Friday, June 5, 2026







Hello Senior Part-02

#Hello_Senior
#সুমাইয়া_জাহান
#পর্ব_2

কলেজ থেকে বেরিয়ে নীশ তার কালো গাড়িতে উঠে বসল। ড্রাইভার চুপচাপ স্টার্ট দিল, আর গাড়ি ধীরে ধীরে মস্কোর ব্যস্ত রাস্তায় মিলিয়ে গেল।

কিছু সময় পর গাড়ি থামল শহরের এক অভিজাত এলাকায়। নীশের বাড়ির সামনে আসতে আসতে প্রায় সন্ধ্যা হয়ে গেল। উঁচু লোহার গেট। তার সামনে দু’পাশে দাঁড়িয়ে থাকা নিরাপত্তারক্ষী। গেট খুলতেই ভেতরের দৃশ্য চোখে পড়ল।

নীশের বাড়ি যেন আধুনিক স্থাপত্যের এক শিল্পকর্ম।
তিনতলা বিশাল প্রাসাদসদৃশ বাড়ি, সাদা মার্বেল আর কালো কাচের দেয়াল দিয়ে তৈরি। বাড়ির সামনে বিশাল বাগান, যেখানে সারি সারি বিদেশি ফুল আর নিখুঁতভাবে ছাঁটা সবুজ ঘাস। মাঝখানে একটি ছোট্ট ফোয়ারা, তার পানির ছিটায় চারপাশে রোদ্দুরে রঙধনুর ঝিলিক দেখা যায়।

ভেতরে ঢুকতেই এক বিশাল হলরুম। উঁচু সিলিংয়ে ঝুলছে সোনালি ঝাড়বাতি, দেয়ালজুড়ে আধুনিক শিল্পকর্ম আর কালো-সাদা ফ্রেমে বাঁধানো ছবি। মেঝেতে চকচকে মার্বেল টাইলস, এতটাই পরিষ্কার যে নিজের প্রতিবিম্ব দেখা যায়।

নীশের ব্যক্তিগত লাইব্রেরি আলাদা কাচের ঘরে। বিশাল বুকশেলফ, সুশৃঙ্খলভাবে সাজানো শত শত বই—বিজ্ঞান, দর্শন, ইতিহাস আর উপন্যাস। পাশে একটা গাঢ় বাদামি কাঠের টেবিল, যেখানে প্রায়শই সে একা বসে রাত কাটায়।

শোবার ঘরে মিনিমালিস্ট সাজসজ্জা। দেয়াল কালো ও ধূসর রঙের সমন্বয়ে সাজানো, বড় কাচের জানালা দিয়ে বাইরে বাগানের দৃশ্য দেখা যায়। ঘরে কেবল একটি বড় বিছানা, পাশে কালো কাঠের সাইড টেবিল, একটি স্টাডি ডেস্ক আর একটি ছোট বুক সেলফ। রুমটিতে অল্প আসবাব, কিন্তু সবই রাজকীয়।

বাড়ির ছাদে আলাদা টেরেস—যেখানে রাতে নীশ একা দাঁড়িয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকে। মস্কোর আলো ঝলমলে শহরের নিচে বিস্তৃত, আর আকাশে চাঁদ-তারার দিকে তাকিয়ে সে নীরব থাকে। নীশের বাড়ি যেন তার মতোই—আধুনিক, অভিজাত, অথচ নিঃসঙ্গতায় ভরা।

নীশ ক্লান্ত দেহ নিয়ে নিজের রুমে ঢুকল। এক মুহূর্ত দম ফেলল, তারপর টেবিলে রাখা লাল ওয়াইনের বোতল হাতে তুলে নিল। কর্ক খোলার সঙ্গে সঙ্গে কক্ষজুড়ে মদের গন্ধ ছড়িয়ে পড়ল। কর্ক খুলে এক ঢোকে অর্ধেক শেষ করল। তার বুক ধীরে ধীরে ওঠানামা করছে। সে শার্টের বোতাম খুলে এক টানে শার্টটা খুলে ফেলল, তারপর অবহেলায় বিছানার ওপর ছুঁড়ে মারল। শক্ত দেহের মাংসপেশি ওপর ঘাম হালকা আলোয় ঝিলমিল করছে। সে ধীরে ধীরে ওয়াশরুমের দিকে এগোল।

বাথটাবে পানির বদলে ভরা হলো লাল ওয়াইন। আলো-আঁধারিতে ভরা বাথরুমে সেই লাল তরল যেন রক্তের মতো ঝলমল করছিল। সে রুমে এসে টেলিকমে কল করল। মুহুর্তে রুমের বাহিরে এসে একজন সার্ভেন্ট হাজির হলো। নীশ রুমের দরজা খুলে বেরিয়ে এলো। সার্ভেন্টটি হাতে চিকেন ফ্রাই নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। নীশ প্লেটটা নিয়ে রুমে ঢুকে আবারও দরজা বন্ধ করে দিল।

সে ধীরে ধীরে রুমের বুক সেলফের দিকে এগোল। সেখানে তার সমস্ত পছন্দের ডার্ক রোমান্স উপন‍্যাসের বই। সে হাত বাড়িয়ে বইগুলো একে একে ছুঁয়ে দেখল। সেলফের মধ্যে “ক্যাপটিভ ইন দ্য ডার্ক” (সি. জে. রেডওয়াইন), “দ্য কিং’স মেন” (নোরা সাকাভিক), “ডেট” (নিনা জি. জোন্স), “টেক মি উইথ ইউ” (নিনা জি. জোন্স), “দ্য ব্ল্যাক লাই” (আলেসান্দ্রা টোরে), “কমফোর্ট ফুড” (কিটি থমাস) ছাড়াও আরও বিভিন্ন ডার্ক রোমান্সের বই।

নীশ “সি. জে. রেডওয়াইন” এর লেখা “ক্যাপটিভ ইন দ্য ডার্ক” বইটি হাতে তুলে নিল। তারপর সে ধীরে ধীরে আবারও ওয়াশরুমে ফিরে এলো। সে বাথটাবের ভেতর বসতেই, ওয়াইন তার দেহ ছুঁয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চোখ বন্ধ করে দিল।

সে বুক পর্যন্ত ওয়াইনে ডুবে রইল। তারপর হাতে আরেক বোতল নিল, কিছুটা সরাসরি গলায় ঢালল, আবার কিছুটা নিজের গায়ের ওপর ঢেলে দিল—যেন ওয়াইন দিয়েই গোসল করছে। লালচে তরল বুক, কাঁধ, বাহু বেয়ে নেমে গেল। তার অন্য হাতে ডার্ক রোমান্সের উপন্যাস। পাশে রাখা প্লেট থেকে এক টুকরো চিকেন ফ্রাই তুলে মুখে নিল, তারপর আরেক চুমুক ওয়াইন খেল। মদের গন্ধ, রোমান্সের অন্ধকার শব্দ আর নিজের নিঃসঙ্গতা মিশে এক অদ্ভুত জগৎ তৈরি করল তার চারপাশে।

নীশ আধশোয়া হয়ে বই পড়তে লাগল। ঠোঁটে হালকা তিক্ততা আর চোখে গভীর শূন্যতা তার। বাথটাবে গাঢ় লাল ওয়াইন তাকে ঘিরে ফেলেছে—যেন সে ডুবে আছে নিজেরই তৈরি এক ভিন্ন দুনিয়ায়।

নীশ কিছুক্ষণ সেই অবস্থায় বসে রইল। শুধুই ওয়াইন আর বইয়ের মধ্যে মনোনিবেশ করল। বাইরে মস্কোর শহরে ধীরে ধীরে রাত নেমে আসছে, কিন্তু তার রুমে সময় থমকে গেছে। বাথটাবের লাল তরল বুকের চারপাশে চকচকে প্রতিফলন তৈরি করছে।

এক মুহূর্তে সে বইটির পাতা উল্টে দেখল, গল্পের অন্ধকার চরিত্র আর নৃশংস প্রেমের বর্ণনা তার চোখের সামনে ভেসে উঠল। তার হাতে থাকা ওয়াইন বইয়ের পাতার সঙ্গে ছুঁল—যেন গল্পের অন্ধকার তার সঙ্গে মিলিয়ে যাচ্ছে।

নীশ ধীরে ধীরে মাথা ঝুঁকিয়ে বুকের দিকে তাকাল। সে নিজের নিঃসঙ্গতা অনুভব করল। সে জানে, এই মুহূর্তটা শুধু তার। কোনো বাধা নেই, কোনো আড়ালে নজর নেই, শুধু ওয়াইন, বই আর তার নিজের অন্ধকার চিন্তা।

বুকের ওপর লাল তরল, হাতের বই থেকে গল্পের অন্ধকার শব্দ তার মস্তিষ্ককে ছড়িয়ে পড়ছে। নীশ এক ধরনের শান্তি খুঁজছে, এক অদ্ভুত মুক্তি—যেখানে বাস্তবের কোলাহল আর আবহাওয়ার কোনো প্রভাব নেই।

পরিশেষে সে বইয়ের পৃষ্ঠা উল্টিয়ে নিজেকে আরও গভীরভাবে ডুবে দিল বাথটাবের লাল তরলের মধ্যে। ওয়াইন, রোমান্স, অন্ধকার—সব মিলিয়ে এক অদ্ভুত ছন্দ তৈরি হলো, যা কেবল নীশেরই ছিল।

হঠাৎ ফোনে কল এলো। স্ক্রিনে ভেসে উঠল “রোদ” নাম। নীশ ফোন ধরল।

“নীশ রোজারিও স্পিকিং…”

রোদ বলল,
“নীশ! আজ রাতে একটা পার্টি আছে। তুমি অবশ্যই আসবে। সবাই বলছে, তোমার দেখা পেতে চায়।”

নীশ কিছুক্ষণ চুপ থেকে ফোনের স্ক্রিনের দিকে তাকাল। তার নিঃসঙ্গতা আর আধশোয়া শরীরের মধ্যেও এক অদ্ভুত আগ্রহ জেগে উঠল। প্রথমে সে অস্বীকার করতে চাইল, কিন্তু পরবর্তীতে হালকা হেসে বলল,
“ঠিক আছে, আমি আসব।”

ফোনের অপর প্রান্তে রোদ উত্তেজিত হয়ে বলল,
“আসবে কি? এক্ষুনি বের হও। আমি তোমার বাসার সামনে গাড়ি নিয়ে ওয়েট করছি।”

মুহুর্তে নীশের মাথায় রাগ চড়া দিল– যেন রোদের এখানে আসাটা পছন্দ হয়নি তার‌। তবুও সে নিজেকে কন্ট্রোল করে ফোনে কথা শেষ করল। সে কয়েক সেকেন্ড স্থির হয়েতাকিয়ে রইল, তারপর ধীরে ধীরে হেসে উঠল।

সে বাথটাব থেকে উঠে শাওয়ার নিল। তারপর কোমরে একটা টাওয়েল পেঁচিয়ে রুমের দিকে এগোলো। কাবার্ডের সাজানো তার পোশাক। কালো সিল্ক শার্ট, ফিটেড ব্ল্যাক প্যান্ট আর স্লিম ফিট ব্লেজার হাতে তুলে নিল সে। দশমিনিটের মধ্যে রেডি হয়ে মিররের সামনে গিয়ে চুল সেট করে নিল।

নিজেকে পরিপাটি করে মিররের সামনে দাঁড়িয়ে একটি গভীর শ্বাস নিল। তারপর গাড়ির চাবি আর ফোনটা নিয়ে রুম থেকে বের হলো।

সে বাহিরে এসে গ‍্যারেজের দিকে এগোল। হালকা হাওয়া তার চুল ছুঁয়ে গেল। সে প্রথমে নিজের গাড়ি নিয়ে যাবার কথা ভাবল, কিন্তু মুহূর্তেই ঠিক করল—আজ সে রোদের গাড়িতে যাবে।

সে গেট পেরিয়ে দেখল, রোদ গাড়ি নিয়ে অপেক্ষা করছে। নীশ ধীরে ধীরে দরজা খুলল ভিতরে ঢুকল। রোদ তার দিকে চেয়ে হালকা হাসি দিয়ে গাড়ি স্টার্ট দিল।

গাড়ি ধীরে ধীরে শহরের ব্যস্ত রাস্তায় মিলিয়ে গেল। নীশ জানালা দিয়ে বাইরে তাকাল—শহরের আলো, দ্রুতগতিতে চলতে থাকা গাড়ি আর পথচারীদের নিয়ে একটা সুন্দর শহর গড়ে উঠেছে।

গাড়ির ভিতরে নীরবতা বিরাজ করল, শুধু হালকা মিউজিক বাজছিল এবং দু’জনের মাঝে অচেনা অনুভূতি হচ্ছিল। রোদ মাঝে মাঝে নীশের দিকে তাকাচ্ছিল।

নীশ একপলক রোদের দিকে তাকিয়ে নিজের চোখ ঘুরিয়ে রাস্তার দিকে তাকাল, তারপর ধীরে ধীরে হালকা শ্বাস ফেলল।

গাড়ি পার্টির ভবনের সামনে পৌঁছাল। উঁচু গেটের পেছনে রঙিন আলো আর শব্দময় সঙ্গীত শোনা যাচ্ছিল। নীশ নিজের পোশাক ও শারীরিক ভঙ্গিমা নিয়ন্ত্রণে রেখে দরজা খুলে বেরিয়ে দাঁড়াল। রোদ তার পাশে দাঁড়িয়ে হালকা হাসি দিল এবং গাড়ির দরজা বন্ধ করল। নীশ তার নেশালো দৃষ্টিতে একপলক রোদের দিকে তাকাল। রোদ যেন এতেই ঘায়েল হয়ে গেল। সে বিড়বিড়িয়ে গেয়ে উঠল,

ব্লু আইস,
হাইপনটাইজ তেরি,
কারদি আয়ে মেন্নু!

নীশ রোদের দিকে তাকিয়ে বলল,
“কিছু বললে?”

রোদ হেসে বলল,
“না তো!”

“ওকে! লেটস গো রোদ।”

নীশ ধীরে ধীরে পার্টির দিকে এগোল। রোদও নীশের সাথে এগিয়ে গেল।

তারা দুজনে পার্টির প্রবেশদ্বারে এসে পৌঁছাল। উজ্জ্বল লাইট আর লাউড মিউজিক তাদের কানে এলো। পার্টিতে সকলে ড্যান্স করছে।

নীশ নিজেকে কেন্দ্রবিন্দুতে রেখে ধীর পায়ে অগ্রসর হলো। বার হলে প্রতিটি দৃষ্টির তার দিকে। সে নিজের চলনে আত্মবিশ্বাস দেখাল, আর তার নিখুঁত পোশাক ও ফিগার মুহূর্তে সবার নজর কেড়ে নিল।

রোদ তার পাশে থেকে মাঝে মাঝে হালকা চেঁচানো শব্দে উৎসাহ দিল। রোশান হাতে ওয়াইনের গ্লাস নিয়ে এগিয়ে এলো। সে রোদের দিকে তাকিয়ে বলল,
“এতো দেরি করলে যে?”

“এই নীশকে নিয়ে তারপর আসলাম।”

রোশান তাচ্ছিল্যের হাসি দিয়ে বলল,
“ও কি বাচ্চা ছেলে?”

নীশ দাঁতে দাঁত চেপে বলল,
“আজকাল তুই একটু বেশি করছিস। আমার ধৈর্য্যের পরিক্ষা নিস না।”

রোদ পরিস্থিতি সামলানোর জন‍্য বলল,
“হেই! কুল, কুল, কুল।”

দুজনে দুদিকে তাকাল। হঠাৎ দুটি মেয়ে এসে বলল,
“হেই নীশ, হোয়াট’স আপ!”

নীশ মেয়ে দুটির সঙ্গে কথা বলতে বলতে পার্টির অন্য পাশে চলে গেল।

রোদ তাকিয়ে রইল। রোশান রোদের পাশে এগিয়ে মৃদু কন্ঠে তাচ্ছিল্য করে বলল,
“নীশ কোনদিনও তোমাকে ভালোবাসবে না। তুমি কবে বুঝবে রোদ? আমি তো তোমাকে পাগলের মতো ভালোবাসি। তারপরেও তুমি এমন একজনকে ভালোবাসো, যে তোমার ইমোশনের দাম কখনও দিবে না।”

রোশানের কথায় রোদ থমকে গিয়ে দাঁড়িয়ে রইল। তার চোখে একটি মৃদু দুঃখ আর হতাশা ফুটে উঠল, কিন্তু সে নিজেকে সামলাতে চেষ্টা করল।

নীশ পার্টির ভিড়ে নিজেকে হারিয়ে দিয়েছে। রোদ হালকা হাঁটতে হাঁটতে নীশকে অনুসরণ করল। রোশান ওয়াইনের গ্লাস হাতে নিয়ে চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইল। সে রোদকে একপলক দেখল, তারপর ধীরে ধীরে রোদের সামনে এসে বলল,
“আমার কি নেই রোদ? সব আছে। ভালো রাখব তোমাকে। ভালোবাসায় ভরিয়ে দিব। আমি জানি, আজ তুমি বুঝবে না। কিন্তু যেদিন তুমি বুঝবে, অন‍্যকিছু না ভেবে চলে এসো। এই রোশান সের্গেইভ অপেক্ষায় রইল তোমার।”

কথাগুলো বলে সে চলে গেল। রোদ চুপচাপ দাঁড়িয়ে থেকে তাচ্ছিল্যের হাসি দিয়ে বলল,
“আমি যাকে ভালোবাসি, সে আমার ভালোবাসাকে কখনো বুঝলোই না। অথচ, আমি যাকে ভালোবাসিনা, সে আমাকে উন্মাদের মতো ভয়ংকরভাবে ভালোবাসে।”

রোদ এগিয়ে গেল বার কাউন্টারে। সেখানে বসে সে একেরপর এক গ্লাস খালি করতে শুরু করল।

এদিকে, নীশ পার্টির কর্নারে চলে গেল। সেখানে আলো কিছুটা কম, মিউজিকের শব্দও দূরে মনে হলো। সে একটি হালকা হাসি দিয়ে ওয়াইনের গ্লাস নিয়ে আবারও পার্টির ভিড়ে নিজেকে মানিয়ে নিল

ডান্স ফ্লোরে হাইপ মিউজিক বাজছে। নীশ নিজের আত্মবিশ্বাসী ভঙ্গিতে হেঁটে এসে রোদের সামনে বার কাউন্টারে বসল।

হঠাৎ, একটি মেয়ে প্রলুব্ধ দৃষ্টির নীশের সামনে এসে দাঁড়ালো। মেয়েটার পরনে ওয়েস্টার্ন। সে ধীরে ধীরে তার দিকের দিকে হাত বাড়াল।

“হেই হ্যান্ডসাম! লেটস গো স্পেন্ড সাম টাইম ইন আ ডিফারেন্ট রুম।”

রোদ চোখ রাঙিয়ে মেয়েটার দিকে তাকাল। নীশ কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলল,
“নো!”

মেয়েটা হতাশ হলেও থেমে রইল না। সে জোর করে নীশকে রাজি করানোর চেষ্টা করল, কিন্তু নীশ দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করল। হঠাৎ, মেয়েটা সাহস নিয়ে নীশের গায়ে হাত রাখল।

ঠিক সেই মুহূর্তে রোদ মেয়েটার মুখে ওয়াইন ছুঁড়ে মারল। মেয়েটা চমকে উঠে পিছনে সরে গেল। বার হলে থাকা সবাই তাকিয়ে রইল। মিউজিক অফ হয়ে গেল। নীশ শান্ত থাকলেও, রোদের চোখে রাগের ঝাপটা স্পষ্ট। সে উঠে গিয়ে মেয়েটার হাত মুচড়ে ধরে বলল,
“হাউ ডেয়ার ইউ?”

রোদের চোখে রাগের আগুন জ্বলে উঠল। মেয়েটা হকচকিয়ে পিছিয়ে গেল।

রোদ মেয়েটার হাত আরও শক্ত করে ধরে বলল,
“তুমি কি ভাবছ, এখানে এসে যে কাউকে স্পর্শ করতে পারবে?”

মেয়েটা চিৎকার করতে চাইল, কিন্তু রোদের চোখে তীব্র রাগ তাকে থামিয়ে দিল।

বার হলের বাতাসে এখন এক অদ্ভুত উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ল। সবাই চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইল, কেউ সাহস করে মুখ খোলার চেষ্টা করতে পারল না। রোশান দূরে দাঁড়িয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলল। নীশ এগিয়ে গিয়ে রোদের থেকে মেয়টাকে ছাড়িয়ে নিল।

চলবে..?

পূর্ববর্তী নিবন্ধ
পরবর্তী নিবন্ধ
গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ