গল্পঃ #গোপন_বাক্স
লেখিকাঃ #মিশু
পর্বঃ (৫)
শাশুড়ীর চোখের আড়ালেই ঘর থেকে সরে আসলাম। তারপর নিজের ঘরে গিয়ে দরজা ভালোভাবে বন্ধ করে বাক্সটা খুললাম। মুখে একটা হাসি ফুটে উঠলো। মনেহলো অনেকটা রহস্যের সমাধান করে ফেলেছি। তবে আরেকটা কাজ হলো শাশুড়ি মায়ের ঘর টা সার্চ করা। সেটাও সুযোগ বুঝে করে ফেলবো। নকল শাশুড়ি মা এইবার সবকিছু সবার সামনে আনার পালা।
দুইদিন অনেক ভেবে চিন্তে পরিকল্পনা করলাম। তারপর পরেরদিন রাতে পরিকল্পনা মতো হাতে তিল ছাড়া শাশুড়ীকে কিডন্যাপ করলাম। তারপর অজ্ঞান করে সোজা আমার বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দিলাম। এরপর শুরু হলো আসল খেলা।
সারাদিন নকল শাশুড়ী মাকে প্রচন্ড বিচলিত লাগলো। মনেহলো খুব গুরুত্বপূর্ণ কিছু হারিয়ে ফেলেছেন। আমি ও কড়া নজরে সবকিছু দেখছিলাম। উনি হয়তো বিষয়টা খেয়াল করেছেন তাই আমার থেকে বারবার আড়াল হচ্ছেন।
কিন্তুু অদ্ভুত একটা বিষয় হলো আমার ভাসুর মানে লাবিব সাহেবকে ও প্রচন্ড অস্থির লাগছে৷ আমি সবকিছু খেয়াল করেও না জানার অভিনয় করলাম। সন্ধায় শাশুড়ীকে খাইয়ে ঔষধ গুলো এগিয়ে দিলাম। তিনি নানান বাহানা করতে লাগলেন। কিছুতেই খাবেন না। আমি জোড়াজুড়িতে না পেরে একপর্যায়ে হাবিবকে ডাকলাম। হাবিব এসে নানা ভাবে বুঝিয়ে মাকে ঔষধ খাওয়ানোর চেষ্টা করতে লাগলো। কিন্তুু ধীরে ধীরে শাশুড়ীর ব্যাবহার কেমন পাল্টে যেতে থাকলো। আর হঠাৎ রেগে পাশ থেকে কাঁচের গ্লাস নিয়ে হাবিবের দিকে ছুড়ে দিলো। আমি হাবিবকে সড়িয়ে নিলাম আর ফট করে ইনজেকশন টা শাশুড়ী মায়ের হাতে পুশ করে দিলাম। উনি জ্ঞান হারিয়ে ফ্লোরে লুটিয়ে পড়লেন। হাবিব দৌড়ে মাকে ধরে বললো, এটা কি করলে ইতু?
এতক্ষণে বাড়ির সবাই চলে এসেছে। লাবিব ভাই,ভাবী বললো, কি হাবিব? মায়ের কি আবারো সমস্যা হয়েছে?
হাবিব আবার বললো, এসব কি ইতু? তুমি কি ইনজেকশন দিলে মাকে?
আমি এইবার বললাম, তেমন কিছু না। জ্ঞান হারানোর ইনজেকশন দিয়েছি। কিছুক্ষন পরেই জ্ঞান ফিরে আসবে। আর এই মহিলা তোমার মা নয়।
হাবিব বলে, মা নয় মান?কি সব বলছো তুমি?
আমি বললাম, হ্যা ঠিকই বলছি। কারন মা এই মুহুর্তে আমার বাবার বাড়িতে আছে।
কথাটা বলেই আমার ভাইকে ভিডিও কল দিলাম। আমার ভাই ভিডিও কলে মাকে দেখালো। মা বিছানায় শুয়ে ঘুমাচ্ছে। হাবিব অবাক হয়ে বললো, এসব কি বলছো ইতু? মা যদি ওখানে থাকে তাহলে ইনি কে?
আমি বললাম, ইনি হলেন তোমার মায়ের জমজ বোন টায়রা। যদিও উনি বেশির ভাগ সময় শায়লা সেজেই থাকেন।
হাবিব বললো, মায়ের জমজ বোন মানে? আমরা এত বছরে ও কেউ কিছু জানতে পারি নি। কি হচ্ছেটা কি বলবে প্লিজ৷
আমি বললাম, তাহলে শোনো তোমার মায়ের দুই জমজ বোন। শায়লা আর টায়রা। ছোট থেকেই দুইজনেই অভাব অনটনেই বড় হয়েছে৷ কিন্তুু ছোট থেকে তোমার মা শায়লা ছিলেন শান্তশিষ্ট, ভদ্র, নির্লোভী। আর টায়রা পুরা উল্টা। প্রচন্ড লোভী ছিল। মাত্র ১৪ বছর বয়সে এক গুন্ডা ছেলের সাথে পালিয়ে যায় তোমার খালা টায়রা। তাই তোমার নানা রাগে অভিমানে সবাইকে বলে তার একটাই মেয়ে। যেহেতু তারা গ্রাম থেকে শহরে আসে নতুন তাই কেউ কখনো জানতেই পারেনি তোমার মায়েরা জমজ দুই বোন। এরপর তোমার বাবার সাথে তোমার মায়ের বিয়ে হয়। দুইজন অনেক কষ্ট পরিশ্রম করে সফল হয়৷ তখন একদিন তোমার খালা ফিরে আসে তোমার মায়ের কাছে। জানায় তার জীবনের দুঃখ কষ্টের কথা। তোমার মাও বোনের কথায় ভুলে যায়। তোমার বাবাকে না জানিয়েই থাকতে দেয়। যেহেতু কাজের জন্য তোমার বাবা বেশিরভাগ বাইরে থাকতো তাই বুঝতেও পারেনি। এইদিকে তোমার বাবা মাকে সুখে দেখে সইতে পারেনি তোমার খালা। ধীরে ধীরে স্লো পয়জন খাইয়ে অসুস্থ করে দেয়। আর নিজে শায়লা সেজে সংসার শুরু করে তোমার বাবার সাথে। অবশ্য কিছুদিন পর তোমার বাবাও বিষয়টা বুঝতে বারে। কিন্তুু ততদিনে তোমার খালা প্রেগনেন্ট তাই আর কিছুই করার ছিল না তার। এরপর তোমার ভাই লাবিব হয়। কিছুদিন পর আবার তোমার মাও প্রেগনেন্ট হয়। তারপর তুমি হও। এই পুরো সময়টায় তোমার মা মানুষিক ভাবে অসুস্থ ছিল। কিন্তুুু অসুস্থ হলেও কিছুটা বুঝতে পারতেই তাই সবসময় বলে তাকে তার স্বামী আর বোন ঠকিয়েছে।
হাবিব চমকালেও লাবিব ভাই শান্ত। ভাবী ও সব জানে বুঝলাম। হাবিব এবার আমার কাছে এসে হাত ধরে বললো, এসব কি বলছো ইতু? আমি কিছু বুঝছি না।
আমি বললাম, সব সত্যি হাবিব।
হাবিব বললো, তুমি কিভাবে জানলে এসব?
আমি একটা ডাইরি বের করে বললাম, এই যে এটা তোমার মায়ের ডাইরি। আমি ঘর পরিষ্কার করতে গিয়ে পেয়েছিলাম। প্রথম প্রথম বুঝতে না পারলেও ধীরে ধীরে বুঝতে পারি সব সত্যি।
হাবিব আমার হাত থেকে ডাইরি টা নিয়ে দেখে। মায়ের বুকের সব কষ্টের কথা লেখা। লেখা গুলো পরে চোখে জল গড়িয়ে পরে।আরো জানতে পারে তার খালার ছেলে আর কেউ না সে লাবিব। হাবিব এতদিনে সব বুঝতে পারে। মাঝে মাঝে কেন তার মনে হতো মা তাকে বেশি ভালোবাসে আবার মাঝে মাঝে মনে হতো লাবিব কে বেশি ভালোবাসে। আর লাবিব ও সব সময় তাকে কেন হিংসে করতো।
হাবিব ডাইরি টা বন্ধ করে আমাকে কিছু বলতে যাবে তার আগেই লাবিব হাবিবের মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে বলে, সব যখন জেনেই গেছিস তাহলে এইবার তোর দিন ও শেষ। এই ইতু ওই কাঠের বাক্স দে। আমি জানি ওটা তোর কাছে।না দিলে তোর স্বামীকে এক্ষুনি শেষ করে দিবো।
চলবে……..
