#জীবন_রঙ্গমঞ্চ
লেখনীতেঃ #সুমাইয়া_আফরিন_ঐশী
#সূচনা_পর্ব
বিয়ের তিনমাস পর, সায়মন ভাই’কে নিয়ে দ্বিতীয় বারের মতো বাপে’র বাড়ির উঠোনে পা রাখতেই লোকমুখে শুনতে পাই, আমার আব্বা অল্প বয়সী সুন্দরী এক কন্যাকে দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। আজই নতুন বউ নিয়ে এসেছেন বাড়িতে। লোকজন আমাকে দেখে মিটমিট করে হাসছে, কেউবা তাচ্ছিল্যের সুরে বলছে, “কিরে জবা, বাপের নতুন বউ দেখতে আসছিস নাকি?”
আমি অতি শ’ক’টে বাকরুদ্ধ! সবটা শুনে বুকটা কেমন জানি চিনচিন করে উঠলো আমার। আমি আর প্রত্ত্যুরে তাদের কিছু বলতে পারিনি। সায়মন ভাই ও যে খুউব রকমের অবাক হয়েছে, তা তার চোখ মুখ দেখেই বুঝা যাচ্ছে। তবুও উনি নিজেকে সামলে ওখান থেকে আমাকে ধরে নিয়ে গেলেন সামনের দিকে।
এই বয়সে এসে মা’কে রেখে আব্বা এমন এক কাজ করবে কখনো কল্পনাতেও ছিলো না আমার। কাঁপা কাঁপা পায়ে, সায়মন ভাই’কে ধরে বাড়ির ভিতরে আসলাম আমি।
নিজের মা’কে ছাড়া আব্বা’র পাশে অন্য এক মহিলা’কে দেখে কলিজা মো’চড় দিয়ে উঠলো আমার। আব্বা কিশোর বালকের মতো কি সুন্দর দ্বিতীয় বউয়ের সাথে হেসে হেসে কথা বলছেন। আমি ও সায়মন ভাই যে এই বাড়িতে এসেছি যেন দেখেও দেখছেন না তিনি। স্বামীর সামনে এমন লজ্জাজনক এক পরিস্থিতিতে পড়তে হলো আমার।
আমি স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে হিসাব মিলাচ্ছি, এতটুকু সময়ের ব্যাবধণে আমার বেস্ট বাবা’র কতটা পরিবর্তন!
এর আগেও নিজ গ্রামে পা রাখতে না রাখতেই লোকমুখে সবকিছু শুনেছি,তখন উল্টো রাগ হয়েছিল। কয়েকজনকে কটু কথাও শুনিয়ে দিয়েছি আমি। আমার বাবা এমন নিচু কাজ কিছুতেই করতে পারে না৷ কিন্তু, কিন্তু এখন নিজ চোখে দেখে অবিশ্বাসের কোনো কারণ নেই । আমি দরজার সামনে ছলছল চোখে দাঁড়িয়ে আছি, বাসার ভিতরে যাওয়ার আর সাহস হলো না। আমাকে এভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে সায়মন ভাই এগিয়ে আসলেন। আমার কাঁধে হাত রেখে কোমল কণ্ঠে বললেন,
“ভিতরে যাবে না, জবা?এখানে দাঁড়িয়ে আছিস ক্যান? চল, ভিতরে যাওয়া যাক।”
হঠাৎ উনার কথা শুনে আমি আর নিজেকে সামলাতে পারলাম না। এই মুহূর্তে সবচেয়ে কাছের, একান্তই আপন বলতে উনাকেই মনে হলো। আমি উনাকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়লাম। কান্নারত কণ্ঠে বললাম, “এ আমি কি দেখছি, সায়মন ভাই? আমি যা দেখছি আপনি ও কি তাই দেখছেন? এটা সত্য? নাকি আমার ভ্রম?”
সায়মন ভাই কিছু বললো না।কি’বা বলবে? সব তো সত্য, চোখের সামনেই ঘটছে। মিনিট পেরোতেই উনি ফোঁস করে শ্বাস ছেড়ে আমার মাথায় হাত বুলিয়ে বললো, “রিলাক্স জবাফুল!”
কিন্তু আমি ফুঁপিয়ে যাচ্ছি, পরাপর উনি কিছু বললো না। হয়তো আমাকে একটু সময় দিলো নিজেকে সামলাতে।
আসলে উনি সম্পর্কে আমার ফুফাতো ভাই হয়। পারিবারিক ভাবেই আমাদের বিয়ে হয়েছে। তখনও সব ঠিকঠাক ছিলো। হঠাৎ করে কি থেকে কি হয়ে গেলো সবকিছু মাথার উপর দিয়ে যাচ্ছে।
এই সময়টায় এসে মেয়ে হয়ে বাবা’র এমন একটা কাজ মানা খুবই কঠিন। কোনো সন্তানই হয়তো মানতে পারবে না এগুলো।
লজ্জায়, ঘৃণায় শরীর আমার ঘিনঘিন করছে। কান্নারত চোখ জোড়ায় ঘৃণা বাসা বাঁধলো। আমি মাথা তুলে দূর থেকে ‘আব্বার দিকে একবার চেয়ে চোখ সরিয়ে নিলাম। যে বাবা’র স্নিগ্ধ মুখে এককালে মুগ্ধতা, শান্তি খুঁজে পেতাম, আজ সেই মুখের পানে তাকাতেও রুচিতে বাঁধে।
সায়মন ভাই অকপটে পড়ে নিলো আমার মনের ঝ*ড়-হাওয়া৷ উনি আমার চোখের পানিটুকু নিজের হাত দিয়ে মুছে দিলেন।
হঠাৎ আমার হাতটা শক্ত করে ধরে গম্ভীর কণ্ঠে বললো,
“আমার সঙ্গে ভিতরে চল, জবা। এতটুকুতেই এভাবে ভেঙে পড়ার মতো কিচ্ছুটি হয়নি!আমার জবাফুল তো এমন নয়! রিলাক্স!”
আমি মলিন কন্ঠে আক্ষেপ করে বললাম,
“সায়মন ভাই, আমি আর ভিতরে যাবো না। আমাকে এখান থেকে নিয়ে চলুন , আমি পারছি না এসব সহ্য করতে। এমন বিব্রতকর পরিস্থিতিতে মানুষ কি করে নিজেকে কনট্রোল করে, আমি জানি না। আমার আব্বার ….”
উনি আমাকে মাঝ পথে থামিয়ে দিয়ে বললো,
“মামনি কোথায়, জবা? উনাকে যে দেখছি না।”
মায়ের কথা মাথায় আসতেই হুঁশ ফিরলো আমার। কাউকে আর পরোয়া না করে আমি নিজের হাতটা ছাড়িয়ে নিলাম। সায়মন ভাই’কে রেখেই দৌড়ে মায়ের রুমে’র,দিকটায় ছুটলাম। নিজের যত্নে গড়া সংসারে, নিজের শখের পুরুষের সাথে অন্য নারীকে দেখে, না জানি আমার মা’টার কি অবস্থা। রুমের দরজা খোলাই রয়েছে, আমি একটু উঁকি দিয়েই দেখতে পেলাম খাটে নিস্তেজ হয়ে পড়ে আছে আমার অসুস্থ মা। বছর কয়েক ধরেই আমার মা বিভিন্ন রোগ-শোকে একটু বেশিই অসুস্থ। তবে এমন নয় যে একদম অ’চ’ল।
তবে আজ দেখেই মনে হচ্ছে, আগের তুলনায় অবস্থা আরো শোচনীয়! কেমন বিছনার সাথে লেপ্টে আছে মায়ের শরীরটা!
মায়ের করুণ অবস্থা দেখে পা কাঁপছে আমার,শরীরেও মৃদু কাঁপন ধরলো। রুমের ভিতরে প্রবেশ করার সাহস হলো না। দরজার সামনে বসেই মৃদু কণ্ঠে ডাক দিলাম মা’কে।
মা আমার কণ্ঠ স্বর শুনতে পেয়ে নড়েচড়ে উঠলেন। দরজায় আমাকে দেখে মলিন হেসে বললো, “জবা মা, এসেছিস তুই?”
আমি মাথা নাড়িয়ে সম্মতি জানালাম।মা দুর্বল শরীরটা নিয়ে উঠে বসলো। এক হাত বাড়িয়ে আমাকে বলে উঠলো,
“ওখানে দাঁড়িয়ে আছিস কেন মা? কাছে আয়।”
আমি দৌড়ে মায়ের কাছে আসলাম। মা’কে জড়িয়ে ধরে চিন্তিতো হয়ে বললাম,
“তুমি ঠিল আছো, মা?”
আম্মা নিশ্চুপ। আমি কিছুক্ষণ পর মা’কে ছেড়ে তার পাশেই বসলাম। হঠাৎ চোখ গেলো মায়ের ডান গালে। গালে পাঁচ আঙুলের ছাপ স্পষ্ট। তবে আব্বা মা’কে মে*রে*ছে? এতো অঃধ’প’ত’ন হয়েছে তার! এরিমধ্য
আমার মা আচমকা আমাকে জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে দুই বছরের বাচ্চা মেয়ের মতো কাঁদছেন। অতঃপর কান্নারতো ভাঙা ভাঙা কণ্ঠে বললো,
“এই বয়সে এসেও আমার সং’সা’র’টা ভে’ঙে গেলো’রে জবা। আমার যত্ন ঘরা সংসারে এখন নতুন মানুষ এসেছে, তোর বাপ দ্বিতীয় বিয়ে করেছে।”
আমি মায়ের কথার বিপরীতে কিছু বলতে পারলাম না। কি বলা উচিৎ আমার? জানা নেই আমার। বয়স যতই হোক, বাঙালি নারী কস্মিনকালেও তার স্বামী’র ভাগ অন্য কাউকে দিতে চায় না। সেখানে আমার মা ভালোবেসে বিয়ে করছিলেন বাবা”কে।
আমার মা শেষ বয়সে এসেও সংসার হারানোর কষ্ট বেকুল হয়ে কাঁদছে, কখনো বা ফুঁপিয়ে উঠছে। আমি কখনো মা’কে এভাবে কাঁদতে দেখিনি, আর না কখনো এভাবে ভে’ঙে পড়তে দেখেছি।
আমি নিজেকে সামলে মা’কে আগলে চুপ করে বসেই রইলাম। আমাকে চুপ থাকতে দেখে মা মুখ তুলে তাকালো, চোখের জলটুকু আঁচলে মুছতে মুছতে বললো,
” মারে, এইদিন দেখার আগে কেন আমার ম’র’ণ হলো না। তোর বাপ আমার বড় শখের পুরুষ ছিলোরে মা!”
মায়ের অসহায়ত্ব কান্না দেখে আমার ও ভিতর থেকে দ”লা পাকিয়ে কান্না আসছে, কিন্তু আমি কাঁদলাম না। মায়ের দিকে তাকিয়ে গম্ভীর কণ্ঠে বললাম,
“কেঁদো না মা! তোমার গালে কিসের ছাপ মা? তোমার গায়ে উনি হাত তুলছে, মা?”
মা হঠাৎ ছলছল চোখে হাসলো। আমার দিকে তাকিয়ে উদাস কণ্ঠে বললো,
“এ কিছু না মা! সামান্য ভালোবাসার চিহ্ন!”
আমি যা বুঝার বুঝে নিয়েছি, মায়ের হাত ধরে বসা থেকে উঠে দাঁড়ালাম। দরজায় দাঁড়িয়ে আছে সায়মন ভাই। মেয়ের জামাইয়ের সামনে এরকম এক বিব্রত পরিস্থিতিতে পড়ে মা বেশ লজ্জা পেলো।
তান্মধ্যে, মা আমার হাত ছাড়িয়ে অন্য দিকে তাকিয়ে নিজের চোখ মুছলো, আঁচল দিয়ে গালের আঘাতের চিহ্নটা আড়াল করতে চাইলো।
মা’কে লজ্জা পেতে দেখে সায়মন ভাই নিঃশব্দে জায়গা ত্যাগ করলো।
আমি মায়ের হাত ধরে বসার ঘরে নিয়ে আসলাম, সায়মন ভাইও এখানে আছেন।
আব্বা মায়ের পাশের রুমেই নতুন বউ নিয়ে আছেন। মা সেই রুমটায় একবার চেয়ে দৃষ্টি সরিয়ে নিলেন। প্রিয় পুরুষটি আজ অন্য নারীর সঙ্গে বদ্ধরুমে। তার হয়তো কলিজা ছিঁ*ড়ে যাচ্ছে, দম আঁটকে আসছে।
“নতুন পেলে পুরাতন হয়ে যায় অবহেলিত। ভালোবাসা আজকাল মরিচীকাময়।”
হঠাৎ মায়ের মুখে এমন কথা শুনে চমকে উঠলাম আমি সাথে সায়মন ভাই ও। মা পরিস্থিতি সামলাতে মুচকি হাসলো। এই হাসির আড়ালে রয়েছে সীমাহীন কষ্ট। আমি যদি পারতাম মায়ের সব কষ্টটুকু নিজের করে নিতাম।আমি মায়ের মুখ ছুঁয়ে অসহায় কণ্ঠে বললাম,
“মাআআআআ।”
তান্মধ্যে, মা সায়মন ভাই’কে উদ্দেশ্য করে বলে উঠলো,
“সায়মন, বাবা আমার! তুমি জবাকে নিয়ে এক্ষুণি এখান থেকে চলে যাও। আর কখনো এই বাড়িতে এসো না। আমার জবা’টাকে সারাজীবন আগলে রেখে, বাবা। ওরে কখনো কোনো কষ্ট দিও না। আজকের দিনটার জন্য আমি লজ্জিত বাবা।”
সায়মন ভাই এগিয়ে আসলো।মায়ের মাথায় হাত বুলিয়ে মা’কে আশ্বাস দিয়ে বললো,
“জবাকে নিয়ে আপনার কোনো চিন্তা করতে হবে না, মামনি। আমি যতদিন আছি জবা ভালো থাকবে। কিন্তু, এক্ষুণি চলে যাবো?”
শত আ’ঘা’তের ভিতরেও এইটুকু মায়ের প্রশান্তি। মা মুচকি হেসে বললো, “হ্যা বাবা, এক্ষুণই চলে যাও।”
সায়মন ভাই আর কিচ্ছু বললো না। মা আমার কাছে আসলো, আমার মাথায় স্নেহতুম হাত বুলিয়ে দিয়ে কোমল কণ্ঠে বললো,
“ভালো থেকো আমার বাচ্চা।”
অতঃপর, মা দুর্বল শরীরটা নিয়ে বাড়ির সদর দরজা দিকে চলে গেলেন। আমিও মায়ের পিছনে পিছনে গিয়ে জিজ্ঞেস করলাম,
“কোথায় যাচ্ছো, মা?”
মা দাঁড়ালো। আমার দিকে তাকাতেই টুপ করে চোখ দিয়ে গড়িয়ে পড়লো অশ্রু কণা। অস্বাভাবিক কণ্ঠে মা বললো,
“কোথায় যাচ্ছি জানি না। তবে তোর বাপের থেকে মুক্তি নিচ্ছি। ভাগাভাগির জিনিস কোনোকালেই পছন্দ নয় আমার।”
এই বয়সে এসে বাবা-মায়ের বি’চ্ছেদ! না আমি হতে দিবো না।। আমি মা’কে সঙ্গে সঙ্গে জড়িয়ে ধরে কেঁদে উঠলাম, কাঁদতে কাঁদতে বললাম,
“তুমি কোথাও যাবে না মা। এই সংসার তোমার, তুমি তোমার সংসার ছেড়ে কোথাও যাবে না। তুমি কেনো তোমার সংসার এতো সহজেই অন্য কাউকে দিয়ে দিবে, মা?”
মা আমার কপালে চুমু খেলো। আমার চোখের পানি মুছে দিয়ে মৃদু কণ্ঠে বললো,
“নারীর জীবনে স্বামীর ভূমিকা অপরিসীম। স্বামী অন্যের হয়ে গেলে, সংসার ও অন্যের হয়ে যায়’রে জবা। আমি দুঃখিত মা! আমি পারলাম না তাকে নিজের করে রাখতে।”
কাছ থেকে মায়ের কষ্ট দেখে আমার বুকটা হাহাকার করছে। পরক্ষণে আব্বার উপর তীব্র রাগ হলো, তার জন্য আমার মায়ের এতো কষ্ট হচ্ছে। এর একটা বিহিত করতেই হবে। আমি মা’কে ছেড়ে পাশে থাকা একটা ফুলদানীতে লা*থি মে*রে ফেলে দিলাম।
মুহুর্তেই, ফুলদানীটা ভে’ঙে চূ’র্ণ-বি’চূ’র্ণ হয়ে ফ্লোরে ছড়িয়ে পড়লো।
মা আমাকে শান্ত হতে বললো, কিন্তু সায়মন ভাই নিশ্চুপ। আমার দিকে একবার অসহায় চোখে তাকালো। যার অর্থ, “স্যরি জবাফুল! এখানে আমার কিছু করার নেই। ”
এই পরিস্থিতিতে কাকে কি বলবে সে? মেয়ের জামাই হিসেবে তার কাছে এগুলো লজ্জাজনক ঘটনাই বটে!
আজ বাবা নামক অমানুষ টার জন্য আমার মায়ের শখের সাজানো বাগানটা কা’ল’বৈ’শা’খী’র মতো ত*ছ*ন*ছ হয়ে যাচ্ছে। আমি নিজেকে আর সামলাতে পারলাম না। হাতের কাছে যা পেলাম সব ভা*ঙ*চূ*র করতে লাগলাম।
এরিমধ্যে, ভা’ঙা’চো’রার শব্দ পেয়ে রুম থেকে বেরিয়ে আসলেন আব্বা। তার পিছনেই রুমের দরজায় জড়সড় হয়ে দাঁড়িয়ে আছে অল্প বয়সী সুন্দরী একটা মেয়ে। না চাইতেও আমি চাইলাম একবার তার দিকে। মেয়েটা বলা যায় আমার বয়সীই। শেষ-মেশ আব্বা কিনা মেয়ের মতো একটা মেয়েকেই বিয়ে করলো। ছিহ! ঘৃণায় মুখ ফিরিয়ে নিলাম।
এরিমধ্য, কয়েকজন প্রতিবেশীরা ও ছু*টে আসলেন।
মা মাথা নিচু করে, অন্য দিক মুখ করে দাঁড়িয়ে আছেন।
তীব্র ক্র”ধে আমি আব্বা’র সামনে একটা কাঁচের গ্লাস সশব্দে ফেলে দিয়ে চিৎকার করে বললাম,
“আপনি আমার মায়ের গায়ে হাত তুললেন কেনো সাহসে? এই বয়সে এসে ও বিয়ে করার এতো শখ আপনার। শেষ-মেশ মেয়ের বয়সী বাচ্চা একটা মেয়েকেই বিয়ে করলেন আপনি? এরকম একটা কাজ করতে, এতটুকু বিবেকে বাঁধলো না আপনার? ”
হঠাৎ করেই আব্বা এক ভ’য়ংক’র কাজ করে ফেললেন। যা আমার কল্পনাতেও ছিলো না। উপস্থিত সবাই চমকে উঠলেন এতে। আব্বা…
চলবে……
