#জীবন_রঙ্গমঞ্চ
লেখনীতেঃ #সুমাইয়া_আফরিন_ঐশী
#পর্বঃ৭
দেখতে দেখতে প্রেগনেন্সির আটটি মাস কে’টে গিয়েছে। আর মাএ দু’টো মাস ! ছোট্ট একটা প্রাণ আসবে আমার ঘরে। আমাদের অস্তিত্বের আগমনের জন্য, স্কুল থেকে ছুটি নিয়ে অবসরে আছি আমি। আজ দুপুরে খেয়ে সেই থেকে শুয়ে আছি আমি। ডক্টর সম্পূর্ণ বেড রেস্ট দিয়েছে আমাকে।
বিকেল টাইমটায় বড্ড বোরিং লাগছে আমার। সায়মন ভাই এখনো তার অফিসে, অনেকটা ব্যস্ত সময় পাড় করছে মানুষটা। তবুও অফিসে থাকাকালীন সময় বের করে বারকয়েক খোঁজ নিতে ভুলে না সে। লোকটার কথা ভাবতেই আনমনে ওষ্ঠদ্বয়ে হাসির ঝলক দেখা গেলো।
আমি শোয়া থেকে উঠে বসলাম, অবসর সময় কাটাতে একটা উপন্যাসের বই হাতে নিলাম। এরিমধ্যে, আমার মা গরম দুধ নিয়ে হাজির, তার পিছনে পিছনে ফুপি। আমাকে বসে থাকতে দেখে ফুপি ব্যস্ত কণ্ঠে বললেন,
“এই অসময়ে বসে বসে কি পড়ছিস? ভরাপেট নিয়ে এতো নড়াচড়া করিস না তো, জবা। আমার নাত/নাতনী যেন কষ্ট না পায়। খবরদার!”
বলতে বলতে বইটা কেঁড়ে নিলেন উনি। তান্মধ্যে, মা দুধের গ্লাসটা হাত বাড়িয়ে দিয়ে আদেশ জারি করলেন,
“গরম গরম দুধটা খেয়ে শুয়ে পড় দেখি।”
আমি মুখ কালো করে বললাম, “এখন খেতে ইচ্ছে করছে না মা, পেট ভরা লাগছে।”
কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না। দুই মা মিলে দুধের, পুষ্টি ও উপকারিতা সম্পর্কে জ্ঞান জুড়ে দিলেন। আমি কথা না বাড়িয়ে খেয়ে শুয়ে পড়লাম। মা আমার পাশে বসে মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছেন, ফুপি তার অনাগত নাত/নাতনির সাথে কথা বলছে। এদের হাব-ভাব দেখলে মনে হচ্ছে, দুনিয়ায় একমাত্র আমারই বাচ্চা হচ্ছে। আমি এসব ভীষণ এনজয় করছি। ভাগ্য করে এমন পরিবার পেয়েছি আমি। আলহামদুলিল্লাহ!
দিন যাচ্ছে যত, সবাই আবেগে আপ্লুত! বাচ্চা নিয়ে একেকজন একেকরকম প্লানিং করছে। সবার ভিতরে ভীষণ ইন্টারেস্ট কাজ করছে, প্রথম বাচ্চা বলে কথা। বাসার সবাই এখন আমায় ভীষণ যত্ন করছে। এদের পাগলামো দেখে আনমনে হাসি পায় আমার।
°
মায়ের আদুরে ছোঁয়া পেয়ে নিজের অজান্তেই ঘুমিয়ে গিয়েছিলাম আমি। শেষ বিকেলে সায়মনের ডাকে ঘুম ভাঙে আমার। উনার রাতে ফেরার কথা। এই সময়ে উনাকে দেখে একটু অবাকই হয়েছি আমি, তবে প্রকাশ করলাম না।
সারাদিন পর উনাকে দেখে চোখ জুড়ালো আমার। আমি কিঞ্চিৎ হাসলাম। লোকটা খানিকক্ষণ হলো ফিরেছে, ভেজা চুল দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়ছে, বোধহয় এসেই গোসল দিয়েছে।
আমি ভারী পেটটা নিয়ে উঠার চেষ্টা করলাম, তান্মধ্যে সায়মন এসে উঠতে সাহায্য করলো আমায়। পরক্ষণে, আমার কাছে ঘেঁসে বসলো। মোলায়েম কণ্ঠে শুধালো,
“ঘুম হয়েছে জবাজান? ”
আমি মাথা নেড়ে বললাম, “ভীষণ। কিন্তু, আপনি আজ এতো দ্রুত ফিরলেন যে?”
উনি আমায় আলতো করে জড়িয়ে ধরলো, কাঁধে চুমু খেয়ে বললেন, “পুরুষ মানুষের ঘরে বউ থাকলে কি আর অফিসে মন টিকে? তোমার আদর পাওয়ার জন্য মনটা আনচান আনচান করছিল, তাই চলে এসেছি।”
আমি উনার চুল টেনে দিয়ে, চোখ পাকিয়ে বললাম,
“এ্যাহ ঢং! মনে হয় আমি নতুন বউ।”
উনি আলতো হাসলো।আমার কোলে আলগোছে শুয়ে চোখ বন্ধ করে নিলো। আমি হাত বাড়িয়ে দিলাম উনার কপালে। সায়মন ভাই চট করে আমার হাত ধরে বললেন,
“তুমি আমার কাছে সবসময়ই নতুন, জবাজান! ঠিক সেই প্রথম দিনের মতো। তুমি শুধু আমার ভালোবাসাই নও, তুমি আমার গন্তব্য। এই আমিই জানি একটু সময় আগে বাড়ি ফেরার স্বাদ!”
উনার কথা শুনে মনটা শীতল হয়ে যায় আমার, মাঝেমধ্যে ভাষাহারা হই আমি। এই মুহুর্তে এই মানুষটার কথার বিপরীতে কি বলা উচিত আমার? সত্যি জানি না আমি। আহ, কপাল আমার! একটা পুরুষের এতো ভালোবাসা পাওয়ার ভাগ্য নিয়ে জন্মেছি আমি। এই মুহুর্তে আমি চুপ রইলাম, নিরব থেকে শুধু অনুভব করলাম আমার মায়ারাজ’কে।
উনি ফের আমার দিকে তাকিয়ে বললেন,
“সারাদিন কেমন কাটলো জান? তোমার কোনো অসুবিধা হয়নি তো?”
“উঁহু! ঠিক আছি আমি।”
“সত্যি তো?”
“হুম একদম।”
সায়মন পুনরায় চোখ বুঝলো। আমি উনার পাশ দিয়ে গামছাটা নিয়ে চুল গুলো মুছে দিলাম অবলীলায়। এরিমধ্যে, হঠাৎ করে সায়মন ভাই আনমনে বলে উঠলো,
“জবাজান! কখনো তুমি আমাকে ভুলে যাবে না তো?”
হঠাৎ উনার এহেন কথায় আমি ঘাবড়ে গিয়ে বললাম,”
“মানে?”
“শুনো জান? আমি যদি কখনো পৃথিবীতে নাও থাকি, তুমি শুধু আমার হয়ে থেকো জবাজান! তুমি আমার, একান্তই আমার। তুমি আমার বড্ড শখের নারী। আমার রক্তজবা! আমি তোমাকে আকাশের মতো ভালোবাসি।”
সায়মনের গলাটা জড়িয়ে আসছে,কন্ঠনালী কাঁপছে। আকষ্মিক উনার এহেন কথায় বুকের বাঁপাশটা মোচড় দিয়ে উঠলো আমার। আমি উনাকে মৃদু ধমকে বলে উঠলাম,
“একদম বাজে কথা বলবেন না আপনি। এসব আমার পছন্দ নয়, সায়মন । আমি.. আমি আপনাকে কোথাও যেতে দিবো না, না আমি কোথাও যাবো। আপনারে আমি বুকে মধ্যে যত্নে করে লুকিয়ে রাখবো, অন্য কেউ খুঁজেই পাবে না। কেউ না! আমি অসম্ভব ভালোবাসি আপনাকে! আপনি ছাড়া জবা অস্তিত্বহীন।”
বলতে বলতে ফুঁপিয়ে উঠলাম আমি। সায়মন চটজলদি উঠে বসলো, আমাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো। অতঃপর ব্যস্ত কণ্ঠে বললেন,
“এ্যাই, এ্যাই.. জবা? আরে কাঁদছো কেন পাগলী? আমি তো জাস্ট এমনিতেই বললাম। আচ্ছা সরি! আর কখনো বলবো না। তুমি এতো হাইপার হইয়ো না প্লিজ! জবা তুমি অসুস্থ। তুমি উওেজিত হলে আমাদের সন্তানের অসুবিধা হতে পারে, জান।”
“আমাদের সন্তান” কথাটা ভাবতেই নিজেকে সামলে নিলাম আমি। উনার বুকে মৃদু কি’ল দিয়ে আহ্লাদী হয়ে বললাম,
“মনে থাকবে তো? আপনার এমন কথায় আমার কলিজা কাঁপে মায়ারাজ!”
উনি হেসে বললেন, “অবশ্যই মনে থাকবে মহারানী! আর হবে না, পাক্কা প্রমিস! ”
দু’জন মিলে খুনসুটিতে কেটে গেলো আরো একটি সন্ধ্যা। এখন ধরনীতে আঁধার নেমে এসেছে। পরিবার, প্রিয়জনদের নিয়ে রাতটাও ভালো যাচ্ছে, তবুও আজ অজানা কারণে বুকটা বড্ড পুড়ছে আমার। মনটা বারবার কু গাইছে। হৃদয়খানি জুড়ে হারানোর আন্দোলনে মেতেছে। ভিতরটা শীতল করতে, নামাজে দাঁড়িয়ে গেলাম আমি।
নামাজ শেষে তবেই একটু স্বস্তি ফিরলো মনে। রাতে সবাই এক সাথে খেয়ে, মাএই শুয়েছি আমি। এরিমধ্যে, সায়মন আসলো, আমার পাশে শুয়েই আকস্মিক কাকুতি ভরা কণ্ঠে বললেন,
“আমায় একটু শক্ত করে জড়িয়ে ধরবে, জবা? একটুখানি অনুভব করতে দিবে তোমার বুকের স্পন্দন?”
আমি অসুস্থ হওয়ার পর থেকে সচারাচর এমন আবদার করে না, সায়মন। আজ লোকটার হলোটা কি? বাসায় আসার পর থেকে হঠাৎ হঠাৎ চমকে দিচ্ছে আমায়। মস্তিষ্কে শ-খানিক প্রশ্ন জট বাঁধলেও, এই মুহুর্তে প্রশ্ন করলাম না আমি। উনার এটা আবদারই ছিলো না, ছিলো একান্তই মিনতি। আমি বিনাবাক্যে সাবধানতা অবলম্বন করে উনাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলাম। সায়মনও গুটিসুটি মে’রে মুখ লুকালো তার প্রিয়তমার উষ্ণ বুকে। আজ এমন মুহূর্তেও ক্ষণে ক্ষণে হৃদয় কাঁপেছে আমার! নিজেকে মানিয়ে নিলাম আমি, বুঝতে দিলাম না কাউকে কিচ্ছুটি।উনার মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে আস্তে করে বললাম,
“আপনার কিছু হয়েছে,সায়মন? আজ কেমন জানি লাগছে আপনাকে।”
উনি এক গাল হেসে বললেন, আরেহ্ নাহ! তেমন কিছু না। তবে…।”
উনি অর্ধেক কথা বলে থেমে গেলেন। আমি তড়িঘড়ি করে প্রশ্ন করলাম, “তবে কি? বুলুন আমায়?”
উনি আলতো হাসলো। আমার মাথাটা উনার বুকের সাথে মিশিয়ে ফিসফিসিয়ে বললেন,
“তোমার উষ্ণ আলিঙ্গণ পেতে ম’রি’য়া হয়ে যাচ্ছিলো মনটা। এখন শান্তি লাগছে জান। আমাকে শান্ত করতে তোমার একটা উষ্ণ আলিঙ্গণই যথেষ্ট!”
উনার হেলদোলহীন কথা শুনে স্বস্তির শ্বাস ছাড়ালাম আমি। পাগল একটা! এরপর দু’জনের মাঝেই নিরবতা। সায়মন এখনো ঠায় ঘা’প’টি মে’রে মুখ লুকিয়ে আছেন।
আমি চুপটি করে উনার মাথায় হাত বুলিয়ে দিলাম ঘন্টা খানিক। তারমধ্যে, আমার বুকে মাথা রেখে ঘুমিয়ে গিয়েছে সায়মন। ঘুমের মধ্যেও একটা মুহূর্তের জন্য আজ ছাড়লো না আমায়। আমিও নড়াচড়া না করে উনার কপালে চুমু এঁকে দিয়ে চোখ দু’টো বন্ধ করে নিলাম। এভাবে কখন জানি ঘুমিয়ে পড়লাম, খেয়াল নেই।
হঠাৎ রুম জুড়ে কারো গোঙানির আওয়াজ ভেসে আসছে। আমার ঘুমন্ত মস্তিষ্ক সচল হয়ে গেলো, দরফরিয়ে উঠে বসলাম আমি। একবার রুমে চোখ বুলিয়ে বিছানার বাঁপাশ ফিরতেই আতঙ্কে উঠলাম আমি। আমার সায়মন কেনো জানি বড্ড ছটফট করছে। নীল রাঙা ডিম লাইটের আলোতে মুখটা মলিন দেখাচ্ছে। কেঁপে উঠলো আমার আ ত্মাটা! আমি দিক-বিদিক শুন্য হয়ে বিচলিত হয়ে জিজ্ঞেস করলাম,
“আপনার কি…কি হয়েছে সায়মন ভাই?”
সায়মন মায়া ভরা চোখে চাইলো একবার আমার দিকে, আমার হাতটা নিয়ে নিজের বুকের সাথে মিশিয়ে ছটফটিয়ে বললেন,
“বুকের এখানটায় অসহ্য যন্ত্রণা হচ্ছে জবা… জবা জান আমার ভীষণ কষ্ট হচ্ছে। এতো যন্ত্রণা করছে কেন? আমার বড্ড পিপাসা পেয়েছে, একটু পানি দেও।”
এই লোকটাকে কখনো এভাবে ভে’ঙে পড়তে দেখিনি আমি। আজ লোকটার বড্ড কষ্ট হচ্ছে! আল্লাহ, কি হলো আমার মায়ারাজের? উনার এমন ছটফটানি দেখে, কেঁদে দিলাম আমি। আমার শরীরটা কাঁপছে, কাঁপা কাঁপা পায়ে পানির গ্লাস এগিয়ে দিলাম আমি। উনি মুহূর্তেই উঠে ঢকঢক করে পানিটা খেয়ে নিলো, লম্বা-লম্বা শ্বাস ছাড়ছে বারবার। হয়তো নিজেকে সামলাতে চাইছে। এতো রাতে কি করবো আমি? বাসার সবাই ঘুমাচ্ছে, উনার কষ্ট দেখে নিজেকে পাগল পাগল লাগছে। চোখ দু’টো দিয়ে অবিরত ঝরছে জল। আমি বসে উনার বুকে মালিশ করতে লাগলাম, তবুও উনাকে ভীষণ অস্হির লাগছে। লোকটা একদম নির্বাক হয়ে আছেন এখন। হঠাৎ আমার হাত ধরে থামিয়ে দিলো আমায়। আমি ভয়ে ভয়ে জিজ্ঞেস করলাম,
“এখন কেমন লাগছে আপনার? আপনার খুউব কি কষ্ট হচ্ছে, সায়মন ভাই? কি হলো আপনার? আচ্ছা দাঁড়ান আমি বাবা’কে ডাকছি।”
আমি চলে যেতে নিলাম। সায়মন আমার হাত ধরে বসিয়ে দিলো আমায়। চোখের জলটুকু আলগোছে মুছে দিয়ে জড়ানো কণ্ঠে বললো,
“আমি ঠিক আছি জবা। রিলাক্স জবা! রিলাক্স!”
উনার এলোমেলো কণ্ঠ স্বর শুনে কান্নার বেগ আরো একটু বাড়লো আমার। উনি এক হাতে জড়িয়ে ধরলো আমায়, থামাতে চাইছে। কিন্তু আমি নিজেকে সামলাতে পারছি না এই মুহুর্তে। আজ উনার চোখের কোণেও জল। আমি অনুভব করলাম সায়মন ভাই দুলছে, মুহূর্তেই ধরে ফেললাম আমি। উনার মাথা নিজের কাঁধে রেখে, “মা” বলে একবার চিৎকার দিতেই উনি আমার মুখ চেপে ধরে ইশারায় চুপ থাকতে বললো। উনার ইশারায় আমি শান্ত হলাম।
হঠাৎ সায়মন আমার উঁচু পেটটা জড়িয়ে ধরে চুমু খেয়ে এলোমেলো কণ্ঠে বললো,
“এখানে আমাদের সন্তান তাই না, জবাজান? আমার বোধহয় তাকে আর ছুঁয়ে দেখা হলো না। আমার সময় ফুরিয়ে এসেছে বউ। ওইতো ওরা.. ওরা দূর থেকে হাতছানি দিয়ে ডাকছে আমায়।”
উনার কথা শুনে হৃদয়ে এক কা’ল’বৈ’শা’খী ঝ’ড় বয়ে গেলো আমার। আমি এক চিৎকার দিয়ে বললাম,
“সায়মন ভাই… প্লিজ শান্ত হোন। আপনার কিছু হবে না, কিছু হবে না । মা,ফুপি,বাবা, তাসফিয়া কোথায় তোমারা? দেখো..দেখো আমার সায়মনের বড্ড কষ্ট হচ্ছে আজ।”
সায়মন জোড়ে জোড়ে শ্বাস টানছে, চোখ দিয়ে গড়িয়ে পড়ছে জল। নিভু নিভু চোখে আমার দিকে তাকিয়ে পুনরায় আবারো বললো,
“জবা, আমার অনুপস্থিতিতে আমার অনাগত সন্তান’কে তুমি কখনো অবহেলা করো না কিন্তু…. আমার সন্তানকে মানুষের মতো মানুষ করো। আমি বাবা হয়েও তাকে একটিবার ছুঁতে পারলাম না, এই আক্ষেপ নিয়েই আমাকে ছাড়তে হচ্ছে পৃথিবী!”
“সায়মন…..।”
“জবা শুনো? জবা আমার অনুপস্থিতে আমার বাবা-মা সহ পরিবারের সবাইকে দেখে রেখো তুমি। আমি সবার দায়িত্ব তোমাকে দিয়ে আজ বিদায় নিচ্ছি। আমি তোমাকে বড্ড ভালোবাসি জবাজান! আমার খুব ইচ্ছে ছিলো, তোমাদের সবাইকে নিয়ে এক সঙ্গে অনেকটা বছর বাঁচবো। কিন্তু ওরা যে আমায় ডাকছে… আজ চলে যেতেই হচ্ছে। তুমি… তুমি চিন্তা করো না বউ। আমি ওখানেও তোমার জন্য অপেক্ষা করবো।”
কথা বলতে বলতে নিস্তেজ হয়ে বিছানায় শুয়ে পড়লো, আমার সুঠাম দেহের মায়ারাজ। আজ কত অসহায় লোকটা! আমি পাশে থেকেও তার জন্য কিছু করতে পারছি না। ও আল্লাহ! তার কষ্টটুকু আমায় দেও, তবুও তাকে আমার হয়ে পৃথিবীতে রেখে দেও।
আমি আল্লাহকে বারবার ডাকছি, আমার চিৎকার চেঁচামেচির শব্দে বাসার সবাই দৌড়ে আসলো আমাদের রুমে। সায়মকে এভাবে ছটফট করতে দেখে উনারাও সবাই কাঁদছে। আমার ফুপি দিশেহারা হয়ে ছেলেকে জড়িয়ে ধরলো বুকে। সায়মন ভাই হয়তো একটু হাসলো, ফুপির হাত ধরে মৃদু কণ্ঠে বললেন,
“আমাকে ক্ষমা করো মা। আমার জবাকে দেখে রেখো তোমরা। ভালোবাসি মা! বিদায় মা! বিদায় আমার জবাজান!”
অতঃপর আমার সায়মন মুচকি হেসে চোখ বুঝে উচ্চারণ করলো,
“লাই লাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ (সাঃ) !”
ওই যে চোখ বন্ধ করে ঘুমিয়ে পড়লো আর চোখ খুললো না আমার মায়ারাজ। ফুপি ডাকলো, বাবা ডাকলো, কতো করে সবাই ডাকলাম তাকে। কিন্তু.. আমার মায়ারাজের ঘুমই ভাঙছে না।
চলবে……
