‘সূচনা’
#তোমার_অস্তিত্ব
#মুসলিমা_ইসলাম
শশুড় বাড়ি আশার ঘন্টা খানেক পরে আমার ননদ ব্যাকপএ গুছিয়ে বের হলো ঠিক তখনি আমার শাশুড়ি পথ আটকে দাড়ালেন আমার ননদের। জানতে চাইলেন সে কেনো চলে যাচ্ছে,সে কোনো শব্দ না করে পাশ কেটে চলে যাচ্ছিল সেই সময় আমার স্বামি ইমন তার পথ আটকালো।
কি হয়েছে আপা?এভাবে হুট করে চলে যাচ্ছিস কেনো?
বিয়ে করে বউ এনেছিস এখন কি আর আমাদের মূল্য আছে?তাই চলে যাচ্ছি।
এক কথায় দু কথায় ননদকে ঘরে নিয়ে গেলেন আমার স্বামি, আমি নির্বাক চেয়ে দেখতে থাকতাম সব কিছু, প্রথম দিনই মনের ভিতর ভয় ঢুকে গেলো,শাশুড়ি আমাকে ডেকে রুমে নিয়ে গেলেন, বাড়িটা বেশি বড় না আবার ছোট ও না। আমার শশুর গত হয়েছেন বছর খানেক আগে ইমন বলছিল, তারা দুই ভাই বোন ইমন আর মিনু। মিনুর পুরো নাম মুনতাহেনা মিনু, মিনু আদর করে ডাকে। আমি রুমে ঢুকে জামাকাপড় চেন্স করে নিলাম।মনে মনে মিনুর ব্যবহারের কথা ভেবে যাচ্ছি আমি তো কাছুই করিনি তাহলে আমি আসতে না আসতেই এমন কেনো করলো। মাথা থেকে কিছুতেই নামাতে পারছি না।
সকালে আসছিলাম এখন বিকেল হয়ে গেছে ইমন দুপুরে খেয়ে বেড়িরে গেছে এখনো আসছে না, অচেনা জায়গা মন ভালো লাগছে না। শুনেছি আমার ননদের বিয়ে হয়েছিল কোনো কারন বষত ডিভোর্স হয়ে গেছে,সেই থেকে এখানে থাকে। তার ব্যবহারে বুঝে গেছি এই সংসার আমার জন্য কষ্টসাদ্ধ।শাশুড়ির অচরনে কিছু বুঝতে পারলাম না। আমি এতিম এক মেয়ে ছোট থেকে দাদির কাছে মানুষ হয়েছি, লেখাপড়া করতে পেরেছি এসএসসি পযন্ত দাদি আর পারিনি, গায়ের রং ছিল উজ্জ্বল দেখতে সুন্দর হওয়াতে দাদি সব সময় চিন্তায় থাকতেন, ইমন হুট করে একদিন আমাদের গ্ৰামে এসেছিল বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে সেখান থেকে আমাদের দেখা। আগে কখনো কোনো ছেলের সাথে এভাবে দেখা হয়নি, পাড়ার ছেলেদের থেকে দূরে থাকতে বলতো এই জন্য ছেলে দেখলেই ছুটে পালাইতাম। আমি হওয়ার সময় আমার মা মারা গেছিলো, বছর খানেক পর বাবাও কারো আদর যত্ন পেলাম না। ভেবেছিলাম বিয়ের পর অতন্ত্য সবাইকে পাবো কিন্তু মনের ভিতর সেই আশা টুকুও ঠাই হলোনা। এসব ভাবছিলাম তখনি শাশুড়ি ডাক দিলেন।
এখানে বসে কি করছো ভিতরে চলো।
আমি উঠে রুমে চলে আসলাম শাশুড়ি পাশে বসলো।
ইমনের থেকে শুনছি তোমার কেউ নেই,রুপে তো জাদু করেছো ছেলেটারে, তোমার নাম টা কি জানা হয়নি।
জ্বি আমার নাম মহুয়া।
শুধু মহুয়া আগে পিছে নাই।
মহুয়া মাহি আম্মা।
শাশুড়ি পানের ডালা তুলে নিলো খাটের নিচ থেকে পান বানাতে বানাতে বললো।
শুনো আমি আমার ছেলেকে খুব ভালোবাসি ছেলেটা আমার কষ্টের ছোট থেকে মানুষ করছি, ওর বাপটাও গেলো সব দায়িত্ব আমার উপর দিয়ে, তোমাকে আমার খারাপ লাগেনি তবে আশা ছিল ছেলেটারে ভালো দেখে, বড় ঘর দেখে বিয়ে দিবো তা তো আর হলোনা। তখনি ননদ এসে__
বউ পেয়ে তো ভালোই গল্প জুড়ে দিলে মা, ওদিকে আমাদের গরু খুজে পাচ্ছিনা।
কি বলিস, চল চল কোথায় যে গেলো। শাশুড়ি চলে গেলো আমি উঠতেই ননদ বলে উঠলো
তুমি কোথায় যাচ্ছ, বসে থাকো কোনো দিকে তো খেয়াল নেই।ভাইয়ের মাথাটা খেয়েছো এখন আসছো আমার মায়ের মাথা খেতে।
খুবই খারাপ লাগলো ননদের কথা শুনে, আমি কখন কার মাথা খেতে খেলাম? এসে পযন্ত একটা কথাও বলিনি প্রয়জন ছাড়া তবুও এত কথা শুনালো, আশার সময় দাদি বলে দিছিল, মহুয়া আমাদের কিন্তু কেউ নেই, যাচ্ছিস যার হাত ধরে তার হাত ধরেই থাকিস, যত যায় হোক ওখানেই থাকিস, মেয়েদের কিন্তু একবারি বিয়ে হয়। শাশুড়ি ননদ যায় বলবে চুপচাপ শুনবি। চোখের পানি হাত দিয়ে মুছে দরজার কাছে দাড়িয়ে দেখছি বাহিরের প্রকৃতি।বাড়িটা পাকা তিনটা রুম, একটা আমাদের জন্য আরেকটাই ননদ শাশুড়ি থাকেন আরেকটাই বছরের ধান রাখা হয়। সামনে বড় উঠান, গরুর জন্য আলাদা গোয়াল ঘর, অন্যপাশে রান্নাঘর, তার পাশে পানির কল বসানো। পরিবেশ টা ভালোই লাগলো মাগরিবের আযান দিচ্ছে আমি রুমের লাইট জ্বালিয়ে বসে আছি। শাশুড়ি নামাজ পড়তে গেলো ননদ তার রুমে। ইমন আসলো তখনি হাত ভর্তি বাজার।
মা, মা কই তোমরা এগুলা ধরো।
আমি উঠে বের হয়ে আসলাম, ইমনের কপাল গড়িয়ে ঘাম পড়ছে, আমি আচল দিয়ে মুছে ব্যাগ ধরে নিলাম।
আম্মা নামাজ পড়ছে, তুমি বসো আমি পানি এনে দিচ্ছি।
ব্যাগ পএ পাশেই রাখলাম, আমি যেয়ে পানি এনে দিয়ে পাশে দাড়িয়ে আছি।
কি রে কি বাজার এনেছিস। ননদ এসে বললো
আপা দেখ তোদের পছন্দ মতো বাজার করছি, বাজারে আগুন রে আপা।
আমার ননদ এক এক করে সব বের করলো, চানাচুরের প্যাকেট দেখে বললো
এসব কি রে, আগে তো এসব আনতি না।
আমি বুঝতে পারলাম এটা আমার জন্য এনেছে, চানাচুর আমার খুবই পছন্দ, ইমন মাথা চুলকাচ্ছে। শাশুড়ি তখন বাহিরে আসলো।
এতো দেখা লাগবে না মিনু,আনছে হয়ত খাবে।
মা তোমার ছেলে পাল্টে যাচ্ছে, এসব কখনো এনেছে?
তুই চুপ কর, সর দেখি কি আনছে। সব কিছু দেখে শাশুড়ি রান্না ঘরে নিয়ে গেলো, ননদ মুখ বেকিয়ে তার রুমে গেলো, যাওয়ার আগে প্যাকেট আছাড় দিয়ে গেলো। ইমন রুমে এসে আমাকে ডাক দিলো আমিও ভিতরে চলে আসলাম, একটু দূরে দাড়িয়ে ছিলাম, ইমন হাত ধরে টেনে কাছে নিলো।
আপার ব্যবহারে কষ্ট পেও না। আপা একটু এমনি।
আমি শুধু মুচকি হেসে দিলাম, ইমন পাশে বসিয়ে তার পকেট থেকে এক জোড়া চুরি বের করে পড়িয়ে দিলো,পর পর দুই হাতে চুমু দিয়ে__
এগুলা সব সময় পড়ে থাকবে কেমন? তোমার বরের ইনকাম বেশি না সামান্য কিছু দিলাম, যখন বেশি ইনকাম করতে পারবো তোমাকে একদম রানি করে রাখবো। আমি তার হাত নিজের হাতের মুঠোয় পড়ে__
আপনি আমার পাশে থাকেন, আমার কিছু চাইনা, কিছুনা। বলেন থাকবেন?
আমিত আছি পাগলি!আমি কোথায় যাবো। হালকা করে জড়িয়ে নিলো। আমি ভুলে গেলাম ননদের বলা কথা, মনের ভিতরের কষ্ট। এই মানুষটা আমার পাশে থাকলে আমার আর কাউকে লাগবে না।
হঠাৎ বাহিরে থেকে চিল্লানোর শব্দ পেতেই ইমন উঠে পড়লো আমিও তার পিছন পিছন বেরিয়ে দেখলাম।
চলবে।
