Friday, June 5, 2026







তোমার অস্তিত্ব পর্ব-১০

||১০||
#তোমার_অস্তিত্ব
#মুসলিমা_ইসলাম

ইমন রুমে চলে আসে বিছানায় তাকাতেই মহুয়াকে দেখতে পায়, কি সুন্দর ঘুমিয়ে আছে,এই মেয়েকে সে কখনোই হারাতে চাইনা। তার জন্য তাকে যা করতে হয় করবে মহুয়া এখন তার বিবাহিত স্ত্রী। চাইলেই কেউ পারবে না আলাদা করতে। আচ্ছা মহুয়াকে যদি বলা হয় আমায় ডিভোর্স দিতে সে কি রাজি হয়ে যাবে? আমাকে ছেড়ে দিবে?সে তো আমার অস্তিত্ব আমি তাকে ছাড়া কিভাবে থাকবো। মহুয়ার পাশে যেয়ে বসে মহুয়ার এক হাত নিজের মুঠোয় পুড়ে নিলো।

“আমি তোমাকে হারাতে চাইনা পাখি, তুমি হারিয়ে গেলে আমি যে শেষ হয়ে যাবো। তুমি বিহীন আমার অস্তিত্ব হারিয়ে যাবে।” শক্ত করে ধরে রাখছে মহুয়ার হাত যেনো কেউ এসেই নিয়ে যাবে আরেকটু কাছে যেয়ে কপালে সময় করে চু*মু খেলো।

তোমাকে এক দেখায় আমার মনে জায়গা করে নিয়েছি, কারো কথা চিন্তা না করে তোমার পিছনে ছুঁটেছি। ওই মূহর্তে তখন আমার তোমাকে লাগতো এখনও লাগবে সারাজীবনের জন্যও লাগবে। তুমি আমাকে ভুলে যাবে না তো। বলতে বলতে চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়লো, মহুয়ার হাতে ঠান্ডা স্পর্শ পেয়ে চোখ মেলে তাকালো কিছু সময় তাকিয়ে বুঝতে পারলো এটা ইমন কিন্তু তার হাত ধরে রাখছে কেনো, আর পানি তার হাতে পানি আসলো কথা থেকে ইমন কি কান্না করছে? দ্রুত উঠে পড়লো ইমনের হাত নিজের কাছে নিয়ে।

‘কি হয়েছে আপনার?’ বলুন আমাকে, “আপনি কান্না করছেন কেনো।” বলুন না।

ইমন কিছু না বলেই শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো মহুয়াকে। মহুয়া কিছু বুঝতে পারছে না ইমনকে এভাবে কখনো দেখেনি। হঠাৎ এমন করার মানে বুঝার চেষ্টা করছে।ইমনের পিঠে আলতো করে হাত রেখে শান্ত করার চেষ্টা করলো।

‘কি হয়েছে? বলুন না।‘ এমন করছেন কেনো।

“মহুয়া আমি তোমাকে হারাতে চাইনা। বলো আমাকে ছেঁড়ে যাবে না। তোমাকে ছাড়া আমি নিঃস হয়ে যাবো।তুমি আমার প্রান, এদেহ থেকে প্রান চলে গেলো আমি বাঁচবো কিভাবে?” আমি তোমাকে ছাড়া বাচবো না।আমি হারাতে চাইনা, চাইনা।
ইমনের এমন পাগলামিতে মহুয়া একটু অবাক হলো সরিয়ে দিতে চাইলো নিজের কাছ থেকে ইমন কিছুতেই ছাড়লো না বরং আরো শক্ত করে ধরে রাখলো।

‘আপনি এসব কি বলছেন আমি কেনো আপনাকে ছাঁড়তে যাবো?’

“তোমাকে যদি কেউ বলে আমাকে ডিভোর্স দিতে তুমি কি দিবে?”

ছিঃ, ছিঃ এসব কথা বলছেন কেনো আপনাকে আমি ডিভোর্স দিতে যাবো কেনো। আপনি একটু শান্ত হোন প্লিজ আর বলুন কি হয়েছে। ইমন তবুও শান্ত হতে পারছে না তার বার বার আরিয়ানের বলা কথা গুলো মনে পড়ছে। না আর থাকা যাবেনা কাল সকালেই চলে যেতে হবে।

‘চুপ কেনো বলুন কি হয়েছে?’ ইমন তবুও কিছু বলছে না।

‘কি হলো কথা বলুন।’

“মাথা ধরছে ভীষন, প্লিজ এখানে ঘুমাতে দেও।” বলেই মহুয়ার কলের ভিতর মাথা দিয়ে শুয়ে পড়লো। মহুয়া ইমনের মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে ভাবছে কি হলো ইমনের, হঠাৎ এসব কথা কেনো বলছে। নিশ্চই কিছু হয়েছে কিন্তু সেটা কি? সারারাত মহুয়ার আর ঘুম হলোনা ইমনের এমন পাগলামি দেখে মহুয়ার বুকের ভিতর যন্ত্রনা শুরু হলো।সেওতো এই মানুষটাকে ছাড়া থাকতে পারবে না, কিছুদিন আগে যাকে চিনতোও না তাকে সারা এখন তার একটা দিনও যায় না সেখানে তাকে ছেড়ে কেনো দিবে? কখনোই না। কিন্তু হঠাৎ এসব কথা বললো কেনো কেউ কি চাইছে আমাদের আলাদা করতে?যদি এমনটা হয় তবে সেটা অসম্ভব।ইমনের কানের কাছে মুখ নিয়ে মহুয়া ফিসফিস করে বললো।

“আমি আপনাকে কখনোই ছাঁড়বো না,আমিও তো আপনাকে ছাড়া নিঃস, অসহায়। আপনি ছাঁড়া আমার কেউ নেই। কেউ না।”

_______________
রাহেলা সকাল সকাল উঠে সব কাজ কাম গুছিয়ে রান্না ঘরে এসে রান্নার জোগাড় করতে লাগলো তার মনটাও ভালো লাগছে না এতদিন হলো ছেলে ছেলের বউ আসছে না। মিনু উঠলেই ফোন দিয়ে আজকেই আসতে বলবো। বাড়িটা ফাঁকা লাগছে।

শীতের সময় নিজের বাড়িতে সবজি লাগিয়ে খাওয়ার মজা অন্যরকম। কিছু জায়গা সবজি লাগিয়েছে রাহেলা। এক পাশে লাল শাখ, পালন শাখ, অন্য পাশে বেগুনের চারা। লাউ শাখ বড় হয়ে উপরে উঠে যাচ্ছে সেগুলো ঠিক করছে আর গাছ গুলিতে পানি দিচ্ছে তখনি সেখানে মিনু আসে।

‘মা আমাকে বলতে আমি এগুলা করতাম,’ এই শীতে পানিতে বেশি হাত দিও না।

‘আমি করছি তুই পারবি না।’ দেখ লাউ শাখ বড় হয়ে ফুল আসছে। তুই বরং ঘরে ভাত বসানো দেখ যেয়ে।

“তুমি বেঁধে চলে এসো মা, পানি পরে দিও।”

আচ্ছা শোন ইমনের কাছে একটু ফোন দে তো।

কেনো?

‘বাড়ি ফাঁকা লাগছে ওদের বাড়ি আসতে বল।’

‘আচ্ছা দিবো তুমি আসো আমি গেলাম।’ মহুয়ার ভাগ্যে খুব ভালো নয়ত এমন শাশুড়ি পায়।এ যুগে শাশুড়িরা চাই বউ সারাদিন কাজ করুক, তাকে সেবা করুক। আর ছেলে নিজের হাতের মুঠোয় থাকুক। নিজের ছেলে বউয়ের কথা শুনলে তাদের সমস্যা কিন্তু নিজের মেয়ের জামায় যখন মেয়ের কথা মতো চলবে তখন তার মেয়ের ভাগ্যে ভালো এমন একটা জামায় পেয়েছে। অথচ দুজন মেয়ে সেও একজন মেয়ে। পরের মেয়েকে নিজের মেয়ে মনে করলে আজকে এতো সংসারে অশান্তি হতো না,এতো বউ অত্যাচারিত হতো না। সেখানে তার মা নিজের মেয়ের জায়গা দিয়েছে মিনুর ভালো লাগলো অন্তত তার মা অন্য শাশুড়িদের মতো না।

#চলবে

#বোনাস_পর্ব
#তোমার_অস্তিত্ব
#মুসলিমা_ইসলাম

আরিয়ান সারারাত ঘুমাইনি এই শীতের ভিতর বাহিরে বসে ছিলো, সুফিয়া বুঝিয়েও জায়গা থেকে উঠাতে পারেনি। খুব ভর বেলায় আকরাম উঠে বাহিরে আসছিল কুয়াশায় ভালো করে দেখা না গেলেও কাছে যেয়ে দেখলো তার ছেলে।

“তুমি এখানে এভাবে কেনো?” অবাক হয়ে বললো আরিয়ানের বাবা।

আরিয়ান নিচের দিকে তাকিয়ে বসে ছিলো কেউ যে ডাকছে তাতে তার কোনো হেলদোল নেই। আকরাম আবারো ডাকলো তবুও সারাশব্দ পেলো না। গায়ে হাত দিতেই আরিয়ান পড়ে গেলো আকরাম দ্রুত ছেলেকে ধরে নিলো।

‘‘আরিয়ান, বাবা কি হলো তোমার উঠো, মালিহা, মা তোমরা জলদি আসো।আকরামের আওয়াজ পেয়ে এক এক করে ঘর থেকে বেরিয়ে আইছে সবাই মালিহা এসে ছেলের এই অবস্থা দেখে কাঁদতে কাঁদতে

‘ও বাবা কি হলো তোমার, উঠো।’ ওগো ওর কি হয়েছে কথা বলছে না কেনো।

“আপা আরিয়ানকে ঘরে নিয়ে চলেন, ওর শরীর বরফের মতো ঠান্ডা হয়ে গেছে।” বললো তানিয়া ইকরাম আকরাম মিলে আরিয়ান ধরে নিয়ে গেলো আরিয়ানের রুমে যেয়ে শুয়িয়ে দিলো, শীতের লেপ, কম্বল গায়ের উপর দিয়ে দিলো। আরিয়ানের তবুও কোনো সারাশব্দ পেলো না।

“আমি কতবার মানা করছি এখানে আসতে হবেনা। আমার কথা কেউ শুনলো না।”

“আরিয়ান বাবা উঠ, কথা বল।’ ওগো ডক্টর আনো দেখো না আমার ছেলেটার কি হয়েছে।

‘আপা আপনি একটু শান্ত হোন, সব ঠিক হয়ে যাবে।’

তাবাস্সুম, নাঈম আরিয়ানের মাথার কাছে চুপ করে বসে আছে। আরিয়ান তাদের শাসন করলেও প্রচন্ড ভালোবাসে যেটা চাই সেটা দেওয়ার চেষ্টা করে নিজের ভাই বোনের মতো আগলিয়ে রাখে।

‘ভাইয়া উঠো, আমি আর দুষ্টামি করবোনা।’ (নাঈম)

রাত করে ঘুমানোর ফলে মহুয়ার একটু দেরিতে ঘুম ভাঙ্গলো, পাশে ইমন এখনো ঘুমিয়ে আছে। বাহিরে সবার কথা শুনতে পেয়ে উঠে পড়লো এত সকালে তো কেউ উঠেনা। উঠে বাহিরে এসে দেখে সুফিয়া একটা পাত্রে আগুন নিয়ে আরিয়ানের রুমের দিকে যাচ্ছে।

“কি হয়েছে দাদি, আগুন কোথায় নিয়ে যাচ্ছো।” সুফিয়া কোনো কথা না বলে রুমে ঢুকে পড়লো, মহুয়াও পিছন পিছন যেয়ে রুমের ভিতরে ঢুকে দেখলো আরিয়ান বিছানায় শুয়া, গায়ের উপরে লেপ কম্বল, মালিহা পাশে বসে কান্না করছে, তানিয়া, তার চাচা, ভাই বোন আরিয়ানকে ঘিরে আছে সেও ভিতরে ঢুকে__

“কি হয়েছে উনার মেজো চাচি।” তানিয়া বলার আগেই মালিহা চেঁচিয়ে উঠলো।

‘এখন এসে শুনছিস কি হয়েছে?’ আমার ছেলের যা হোক তাতে তোর কি?.

‘আহ বউমা তুমি ওর সাথে এমন করছো কেনো?’

‘মা আপনি চুপ করেন, আজ এই অবস্থার জন্য এই মেয়ে দায়ী।”

“কি বলছেন বড় চাচি আমি দায়ী?” আমি কি করেছি?’

হ্যাঁ, তুই দায়ী ছোট থেকে তোর এই রুপে পাগল করে রেখেছিস আমার ছেলেটাকে এত চেষ্টা করেও আমি আমার ছেলেকে আটকাতে পারিনি। মহুয়া অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে তার চাচির দিকে কি বললো এটা সে কখন কি করলো ছোট থেকে সে একা মানুষ হয়েছে তার দাদির কাছে। দাদির কাছে অবশ্যই শুনছে কিন্তু সে কখনোই এসব বিষয়ে ভাবেনি বরং ঘৃণা জম্ম নিয়েছে।যার নিজের চাচারা চাচিরা তাদের খোঁজ নেই না,সেখানে তাদের ছেলে ছোট বেলায় কি বলছে না বলছে তার কোনো নিশ্চয়তা ছিল কি?

‘আমার ছেলের পিছন থেকে সরে যা।’

“আপনি হয়তো ভুলে গেছেন আমি বিবাহিত। আর আপনার ছেলের পিছন আমি কখনোই পড়ে থাকেনি বড় চাচি অযথা আমাকে দোষ দেওয়া বন্ধ করুন।” বলেই মহুয়া চলে আসলো যেখানে সে এই বিষয়ে কিছুই জানেনা, কিছু করেওনি তাহলে দোষ গায়ে মাখবে কেনো? ছোট থেকে কারো মুখের উপরে কথা বলেনি, তর্ক করেনি, তবে আজকে চুপ থাকতে পারেনি। ইমন উঠে ফ্রেস হয়ে আসছিল তখনি মহুয়ার কথা তার কানে গেলো,মনে মনে একটু খুশিও হলো।সেও রুমের ভিতরে চলে গেলো মহুয়ার পিছন পিছন।

‘তুমি দেখছো মেয়েটা কি বলে গেলো?’

“ঠিকই তো বলছে তুমি বেশি করছো ঘরে জামাই এসব কথা না বললে কি হতো না?” নিজের ছেলে অসুস্থ না দেখে তুমি এসব নিয়ে পড়ে আছো। আকরাম কথাটা বলে বাহিরে চলে যাচ্ছিল তখনি ইকরাম ডক্টর নিয়ে আসলো। ডক্টর ভালো করে দেখে বললো অতিরিক্ত শীতের জন্য এমন হয়েছে,প্রোয়জনি ঔষধ লিখে দিলো খাওয়ালে ঠিক হয়ে যাবে।ডক্টর চলে যেতে ইকরাম আবারো গেলো একবারে ঔষধ নিয়ে আসবে।

সকালের নাস্তা আর কারো খাওয়া হয়নি। ইমন চাইছে এখান থেকে কখন বের হতে পারবে। আরিয়ানের রুমে মহুয়া আর যায়নি। রোদ উঠতেই আরিয়ানকে বাহিরে নিয়ে আসলো এখন হাটতে পারছে ডক্টর দেখে যাওয়ার কিছু সময়ের ভিতরে জ্ঞান ফিরছিলো।

আরিয়ানের চোখ এখনো খুঁজছে একটু তাকে দেখার জন্য তার ভিতরে কি চলছে সে যদি কাউকে বলতে পারতো।তার পাশে মালিহা বসে আছে ছেলের হাবভাব একটু হলেও বুঝে গেলো।

“তুমি এটা ঠিক করছো না আরিয়ান, মহুয়া কিন্তু বিবাহিত। তুমি এখনো কিভাবে?”

‘মা তুমি তোমার ছেলেকে বুঝবে না। বুঝতে চাওনি কখনোই’ যদি চাইতে আজকে তোমার ছেলের এই অবস্থা দেখতে হতোনা।

‘এর থেকে সুন্দর মেয়ে এনে দিবো।’

‘আমার মহুয়াকেই লাগবে।’

“আরিয়ান ভুলে যেওনা মহুয়া বিবাহিত।” পাশে মানুষ থাকাই মালিহা যত সম্ভব চেষ্টা করছে আরিয়ানকে বুঝানোর কিন্তু তার ছেলে তো কিছুতেই কথা শুনছে না।এই ছেলে বুঝতে পারছে না সে যেটা চাইছে সেটা অসম্ভব।

মহুয়া এখন বুঝে গেছে কাল ইমনের পাগলামি কিসের জন্য ছিলো। তাহলে কি আরিয়ান চাইছে তাদেরকে আলাদা করতে? না এটা অসম্ভব। আরিয়ানকে সে কখনোই নিজের মনে জায়গা দেইনি দিবেও না। এসব ভাবছিল তখনি ইমন এসে তাকে স্পর্শ করতেই ভয়ে পিছয়ে গেলো।

“আমি মহুয়া, এমন করছো কেনো কি হয়েছে?”

“মহুয়া কিছু না বলেই ইমনকে জড়িয়ে ধরলো। আমি আপনাকে ছাড়তে চাইনা, আপনি আমাকে ভুল বুঝবেন না প্লিজ, আমি এসব জানতাম কিন্তু কখনোই এসব নিয়ে ভাবিনি।নিজের মনে একমাত্র আপনি ছাড়া দ্বিতীয় কেউ নেই।”ইমন মহুয়ার মাথায় হাত রাখলো..

‘শান্ত হও, আমি থাকতে কখনোই কেউ আমার থেকে তোমাকে আলাদা করতে পারবেনা।’

‘গুছিয়ে নেও এখনি এখান থেকে চলে যাবো।’ মহুয়াও শান্ত মেয়ের মতো গুছাতে লাগলো।বাহিরে এসে দেখলো সবাই ব্যাস্ত আরিয়ানকে নিয়ে মহুয়া সোজা তার দাদির কাছে চলে গেলো।

“আমরা চলে যাচ্ছে দাদি।” সুফিয়া কি বলবে এসব হবে সে কখনোই জানতো না।

‘এখনি চলে যাবে? দুপুরে খেয়ে যেতে।’

“তার প্রোয়জন নেই। মহুয়া চলো।” মহুয়ার ইমনের পিছন পিছন যেতেই আরিয়ান সোজা এসে মহুয়ার হাত আটকে ধরলো।

“মহুয়া তুই যাস না, তুই যেতে পারিস না। আমি তোকে ছাঁড়া বাচবো না।” ইমন এসে এক ঝাটকায় মহুয়ার হাত সহ মহুয়াকে নিজের কাছে নিয়ে নিলো।

“আপনার সাহস কি করে হলো আমার স্ত্রীর হাত ধরার?”

“ইমন দেখো।”

সরি আমি আপনাকে এই মুহূর্তে চিনিনা। আমার স্ত্রীর গায়ে হাত দেওয়ার কোনো অধিকার আপনার নেই মিস্টার আরিয়ান।

“ইমন আমি ওকে ভালোবাসি, প্লিজ তুমি ওকে আমার করে দেও।” আমি কথা দিচ্ছি আমি ওকে সুখে রাখবো, ভালো রাখবো। মহুয়া তুই তো জানিস বল। তুই যাস না।

আকরাম আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারলো না এসেই আরিয়ানের গালে থাপ্পর বসিয়ে দিলো।

“তোমার লজ্জা করেনা, নিজের আপন চাচাতো বোনের সংসার ভাঙ্গতে।” ছিঃ এমন ছেলে জম্ম দিয়েছি। মালিহা দৌড়ে এসে ছেলেকে জড়িয়ে ধরলো।

‘এই মেয়ের জন্য আমার ছেলের গায়ে হাত তুললে?’

এটা আগে করলে আজকে এইদিন দেখা লাগতো না।আরিয়ান আর কোনো উপায় না পেয়ে পাশে ফল কাটার ছুরি রাখা ছিলো সেটা নিয়ে হাত বরাবর টান দিয়ে দিলো, নিজের ব্যালেন্স ঠিক না রাখতে পেরে লুটিয়ে পড়লো মাটিতে।আরিয়ান এমন কাজ করবে কারো কল্পনাই ছিলোনা মালিহা ছেলের এমন অবস্থা সয্য না করতে পেরে জ্ঞান হারিয়ে ফেললো। আকারাম ছুটে যেয়ে আরিয়ানকে ধরলো।

“ইকরাম জলদি গাড়ি নিয়ে আয়, এখনি হসপিটালে যেতে হবে।”

মহুয়া নির্বাক হয়ে তাকিয়ে আছে আরিয়ানের দিকে,জায়গা জুড়ে রক্ত,হাত দিয়ে গড়িয়ে পড়ছে। তানিয়া দ্রুত উরনা ছিঁড়ে বেধে দিলো এমন পরিস্থিতিতে মহুয়াদের আর যাওয়া হলোনা সবাই হাসপিটালে চলে গেলো। এর ভিতরে মালিহার জ্ঞান ফিরে আইছে।সে আশেপাশে খুঁজে দেখলো মহুয়া একপাশে দাড়িয়ে আছে কিছু না ভেবে সোজা যেয়ে মহুয়ার গালে পর পর দুই তিনটা থাপ্পর বসিয়ে দিলো।

“এই মেয়ে, তোর জন্য আজকে আমার ছেলের এই অবস্থা। আমার ছেলের যদি কিছু হয় তোকে মেরে ফেলতে আমি দুবার ভাববো না।” ইমন বাহিরে গেছিলো একটু দরকারে এসে দেখেই মাথা গরম হয়ে গেলো।

“আপনি যদি আমার মায়ের বয়সি না হতেন আপনার এই হাত ভাঙ্গতে আমার দু মিনিট লাগতো না।”

“এই ছেলে তুমি চুপ করো, এই মেয়ের ভিতর এত কি পেয়েছো। আমার ছেলের জীবন শেষ করছে এখন তোমারও করবে।”

আপনি চুপ করুন, আর কে কার জীবন নষ্ট করছে সেটা সবাই দেখছে। আপনার ছেলেকে কি মহুয়া বলছে কখনো সে তাকে ভালোবাসে? তার সাথে কোনো যোগাযোগ রাখছিল?আপনি মা আপনি আপনার ছেলের জন্য সব করতে পারেন কিন্তু এভাবে কারো উপর দোষ চাপিয়ে দিতে পারেন না। মহুয়া আমার স্ত্রী আর একটা বাজে কথা বললে আমি ভুলে যাবো আপনারা আমার গুরুজন। সুফিয়ার কাছে এসে ইমন বললো।

আমরা চলে যাচ্ছি, এত কিছু হওয়ার পরেও এখানে থাকা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয় দাদি।ভালো থাকবেন আর মহুয়াকে নিয়ে কোনো চিন্তা করতে হবেনা। আমি থাকতে মহুয়ার কোনো ক্ষতি আমি হতে দিবোনা বলেই বেরিয়ে পড়লো হাসপাতাল থেকে বাড়ির উদ্দেশ্য।

___________

#চলবে?

পূর্ববর্তী নিবন্ধ
পরবর্তী নিবন্ধ
গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ