Friday, June 5, 2026







বাড়ি"ধারাবাহিক গল্প"জীবন রঙ্গমঞ্চজীবন রঙ্গমঞ্চ পর্ব-০৮ এবং শেষ পর্ব

জীবন রঙ্গমঞ্চ পর্ব-০৮ এবং শেষ পর্ব

#জীবন_রঙ্গমঞ্চ
লেখনীতেঃ #সুমাইয়া_আফরিন_ঐশী
#পর্বঃ৮

হঠাৎ করে শান্ত হয়ে গেলাম আমি। আমার সায়মনের কিচ্ছু হয়নি। না না, কিচ্ছু হয়নি ওর! আমার মায়ারাজ কথা দিয়েছে আমাকে, আমাকে একা রেখে কোথাও যাবে না সে। কিন্তু আশ্চর্য! আমার সায়মনকে ঘিরে কাঁদছে সবাই। ফুপির হুঁশ নেই, বাবা মাথায় হাত দিয়ে কাঁদছে। আমি বুঝলামই না, উনারা কাঁদছে কেনো? আমার সায়মনের বুকে বড্ড ব্যথা, কই একটু শান্তিতে ঘুমোচ্ছে লোকটা, তাও সহ্য হয় না উনাদের! আমি, আমি এবার উনাদের সবাইকে ধমক দিয়ে কড়া গলায় বললাম,

” কি সমস্যা তোমাদের? উনাকে ঘুমাতে দিচ্ছো না কেনো? জানো, এতক্ষণ কত কষ্ট সহ্য করেছে লোকটা! সবেই আমার মায়ারাজ দু’টো চোখ এক করেছে একটু! থাক না, উনি ঘুমাক একটু…. উনার ঘুম ভা’ঙ’লে’ই আমি উনাকে হসপিটাল নিয়ে যাবো। তারপর দেখবে সে একদম সুস্থ। বুঝেছো তোমরা? এতো কান্নাকাটি করো না তো।”

আমি মুচকি হেসে বসলাম সায়মনের পাশে। উনার মাথাটা আমার কোলে উঠিয়ে হাত বুলিয়ে দিলাম কপালে। এই জিনিসটা তার ভীষণ প্রিয়! তান্মধ্যে, মা এসে আমাকে জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে কাঁদতে কাঁদতে বললেন,

“আমাদের সায়মন আর উঠবে না’রে মা। আমাদের ফাঁকি দিয়ে চলে গেছে রবের ডাকে। ম’রে গেছে সায়মন, ম’রে গেছে।”

আমি বিরক্ত হলাম৷ কি সব বাজে বকছে মা?এমনটা হওয়ার নয়! কস্মিনকালেও না!আমি এক্ষুণি উনাকে ডক্টরের কাছে নিয়ে যাবো। আমার পাগলামি দেখে নি’থ’র সায়মন’কে হসপিটালে নিতেই হলো। আমি তার হাত ধরে রেখেছি, এই হাত ছাড়বোই না!

এখন রাত দুইটা। হসপিটালে পৌঁছাতেই আমি দৌড়ে খুঁজতে লাগলাম ডক্টর। মা-ও আমার পিছনে ছুটছে, শান্ত হতে বলছে আমায়। ওদের কি করে বুঝাই? আমি কাছ থেকে,খুব কাছ থেকে আমি আমার মায়ারাজের তীব্র ছটফটানি দেখেছি, কষ্টে চোখের জল দেখেছি। এখন আমি কি করে শান্ত হই?

কিন্তু, এতো খুঁজেও পাচ্ছি না ডক্টর। বহু খুঁজে একজন আসলো সায়মনের কেবিনে। আমি ডক্টরের কাছে কাকুতি মিনতি করে বললাম, “উনি যেন আমার স্বামীকে সুস্থ করে দেয়, তার বুকে বড্ড ব্যথা!”

উনি কিছুক্ষণ পরিক্ষা করে সাদা কাপড় দিয়ে ডেকে দিলেন আমার সায়মনকে। সাথে জানিয়ে দিলো, আমার সায়মন, আমার মায়ারাজ “হার্ট অ্যা/টাক” করে মা রা গিয়েছে। আমার পৃথিবীটা যেন অন্ধকার হয়ে আসছে,মাথার উপর থেকে বিশ্বস্ত হাতটা সরে গেলো আচমকা। লোকগুলো এতো পাষা/ণ্ড! ওরা বড্ড পাষাণ মানব! আমার সায়মনকে মৃ তু মানুষ বলছে, ওদের কলিজা কাঁপছে না!?

চারপাশের সবাই আমার স্বামীকে মৃ তু ঘোষণা করছে, কিন্তু আমার অচেতন মন মানতে নারাজ! এমনটা হওয়ার নয়,তবুও হয়েছে। এমনটা কেন হলো? আমাদের তো এখনো একসাথে বহু পথ চলা বাকি।আমার সন্তান পৃথিবীতে আসবে, আধোঁ আধোঁ কণ্ঠে বাবা-মা বলে ডাকবে আমাদের। তাকে নিয়ে কত স্বপ্ন দেখেছি দু’জন। সবই যেন আজ বৃথা। আমার সন্তান কাকে বাবা বলে ডাকবে? জন্মের আগেই বাবা হা’রা হলো আমার বাচ্চাটা! আমি মাথায় হাত দিয়ে মেঝেতে ধাপ করে বসে পড়লাম, চোখে কেন জানি সব অন্ধকার লাগছে।

°
শেষ রাত এখন।আজ অন্ধকার রাতে হুতুম পেঁচারা বিষাদের গান গাইছে। আমার সুখের রাজ্যে শো’ক নেমেছে, সবার বুকে প্রিয় হারানোর হা’হা’কা’র। এতক্ষণ কি হয়েছে খেয়াল নেই আমার, অচেতন অবস্থায় ছিলাম বোধহয়। চোখ মেলতেই নিজেকে আমার রুমে আবিস্কার করলাম। আমি ধীরস্থির হয়ে উঠে বসলাম, চারপাশে মানুষের আনাগোনা।
চারপাশে এতক্ষণে ছড়িয়ে গিয়েছে আমার মায়ারাজের নিখোঁজ হওয়ার সংবাদ। আমার তৃষ্ণার্ত চোখ দু’টো বেকুল হয়ে খুঁজছে প্রিয় সেই মুখটাকে। দূর থেকে দেখলাম আমার শখের পুরুষটিকে ওরা ঠান্ডা ফ্লোরে রেখে দিয়েছে। তার পাশে বসে হৃদয় নিঙড়ানো কান্নায় কাঁদছে ফুপি,তাসফিয়া আরো আত্মীয়রা। সে-কি আহাজারি, সে-কি আ’র্ত’না’দ!
কিন্তু আমার মা’কে দেখলাম না আর আশেপাশে।

আমি টলতে টলতে ছুটে গেলাম আমার সায়মনের কাছে। এরিমধ্যে, হঠাৎ করে আরো একটি পরিচিত মুখ দেখা গেলো। উনার মামা। আমার আব্বাজান, আজ এসেছে তাহলে! কি দেখতে এসেছে আমার প্রিয় মানুষটার লা শ? আমি একবার তাকিয়ে চোখ ফিরিয়ে নিলাম। কিন্তু, ওই লোকটা এগিয়ে আসলো, ধরলো আমায়। বহুদিন পরে মাথায় হাত বুলিয়ে ডাকলো,

“আম্মা!”

এসবকিছুতেই আজ বিতৃষ্ণা লাগছে আমার। আমি উনার হাত সরিয়ে দৌড়ে চলে গেলাম সায়মনের কাছে। ভরা পেটটা নিয়ে চলতে খুব কষ্ট হচ্ছে, কিন্তু এই কষ্টের চেয়ে হৃদয়ে র’ক্ত’ক্ষ’র’ণ যে বড্ড বেশি! আমি মেজেতে বসে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলাম সেই স্নিগ্ধ মুখো পানে। আজ উনাকে আরো আকার্ষণীয় লাগছে, রুপে মোহগ্রস্ত হয়ে আমি চোখ ফিরাইতে পারছি না! কিন্তু একি, আমার চোখের অশ্রুগুলো অনবরত ঝড়ে ভিজে দিচ্ছে উনার মায়াবী মুখটা। আমি দেরী না করে ভীষণ যত্ন করে শাড়ীর আঁচল দিয়ে মুছে দিলাম জলটুকু। আমি জানি লোকটা আমার কান্না সহ্য করতে পারে না। তবুও কেন কাঁদছি আমি? আমি তো কাঁদতে চাই না! তড়িঘড়ি করে নিজের চোখটা মুছে উনার গাল ছুঁয়ে ভাঙা কণ্ঠে ডাকলাম,

“এই সায়মন? আমার মায়ারাজ? উঠো তুমি, আর কতো ঘুমাবে?”

কিন্তু আমার প্রিয় পুরুষটি আজ বড্ড পাষাণ! হৃদয়হীন লোকটা আর উঠলোই না। এতো ডাকছি তাও আমার ডাকে সে একটি বার সাড়া অবধি দিলো না।

“সে পাষাণ!হ্যাঁ সে বড্ড পাষাণ।
এলোমেলো, ছন্নছাড়া বিপর্যস্ত মেয়েটাকে দেখেও তার হৃদয়ে লাগছে না টান। সে তো পাষাণ.!”

এভাবে কত সময় কেটে গেলো জানি না। চারপাশে রোদের আলো লুকোচুরি খেলছে। লোকজন আয়োজন করছে মৃ ত্যু দেহটাকে তার আসল ঠিকানায় পৌঁছে দিতে। আমার মায়ার বাঁধন ছিন্ন করে একটা সময় ওরা আমার মায়ারাজ’কে নিয়ে গেলো আমার কাছ থেকে । আমি কাঁদলাম, হাতজোড় করে নিতে বারণ করলাম। তাও ওরা নিয়ে গেলো। আমার চোখের সামনে আমার প্রিয় পুরুষটাকে সাদা কা/ফনে মু/ড়িয়ে দিলো। আমি অসহায় হয়ে দু-চোখ মেলে দেখলাম শুধু, এতো চেয়েও কিচ্ছুটি করতাম পারলাম না আমি। কত স্বপ্ন! কত ইচ্ছে ধুলোয় মিশেয়ে আমার মায়ারাজ আরাম করে শুয়ে আছে মাটির ঘর খানিতে। সে আর ফিরবে না!আমাকেও আর কেউ ডাকবে না সেই প্রিয় নাম ধরে, কারণে অকারণে কেউ বলবে না ভালোবাসি। হায় আফসোস! নিজের ভাগের সবটুকু ভালোবাসা দেওয়া হলো না তাকে। ফিরে এসো তুমি, ফিরে এসো আমার মায়ারাজ।
থেকে যাও আমার সঙ্গে, ভে’ঙে দিয়ে সব নিয়ম নীতি।যেখানে তাকাই, সবখানেই তো তোমার স্মৃ’তি।

পরক্ষণে মস্তিষ্ক জানান দিলো,মৃ ত্যু মানুষ গুলো চাইলেও আর ফিরে আসতে পারে না। আচ্ছা, প্রিয় মানুষ গুলো কি এভাবেই অ’কালে হারিয়ে যায়?
বিধাতা এ কোন খেল খেললো! জীবন রঙ্গমঞ্চে রঙ কি ক্ষণে ক্ষণে বদলায়? হ্যাঁ বদলায় তো, এই যে বদলে গেলো। জীবনের রং কখনো রঙিন, কখনো ধূসর। মানসিক শান্তি দেওয়ার মানুষগুলো অবেলায় হারিয়ে যায়।
_________________

চার বছর পর……

অবসরে’র এক বিকেলে ব্যালকনির গ্রিল ধরে বিষাদ উড়াতে ব্যস্ত আমি। মনের ক্যানভাসে আজও ভেসে উঠছে আমার প্রিয়তমের হাস্যোজ্জল মুখখানা। কতদিন ছুঁয়ে দেখা হয়না তাকে, কতদিন শোনা হয়না প্রিয় কণ্ঠের টোন! তার কথা ভাবতেই চোখ থেকে গড়িয়ে পড়লো দু’ফোঁটা জল।
এমন সময় গুটি গুটি পায়ে ছোট্ট একটা বাচ্চা ছেলে দৌড়ে এসে দু’হাতে ঝাপটে ধরলো আমায়। আধোঁ আধোঁ মায়া ভরা কণ্ঠে শুধালো,

“মাম্মা! আমাল মাম্মা। তুমি একানে? আমি তোমায় কতো দায়গায় (জায়গায়) কুজেচি (খুঁজেছি)।”

আমি নিজেকে সামলে মলিন হেসে কোলে নিলাম বাচ্চাটাকে। মাথায় স্নেহেতু হাত বুলিয়ে দিয়ে কোমল কণ্ঠে বললাম,

“মাম্মা এখানে বাবাই! কেনো খুঁজেছো তাকে?”

আমার চোখের কোণের জলটুকু বাচ্চাটার চোখের আড়াল হয়নি, পরক্ষণেই সে ব্যস্ত হয়ে মায়ের চোখের জলটুকু মুছে দিয়ে বিচলিত হয়ে জিজ্ঞেস করলেন,

“তুমি আবালো কাঁদচো মাম্মা? তুমি কাঁদলে তোমাল বাবাইল(বাবাইর) কষ্টু লাগে, তুমি জানো না?”

“কাঁদছি না তো বাবাই। চোখে পোকা পড়েছে বোধহয়।”

“কই দেকি কোতায় পুকা?আমাল দিকে তাকাও মাম্মা।”

পরমুহুর্তে, উতলা হয়ে পোকা খুঁজেও যখন পেলো না ছেলেটা, তখন বুঝে গিয়েছে তার মা কাঁদছে। ছোট ছোট হাত দিয়ে মাম্মার চোখে জল মুছে দিয়ে কপালে আদুরে ছোঁয়া দিলো। আদুরে কণ্ঠে শুধালো,

“আমাল ভালো মাম্মা! কাঁদে না , আমার সোনা মা। এই যে তোমাল বাবাই তোমাল চোকেল জল মুচে দিয়েতে। আবাল কাঁদলে কিন্তু আমি মেলা লাগ(রাগ) কলবো (করবো)।”

এতো মায়া,এতো আদর পেয়ে কি আর মা কাঁদতে পারে? এ যেন, শত ব্যথা, শত য’ন্ত্র’ণা’র মাঝে এক টুকরো সুখ! আমি পরম মমতায় বুকের মাঝে জড়িয়ে নিলাম আমার বাচ্চাটাকে। আমার রাজ্যের এক অনাথ রাজপুত্র সে!
হ্যাঁ এটাই আমাদের বাচ্চা! অভাগী মায়ের অভাগা ছেলে “তুর্য”। আমার বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন!

সেই কালো আমাবস্যার রাতটা আজও বুকে জড়িয়ে বেঁচে আছি আমরা।
যে রাতে আমাকে সম্পূর্ণ একা করে চলে গিয়েছে, আমাদের নিঃস্ব, ফি’কে করে চলে গিয়েছে আমার মায়ারাজ। তাকে ছাড়া জীবন থেকে চারটা বছর পাড় হতে চললো। প্রথম দিকে আমি বড্ড উ/ম্মোদ ছিলাম, শারীরিক, মানসিক ভাবে প্রচুর অসুস্থ হতে লাগলাম। একমাস পেরোতেই বাচ্চাটা বাঁচানোও রিস্ক। সবদিক বিবেচনা করে সময়ের একমাস আগেই ডক্টর সিজার করে দুনিয়ায় আলো দেখালো আমার রাজপুত্র’কে। যদিও আমরা মা-ছেলে দু’জনই ভীষণ অসুস্থ ছিলাম। তবুও রব বাঁচিয়ে দিলো আমাদের। আমি আমার বাচ্চার মায়াবী মুখটা দেখে এক নিমিষের জন্য সমস্ত দুঃখ ভুলে গেলাম। আমার মস্তিষ্ক তখন জানান দিলো,

“আমার বাঁচতেই হবে! আমার ছেলেটার জন্য হলেও নিজেকে সামলাতে হবে। পূরণ করতে হবে, আমার মায়ারাজের শেষ ইচ্ছে। আমার কাঁধে যে অনেক দায়িত্বের ভার।”

আমি মৃ*ত্যু*র সাথে পা/ঞ্জা নড়ে বাঁচলাম, সময়ের সাথে শক্ত খোলসে মানিয়ে নিলাম নিজেকে। না তাকে আমি এক মুহূর্তের জন্য ভুলতে পারিনি,তার স্মৃতি আমার চারপাশ জুড়ে বিচারণ। শুধু প্রয়োজনে বেঁচে আছি। মাঝে মাঝে হাঁপিয়ে যাই, আবারো ডানাঝাপটে উড়ে বেড়াই।

পরিবারের সবাই প্রিয় হারানোর শোক ভুলে গিয়ে আবারো ব্যস্ত নিজেদের কাজে। কিন্তু নিজেকে আজও মানিয়ে নিতে পারেনি আমার ফুপি। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে, শো’কে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছে বদ্ধঘরে। ছেলে হারিয়ে মা আর কখনো হাসেনি। যে অনাগত মেহমানের জন্য সবাই ছিলো উতলা, তার আগমনে কেউ আর উল্লাস করেনি। ফুপি আমার ছেলেটাকে সহ্য করতে পারে না, আঘাত করে বাচ্চাটাকে, পাগলামো করে। তার ধারণা, এই বাচ্চার আগমণের জন্যই তার ছেলে হারিয়ে গেছে। এই বাচ্চা তার পরিবারের অভি/শাপ! কিন্তু আমি তো এই বাচ্চার জননী, আমি কি করে ফেলে দেই তাকে?

বছর ঘুরতেই আমারও স্কুল পরিবর্তন হয়েছে, নতুন জেলায়। বাচ্চার কথা চিন্তা করে পুরনো শহর ছেড়ে নতুন শহরে এসেছি আমি, আমার মা, তুর্য। বাড়িতে থাকছে ফুপি, মা, তাসফিয়া। এদের দেখাশোনা করার জন্য রিনা আজও আছে। আমিও যাই মাঝে মাঝে, দেখে আসি তাদের। আজ সবার দায়িত্ব আমি নিয়েছি।

পুরনো স্মৃতিচারণে বুক চিরে ভারী দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে আসলো আমার। আমার বাচ্চাটা মায়ের কোলে চুপটি করে লেগে আছেন। তান্মধ্যে, রুমে থাকা মুঠোফোনটা খটখট আওয়াজে বেজে উঠলো কয়েকবার। আমি তড়িঘড়ি করে রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে এক ভদ্রলোক বলে উঠলেন,

” হ্যালো ম্যাম! আপনি জবা বলছেন?”

“জ্বি।”

“আমি মেন্টাল হসপিটাল থেকে “সৌম্য” বলছি। আপনার পেসেন্ট বড্ড উম্মোদ। সামলানোই যাচ্ছে না আজকাল। আপনি একবার এখানে আসুন ম্যাম, একটু দরকার। আর হ্যাঁ উনি “প্রিয়তা” নামে একজনের নাম ধরে ডাকছে বারংবার। উনি কে হয় তার?”

“তার প্রণাক্ত স্ত্রী।”

“তাকে একবার নিয়ে আসা যাবে ম্যাম? আমার মনে হয়, তাকে দেখলে উনার সুস্থ হওয়ার চান্স আছে।”

“তা আর সম্ভব নয়। আমি আসতেছি। রাখছি এখন।”

লাইন কেটে দিলাম আমি। তুর্য কে মায়ের কাছে রেখে বেরিয়ে পড়লাম।

°

“সকল বাঁধা বিকিয়ে তুমি একবার এসো প্রিয়তা, ফিরে এসো একবার! তোমাকে দেখার লাইগা পরাণটা বড্ড আনচান করছে। একটিবার আমায় ক্ষমা করো প্রিয়তা! প্রিয়তা! প্রিয়তা! বলো তুমি আসবে? প্রিয়তা! আমার প্রিয়তা!”

মানসিক হাসপাতালে একজন পাগল বারংবার করুণ সুরে ডাকছে তার প্রিয়তমা’র নাম ধরে। আমি পৌঁছাতেই ডক্টর শিকল আবদ্ধ এক পাগল’কে নিয়ে এসেছে আমার কাছে। লোকটার বিপর্যস্ত চেহারাটা দেখে মনটা বি’ষয়ে উঠলো আমার।এরিমধ্যে, আমাকে দেখে পাগলটা বিচলিত হয়ে বললেন,

“প্রিয়তা! প্রিয়তা তুমি এসেছো? আমি জানতাম তুমি আসবেই।”

আমি উনার হাত ধরে মলিন হেসে বললাম, “আমি প্রিয়তা নয় আব্বা! আমি জবা! আপনার মেয়ে জবা।”

লোকটা আশাহত হলো। আবারো পাগলামো করতে ব্যস্ত হয়ে পড়লো।
উনি আর কেউ নয়, আমার জন্মদাতা পিতা! একটা সময়, একটু সুখের আশায় ছেড়ে দিয়েছিলো আমার মা’কে। সময়ের ব্যাবধানে আজ লোকটা সব হারিয়ে, হারিয়েছে মানসিক ভারসাম্য।

এইতো বছর দু’য়েক আগে তার যুবতী স্ত্রী পালিয়ে গিয়েছে তার পুরনো প্রেমিকের সাথে। সঙ্গে করে নিয়েছে তার সমস্ত সম্পত্তি, টাকা-পয়সা যতটুকু ছিলো। ক্ষণিকের মোহে পরে তার সবটুকুই তার নামে করে দিয়েছিলো আব্বা। মেয়েটা চলে গেলো, বাবা সব হারিয়ে দিশেহারা হয়ে যায়। সর্বহারা হয়ে বুঝলো নিজের ভুল।কয়লার পিছনে ছুটে আসল হিরে ছুঁড়ে দিয়েছে সে। মস্তিষ্ক তখন অপরাধবোধ অনুভব করলো, নিজের ভুল বুঝতেও পারলো। তখন মরিয়া হয়ে উঠলো আমার মায়ের জন্য, তার প্রিয়তার জন্য। কিন্তু, সময়টা বড্ড দেরি হয়ে গিয়েছে যে। সময় থাকতে কদর বুঝলো না, নিজেই ছেড়ে দিয়েছে ভালোবাসার হাতটি। এখন শত চেয়েও আর পাওয়া হলো না হারিয়ে যাওয়া মানুষটাকে। ছেড়ে যাওয়া মানুষটা যে তাকে বড্ড ঘৃণা করে। সেদিনের পর আর কখনো তার মুখও দর্শন করেনি মা। তাদের এই মিল আর সম্ভবও নয়। এরপর থেকে আব্বা নিজের সাথে যু/দ্ধ করতে করতে ক্লান্ত হয়ে গেলো,চারপাশ থেকে পাপ গুলো ঘিরে ধরলো তাকে। এরপর মাস ছয়েক যেতেই মানসিক ভারসাম্য হারিয়েছে আব্বা। তাকে দেখার আর কেউ থাকলো না। বাবা একটা সময় নিজের কথা ভেবে আমাদের ছুঁড়ে ফেললেও তার অসময়ে তাকে ছুঁড়ে ফেলতে পারিনি আমি। যাই হোক না কেন, বাবা তো! তার র’ক্তইতো শরীর বইছে আমার। সন্তান হিসেবে তাকে দেখা-শোনা করার দায়িত্ব আমার। তাই দায়িত্ব হিসেবেই তার পাশে দাঁড়ালাম আমি। যতটুকু করি দায়িত্ব থেকেই, ভালোবেসে নয়। বাবার প্রতি ভালোবাসা, টান আর আসে না। কেননা, ভালোবাসা পাওয়া যোগ্যতা সবার থাকে না।

প্রায় আড়াই বছর হলো, চিকিৎসার জন্য মানসিক হসপিটালে ভর্তি করিয়ে দিলাম তাকে। কিন্তু, তার উন্নতি নেই। আর হওয়ার চান্সও নেই। অন্যায় ভাবে কাউকে ঠকানোর শাস্তি রব তাকে দিয়েছে। সর্বহারা করিয়ে প্রতিনিয়ত মস্তিষ্কের সাথে লড়াই করার অসুখ দিয়েছে। এই মস্তিষ্ক তাকে এক মুহূর্তও ভালো থাকতে দিচ্ছে না, ধুঁকে ধুঁকে পীড়া দিচ্ছে। হয়তো এভাবেই তাকে শেষ নিশ্বাস ছাড়তে হবে। আমি আরো কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে দেখলাম লোকটাকে। আগের মানুষটা আর নেই, চেনাই যাচ্ছে না। শরীরে হাজারো আঘাতে দা’গ, ফর্সা চেহারাটা কালশিটে, উস্কো-খুস্কো দাঁড়ি চুলে মুখটা ডেকে গেছে। আমি দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে, ডক্টরের বিল গুলো বুঝিয়ে দিলাম। অতঃপর এলোমেলো পায়ে বেরিয়ে পড়লাম নিজের গন্তব্যে।

°
প্রকৃতির নিয়মে চলছে দিন। রাত পেড়িয়ে ভোর হয়, আবার দিন পেড়িয়ে রাত। এভাবেই চলছে জীবন। জীবন তো আর থেমে থাকে না! কে’টে গিয়েছে আরো একটি মাস। আজ নতুন শহর থেকে ছুটছি পুরনো সেই স্মৃতির শহরে। শ্বশুর মশাই তাসফিয়ার বিয়ে ঠিক করেছে। সেখানেই যাচ্ছি আমরা। মনটায় আজ হাজারো আকুপাকু করছে। কখন পৌঁছাবো আমি, কখন ছুঁয়ে দিবো প্রিয় মানুষটার ক’ব’র। আমার মায়ারাজ যে পথ চেয়ে, অপেক্ষা করছে আমার। উ’ওে’জ’না’য় দম বন্ধ হয়ে আসছে আমার। তবুও লম্বা শ্বাস ছেড়ে, দমিয়ে নিলাম নিজেকে। তুর্যকে কোলে নিয়ে থম মে’রে বসলাম বাসের সিটে, পাশে বসলেন মা।
দীর্ঘপথ পাড়ি জমিয়ে ভরদুপুরে কাঁপা কাঁপা পায়ে অবশেষে পা রাখলাম বাড়ির আঙিনায়। গেইটে আমাদের জন্য অপেক্ষা করছিলো শ্বশুর আব্বু ও তাসফিয়া। অনেকদিন পরে তুর্যকে পেয়ে ব্যস্ত হয়ে গেলেন তারা। আমি ধীরপায়ে এগিয়ে গেলাম ভিতরে, আমার সাথে মা। বাড়িটা আজ অন্যরক সাজসজ্জায় সজ্জিত, বাড়ি ভর্তি মানুষের আনাগোনা। সবাই আমাদের দেখে এগিয়ে আসলো, আমিও সবার সাথে কৃত্রিম হেসে কথা শেষ করে পুনরায় এগিয়ে গেলাম ভিতরে। বসার ঘরে আয়েশ করে বসে আছেন আমার বড় ফুপা শ্বাশুড়ি। আমি তার দিকে এগিয়ে হাসিমুখে জিজ্ঞেস করলাম,

“কেমন আছেন ফুপি?”

উনি একবার আমাকে আগাগোড়া পরখ করে কিছুটা তাচ্ছিল্যের সুরে বললেন,

“ওমা! তুমিতো আগের চেয়েও ভীষণ সুন্দর হয়ে গেছে, মনে হয় বড় সুখেই দিন কাটছে। শাড়িটাও বেশ ভালো! আলহামদুলিল্লাহ! আমি ভালো আছি। তুমি কেমন আছো? ”

বিয়ে উপলক্ষে মায়ের জোড়াজুড়িতে আজ একটা নীল রঙা শাড়ী পড়েছিলাম আমি। উনি এটা দেখেই বুঝে নিলো আনন্দে আছি আমি।
বিধবা’র কি আর নীল শাড়িতে যায়? উনিও তিরস্কার করতে ছাড়লো না আমায়। আমি কথা বাড়ালাম না। ছোট্ট করে বললাম,

“জ্বি আমিও ভালো আছি।”

“হ্যাঁ! হ্যাঁ! সে দেখেই বুঝা যাচ্ছে,আমাদের ছেলেটা ছাড়া তুমি ভালোই আছো। আজকাল কত সাজসজ্জা বেড়েছে!”

উনার ব্যাঙ্গ বার্তায় তড়তড় করে রাগ বেড়ে গেলো আমার। কঠিন মুখ করে কিছু বলতে উদ্যতো হবো, এরমধ্যে আমার মা উনাকে উদ্দেশ্য করে বললেন,

“আপা। একটা মানুষ দিব্যি হাসছে ঘুরছে বলে কি সে ভালো আছে? না এমনটা সব সময় নাও হতে পারে।
অনেক মানুষ ক্ষ’ত লুকাতে হাসে,ভালো থাকতে না পারলেও বেঁচে থাকার খাতিরে হলেও এদের মুখের হাসি খুব দরকার।
কারণ, জীবন রঙ্গমঞ্চ ক্ষণে ক্ষণে রং বদলায়, কখনো ঘন অন্ধকারে নিস্তব্ধতা নেমে আসে আবার কখনো রঙিন।
তবে সবাই কি আর বাঁচার স্বাধ পায়? না কেউ কেউ মিথ্যা আশা মিথ্যা মায়ায় বাঁচে।
এরা সবাই কি আর জীবিতদের দলে? কেউ কেউ সব হারিয়ে ম’রা’র আগেই চলে যায় লা’শের ভীড়ে।”

মা উনার উওরের অপেক্ষায় আর দাঁড়ালো না। আমার হাত ধরে চলে গেলেন ফুপির রুমে।

বিয়ে বাড়ির চারদিকে এতো আয়োজন, এতো হাসি গান। কিন্তু আমার কাছে সবকিছু ধূসর, ফ্যাকেশে লাগছে। আমি নিজেকে আড়াল করতে দৌড়ে গেলাম আমাদের রুমটাতে। ছুঁয়ে ছুঁয়ে দেখতে লাগলাম রুমের প্রতিটা জিনিস। এখানে লেগে আছে আমার প্রিয় পুরুষের ছোঁয়া। আলমারি থেকে উনার একটা শার্ট বের করে নিজের শরীরে জড়িয়ে নিলাম৷ মনে হচ্ছে, উনাকে জড়িয়ে আছি আমি। দীর্ঘ জার্নির পর শরীরটা ক্লান্ত লাগছে। আমি শুয়ে পড়লাম বেডে। একি বিছানার বাঁ-পাশটা যে খালি। নিস্তব্ধ রুমে হৃদয় জুড়ে শুরু হলো তী’ব্র হাহাকার! এক বুক আহাজারি নিয়ে চোখ লেগে আসছে আমার। হঠাৎ করে উনি আমায় দূর থেকে যেন প্রিয় নাম ধরে ডাকলো,

“জবাজান? ”

আমি আনমনে জবাব দিলাম, “বলো,মায়ারাজ?!”

উনি দূর থেকেই মায়াময় কণ্ঠে আবারো বললেন,

“জবাজান!
ভুলে গেছো, ভুলে যেওনা আমায়! আজও বড্ড ভালোবাসি তোমায়। আমি তোমার সঙ্গে থাকতে পারিনি, তো কি হয়েছে? এইতো আমি আছি মাতাল হাওয়া হয়ে তোমার সঙ্গে।
দেখো? আমি তোমার সঙ্গে থেকে যাবো, আদিগন্ত নীল জলরাশি হয়ে।সবুজ পাতার নরম রোদ হয়ে থেকে যাবো, আজীবন থেকে যাবো তোমার হাসির সহস্রধারা ঝর্ণা হয়ে!

জবাজান!
তোমার ঘরের মানুষ হয়ে আমি নেই, তো কি হয়েছে? আমি আছি তোমার জানালা বেয়ে গড়িয়ে পড়া জ্যোৎস্না হয়ে। আমি থেকে যাবো তোমার গায়ের নকশী কাঁথা হয়ে। তোমার ডায়রির ভাজে রাখা রূপোর কলম হয়ে থেকে যাবো, থেকে যাবো তোমার চশমার কাচে জমা কুয়াশা হয়ে।
আমি অন্ধকারে আলো না হতে পারলেও,তোমার সাহস হয়ে থেকে যাবো।

জবাজান!
এখন তোমার হাত ধরতে পারছি না আমি, তো কি হয়েছে?
আমি আছি তোমার ছায়ার সঙ্গে। আমি আজীবন তোমার গলার কাছে আ’টকে রাখা কান্না হয়ে থেকে যাবো,গোপন দীর্ঘশ্বাস হয়ে থেকে যাবো। আমি আজও আছি তোমার বুকের প্রকোষ্ঠে রাখা মস্ত বড় আকাশ হয়ে! আমায় যদি দেখতে চাও, তাহলে ঐ দূর আকাশের পানে তাকাও….!”

বলতে বলতে দূরে মিলিয়ে গেলো লোকটা। আমি আর দেখতে পারছি না তাকে। হঠাৎ করে চিৎকার দিয়ে আমি বললাম , ” মায়ারাজ, মায়ারাজ যেও না….যেও না তুমি! তোমার জবাজান তোমায় একমুহূর্তের জন্য ভুলে যায়নি।”

উনি থাকলোই না আর। হাওয়ায় মিলে গেলো। এরিমধ্যে মা ডাকলো আমায়, ব্যস্ত কণ্ঠে শুধালো,

“কি হয়েছে জবা? চিৎকার দিয়ে উঠলি কেন?”

আমি মায়ের কোলে মাথা রেখে কেঁদে কেঁদে বললাম,

“মা মা! আমার সায়মন এসেছে। ওই দেখো? উনি আবার চলে যাচ্ছে। উনাকে যেতে বারণ করো মা।”

মা আমায় জড়িয়ে ধরলো, পাশে দাঁড়িয়ে আমার বাচ্চাটা কাঁদছে। তুর্যর কান্না কানে আসতেই হুঁশ ফিরলো আমার। পিটপিট করে চোখ মেলে দেখলাম, রুমে আলো জ্বলছে, কোথাও আমার সায়মন নেই। তার মানে উনি আমার স্বপ্নে এসেছিলো। দরদর করে ঘামছে আমার শরীর। বড্ড জলতৃষ্ণা পেয়েছে। তান্মধ্যে, মা পানির গ্লাস এগিয়ে দিয়ে বললেন,

“দুঃস্বপ্ন দেখেছিস মা? ভয় পাসনা, এই যে মা কাছে! নে পানিটা খেয়ে নে সোনা।”

আমি তড়িঘড়ি করে খেয়ে নিলাম পানিটা। লম্বা শ্বাস ছেড়ে দম নিলাম। কোলে তুলে নিলাম বাচ্চাটাকে। ছেলেটা কোলে নিয়ে ছুটে গেলাম বারান্দায়। আকাশের দিকে তাকিয়ে বিরবির করে বললাম,

” মায়ারাজ!
রাতের আকাশে মেঘের দেখা নেই,অথচ মনের আকাশ জুড়ে শুধু তোমার দেখা পাই।ঝিঝি পোকার ডাক,শহরের ল্যাম্পপোস্টের আলো,চাঁদের সাথে জোছনার নিবিড় আলিঙ্গন,ক্লান্ত পথিকের বাড়ি ফেরা দেখি।কিন্তু কই?তোমায় তো দেখি না?
কল্পনায় কতবার তোমায় ছুঁয়ে যাওয়া,তীব্র আলিঙ্গনে নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হয়!ফের চোখ তুলে তাকাতেই দেখি তুমি নেই!এদিকে কথা জমতে জমতে আমি বোবা হতে চলছি!
কত আকুতি ভরা চোখে তাকিয়ে থাকি দরজায়।
তুমি আসবে,দড়জায় কড়া নাড়লেই যেন উঠে দাঁড়িয়ে দরজা খুলে দিবো।তুমি আসো না,ভালোই বাসো না!
একা একা চাঁদ দেখি,জোনাক পোকাদের সাথে কথা কই,পূবাল বাতাস অনুভব করি,কিন্তু কই?তুমি তো আসো না?অথচ তুমি এলেই সব ঠিকঠাক।রাতের খাবার,সকালের নাস্তা,দুপুরের খাবারের রুচি ফিরে আসে।রং চায়ের পুরোনো স্বাদ,মন ভালো,শরীরের সমস্ত অসুখ;কতকিছু সেড়ে যায়।তুমি আসো না বলেই আজ আমি দুরারোগ্য ব্যা’ধি’গ্র’স্থ! একটি বার আসো মায়ারাজ!আমাকেও নিয়ে যাও তোমার কাছে।”

কিন্তু, মায়ারাজ আর জবাব দিলো না। আমি হাজার ডেকেও পাই না তাকে। আমার বাচ্চাটা এখনো মাম্মা, মাম্মা বলে কাঁদছে। ওর কান্না শুনে মা আঁচলে চোখ মুছতে মুছতে উনার কোলে নিলো তুর্য’কে। একহাতে আমায় ধরলো। মা আমার মন ভালো করতে জোর করে নিয়ে গেলেন বাহিরে।

চারদিকে সন্ধ্যার আঁধারে ছেয়ে গেছে প্রকৃতি, ঠান্ডা শীতল হাওয়া বইছে গায়ে। আমরা মা-মেয়ে রাস্তার পাশ দিয়ে, হাত ধরে হাঁটছি। সামনেই ফুসকার দোকান দেখা যাচ্ছে। মা আমায় নিয়ে গেলো সেখানে। আমাকে চেয়ারে বসিয়ে দিয়ে , নিজের জন্য ও আমার জন্য বেশি ঝাল দিয়ে ফুসকা অর্ডার দিলো। যদিও মা এসব খায় না, তবুও আজ মেয়ের মন ভালো করতে কত উতলা মা। আমি এই মুহুর্তে সব বিষাদ ভুলে গিয়েছি। একফালি মুগ্ধতা নিয়ে দেখছি একজন মমতাময়ী মা’কে। এদের জন্য হলেও ভালো থাকবো আমি। জীবন রঙ্গমঞ্চে আমার রঙিন আলো ফুরিয়ে গিয়েছে অবেলায়, আমি না-হয় সাদা-কালো নিয়েই বাঁচবো! তবুও আমি বাঁচবো!

(সমাপ্ত)

পূর্ববর্তী নিবন্ধ
পরবর্তী নিবন্ধ
গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ