#জীবন_রঙ্গমঞ্চ
লেখনীতেঃ #সুমাইয়া_আফরিন_ঐশী
#পর্বঃ৬
পরদিন সকালে রান্না করছিলাম আমি, আমাকে টুকটাক সাহায্য করছে আর গল্প করছে “মা”। এমন সময় রিনা মেয়েটা দৌ’ড়ে এসে হাঁপাতে হাঁপাতে বললেন,
“ভাইজান আপ্নারে শীঘ্রই রুমে ডাকে আপা।”
আমি বাকি রান্নাটা রিনা’কে বুঝিয়ে দিয়ে দ্রুত রুমে’র দিকে পা বাড়ালাম। দিন পনেরো হয়েছে রিনাকে সাহায্যকারিনী হিসেবে রেখে দিয়েছে সায়মন। তবুও সকালের রান্নাটা সব সময় আমিই করি। আমার মা, শ্বাশুড়ি মিলে বাকিটা সামলে নেয়।
রুমে কাছাকাছি যেতেই শ্বশুর আব্বু আমাকে দেখে মিষ্টি হেসে আবদারের সুরে শুধালো ,
“আমায় একটা চা করে দিবে, আম্মা?”
এতো মিষ্টি আবদার কি আর বারণ করা যায়? আমি মুচকি হেসে বললাম,
“আচ্ছা আব্বু। আপনি একটু অপেক্ষা করুন, আমি চা করে নিয়ে আসছি।”
পাশ থেকে শ্বাশুড়ি পান চিবাতে চিবাতে ফোঁড়ন কেটে শ্বশুর’কে বললো,
“এই সকাল বেলা উঠেই খালি পেটে তোমার চা খেতে হবে? যতসব আজাইরা অভ্যাস!”
শ্বশুর মশাই মুখ বাঁকিয়ে শুধালো,
“উঁহু! তোমার কত সু-অভ্যাস! তুমি যে সকাল বেলা উঠেই এক গাল পান মুখে দিয়ে ফোঁ’স ফোঁ’স করো.. যেখানে ডক্টর পান খেতে তোমাকে বারণ করেছে।”
“এই আমার পান নিয়ে একদম বাজে মন্তব্য করবে না তুমি! আমি খাইলে সেটা ভিন্ন ব্যাপার। তাছাড়া, পান খেলে দাঁত ভালো থাকে, ডাক্তার তো আর বুঝে না সেসব। কিন্তু চা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।” ভাব নিয়ে বললো আমার শ্বাশুড়ি।
এদের ঝগড়া দেখে আমি খানিকটা হেসে বলে উঠলাম,
“আহা! ফুপি সকাল বেলা কি শুরু করলে?”
ফুপি আহ্লাদী কণ্ঠে বললেন, “আমি কি করলাম? সবসময় তো তোর শ্বশুরই শুরু করে।
পাশ থেকে শ্বশুর মশাই খেঁকিয়ে বললেন, “হ্যাঁ! হ্যাঁ! এখন সব দোষ তো আমারই। তুমি তো নিষ্পাপ বাচ্চা মেয়ে!”
আবার দু’জনের ত’র্ক লেগে গিয়েছে। এরা দু’জন এমনই! সারাক্ষণ একজন আরেক জনের পিছনে পড়ে থাকে। এদের চিল্লাপাল্লা শুনে রুম থেকে বেরিয়ে আসলো সায়মন, তাসফিয়া। দুই ভাইবোন বিরক্তিকর কণ্ঠে এক সাথে বলে উঠলো,
“কি হয়েছে এখানে?”
ছেলে-মেয়েকে দেখে দু’জন থেমে গেলেন, কেউ কিছু বললেন না। আমি আস্তে করে বললাম,
“কি আর হবে! যা সবসময় হয়।”
বিরক্ত হলো ওরা দুই ভাইবোন। এসবে যেন সবাই অভস্ত্য এখন! তাসফিয়া নিজের রুমে যেতে যেতে বললেন,
“এরা আর ভালো হবে না!”
সায়মন ভাই, পরক্ষণে আমার দিকে তাকিয়ে গম্ভীর কণ্ঠে বললেন,
“এখানে দাঁড়িয়ে কি দেখছো, জবা? আমি তোমায় ডেকে ছিলাম, শুনতে পাওনি?”
“হ্যাঁ, শুনেছি। তুমি একটু অপেক্ষা করো। আমি বাবাকে একটা চা করে দিয়ে আসতেছি।”
সায়মন দাঁত কটমট করে চলে গেলো। শ্বশুর মশাই খবরের কাগজে মুখ ডুবালো। শ্বাশুড়ি বিছানা ছেড়ে উঠে বসলেন। আমার দিকে তাকিয়ে মৃদু দমকে বললেন,
” সায়মন তোকে ডেকলো না জবা, শুনতে পাসনি? একদমই আমার ছেলেটার খেয়াল রাখিস না তুই। যা গিয়ে দেখ কি লাগবে ওর।”
“ফুপি আসলে চা……।”
“হয়েছে হয়েছে! যা তো তুই। বুড়োর চা টা আমি করে দিচ্ছি।”
আমি আর কথা বাড়ালাম না, মুচকি হেসে মাথা নাড়ালাম। ইদানীং ফুপির ব্যবহারটাও কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে। আগের মতো গমগমে স্বভাবটা আর নেই। আমি আনমনে হাসলাম, সবই টাকার খেল! টাকা! টাকা! টাকাই যেন সব!”
আমি আর এসবে মাথা ঘামালাম না। এক দৌড়ে রুমে চলে আসলাম। বর মহাশয় খাটে আধশোয়া হয়ে রিলাক্সে ফোন ঘাঁটছেন। আমি তার কিনারায় বসে তড়িঘড়ি করে জিজ্ঞেস করলাম,
“কি বলবেন জাহাঁপনা? এতো জরুরি তলব যে?”
উনি ফোনের দিকে তাকিয়েই গম্ভীর কণ্ঠে শুধালো,
“সে আর সময় মতো পেলাম কই?”
বুঝলাম রেগে আছে আমার বরটা। আমি বাধ্য বউয়ের মতো কানে হাত দিয়ে আদুরে কণ্ঠে বললাম,
“স্যরি, মায়ারাজ আমার! একটু লেট হয়ে গেলো,এখন বলুন না।”
“এখন ফিলিংস নষ্ট হয়ে গেছে।”
“মানে?”
“মানে আমার এতক্ষণ প্রেম প্রেম পাচ্ছিলো। এখন পাচ্ছে না।”
“আচ্ছা এই ব্যাপার। এতটুকুতেই প্রেম ফুরিয়ে গেছে আপনার?”
মুখ কালো করে বললাম আমি। উনি হাতের ফোন রেখে আমার চোখে চোখ রেখে নেশালো কণ্ঠে শুধালো,
“তোমার প্রতি আমার এই প্রেম ফুরাবার নয় জবাজান! এই প্রেম আ’মৃ’ত্যু হয়েই থাকবে আজীবন।”
আমি দৃষ্টি নামিয়ে নিয়ে ততক্ষণাৎ উঠে দাঁড়ালাম। এই চোখের গভীরতায় তাকানোর সাধ্য আমার নেই। এই মায়াবী চোখ দু’টোয় যতবার চেয়েছি ঠিক ততবার নতুন করে প্রেমে পড়ছি তাহার। লোকটা ক্ষণে ক্ষণে মুগ্ধ করে আমায়। উনার ভিতরে অলৌকিক শক্তি আছে বোধহয়! যা দিয়ে বারবার আকর্ষণ করছে আমায়। আমি শুকনো ঢোক গিলে ততক্ষণাৎ মিছে রাগ দেখিয়ে বললাম,
“হয়েছে! সে তো দেখতেই পেলাম। পুরাতন হয়ে গিয়েছি কিনা! এখন তো আমাকে ভাল্লাগে না আপনার, সেটা সোজা বললেই পারেন।”
লোকটা শব্দ করে হাসলো। আমি মুখ বাঁকিয়ে রুম থেকে বেরিয়ে যেতে নিলাম, পিছন থেকে হাত ধরে ফেললো উনি। ততক্ষণাৎ হাত ধরে টেনে কোলের উপর বসিয়ে, পিছন থেকে জড়িয়ে ধরলো আমায়। উনার স্পর্শ পেয়ে আজও প্রথম দিনের মতো কেঁ’পে উঠলাম আমি। চটজলদি নিজেকে ছাড়াতে ছাড়াতে বললাম,
“কি করছেন আপনি? ছাড়ুন আমায়।”
কিন্তু পুরুষটি ছাড়লে তো! বরং উনি আরো একটু ঝাপটে ধরলো আমায়। মাথায় আলতো চুমু দিয়ে ফিসফিস করে ডাকলেন,
“জবাজান?”
“হুম।”
ছোট্ট করে জবাব দিলাম আমি। উনি আমার রেসপন্স পেয়ে চুলে মুখ ডুবিয়ে পুনরায় বললেন,
“বুকে তুমুল ঝড়ের শব্দ শুনেছো কখনো?
সাগরের তীরে উথাল পাথাল ঢেউ আছড়ে পড়ে যেমন,তেমন।
রাত্রি নিশিতে নিকষ কালো আঁধার,পূর্ণিমাতে ভরা জোছনা।তুমি এলেই জ্বলে মনের বাতি,বেড়ে যায়
যে আমার বাসনা।
হৃদয়ের কোঠরে আহ্লাদী এক মেয়ে তুমি,ভীষণ জ্বালাও আমায় সারাক্ষণ।
অনুভবে মিশে থাকে শুধু,ভালোবেসে কেড়ে নেয় যে মন।আমার ভেতর তোমার বসবাস,তোমার ভেতর আমি থাকি যদি?
ভালোবাসার তুফান বয়ে যায়,বর্ষণে হয় গভীর একটা নদী।
কেমন করে বোঝাই আমি পাগল?তোমার ছোঁয়ায় প্রাণ ফিরে পাই,আসলে কাছে আলো জ্বেলে রাখি।এই তুমি ছাড়া কোথায় পাবো আমি ঠাঁই?
ঠোঁটের চুমুর আবদারে তুমি অবুঝ,বোঝালেও যে বুঝ মানো না,
আমিও যে পাগল হয়ে থাকি,তুমি কি গো একটুও বোঝো না?”
উনার ঘোর লাগা দৃষ্টি, নেশালো কণ্ঠের কাছে বরাবরের ন্যায় হার মেনে গেলাম আমি। হৃদয়ের মিছে রাগ, অভিমানকে উপেক্ষা করে টুপ করে চুমু খেলাম উনাকে। উনি আলতো হাসলো, যা দেখে উনার বুকে লজ্জায় মুখ লুকলাম আমি। সায়মন আলতো করে নিজের বাহুডোরে আবদ্ধ করে নিলো আমায়। মাথায় চা/টি মে রে মুচকি হেসে শুধালো,
“পাগলী!”
আমাদের দু’জনের খুনসুটিতে কেটে গিয়েছে অনেকটা সময়। ইতোমধ্যে বেলা অনেকটা হয়েছে। অফিসের জন্য রেডি হচ্ছি আমি আর সায়মন। এরিমধ্যে, মা ডাকলো নাস্তা করার জন্য। দু’জন এক সাথেই বেড়িয়ে পড়লাম। ডাইনিং রুমে সবাই অপেক্ষা করছিলো আমাদের জন্য। মা আমাদের দু’জনকে খাবার দিতে দিতে উসখুস করছে কিছু বলার জন্য। আমি লক্ষ্য না করলেও সায়মন লক্ষ্য করে জিজ্ঞেস করলেন,
” আপনি কিছু বলবেন মামনি? কোনো কিছু দরকার আপনার? ”
মা ইতস্তত করে বললেন, “একটা কথা বলার ছিলো তোমাদের।”
সবার দৃষ্টি এখন মায়ের দিকে। আমি চট করে বললাম,
” কি বলবে মা? বলো? ”
মা লম্বা শ্বাস ছেড়ে বললেন, “আমি ভাবছি এভাবে বসে না থেকে কিছু একটা কাজ করবো। এতে….”
মা’র কথা শেষ হওয়ার আগেই আমি মৃদু রাগ দেখিয়ে বললাম,
“তুমি কি করবে মা? এমনিতেই তুমি কত অসুস্থ। তাছাড়া আমি থাকতে তোমার কেন কাজ করতে হবে, মা? আমি কি ম রে গেছি!”
“ছি,সে কি কথা! রেগে যাচ্ছিস কেন মা? আসলে আমি…”
“উঁহু থাক! তুমি এসব চিন্তা করো না। আমি আছি না মা? তুমি অসুস্থ, বয়স হয়েছে। এখন এসব চিন্তা মাথা থেকে বের করে, নিজের একটু যত্ন নেও।”
“আমি ঠিক পারবো জবা। বয়স হয়েছে তো কি হয়েছে? ইচ্ছে শক্তিই বড়! জানিস, ক্লান্ত শরীর আর ক্ষুধার্ত অবস্থায় বেশিদূর পাড়ি দেওয়া যায় না। কিন্তু শক্ত মন আর সাহসী মানুষ ক্লান্ত আর ক্ষুধার্তকে তোয়াক্কা করে না।”
“কিন্তু মা…..”
আচমকা, আমায় থামিয়ে দিলো সায়মন বললো,
“আহ, জবা! চুপ করো না। মামনি কিন্তু সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পরনির্ভরশীল না হয়ে নিজে কিছু করতে চাইলে করুক না! এতে মামনি’র বিষন্ন সময়টাও কে’টে যাবে ব্যস্ততায়, একরোখা কুৎসিত সমাজে নিজেরও কদর বাড়বে।”
মুহুর্তেই মায়ের ঠোঁট জুড়ে স্নিগ্ধ হাসি দেখা গেলো। সেই হাসির দিকে চেয়ে, মন জুড়িয়ে গেলো আমার। একে একে বাকিরাও সাপোর্ট করলেন মায়ের সিদ্ধান্ত’কে। আমি আর না করলাম না। আমার মা আরবি বিষয়ে ভীষণ অবিজ্ঞ। অতঃপর সকালে মিলে সিদ্ধান্ত নিলাম, “মা ছোট -বড়দের সকাল বিকাল নিদিষ্ট একটা সময় আরবি শিখাবে।” এতে মায়ের নিজের সময়টাও কে’টে যাবে অনায়াসে। বিনিময়ে হাদিয়া হিসেবেও কিছু পেলো।
_________
পরিবারের সবাইকে নিয়ে হাসি আনন্দের মাঝে কেটে গেলো আরো তিনটে বছর। কি করে যে তিনটে বছর গত হলো টেরই পেলাম না আমি! আমার মায়ারাজ আষ্ঠেপৃষ্ঠে, পরম আদরে জড়িয়ে রেখেছে আমাকে। এতটুকু আঁচড় লাগতে দেয়নি আমায়। নিজেকে ভীষণ সুখী মানুষ মনে হচ্ছে আজকাল। ভাগ্য যেন সহায় হয়েছে আমার। আজ আমি একজন প্রাইমারী স্কুলের শিক্ষিকা। মাস ছয়েক হয়েছে জয়েন করেছি কাজে। এর পিছনে সম্পূর্ণটাই আমার মায়ারাজের অবদান। আমার মা’ও এখন শারিরীক, মানসিক ভাবে ভীষণ সুস্থ। মা গ্রামের অধিকাংশ বাচ্চাদের পড়িয়ে বেশ সুনাম অর্জন করেছে কয়েক বছরে। মানুষটার বিষন্ন সময়টা কে’টে আলোর দেখে মিলেছে। এখন তার দিন যায় হাসি-আনন্দে আর ছোট্ট ছোট্ট বাচ্চাদের সাথে। শ্বাশুড়ি মা’টাও নিজেকে পরিবর্তন করে নিয়েছে। আমার মায়ের সাথে তার বেশ ভাব হয়েছে। শুনেছি, বাবাও নতুন বউ নিয়ে বেশ ভালো আছেন। বাবা’র সমস্ত সম্পদ তার নামে লিখে দিয়েছে। এতে আমার কিছু যায় আসে না। যে মানুষটা ঘৃণার আদুলী জুড়ে বসবাস করছে, তার জায়গা-জমি পাওয়ার আশা কখনো রাখিনি। আমি মনে করি আমার বাবা মৃ ত্যু। এতে আমার দুঃখ হয় না আর! আমার আস্ত সুখের একটা রাজ্য রয়েছে। মানসিক শান্তি’র জন্য আমার মায়ারাজ রয়েছে।
আমাদের পরিবারে মানুষ গুলো আজ একটু বেশিই খুশী। আজ ডক্টর জানিয়েছে, আমার সুখের রাজ্যে নতুন অতিথি আসছে। প্রথমবার মা হওয়ার অনুভূতির সাথে পরিচিত আমি। এ যেন এক অন্য রকম সুখ! সায়মনের ঠোঁটের কোণের হাসিটা সরছেই না যেন। ডক্টর দেখিয়ে আসার পর থেকে আমার পেট জড়িয়ে শুয়ে আছে লোকটা। এরিমধ্যে, আমি উনার মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে মৃদু হেসে বললাম,
“এবার তো ছাড়ুন আমায়। কেউ এসে এভাবে দেখলে, কি বলবে বলুন’তো?”
উনি আমার ঠোঁটে আঙুল রেখে থামিয়ে দিয়ে আহ্লাদী কণ্ঠে বললেন,
“হুঁশ! আমার বউ আমি জড়িয়ে রেখেছি, দরকার হলে কোলে করে রাখবো, তাতে কার বাপের কি?”
আমি উনার কথা শুনে হকচকিয়ে উঠে বলালাম,
“কিহ?”
উনি হাসলো। আমার পেট আলতো করে ছুঁয়ে বললেন,
“এখানে আমাদের ভালোবাসার চিহ্ন বেড়ে উঠছে, জবা? ইশ জবাজান! আমার যে আজ কতটা আনন্দে লাগছে, জান। তোমাকে বুঝাতে পারবো না। তোমাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ জান, এত সুন্দর এক অনুভূতির সাথে পরিচয় করিয়ে দিবার জন্য। ভালোবাসি আমার বাচ্চার আম্মু!”
সুখে আজ অশ্রুকণারা ভীড় করছে আমার চোখে।উনি জলটুকু গড়িয়ে পড়ার আগেই মুছে দিলো। আবারও ব্যস্ত হয়ে,অনাগত সন্তানে’কে নিয়ে হাজারটা স্বপ্ন বুনছে, কখনো আনমনে হাসছে। আমি মুগ্ধ হয়ে সেই হাসিটা কাছ থেকে উপলব্ধি করছি। আর আমার ছোট্ট সোনার আগমনের প্রহর গুনছি।
চলবে…….
