Friday, June 5, 2026







বাড়ি"ধারাবাহিক গল্প"কিশোরী কন্যার প্রেমেকিশোরী কন্যার প্রেমে পর্ব-২৩+২৪

কিশোরী কন্যার প্রেমে পর্ব-২৩+২৪

#কিশোরী_কন্যার_প্রেমে
#সুমাইয়া_সিদ্দিকা_আদ্রিতা
#পর্ব_২৩
.
অর্ঘমা মাথানিচু করে বসে আছে। সে এসবের ব্যাপারে কিছুই জানে না। এখানে যা হচ্ছে সব তার মাথার তিন হাত ওপর দিয়ে যাচ্ছে। নীরদের বাবার এসব কথায় অর্ঘমার বিস্ময়ের পাহাড় যেন হিমালয় পর্বতের সমান হয়ে গেছে। তার রাগ হচ্ছে নীরদের ওপর। আজ যে ওরা এই ব্যাপারে কথা বলতে আসবে আগে থেকে জানাল না কেন? আগে থেকে জানালে একটু প্রস্তুতি নিয়ে থাকা যেত। এভাবে কিছু না বলে হুটহাট এসব কাজের মানে কী? এখন যে সে অপ্রস্তুত হয়ে বসে আছে! বাবা কিছু জিজ্ঞেস করলে কী বলবে সে?

অর্ঘমাকে মাথানিচু করে নিশ্চুপ ভঙ্গিতে বসে থাকতে দেখে অভ্রর বাবা আর কিছু জিজ্ঞেস করার প্রয়োজন মনে করলেন না। যা বুঝার বুঝে গেলেন তিনি। অভ্রর দিকে তাকাতেই অভ্র গলা ঝেড়ে নিয়ে বলল,
-“আমি ওদের ব্যাপারটা জানতাম। নীরদ ভালো ছেলে তাই আমার আপত্তি ছিল না। মানে আপত্তি করার কোনো কারণ ছিল না। তাছাড়া আসল ব্যাপার হলো ওরা দু’জন দু’জনকে পছন্দ করে। তাহলে আমি কেন আপত্তি করব?”
বাবা কিছুক্ষণ থম মেরে বসে থাকলেন। মনে মনে চিন্তাভাবনা করছেন হয়তো। পরিবেশটা হুট করেই নিশ্চুপ হয়ে গেল। এই ফাঁকে নিধি এসে সকলকে চা-নাস্তা দিয়ে হালকা কুশলাদি বিনিময় করে আবারও রুমে চলে গেল। অভ্রর বাবা গলা ঝেড়ে বললেন,
-“আমার তরফ থেকেও কোনো আপত্তি নেই।”
পরিবেশটা আবারও আগের মতো উৎফুল্ল হয়ে উঠল। অর্ঘমা প্রথমে বিস্ময় নিয়ে বাবার দিকে তাকালেও পরক্ষণেই নীরদের দিকে তাকাল। নীরদ আড়চোখে আশেপাশে দেখে নিয়ে চোখ টিপ মারতেই লজ্জায় অন্য দিকে তাকাল। দুই পরিবারের সকলে একে অপরকে মিষ্টি মুখ করাল। নীরদের বাবা এবার আরেকটা আবদার রাখলেন।
-“আমি চাইছিলাম আজই আংটি পরানোর কার্যক্রমটা সেরে ফেলতে। আমরা দেরি করতে চাইছি না। সামনে অর্ঘমার পরীক্ষা আছে শুনলাম। পরীক্ষার পর বিয়েটা সেরে ফেলতে চাইছি।”
-“এত তাড়াতাড়ি?”
-“জি। ওরা দু’জন যখন দু’জনকে পছন্দই করে তখন আর দেরি করার দরকার কী?”
-“একটা মাত্র মেয়ে তো তাই আমি চাইছিলাম সময় নিয়ে সবকিছু করতে।”
-“চিন্তা করবেন না। এর মধ্যেই সব হয়ে যাবে। আমরা আছি তো।”
-“ঠিক আছে। আপনারা যখন এত করে বলছেন, আর ছেলেমেয়েরও কোনো আপত্তি নেই তখন আর না করব না।”
পরক্ষণেই আবার বললেন,
-“হাতে তো তাহলে একদমই সময় নেই।”
-“চিন্তা করবেন না। হয়ে যাবে সবকিছু। আপাতত নাহয় আংটি বদলটা হয়ে যাক।”
-“হ্যাঁ, অবশ্যই। দাঁড়ান আমি আসছি।”
অভ্রর বাবা ভেতরে রুমে গেলেন। ফিরে এলেন কিছুক্ষণ পর হাতে একটা ছোট বক্স নিয়ে। সোফায় বসে বললেন,
-“মেয়ে এখন বড় হয়েছে। এমন একটা দিন আসবে ভেবেই এই আংটিটা কিছুদিন আগে বানিয়ে রেখেছিলাম। কিন্তু দিনটা যে এত তাড়াতাড়ি আসবে সেটা ভাবিনি।”
অর্ঘমাকে উদ্দেশ্য করে বললেন,
-“তুমি কী চেঞ্জ করবে মামণি?”
নুসরাত বাঁধ সেধে বলল,
-“দরকার নেই আঙ্কেল। এভাবেই ভালো লাগছে। স্কার্ট আর শার্টে ওকে খারাপ লাগছে না।”
-“আচ্ছা, তাহলে শুরু করা যাক।”

অর্ঘমাকে বসানো হলো তার বাবা আর ভাইয়ের মাঝে। মিনা বেগম এখানে অনুপস্থিত। তিনি ঘুরতে গিয়েছেন তার বান্ধবীদের সাথে। এমন একটা গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে মাকে ছাড়া শুভ কাজ সারতে একদমই ভালো লাগছিল না অর্ঘমার। কিন্তু কিছু করার নেই। মায়ের সাথে তার সম্পর্ক খুব জঘন্য ভাবে একেবারে শেষ হয়ে গেছে। মিনা বেগম এখন আর তাকে মেয়ে বলে পরিচয় দেয় না। কেউ জিজ্ঞেস করলে বলে তার একটা মাত্র ছেলে। এসব শুনে খুব কষ্ট হয় অর্ঘমার। মিনা বেগমের এই দুর্ব্যবহার যে শুধু নিধিকে এই বাসায় নিয়ে আসার জন্য না তা অর্ঘমা অনেক আগেই টের পেয়েছে। নিধি তো শুধু নামমাত্র। কিন্তু আসল ঘটনা অন্য জায়গায়। এই নিয়ে বছরখানেক আগে ভীষণ বড় রকমের একটা ঝগড়া লেগেছিল বাসায়। সেদিন অর্ঘমা প্রচন্ড ভেঙে পড়েছিল। সেদিনের কথা ভাবলে এখনো অর্ঘমার দু’চোখ ফেটে জল গড়িয়ে পড়তে চায়।
দুরুদুরু বুকে বাবা, ভাইয়ের মাঝে বসে চোখ তুলে তাকাল নীরদের দিকে। নীরদের মুখে খুব সুক্ষ্ম এক হাসির রেখা। সেটা কেউ বুঝতে না পারলেও অর্ঘমার চোখ এড়ালো না। হঠাৎ কিছু একটা মনে পড়ার ভঙ্গিতে ঘাড় উঁচু করে আশেপাশে তাকাল। নিধি নেই কোথাও। অভ্রর দিকে তাকিয়ে ফিসফিস করে বলল,
-“নিধি কোথায়? ওকে ডেকে নিয়ে এসো ভাইয়া। আম্মু তো নেই। এখন আমার এমন গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে যদি নিধিও না থাকে তাহলে..”
-“মন খারাপ করিস না। আমি তোর বান্ধবীকে নিয়ে আসছি।”
অর্ঘমা মাথা নাড়িয়ে সায় জানাতেই অভ্র সোফা ছেড়ে উঠে গেল।

নিধিকে পাওয়া গেল রুমের বারান্দায়। গ্রিলের সাথে হেলান দিয়ে বাইরে তাকিয়ে আছে। এই মেয়েটাকে সে হাতে গোণা কয়েকবার মাত্র হাসতে দেখেছে। কথাও বলে খুব কম আর আস্তে। মেয়েটার চাপা স্বভাব দিন দিন যেন আরও বাড়ছে। বাইরে বের হলে রাস্তায় কোনো পরিবার দেখলেই দাঁড়িয়ে পড়ে। বাবা-মা যখন তাদের বাচ্চাদের আদর করে তখন নিধির চোখ দু’টো টলমল করে ওঠে। মাঝে মাঝে লুকিয়ে কাঁদে মেয়েটা। সবই খেয়াল করেছে অভ্র। তার খারাপ লাগে নিধির জন্য। এমন কপাল কেন হলো মেয়েটার? দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে অভ্র। এগিয়ে যায় সামনে। গলা ঝাড়তেই পেছনে তাকাল নিধি।
-“বাইরে চলো। অর্ঘমা তোমায় ডাকছে।”
-“কেন?”
-“ওর এমন গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে ও তোমাকে পাশে চায়। অ্যাজ আ বেস্টফ্রেন্ড, এটা তোমার দায়িত্ব।”
-“গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত মানে? কী হচ্ছে ওখানে?”
-“অর্ঘমাকে আংটি পরাতে এসেছে। সামনে তোমাদের এক্সাম আছে। সেটা শেষ হলেই বিয়ের আয়োজন শুরু হবে।”
নিধির মুখটা বিস্ময়ে হা হয়ে গেল। অভ্রর হাসি পেল নিধির অবস্থা দেখে। হাসি চেপে বলল,
-“জলদি চলো। তোমার জন্য আংটি পরানো স্থগিত রয়েছে।”
-“সত্যি সত্যি আজ অর্ঘমার এনগেজমেন্ট?”
-“হ্যাঁ।”
-“কিন্তু এভাবে হঠাৎ?”
-“মূলত ওদের সম্পর্ক নিয়ে কথা বলতে এসেছিল। এখন নীরদের বাবা চাচ্ছেন আংটি পরিয়ে যেতে। বাবাও রাজি।”
-“যাক, ভালোই হলো। অর্ঘমা তো আজ হাতে ইদের চাঁদ পেয়েছে।”
হাসল অভ্র। নিধি মৃদু হেসে বলল,
-“চলুন।”
নিধি আগে আগে যেতেই অভ্র হাসিমুখে তার পেছন পেছন গেল।
___
নীরদরা চলে যেতেই অর্ঘমা রুমে এসে ধপ করে বিছানায় শুয়ে পড়ল। মনের ভেতর এক অন্যরকম উত্তেজনা কাজ করছে। একটু আগে তার বাগদান সম্পূর্ণ হয়েছে। কথাটা যেন তার বিশ্বাসই হচ্ছে না। প্রথমে নীরদের ওপর রাগ লাগলেও এখন তার ভীষণ ভালো লাগছে। আজকের এই সারপ্রাইজের জন্য নীরদকে একটা টাইট হাগ করতে মন চাচ্ছে। ফোন হাতে নিতেই স্ক্রিনে নীরদের ম্যাসেজ দেখতে পেল।
-“সারপ্রাইজ কেমন লাগল?”
অর্ঘমা মৃদু হেসে রিপ্লাই করল,
-“ভীষণ ভীষণ ভীষণ ভালো।”
তৎক্ষনাৎ নীরদের থেকে আবারও ম্যাসেজ এলো।
-“এত ভালো একটা সারপ্রাইজ দেওয়ার জন্য আমাকেও তো তোমার কিছু দেওয়া উচিত।”
কিছুক্ষণ চিন্তাভাবনা করে অর্ঘমা রিপ্লাই করল,
-“রাতে ছাদে আসবেন। দেখা করে ভাববো কী দেয়া যায় আপনাকে।”
-“ওকে। এখন তাহলে বিশ্রাম নাও। আমাকে একটু বের হতে হবে। কাজ আছে।”
-“আচ্ছা, ঠিক আছে।”
একটা লাভ ইমোজি পাঠিয়ে নীরদ অফলাইন হয়ে গেল। তা দেখে অর্ঘমাও ফোন রেখে চোখ বন্ধ করে নিল। ঠোঁটে মৃদু হাসি। আংটি বদলের মুহূর্তটা কল্পনা করতে করতে সেভাবেই ঘুমিয়ে গেল একসময়।
___
চুলায় চায়ের পানি বসিয়ে জানালা দিয়ে বাইরে তাকাল। সামনের নিম গাছের ডালে দুটো চড়ুইপাখি বসে আছে। একজন আরেকজনের মাথা চুলকিয়ে দিচ্ছে। হাসি ফুটে উঠল নিধির মুখে। পাখিরাও ভালোবাসা বোঝে। দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে এলো তার ভেতর থেকে। তার জীবনে কেউ নেই কেন? অর্ঘমা যেমন সহজেই নীরদকে পেয়ে গেল, ঠিক তেমন করেই সে-ও তো কাউকে পেতে পারত। কিন্তু তার জীবনে কখনো কেউ আসতেই চায়নি। তার জীবনে শূন্যতার অভাব নেই। সবচেয়ে বড় শূন্যতা হলো বাবা-মায়ের শূন্যতা। নিধি নিজ ভাবনায় এতটাই মগ্ন ছিল যে রান্নাঘরে অভ্রর উপস্থিতি একদমই টের পায়নি।
-“তুমি কী চা বানাচ্ছ?”
হঠাৎ প্রশ্নে ভীষণভাবে চমকে উঠল নিধি। বুকে হাত দিয়ে নিজেকে স্বাভাবিক করার চেষ্টা করল। অভ্র বুঝতে পারল না এর কারণ। সে তো এমন কিছু বলেনি যে চমকে উঠতে হবে। নিধি পেছন ঘুরে অভ্রকে দেখে বলল,
-“কিছু বলেছেন?”
-“তুমি কী কিছু ভাবছিলে? চমকে উঠলে যে হঠাৎ?”
-“না, তেমন কিছু না। আপনি কী বলছিলেন?”
-“চা বানাচ্ছ কিনা জিজ্ঞেস করছিলাম।”
-“হ্যাঁ। আপনার জন্যও বানাব?”
-“বানালে ভালো হয়। আসলে অফিসে প্রতিদিন এই সময়ে চা খাওয়া হয়। অভ্যাস হয়ে গেছে।”
-“আচ্ছা, দিচ্ছি। আপনি বসুন গিয়ে।”
অভ্র চলে যেতেই চায়ের পাতিলের দিকে তাকাল। পানি শুকিয়ে অল্প হয়ে গেছে। তাড়াতাড়ি আবারও পাতিলে পানি দিয়ে পানি বলক আসার অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে রইল।

চায়ের কাপ নিয়ে অভ্রর সামনের টেবিলের উপর রেখে বলল,
-“আপনার চা।”
-“তোমারটা কই?”
-“রান্নাঘরে রাখা আছে।”
-“চা নিয়ে এসে এখানে বসো। সঙ্গ দাও আমাকে।”
অবাক হয়ে গেল নিধি। অভ্র এই ধরনের কথা আগে কখনো বলেনি। নিধিকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে অভ্র বলল,
-“কী হলো? যাও গিয়ে তোমার চা নিয়ে এসো।”
কোনো প্রতিত্তোর না করে মূর্তির মতন রান্নাঘরের দিকে এগিয়ে গেল নিধি। সে সবসময় অভ্রকে কিছুটা এড়িয়ে চলেছে। আশেপাশের লোকজনের কানাঘুষা আর অভ্রর মায়ের ভয়ে সবসময় তটস্থ থেকেছে। কখনো চায়নি তার জন্য অভ্রর সম্মানহানি হোক। এছাড়াও অভ্রকে দেখলে তার কেন যেন একটু ভয় ভয় করে। মনে হয় এক্ষুনি বুঝি তাকে বকবে। যদিও তার এসব ভাবনা অযৌক্তিক। কারণ অভ্র খুব শান্ত আর বড্ড প্রাণোচ্ছল ছেলে। সবসময় হাসিখুশি থাকাই এই ছেলের স্বভাব। অর্ঘমা আর অভ্র যখন দুষ্টুমি করে তখন মাঝে মাঝে নিধির বড্ড আফসোস হয় তার একটা ভাই নেই বলে।

চায়ের কাপ নিয়ে অভ্রর সামনের সোফায় বসল নিধি। অভ্রর একহাতে চায়ের কাপ, অন্য হাতে রিমোট নিয়ে এক এক করে টিভির চ্যানেল বদলাচ্ছে। গরম চায়ে ফুঁ দিতে দিতে সেদিকে তাকাল নিধি। অভ্র চায়ে চুমুক দিয়ে জিজ্ঞেস করল,
-“পড়াশোনা কেমন চলছে?”
-“ভালো।”
-“কোনো সমস্যা হচ্ছে?”
-“না। সমস্যা হলে ক্লাসে টিচারকে জিজ্ঞেস করে নিই।”
-“হুম। ভবিষ্যতে কী হওয়ার ইচ্ছা আছে?”
-“এখনো ঠিক করিনি। এই ব্যাপারে আমি বরাবরই কনফিউজড।”
-“ব্যাপার না। সময় আছে অনেক। পড়াশোনার পাশাপাশি ভাববে এই ব্যাপারে।”
সম্মতি জানিয়ে চায়ে চুমুক দিতে দিতে টিভির দিকে তাকাতেই বিষম খেল নিধি। টিভির চ্যানেল পাল্টানোর সময় বলিউড মুভির নায়ক-নায়িকার আপত্তিকর দৃশ্য দেখে তার গলায় চা আটকে গিয়েছে। অভ্র নিজেও থতমত খেয়ে গেছে। দ্রুত হাতে চ্যানেল পাল্টাতে গিয়ে টিভিই বন্ধ করে দিল। নিধি খুকখুক করে কেশে নিজেকে স্বাভাবিক করে নিল। ভীষণ লজ্জা পেয়েছে সে। অভ্র নিজেও লজ্জা পেয়েছে। এরপরে কেউ আর কোনো কথা বলল না। অস্বস্তি কাজ করছে দু’জনের ভেতরে। চা খেয়ে কাপ টেবিলের উপর নামিয়ে রেখে অভ্র চুপচাপ চলে গেল সেখান থেকে। নিধি তৎক্ষনাৎ নিজের গালে হাত দিল। গাল গরম হয়ে গেছে তার। তখনকার দৃশ্যটা মনে পড়তেই এবার নিঃশব্দে হেসে উঠল। নিজের চা শেষ করে কাপ দুটো নিয়ে রান্নাঘরে চলে গেল।

চলবে…

#কিশোরী_কন্যার_প্রেমে
#সুমাইয়া_সিদ্দিকা_আদ্রিতা
#পর্ব_২৪
.
ছাদের রেলিং ঘেঁষে পাশাপাশি দাঁড়িয়ে আছে নীরদ ও অর্ঘমা। প্রায় আধঘন্টা যাবৎ তারা এখানে আছে। মাঝে মাঝে টুকটাক কথাবার্তা বলছে, আবার চুপ হয়ে যাচ্ছে। নীরদ সেই তখন থেকে শুধু অর্ঘমাকেই দেখে যাচ্ছে। অধরে স্মিত হাসির রেখা। মনে পড়ছে তাদের প্রথম সাক্ষাৎ। পরপর তাদের একটু একটু করে কাছা আসা আর নিজেদের মন বোঝা। এই কিশোরী মেয়েটা তার চোখের সামনেই একটু একটু করে বড় হয়েছে। পাশাপাশি গাঢ় হয়েছে তার প্রতি অনুভূতি।
অর্ঘমা নিজের হাতের আংটির দিকে তাকিয়ে সেটা নাড়াচাড়া করছে। কিছুক্ষণ পর পর চুল ঠিক করে কানের পিঠে গুঁজছে। দু’জনই নীরব রয়েছে। নীরবতা ভাঙল নীরদ। বলল,
-“তো কী দিবে বলে ভাবছ?”
অবুঝ ভঙ্গিতে তাকাল অর্ঘমা। নীরদ দুষ্টু হেসে বলল,
-“আজকে এত বড় একটা সারপ্রাইজ দিলাম। এর পরিবর্তে তোমারও আমাকে কিছু দেওয়ার কথা ছিল। তুমি বলেছিলে রাতে ছাদে আসতে। তারপর ভেবে দেখবে কী দেওয়া যায়।”
-“দিতেই হবে?”
-“স্বীকার করেছ যখন তখন তো দিতেই হবে।”
ভীষণ লজ্জা লাগল অর্ঘমার। প্রসঙ্গ পাল্টানোর ভঙ্গিতে বলল,
-“আজকের আকাশটা ভীষণ সুন্দর।”
নীরদ তাকাল আকাশের দিকে। তারা ভরতি আকাশের মাঝে অর্ধচন্দ্র জ্বলজ্বল করছে। আসলেই সুন্দর দৃশ্য। পরপরই উষ্ণ স্পর্শে কেঁপে উঠল তার সর্বাঙ্গ। সামনে তাকিয়ে দেখল অর্ঘমা তাকে জড়িয়ে ধরেছে। ভীষণ শক্ত করে। এতগুলো বছরে কখনো এতটা কাছাকাছি আসা হয়নি তাদের। নীরদ সবসময় হাত ধরা পর্যন্তই সীমাবদ্ধ থেকেছে। পাছে যদি আবার অর্ঘমাকে কেউ খারাপ ভাবল? এই ভয়ে সবসময় দূরত্ব বজায় রেখে চলেছে। কিন্তু এখন তারা একে অপরের বাগদত্তা। এসব ব্যাপারে ভয় পাওয়া আর সাজে না। তাই নিজেও অর্ঘমার পিঠে হাত রেখে মৃদু হেসে ফিসফিস করে বলল,
-“এটা কী আমার গিফট ছিল?”
অর্ঘমা কিছু না বলে লজ্জায় মুখ গুঁজল নীরদের বুকে।
-“এমন গিফট যদি রোজ রোজ পাওয়া যায় তাহলে তো আমি রোজ সারপ্রাইজ দিতে রাজি।”
খিলখিলিয়ে হেসে উঠল অর্ঘমা।

খুকখুক কাশির শব্দে চমকে উঠল দু’জন। দ্রুত একে অপরের থেকে সরে দাঁড়াল। তাকাল ছাদের দরজার দিকে। কাশির শব্দ সেখান থেকেই এসেছে। পরপরই ছাদে প্রবেশ করল অভ্র। তার পেছন পেছন এলো নীরদ আর অভ্রর বন্ধুরা। অর্ঘমা আর নীরদ দু’জনই হকচকিয়ে তাকাল একে অপরের দিকে। আসিফ এসে নীরদের গলা পেঁচিয়ে ধরে বলল,
-“শালা, আমাদের রেখেই আংটি বদল করে ফেললি? কেন রে? আমাদের বললে কী আমরা খাবার বেশি খেতাম?”
-“আরে দোস্ত ছাড়। ব্যথা পাচ্ছি আসিফ।”
-“তোর ব্যথাই পাওয়া উচিত। শালা স্বার্থপর!”
-“সরি দোস্ত। দেখ, তুই বলতি না অর্ঘমাকে জলদি জলদি তোর ভাবী বানিয়ে ফেলতে? এখন তুই চাইলেই ওকে ভাবী বলতে পারবি। অর্ঘমাকে অলরেডি তোর হাফ ভাবী বানিয়ে ফেলেছি।”
-“চুপ থাক শালা!”
আসিফ রেগে নাক-মুখ ফুলিয়ে রেখেছে। নীরদের থেকে চোখ সরিয়ে অর্ঘমাকে উদ্দেশ্য করে বলল,
-“তোমার কাছ থেকে আমি এটা আশা করিনি। অন্তত তুমি তো আমাকে জানাতে পারতে?”
-“আমি কী জানাব? আমি নিজেই তো জানতাম না। উনার বাবা-মা বাসায় এসে বলার পর জানলাম আমি। আমারও তখন প্রচন্ড রাগ হয়েছিল।”
-“তোমার আংটি বদলের মুহূর্তটা তুমি এনজয় করতে পারলে না। এর শাস্তি দেওয়া উচিত না ওকে?”
-“আপনারা চাইলে দিতেই পারেন।”
-“অর্ঘ!”
নীরদের অসহায় ডাককে উপেক্ষা করে অর্ঘমা বলল,
-“আমার তরফের শাস্তিটাও আপনারাই দিয়ে দিন।”
আসিফ যেন এই কথার অপেক্ষাতেই ছিল। লাফ দিয়ে বলল,
-“শাস্তি হচ্ছে তোমাদের দু’জনের আবার আংটি বদল হবে।”
কথাটা শোনামাত্রই নীরদ আসিফকে জড়িয়ে ধরে বলল,
-“আই লাভ ইউ দোস্ত। আমি এই শাস্তি মাথা পেতে নিতে রাজি।”
-“ছিঃ! সর, সর। আমি অর্ঘমা না।”
নীরদকে ধাক্কিয়ে নিজের থেকে সরিয়ে দিল আসিফ। সকলে একসাথে হাসি মজা করে আবারও নীরদ আর অর্ঘমার আংটি বদল করালো। নীরদ আর অভ্রর বন্ধুরা সকলে আবদার করে বসল তারা আজ রাতে নীরদদের বাসার ছাদে পার্টি করবে। খাবার-দাবার সব বাহির থেকে কিনে এনে খাবে আর সারারাত ছাদে বসে আড্ডা দিবে। এসব শুনে অর্ঘমা ওদেরকে স্পেস দিয়ে বাসায় চলে গেল।
___
অর্ঘমারা নিজেদের বাসায় এসেছে সপ্তাহখানেক হয়েছে। বাসা গোছগাছ করা শেষ হয়েছে গতকাল। ওই বাসা ছেড়ে আসার পর থেকে নীরদের সাথে অর্ঘমার আর দেখা হয়নি। ফোন কল অথবা ম্যাসেজেই কথা হয়েছে শুধু। অর্ঘমা ভেবেছিল আজ দেখা করবে নীরদের সাথে। কিন্তু নীরদ এখন ব্যস্ত। তিনদিন পর থেকে অর্ঘমাদের এক্সাম শুরু হচ্ছে। এর মধ্যে আর দেখা করাও সম্ভব হবে না। তাই অর্ঘমার কিছুটা মন খারাপ। মন খারাপ নিয়েই টেবিলে বসে গেল পড়তে।

অর্ঘমা আর নীরদের বিয়ের তারিখ ধার্য করা হয়েছে চলতি মাসের ২৮ তারিখ। অর্ঘমার পরীক্ষা শেষ হবে ২১ তারিখ। বিয়ের তারিখ অর্ঘমাই এগিয়ে এনেছে নীরদকে বলে। এই বাসায় থাকার মতো রুচি আর তার মাঝে নেই। মিনা বেগমের ব্যবহার দিন দিন জঘন্যর চেয়েও জঘন্য হয়ে যাচ্ছে তার প্রতি। ছোটবেলা থেকেই অর্ঘমা খেয়াল করেছে মা তাকে তেমন একটা আদর করে না। সবসময় অভ্রকে মাথায় তুলে রাখে। এর কারণটা তখন না জানলেও এখন জানে অর্ঘমা। সত্যিটা যদিও তার মানতে কষ্ট হয় তবুও সত্যি তো সত্যিই। বছরখানেক আগে একদিন বাবা-মায়ের রুম থেকে কথা কাটাকাটির শব্দ পেয়ে এগিয়ে গিয়েছিল সেখানে। সে ছিল দরজার আড়ালে। যখন বুঝতে পেরেছিল তাকে নিয়ে কথা কাটাকাটি হচ্ছে তখন কপালে ভাজ পড়েছিল। পরক্ষণেই সেই ভাজ মিলিয়ে গেল মিনা বেগমের কথা শুনে। অর্ঘমার প্রতি তার এত অবহেলার কারণ অর্ঘমা এই বাসার মেয়ে নয়।

অভ্রর বাবার একমাত্র চাচাতো ভাইয়ের মেয়ে অর্ঘমা। তারা গ্রামে থাকত। মেয়ে হয়ে জন্মেছিল বলে অর্ঘমার বাবা তার চেহারা পর্যন্ত দর্শন করেননি। স্ত্রীকে বিশ্রী ভাষায় গালিগালাজ করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে গিয়েছিলেন। বাড়ি ফিরেছিলেন নতুন বউ নিয়ে। স্বামীর এমন বেইমানী সহ্য করতে না পেরে অর্ঘমার মা গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেন। অর্ঘমার বাবার দ্বিতীয় স্ত্রী জানায় সে সতীনের মেয়েকে ঘরে রাখবে না। অর্ঘমার বাবাও মত দেন সেই কথায়। ঠিক করা হয় শহরের অনাথ আশ্রমে রেখে আসবেন অর্ঘমাকে। কোনো একভাবে এই কথা জানতে পারেন অভ্রর বাবা। তৎক্ষনাৎ তিনি গ্রামের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেন। চাচাতো ভাইয়ের বাড়ি গিয়ে এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন। আলোচনার এক পর্যায়ে কথা কাটাকাটি হয় অনেক। পুরো গ্রামবাসী জড়ো হয়ে যায় সেখানে। অর্ঘমার সৎ মা জানায়, যদি অর্ঘমা এখানে থাকে তাহলে তিনি নিজেই একদিন মেরে ফেলবেন এই মেয়েকে। তার সংসারে সতীনের সামান্যতম কোনো চিহ্নও তিনি রাখবেন না। পরে আর কোনো উপায় না পেয়ে অভ্রর বাবা অর্ঘমাকে সাথে নিয়ে আসেন। বাসায় আসার পর অভ্রর মা সব শুনে চেঁচামেচি করেন। কিন্তু অভ্রর বাবার শক্ত জবাবের কাছে হার মানতে বাধ্য হন। তার আবার বরাবরই নিজের সংসার নিয়ে একটা ভয় ছিল। গরীব ঘরের মেয়ে তিনি। নুন আনতে পান্তা ফুরানোর মতো অবস্থা ছিল তার বাড়িতে। না খেয়ে থাকতে হত প্রায় প্রায়ই। চাওয়া-পাওয়া পূরণ করা তো সেখানে বিলাসিতা ছিল মাত্র। অভ্রর বাবার সাথে বিয়ে হওয়ার পর থেকে স্বচ্ছল জীবনযাপন করা শুরু করেছেন তিনি। কথা কাটাকাটি বা ঝগড়াঝাঁটির কারণে যদি সম্পর্ক ডিভোর্স পর্যন্ত গড়িয়ে যায় তখন! এই ভয়ে সবসময় নিজেকে এসব ব্যাপার থেকে গুটিয়ে রেখেছেন। তাই এক প্রকার বাধ্য হয়েই অর্ঘমাকে মেনে নেন। কিন্তু মন থেকে কখনো মানতে পারেননি। অভ্রও জানে না যে অর্ঘমা তার আপন বোন নয়। মূলত এটাই কারণ অর্ঘমাকে অপছন্দ করার। নিধি তো শুধুমাত্র একটা ছুতো ছিল। আসলে তিনিই বহু বছর ধরে চাইছিলেন অর্ঘমা যেন তার থেকে দূরে থাকে। তাই সুযোগ পেয়ে নিধিকে ছুতো বানিয়ে অর্ঘমার সাথে ঝামেলা করেছিলেন সেদিন।
___
নিধি পরীক্ষা দিয়ে হাসিমুখে হল থেকে বের হলো। অর্ঘমা তার জন্য অপেক্ষা করছিল। তার পরীক্ষাও যথেষ্ট ভালো হয়েছে। পরীক্ষার ব্যাপারে কথা বলতে বলতে বের হলো দু’জনে। গেইটের সামনে দাঁড়িয়ে অর্ঘমা বলল,
-“তুই বাসায় চলে যা। আমি পরে আসব।”
-“কেন? কোথায় যাবি?”
-“নীরদ ভাইয়ের সাথে দেখা করতে যাব। অনেক দিন হয়েছে দেখা হয় না। নেক্সট এক্সামের আগে চারদিন বন্ধ আছে। তাই এখন দেখা করতে চাচ্ছিলাম।”
-“বান্ধবীর দেখি তর সইছে না।”
-“চুপ থাক অসভ্য!”
-“হুম হুম বুঝতে পেরেছি। কোথায় দেখা করবি?”
-“ক্যাফেতে।”
-“একা একা এতদূর যাবি?”
-“মাঝরাস্তা থেকে নীরদ ভাইয়ের সাথেই যাব। উনি অফিস থেকে বেরিয়েছেন।”
-“আচ্ছা তাহলে যা। সাবধানে যাবি কিন্তু! আর নীরদ ভাইয়ের সাথে দেখা হওয়া মাত্রই আমাকে কল করে জানিয়ে দিবি।”
-“ঠিক আছে।”
অর্ঘমা রিকশা নিয়ে চলে যেতেই নিধিও বাসার উদ্দেশ্যে হাঁটতে লাগল।

কিছুদূর যাওয়ার পর হঠাৎ নিধি দাঁড়িয়ে গেল। তার চোখ পড়েছে অভ্রর উপর। যে এখন রাস্তার পাশে এক মেয়ের সাথে কথা বলছে। মেয়েটাকে নিধি চেনে। কলেজে থাকাকালীন এই মেয়েটা এসে অর্ঘমাকে হুমকি দিয়েছিল। এমনকি নিজের বন্ধুবান্ধবদের দিয়েও অনেক জ্বালিয়েছে তাদের। পরে অভ্র আর নীরদ গিয়ে পাল্টা হুমকি দিয়ে এসেছিল বলে এদের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছিল। এই মেয়ের সাথে অভ্র কী কথা বলছে? কথা বলার মাঝেই অভ্রর চোখ পড়ল তার দিকে। হকচকিয়ে উঠল নিধি। দ্রুত সেখান থেকে চলে যাওয়ার জন্য পা বাড়াতেই অভ্র লম্বা লম্বা পা ফেলে এগিয়ে এলো। তার চোখ-মুখ শক্ত হয়ে আছে। দেখে মনে হচ্ছে রেগে আছে। নিধির হাত ধরে টেনে নিয়ে রিয়ার সামনে গেল। নিধি এতটাই চমকে গেছে যে অভ্রকে কিছু বলতে ভুলেই গেছে। রিয়ার কথায় ধ্যান ভাঙল নিধির। রিয়া চোখ রাঙিয়ে প্রশ্ন করল,
-“এসব কী অভ্র? কে এই মেয়ে? তুমি ওর হাত ধরে টেনে নিয়ে এলে কেন?”
-“আল্লাহর ওয়াস্তে আমার পেছন ছাড়তে বলেছিলাম তোমাকে। তুমি তো শুনলে না। তাই তুমি যাতে আমার পেছন ছাড়ো তার ব্যবস্থা করতে এনেছি ওকে। ও হলো নিধি। অর্ঘমার বেস্টফ্রেন্ড আর আমার হবু বউ।”
নিধি কিছু একটা বলতে চাচ্ছিল এর আগেই অভ্রর কথা শুনে তার চোখ কপালে উঠে গেল। কথা বলার মতো ভাষাই সে হারিয়ে ফেলেছে এক মুহূর্তের জন্য। ততক্ষণে রিয়া চেঁচিয়ে উঠেছে। চেঁচামেচি শুনে নিজেকে স্বাভাবিক করে নিল নিধি। এখুনি তার ছোট্টখাটো একটা হার্ট অ্যাটাক হয়ে যেত বোধহয়। রিয়া আর অভ্র দু’জন কথা কাটাকাটি করছে। নিধি ফ্যালফ্যাল করে তাদের দিকে তাকিয়ে আছে। তাদের কথা শুনে বুঝতে পারল যে এই মেয়েটাই রিয়া অর্থাৎ অভ্রর প্রাক্তন। মেয়েটা যে সুবিধার নয় তা নিধি শুধু শুনেছিল অর্ঘমার কাছ থেকে। আর আজ দেখেও নিল। হ্যাঁ, রিয়া অভ্রকে সত্যি ভালোবাসে এটা সত্যি। কিন্তু তার ভালোবাসার ধরনটা টক্সিক। নিধি দীর্ঘশ্বাস ছাড়ল। অভ্র এখনো তার হাত ধরে আছে শক্ত করে। তার অবস্থাটা হচ্ছে এমন, ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি। অভ্র আর রিয়ার চেঁচামেচি একপর্যায়ে সহ্য করতে না পেরে বিরক্ত হয়ে নিধি নিজেই চেঁচিয়ে উঠল। তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে রিয়ার দিকে তাকিয়ে বলল,
-“কানের নিচে দুইটা পড়লে তাহলে কথা মাথায় ঢুকবে। এক প্যাঁচাল কতক্ষণ ধরে শুনছি। সোজা কথা কী সোজাভাবে মাথায় ঢুকে না? কাকের মতন কা কা করে সারা রাস্তা মাথায় তুলে ফেলছ একেবারে। নিজেকে কী বিশ্ব সুন্দরী মনে করো যে অভ্র তোমাকে ছাড়া অন্য কোনো মেয়েকে ভালোবাসতে পারবে না বলছ বারবার? চেহারাটা আয়নায় গিয়ে একবার দেখে নিয়ো। হুহ্! যেই না চেহারা, নাম রাখছে পেয়ারা। যত্তসব ফাউল! আর কখনো যেন অভ্রর ধারের কাছেও না দেখি তোমাকে। নাহলে একেবারে চোখ দু’টো তুলে ফেলবো। আমার ধৈর্যের একটা সীমা আছে। সেই সীমাটা লঙ্ঘন করো না।”
কথা শেষ করে নিধি উল্টো অভ্রর হাত ধরে টানতে টানতে হাঁটা ধরল। অভ্র, রিয়া দু’জনই বেকুবের মতো দাঁড়িয়ে ছিল এতক্ষণ। রিয়া হা করে তাদের যাওয়ার পানে তাকিয়ে আছে। আর অভ্র বিস্মিত দৃষ্টিতে হা করে তাকিয়ে আছে নিধির দিকে। তার মস্তিষ্ক এখনো ব্যাপারটা স্বাভাবিক ভাবে নিতে পারেনি। পুরো ব্যাপারটা তার মস্তিষ্কে প্যাঁচ লেগে গেছে। সেটাই এখন ছাড়ানোর চেষ্টায় আছে সে।

চলবে…

গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ