জনম_জনমে_আমি_যে_তোমার_(অন্তিম_পর্ব)
#লেখিকা_সুহাসিনি_ফাতেহা
আশমীন হর্ন হয়ে তর্ন তর্ন করে সব জায়গায় খুজা শুরু করল তুবাকে। নিজের ফোন বের করে সবাইকে তুবার পিক দেখিয়ে মেয়েটাকে দেখছে কিনা জিজ্ঞেস করতে লাগলো। হঠাৎ কোথায় চলে গেল মেয়েটা অজান্তেই বুক কাঁপতে লাগলো আশমীনের। খুঁজে পাবে তো মেয়েটাকে। সাথে ওর ফ্রেন্ডরা ও খুঁজতে লাগলো। সেকেন্ডের মধ্যেই যেন গায়েব হয়ে গেল মেয়েটা।
ওইদিকে তুবা কাঁদতে কাঁদতে সে সময়ই বড় একটা বট গাছের সাথে হেলাম দিয়ে মন খারাপ করে দাড়িয়ে আছে। সুমদ্রের পানির স্রোত যেন তার মন ভালো করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট ছিলো। এক ধ্যানে পানির দিকে তাকিয়ে আছে। মানুষের উপছে পরা ভীড় চারদিকে। কেউ কেউ কাপল নিয়ে হাটছে আবার কেউ বা নিজের মা বা ভাই বোনের সাথে। হিমেল বাতাসের সাথে তার চুল গুলো উরছে। যদি ও তার ভুল হয়েছে লোকটার সাথে এসে। এভাবে অপমানিত না করলেই পারতো। নিজেকে ভিষন ছোট লেগেছে ওভাবে ছেলে গুলোর সামনে কটাক্ষ করে কথাগুলো বলায়। এভাবে না বললে ও পারতো। সে অসিসট্যান্ট হোক আর যাই হোক তাই বলে বন্ধুদের কে বলবে কয়দিনের জন্য তোর কাছে রাখ। এসব কেমন ধরনের কথা। তার সাথে কি এমন চুক্তি ছিলো নাকি শুধু তার আর লোকটার মাঝে সিমাবদ্ধ থাকার কথা। আর ওনি কিনা তার বন্ধুদের কটাক্ষ করছে তাকে নিয়ে,,হাসাহাসি করছে। ” যাক গে লোকটার কথা ভেবে লাভ নেই। বিগত দু সাপ্তাহে অনেকটা বুঝেছে লোকটা কেমন হতে পারে। এসব ভেবে মন খারাপ করে লাভ নেই। কাঁধের ব্যাগ থেকে মোবাইল বের করে একা একা ছবি তুলতে শুরু করলো তুবা। যাই হোক ছবি তুলাটা মিস করা যায় না। এত্ত সুন্দর একটা জায়গা। যে কারোই মন কাড়িয়ে নেওয়ার জন্য যথেষ্ট। যেমন তুবার মন যেন কেড়ে নিলো। বছরের পর বছর এখানে থেকে গেলে ও পোষাবে না তুবার এমনটাই মনে হলে। আচমকা সে ব্যাগে মোবাইল ডুকিয়ে সুমদ্রের পানির দিকে এগিয়ে গিয়ে পানিতে পা রাখলো। সাথে সাথে যেন একটা অদ্ভুত ভালো লাগা কাজ করলো তুবার মধ্যেই। সত্যিকার অসাধারণ একটা অনুভূতি। নরম বালুময় পানির নিচের মাটি গুলো দিয়ে তুবার পায়ে ময়লা যুক্ত হয়েছে ইতিমধ্যেই। ” কেউ যে তাকে খুঁজছে বা কারো সাথে সে এসেছে এটা বেমালুম ভুলে গেলো সে।
আশমীন পাগলের মতো খুঁজে যাচ্ছে তুবাকে। বড় ছড়ানো বট গাছেন পেছনে হওয়ায় দেখতে পাচ্ছে না। হঠাৎ কি মনে করে ওইদিক টায় গেল সে। আর সেখানে গিয়েই আশমীনের পা জোড়া থমকে যায়। যেন নিজের প্রাণ ফিরে ফেল সে। কতটা ভয় পেয়ে গিয়েছিল, কতটা হাটলেস মেয়ে। তার সাথে অচেনা জায়গায় এসে একা একা ঘুরছে একটু ও ভয় কাজ করছে না। যদি কিছু হয়ে যেত। আচানক থমকে যায় আশমীন, মেয়েটা চোখ বন্ধ করে হাত মেলে সুমদ্রের পানির স্রোতের সাথে শোঁ শোঁ আওয়াজের সাথে চোখ বন্ধ করে সবটা উপভোগ করছে। ধূসর রঙা শারিটার আঁচল পানির সাথে ভিজে একাকার। সেদিকে কি মেয়েটার কোনো খেয়াল আছে। কতটা স্নিগ্ধ লাগছে মেয়েটাকে, আশমীনের মনে হলো অপূর্ব সুন্দর কোনো রুপবতী মেয়ে তার সামনে দাড়ানো। কোনো সাধারণ মেয়ে নয় অসাধারণ বললে ও কম হয়ে যাবে। নেশাক্ত নয়নে এক পা দুপা করে এগোতে লাগলো সে। তুবার একেবারে ঘাড়ের পেছনে গিয়ে দাড়ালো সে। মুহূর্তেই সেটা যেন ফটোফ্রেমে বন্ধি হয়ে যায়, আশমীনের বন্ধুদের কাছে। তারা সবাই একজনের গায়ে একজন যেন হুমড়ি খেয়ে পরবে এমন ভাবে তাকিয়ে আছে এইদিক টাই কৌতূহল নিয়ে। তারা ও চিন্তিত ছিলো মেয়েটা হঠাৎ কোথায় গেল। পরক্ষনেই তারা সবাই এই দিক টাই আসে। আর এই দৃশ্যটা দেখতে পায়।
তুবা বুঝতেই পারলো না তার পেছনে কেউ দাড়িয়ে আছে। চোখ বন্ধ করে তার খোলা চুলের মাতাল করা সুঘ্রানের গন্ধ নিচ্ছে আশমীন। কিন্তু তার পরমুহূর্তেই তুবা চোখ খোলে পেছনে কারো উপস্থিতি টের পায়। চমকে উঠকে সে। তার পেছনে আবার এটা কে দাড়ালো। এটা ভেবেই পেছনে তাকাতেই তার চোখ কপালে উঠলো। লোকটা এখনো চোখ বন্ধ করে আছে। যখনই তুবা সরে গেল তখনই যেন তার সম্বিৎ ফিরে ফেলো। ফিটফাট করে চোখ খোলে তবে তখন তার মুখবিবর গম্ভীর এবং রাগী ভাব ফুটে উঠল। এতক্ষনের সে মুগ্ধ দৃষ্টিটা মুহূর্তেই বিলীন হয়ে গেল। সে তুবাকে ধমক দিয়ে বলল,
আমাকে না বলে কেন এইখানে আসছো মেয়ে। তোমার সাহস দেখে আমি অবাক হচ্ছি, অচেনা জায়গায় এভাবে একা হাটতে ভয় লাগছে তোমার। আমাকে না বলে কেন এখানে একা আসলে?
কথা গুলো বড় ভাঙা গলায় বলল,আশমীন যেন খুব চাপা ভয় লুকিয়ে ছিল।
তুবা যেন অন্য কিছু দেখতে পাচ্ছিলো আশমীনের চোখে। ভয় রাগ ছিলো সে চোখে। মিনিট খানেক চুপ থেকে সে বলল,
আমার ইচ্ছে আমি এখানে এসেছি। আপনার কেন এত সমস্যা। আমি তো আপনার অসিসট্যান্ট? হহু আমাকে আবার নিজের বন্ধুদের সামনে অপমান করলেন। কি পাইছেন আমাকে? আপনার কথা শুনি বলে যা ইচ্ছে তাই করবেন? আমার জীবনের স্বাধীনতা টা কেড়ে নিচ্ছেন। ভার্সিটিতে সবার সামনে ফোন দিয়ে টেনে আনেন। যে কোনো সময় বেডে ডাকেন এসব করে কি মজা পাচ্ছেন আপনি?
আশমীন অনেকটা মনেযোগ দিয়ে তুবার সব কথা শুনলো। মেয়েটার কথা গুলো তার ভেতরটা ভেঙে চুরমার করে দিলো। সে আসলে এমন ভাবে বলতে চাই নি। এমনি মজার ছলে বন্ধুদের কে বলেছে। বরং তুবা কে চলে আসতে দেখে সে নিজেই কষ্ট পেয়েছে। তুবা যে এতটা বড় ভাবে ভেবে নিবে সে ভাবে নি। নিজের ভাবনা বাদ দিয়ে আশমীন বলল,
আমি এভাবে বলতে চাই নি মেয়ে। তুমি এভাবে বলবে না ভেঙে চুরমার হয়ে যাচ্ছি আমি । যেদিন থেকে তোমাকে দেখেছে সেদিনই মনে হয়েছে তোমাকে আমার চাই,যে কোনো কিছুর বিনিময়ে।
তুবা অবাক হয়ে বলল,
মানে? এসবের মানে কি? আপনি কি বলছেন টা কি?
আশমীন ঠোঁঠের কোণে চিলতে বাঁকা হাসির রেখা ফুটিয়ে দু হাত পকেটে গুঁজে বলল,
সেদিন মিমকে সে শর্ত টা আমিই বলেছিলাম সেই শর্ত অনুযায়ী তুমি আমার বেডরুমে ডুকতেই আমি ডুকে পরি। ট্রাস্ট মি তোমাকে আমার ডাকার একমাত্র কারণ তোমাকে এক নজর দেখার জন্য।,
তোমাকে সেদিন তোমার বোনের জন্য কাঁদতে দেখে তখন আমি ধ্বংস হয়ে যাচ্ছিলাম। তুমি আমাকে ধ্বংস করার পথে এনেছো মেয়ে। আমি প্রতিবারই পাগল হয়ে পরি তোমার জন্য তোমার চোখের তোমার মুখের সব আমার মনে একেছো তুমি, তোমার দোষ কি নেই তাতে…
তুবা যেন বরফে পরিনিত হলো। কথা বলার ভাষায় হারিয়ে ফেলল সে। এত কিছু ভেতরে
____
সমাপ্ত।
