমক দিয়ে চুপ করিয়ে দেন। ডাক্তার উনার ভয়ে একেবার কাচুমাচু হয়ে যান। মিসেস আরিফা এবার সোফা ছেড়ে উঠে আসিফ শিকদারের সামনে এসে দাঁড়িয়ে জোরালো কন্ঠে বলেন-

: আমি কেমন মাম্মা তা বলছো তুমি? যখন সময় ছিল তখন মেয়েকে শাসন করতে দাও নি। ও যা চেয়েছে তা দিয়েছো। আর এখন আমার উপর আঙুল তুলছো! কিন্তু রিন্তা এমন স্বভাবের জন্য তুমিই দায়ী আসিফ, আমি নই! অযথা আমাকে ব্লেম করা বন্ধ করো।

: কেন আরিফা? আমি ওকে শাসন করতে নিষেধ করেছি বিধায় তুমি ওকে শাসন করবে না? তুমি রিন্তার মাম্মা, তোমার কি উচিত ছিল না ওর ভালো মন্দ দেখা?

আসিফ শিকদার একের পর এক প্রশ্ন ছুড়ে দিলে মিসেস আরিফা এবার আসিফ শিকদারের চোখে চোখ রেখে দৃঢ় কন্ঠে জবাব দিলেন-

: ওহ রিয়েলি আসিফ! ছোটবেলা থেকে এই পর্যন্ত যখন ও যেইটা চাইতো তুমি তাই দিতে। কিছুদিন আগেই তো রাত একটা বাজে রিন্তা অনলাইনে একটা ড্রেস দেখে আমাদের রুমে দরজা ধাক্কায় নি? তুমি তো সিক ছিলে সেদিন তাই না? তারপরে কি হলো সেই রাতে যেইখান থেকে ও ড্রেস পছন্দ করেছে সেখান থেকেই গার্ডকে দিয়ে ড্রেস আনিয়েছো! এখন বলো এগুলোও আমার জন্য হয়েছে! আমরা এমন এক সমাজে বসবাস করি যেখানে সন্তান যদি ভালো কিছু করে তাহলে সন্তানের বাবাকে এপ্রিসিয়েট করা হয়। আর সন্তান যদি কোনো খারাপ কাজ করে তাহলে সেখানে সন্তানের মাকে দোষারোপ করা হয়। তার দিকে আঙুল তোলা হয়। হাহ….

মিসেস আরিফা কিছুটা তাচ্ছিল্যের সুরে শেষে কথাটা বললেন। তারপর আসিফ শিকদারের দিকে শান্ত চাহনি নিক্ষেপ করে চাপা কন্ঠে বলেন-

রিন্তার পাপা তুমি আসিফ। মেয়ের বিগড়ে যাওয়াতে যদি আমার দোষ থাকে তাহলে তোমারও দোষ কিছু কম থাকবে না। এখনও সময় আছে ওর এইসব পাগলামিতে ওকে সাপোর্ট দিও না। রিন্তা পান্থকে পছন্দ করে আর ও ভাবছে এটাই ওর ভালোবাসা। ও ভাবছে এখন যদি এমন করে তাহলে তুমি তোমার মেয়ের জন্যও পান্থকেও এনে দিবে। কিন্তু এবার ওকে ভুল প্রমাণ করে দাও।

মিসেস আরিফার একটা কথাও ফেলনা নয়। আসিফ শিকদার কিছুক্ষণ চুপ থেকে গম্ভীর সুরে বলেন-

: না আরিফা, আমার মেয়েকে আমি ভুল প্রমাণ করবো না। ও সবসময় ওর পাপার কাছে যা চেয়েছে তাই পেয়েছে। আজও পাবে। ওকে আমি সঠিক প্রমাণ করবোই। পান্থর কার সাথে বিয়ে হচ্ছে? পান্থ কাকে ভালোবাসে? সেটা আমার জানার দরকার নেই। আমার মেয়ে পান্থকে ভালোবাসে, পছন্দ করে আমার কাছে সেটাই ম্যাটার করে। অন্যকিছু না!

মিসেস আরিফা হতাশজনক একটা হাসি দিয়ে ড্রয়িং রুম ত্যাগ করে নিজের ঘরে চলে যান। আসিফ শিকদার একবার মেয়ের ঘরের দরজার দিকে তাকিয়ে কাউকে ফোন করতে করতে বেরিয়ে পড়েন।

#চলবে____

পূর্ববর্তী নিবন্ধ
পরবর্তী নিবন্ধ
গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ