Friday, June 5, 2026







বাড়ি"ধারাবাহিক গল্প"কিশোরী কন্যার প্রেমেকিশোরী কন্যার প্রেমে পর্ব-২৭+২৮

কিশোরী কন্যার প্রেমে পর্ব-২৭+২৮

#কিশোরী_কন্যার_প্রেমে
#সুমাইয়া_সিদ্দিকা_আদ্রিতা
#পর্ব_২৭
.
সেই মর্মান্তিক ঘটনার পর পার হয়েছে প্রায় একমাস। অর্ঘমাকে বাসায় নিয়ে আসা হয়েছে গতকাল। শারীরিক বা মানসিক কোনো দিক দিয়েই সে সুস্থ নয়। এই এতগুলো দিনে অর্ঘমার মুখ থেকে একটা টু শব্দও কেউ বের করতে পারেনি। নীরদ প্রতিদিন হসপিটালে গিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা অর্ঘমার হাত ধরে তার পাশে বসে থেকেছে। বিভিন্ন মন ভুলানো কথা বলেছে। কিন্তু অর্ঘমা কী এত সহজে ভুলে এসব কথায়? অর্ঘমার মুখ থেকে কথা বের করার জন্য অভ্র আর নিধিও কম চেষ্টা করেনি। কিন্তু তারাও ব্যর্থ হয়েছে। পুলিশ অফিসার দু’বার এসেছিলেন অর্ঘমার সাথে কথা বলতে। কিন্তু অর্ঘমার অবস্থা দেখে নীরদই তাকে আসতে বারণ করেছে। বলেছে অর্ঘমা যদি কিছু বলে তাহলে সে জানাবে। এর মধ্যে নীরদের বাসার সবাই বেশ কয়েকবার এসে দেখে গিয়েছে অর্ঘমাকে।

বর্তমানে অর্ঘমা ঘুমিয়ে আছে। তাকে জোর করে খাবার খাইয়ে ওষুধ খাইয়েছে নীরদ। ঘুমের ওষুধ খাওয়ার ফলে অর্ঘমা এখন গভীর ঘুমে তলিয়ে আছে। নীরদ বসে আছে তার পাশে। পরম যত্নে হাত বুলিয়ে দিচ্ছে তার মাথায়। অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে তার মায়াময় মুখের দিকে। যে মায়াময় মুখটা ঢাকা পড়েছে অসংখ্য কামড় আর খামচির দাগের নিচে। কিন্তু তবুও নীরদের কাছে সেটা মায়াময় মুখ। তার ভালোবাসা এত ঠুনকো নয় যে এতটুকুতেই হারিয়ে যাবে। চেহারার কী? কয়েকদিন বাদে আবার ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু মেয়েটার মনের ভেতরে যে ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে তার কী হবে? সেটা কীভাবে ঠিক হবে? অর্ঘমার এই নিস্তব্ধতা নীরদকে ঠিক কতটা পোড়াচ্ছে তার বিন্দুমাত্র ধারণাও নেই অর্ঘমার। ধারণা থাকলে হয়তো সে চুপ থাকতে পারত না।

অভ্র রুমে ঢুকে এমন একটা দৃশ্য দেখে মুচকি হাসল। কিন্তু পরক্ষণেই তার হাসিটা মিলিয়ে গেল। অন্য চিন্তায় তার মনের ভেতরটা ছটফট করছে। নিঃশব্দে নীরদের পেছনে গিয়ে দাঁড়িয়ে তার কাঁধে হাত রাখল। পেছন ঘুরে তাকাল নীরদ। অভ্র তাকে ইশারা করে বারান্দায় গিয়ে দাঁড়াল। অর্ঘমার গায়ের কম্বলটা ঠিকঠাক করে দিয়ে নীরদও গিয়ে দাঁড়াল অভ্রর পাশে।

অন্ধকার আকাশ মেঘে ঢেকে আছে। তারার দেখা নেই বেশ কয়েকদিন যাবৎ। সেদিকে তাকিয়েই অভ্র বলল,
-“তারপর কী ভেবেছিস?”
-“কোন ব্যাপারে বলছ?”
-“তুই চাইলে এই বিয়েটা ভেঙে দিতে পারিস। কেউ কিচ্ছু বলবে না তোকে। পরিস্থিতিটা সবাই জানে।”
মৃদু হাসল নীরদ। দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলল,
-“তোমার কেন মনে হলো আমি বিয়েটা ভাঙতে চাই?”
-“এমন একটা ঘটনার পরও তুইও বিয়ে করতে চাস অর্ঘমাকে?”
-“না করার কী আছে? দোষ তো ওর না। দোষ আমার। আমার জন্যই আজ ওর এই অবস্থা।”
-“করুণা করতে চাইছিস ওকে?”
-“সেই সাধ্য আমার নেই ভাইয়া। অর্ঘমাকে আমি বড্ড বেশি ভালোবাসি। ওকে ছাড়া থাকতে পারব না। আর ভালোবাসায় করুণা করা সাজে না।”
-“তোর পরিবার এখনো মেনে নিবে অর্ঘমাকে?”
-“নিবে। আমি যদি খুশি থাকি তাহলে তারা না করার কে?”
-“অথচ তোর মা এসে বিয়ে ভেঙে দিয়ে গেছে আজ।”
বিস্ফোরিত দৃষ্টিতে তাকাল নীরদ। অভ্র সেই দৃষ্টি দেখে মলিন হাসল। সে-ও দীর্ঘশ্বাস ছাড়ল।
-“আন্টি বিয়ে ভেঙে দিয়েছেন। আর বলে গেছেন তোকে যেন বুঝাই এসব পাগলামি ছাড়তে। আশেপাশের সবাই এখন জানে অর্ঘমা ধর্ষিতা। এমন একজনকে তোর বউ করলে তিনি সমাজে মুখ দেখাতে পারবেন না। এখনই সবাই তাকে খোঁচা মেরে কথা বলে। তাই এই বিয়ে সম্ভব না।”
-“বিয়ে আমি অর্ঘমাকেই করব। যে যা-ই বলুক আমি আমার সিদ্ধান্ত থেকে নড়ছি না। আমি ওকে ওর শারীরিক সৌন্দর্য দেখে তো ভালোবাসি নি। তাহলে ও ধর্ষিতা কিনা সেটা কেন দেখতে যাব?”
-“তুই বুঝতে পারছিস না নীরদ।”
-“আমি সবই বুঝতে পারছি ভাইয়া। এই ব্যাপারে আর কোনো কথা হবে না। তুমি ভালো মতোই জানো আমি ওর জন্য ঠিক কতটা পাগল। তবুও তুমি কীভাবে আমাকে চলে যেতে বলছ ওর জীবন থেকে?”
-“পরিস্থিতি বিবেচনা করেই বলেছি।”
-“পরিস্থিতি আগে না তোমার বোন আগে? তোমার কী মনে হয় আমি চলে গেলে অর্ঘমা ভালো থাকবে? একদমই না। বরং এর থেকেও বেশি ভেঙে পড়বে। তাই বলছি এই ব্যাপারে আর কোনো কথা হবে না। অর্ঘমা একটু ঠিক হলেই আমি বিয়েটা সেরে ফেলব। কোনো অনুষ্ঠানের দরকার নেই। সংসার আমি করব, বাইরের মানুষজনরা করবে না যে তাদের কথা আমার শুনতে হবে।”
নিজের কথা শেষ করে হনহনিয়ে রুমে ঢুকে গেল নীরদ। গিয়ে বসল অর্ঘমার পাশে। ঘুমের মাঝে অর্ঘমার চোখের কোণ বেয়ে অশ্রু কণা গড়িয়ে পড়ছে। তা দেখে আলতো হাতে সেই অশ্রু মুছে দিল নীরদ। আজকাল বেশিরভাগ সময়ই সে এখানে থাকে। তার চাকরিটাও সে স্বেচ্ছায় ছেড়ে দিয়েছে। এভাবে রোজ রোজ ছুটি কাটালে তার চাকরি এমনিতেও টিকত না। অর্ঘমা আগে সুস্থ হোক তারপর নাহয় আবার চাকরি খোঁজা যাবে।
___
সময়টা তখন বিকেল। অর্ঘমা হাত-পা গুটিয়ে বিছানায় বসে তাকিয়ে আছে জানালার দিকে। ওখান দিয়ে দেখা যাচ্ছে বাইরের মনোরম পরিবেশ। ছাদে যেতে ইচ্ছে করছে তার। বিগত প্রায় মাসখানেক যাবৎ সে ঘরে বসে আছে। নিজের রুম থেকেও বের হয়নি। মুখের সকল দাগ মিলিয়ে গেলেও হালকা দাগ রয়ে গেছে। শরীরের দাগগুলো এখনো আছে। আজ নীরদ আসেনি বাসায়। অর্ঘমারও সকাল থেকে কিছু খাওয়া হয়নি। নিধি ভার্সিটি থেকে আসেনি। অভ্রও অফিসে। তার বাবা ব্যবসার কাজে বাইরে আছেন। মিনা বেগম পাশের রুমে আছেন হয়তো। অর্ঘমার এত বড় একটা দূর্ঘটনার কথা শোনার পরও একটি বারের জন্য তাকে দেখতে আসেননি মিনা বেগম। মানুষ এতটাও নির্দয় হয়?

বিছানা ছেড়ে উঠে আয়নার সামনে গিয়ে দাঁড়াল অর্ঘমা। নিজেকে দেখল খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে। এতগুলো বছর যেই শরীরে অন্য কোনো পুরুষের স্পর্শ লাগতে দেয়নি, সেই শরীরটাকেই খুবলে খুবলে খেয়েছে ওই নর্দমার কীটগুলো। নোংরা করে দিয়েছে তার শরীরটাকে। কলঙ্কিত করেছে তাকে। এই মুখ নিয়ে বাইরে যাওয়ার সাহস তার নেই। পাছে পাড়া-প্রতিবেশিরা যদি কটুক্তি করে কিছু বলে ফেলল তখন? সইতে পারবে না অর্ঘমা। অতো শক্ত মনমানসিকতা তার কোনো কালেই ছিল না। এই ঘটনার পর তো একদমই ভেঙে পড়েছে। নিজের চেহারা দেখতে নিজেরই ঘেন্না লাগছে। তার চোখ ফেটে টপটপ করে জল গড়িয়ে পড়তে লাগল।

চোখের পানি মুছে জানালার সামনে গিয়ে দাঁড়াল। মনে পড়ে গেল গতকাল রাতের কথা। নীরদ তাকে গতকাল অনেক বুঝিয়েছে। তাকে জড়িয়ে ধরে কেঁদেছে পর্যন্ত! অর্ঘমার নীরবতা সে সহ্য করতে পারছে না। এসব বলার পরও অর্ঘমা নীরব ছিল। সেই রাগে নীরদ বেরিয়ে গেছে বাসা থেকে। আজ এখনো পর্যন্ত আসেনি ছেলেটা। ভীষণ অভিমান করেছে হয়তো। অর্ঘমা জানে নীরদ আসবে। সে শতভাগ নিশ্চিত।

নতুন ফোনটা অবহেলায় পড়ে আছে বিছানার একপাশে। এটা অভ্র এনে দিয়েছে। নতুন সিমও লাগিয়ে দিয়েছে। কিছু একটা ভেবে অর্ঘমা কাঁপা কাঁপা হাতে ফোনটা তুলে নিল। ইতোমধ্যে সকল আত্মীয়স্বজন, পাড়াপ্রতিবেশি সবাই জেনে গেছে তার সাথে ঘটে যাওয়া দূর্ঘটনার কথা। অনেকে এসেও ছিল তাকে স্বান্তনা দিতে কিন্তু তাদের রুমে আসতে দেয়নি অভ্র বা নীরদ। এদের কাজই অন্যকে খোঁচানো। অর্ঘমার মনের অবস্থা এমনিতেই শোচনীয়। এদের কথা শুনে মেয়েটা পরে আরও বেশি ভেঙে পড়বে।

ফেসবুকে লগ ইন করা মাত্রই শত শত ম্যাসেজের ভিড় এসে জমা হলো ফোনে। অনেকে তাকে ট্যাগ দিয়ে বিভিন্ন পোস্ট করেছে। সবই বসে বসে দেখল অর্ঘমা। স্বান্তনার নাম করে সবার সামনে তাকে একজন ধর্ষিতা হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে সকলে। বড্ড হাসি পেল অর্ঘমার। সব দেখতে দেখতে একসময় জোরে জোরে হাসতে লাগল। হাসতে হাসতেই একসময় চিৎকার করে কেঁদে উঠল। তার চিৎকার শুনে পাশের ঘর থেকে মিনা বেগম ছুটে এলেন। রুমের সামনে এসে দরজা ধরে দাঁড়িয়ে রইলেন। ভেতরে ঢুকলেন না। সেই ঘটনার পর আজ প্রথম অর্ঘমার কোনো প্রতিক্রিয়া দেখতে পেলেন তিনি। তাই কিছুটা অবাক হয়েই ছুটে এসেছেন। মিনিট দুয়েক দাঁড়িয়ে থেকে আবারও নিজের রুমে চলে গেলেন।

অর্ঘমা কান্না করতে করতে হাতের ফোনটা ছুঁড়ে মারল ড্রেসিং টেবিলের দিকে। ড্রেসিং টেবিলের আয়নাটা ভেঙে কাচগুলো ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ল চারপাশে। জোরে চিৎকার করে হাঁটু মুড়ে ফ্লোরে বসে পড়ল সে। নখ দিয়ে নিজের সারা শরীরে পাগলের মতো আঁচড় কাটতে লাগল। যেন কোনো বিষাক্ত কিছু তার শরীরে ছেড়ে দিয়েছে কেউ।
কিছুক্ষণ পর ঝড়ের বেগে নীরদ এসে ঢুকল তার রুমে। ফ্লোরে বসে তাকে জড়িয়ে ধরল। তবুও থামল না অর্ঘমা। তাকে থামাতে না পেরে তার দু’হাত শক্ত করে চেপে ধরে তাকে জড়িয়ে ধরে বসে রইল। অর্ঘমা ছোটার জন্য অনেক চেষ্টা করেও পারল না। কাঁদতে কাঁদতে একসময় সেভাবেই ঢলে পড়ল সে নীরদের বুকে। নীরদ তাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে চোখ বন্ধ করে নিল। তার বন্ধ চোখের কোণ বেয়ে গড়িয়ে পড়ল অশ্রুবিন্দু।

এখনো শরীর কাঁপছে নীরদের। হাত-পা কিছুটা ঠান্ডা ঠান্ডা অনুভব করছে। একটু আগে মিনা বেগমের কল পেয়ে সে ছুটে এসেছে। ভাগ্যিস বাসার কাছেই ছিল। নাহলে আজ অর্ঘমা নিশ্চিত কোনো একটা অঘটন ঘটিয়ে ফেলত। অর্ঘমাকে হারিয়ে ফেলার ভয় তার বুকের মধ্যে চেপে বসেছে কিছুদিন যাবৎ। তার বাসা থেকে তার মা-বাবা চাপ দিচ্ছে অর্ঘমার থেকে দূরে থাকার জন্য। অর্ঘমার ব্যাপারে এখন তার সামনে নুসরাত হ্যাঁ-ও বলছে না আবার না-ও বলছে না। কিন্তু তবুও বোনের ভাবসাব দেখে নীরদ বুঝতে পারে তার বোনও তার বাবা-মায়ের পক্ষকেই সমর্থন করছে। ইদানিং নীরদ খেয়াল করেছে নুসরাত তার সামনে সবসময় নিজের ননদের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে থাকে। এতে নুসরাতের মনোভাব বুঝতে সমস্যা হয় না নীরদের। নুসরাত চাচ্ছে নিজের ননদকে নীরদের গলায় ঝুলাতে। কিন্তু সব বুঝেও নীরদ নির্লিপ্ত থাকে।

অর্ঘমাকে কোলে তুলে বিছানায় ঠিকভাবে শুইয়ে দিয়ে তার গায়ে কম্বল টেনে দিল। অর্ঘমার মুখের দাগ গুলো প্রায় মিলিয়েই গিয়েছিল কিন্তু আজ নিজেকে আঘাত করে পুনরায় দাগ বসিয়ে ফেলেছে মেয়েটা। নীরদ অসন্তোষ দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল অর্ঘমার শুঁকনো মুখের দিকে। ক্ষত স্থানগুলো থেকে হালকা হালকা রক্ত ঝরছে। স্যাভলন নিয়ে এসে অর্ঘমার পাশে বসল নীরদ। ক্ষতস্থান গুলোতে স্যাভলন লাগিয়ে দিল। অর্ঘমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে অর্ঘমার একটা হাত নিজের এক হাতের মাঝে তুলে নিয়ে চোখ বন্ধ করে কপাল ঠেকিয়ে বলল,
-“তুমি আমায় একটুও ভালোবাসো না অর্ঘ। যদি বাসতে তাহলে বুঝতে তোমার নির্লিপ্ততা আমায় কতটা কষ্ট দেয়। আজ তোমার সাথে যা হয়েছে এর জন্য তুমি যতটা না কষ্ট পাচ্ছ, তার থেকেও কয়েকগুণ বেশি কষ্ট আমি পাচ্ছি। নিজের ভালোবাসার মানুষের এই অবস্থা ক’জনই বা মেনে নিতে পারে? আমিও পারছি না। তোমার এই অবস্থার জন্য দায়ী আমি। তুমি আমায় শাস্তি দাও। তবুও নিজেকে এভাবে কষ্ট দিয়ো না, আঘাত করো না। তোমার শরীরের প্রতিটা আঘাত আমার মনকে বারংবার ক্ষত-বিক্ষত করে। এসব যদি তুমি জানতে তাহলে কখনো নিজেকে কষ্ট দিতে না। তুমি কী তবে এভাবেই আমাকে শাস্তি দিচ্ছ? এতটা কঠিন? এর থেকে যদি আমায় মৃত্যুদন্ড দিতে তা-ও বোধহয় কষ্ট কম হতো।”

চলবে…

#কিশোরী_কন্যার_প্রেমে
#সুমাইয়া_সিদ্দিকা_আদ্রিতা
#পর্ব_২৮
.
ঘুম ভাঙতেই নীরদের গম্ভীর মুখখানা চোখে পড়ল অর্ঘমার। সে এখন সোফার সাথে হেলান দিয়ে তার দিকেই তাকিয়ে আছে। এই সোফাটা নীরদই আনিয়েছে নিজের থাকার জন্য। অর্ঘমা উঠে বসতে গেলে এক অসহ্য যন্ত্রণায় কুঁকড়ে উঠল তার সারা শরীর। তবুও এগিয়ে এলো না নীরদ। নিজের হাত-পায়ের অবস্থা দেখে বিকেলের কথা মনে পড়ে গেল অর্ঘমার। ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখল রাত বাজে প্রায় দেড়টা। নীরদ এসে বিছানার পাশের টেবিলের উপর থেকে খাবার, পানি আর ওষুধ রাখা ট্রে-টা নিয়ে অর্ঘমার সামনে বিছানায় রেখে মৌন অবস্থায় পুনরায় সোফায় গিয়ে বসল। অর্ঘমা বুঝল নীরদ রেগে আছে। সে চুপচাপ ট্রে-টা সরিয়ে রেখে হাত-পা গুটিয়ে, গায়ের কম্বলটা গলা অব্দি টেনে অপর পাশ ঘুরে শুয়ে পড়ল। চোখের কোণ বেয়ে গড়িয়ে পড়ল জল।

বিকেলে আয়নায় নিজেকে দেখে যেমন ঘৃণা হচ্ছিল তেমন অবাকও লাগছিল অর্ঘমার। তার চোখমুখ ভেঙে একাকার অবস্থা। শরীর একদম রোগা পাতলা হয়ে গেছে। চোখের নিচ দেবে গিয়ে কালি পড়ে গেছে। শুষ্ক ঠোঁটজোড়া ফেটে চৌচির। মাসখানেক নিজের অযত্নের ফলে তার এই অবস্থা। তাকে দেখতে অসম্ভব কুৎসিত লাগছে। এমন চেহারা দেখার পরও নীরদ কীভাবে পারছে তার এত খেয়াল রাখতে? এখনো তাকে ভালোবাসতে কীভাবে পারছে?

অর্ঘমা টের পেল তার শরীর থেকে কম্বল সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। চোখ মেলে তাকানোর সাথে সাথেই নীরদ তার বাহু ধরে একটানে তাকে উঠিয়ে বসিয়েছে। ব্যথায় চোখমুখ কুঁচকে মৃদু আর্তনাদ করে উঠল সে। নীরদের চোখমুখ শক্ত। যেন দাঁতে দাঁত চেপে নিজের রাগটাকে গিলে ফেলার চেষ্টা করছে। কোনো কথা না বলে ভাতের প্লেট নিয়ে এক লোকমা ভাত অর্ঘমার মুখের সামনে ধরল। নীরদকে একপলক দেখে মুখ ঘুরিয়ে নিল অর্ঘমা। অর্থাৎ সে খাবে না। নীরদ চুপচাপ তাকিয়ে রইল কিছুক্ষণ অর্ঘমার দিকে। মিনিট দুয়েক পর হুট করে বা’হাত দ্বারা অর্ঘমার গাল চেপে ধরে ভাতের লোকমা মুখে পুরে দিতে গেলেই অর্ঘমা স্ব জোরে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিল হাতখানা। ফলে ভাতের লোকমা সব ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ল। তৎক্ষনাৎ তার গাল চিনচিন করে উঠল। গালে হাত দিয়ে বিস্ময় দৃষ্টিতে তাকাল নীরদের দিকে। নীরদ তাকে থাপ্পড় মেরেছে? ব্যাপারটা যেন বিশ্বাস হতে চাইল না। পরক্ষণেই কাঁচের গ্লাসখানা মেঝেতে ছুঁড়ে ফেলল নীরদ। ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে গেল গ্লাসটি। ভেসে এলো নীরদের রাগী গলার স্বর।
-“ফাজলামো করো আমার আমার সাথে তুমি? হ্যাঁ! আমাকে কী তোমার মানুষ বলে মনে হয় না? তুমি কী ভেবেছ, তুমি এমন করলে তোমার সাথে যা হয়েছে তা ঠিক হয়ে যাবে? নাকি যারা তোমার এই অবস্থা করেছে তারা শাস্তি পেয়ে যাবে? এসব কিচ্ছু হবে না। তোমার আশেপাশের মানুষগুলোর কথা একবারও ভেবেছ? যারা তোমাকে ভালোবাসে, তোমার ভালো চায় তাদের কথা ভেবেছ একবারও? তুমি এই যে নিজের অযত্ন করছ, নিজেকে আঘাত করছ এসবে সব থেকে বেশি কষ্ট তোমার আপনজনেরাই পাচ্ছে। কিন্তু সেসব তো তুমি ভাবছ না। নিজের জীবনটাকে শেষ করার জন্য উঠেপড়ে লেগেছ তুমি। কেন করছ এসব? তোমার বাবা, অভ্র ভাই, নিধি এদের কথা ভেবেছ একবারও? আমার কথা ভেবেছ একবারও? আমাদের জন্য কেন স্বাভাবিক হতে পারছ না তুমি? অন্তত আমার জন্য হলেও স্বাভাবিক হওয়ার চেষ্টা করো অর্ঘমা। আমার ধৈর্যের বাঁধ দিনদিন ভেঙে যাচ্ছে। তোমার এই নির্লিপ্ততা আমাকে কুঁড়ে কুঁড়ে খাচ্ছে। তোমার এই অবস্থার জন্য আমি দায়ী আমি জানি। তাই বলে এভাবে শাস্তি দিচ্ছ? এর থেকে নিজ হাতে আমায় মেরে ফেলো তা-ও কষ্ট কম হবে আমার। এভাবে আর বাঁচতে পারছি না আমি। অসহ্য যন্ত্রণা হচ্ছে বুকে। আচ্ছা, আমি মরে গেলে শান্তি হবে তোমার? তখন কী একটু স্বাভাবিক হতে পারবে? তাহলে বলো, আমি তাই করছি। তবুও এভাবে থেকো না প্লিজ! আই বেগ অফ ইউ।”
সোফার ওপর থেকে ফোন নিয়ে হনহনিয়ে বেরিয়ে গেল নীরদ। অভ্র আর নিধি কাঁচ ভাঙার শব্দ শুনে ছুটে এসেছিল অর্ঘমার রুমের দিকে। কিন্তু নীরদের কথা শুনে তারা আর ভেতরে ঢোকেনি। দরজার বাহিরেই দাঁড়িয়ে ছিল। কারণ নীরদ একটা কথাও ভুল বলছে না। নীরদ বেরিয়ে যেতেই তারা রুমে ঢুকল। অর্ঘমা ফ্যালফ্যাল করে নীরদের যাওয়ার দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইল। কিছু মুহূর্ত পর ডুকরে কেঁদে উঠল সে। নিধি কিছু না বলে জড়িয়ে ধরল তাকে। ইশারায় অভ্রকে বলল নীরদকে দেখতে। অভ্রও বোনের মাথায় হাত বুলিয়ে নিধির কথা মতো নীরদ কোথায় গেছে তা দেখার জন্য গেল। নিধির মনে হলো এখন অর্ঘমাকে একটু বুঝালে হয়তো বুঝবে মেয়েটা। তাই সে-ও অর্ঘমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে তাকে বুঝাতে লাগল। এতে যদি একটু স্বাভাবিক হয় মেয়েটা।
___
রাত পেড়িয়ে ভোর হলো। ঘড়িতে বাজে ছয়টা। অর্ঘমা কিছুক্ষণ হলো ঘুমিয়ে পড়েছে নিধির কোলে। এতক্ষণ যাবৎ ছটফট করছিল মেয়েটা নীরদের জন্য। রাতে নীরদের বলা কথা আর নিধির বুঝানো কাজে দিয়েছে বুঝতে পেরে স্বস্তির নিঃশ্বাস ছাড়ল নিধি। কিন্তু মেয়েটা নীরদের সাথে কথা বলার জন্য পাগল হয়ে আছে। নিধি কল করেছিল বেশ কয়েকবার নীরদের ফোনে। কল তো নীরদ রিসিভ করেই নি উল্টো ফোনই সুইচ অফ করে দিয়েছে। তাই দেখে অর্ঘমার কান্নার বেগ দ্বিগুণ হারে বেড়ে গিয়েছিল। অভ্রও সারারাত বাসায় ফেরেনি। তার ফোনও বন্ধ বলছে। নীরদের বলে যাওয়া কথা শুনে নীরদের জন্য চিন্তায় মেয়েটার ঘাম ছুটে গেছে। নীরদ আবার সত্যি সত্যি নিজের ক্ষতি করে না বসে! এসব ভেবে সারারাত কান্নাকাটি করে একটু আগে অবশেষে ঘুমিয়েছে। অর্ঘমার মাথার নিচে বালিশ দিয়ে ঝটপট পুরো রুমটা গুছিয়ে ফেলল নিধি। এখন প্রায় সময় নীরদ এখানে থাকে বলে সে অন্য রুমে থাকে।
___
পার হয়েছে দু’টো দিন। নীরদের দেখা নেই। বেহাল দশা অর্ঘমার। নীরদ নীরদ করে পাগল হয়ে যাচ্ছে মেয়েটা। নীরদের খোঁজ খবর না পেয়ে শেষে একপ্রকার বাধ্য হয়ে তার বাসায় ফোন দিয়েছিল। নীরদের খবর তো সে পায়ই নি, উল্টো নীরদের মায়ের কথায় তার ভারাক্রান্ত মন আরো ভারাক্রান্ত হয়েছে। ভদ্রমহিলা নিজের কথা দ্বারা স্পষ্ট বুঝিয়ে দিয়েছেন অর্ঘমা এখন তার ছেলের যোগ্য নয়। এমন একজন মেয়েকে তিনি কখনো তার ছেলের বউ করবেন না। নীরদ অনেক ভালো মেয়ে ডিজার্ভ করে। সে যেন নীরদের থেকে দূরে থাকে। এরপর থেকে আর কাঁদছে না অর্ঘমা। শুধু মনে মনে প্রার্থনা করছে নীরদ যেখানেই থাকুক না কেন, সে যেন ভালো থাকে, সুস্থ থাকে।

নীরদ সেদিন সন্ধ্যার পর পরই এসে হাজির হলো অর্ঘমাদের বাসায়। সরাসরি এসে ঢুকল অর্ঘমার রুমে। অভ্র মৃদু হেসে রুমের দরজা চাপিয়ে চলে গেল। তার বোন স্বাভাবিক হচ্ছে দেখে তার খুশির অন্ত নেই। এখন নীরদের সাথে মান-অভিমানটা শেষ হলেই তার শান্তি। অবশ্য তার মাথায় আরও একটা চিন্তা ঘুরপাক খাচ্ছে। নীরদের পরিবার! সেই ব্যাপারে নীরদের সাথে কথা হয়েছে তার। এখন দেখা যাক কী হয়।
___
অর্ঘমা নীরদকে দেখা মাত্রই উঠে দাঁড়াল। জলে টলমল করে উঠল তার চোখজোড়া। দৌড়ে গিয়ে জাপ্টে জড়িয়ে ধরল তাকে। এক মুহূর্তের জন্য ভুলে গেল নীরদের মায়ের বলা সকল কথা। ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠল সে। কান্নার বেগ ধীরে ধীরে বাড়তে লাগল। সাথে জড়িয়ে ধরার বাঁধনও আরও শক্ত হলো। চোখ বন্ধ করে হাত মুষ্টিবদ্ধ করে দাঁড়িয়ে ছিল নীরদ। কি যে শান্তি লাগছে তার, বলার মতো না। কতগুলো দিন পর তার অর্ঘ তাকে জড়িয়ে ধরেছে। মেয়েটা স্বাভাবিক হচ্ছে বুঝতে পেরে নীরদের বন্ধ চোখ বেয়ে জল গড়িয়ে পড়তে লাগল। দু’হাতে শক্ত করে অর্ঘমাকে জড়িয়ে ধরে তার মাথায় চুমু খেল। অর্ঘমা কান্নারত অবস্থায় নীরদের বুকে কিল মেরে বলল,
-“কোথায় ছিলেন আপনি এতদিন? কত চিন্তা হচ্ছিল আমার জানেন? আরেকটু হলে আমি মর….”
অর্ঘমার ঠোঁটে আঙুল রেখে তাকে চুপ করিয়ে দিল নীরদ। দু’হাতে তার মুখ ধরে বলল,
-“এমন কথা আর কখনো যেন না শুনি। আমি তোমায় বড্ড বেশি ভালোবাসি অর্ঘ। তুমি ভাবতেও পারবে না আমার ভালোবাসার পরিমাণ ঠিক কতটা। তোমার কষ্ট দেখলে আমার তার থেকে দ্বিগুণ কষ্ট হয়। মনে হয় নিজেকে শেষ করে ফেলতে। তাই প্লিজ, আর কখনো এমন কিছু করো না। এত সহজে ভেঙে পড়লে হবে, বলো? এখানে তো তোমার কোনো দোষ নেই। তবে তুমি কেন এভাবে ভেঙে পড়বে? দোষ যারা করেছে তারা মুখ লুকিয়ে চলবে। তুমি কেন মুখ লুকিয়ে ঘরে বসে থাকবে? ভয় পেয়ে লুকিয়ে না থেকে মানুষের কথার কঠোর জবাব আর অন্যায়ের তীব্র প্রতিবাদ করে দেখো অনেক হালকা লাগবে। আমি সবসময়, সারাজীবন তোমার পাশে আছি।”
নীরদের বুকের কাছের শার্টের অংশ খামচে ধরে ফোপাঁতে লাগল অর্ঘমা। হাসল নীরদ। অনেকদিন পর তার হাসির দেখা মিলল। বেশ কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে সময় নিয়ে অর্ঘমার কপালে চুমু খেল। চুমু খেল তার দু’চোখের পাতায়ও। চোখ মেলে তাকাল অর্ঘমা। তার গাল দু’টো ভিজে গেছে চোখের জলে।
-“আমাকে ক্ষমা করবেন নীরদ। আমি আপনাকে কষ্ট দিতে চাইনি। আমি শুধু মেনে নিতে পারছিলাম না সেই দূর্ঘটনাটা। ওসব মনে পড়লেই আমার আর বাঁচতে ইচ্ছে করে না। মনে হয় কতগুলো নোংরা বিষাক্ত পোকা ছেড়ে দেওয়া হয়েছে আমার ওপর। আম..আমি….”
ডুকরে কেঁদে উঠল অর্ঘমা। জল এলো নীরদের চোখেও। লম্বা একটা শ্বাস ফেলে কিছু বলতে যাবে তার আগেই অর্ঘমার বলা কথা শুনে চোয়াল শক্ত হয়ে উঠল নীরদের। চোখজোড়া যেন ক্রমশই রক্তিম বর্ণ ধারণ করতে লাগল।
-“আমি এখনো এসব মেনে নিতে পারছি না। আমার কী দোষ ছিল? ওরা কেন করল আমার সাথে এমন? ওই শা..শাকিল আর ওর বন্ধুরা….”
কান্নার বেগ বাড়ল অর্ঘমার। চোখের সামনে ভেসে উঠতে লাগল তার সাথে ঘটে যাওয়া কয়েকদিনের নরক যন্ত্রণা। সব পুনরায় মনে পড়তেই ভয়ে ঘেমে উঠল তার সারা শরীর। হুট করেই সে কেমন যেন করতে লাগল। নীরদ প্রথমে বুঝল না কিছু। পরক্ষণেই ডাক্তারের বলা কথাগুলো মনে পড়তেই বুঝতে পারল সেই ঘটনা মনে পড়ায় অর্ঘমা ভয়ের কারণে এমন করছে। সে কী করবে বুঝতে পারল না। অর্ঘমার গালে হাত রেখে কয়েকবার তার নাম ধরে ডাকল। স্বাভাবিক হতে বলল তাকে। অভয় দিল। আস্তে আস্তে শান্ত হতে লাগল অর্ঘমা। জোরে জোরে নিঃশ্বাস ছাড়তে লাগল সে। নীরদ তার গালে হাত রেখে বলল,
-“কিচ্ছু হয়নি। ওকে? সব ঠিক আছে। শান্ত হও। ওরা কেউ আর কখনো আসতে পারবে না তোমার কাছে। আর ওদের প্রাপ্য শাস্তি ওরা পাবে। ভয়ের কিচ্ছু নেই অর্ঘ। দেখো, তাকাও আমার দিকে।”
অর্ঘমা চোখ মেলল। অশ্রুসিক্ত চোখে তাকাল নীরদের দিকে। নীরদ তার চোখের জল মুছে দিয়ে বলল,
-“সব ঠিক আছে। কিচ্ছু হয়নি। হুম?”
মাথা নেড়ে সায় দিল অর্ঘমা। নীরদের কপালের সাথে কপাল ঠেকিয়ে চোখ বুঁজে দাঁড়িয়ে রইল নীরবে।

চলবে…

গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ