#সূচনা_পর্ব #জনম_জনমে_তুমি_যে_আমার
#লেখিকা_সুহাসিনি_ফাতেহা
‘বোনের শশুর বাড়ি এসে ট্রুথ অর ডেয়ার খেলে বোনের দেবরের বেডরুমের খাটের নিচে লুকাতে হয়েছে তুবাকে। আর সে যে ডুকলো আর বের হতে পারলো না তুবা। মাথার চুল গুলো এলোমেলো হয়ে বারবার মুখের সামনে এসে পরছে। হাঁসফাঁস লাগছে তার ভীষন। হাস্কি আসছে জোড়ে জোড়ে কিন্তু, কোনো মতে দম মেরে আটকিয়ে রেখেছে। ট্রুথ নেওয়ার ফলে তাকে এই শর্তটা দিলো বোনের ছোট ননদ মিম। তুবা রুমটায় এসে খাটের নিচে ডুকতে না ডুকতেই লম্বা, স্বাস্থ্যবান সুপুরুষ দেহি একজন রুমের ভেতরে ডুকলো। আর ডুকেই দরজা টা অফ করে দিলো। এই মুহূর্তে তুবার অন্তরাত্না শুকিয়ে যাওয়ার যোগাড়। লোকটাকে সে আর দেখে নি। বড় বোন তিহির কিছুদিন আগে এই বাড়িতে বিয়ে হয়ছে। আর আজই সে প্রথম এসেছে। তখন বোনের ননদের কাজিনরা মিলে তাকে সহ টেনে টুনে ছাদে নিয়ে এসে এই খেলাটা খেলল। আর শর্ত দিলো সে এই রুমটার খাটের নিচে লুকিয়ে থাকতে হবে। তুবা জানতো না এটা কার রুম। এমনি মজার ছলে ডুকে পরলো। আর তারপর পর পরই লোকটাকে রুমে ডুকে দরজা অফ করতে দেখলো। লোকটা ডুকে কিছুক্ষণ বেডে বসে পা নাড়াতে লাগলো। তুবার যেন এক্ষুনি হাস্কি আসবে। গরমে তার মুখে ঘামে মিশে একাকার। হঠাৎ লোকটা দাড়িয়ে পরলো, আর টাওয়ালে নিয়ে ওয়াশরুমের দিকে গেলো। তুবা একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে তড়িগড়ি করে খাটের নিচ থেকে বের হয়ে আসে। কিন্তু দরজা খোলতে গিয়ে যেন বিপত্তি বাঁধে। কোনো মতে চেয়ে ও দরজা টা খোলতে পারছে না। এভাবে সাত মিনিট চলে গেলো। ওয়াশরুমের দরজা খোলার আওয়াজ আসছে। তুবা একবার ওয়াশরুমের দিকে চেয়ে খাটের এক কোণে গিয়ে গুটিসুটি মেরে লুকিয়ে রইলো।
ছোট্ট একটা সফেদ রঙা টাওয়াল পেঁচিয়ে বের হলো লোকটা।
লোকটার পানিতে ভেজা ধবধবে ফর্সা লোমশ যুক্ত চওড়া বুক দেখে তুবা নিজের নেত্রযুগল বন্ধ করে নিলো।
আলমারি থেকে কফি রঙের টি-শার্ট, ট্রাউজার নিয়ে বেডের কাছে আসলো। তুবা চোরা চোখে চোখ ছোট ছোট করে তাকালো সেদিকে। আর তাতেই যেন তার চক্ষুচড়ক হয়ে উঠল। লোকটা নিজের টাওয়াল সামান্য উঁচু করে ট্রাউজার পরতে লাগল। লোকটার বলিষ্ঠবান লোমশ পায়ের উপরের সব কিছুই দৃশ্যমান হয়ে আছে। এসব দেখে তুবার যেন জান যায় যায় এমন অবস্থা। বুকটা ভীষন দুরুদরু করছে। যেন তার হার্টবিটের আওয়াজে মানুষজন চলে আসবে বা লোকটা তাকে দেখে ফেলবে। তখনই কিভাবে যেন নাক ফস্কে জোড়ে একটা হাস্কি বেরিয়ে এলো তুবার…
আর সাথে সাথে লোকটা ট্রাউজার পরে দাড়িয়ে পরলো। উদাম গায়ে লোকটা উঠে হাস্কির আওয়াজ অনুসরণ করে সেদিকে তাকালো।
তুবার বুকের ভেতর থেকে যেন এক্ষুনি আত্না বেরিয়ে আসবে, আর সে এখন নিস্তব্ধ হয়ে যাবে। ইচ্ছে করছে দৌড়ে পালিয়ে যেতে কিন্তু দরজা অফ থাকায় সেটা ও পারছে না। মুখে হাত দিয়ে নিচু হয়ে জুবুথুবু হয়ে বসে রইলো।
আশমীন ঘুরে ঘুরে নিজের বেডের কোণে চোখ পরতেই ভ্রুজোড়া কুঁচকে উঠলো। ধীর পায়ে হেটে সে মেয়েটার কাছাকাছি এসে ঝুঁকলো খানিক টা। আর এক ঝাঁটকায় তাকে দাড় করালো।
তুবার বুকের ধুকপুক শব্দ যেন ক্রমাগত বাড়তে লাগল। অপরাধীর ন্যায় নিচের দিকে তাকিয়ে রইলো। ভয়ে তার মাটি ফ্যাঁক করে ডুকে যেতে ইচ্ছে করছে। এমন বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পরবে কখনো ভাবে নি সে। এমন টা হবে জানলে এই বাড়ির আঙিনায় আসতো না সে। ফ্যাকাসে হয়ে এলো তার মুখবিবর।
তখন লোকটার গমগমে কণ্ঠস্বর পেয়ে আরো কেঁপে উঠলো তুবা।
কারো রুমে ডুকতে যে নক করতে হয় সেটা জানো না মেয়ে?
এইটুকুই কথা শুনে তুবা থরথর করে উঠল…
তখন লোকটা আবার ও ধমক দিয়ে বলল….
ওয়াই ডিড ইউ এন্টার মাই রুম, আই’ম আস্কিং”
তুবা সেই ধমকে নিজের ফ্যাকাসে হয়ে শুকিয়ে আসা অধর জোড়া ভিজিয়ে নিচের দিকে দৃষ্টি ফেলে কাঁপা গলায় বলল,
বি..বিশ্বাস করুন.. আ..আমি আপনার রুমে ইচ্ছে করে ডুকিনি… ও..রা পাঠালো..আমার কোনো দোষ নেই আমায় যেতে দিন প্লি—”
তুবা কে থামিয়ে দিয়ে আশমীন রাশভারী কণ্ঠে বলল,
তোমার কোনো দোষ নেই তাইতো—”
তাহলে অপারাধীর মতো নিচের দিকে তাকিয়ে আছো কেন? নির্দোষ মানুষ তো কখনো নিচু হয়ে কথা বলে না….
তুবা এবার ধীরে ধীরে নিজের নেত্রযুগল উপরে তুলল, আর তখনই তার চোখ পরলো লোকটা উদাম হয়ে তার সামনে দাড়িয়ে আছে। তুবা কিছুতেই তাকাতে পারলো না উপরের দিকে,, সে অন্যদিকে দৃষ্টি ফেলে ভয়ার্ত গলায় ফের বলল,
অ—”আমি ইচ্ছে করে এই রুমে আসি নি। ট্রুথ ডেয়ার খেলার পর সবাই বললো আমাকে এই রুমের খাটের নিচে লুকাতো,,, প্লিজ আমায় মাফ করে দেন…. আমি আর জীবনে ও এই বাড়ির আঙিনায় ও আসবো না….
আশমীন কিছুক্ষণ মেয়েটার ভয়ার্ত মুখশ্রীর পানে তাকিয়ে রয়। তারপর বাঁকা হেসেই বেডের দিকে গিয়ে নিজের টিশার্ট পরতে পরতে বলল,
তোমার কোনো মাফ নেই মেয়ে—” আমার রুমে ডুকার জন্য তোমাকে শাস্তি পেতেই হবে—” আর সেই শাস্তিসূরপ আগামী যতগুলো দিন আসবে আমার সাথে এক বিছানায় থাকতে হবে….
চলবে।
