Saturday, June 6, 2026







Standing next to you পর্ব-৭+৮

#Standing_next_to_you
#অনামিকা_আহমেদ
পর্ব:০৭

শুভ্রতা আলমারি তন্ন তন্ন করে খুঁজে চলেছে বড় হাতার জামা বের করার জন্য। প্রায় আধঘন্টা চিরুনি তল্লাশির পর অবশেষে সে সন্ধান পায় মিষ্টি রঙের এক জামার। জামার হাতা এতটাই বড় যে শুভ্রতার কব্জি অবধি ঢেকে যাবে, এমনিতে কনুই ঢাকা ড্রেস পড়লেও আজ বিপদ থেকে উদ্ধারের জন্য এই ড্রেসটা ভীষণই দরকার তার।

– যাক বাবা বাঁচা গেলো। ভাগ্যিস পুরোনো বলে জামাটা ফেলে দেইনি। হাতের লেখাটা কেও দেখবেও না আবার লেখাটা মুছতেও হবে না।

ধীর শব্দে কথাগুলো অজান্তেই শুভ্রতার ঠোঁট গলে বের হলো। পরমুহুর্তে নিজের কথা বিসেসন করতে গিয়ে নিজেই চিন্তায় পরে গেলো। সে কেনই বা এক অদৃশ্য সত্তাকে এতটা গুরুত্ব দিচ্ছে। এক অচেনা অজানা মানুষ, যাকে কিনা সে নিজ চোখে ভালো করে দেখেনি মাত্র তার কথায় নিজের অভ্যাস বদলে দিতে সে কুণ্ঠাবোধ করছে না।

ভীষণ অবাক শুভ্রতা। গোল গোল চোখে তাকায় আয়নার দিকে। নিজের প্রতিচ্ছবির দিকে বেশ খানিক ক্ষণ তাকিয়ে ভাবে,

– এটা কি সত্যি আমি।

শুভ্রতার এমন ভাবার কারণ আছে। যে কিনা কাউকে ভয় পায় না, কোনো নিয়মের বেড়াজালে জড়াতে নারাজ আজ সে এক তুচ্ছ কারণে এতটা অস্থির? ছায়ামানব তাকে এতটা বদলে দিল। শুভ্রতা একবার ভাবে সে এই জামা পরবে না, কিন্তু সেই ভাবা অনুযায়ী কাজ করা হয় উঠে না তার। গোসল সেরে এটাই গায়ে জড়িয়ে রুম থেকে বের হয়ে সে।

________________________________________
নিজের জন্য নির্ধারিত কেবিন থেকে কয়েকটা জিনিস হাতে নিয়ে সাজ্জাদের রুমের উদ্দেশে যাওয়ার সময় এক মেয়ের সাথে ধাক্কা খায় শুভ্রতা। ফলশ্রুতিতে হাতের জিনিসগুলো ফ্লোরে পড়ে যায়। শুভ্রতা মেয়েটাকে পাত্তা না দিয়ে জিনিস কুড়াতে ব্যস্ত। যেই শুভ্রতা জিনিস গুলো মেঝে থেকে তুলতে যাবে অমনি সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মেয়েটা শুভ্রতার হাত চেপে ধরে। এইবার শুভ্রতার দৃষ্টি যায় সেই অচেনা মেয়ের দিকে। পরনে আঁটসাঁট ওয়েস্টার্ন জামা, ছোট ছোট পোশাক গুলো এতটাই কম যে যে কেউ এই দেখায় তার শরীরের ভাঁজ গুনতে পারবে। মেয়েটার চেহারা দেখে বড়লোক বাবার বিগড়ে যাওয়া মেয়ের মতোই লাগছে অনেকটা।

– আপনি আমার হাত ধরেছেন কেনো? হাত ছাড়ুন, জিনিসগুলো তুলতে হবে।

– বেয়াদপ অশিক্ষিত মেয়ে, say sorry. অন্ধ নাকি চোখে দেখিস না? গায়ে পরে ধাক্কা খাস।

– এই যে এক্সকিউজ মি rich spoiled kid। ভদ্রতার তো কোনো বালাই দেখছি না। অবশ্য আপনি যে বস্তির মেয়ে ভালই বোঝা যায়, নাহলে একজন ডাক্তার কে কি কেও অশিক্ষিত বলে? নূন্যতম শিক্ষা নাই দেখছি। সরুন সামনে থেকে, কোথা থেকে আসে এগুলো।

লীনা রাগে কটমট করে চায় শুভ্রতার দিকে। জীবনে এই প্রথম কেও তাকে উচ্চ কন্ঠে কথা শুনিয়েছে। ছোট থেকেই সে বড়ই অহংকারী, মানুষ কে হাতের ময়লা মনে করে লিনা। বড় ছোট জ্ঞান নেই, যাকে যা ইচ্ছা বলতে তার মুখে বাঁধে না।

– you stupid girl, জানো আমি কি?

– হ্যাঁ জানি তো, অভদ্র অশিক্ষিত জ্ঞানহীন মেয়ে মানুষ। যার ড্রেসিং সেন্স বলতে কিছুই নেই। এটা হাসপাতাল আপনাদের মত এলিট ক্লাসের নাইট ক্লাব না যে শুধু আন্ডার গার্মেন্ট পড়ে চলে আসবেন। আর এখন আমার গায়ে পড়ে ঝগড়া করছেন।

লিনার রাগ চরমে পৌঁছায়। শুভ্রতা কে চড় মারার জন্য সে হাত উঁচিয়ে ধরে কিন্তু চড় মারার আগেই কেও লিনার হাত শক্ত করে ধরে ফেলে। লীনা পিছনে ফিরে সাজ্জাদ কে দেখে একটুও ভয় পায় না। বরং সাজ্জাদের এক হাত জড়িয়ে ধরে ঠোঁট উল্টিয়ে নেকা কন্ঠে তাকে বলতে থাকে,

– বেবী তুমি এসেছো, দেখো টাকা দিতে কাদের পুষছ। তোমার গার্লফ্রেন্ড কে এরা মিনিমাম রেসপেক্ট করে না।

সাজ্জাদ নিজেকে ছাড়িয়ে নেয়। শুভ্রতার দিকে দৃষ্টি স্থির রেখেই লিনা কে বলতে থাকে সে,

– তুমি আমার গার্লফ্রেন্ড নও লিনা। আর কে কাকে অপমান করেছে আমি সেটা দেখেছি। ভালো হয় তুমি এখন থেকে চলে যাও চুপচাপ।

– কি বলছ এসব তুমি, আগামী মাসে আমাদের এঙ্গেজমেন্ট, আর তুমি বলছো আমি তোমার কেও না?

– কিসের এঙ্গেজমেন্ট? দেখো লিনা আমি আগেই বলেছি আমি তোমাকে পছন্দ করি না। আর এই বিষয়ে তোমার বাবার সাথে আমার কথা হয়ে গেছে। তাই ভালোর জন্য বলছি আমার পিছু ছেড়ে দাও। আর কখনও যেনো তোমাকে আমার আশেপাশে না দেখি।

সাজ্জাদের এই অপমান লিনার গায়ে লাগে। তাও এক সাধারণ মেয়ের সাথে তাকে এত বড় কথা শুনানোর সাহস কিভাবে পেলো সাজ্জাদ। কোটিপতির মেয়ে সে, সারাজীবন মা বাবার তল্লাই পেয়ে একেবারে বিগড়ে গেছে লিনা।

– আচ্ছা আজকে চলে যাচ্ছি। কিন্তু আমি তোমার লাইফ হেল করে ছাড়বো সাজ্জাদ শিকদার। আমিও দেখব তুমি আমাকে ছাড়া আর কাকে বিয়ে করো।

এই বলে লিনা গটগট করে হাসপাতাল থেকে চলে যায়। শুভ্রতা তখন ও হাতে জিনিস নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

– এখানেই সারাজীবন দাঁড়িয়ে থাকবেন নাকি আমাকে কাজে সাহায্য ও করবেন?

– জি স্যার আসছি।

সাজ্জাদ সেখান থেকে চলে যায়। শুভ্রতা ও সাজ্জাদের পিছন পিছন যেতে হতে। হাঁটতে হাঁটতে শুভ্রতা ভাবে সাজ্জাদের সাথে লিনার বিয়ে হলে মন্দ হতো না। মানুষ দুটোর স্বভাব একই রকম, রাগী বদ মেজাজি, ভালই হতো দুজনের বিয়ে হলে। কিন্তু সাজ্জাদ কে কোনো মেয়ে পছন্দ করে এই ব্যাপারটাও শুভ্রতার ঠিক ভালো লাগে না। মেয়েটার ওপর রাগ ছিল আগে থেকেই, কিন্তু লিনা সাজ্জাদ কে পছন্দ করে এটা জানার পর থেকে তার ওপর আরো বেশি রাগ হচ্ছে শুভ্রতার।

স্যারের কেবিনে ঢুকলে সাজ্জাদ শুভ্রতার পথ আগলে দাঁড়ায়। শুভ্রতা সাজ্জাদের দিকে না তাকিয়ে মেঝের দিকে দৃষ্টি স্থির রাখে কিন্তু মুখে কিছুই বলে না। বলার সাহস নেই, এই কয়দিনে সাজ্জাদের যে পরিচয় সে পেয়েছে তাতে তার সাথে যত কম কথা বলা যায় ততই মঙ্গল।

– শুভ্রতা আমি আপনাকে বিয়ে করতে চাই।

সাজ্জাদের এক শ্বাসে বলা কথাটা শুভ্রতার সারা শরীরে ঠান্ডা শিহরণ জাগিয়ে তোলার জন্য যথেষ্ট ছিল। শুভ্রতা অবাক চোখে সাজ্জাদের দিকে তাকাতেই শ্বাস আটকে আসছে তার। সাজ্জাদ শুভ্রতার খুব কাছেই দাঁড়িয়ে আছে। এতটা কাছে যে সাজ্জাদের উষ্ণ শ্বাস শুভ্রতার মুখে দ্রুততার সাথে আঁচড়ে পড়ছে।

– স্যা – র আ – আমি –

সাজ্জাদ সাথে সাথেই নিজের আঙ্গুল শুভ্রতার ঠোটে চেপে ধরে।

তারপর শুভ্রতার দিকে একটু ঝুঁকে তার কানের পাশে মুখটা রেখে গম্ভীর কন্ঠে বলে,

– আমার আপনাকে চাই মিস শুভ্রতা। শুধু আপনাকে।

চলবে……………………

#Standing_next_to_you
#অনামিকা_আহমেদ
পর্ব:০৮

চলন্ত বাসে রাহাতের কাঁধে মাথা রেখে চৈতি নিশ্চিন্তে অঘোরে ঘুমুচ্ছে। রাহাত প্রথম দিকে কিছুটা অস্বস্থিতে পড়েছিল একই তো অচেনা এক মেয়ে, কোথায় থাকে, নাম পরিচয় কি কিছুই সে পুরোপুরি জানে না। তার ওপর নিজের বউ হিসেবে তাকে বাইরের মানুষের সামনে পরিচয় দিতে হবে, ভাবলেও রাহাতের সারা শরীর শিরশির করছে। যে জায়গাটা কেবলমাত্র শুভ্রতার জন্য বরাদ্দ, সেই জায়গাটা চৈতি কি অনায়াসেই নিয়ে নিল। কিন্তু পরও মুহূর্তেই রাহাতের মনে পড়ে যায় সবকিছুই তো বানোয়াট, মিথ্যা। তবে রাহাত একটা বিষয় ভেবে পাচ্ছে না, এক অচেনা পুরুষের ওপর ভরসা করতে চৈতির কোনো অস্বস্তি হচ্ছে না, মনে হচ্ছে সে যেনো আগে থেকেই এর জন্য প্রস্তুত ছিল। যদি রাহাত তাকে পতিতালয়ে বেচে দেয়, এই ভয় মেয়েটার মধ্যে কিঞ্চিৎ পরিলক্ষিত হচ্ছে না।

রাহাত এবার মাথা থেকে সব বের করে সিটে একটু হেলান দিয়ে বসে। বেশ আরাম বোধ করলেও ঘাড়ের ওপর আজ তার আরেকটা নতুন ভারের সংযোজন হলো। সিলেটে তার গ্রামের এক চাচার খোঁজ পেয়ে তার বাড়িতে থাকার পাকাপাকি ব্যবস্থা করেছিল রাহাত, কিন্তু সাথে করে এমন যুবতী মেয়েকে সাথে নিয়ে গেলে রাহাত ই বা চাচাকে কি জবাব দিবে ভেবে পাচ্ছে না। নাহ, এত ভেবে কাজ নেই, দায়িত্ব যখন নিয়েছে তাহলে দায়িত্ব পুরোপুরি পালন রাহাত কেই করতে হবে।

ভাঙ্গা রাস্তায় চলতে গিয়ে বেশ ভালই ঝাঁকুনি খায় বাসটা। সাথে সাথেই ঘুম ভেংগে যায় চৈতির। ঘুম ভাঙা চোখে আশপাশ চেনার চেষ্টা করে ব্যর্থ হলে রাহাতের দিকে করুন চোখে তাকায়। ছেলেটাকে সে সত্যি বিশ্বাস করে, না করে উপায় নেই অবশ্য। নিজের সম্ভ্রম নিজের ভাগ্যের ওপর ছেড়ে দিয়েছে সে, যে পরিস্থিতিতে আছে এর চেয়েও ভয়াবহ পরিস্থিতি কি আর হতে পারে?

– আর কতদূর?

– আর বোধয় দুই তিন ঘণ্টা লাগবে। আপনার কি ঠান্ডা লাগছে?

চৈতির পরনে শুধু একটা কামিজ। গায়ে শীতের কাপড় নেই, কামিজের পাতলা কাপড় ভেদ করে হু হু করে ঠান্ডা বাতাস গায়ে বারি খাচ্ছে। মুখ তখন লাল রঙের ওড়নায় ঢাকা তার,শুধু চোখ দুটো দেখা যাচ্ছে। রাহাতের জন্য অতটুকুই যথেষ্ট, চোখে দেখেই মেয়েটার অসহায়ত্ব বুঝে যায় সে।

নিজের গায়ের চাদরটা খুলে চৈতির হাতে ধরিয়ে দেয় রাহাত। চৈতি চোখ বড় বড় করে দেখে, কিছুই বলে না। মানুষটা কত ভালো আসলেই সে বুঝতে পারছে।

– এটা গায়ে দিন, আর ঠান্ডা লাগবে না।

– কিন্তু আপনি? আপনার তো ঠান্ডা লাগবে।

– আমি নাহয় একটা হুডি পড়ে নিবো, আপনি তাড়াতাড়ি এটা নিন, ঠান্ডা লেগে যেতে পারে।

চৈতি আর দেরি করে না। চাদরটা গায়ে দিয়ে এবার বন্ধ জালানার দিকে চায়। চারপাশ ভীষণ অন্ধকার। তাও রাস্তায় গাড়ির সংখ্যা কম নয়। সবাই তারা আজ নিশাচর। আজ যদি সে না পালাতো তাহলে আজ এক বাবার বয়সী লোক কে স্বামী হিসেবে গ্রহণ করতে হতো তার। নিজের গায়ে এক বুড়ো লোকের স্পর্শ লাগবে, বিছানায় তার পাশে ঘুমাতে হতে, রাতের পর রাত সেই বুড়ো লোকের সাথে শারীরিক মিলন হবে ব্যাপারটা মানতে পারে নি চৈতি। বিয়ে সবসময় যে অভিশাপ হয় তা নয়, কিন্তু কারো কারো জীবনে সেটা অভিশাপের চেয়ে কম নয়।

– আপনার বোধয় খিদে পেয়েছে। দুঃখিত, আপনার জন্য কোনো খবর কেনা হয়নি।

চৈতি রাহাতের কথা শুনে মুচকি হাসে।

– সমস্যা নেই, আমার অভ্যাস আছে।

কথা গুলো বেশ গা ছাড়া ভাবে বলা। চৈতি বলার ধরন দেখে তাই ধারনা হলো রাহাতের। রাহাত আড়চোখে তাকায় চৈতির দিকে, তার মুখটা দেখার জন্য কেনো জানি মনটা আনচান করছে। কি আছে ঐ ওড়নার আড়ালে? আসলে অদেখা জিনিসের প্রতি মানুষের কৌতুহলটা একটু বেশিই।

– আপনার পুরো নামটা জানা হলো না।

– মোহনা ইসলাম চৈতি আমার নাম। সবাই চৈতি হলেই রাখে। আপনার নাম?

– রাহাত, রাহাত আহমেদ। আপনার পরিবারে কে কে আছেন?

– বাপ, ভাই আর সৎ মা। জানেন এই আমার সৎ মা অনেক খারাপ, মা মারা যাওয়ার পর চালাকি করে আমার বাবা কে বিয়ে করেছে। আমাদের আর্থিক অবস্থা মোটামুটি ভালই। কিন্তু তাও আমার সৎ মা চাল করে আমাকে ঐ বুড়ার সাথে বিয়ে দিতে চেয়েছিল। জানি না বিয়ের পর আমার বাবার ওপর কি জাদু করেছে, আমার বাবা উনার কথায় উঠবস করে। এমনকি আমাদের গায়ে হাত তুলতেও থামে না।

– আর সেই বিয়ে থেকে বাঁচতেই আপনি পালিয়েছেন?

চৈতি মুখ নিচু করে ফেলে। ছোট করে উত্তর দেয় ” হ্যাঁ” ।

– সিলেটে এক চাচার বাসায় উঠব আমরা। উনি যদি কিছু জিজ্ঞাসা করেন তাহলে বলবেন আমাদের প্রেমের বিয়ে। পরিবার জানে না। আর আপনি মুখটা খুলতে পারেন, বাসের সবাই ঘুমিয়ে গেছে, কেই দেখবে না।

রাহাতের কথায় চৈতি মুখের ওপর থেকে ওড়না সরিয়ে ফেলে। স্মিত আলোয় রাহাত চৈতির চেহারা দেখে প্রথম বারের মতো। গ্রাম্য সুন্দরী যাকে বলে, টানা টানা চোখ, লাবণ্যময়ী চেহারা, ঘন কালো চুল। সন্দেহ নেই কেনো চেয়ারম্যান এমন বাচ্চা মেয়ে বউ করে ঘরে তুলতে চেয়েছিল।

– আপনি কি বিয়ে করেছেন?

চৈতির হঠাৎ এমন প্রশ্নে রাহাত থতমত খায়। নিজেকে সামলিয়ে চৈতির দিকে না তাকিয়েই উত্তর দেয়।

– না, এখনও করা হয়নি।

চৈতি ও এবার চুপ করে যায়। তার দৃষ্টি বাইরের অন্ধকারে মিলিয়ে গেছে। রাহাতের মনে আরো কিছু প্রশ্নের উদয় হলেও সেগুলো আর করা হয়না। ঘুমের দেশে পাড়ি জমায় সে।

_____________________________________________

শুভ্রতা চোখ বুজে দাঁড়িয়ে আছে। আর ওদিকে সাজ্জাদ তাকে নিজের সাথে গভীরভাবে মিশিয়ে নিতে ব্যস্ত। তার হাত শুভ্রতার গাল গলা ছেড়ে কোমড় এ পৌঁছে গেছে। সাজ্জাদের প্রতিটা তপ্ত শ্বাস যেনো শুভ্রতার হৃদস্পন্দন কে বাড়িয়ে দিচ্ছে দ্বিগুণ হারে। মস্তিষ্ক প্রায় নিশ্চল তবুও শুভ্রতার সাজ্জাদের স্পর্শ গুলোকে পরিচিত লাগছে। দীর্ঘক্ষণের মন মস্তিস্কের যুদ্ধ শেষে শুভ্রতা সাজ্জাদের কে নিজের থেকে সরিয়ে ফেলতে সক্ষম হয়। দুজনেরই যৌবন এসেছে, কামনার দীর্ঘশ্বাস দুজনেরই উঠে গেছে।

শুভ্রতা কিছু না বলে চলে আসতে চাইলে আবারো সে বাধা পড়ে সাজ্জাদের সাথে। সাজ্জাদ এক টানে তাকে নিজের বুকে মিশিয়ে ফেলে। ডান হাতটা নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে হাতা টা উঠিয়ে নেয় সে। এর ফলে কাল রাতের লেখাটা দৃশ্যমান হয়।

– তুমি শুধুই আমার, মিস শুভ্রতা। শুধুই আমার।

– তার মানে আপনি –

– হে আমি, আমিই সেই মানুষ যে তোমার হাতে এটা লিখে গেছে। আমার তোমাকে লাগবেই, নাহলে আমি কিছু একটা করে ফেলবো। আর যদি তুমি অন্য কারো কাছে যেতে চাও আমি বলছি, তোমাকে তুলে নিয়ে বিয়ে করতে আমার বেশি সময়ের দরকার হবে না।

শুভ্রতা নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করতে থাকে। মাথায় সবকিছু এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে তার। একটু সময় দরকার, সব ঠিক করার জন্য। এটা মিথ্যা নয় যে সাজ্জাদের প্রতি তার কোনো অনুভূতির সৃষ্টি হয়নি কিন্তু একলাফে তাও একেবারে বিয়ে পর্যন্ত ভাবাটা একটু বেশি বেশি মনে হচ্ছে তার।

– আমার একটু সময় দরকার।

দীর্ঘক্ষণ এর নিস্তব্ধতা শেষে শুভ্রতার কন্ঠস্বর সাজ্জাদ কে প্রশান্তি দেয়। আলতো করে ঠোঁট দুটো ছুয়ে দেয় শুভ্রতার কপালে।

– যত সময় লাগে নাও। কিন্তু দিন শেষে আমার উত্তর হ্যাঁ ই চাই। কারণ I am addicted to you Shuvrota Mahtab.

চলবে…………

পূর্ববর্তী নিবন্ধ
পরবর্তী নিবন্ধ
গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ