#আলো_আধাঁরি |০১|
#নুপুর_মজুমদার_জবা
“আচ্ছা আমি যদি কখনো দ্বিতীয় বিয়ে করি তখন তুমি কি করবে? ”
হুট করেই স্বামীর এমন প্রশ্নে অবাক হল শারমিন। শেষের উত্তর দিল,
“আমি জানি তুমি আমায় প্রচন্ড ভালোবাস আমায় দেখে কখনো দ্বিতীয় বিয়ে করতেই পারবে না। ”
শারমিনের কথাটা শুনে শুধুমাত্র হাসলো আসিফ। কিন্তু শারমিনের তেমন হাসি পেল না আজকাল তার স্বামী নামক লোকটা শুধু আবোল তাবোল বকতেই থাকে। আজ থেকে প্রায় দু বছর আগে আসিফের সঙ্গে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়েছিল শারমিনের।এলাকায় থাকা শারমিন আর আসিফের সংসার মাত্র হয়েছে এগারো মাস। কারণটা আগে বলি আসিফ আগে ঢাকায় চাকরি করার সুবাদে একসময় বিয়ের কাবিন টা করে রাখলেও বউ করে ঘরে তোলা হয়নি শারমিনকে। তারপরেই বদলি হয়ে ঢাকা থেকে কামরাঙ্গীরচর চাকরি হয়ে যাওয়ার কারণেই শারমিনকে নিয়ে এখানে একটা বাসা ভাড়া করে থাকে। রোজকার মতোই আজকে সকালের রান্না রান্না করছিল শারমিন।আজকাল তার শরীরটা ভালো থাকে না সে হিসেবে আসিফের সঙ্গেও তেমন কথাবার্তা হয় না। সময় পেলেই আশিক মাঝে মাঝে ঘুরতে বাইরে নিয়ে যায়। স্বামীর কথায় অবাক না হয়ে পারল না শারমিন।
__তা তুমি কি আবার দ্বিতীয় বিয়ে করতে চাইছো নাকি? আগে থেকে বলে রাখি আমি কিন্তু কখনোই সতীনের সংসার করবো না বলে দিলাম।
পেছন থেকে বউকে জড়িয়ে ধরল আসিফ,
__আরে ধুর মজা করছিলাম তো। দেখলাম তুমি কি বলো? আমাদের সাথে কাজ করে রফিক ভাই উনি কালকে আরেকটা বিয়ে করেছেন সেটা নিয়েই ভাবছিলাম আর তোমাকে প্রশ্নটা করে ফেললাম।
হাত ছেড়ে বাঁচলো শারমিন,
__ও তা তুমি আগে বলবে না আমাকে তো একেবারে ভয় পাইয়ে দিয়েছিলে।
__তা তুমি আবার ভয় পাও? আপনি তো ভাবতাম শুধুমাত্র মনে হয় আমি তোমার ভয়ে দিন রাত কাটাই।
__বাহ আজকে জানতে পারলাম যে সাহেব আমায় আবার ভয় পায়। তা কবে থেকে পান শুনি জনাব?
__তা তো বিয়ের পর থেকেই পাই।তুমি খাবার রেডি কর ততক্ষণে আমি গোসল করে আসছি। না হলে আজকে অফিসে যেতে দেরি হয়ে যাবে।
কথাটুকু শেষ করেই আসিফ ঘরে চলে গেল গোসল করতে। এরই মধ্যে ততক্ষণে শারমিনের রান্না প্রায় হয়ে এসেছে বলে খাবার টেবিলে সবকিছু গুছিয়ে রাখল। আসিফের দ্বিতীয় বিয়ে করার কথা শুনে অনেকটা ভাবুক হয়ে গেছে শারমিন, এটা কি শুধু মশকরা কথা নাকি আসিফ নিজের মনের কথা বলতে চাইলে শারমিনকে। আজকাল স্বামীর মতিগতি তার তেমন ঠিক লাগেনা।আসিফ আগের মত তেমন হাসিখুশি নেই সব সময় কি নিয়ে যেন সব চিন্তায় থাকে। এতসব চিন্তা করতে করতেই শারমিনের হাত হুট করেই কেটে গেল। হাতের চামড়া ছিলে ওইখানে জ্বলে উঠতেই হুঁশ ফিরলো তার।ঘরে গিয়ে ফার্স্ট এইড বক্স থেকে তুলো আর অ্যান্টিসেপটিক বের করে নিল। তাকিয়ে দেখল আসিফ এখনো বাথরুমে। লোকটা আজকাল নিজের স্বাস্থ্য নিয়ে বেশ সচেতন হয়েছে। ডায়েট করছে, আবার জামা কাপড়ও তিন বেলা নতুন নতুন পরে বের হচ্ছে। হুট করেই আসিফের ফোন বেজে উঠতেই এগিয়ে গেল শারমিন ফোনটা তুলে দেখতে কে ফোন দিয়েছে। ফোনের স্ক্রিনে স্পষ্ট তমা নামটা ভাসছে। নিজের ছোট বোনকে স্বামীকে ফোন করতে দেখে আরেকটা অবাক হল শারমিন। আজকাল তার তোমার সঙ্গে তেমন কথা হয় না সে কথা বলতে গেলেই তমা বলে তার নাকি ব্যস্ততা আছে বলে পাশ কাটিয়ে দেয় তমা। ফোনটা রিসিভ করলে কানের পাশে রাখলো শারমিন, কিছু বলার আগেই তোমার গলার আওয়াজ পাওয়া গেল,
__হ্যালো আসিফ ভাই, আজকে বাড়ি থেকে কোনমতেই বের হতে পারবো না আপনি নিজে গিয়েই হাসপাতাল থেকে রিপোর্টগুলো নিয়ে আসুন। গাইনি ওয়ার্ডে ফারিস্তা নামে ডাক্তারের কাছে গেলেই উনি আপনাকে দিয়ে দেবে রিপোর্টগুলো।
__হ্যালো তমা তুই এগুলো কি বলছিস?
বোনের গলার আওয়াজ পেতেই ফট করে ফোনটা কেটে দিল তমা।
#চলবে
