Friday, June 5, 2026







বাড়ি"ধারাবাহিক গল্প"শুদ্ধতার অন্দরশুদ্ধতার অন্দর পর্ব-০৩ এবং শেষ পর্ব

শুদ্ধতার অন্দর পর্ব-০৩ এবং শেষ পর্ব

#শুদ্ধতার_অন্দর – ০৩ + অন্তিমপর্ব।
#প্রানেশা_আহসান_শীতল

গ্রামের মানুষজন মুখরিত হয়ে উঠেছে—পঞ্চায়েতের একমাত্র ছেলের বিয়ে বলে কথা। যদিও আগেই বিয়ে হয়ে গেছে, কিন্তু নিয়মরক্ষার জন্য, এবং বিশেষ করে শুদ্ধতার পরিবারকে সম্মান জানিয়ে, এনামুল সাহেব ঘরোয়া ভাবে অনুষ্ঠান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

শুদ্ধতার বাবাও চুপচাপ সম্মত হয়েছেন, কারণ এখন মেয়েটার মুখে যেন একটু শান্তির ছায়া। আর ঐহিক নিজে সব আয়োজন করছে, যেন নিজের করে তুলে নেওয়া মানুষটিকে এবার সমাজের কাছেও নিজের বলে ঘোষণা করে।

বাড়ির উঠোনে প্যান্ডেল তোলা হয়েছে। সাদা-সবুজ পর্দা, কলার গাছ, গোলাপজলের গন্ধে ভরা পরিবেশ। মধ্যিখানে চেয়ার পাতা, পাশে মুফতি সাহেব, আর দুই পরিবার থেকে সাক্ষীরা বসেছেন। ঐহিক একদম সাদা পাঞ্জাবি পরে এসেছে। মুখে একরাশ শান্তি। শুদ্ধতা ঘরের ভেতর, সোনালী পারে লাল কাজের শাড়ি, হাতে মেহেদী আর কপালে ছোট্ট টিপ। মেয়েরা ওকে ঘিরে হালকা হাসি আর খুনসুটিতে ব্যস্ত। একজন খালামণি ফিসফিস করে বললেন—

“এত সুন্দর মেয়ে, আমাদের ঐহিক পাগল না হয়ে উপায় ছিল?”

শুদ্ধতা মুচকি হেসে মাথা নিচু করে।

মুফতি সাহেব শুদ্ধতার অনুমতি চাইলেন—
“আপনি কি এনামুল সাহেবের একমাত্র পুত্র ঐহিক কে আপনার স্বামী হিসেবে কবুল করছেন?”

শুদ্ধতা একটু লজ্জা পেয়ে মুখ নিচু করে বলল,
“কবুল।”

তিনবার উচ্চারণের পর ঘরে ফিসফিস শব্দে “আলহামদুলিল্লাহ” ধ্বনি ওঠে।

ঐহিকের মুখেও শান্ত, গম্ভীর এক হাসি—কিন্তু চোখে জমে থাকা ভালোবাসার আভা লুকানো যায় না।

নিকাহর পর ওদের একসাথে বসানো হয়, মুখোমুখি। একটা আয়না রাখা হয় মাঝখানে, যেন একে অপরকে আয়নায় দেখে মুখোমুখি হয়। ঐহিক আয়নায় তাকিয়ে বলে—

“তোমাকে আয়নাতে দেখে মনে হচ্ছে, আমার চোখের সামনে আমার দোয়া পূর্ণতা পেয়েছে।”

শুদ্ধতা মুখে কিছু বলে না, শুধু আয়নায় নিজের ঠোঁটের কোণে লুকিয়ে থাকা হাসিটা দেখে। এরপর ঐহিক একটু কানে কানে ফিসফিসিয়ে বলে—

“তুমি যদি এই আয়না ভেঙে ফেলো, আমি চাইব সেই প্রতিচ্ছবি আমার বুকে জমা থাকুক চিরকাল।”

শুদ্ধতা মুখ ফিরিয়ে বলে—

“তুমি এমন কথা বলো কেন?”

ঐহিক হাসে—“কারণ তুমি লজ্জা পাও, আর আমি তোমার লজ্জায় ডুবে যেতে চাই।”

রাতটা যেন কেমন ঘোর লাগা। শুদ্ধতা বিছানার এক কোণে বসে ছিলো। আজ ওর গায়ে গাঢ় খয়েরি রঙের ঢাকাই শাড়ি, মাথায় আলতো ওড়না, কানে ছোট সোনার ঝুমকোলতা দুল। রূপ যেন নিঃশব্দে জ্বলছে মাটির প্রদীপের মতো। ঘরের বাতিটা নিভে আছে, শুধুই জ্বলছে একটি হালকা হলুদ রাত্রি বাতি। ঐহিক ধীরে দরজা বন্ধ করে বিছানার পাশে এসে বসে। কেউ কিছু বলে না। মাঝখানে দূরত্ব নেই, অথচ লজ্জার প্রাচীর যেন একহাত দূরে রেখে দেয় দুজনকে।

ঐহিক খুব নরম গলায় বলে, —— “তুমি কি ভয় পাচ্ছো?”

শুদ্ধতা ধীরে মাথা নাড়ে। তারপর ধীর স্বরে বলে—–

“ভয় নয়, লজ্জা। নতুন কিছু শুরু করার আগে মেয়েরা কাঁপে… আপনি যদি এই কাঁপুনি বুঝতেন…”

ঐহিক হাত বাড়িয়ে শুদ্ধতার হাত চেপে ধরে।

“আমি বুঝি। খুব গভীরভাবে বুঝি। আর আমি জানি, শরীরের চেয়েও আগে মনকে ছুঁতে হয়।”

শুদ্ধতা চোখ তুলে তাকায়। ঐহিক ধীরে শাড়ির ভাঁজ গুছিয়ে ওর কপালে চুমু দেয়।

“আজ আমি তোমাকে শুধু ছুঁব না… আমি তোমাকে অনুভব করবো। ইবাদতের মতো। আল্লাহর নেয়ামতের মতো।”

শুদ্ধতার চোখ ভিজে যায়। এ পুরুষটা যেন আলাদা। ওর হৃদয়ের গহীনে ধরা দেয় এমন এক ভালোবাসা, যা শরীর ছুঁয়ে নয়, মন বেয়ে নামে। ঐহিক ওর গাল ছুঁয়ে বলে,
“তুমি চাইলে আমি আজ কিছুই করবো না… কেবল তোমার পাশে শুয়ে থাকবো।”

শুদ্ধতা হাত বাড়িয়ে ঐহিকের মুখ ছুঁয়ে দেয়।

“আপনি যদি আজ আমাকে না স্পর্শ করেন… তবে আমি ভেঙে যাবো… আমি তো আপনাকে চেয়েই ভালোবাসতে শিখেছি।”

ঐহিক আর দেরি করে না। সে ওর চুলে মুখ গুঁজে দেয়। শুদ্ধতা শরীর কাঁপিয়ে এক ঝটকায় ওর বুকের ভেতর ঢুকে পড়ে। ওদের নিশ্বাসে লেগে থাকে উত্তাপ। ধীরে ধীরে ঐহিক শুদ্ধতার কাঁধে ঠোঁট রাখে, কানের পাশে দম নেয়, মুখ রাখে ওর গলার বাঁকে।

শুদ্ধতার কণ্ঠে কাঁপন—“এই ভালোবাসার নাম কী, জানেন?”

“ইবাদত… খুব গভীর এক ইবাদত,” ঐহিক ফিসফিস করে।

ওর শাড়ি আলতোভাবে গড়িয়ে পড়ে, ওড়না পিছলে পড়ে যায় একপাশে। ঐহিক ওর গলার নিচে চুমু দিয়ে নিজের সাথে মিশিয়ে নেয়। শুদ্ধতা চোখ বন্ধ করে ফেলে। একেকটা স্পর্শ যেন আলতো নামাজের মতো; যেখানে প্রতিটা চুমু এক একটা সেজদাহ—আর প্রতিটি নিশ্বাসে দুজন দুজনকে খুঁজে পায়। ঐহিক ওর থুতনিতে আলতো আঙুল রাখে, ঠোঁট রাখে ঠোঁটে। দীর্ঘ চুম্বন। না কোনো গর্জন, না কোনো জোরাজুরি। কেবল নীরব উত্তাপে, দুইজনে একে অন্যের ভেতর জড়িয়ে পড়ে। শুদ্ধতা ঐহিকের কাঁধে আঁকড়ে ধরে। এ রাতটা কোনো কামনার নয়, এ রাতটা ভালোবাসার নামে শুরু হওয়া এক পবিত্র মিলনের। জীবনের প্রথম একান্ততা।

ঐহিক ওর কানে ফিসফিস করে—
“ আল্লাহর এবাদতে আমি কেবল তোমাকেই চেয়েছি… কল্পনায়, দোয়ায়, আর এখন তুমি বাস্তবে…”

শুদ্ধতা ওর বুকে মাথা রেখে বলে—

“ প্রতিটা রাতে আমি আল্লাহর কাছে শুধু আপনার জন্য দোয়া করেছি… যেন আমার এই শরীর, এই মন—সবটাই আপনার জান্নাত হয়…”

ঐহিক ফিসফিস করে——“তুমি আমার জান্নাতের পথ। আর আজকের রাত তার দরজা।”

তাদের মিলনের রাত শেষ হয় ভালোবাসার নামায দিয়ে—যেখানে ভালোবাসা ছিল ইবাদতের মতো স্নিগ্ধ, আর প্রতিটি ছোঁয়া ছিল ওযুর পানির মতো নির্মল।

————————-

ভোরের আলো জানালার ফাঁক দিয়ে নরমভাবে ঘরে এসে পড়েছে। ঘুমঘোরে চোখ মেলে শুদ্ধতা দেখে—সে ঐহিকের বুকের উপর মাথা রেখে শুয়ে আছে। ঐহিক এখনো ঘুমিয়ে আছে, নিঃশ্বাস চলার শব্দটা মৃদু, কিন্তু গভীর। শুদ্ধতা ধীরে মাথা তোলে, ওর ঘন গোঁফের নিচে কাটা দাড়িতে আলতো ঘষা লাগে, হালকা জ্বালাভাব যেন প্রেমের নতুন ছোঁয়া। সে মনে মনে হাসে।

“পুরো ঘর তো ওর গন্ধে ভরে গেছে… আলাদা একটা গন্ধ, যেটা কেবল ঐহিকের… কেমন জানি গা ছমছম করে।”

চুপিচুপি উঠে দাঁড়াতেই ঐহিক হাতে জড়িয়ে ধরে টেনে আবার বিছানায় ফেলে।

“এই যে! কোথায় যাচ্ছো?” গলায় ঘুমঘোর, কিন্তু টানটা শক্ত।

শুদ্ধতা ফিসফিস করে,
“ওযু করতে… নামায পড়বো…”

ঐহিক চোখ না খুলেই বলে,
“আমারও পড়া লাগবে… তুমি পাশে থাকো, একসাথে পড়বো… আগে একটা চুমু দাও।”

শুদ্ধতা থমকে যায়।
“এইসব নামাজের আগে…?”

ঐহিক হেসে উঠে বসে, গায়ে চাদর জড়িয়ে বলে,

“আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তো ভালোবাসাকেও হালাল করেছেন, আর তুমি তো এখন আমার হালাল ভালোবাসা। বিয়ের পরে তোমার মুখ দেখা আর চুমু—সওয়াবেরও ব্যাপার।”

শুদ্ধতা ভ্রু কুঁচকে বলে,

“আপনি কথায় কথায় সবকিছুকে সওয়াব বানিয়ে ফেলেন!”

ঐহিক শয়তানের হাসি দিয়ে বলে,

“আর তুমি কথায় কথায় দাও দৃষ্টি নিচু… এত আদব তো দেখে দেখতেই প্রেমে পড়ে গেছিলাম!”

ওর কথা শুনে শুদ্ধতা চোখ নামিয়ে ফেলে। লজ্জা গালে ফোটে—মনে হয় এখনই একছটায় গলে যাবে। ঐহিক আলতোভাবে ওর কপালে চুমু দিয়ে বলে,

“আমি চাই, তুমি আমার সবটুকু হও… শুধু এই ঘরে না, বাইরেও। বউ হিসেবেও, প্রিয় বান্ধবী হিসেবেও।”

শুদ্ধতা ওর দিকে তাকায়। তারপর ধীরে বলে—

“আমি সবসময় চেয়েছি… আপনি আমায় সম্মান দিয়ে ভালোবাসবেন। গতরাত প্রমাণ দিলো… আপনি শুধু শরীর খুঁজতে আসেননি, আপনি আত্মা চেয়েছেন।”

ঐহিক চুপচাপ থাকে কিছুক্ষণ। তারপর শুদ্ধতাকে কাছে টেনে নিয়ে তারপর হঠাৎ হেসে বলে,

“তবে আত্মা তো পেলাম… শরীরের দাবি রাখতে পারি না?”

শুদ্ধতা ওকে ধাক্কা মারে—— “আপনি অসভ্য! ছাড়ুন!”

“আমি তো এখন একদম বউ-ভক্ত! তুমি যেটা চাও সেটাই করবো, তবে আমার বউয়ের গালে চুমু দিয়ে দিন শুরু করা—এটুকু তো চাইতেই পারি!”

শুদ্ধতা ওর বুকে মুখ গুঁজে দেয়। তারপর লাজুক গলায় বলে–

“আচ্ছা, তবে আজ নামাজ পড়ে, সকালে একসাথে বাগানে যাবো? আপনি বলেছিলেন না, ফুল ফোটার সময়টুকু নাকি সবচেয়ে সুন্দর?”

ঐহিক মুচকি হাসে তারপর নরম গলায় বলে—

“তোমার ঠোঁটেও তো ফুল ফোটে… ওটার থেকেও সুন্দর।”

শুদ্ধতা এবার সত্যি সত্যি লজ্জায় মুখ লুকিয়ে ফেলে।

দুজনেই বাগানে এসে বসেছে। ঐহিক একটা লাল গোলাপ ছিঁড়ে এনে শুদ্ধতার মাথায় গুঁজে দেয়।

“তুমি জানো, তোমার এই নির্জন সৌন্দর্যই সবচেয়ে বড় উত্তাপ… কোথাও বাড়াবাড়ি নেই, কোথাও কমতি নেই… একদম পরিপূর্ণ।”

শুদ্ধতা জবাব না দিয়ে শুধু ঐহিকের কাঁধে মাথা রাখে। ঐহিক তখন ওর কানে ফিসফিস করে বলে,

“আজ রাতে আবার… তোমার পায়ের নুপুর খুলে রাখো… জানো তো, নুপুরের আওয়াজে আমি কাঁপে যাই।”

শুদ্ধতা লজ্জায় কাঁপে, কিন্তু একবারও না বলে না।

সময় গড়ায়; সুন্দর সময় খুব তাড়াতাড়ি চলে যায়! কিছু ব্যবসার কাজের কারণে ঐহিককে শহরে আসতে হয়েছিলো। কিন্তু সে শুদ্ধতাকে ছাড়া আসবে তাই কি আর করার শুদ্ধতাকেও ঐহিকের সাথে আসতে হয়েছিলো। রাতে শুদ্ধতা আর ঐহিক একসাথে বসে খেতে বসেছিল। ঐহিক একটু আগে টেবিল সাজাতে এসে এক গ্লাস পানি শুদ্ধতার দিকে এগিয়ে দিল।

“তোমার সাথে একসাথে খাওয়া কত ভালো লাগে… কখনো মনে হয়, যেন ছোটবেলায় মা-বাবার সাথে খেতে বসে ছিলাম।”

শুদ্ধতা একটু অবাক হয়ে তাকালো। ঐহিকের মুখে কিছুটা স্মৃতি ঝলকানো। সে গভীর মনোভাবের সাথে বলল,

“আমারও কিছু স্মৃতি আছে… গ্রামে বড় হয়ে, মা-বাবার কাছে বসে খেতাম। কিন্তু কখনো কখনো মনে হয়, এখন সেই অভাবটা অনুভব করি। তুমি যখন আমার পাশে বসে, তখন একধরণের শান্তি অনুভব হয়।”

ঐহিক শুদ্ধতার হাত ধরে বলে,

“এটাই তো পরিবারের শক্তি… একে অপরকে ভালোবাসা। তুমি আমার সাথেই আছো, আর আমি তোমার সাথে—এটা যেন আমাদের পরিবারের নতুন শুরু।”

শুদ্ধতা একগাল হাসে তারপর বলে–
“তাহলে আমাদের ছোট পরিবার, হ্যাঁ?”

ঐহিক মুচকি হেসে বলে– “হ্যাঁ, তবে ছোট হলেও একেবারে বিশাল হয়ে উঠবে।”

ঐহিক এবং শুদ্ধতা বাগানে হাঁটতে বের হলো। ঐহিক কিছু ফুল ছিঁড়ে এনে শুদ্ধতার হাতে দিল। শুদ্ধতা সেই ফুলের প্রতি একটু অবাক হয়ে তাকাল। তারপর ঐহিকের দিকে চেয়ে বলল,
“এতো সুন্দর ফুলগুলো, তবে… তুমি কেন এসব আমার জন্য আনলে?”

ঐহিক একটু হেসে বলে,
“তোমার মতো সুন্দর মেয়ে এই ফুলগুলোর সাথে সঙ্গত রাখে… তোমার জন্যই তো, শুদ্ধতা। তুমি নিজেই একটা ফুল।”

শুদ্ধতার মুখে এক রহস্যময় হাসি।
“তোমার কথা শুনে মনে হচ্ছে… আমি যেন কোনো বিশেষ জায়গায় আছি। হয়তো এখনই বুঝতে পারছি যে আমার জীবনে কিছু বদল হয়েছে।”

ঐহিক হাসতে হাসতে বলে,
“তুমি ঠিক বলেছো। জীবন বদলানো শুরু হয়েছে—এটা আমাদের নতুন পৃথিবী।”

ঐহিক কখনো কখনো খুনসুটি করে, শুদ্ধতা কোনো কিছু বলার আগেই হাসতে হাসতে তার কাছ থেকে ফাঁকি দেয়। কিন্তু সেই হাসি, সেই মিষ্টি খুনসুটি তাদের সম্পর্ককে শক্তিশালী করে তোলে।

“তুমি এতো বেমানানভাবে হাসছো!”—একদিন শুদ্ধতা মজার ভঙ্গিতে বলে, যখন ঐহিক তার সাথে খুনসুটি করতে করতে হেসে ফেলেছিল। ঐহিক একহাত দিয়ে শুদ্ধতার পিঠে আলতো চাপ দিয়ে নিজের সাথে মিশিয়ে নেয়,

“অবশ্যই! কারণ, তুমি হাসলে, জীবন সুন্দর হয়ে ওঠে।”

শুদ্ধতা ছোটো করে বলে,

“এটা ঠিক, কিন্তু আমি তোমার মাঝে কি আরও কিছু খুঁজে পাচ্ছি…”

ঐহিক তার কপালে চুমু দিয়ে বলে,

“আমি তোমার সবটুকু হতে চাই, সবসময়। আর তুমি জানো না, তোমার হাসির মাঝে যে প্রেম আছে, সেটাই আমার শক্তি।”

শুদ্ধতার মুখে হালকা লজ্জার হাসি ফুটে ওঠে, সে বুঝতে পারে—এভাবেই জীবনটা এগিয়ে যাবে। আর ঐহিকের সাথেই।

একদিন দিন সকালে; শুদ্ধতা ধীরে ধীরে ঘুম থেকে উঠল, ঠান্ডা বাতাসে তার শরীরটা শিরশির করছে। ঐহিক তখনো বিছানায় শুয়ে। হালকা ঘুম ঘুম মুখে সে সাইডে মাথা রাখে, আর শুদ্ধতার দিকে চোখ রাখে। শুদ্ধতা স্নান করতে যাচ্ছিল, ঐহিক আস্তে আস্তে উঠে গিয়ে তার কোমরে হাত রেখে বলে,

“আবার কোথায় যাচ্ছো? শাওয়ার না করলেই না? তোমাকে আমি বাথরুমে যেতে দিচ্ছি না!”

শুদ্ধতা ধীরে ধীরে তার চোখে তাকিয়ে বলে,
“তুমি তো হঠাৎ ঘুম থেকে উঠেও আমাকে আটকাচ্ছো। তোমার হাত তো এমন লাগছে যেন…”

ঐহিক হালকা হাসে, “তোমার কাছে আমি আছি, শুদ্ধতা। আমি আর কিছু চাই না।”

শুদ্ধতার শরীরে হালকা শিহরণ অনুভব হয়, কিন্তু সে নিজেকে সামলে নিয়ে বলল,
“তুমি কি জানো, তুমি কেন এত বিশেষ? আমার জীবনে কিছু এমন জিনিস ঘটে যা আমি ভাবতেও পারিনি।”

ঐহিক মৃদু গলায় বলে,
“এটা তো শুধুই শুরু, শুদ্ধতা। আমরা একে অপরের কাছে আছি—এই সম্পর্ক যত গভীর হবে, তত ভালোবাসা আরো প্রকট হবে।”

ঐহিক ও শুদ্ধতা দুজনে বাগানে ঘুরছিল। হালকা বাতাসে শুদ্ধতার সাদা জামার পাখনা উড়ছিল। ঐহিক তার হাত ধরা অবস্থায় বলল,
“আজকে একটু অন্যভাবে ঘুরে আসি। আমাদের সেই প্রাচীন জায়গায় যেখানে আমরা একে অপরকে প্রথমবার চিনেছিলাম?”

শুদ্ধতা মুচকি হেসে বলে,
“তোমার কাছে সব কিছু নতুন কিছু—বাগান, ফুল, প্রতিটি মুহূর্ত।”

ঐহিক খুঁটি করে হাসে,
“তোমার সাথে থাকলে আমি সবকিছু নতুনভাবে দেখি।”

তাদের দুজনের মধ্যে এক গভীর নীরবতা চলে আসে। ঐহিক ধীরে ধীরে শুদ্ধতার হাত ধরে টেনে নিয়ে গিয়ে এক জায়গায় দাঁড়িয়ে বলে,
“শুদ্ধতা, তুমি জানো না, তোমার চোখে যে আকর্ষণ আছে, সেটা আমাকে খুব টানে। আমি তোমাকে খুব ভালোবাসি।”

শুদ্ধতার শরীর ঘুরে যায়, কিন্তু মুখে কিছু বলতে পারেনা। ঐহিক তার গাল থেকে এক চুমু চুরি করে। এই চুমু, যা তার হৃদয়ের গভীরতম অনুভূতিকে প্রকাশ করে।

এক রাতে… রাতের অন্ধকারে শুদ্ধতা আর ঐহিক একে অপরের মধ্যে হারিয়ে যায়। শুদ্ধতা তার হাতে ঐহিকের হাত অনুভব করতে পায়—সে এক গভীর শান্তি খোঁজে ঐহিকের মধ্যে। এক পেছনে ঐহিক তার চোখে গভীর মনোযোগ দিয়ে তাকিয়ে থাকে। তারপর ঠোঁট নাড়িয়ে বলে——

“ আমি তোমার জন্য কতটা অপেক্ষা করেছি… যদি তুমি জানতে!”

শুদ্ধতা তার হাতে হাত রেখে বলে,

“আর আমি জানি, তুমি কি সব বুঝো, তবে আজ আমি ঠিক বুঝতে পারছি… আমাদের মধ্যে একটা বন্ধন, যা কখনো ভাঙবে না।”

ঐহিক এক ধাপে তার কাছে চলে আসে। দুজনের শরীর খুব কাছে এসে যায়। শুদ্ধতা মৃদু শ্বাস ফেলে, যখন ঐহিক তার ঠোঁটে এক চুমু দেয়। তবে এটি ছিল এক দীর্ঘ, গভীর চুমু, যা অনুভূতি আর ভালবাসায় ভরা ছিল।শুদ্ধতা তাকে ধীরে ধীরে ঠেলে দেয়, এবং চোখের দিকে তাকিয়ে বলে,

“তুমি তো জানো, আমি তোমাকে… এত কাছে চাই না।”

ঐহিক শান্তভাবে বলল,

“আমরা একে অপরের মধ্যে ঢুকে গেছি। আর যেখানে আমাদের ভালোবাসা এত গভীর, সেখানে কোনো সীমা থাকলে চলবে না।”

কিছুদিন পর,
একদিন সকালে ঐহিক তার বিছানায় শুয়ে শুদ্ধতার কাছে এসে আবার এক মিষ্টি হাসি দেয়,
“তুমি জানো, তোমার কাছে আমি যখন থাকি, তখন অন্য কিছু ভাবতেই পারি না।”

শুদ্ধতা চোখে চোখ রেখে বলল,
“এটা তো তোমার ভালোবাসা, কিন্তু আমি চাইনা কিছু এমন করি যা কখনো আমাদের সম্পর্কের জন্য ক্ষতিকর হয়।”

ঐহিক হালকা খুনসুটি করে বলে,
“তুমি যখন আমার সাথে থাকো, তখন শুধু একটাই অনুভূতি থাকে—তোমাকে কিসের মতো যত্নে রাখতে হবে। তবে হ্যাঁ, আমাদের মধ্যে ভালোবাসার চেয়ে কিছু বেশি তো নেই।”

বিয়ের পর এতোদিন কেটেছে যে শুদ্ধতা বা ঐহিক তা বুঝতেই পারেনি! ঐহিকের কাছে এই দিন গুলো তার জীবনের বেস্ট সময় কাটছে। আর শুদ্ধতা? সে তো বার বার ঐহিকের ভালোবাসায়, যত্নে, আদরে! শুদ্ধতা আর ঐহিকের মধ্যে সম্পর্কের গভীরতা বেড়ে গিয়েছে। তাদের রোমান্টিক মুহূর্তগুলো এখন একেবারে নতুন এক দিক নিয়ে এসেছে। ঐহিক শুদ্ধতার সাথে সময় কাটানোর সুযোগ যতই পায়, ততই তাকে ভালোবাসার সমস্ত রূপে আবদ্ধ করতে চায়।

একদিন রাতে। ঐহিক বাগানে বসে শুদ্ধতার দিকে তাকিয়ে ছিল। সন্ধ্যের হালকা বাতাসে শুদ্ধতার মুখে এক উজ্জ্বল হাসি ছিল। ঐহিক তার হাত টেনে নিয়ে বলে,

“শুধু তোমাকে চাই, শুদ্ধতা। আমাদের সম্পর্ক এত গভীর হয়ে গেছে, এখন আমি তোমাকে ছাড়া কিছু ভাবতেই পারি না।”

শুদ্ধতা তার চোখে তাকিয়ে, চুপ করে থাকতে পারলো না। সে জানে, ঐহিকের হৃদয়ে কতটা ভালোবাসা রয়েছে, কিন্তু তার নিজেরও মনে কিছু অজানা অনুভূতি ঘুরপাক খাচ্ছে।
“এটা কী হচ্ছে আমাদের মধ্যে?” শুদ্ধতা খুবই মৃদু গলায় বলে, “এত গভীরভাবে একে অপরকে ভালোবাসা তো…”

ঐহিক সোজা তার চোখে তাকিয়ে বলে,
“যতই তুমি ভাবো, তুমি যতই নিজেকে জানো না, আমি তোমাকে আরো ভালোবাসি। জানো, তোমার প্রতি আমার অনুভূতি কেবল ভালোবাসা নয়, এক ধরনের চিরকালীন আকর্ষণ।”

শুদ্ধতা ধীরে ধীরে তার কাছাকাছি চলে আসে, অল্প এক পা এগিয়ে গিয়ে তার হাত ধরে, “তুমি জানো, এখন আমি বুঝতে পারছি, তুমি আমাকে কতটা ভালোবাসো, ঐহিক। কিন্তু এই ভালোবাসার মধ্যে অনেক কিছু আছে। যখন তোমার কাছে থাকি, তখন আর কিছু চাই না।”

ঐহিক তার মাথায় হাত রেখে বলে,
“শুদ্ধতা, তুমি না থাকলে এই পৃথিবী অন্ধকার হয়ে যেত। তুমি আমার জীবনের আলো।”

এটা যেন দুজনের মধ্যে এক নতুন শপথের মতো ছিল। ঐহিক শুদ্ধতাকে এক দুরন্ত চুমু দেয়, এই চুমু ছিল এক দীর্ঘ ভালোবাসার, যা তাদের সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করে তুলেছিল। তাদের শরীর একে অপরের মধ্যে ঢুকে যায়, যেমন একে অপরের মায়ায় তলিয়ে যায়।

দিন যায়, মাস যায়, আর শুদ্ধতার শরীরেও কিছু পরিবর্তন আসে। শুদ্ধতা প্রথমে বুঝতে পারে না, কিন্তু কিছুদিন পর সে নিজেই লক্ষ্য করে যে তার শরীরে কিছু পরিবর্তন ঘটছে। সাধারণভাবে খাবারের প্রতি তার অদ্ভুত আগ্রহ বৃদ্ধি পেয়েছে। সকালে সকালে বমি করার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। সে ঐহিককে কিছু বলেনি, তবে একদিন সকালে ঐহিক তাকে লক্ষ্য করল, শুদ্ধতার মুখে কিছুটা ক্লান্তি এবং চোখের নিচে একটু শ্যাওলা। ঐহিক চিন্তা করে, তার কিছু একটা সমস্যা হচ্ছে, হয়তো শরীর খারাপ।

“শুদ্ধতা, তুমি ঠিক আছো?” ঐহিক মৃদু গলায় প্রশ্ন করে, “তোমার চেহারা কিছুটা মলিন লাগছে। কিছু খেতে চাও?”

শুদ্ধতা হালকা হাসে, “কিছু না, ঐহিক। আমি ভালো আছি।”

কিন্তু ঐহিক তার মুখের দিকে আরও মনোযোগ দিয়ে তাকায়। কিছু তো আসলেই অস্বাভাবিক। সে তার হাত ধীরে ধীরে শুদ্ধতার পেটের দিকে নিয়ে যায়, তার কোমরে হাত রাখে এবং শুদ্ধতার চোখে চোখ রেখে বলে,

“শুদ্ধতা, আমি জানি, তুমি আমাকে কিছু বলছো না। কিন্তু তোমার মধ্যে কিছু পরিবর্তন ঘটছে। আমি কিছু বুঝতে পারছি। তুমি কি আমাকে কিছু বলবে?”

শুদ্ধতার মুখে হালকা লাজুক হাসি ফোটে, তার চোখে কিছুটা কুন্ঠা ও আতঙ্ক। “আচ্ছা, ঐহিক… আমি জানি না কি বলবো… কিন্তু মনে হয়… আমি… আমি প্রেগন্যান্ট।”

ঐহিক এক মুহূর্তের জন্য স্তম্ভিত হয়ে যায়। সে কিছু বলার আগেই, শুদ্ধতার চোখে গরম জল জমে। সে বলল,

“আমি জানি তুমি কী ভাবছো, তবে ভয় পেও না। আমি তোমার সাথে আছি। আমার সবচেয়ে বড় স্বপ্ন তোমার সাথে এই নতুন জীবন শুরু করা।”

ঐহিক তার হাতে হাত রেখে বলে,
“শুদ্ধতা, তুমি আমার জীবনের সবচেয়ে বড় আশীর্বাদ। তুমি আমার পৃথিবী। আমি তোমার পাশে থাকব, একে অপরকে শক্তি দেব, আর যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলা করব।”

শুদ্ধতার চোখে জল চলে আসে, সে ঐহিকের বুকের মধ্যে ঢুকে যায়। ঐহিক তার মাথায় হাত রেখে তাকে শান্ত করে, তার নরম কণ্ঠে বলে,

“আমরা একসাথে এই নতুন জীবন শুরু করব, শুদ্ধতা। তুমি একা না। আমি আছি তোমার পাশে।”

শুদ্ধতার শরীরের পরিবর্তন স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তার পেট কিছুটা বেরিয়ে এসেছে। ঐহিক তাকে খুব যত্ন সহকারে দেখাশোনা করছে, তার প্রতিটি আবেগ, প্রতিটি মুহূর্ত শুদ্ধতার জন্য নিবেদিত। একদিন, শুদ্ধতা হালকা অস্বস্তি অনুভব করে, আর ঐহিক তার পাশে এসে দাঁড়িয়ে তাকে ভালোবাসায় আগলে ধরে,

“সব কিছু ঠিক থাকবে, আমি তোমার সাথে আছি। আমরা একসাথে এটা সামলাবো।”

শুদ্ধতার চোখে আরো জল চলে আসে, এই জীবনে এমন ভালোবাসা পাওয়ার পর, সে আর কিছুই চাই না। ঐহিকের সঙ্গেই সে এই নতুন যাত্রা শুরু করতে প্রস্তুত।

——–

সময় দ্রুত চলে যায়। শুদ্ধতার পেট বড় হতে থাকে, তার শরীরে ধীরে ধীরে আরও পরিবর্তন আসে। ঐহিক প্রতিদিন তার পাশে থাকে, তার যত্ন নেয়, আর শুদ্ধতার শরীরের প্রতি সবচেয়ে নরম এবং মায়াবী আচরণ দেখায়। শুদ্ধতা জানে, এই মানুষটা শুধু তাকে ভালোবাসে না, বরং তার জন্য এক নতুন জীবন তৈরি করতে চায়।

ঐহিক তার পাশেই ছিল, শুদ্ধতার হাত ধরে, চুপচাপ, তার চোখে আগ্রহ, ভয় এবং এক অদৃশ্য ভালোবাসা ছিল। যখন ডাক্তার বলল যে শুদ্ধতা এখন কিছুক্ষণের মধ্যে বাচ্চাকে জন্ম দিতে চলেছে, ঐহিক তার হাত আরো শক্ত করে ধরল। তার মুখে অদ্ভুত এক শান্তি ও নির্ভরশীলতা ফুটে উঠেছিল। শুদ্ধতা তার চোখে তাকিয়ে মৃদু হাসে, “আমরা কি সফল হবো, ঐহিক?”

ঐহিক ধীরেস্বরে শুদ্ধতার চোখে তাকিয়ে বলল,

“এটা আমাদের নতুন শুরু। তুমি কোনো চিন্তা করো না, আমি তোমার সাথে আছি।”

পরক্ষণেই ডাক্তার বলল,

“শুদ্ধতা, তোমার বেবির অবস্থা ঠিকঠাকই আছে। চিন্তা করবে না; এবার শুধু আরাম করো, সব ঠিক হবে। আল্লাহ ভরসা। ”

একসময়, শুদ্ধতার শরীরের মধ্যে এক তীব্র যন্ত্রণা অনুভূত হল। ঐহিক একদম কাছে দাঁড়িয়ে ছিল, তার হাতে হাত রেখে, শুদ্ধতার মুখের দিকে তাকিয়ে বলল,

“শুধু একটু আর সহ্য করো, আমার প্রিয়। আমাদের ছোট্ট সন্তান আসছে, খুব শীঘ্রই।”

শুদ্ধতা কিছুক্ষণ চুপ করে থাকল, তারপর ঐহিকের দিকে তাকিয়ে বলে,

“আমি ভয় পাচ্ছি… ঐহিক, আমি খুব ভয় পাচ্ছি।”

ঐহিক তার কপালে একটি চুমু দিয়ে বলে,

“ভয় পাওয়ার কিছু নেই, আমার প্রিয়। তুমি শক্ত, আমি জানি। আমি তোমার পাশে আছি।”

তারপর, পৃথিবীতে আসল তাদের ছোট্ট সন্তান। বাচ্চারটা গলা চিড়ে কান্না বেড়িয়ে এলো। শুদ্ধতাও শান্ত হলো। চোখ থেকে গড়িয়ে গেলো প্রশান্তি ও নিশ্চিত হবার একফোটা তৃপ্তির জল!

তাদের কোলজুড়ে তাদের ছোট্ট ছেলে, যে শুদ্ধতা ও ঐহিকের ভালোবাসার প্রতীক। ঐহিক প্রথমবার তার ছেলেকে কোলে নিলো, তার চোখে অবাক এক জ্যোতি, যেন জীবনের সবচেয়ে বড় উপহার পেয়েছে। কোলে নেবার পর অনুভব হলো সে একটা তুলো অথবা মেঘ থেকে নেমে আসা একফালি মেঘ কোলপ তুলে নিয়েছি। তার চোখ থেকেও জল গড়াচ্ছে। পিতৃত্বের স্বাদ এতো মিষ্টি! গলা কাঁপে ঐহিকের। তারপর কাঁপা কাঁপা গলায় শুদ্ধতার দিকে তাকিয়ে বলে——

“আমাদের ছেলে,” ঐহিক চুপচাপ বলল, “এটা এক নতুন জীবন, আমাদের জীবন।”

শুদ্ধতা চোখে জল নিয়ে ঐহিকের দিকে তাকিয়ে বলে,

“ নাম ঠিক করেছো?”

ঐহিক সোজা শুদ্ধতার চোখে তাকিয়ে বলল,

“আমরা দুজনই একে ভালোবাসি, তাই তার নাম হবে—ঐশ্ব । আমাদের ধন, সম্পদ।”

শুদ্ধতা বিরবির করে বলে— ” ঐশ্ব!”

শুদ্ধতা চুপচাপ এক মুহূর্তের জন্য তার সন্তানকে দেখছিল। তার চোখে শান্তি, প্রশান্তি এবং এক অদ্ভুত ভালোবাসা ছিল। ঐহিক তার পাশে বসে, ঐশ্বকে কোলে নিয়ে তাকিয়ে, বলল,

“এখন আমরা তিনজন।”

শুদ্ধতা খুব মৃদু গলায় বলল,

“হ্যাঁ, তিনজন… একসাথে, জীবনের সব কিছু ভালোবাসা দিয়ে পূর্ণ করব।”

ঐহিক শুদ্ধতার মাথায় হাত রেখে বলল,

” আমাদের জীবন শুরু হয়েছে শুদ্ধতা। এটা শুধু একটা নতুন অধ্যায় নয়, আমাদের সত্যিকারের শুরু। তুমি, আমি আর আমাদের ভালোবাসার চিহ্ন — ঐশ্ব!”

——

“ সমাপ্ত!”

পূর্ববর্তী নিবন্ধ
পরবর্তী নিবন্ধ
গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ