Friday, June 5, 2026







চন্দ্ররঙা প্রেম পর্ব-০৩

#চন্দ্ররঙা_প্রেম
#পর্ব-৩
#আর্শিয়া_সেহের

সিন্থিয়ার হঠাৎ চিৎকার করে বলা কথাগুলো শান প্রথমে বুঝতে পারলো না। শান‌ হতভম্বের মতো প্রশ্ন করলো,
-“কে রুমঝুম? কোন মেয়েটা? কে নিয়ে গেছে? কোথায় নিয়ে গেছে?”

সিন্থিয়া অতিরিক্ত উত্তেজিত হয়ে গেছে বিধায় কথা বলতে পারছে না। সে শুধু হাঁসফাঁস করছে আর আঙুল দিয়ে যেদিকে বাস গেছে সেদিকে ইশারা করছে । শান সিন্থিয়ার অবস্থা বুঝতে পেরে ওর কাছে এসে বললো,
-“রিল্যাক্স সিন্থু। ঠিক মতো বল‌ কি হয়েছে। ঠিক মতো না বললে আমি বুঝবো কিভাবে?”

সিন্থিয়া আচমকা কেঁদে দিলো। একটু সময়েই মেয়েটার প্রতি ভীষণ টান জন্মে গেছে ওর। মেয়েটার জন্য অতিরিক্ত ভয় পেয়েই এমন উত্তেজিত হয়ে পড়েছে। তবুও নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করে বললো,
-“বাসে যে মেয়েটাকে দেখিয়েছিলাম না তোকে? ও.. ওই মেয়েটাই রুমঝুম। ওকে ওই বাসের ড্রাইভার, কন্ট্রাকটর মিলে কোথায় নিয়ে গেলো ওদিকে। আমি ওকে বাঁচাতে পারলাম না শান।”
কথাগুলো বলে আবারও ডুকরে কেঁদে উঠলো সিন্থিয়া।

সিন্থিয়ার কথা মস্তিষ্ক অবধি পৌঁছানো মাত্রই স্তব্ধ হয়ে গেলো শান। ওই মেয়েটা রুমঝুম মানে তার চন্দ্রকন্যার নাম রুমঝুম। মেয়েটা বাসের মধ্যে একা। মূহুর্তেই সতর্ক হয়ে উঠেলো শান। পাঁচ বন্ধুর মধ্যে বুদ্ধিতে শানই এগিয়ে। সে সবকিছুতে ভেঙে পড়ে না বরং মোকাবেলা করতে পছন্দ করে।শান কিছু একটা ভেবে বললো,
-“আই থিংক, আমি জানি ওরা মেয়েটাকে নিয়ে কোথায় যেতে পারে।”

সিন্থিয়ার হাত ধরে তড়িৎ গতিতে ছুটে গিয়ে গাড়িতে বসলো দুইজন। বাকিরাও হুড়মুড় করে ঢুকে পড়লো। ওরা তিনজন ঘটনার কিছুই বুঝতে পারছে না। সবটাই ওদের মাথার উপর দিয়ে যাচ্ছে।

শান ড্রাইভারকে উদ্দেশ্য করে বললো,
-“চাচা আপনি বাড়ি যান। বাবাকে বলবেন আমার ফিরতে একটু দেরী হবে।”
বলেই হাওয়ায় বেগে গাড়ি চালানো শুরু করে দিলো শান।

বিথী প্রান্তকে বললো,
-“কি হচ্ছে রে? কিছু বুঝতেছিস?”
প্রান্ত ঠোঁট উল্টে ডানে বায়ে মাথা নাড়িয়ে না বোঝালো অর্থাৎ সে কিছু বুঝতেছে না। তিহানের দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করার আগেই সে জবাব দিলো,
-“আমিও কিছু জানিনা।”

অগত্যা বিথীর সিন্থিয়াকে প্রশ্ন করা লাগলো। সিন্থিয়া ওদেরকে শর্টকাটে সবটা বললো।
সাথে সাথেই প্রান্তের চোখ মুখ লাল হয়ে উঠলো। মনে পড়লো কিছু বিভৎস স্মৃতি। মুখ দিয়ে বিরবির করে উচ্চারণ করলো,
-“কুত্তার বাচ্চা গুলারে হাতের নাগালে পাইলে জ্যান্ত দাফন কইরা ফালাবো ।”

বিথীর কানে প্রান্তের বিরবির করে বলা কথা পুরোটাই পৌঁছেছে। মূহুর্তের মাঝে বিথীর মনটাও বিষাদে ঢেকে গেলো। এমন একটা ঘটনায় তো প্রান্তের জীবনটাও থমকে গিয়েছিলো। প্রানপ্রিয় ছোটবো….
বিথী আরো কিছু ভাবার আগেই ব্রেক কষলো শান। সামনেই সেই বাসটা দাঁড়ানো। পাঁচ জনই গাড়ি থেকে নেমে দ্রুত পা চালালো সেদিকে। বাসের দরজা খোলা। তিহান‌ গাড়ির মধ্যে উঁকি মেরে বললো,
-“ভেতরে কেউ নেই।”

সিন্থিয়া এবার আশেপাশে নজর দিলো। জায়গাটা জঙ্গল ধরনের। ভোরের আলো ফুটলেও এখানটা বেশ অন্ধকার।একজনকে মেরে ফেলে রেখে গেলেও কেউ টের পাবে না। আশেপাশে মানুষের অস্তিত্ব নেই বললেই চলে।
শান নিজের জায়গাতে অনড় দাঁড়িয়ে আছে। কোথায় খুঁজবে এখন‌ চন্দ্রকন্যাকে?

হঠাৎ প্রান্ত চেঁচিয়ে বললো,
-“শান‌, এদিকে আয়।”
শানের আগেই দৌড়ে গেলো‌ সিন্থিয়া। রুমঝুমের সাদা ওড়নাটা সেখানে ফেলানো। সিন্থিয়া সেটাকে হাতে তুলে নিলো। শান বললো,
-“ওরা এখানেই আছে। আশেপাশে খোঁজ। কুইক।”

শান খুব চেপে চেপে পা ফেলছে। ওর মনে হচ্ছে আশেপাশে কেউ আছে। হঠাৎ করেই ওর মনে হলো বাম সাইডের বাঁশঝাড়ের পেছন থেকে চাপা গোঙানির আওয়াজ আসছে। প্রায় বিশ হাত দূরে থাকা প্রান্তকে ইশারায় ডাকলো শান।

ড্রাইভার লোকটা রুমঝুমের পেটের উপর বসে মুখ চেপে ধরে রেখেছে। হেল্পার ছেলেটা রুমঝুমের দুইপা ধরে রেখেছে আর কন্ট্রাকটর দুই হাত ধরে রেখেছে। আর কিছুক্ষণ গেলে রুমঝুম শ্বাসরোধ হয়ে মারা যাবে এমন উপক্রম হয়েছে তার। ভয়ে রুমঝুমের অর্ধেক জীবন বেরিয়ে গেছে। দুচোখ দিয়ে পানি পড়ছে অনবরত।

আচমকাই দুপাশ থেকে প্রান্ত আর শান‌ এসে কন্ট্রাকটর আর হেল্পার ছেলেটির মাথায় মোটা লাঠি দিয়ে আঘাত করলো । দুজনেই রুমঝুমকে ছেড়ে দিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লো। ড্রাইভার ওদের দেখে ভয়ে রুমঝুমকে ছেড়ে পালাতে গেলে দুজনেই ধরে ফেললো তাকে। প্রান্ত ইচ্ছে মতো‌ গালি দিচ্ছে আর কিল ঘুষি মারছে ড্রাইভার বেটাকে।
-“শালা,মেয়ে দেখলেই পুরুষত্ব জেগে ওঠে? ঘরে বউ নেই তোর? নিজের মেয়ের বয়সী মেয়েদের পেছনে পরিস। তোদের মতো নরপশুর জন্য কত পরিবার অকালে মরে জানিস? জানবি না তো। জানবি কিভাবে? তাদের তো আত্মার মরন হয়। মরন হয় হাসি খুশি আর আনন্দের। এসবের মৃত্যু দেখা যায় না তো জানবি কিভাবে।”
প্রান্ত এসব বলছে আর নিজের শরীরের সমস্ত শক্তি দিয়ে মারছে ড্রাইভারকে। ড্রাইভার লোকটা প্রান্তের মার খেয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লো। তার আর বিন্দুমাত্র নড়ার শক্তি নেই।

ততক্ষণে তিহান,বিথী আর সিন্থিয়া অনেকগুলো দড়ি নিয়ে চলে এসেছে।সিন্থিয়া রুমঝুমকে দেখেই দৌড়ে গেলো ওর কাছে। সাদা ওড়নাটা‌ জড়িয়ে দিলো রুমঝুমের গায়ে। রুমঝুম চুপচাপ বসে আছে। ওর চোখের পলকও পড়ছে না। জীবনের এতো চড়াই উৎরাই বারবার ওকেই কেন পার হতে হচ্ছে?

সিন্থিয়া রুমঝুমের ভাবান্তর না দেখে ওকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো। রুমঝুম তবুও কোনো প্রতিক্রিয়া দেখালো না।

প্রান্ত শান্ত কন্ঠে সিন্থিয়া আর বিথীকে উদ্দেশ্য করে বললো,
-“মেয়েটাকে নিয়ে যা এখান‌ থেকে। তিনজনই গাড়িতে বস গিয়ে। আমরা আসছি।”

বিথী আর সিন্থিয়া বিনা বাক্যব্যয়ে রুমঝুমকে উঠিয়ে নিয়ে গাড়ির দিকে চলে গেলো। শান শান্ত দৃষ্টিতে দেখছে রুমঝুমের হেঁটে যাওয়া। অতিরিক্ত ভয়ে মেয়েটা চুপসে গেছে। কোনো প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে না ওর মধ্যে।
ওরা তিনজন চোখের আড়াল হতেই প্রান্ত আবার লাথি মারলো ড্রাইভারের মুখ বরাবর।এরপর তিনজনের সমস্ত শরীরের জামাকাপড় খুলে ফেললো। তিনজনের প্যান্ট দিয়ে তিনজনের মুখ বেঁধে দিলো। ওদের দিকে তাকাতেও ঘৃনা লাগছে তিহান‌ আর শানের। তবে প্রান্তের জন্য এগুলো করতেই হচ্ছে। প্রান্ত ওদের উচিত শাস্তি না দিয়ে এখান থেকে চুল পরিমানও নড়বে না।

কন্ট্রাকটর এর দেহটা টেনে নেওয়ার সময় শানের চোখ পড়লো একটা দুলের দিকে। এখানেই রুমঝুম পড়ে ছিলো। শান দুলটা তুলে নিলো। মূহুর্তেই শরীরের রক্ত টগবগ করে ফুটে উঠলো। আজ ওরা খুঁজে না পেলে‌ কি হতো তার চন্দ্রকন্যার। শান সজোরে লাথি মারলো কন্ট্রাকটর লোকটিকে। লোকটা কিছুটা কঁকিয়ে উঠে আবারো চুপ হয়ে গেলো।

ওই লোক তিনটিকে একটা মোটা গাছের সাথে বিবস্ত্র করে মোটা দড়ি দিয়ে বেঁধে ফেললো প্রান্ত,তিহান আর শান। তিনজনেরই মুখ আর‌ পা ও বাঁধা। তাদের মোবাইল সহ যাবতীয় সবকিছু ইট দিয়ে থেতলে মাটিতে পুঁতে ফেললো । সমস্ত‌ কাজ শেষে তিনজনের গায়েই থুতু ছিটিয়ে দিলো তিহান। কি জঘন্য লোক এরা। ছিঃ।
চলে যেতে যেতে প্রান্ত বললো,
-“যদি‌ কেউ বাঁচাতে আসে তো বাঁচিস নাহলে এখানেই পঁচে মরিস অমানুষ গুলা।”

তিনজনই অসহায় দৃষ্টিতে তাকালো তাদের যাওয়ার দিকে।এই জঙ্গলে ওদের তিনজনকে বাঁচাতে কেউই আসবে না সেটা তারা জানে। তবে কি তাদের পাপের মাসুল গোনার সময় হয়ে গেছে? পাপের ঘড়া বোধহয় পূর্ণ হয়েছে এবার।

শান আর তিহান গাড়িতে উঠে বসলো। প্রান্ত গিয়ে বসলো বাসের ড্রাইভিং সিটে।
রুমঝুমকে জড়িয়ে ধরে বসে আছে সিন্থিয়া আর বিথী । শান একনজর সেদিকে তাকালো। ভয়ে মেয়েটার চোখমুখে শুকিয়ে আছে।
শান‌ গাড়ি হাইওয়েতে নিয়ে গেলো। পেছনে প্রান্ত বাস চালিয়ে আসছে। সকাল সাড়ে আটটা বেজে গেছে ইতিমধ্যে। হাইওয়ে বেশ নির্জন আছে এখনো । প্রান্ত সুযোগ বুঝে গাড়িটাকে একটা গাছের সাথে সংঘর্ষ করিয়ে দিলো যাতে সবাই বুঝতে পারে যে গাড়ির বেহাল দশার জন্য ড্রাইভার সহ বাকি দুজন পালিয়েছে। গাড়ির সামনের কাঁচও ভেঙে দিলো।
সবকিছু প্লান অনুযায়ী সুন্দর মতো গুছিয়ে টুপ করে গাড়িতে গিয়ে বসলো। শান আর তিহান হেঁসে উঠলো ওকে দেখে।

সিন্থিয়া বললো,
-“এখন কোথায় যাবো আমরা?”
-“কোথায় মানে? আমার বাড়িতে।”
শান সোজাসাপ্টা জবাব দিলো।
বিথী বললো,
-” কিন্তু আংকেল আন্টিকে কি বলবি যদি রুমঝুমের কথা জিজ্ঞাসা করে? মেয়েটাকে তো এখন‌ একা একা ছেড়ে দেওয়া যাবে না।”

সিন্থিয়া বললো,
-“আমার ফ্লাটে চল। ওখানে সমস্যা হবে না।”
শান মাথা নাড়িয়ে সিন্থিয়ার ফ্ল্যাটের দিকে গাড়ি চালানো শুরু করলো।

পঁয়ত্রিশ মিনিটের মধ্যে ওরা সিন্থিয়ার ফ্লাটে চলে এলো। সিন্থিয়া শান,তিহান‌ আর প্রান্তকে সোফায় বসতে দিয়ে বিথীর সাহায্য নিয়ে রুমঝুমকে বেডরুমে নিয়ে গেলো। আসার সময় প্রান্ত রুমঝুমের ব্যাগটা বাস থেকে নিয়ে এসেছিলো। বিথী রুমঝুমকে ওখান থেকে একটা জামা বের করে দিয়ে বললো ,
-“ওয়াশরুম থেকে চেন্জ করে আসো।”

রুমঝুম প্রায় পনেরো মিনিট সময় নিয়ে ফ্রেশ হয়ে বেরিয়ে এলো। বিছানায় সিন্থিয়া বসে আছে পাউরুটি,কলা আর দুধ নিয়ে। একটা বাটিতে আপেলও কাঁটা আছে। রুমঝুম দৌড়ে গিয়ে মেঝেতে বসে সিন্থিয়ার কোলে মাথা রেখে কান্না করে দিলো। কাঁদতে কাঁদতে বললো,
-” আজ তুমি আমার অনেক বড় উপকার করলে সিন্থিয়া আপু। তুমি না থাকলে আজ আমার সাথে কি কি হতো আমি কল্পনাও করতে পারছি না।আমি তোমার‌ কাছে আজীবন কৃতজ্ঞ থাকবো আপু।”

সিন্থিয়া রুমঝুমকে টেনে তুললো। দুহাত দিয়ে চোখের পানি মুছিয়ে দিয়ে বললো,
-“পাগলী মেয়ে। আপু ডাকছো আবার কৃতজ্ঞ থাকবা বলছো? ”
রুমঝুম মাথা নিচু করে ফেললো। সিন্থিয়া ওর দিকে খাবারের ট্রে টা এগিয়ে দিয়ে বললো ,
-“এগুলো সব শেষ করো। এর চেয়ে বেশি কিছু আমার বাড়িতে নেই।”

খাবার দেখে রুমঝুমের পেটের মধ্যে মোচড় দিয়ে উঠলো। কাল বিকেল থেকেই না খাওয়া সে। চুপচাপ খেয়ে নিলো সবটা। খাওয়া শেষ করতেই মেঘার কল এলো ফোনে। রুমঝুম রিসিভ করতেই মেঘা বললো,
-“কোথায় তুই? দশ মিনিট যাবৎ খুঁজেই যাচ্ছি।”
-“আরেকটু অপেক্ষা কর প্লিজ। আমি আসছি। এসে সবটা বলবো।”
-” আচ্ছা ঠিক আছে।”
রুমঝুম কল কেটে সিন্থিয়াকে বললো,
-“এখান থেকে বাসস্ট্যান্ড কতদূরে, আপু?
-“এই ধরো, আঠারো-বিশ মিনিটের রাস্তা।কেন?”
-“আমার বান্ধবী ওখানে অপেক্ষা করছে আমার জন্য। আমাকে যেতে হবে।”

সিন্থিয়ার মুখটা মলিন হয়ে উঠলো। মেয়েটাকে ছাড়তে ইচ্ছে করছে না। যদি আবার কোনো বিপদ হয়? সিন্থিয়া বেশ সিরিয়াস হয়ে বললো,
-“রুমঝুম,চলার পথে খুব শক্ত হতে হয় । একটুতে দূর্বল হলে চলবে না। সবসময় বিপরীত দিকে যে থাকবে তার সাথে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চালিয়ে যেতে হয়। বুঝেছো?”
রুমঝুম কিছু না বুঝলেও মাথা নাড়ালো মানে সে বুঝেছে। সিন্থিয়া মুচকি হেঁসে ওকে নিয়ে ড্রয়িং রুমে এলো। শান আড়চোখে তাকালো রুমঝুমের দিকে। ধূসর রঙের একটা থ্রিপিস পড়েছে রুমঝুম। বেশ স্নিগ্ধ আর সতেজ লাগছে দেখতে এখন।

শানের ঘোর কাটলো সিন্থিয়ার কথায়।
-“ওর বান্ধবী বাসস্ট্যান্ডে অপেক্ষা করছে,শান। ওকে একটু ওখানে নামিয়ে দিয়ে আয়।”
শান মনে মনে বেশ খূশি হলেও‌ প্রকাশ করলো না। মুখে বিরক্তি ভাব এনে বললো,
-“ঠিক আছে, বের হতে বল।”
বলেই হনহন করে বেরিয়ে গেলো। রুমঝুমের কেন জানি এই ব্যাপারটা খারাপ লাগলো। লোকটা এমন‌ কেন?

রুমঝুম ইতস্তত করে সবার দিকে তাকালো।সবাই তার দিকেই তাকিয়ে আছে। রুমঝুম চোখ নামিয়ে নিয়ে বললো,
-“আপনারা আমার অনেক বড় উপকার করেছেন। আপনাদের সবাইকে অনেক ধন্যবাদ। আমি সত্যিই আপনাদের কাছে চির কৃতজ্ঞ থাকব।”
তিহান‌ বলে উঠলো,
-“ধন্যবাদ না ট্রিট চাই।”
তিহানের কথায় হেঁসে উঠলো সবাই। রুমঝুম সবার থেকে বিদায় নিয়ে ব্যাগ উঠিয়ে বের হতে গিয়ে বাঁধলো আরেক বিপত্তি। ব্যাগের কোনায় পা বেঁধে উপুড় হয়ে পড়ে যেতে লাগলো। তবে পড়ার আগেই প্রান্ত এসে ধরে ফেললো। প্রান্ত ধরায় রুমঝুমের অস্বস্তি লাগা শুরু হলো। প্রান্ত সেটা বুঝতে পেরে রুমঝুমকে সোজা দাঁড় করিয়ে দিয়ে বললো,
-” খারাপ কিছু মনে করো না । তোমার মধ্যে নিজের ছোটবোনকে দেখেছি আমি। তুমি আমার ছোটবোনের মতো। তোমাকে বাজে উদ্দেশ্যে ধরিনি আমি বোন। শুধুমাত্র পড়ে যাচ্ছিলে বলে..”

রুমঝুমের মুখে হাঁসি ফুটে উঠলো। হেঁসেই বললো,
-“ইটস্ ওকে ভাইয়া। ধন্যবাদ আপনাকে। আসি তাহলে আমি।”
-“হুম,সাবধানে যেয়ো।”
রুমঝুম সবার দিকে একনজর তাকিয়ে বেরিয়ে গেলো ফ্ল্যাট থেকে। সিন্থিয়া রুমঝুমের যাওয়ার পথে তাকিয়ে বললো,
-“আল্লাহ, মেয়েটার সহায় হোন।”

————————————

-“দেখুন শাশুড়ি আম্মা, ঝুম কে আমার সাথে বিয়ে দেওয়ার কথা বলে অনেক কিছু হাতিয়েছেন আমার থেকে ।অথচ বিয়ের দিন মেয়ে নাই হয়ে গেছে। আপনি বলেছেন ওকে খুঁজে এনে দেবেন আর এখন বলছেন ও কোথায় আছে জানেন না? নাটক করার জায়গা পাচ্ছেন না আপনি?”

আরমান আহমেদের মৃদু চিৎকার করে বলা কথায় হালকা কেঁপে উঠলো তাহমিনা বেগম। তবে সেটা প্রকাশ করলেন না। গলায় যথেষ্ট তেজ ঢেলে বললেন,
-“আমি তোমাকে আগেই বলেছিলাম ওই মেয়ে সুবিধার না। তুমি বলেছিলে ও পালাতে পারবে না। তুমি নাকি ওর পালানোর রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছো। তাহলে এখন আমাকে এসব শুনাচ্ছো কেন?”

-“রাস্তা বন্ধ করেছিলাম তো। তবে আমি ঘুনাক্ষরেও বুঝতে পারিনি যে ও‌ দেয়াল টপকে পালাতে পারে।”

-“আমি তো‌ তোমাকে বলেই দিয়েছি ওই মেয়ে এখন‌ তোমার। ওকে খুঁজে এনে যা খুশি করো তুমি। আমরা কেউ দেখতেও যাবো না।”

আরমান ঈষৎ হাসলো। ফিসফিসিয়ে বললো,
-“এই কথাটা মাথায় থাকে যেন। আপনি আসবেন না আমি জানি তবে আপনার হাজবেন্ড আর ছেলেকে আটকানোর দায়িত্বটাও কিন্তু আমার। মনে রাখবেন, রুমঝুমকে আমার কাছে বিক্রি করে দিয়েছেন আপনি।”

তাহমিনা বেগম শুকনো ঢোক গিললো। টাকার জন্য সে রুমঝুমকে বিক্রি করেছে এটা কেউ জানেনা। সবাই জানে বড়লোক ছেলে দেখে রুমঝুমকে জোড় করে বিয়ে দিতে চেয়েছিলেন। সত্যিটা সবাই জানলে তার কি হবে সেটা ভেবেই ঘাম ছুটে গেলো তার।

চলবে……….

পূর্ববর্তী নিবন্ধ
পরবর্তী নিবন্ধ
গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ