#জনম_জনমে_আমি_যে_তোমার__(০২)
#লেখিকা_সুহাসিনি_ফাতেহা
ট্রুথ ডেয়ার খেলার অপরাধে যে বোনের দেবরের বেড পার্টনার হওয়ার হুমকি পাবে এটা কখনো ভাবেনি তুবা। ভয়ে ঘৃণায় তার গাঁ রি রি করে উঠল।
তুবা এখনো লোকটার পুরুষালী দু হাতের বাঁধনে আটকে আছে। আজকে বোধহয় আজ তার রেহাই নেই। যে কোনো ভাবেই হোক নিজেকে বাঁচাতে হবে, একবার যদি এখান থেকে বেরোতে পারে আর এই বাড়ি থাকবে না সকাল হওয়ার আগেই বাড়িতে দৌড় দিবে মনে মনে এসব ভাবছে নিচের দিকে তাকিয়ে অন্যমনস্ক হয়ে।
তখন লোকটা আবার ও গমগমে কণ্ঠে বলল,
কি হলো কথা কানে যাচ্ছে না। ভুল যেহেতু করেছো শাস্তি তোমায় পেতেই হবে মেয়ে। একটা অবিবাহিত ছেলের বেডরুমে লুকিয়ে তার ইজ্জত দেখার টেকনিক করছিলে নাকি?
তুবা হকচকিয়ে উঠল, উপরের দিকে মুখ তুলে মাথা দুপাশে নাড়াতে নাড়াতে বলল,
ন..না না আমি এমন কিছুই দেখছিলাম না। বিশ্বাস করুন আমি শুধু লুকিয়েছিলাম আর তখনই আপনি ডু..ডুকে গেলেন, আমাকে এবারের মতো মাফ করে দিন না..এমন শাস্তি আমাকে দিবেন না প্লিজ …
আশমীন তখন বাঁকা হেসে শুধায়…
আমি কখনো কাউকে মাফ করতে পারি না… আমি শুধু শাস্তিই দিতে জানি। সো শাস্তির জন্য রেডি হও…বেশি কথা বলা আমি একদম পছন্দ করি না…..
তুবা মুখটাকে একটু দুঃখী দুঃখী বানিয়ে বলল,
অ..অন্য কোনো শাস্তির কথা বলুন না, তাহলে আমি মাথা পেতে মেনে নিবো….
আশমীন কিছুক্ষণ ভেবে তুবার ভয়ার্ত চাহনীর দিকে তাকিয়ে তীর্যক কণ্ঠে বলল,
ওহহ, সিরিয়াসলি,, তাহলে আজকে থেকে তুমি আমার অসিসট্যান্ট হয়ে কাজ করবে.. এক কথায় আমি যা বলবো তাই করবে আমি উঠতে বললে উঠবে বসতে বললে বসবে তোমার হার্টে ব্রেনে এখন থেকে শুধু একটাই নাম থাকবে আশমীন দেওয়ান। এখন আমার হাত পা চুল সব টিপে দাও…. ভীষন ব্যাথা করছে….
তুবা এবার ক্ষেপে গেল, ক্ষিপ্ত গলায় বলল,
আমাকে কি আপনার কাজের বোয়া মনে হয়…
আমি কারো হাত পা টিপতে পারবো না। ইনফ্যাক্ট কিছুই করতে পারবো না আমাকে যেতে দিন…
আশমীন তুবার চিবুক ধরে চিলতে বাঁকা হেসেই বলল,
ওকে ফাইন, তাহলে আমি সবাইকে বলবো…
তুমি আমার বেডরুমে লুকিয়ে আমার সব কিছু দেখছিলে,,
তখন তুবার ভাবনা তে এলো অনেক কিছু..
যদি সবাইকে বলে দেই তাহলে তার মান ইজ্জত সব যাবে। কেউ বিশ্বাস করবে না এটা ট্রুথ ডেয়ার ছিলো। আপু ভাইয়া জানতে পারলে তার আর আস্ত রাখবে না,, যেই ভাবা সেই কাজ…
তুবা নিজের ভাবনা চিন্তা একপাশে রেখে বলল,
কাউকে বলবেন না প্লিজ.. আ. আমি রাজি আপনার অসিসট্যান্ট হতে….
আশমীন ক্রুর হেসে বড় কদম ফেলে বেডে গিয়ে উপুড় হয়ে শুয়ে পরে…. তারপর কাঠকাঠ গলায় বলল,
শুরু করো আর হে , আগে পা টিপো….
তুবা ধীর কদম ফেলে বেডের কাছে এগিয়ে যায়…
বেডের পাশে বসে হাত বুকে গুঁজে গুটিসুটি মেরে বসে রইলো। লোকটার ট্রাউজারের পায়ের দিকে ল্যাগ হওয়ায় হাটু পর্যন্ত উপরে উঠেছে। ধবধবে ফর্সা লোমশ পেশিবহুল হাটুর নিচ থেকে পায়ের গোড়ালি পর্যন্ত সবকিছু দৃশ্যমান হয়ে আছে। তুবার এসবে তাকাতে কেমন যেন বাঁধ সাধে।
তখন আশমীন মাথা উঁচু করে বলল,
কি হলো টিপে দিচ্ছো না কেন?এভাবে বসে থাকলে হবে? আরো অনেক কিছু করতে হবে তোমার সো দ্রুত করো,,দেয়ারস নো পয়েন্ট ইন ওয়েস্টিং টাইম..
তুবা হাত দিতে গিয়ে ও আবার তুলে ফেলছে। তার প্রচন্ড অস্বস্তি হচ্ছে। কিন্তু এখন তার অস্বস্তি হলে চলবে না। বেড পার্টনার বা সবাইকে বলে দেওয়ার থেকে এই কাজ টাই এখন তার কাছে শ্রেয় মনে হচ্ছে। নিজের কোমল হাত জোড়া বসিয়ে দিলো আশমীনের পায়ে…
****************
এদিকে প্রায় আধাঘন্টা হতে চললো। পা থেকে এবার হাফ হাত পর্যন্ত টি-শার্টের কুনইয়ের নিচ পর্যন্ত শেষে চুল পর্যন্ত টানছে, এখনো তাকে ছাড়ছে না লোকটা। তুবা যেন হাঁফিয়ে উঠলো।নিজের ভাগ্যের কথা ভেবে কেঁদে দিবে মনে হচ্ছে। যদি জানতো রসিকতার ছলে এই ট্রুথ ডেয়ার খেলে এত্ত বড় একটা ফাঁদে পরতে হবে, তাহলে জীবনে ও খেলতো না।
তুবা এবার অসহ্য হয়ে বলল,
এবার আমার যেতে দিন প্লিজ। সবাই হয়তো আমাকে খুঁজছে, বাড়ির সবাই জানলে কি হবে জানেন আমি আপনার রুমে এটা জানলে কেলেঙ্কারি হয়ে যাবে, তাছাড়া মিম, অনি, রুহি, ফাইজা সবাই জানে আমি এখানেই আছি ওরা কি ভাববে বলুন, এটা ভেবে ও অত্যন্ত আমায় যেতে দিন…
আশমীন ঘুমঘুম কণ্ঠে গাঁ ছাড়া ভাব নিয়ে বলল,
যে যা ভাববে ভাবুক, যে যা বলবে বলুক, ওসব আমি পরোয়া করি না। ”
তুবা এবার ইচ্ছে করেই রাগে ক্ষোভে কোনো কিছু না ভেবেই লোকটার চুল ধরে জোড়ে এক টান দিলো..এতটাই জোড়ে ছিলো যে তার হাতের মুঠোয় দু তিনটা চুল চলে এসেছে…
লোকটা উহুহ করে উঠলো… বাঁজপাখির ন্যায় পাশ ফিরে দৃষ্টি ফেলল তুবার দিকে, তারপর তুবার চিকন হাত শক্ত করে চেপে ধরল…
ব্যাথায় তুবা কুঁকিয়ে উঠল, ভ্রুজোড়া কুঁচকে বলল,
আরে হাত ছাড়ুন, আমি কি ইচ্ছে করে টানছি নাকি
আশমীন ক্ষিপ্ত গলায় বলল,
তাহলে কি অনিচ্ছা ভাবে করছো নাকি? তোমাকে বিশ্বাস নেই…
তুবা নিজের হাত এক ঝাঁটকায় ছাড়াতে চাই, কিন্তু এতে যেন আশমীনের হাতের বাঁধন আরো দৃঢ় হলো। বড় শক্ত করে ধরেছে । তুবা ব্যাথায় মুচড়ে উঠলেও ছাড়ল না,তোয়াক্কা দেখাল না। উলটে রাগে আগুন হয়ে বলল,
ফোন নাম্বার দাও
কেন?
তুবা ব্যাথায় চোখ মুখ কুঁচকে রেখে ঘাড়ত্যাড়ামি বশত বলল…
বাহ রে,কি কথা হয়ছে তোমার সাথে আমার একটু আগে ভুলে গেছো? আমি যখনই ফোন দিবো সাথে সাথে সে জায়গায় চলে আসবে আর সেটা যদি হয় আমার বেডরুম তাহলে বেডরুমই… তুমি কিভাবে আসবে না আসবে সেসব আমার দেখার বিষয় না…
আপনি আমার হাত ছাড়ুন। আমি আপনার সাথে আমার হাত ধরার চুক্তি করি নি। ম্যানারলেস লোক কোথাগার। ”
চলবে।
