গল্পঃ #গোপন_বাক্স
লেখিকাঃ #মিশু
পর্বঃ (৬ও শেষ)
আমি ঘর থেকে বাক্সটা এনে লাবিব ভাইকে দিলাম। লাবিব ভাই শয়তানি হাসি হেসে বাক্সটা নিয়ে খুললো। মুহূর্তেই মুখ চোখ পাল্টে গেলো বন্দুক টা আমার মাথায় ঠেকিয়ে বললো, খুব বাড়াবাড়ি করছো কিন্তুু ইতু। বাক্সের ভেতর হীরে ছিল জানো দাম কত এক কোটি টাকা। তাই ফাতরামি না করে আমার হীরে গুলো আমাকে দাও।
আমি অবাক হয়ে বললাম, হীরে মানে? এখানে কোনো হীরে নেই। আর হীরে আসবে বা কোথা থেকে?
লাবিব ভাই বললো, নাটক করো না ইতু। দাও হীরে গুলো দাও। ওগুলো আমার।
আমি বললাম, আপনার মানে? তারমানে আপনি হীরে চোরাকারবারের সাথে জড়িত।
লাবিব, হ্যা জড়িত। কথা না বাড়িয়ে হীরে গুলো দাও। না দিলে তোমার সাথে কি করবো তুমি ভাবতেও পারছো না।
আমি বললাম, কি করবেন? আমার শাশুড়ীর মতো ঔষধ দিয়ে পাগল বানাবেন?
লাবিব ভাই বললো, শোনো ওটা আমার মায়ের কাজ। আমি অত লুতুপুতু কাজ করি না। ডিরেক্ট শেষ করে দিবো।
হাবিব এইবার চিৎকার করে বললো, ছি ভাইয়া তুই এতো নিচে নামতে পারলি।
হাবিব আর কিছু বলার আগেই লাবিব বললো, এই চুপ কথা বলিস না নইলে তোকে আগে শেষ করবো।
আমি হাসলাম তারপর বললাম, তা আপনি আর পারবেন না ভাইয়া। আপনার আর আপনার মায়ের খেলা শেষ। আমার শাশুড়ী মাকে অনেক কষ্ট দিয়েছেন সেই সাথে মা – ছেলে চোরাই হীরে ব্যাবসার সাথে জড়িত। আপনাদের তো জেল হবে৷
আমার কথা শুনে লাবিব ভাই জোড়ে হাসলো আর বললো, কে শাস্তি দেবে আমায়? তোরা? তোদের তো এইখানেই পুতে……
লাবিব ভাই কথা শেষ না করতেই পেছন থেকে ইন্সপেক্টর স্নিগ্ধ বললো, তা কয়জন কে পুতেছেন মিস্টার লাবিব।
ইন্সপেক্টর কে দেখতেই লাবিব ঘাবড়ে গেলো তারপর কয়েক মিনিটের জন্য বন্দুক সড়িয়ে আবার আমার দিকে তাক করার আগেই আমি জোড়ে ধাক্কা দিয়ে বন্দুক ফেলে দিই৷ ইন্সপেক্টর স্নিগ্ধ খপ করে ধরে ফেলে।
আসলে গত দুদিন আমি বাড়ির সবাইকে নজরে রেখে বুঝতে পারি লাবিব ভাইয়ের মধ্যেও সমস্যা আছে তাই তার ঘর সার্চ করে নানা ডকুমেন্ট থেকে জানতে পারি তিনি আর তার মা এই চোরাই হীরে ব্যাবসা করছে অনেকদিন হলো। তখনি আমি সবটা আমার ফেন্ড ইন্সপেক্টর স্নিগ্ধ কে জানাই। তারপর সবটা ওর সাথে পরামর্শ করেই করি।
ইন্সপেক্টর স্নিগ্ধ ওদের নিয়ে যায়। যাওয়ার আগে নকল শাশুড়ী মা বলে, ভালো করলি না ইতু। তোকে ছাড়বো না।
সবকিছু এত তাড়াতাড়ি হওয়ার হাবিব ভীষণ ভেঙে পরে। ভাবী সবকিছু জেনে কাদঁতে কাঁদতে ঘরে চলে যায়।
হাবিব আমার হাত ধরে বলে, মা কোথায় ইতু? মাকে আমার কাছে নিয়ে আসো ইতু।
আমি আমার ভাইকে বলি মাকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আনতে৷ কিছুক্ষন পর ওরা আসে। হাবিব মাকে জড়িয়ে ধরে কাদে। মাও কাদে। ওদের কাঁদতে দেখেও আমার মন কেমন যেন প্রসান্তিতে ভরে যায়।
এরপর আমি আর হাবিব মাকে নিয়ে হাবিবের চাকরির জায়গায় চলে যাই। নকল শাশুড়ী আর লাবিব ভাইকে কোর্টে প্রডিউস করা হয়। কোর্টে প্রমানিত হয় ওরা দীর্ঘদিন ধরে চোরাকারবারের সাথে জড়িত সাথে আরো অপরাধে যুক্ত। ওদের যথাযথ শাস্তি হয়।আমরাও ওদের থেকে অনেক দূরে নিজেদের মতো ভালো থাকি।
এরপর একে একে কেটে যায় কয়েকটি বছর। হাবিব এখন চাকরি করে না। ব্যাবসা করে। আল্লাহর রহমতে ব্যাবসাও ভালো চলছে। আমাদের নিজস্ব বাড়ি হয়েছে। আর আমাদের ঘর আলো করে এসেছে আমাদের একমাত্র ছেলে আহাদ। মা ও এখন সুস্থ। আহাদের সাথে হাসি খুশিতে দিন কেটে যায় ওনার।
সবকিছু ঠিকঠাকই চলছে। আমিও সারাদিন সব কাজ শেষে নিয়ম করে মধ্যে রাতে চলে যাই রান্নাঘরে। তারপর রান্নাঘরে ফ্রিজ সড়িয়ে বের করি সেই #গোপন_বাক্স তারপর ছোট্ট একটা চিরকুট (যেখানে লেখা আছে আমি আমার পরিবার নিয়ে যেন এইভাবেই হাসি খুশি থাকি) বাক্সে রেখে আবার ফ্রিজটা ঠিক করে চলে আসি। আমার মুখে লেগে থাকে অদ্ভুত হাসি মনেপরে সেইদিনের কথা যেইদিন আমি প্রথম এই বাক্সটা খুলেছিলাম। সেইদিন বাক্সটা খুলতেই চোখে পরে ছোট একটা চিরকুট যেখানে লেখা ছিল ১ কোটি টাকার হীরে চাই, আর পাশেই হীরে রাখা। ব্যাপারটা আমার সন্দেহ লাগে তাই পুরো বাক্সটা খু্জে অবশেষে ছোট্ট একটা চিরকুট পাই যেখানে লেখা ছিল বাক্স টা যার হাতে থাকবে সেই তার মালিক। সে যা চাইবে মধ্যরাতে চিরকুটে তা লিখে রাখলে পাবে। ছোট শর্ত ছিল সেটা হলো বাক্সটা রান্নাঘরে রাখতে হবে আর মধ্যে রাতে চিরকুট লিখতে হবে । ব্যাপারটা প্রথমে বিশ্বাস যোগ্য হয়নি তাই পরিক্ষা করলাম। সত্যি যাই চাইলাম তাই পাইলাম৷ এরপর আর কি এর ডুপ্লিকেট একটা বাক্স তৈরি করে লাবিব ভাইয়ের হাতে দিয়েছিলাম। উনি সম্ভবত এই #গোপন_বাক্সের সম্পর্কে জানতেন না। আর যে জানতো মানে নকল শাশুড়ী মা তাকে বাক্সের সাহায্যেই সব ভুলিয়ে দিয়েছিলাম। এরপর আর কি আস্তে করে ছেলে আর স্বামীর পাশে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়লাম।
~ সমাপ্ত ~
