Friday, June 5, 2026







বাড়ি"ধারাবাহিক গল্প"তুমিময় প্রাপ্তিতুমিময় প্রাপ্তি পর্ব-৪+৫+৬

তুমিময় প্রাপ্তি পর্ব-৪+৫+৬

#তুমিময়_প্রাপ্তি🍁
#পর্ব_৪
#মেহরিন_রিম
_কি হলো? ডাকবেনা পুলিশ?
শুকনো ঢোক গিললো ইশা। এতক্ষনে সে আদৃত কে চিনতে পেড়েছে। তবুও কপট সাহস দেখিয়ে বললো,
_ক কে আপনি?

এবার হেলমেট টা খুললো আদৃত। শেষ সাহসটুকুও মিলিয়ে গেলো ইশার,সামান্য হেসে বলল,
_আ আরে আপনি!

আদৃত শান্ত চোখে তাকিয়ে বলল,
_তোমার মতো পিচ্চি মেয়ের এতো তেজ থাকে কি করে হ্যা?

ভয়টা যেন মুহূর্তেই কেটে গেল ইশার,তার জায়গায় একরাশ রাগ এসে ভিড় জমালো। কোমড়ে হাত রেখে রাগী গলায় বলতে লাগলো,
_আপনি পিচ্চি বললেন কেন আমাকে হ্যা? আমি মোটেই পিচ্চি নই, যথেষ্ট বড় হয়েছি আমি। আর বেশি হলে সাত-আট বছরের মধ্যেই আমার পড়াশোনা শেষ হয়ে যাবে, তখন আমাকে আর কেউ পিচ্চি বলতে পারবেন না বুঝেছেন!

ইশার এমন কথায় বোকা বোনে চলে গেলো আদৃত। যেকোনো মেয়ে হলে হয়তো অন্য কিছু বলতো কিন্তু ইশা একেবারে সাত-আট বছর পরের কথায় চলে গেলো!
আদৃত তার এসব কথা উপেক্ষা করে বলল,
_এই মেয়ে,এত সাহস কোথা থেকে পাও তুমি? যাই হোক, মেইন কথায় আসি।

ইশা ছোটছোট চোখে তাকিয়ে বলল,
_কি কথা?

_আদৃত মেহরাজ কে অপমান করেছো তুমি, এত সহজে কি তোমায় ছেড়ে দেওয়া যায়? এর শাস্তি তো তোমায় পেতেই হবে।

ইশা শুকনো ঢোক গিলে ভীতু চোখে তাকিয়ে বলল,
_ক কী শাস্তি?

আদৃত কিছুক্ষন চিন্তা করে আবারো ইশার উদ্দেশ্যে বলল,
_তুমিই বলো,কি শাস্তি দেওয়া যায় তোমাকে?

ইশা একবার আদৃত এর মাথা থেকে পা পর্যন্ত পরখ করলো,তারপর তার হাতের দিকে তাকালো। এই হাতের একটা চ*ড় তার গালে পরলে কি হবে ভাবতে লাগলো, আবার ঐ হাত দিয়ে যদি তার হাতে একটা মোচড় দেয় তাহলে তো হাতটাই ভেঙে যাবে।

_কী হলো বলো।

আদৃত এর কথায় ধ্যান ভাঙলো ইশার। তারপর সে যা করলো তার জন্য আদৃত মোটেই প্রস্তুত ছিল না।
ইশা আচমকা চোখ খিঁচে বন্ধ করে নিজের মুখের উপর দু হাত দ্বারা বাধা দেওয়ার ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে দ্রুতগতিতে বলতে লাগলো,
_আমাকে ছেড়ে দিন প্লিজ প্লিজ প্লিজ। অপমান তো দূড়ে থাক আর কখনো মান ও করবো না আপনাকে। দেখুন আর কদিন পড়েই তো আমার পরীক্ষা, এখন যদি আপনি আমার হাতটা ভেঙে দেন তাহলে আমি কি করে পরীক্ষা দিবো বলুন। যদিও তাতে আমার কোন সমস্যা নেই,কিন্তু আমার মা-বাবার কথা তো ভাবা উচিৎ তাই না। এবারের মতো মাফ করে দিন, আমি আর কখনো আপনার ত্রিসীমানা তেও আসবোনা প্রমিস প্রমিস প্রমিস..

ইশার কাণ্ড দেখে অতি কষ্টে ঠোঁট কামড়ে নিজের হাসি আটকালো আদৃত। সে তো ভেবেছিল শুধু একটু ভয় দেখাবে,কিন্তু ইশা যে এতকিছু ভেবে নেবে সেটা আশা করেনি।
আদৃত কিছুটা গম্ভীর সূরে বলল,
_হাত সরাও..

ইশা চট করে নিজের হাতটা সরিয়ে নিলো কিন্তু চোখ এখনো বন্ধ করে রেখেছে। আদৃত কিছুটা ধমকের সুরে বলল,
_চোখ খোলার জন্য কি আলাদা ইনভিটেশন কার্ড দিতে হবে?

আদৃত এর ধমকে সাথে সাথেই চোখ খুলল ইশা। এতক্ষন নিজের হাসি আটকে রাখলেও ইশার এই ভীতু লুক দেখে এবার আর নিজেকে আটকে রাখতে পারলোনা আদৃত। বেশ উচ্চস্বরেই হাসতে লাগলো সে।

আদৃতের মুখে এই হাসিটা বেশ মানিয়েছে, ইশা প্রথমবারের মতো আদৃতের দিকে ভালোভাবে তাকিয়ে দেখলো। মেয়েরা যে তার উপর ক্রাশ খায়,তার জন্য পাগল হয়ে যায় এর যথেষ্ট কারণ আছে। হেয়ার স্টাইল থেকে শুরু করে গালে থাকা চাপদাড়িতে এককথায় দারুণ লাগছে তাকে। ইশা মনে মনে ভাবলো,
_লোকটা দেখতে এত্ত হ্যান্ডসাম এন্ড কিউট। কিন্তু কথাগুলো এমন করলার মতো কেন? আমাকে ভয় দেখিয়ে এখন আবার নিজেই হাসছেন। আচ্ছা আমি ওনার দিকে এভাবে তাকিয়ে আছি কেন? আমিও কি ক্রাশ ট্রাশ খেয়ে গেলাম নাকি। না না এমন লোকের উপর আমি ক্রাশ খেতেই পারিনা,নো ওয়ে। ধুর,আমি কিসব ভাবছি এগুলো!
নিজের ভাবনা বাদ দিয়ে ইশা ভ্রু কুঁচকে ছোটছোট চোখে তাকিয়ে বলল,
_আপনি হাসছেন কেন?

আদৃত নিজের হাসি কিছুটা থামিয়ে বলল,
_এই তাহলে তোমার সাহস! সাহসিকতার তো স ও নেই তোমার মধ্যে।

ইশা এবার কিছু না বলে নিচের দিকে তাকিয়ে রইলো। আদৃত এবার কিছুটা স্বাভাবিক হয়ে বলল,
_কিন্তু হ্যা, প্রচুর ইন্টারটেইনমেন্ট পেলাম তোমার কাজে। সো..ফার্স্ট এন্ড লাস্ট বারের মতো তোমাকে মাফ করে দিলাম।

____
ফিল্টার থেকে পানি নিয়ে বেরিয়ে এলো মোহনা। পানি খেতে খেতেই উপরের দিকে তাকিয়ে হাটছিল সে।
সায়ানও অনেক দিন পর কলেজে আশায় হাটতে হাটতে আশপাশটা তাকিয়ে দেখছিল। মোহনাও যে উপরের দিকে তাকিয়ে হাটছিল সেটা সে খেয়াল ই করেনি।
অত:পর যা হওয়ার তাই হলো। দুজনে ধাক্কা খেয়ে একই সাথে পড়ে গেলো,সায়ান নিচে আর মোহনা তার উপরে। পানির বোতলটা খোলা থাকায় কিছুটা পানি ছিটকে সায়ান এর চুলে আর বাকিটা নিচেই পড়ে গেছে।
মোহনা একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে সায়ান এর দিকে। এমন একটা ফিল্মি সিন তার সঙ্গে ঘটলো,এটা তো তার ড্রিম ছিল।
অন্যদিকে সায়ান বেচারা নড়তেও পারছে না। চোখ বন্ধ করে বলে উঠলো,
_ও মা গো,আমার কোমড়টা গেলো। কোন হাতির বাচ্চা আমার উপর পড়লো রে?
এতক্ষন সায়ান এর দিকে তাকিয়ে থাকলেও তার কথাটা শুনে তৎক্ষণাৎ উঠে দাঁড়ালো সে। তারপর রাগী গলায় বলল,
_এই এই,আপনি কাকে হাতির বাচ্চা বললেন হ্যা?

সায়ান ধীরেধীরে কোমড় ধরে উঠে দাঁড়ালো। তারপর নিজের চুল ঝাড়তে ঝাড়তে বলল,
_তোমায় ছাড়া কাকে বলব? মানলাম আমি একটু বেশি ই হ্যান্ডসাম, তার জন্য এভাবে হুমরি খেয়ে পড়ার কি আছে?

_আইছে বড় হ্যান্ডসাম। আর আমি আপনার উপর কেন পড়তে যাবো শুনি? নিজেই তো চোখ কপালে তুলে হাটছিলেন,তার বেলায় কিছুই না!

_আচ্ছা! আমি চোখ কপালে তুলে হাটছিলাম, আর তুমি তো চোখটাই ফেলে দিয়ে হাটছিলে। আমার কোমড় টা ভেঙে গেলে কি হতো, আমায় কে বিয়ে করতো তখন।

মোহনা নিজের জামা ঝেড়ে নিয়ে পড়ে থাকা বোতল টা তুলল। তারপর বলতে লাগলো,
_আপনার মতো ছেলেকে না এমনিতেও কেও বিয়ে করবে না। আর বিয়ে হলেও যেন আমার চেয়ে তিন গুণ বেশি মোটা মেয়ের সাথে বিয়ে হয় আপনার,হুহ..

_এই মেয়ে তুমি কি অভিশাপ দিচ্ছো আমাকে!

_হ্যা হ্যা তাই দিচ্ছি,অবশ্য আপনার সাথে ফালতু কথা বলছি কেন আমি!

কথাটা বলেই সেখান থেকে পা বাড়ালো। সায়ান ওর পিছনে যেতে নিলেই কোমড়ের ব্যাথায় আর যেতে পারেনা। কোমড়ে হাত দিয়ে পাশে বলে মনে মনে বলে,
_কি ডেঞ্জারাস মেয়েরে বাবা..

___
আদৃতের কথা শুনে হাফ ছেড়ে বাঁচলো ইশা। প্রেস্টিজ গেছে তো যাক, তবুও এবারের মতো রক্ষা তো পেয়েছে। মনে মনে বলছে,
_হুহ, এমনভাবে বলছেন যেন বিরাট দয়া দেখিয়েছেন আমার উপর। যা খুশি করুক,তুই যে বেঁচে গেছিস এটাই বড় ইশা। একবার এই লোক সরে যাক এখান থেকে, আর জীবনেও ওনার সামনেই আসবোনা আমি।

_তবে হ্যা,নেক্সট টাইম এমন কিছু করলে…

আদৃতের কথার মাঝেই ইশা বাধা দিয়ে বলল,
_প্রশ্নই আসে না। আপনার সামনে আসলেই না আমি কিছু করবো। আমি তো আপনার সামনেই আসবো না তাহলে কোন ভুল করার তো সম্ভাবনাই নেই।

_আরে আদৃত, হুয়াট আ প্লেজেন্ট সারপ্রাইজ!
কন্ঠ অনুসরণ করে দুজনেই পাশে তাকালো…

#চলবে

#তুমিময়_প্রাপ্তি🍁
#পর্ব_৬
#মেহরিন_রিম
_কি এমন সারপ্রাইজ দেবে তুমি যা আমাদের কাউকে বলা যায়না,হুম?
ফোন থেকে চোখ সরিয়ে ইশার দিকে তাকালো নিরব। তারপর মুচকি হেসে বলল,
_সারপ্রাইজ যখন দেবো তখন ঠিক ই দেখতে পাবি।

ভেংচি কেটে বেঞ্চে বসে পড়ে ইশা। পড়ের সপ্তাহে তাদের বিদায় অনুষ্ঠান,তার জন্যই সবাই নাচ,গান,অভিনয় এর প্রাকটিস করছে। ইশা বরাবরেই নাচে পারদর্শী,তবে গানের দিক থেকেও পিছিয়ে নয় সে। যেকোন প্রোগ্রাম এ তাকে গান নাচ দুটোই করতে হয়,এবারেও তার ব্যতিক্রম নয়। তবে তার ইচ্ছে নিরবের সাথে একসঙ্গে গান গাইবে। এটা ইশার কাছে অনেক বড় ব্যাপার হলেও নিরব এবং বাকিদের কাছে তেমন একটা বড় ব্যাপার নয়।

ইশার অতি চেষ্টা করেও নিরব এর ফোনটা দেখতে পারছে না,অবশেষে একটু পিছনে গিয়ে দেখতে নেবে তখনি নিরব ফোনটা সরিয়ে নিয়ে তার দিকে তাকিয়ে বলে,
_তুই আবার জাসুসি করা কবে থেকে শুরু করলি রে ইশা? অনেক্ষন ধরে দেখছি আমার ফোনের উপর নজর তোর, চুরি টুরি করার প্লান করছিস নাকি?

_আমার বয়েই গেছে তোমার ফোন চুড়ি করতে। তোমার ফোন কি সোনা নাকি যে আমি চুড়ি করতে যাবো? আর সোনা হলেই বা কি,আমার তো ওসব গয়নার উপর কোন আকর্ষণ ই নেই। আমার জামাই না অনেক ভাগ্যবতী, না মানে ভাগ্যবান যে আমার মতো একটা বউ পাবে। কোনো সোনা গয়না কিনে দিতে হবেনা, ওর টাকাও বেঁচে যাবে। আর…

_থাম ভাই,মাফ চাই দোয়াও চাই। তোর এই স্পিকার দয়া করে অফ কর। আমি বুঝেছি তুই আমার ফোনের কিচ্ছু করবিনা।

ইশা এবার চুপ করে আবার বেঞ্চে গিয়ে বসলো। অমনি সেখানে বিভিন্ন স্টাইল এ কাঁদতে কাঁদতে মোহনা হাজির হলো। একবার টিস্যু দিয়ে চোখ মোছার প্রাকটিস করছে আবার হাত পা ছড়িয়ে কাঁদার প্রাকটিস করছে। ইশাকে ধরে কাঁদতে কাঁদতে যেই ওর গায়ের উপর পড়তে নিবে তখন ই ইশা ওকে সোজা করে দাড় করিয়ে ধমক দিয়ে বলে,
_তোর সমস্যা টা কি হ্যা,কখন থেকে দেখতেছি ম*রা কান্না
কাঁদতাছোস। এমন একটা ভাব করতেছিস যেন তোর জামাই ডিভোর্স দিয়ে চলে গেছে।

মোহনা নিজের নাটক বাদ দিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে বলল,
_তুই বুঝতে পারতেছিস না,কান্নার ও না অনেকগুলো ভ্যারিয়েশন আছে। আর আমাকে এমনভাবে কাঁদতে হবে যেন আমার উপর ছেলেরা ক্রাশ খেয়ে যায়, আর আমার কাছে এসে চোখ মুছিয়ে দিয়ে বলে,”প্লিজ মেহু,ডোন্ট ক্রাই”।

মোহনার কথা শুনে রুমে থাকা সবাই হো হো করে হাসতে লাগলো। মোহনা আর ইশা থাকা মানে সেই জায়গাটা কমেডি দিয়েই ভর্তি থাকবে। ইশা একবার নিজের ঘড়ির দিকে তাকিয়ে উঠে দাঁড়িয়ে বলল,
_আমি এখন আসি হ্যা,আম্মু আজকে তাড়াতাড়ি বাসায় যেতে বলেছে। মোহনা তুইতো তোর আন্টির বাসায় যাবি তাই না, তাহলে আমি একাই গেলাম টাটা গাইস…

কথাটা বলেই ইশা বেরিয়ে এলো ক্লাসরুম থেকে। তার বাসা এখান থেকে বেশি দূড়ে না,তাই একা যেতে কোনো সমস্যা হয়না তার।

ইশা বেশ খানিকটা রাস্তা পার করে এসেছে,আর কিছুদূর গেলেই তার বাড়ি। ইশা রাস্তার একপাশ দিয়ে হাটতে হাটতে অপর পাশে চোখ পড়তেই দেখলো একজন মহিলা রাস্তা পাড় হওয়ার চেষ্টা করছেন, প্রায় অর্ধেক এর বেশি পথ চলেও এসেছেন তিনি। এমন সময় পাশ থেকে দ্রুতগতিতে একটি বাইক আসতে দেখে সেই মহিলা খানিকটা ঘাবড়ে গিয়ে সেখানেই দাঁড়িয়ে পরে। ইশা তার অবস্থা বুঝতে পেরে তার হাত ধরে টান দিয়ে রাস্তার পাশে নিয়ে আসে। বাইকটা সেই জায়গায় আসার পড়েই বাইকে থাকা লোকটা খানিকটা ধমকের সুরে বলে,
_দেখে রাস্তা পাড় হতে পারেননা? এখন কিছু একটা হয়ে গেলে তো দোষ আমার ই হতো।

কথাটা বলেই লোকটা বাইক নিয়ে চলে যায় সেখান থেকে। ইশা বুঝতে পারে সেই মহিলা বেশ ভয় পেয়ে আছে। তাই সে খানিকটা নরম সুরে বলে,
_একটু দেখে চলবে তো,এখনি কত বড় দূর্ঘটনা ঘটে যেতো বলো তো।

সেই মহিলা ইশার দিকে এক নজর তাকায় তবে কিছু বলতে পারেনা। ইশা নিজের ব্যাগ থেকে পানির বোতলটা বের করে তার সামনে দিয়ে বলে,
_পানিটা খাও, এত অস্থির হচ্ছো কেন হুম? কিছু হয়নি তো নাকি,এটাই অনেক। নাও খাও..

মহিলাটি ইশার হাত থেকে বোতলটা নিয়ে কিছুটা পানি খেলো, এবার সে কিছুটা শান্ত হলো। ইশার দিকে বোতলটা এগিয়ে দিয়ে তার মাথায় হাত দিয়ে বলল,
_তোমাকে যে কি বলে ধন্যবাদ দেই মা, আমার জীবন বাঁচালে তুমি।
সে এবার খানিকটা হতাশ হয়ে বলল,
_অবশ্য না বাঁচলেই বা কি হতো।

ইশা জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলল,
_এমন কথা বলছো যে? আচ্ছা বাদ দাও,তোমাকে দেখে মনে হচ্ছে তোমার শরীর ঠিক। তোমার বাড়ি কি এদিকেই? তাহলে বলো,আমি পৌঁছে দিচ্ছি তোমাকে।

মহিলা তাচ্ছিল্যের সুরে হেসে বলল,
_আমার আবার বাড়ি,হাহ.. আমার যে কোনো বাড়ি নেই মা।

_তাহলে? তুমি থাকো কোথায়?

সেই মহিলা কিছুটা সামনে একটা আশ্রমের দিকে ইশারা করে বললে,
_ঐযে আশ্রম টা দেখছো, আপাতত ওটাই আমার বাড়ি।

ইশা মহিলার দিকে লক্ষ্য করে দেখলো তার বয়স খুব একটা বেশি নয়। ইশা কিছু একটা জিজ্ঞেস করতে যাবে তখন ই তার মনে পড়ে বাড়ি যেতে অনেকটা দেড়ি হয়ে যাচ্ছে,আরো দেড়ি করলে নিশ্চই একগাদা বকা শুনতে হবে।
ইশা মহিলার দু কাঁধে হাত রেখে বলল,
_তোমার সাথে আমি অন্য একদিন কথা বলতে আসবো হ্যা। বড্ড দেড়ি হয়ে গেছে,আজ বরং আমি আসি আন্টিমনি টাটা টাটা।

কথাটা বলেই বড় বড় পা ফেলে বাড়ির দিকে চলে গেলো ইশা।

____
সকাল বেলা জিম থেকে ফিরে এসে নিজের ব্রেকফাস্ট সেরে নিলো আদৃত। বেডরুম এ এসে বারান্দার দিকে তাকাতেই বাহিরের মিষ্টি রোদ চোখে এসে পড়লো তার। অত:পর নিজের ফোন আর দুরবিন টা নিয়ে ছাদে চলে এলো সে। ছাদের উপর থেকে আশেপাশের অনেক সুন্দর একটা ভিউ পাওয়া যায়। বারোতলা ছাঁদের উপর থেকে অনেক দূড়ের এলাকাও দেখা যায়। আর ছাঁদে এলে দুরবিন দিয়ে আশেপাশের ভিউ দেখা আদৃত এর অভ্যাস।

আজও তার ব্যতিক্রম হলো না। রেলিং এর পাশে দাঁড়িয়ে দুরবিন এর মাধ্যমে আকাশে উড়তে থাকা পাখিগুলোকে দেখতে লাগলো সে। এভাবেই একটা পাখিকে মার্ক করতে করতে ধীরে ধীরে একটা বাড়ির ছাঁদে চোখ পড়লো তার। খুবই সূক্ষ্মভাবে একটি মেয়েকে দেখা যাচ্ছে। যদিও তার মুখ দেখা যাচ্ছে না, সম্ভবত অন্যদিকে তাকিয়ে নাচ করছে সে,পড়নে তার লাল রঙের শাড়ি। চুলগুলো উঁচু করে খোপা করা।
আদৃত একদৃষ্টিতে তাকিয়ে মেয়েটার নাচ দেখতে লাগলো, নিজের অজান্তেই মেয়েটার মুখ দেখার ভীষণ ইচ্ছে হলো তার।

_তোকে খুঁজতে খুঁজতে আমি পাগল হয়ে যাচ্ছি,আর তুই কিনা এখানে দাঁড়িয়ে আছিস!
ছাঁদে এসে হাপাতে হাপাতে কোমড়ে হাত দিয়ে কথাটা বলল সায়ান। সায়ান এর কথা শুনে আদৃত চোখ থেকে দুরবিন টা সরিয়ে একনজর সায়ান এর দিকে তাকালো। আবারো সেই ছাঁদের দিকে নজর দিলো সে,তবে কাউকেই দেখতে পেলো না। মুখ থেকে বিরক্তিসূচক “শিট” আওয়াজ বেড়িয়ে এলো আদৃত এর। পরক্ষণেই নিজের কাজে অবাক হলো সে। মনে মনে নিজেকে প্রশ্ন করলো,
_হুয়াট’স রং উইথ মি? এভাবে একটা মেয়ের দিকে তাকিয়ে ছিলাম আমি!

আদৃতকে নিজের ভাবনায় মগ্ন থাকতে দেখে সায়ান তার কাছে এসে বলল,
_কিরে ভাই, কোন দুনিয়ায় হারিয়ে গেলি?

আদৃত নিজের ভাবনা থেকে বেড়িয়ে এসে দুই আঙুল দিয়ে কপালে স্লাইড করে বলল,
_তেমন কিছু না। তুই বল,সকাল সকাল এখানে? কিছু হয়েছে?

সায়ান কপালে হাত দিয়ে বলল,
_তোর কি স্মৃতিশক্তি ও কমতে শুরু করলো ভাই? আমি না তোরে কাল রাতেই বললাম পূর্নকে এয়ারপোর্ট এ রিসিভ করতে যাবো, এর মধ্যেই ভুইলা গেলি?

_আসলে হাফ ঘুমের মধ্যে দেখেছিলাম তো,তাই মনে ছিলোনা। আচ্ছা তুই নিচে গিয়ে দাঁড়া,আমি জাস্ট পাঁচ মিনিট এ আসছি।

#চলবে

#তুমিময়_প্রাপ্তি🍁
#পর্ব_৬
#মেহরিন_রিম
_কি এমন সারপ্রাইজ দেবে তুমি যা আমাদের কাউকে বলা যায়না,হুম?
ফোন থেকে চোখ সরিয়ে ইশার দিকে তাকালো নিরব। তারপর মুচকি হেসে বলল,
_সারপ্রাইজ যখন দেবো তখন ঠিক ই দেখতে পাবি।

ভেংচি কেটে বেঞ্চে বসে পড়ে ইশা। পড়ের সপ্তাহে তাদের বিদায় অনুষ্ঠান,তার জন্যই সবাই নাচ,গান,অভিনয় এর প্রাকটিস করছে। ইশা বরাবরেই নাচে পারদর্শী,তবে গানের দিক থেকেও পিছিয়ে নয় সে। যেকোন প্রোগ্রাম এ তাকে গান নাচ দুটোই করতে হয়,এবারেও তার ব্যতিক্রম নয়। তবে তার ইচ্ছে নিরবের সাথে একসঙ্গে গান গাইবে। এটা ইশার কাছে অনেক বড় ব্যাপার হলেও নিরব এবং বাকিদের কাছে তেমন একটা বড় ব্যাপার নয়।

ইশার অতি চেষ্টা করেও নিরব এর ফোনটা দেখতে পারছে না,অবশেষে একটু পিছনে গিয়ে দেখতে নেবে তখনি নিরব ফোনটা সরিয়ে নিয়ে তার দিকে তাকিয়ে বলে,
_তুই আবার জাসুসি করা কবে থেকে শুরু করলি রে ইশা? অনেক্ষন ধরে দেখছি আমার ফোনের উপর নজর তোর, চুরি টুরি করার প্লান করছিস নাকি?

_আমার বয়েই গেছে তোমার ফোন চুড়ি করতে। তোমার ফোন কি সোনা নাকি যে আমি চুড়ি করতে যাবো? আর সোনা হলেই বা কি,আমার তো ওসব গয়নার উপর কোন আকর্ষণ ই নেই। আমার জামাই না অনেক ভাগ্যবতী, না মানে ভাগ্যবান যে আমার মতো একটা বউ পাবে। কোনো সোনা গয়না কিনে দিতে হবেনা, ওর টাকাও বেঁচে যাবে। আর…

_থাম ভাই,মাফ চাই দোয়াও চাই। তোর এই স্পিকার দয়া করে অফ কর। আমি বুঝেছি তুই আমার ফোনের কিচ্ছু করবিনা।

ইশা এবার চুপ করে আবার বেঞ্চে গিয়ে বসলো। অমনি সেখানে বিভিন্ন স্টাইল এ কাঁদতে কাঁদতে মোহনা হাজির হলো। একবার টিস্যু দিয়ে চোখ মোছার প্রাকটিস করছে আবার হাত পা ছড়িয়ে কাঁদার প্রাকটিস করছে। ইশাকে ধরে কাঁদতে কাঁদতে যেই ওর গায়ের উপর পড়তে নিবে তখন ই ইশা ওকে সোজা করে দাড় করিয়ে ধমক দিয়ে বলে,
_তোর সমস্যা টা কি হ্যা,কখন থেকে দেখতেছি ম*রা কান্না
কাঁদতাছোস। এমন একটা ভাব করতেছিস যেন তোর জামাই ডিভোর্স দিয়ে চলে গেছে।

মোহনা নিজের নাটক বাদ দিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে বলল,
_তুই বুঝতে পারতেছিস না,কান্নার ও না অনেকগুলো ভ্যারিয়েশন আছে। আর আমাকে এমনভাবে কাঁদতে হবে যেন আমার উপর ছেলেরা ক্রাশ খেয়ে যায়, আর আমার কাছে এসে চোখ মুছিয়ে দিয়ে বলে,”প্লিজ মেহু,ডোন্ট ক্রাই”।

মোহনার কথা শুনে রুমে থাকা সবাই হো হো করে হাসতে লাগলো। মোহনা আর ইশা থাকা মানে সেই জায়গাটা কমেডি দিয়েই ভর্তি থাকবে। ইশা একবার নিজের ঘড়ির দিকে তাকিয়ে উঠে দাঁড়িয়ে বলল,
_আমি এখন আসি হ্যা,আম্মু আজকে তাড়াতাড়ি বাসায় যেতে বলেছে। মোহনা তুইতো তোর আন্টির বাসায় যাবি তাই না, তাহলে আমি একাই গেলাম টাটা গাইস…

কথাটা বলেই ইশা বেরিয়ে এলো ক্লাসরুম থেকে। তার বাসা এখান থেকে বেশি দূড়ে না,তাই একা যেতে কোনো সমস্যা হয়না তার।

ইশা বেশ খানিকটা রাস্তা পার করে এসেছে,আর কিছুদূর গেলেই তার বাড়ি। ইশা রাস্তার একপাশ দিয়ে হাটতে হাটতে অপর পাশে চোখ পড়তেই দেখলো একজন মহিলা রাস্তা পাড় হওয়ার চেষ্টা করছেন, প্রায় অর্ধেক এর বেশি পথ চলেও এসেছেন তিনি। এমন সময় পাশ থেকে দ্রুতগতিতে একটি বাইক আসতে দেখে সেই মহিলা খানিকটা ঘাবড়ে গিয়ে সেখানেই দাঁড়িয়ে পরে। ইশা তার অবস্থা বুঝতে পেরে তার হাত ধরে টান দিয়ে রাস্তার পাশে নিয়ে আসে। বাইকটা সেই জায়গায় আসার পড়েই বাইকে থাকা লোকটা খানিকটা ধমকের সুরে বলে,
_দেখে রাস্তা পাড় হতে পারেননা? এখন কিছু একটা হয়ে গেলে তো দোষ আমার ই হতো।

কথাটা বলেই লোকটা বাইক নিয়ে চলে যায় সেখান থেকে। ইশা বুঝতে পারে সেই মহিলা বেশ ভয় পেয়ে আছে। তাই সে খানিকটা নরম সুরে বলে,
_একটু দেখে চলবে তো,এখনি কত বড় দূর্ঘটনা ঘটে যেতো বলো তো।

সেই মহিলা ইশার দিকে এক নজর তাকায় তবে কিছু বলতে পারেনা। ইশা নিজের ব্যাগ থেকে পানির বোতলটা বের করে তার সামনে দিয়ে বলে,
_পানিটা খাও, এত অস্থির হচ্ছো কেন হুম? কিছু হয়নি তো নাকি,এটাই অনেক। নাও খাও..

মহিলাটি ইশার হাত থেকে বোতলটা নিয়ে কিছুটা পানি খেলো, এবার সে কিছুটা শান্ত হলো। ইশার দিকে বোতলটা এগিয়ে দিয়ে তার মাথায় হাত দিয়ে বলল,
_তোমাকে যে কি বলে ধন্যবাদ দেই মা, আমার জীবন বাঁচালে তুমি।
সে এবার খানিকটা হতাশ হয়ে বলল,
_অবশ্য না বাঁচলেই বা কি হতো।

ইশা জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলল,
_এমন কথা বলছো যে? আচ্ছা বাদ দাও,তোমাকে দেখে মনে হচ্ছে তোমার শরীর ঠিক। তোমার বাড়ি কি এদিকেই? তাহলে বলো,আমি পৌঁছে দিচ্ছি তোমাকে।

মহিলা তাচ্ছিল্যের সুরে হেসে বলল,
_আমার আবার বাড়ি,হাহ.. আমার যে কোনো বাড়ি নেই মা।

_তাহলে? তুমি থাকো কোথায়?

সেই মহিলা কিছুটা সামনে একটা আশ্রমের দিকে ইশারা করে বললে,
_ঐযে আশ্রম টা দেখছো, আপাতত ওটাই আমার বাড়ি।

ইশা মহিলার দিকে লক্ষ্য করে দেখলো তার বয়স খুব একটা বেশি নয়। ইশা কিছু একটা জিজ্ঞেস করতে যাবে তখন ই তার মনে পড়ে বাড়ি যেতে অনেকটা দেড়ি হয়ে যাচ্ছে,আরো দেড়ি করলে নিশ্চই একগাদা বকা শুনতে হবে।
ইশা মহিলার দু কাঁধে হাত রেখে বলল,
_তোমার সাথে আমি অন্য একদিন কথা বলতে আসবো হ্যা। বড্ড দেড়ি হয়ে গেছে,আজ বরং আমি আসি আন্টিমনি টাটা টাটা।

কথাটা বলেই বড় বড় পা ফেলে বাড়ির দিকে চলে গেলো ইশা।

____
সকাল বেলা জিম থেকে ফিরে এসে নিজের ব্রেকফাস্ট সেরে নিলো আদৃত। বেডরুম এ এসে বারান্দার দিকে তাকাতেই বাহিরের মিষ্টি রোদ চোখে এসে পড়লো তার। অত:পর নিজের ফোন আর দুরবিন টা নিয়ে ছাদে চলে এলো সে। ছাদের উপর থেকে আশেপাশের অনেক সুন্দর একটা ভিউ পাওয়া যায়। বারোতলা ছাঁদের উপর থেকে অনেক দূড়ের এলাকাও দেখা যায়। আর ছাঁদে এলে দুরবিন দিয়ে আশেপাশের ভিউ দেখা আদৃত এর অভ্যাস।

আজও তার ব্যতিক্রম হলো না। রেলিং এর পাশে দাঁড়িয়ে দুরবিন এর মাধ্যমে আকাশে উড়তে থাকা পাখিগুলোকে দেখতে লাগলো সে। এভাবেই একটা পাখিকে মার্ক করতে করতে ধীরে ধীরে একটা বাড়ির ছাঁদে চোখ পড়লো তার। খুবই সূক্ষ্মভাবে একটি মেয়েকে দেখা যাচ্ছে। যদিও তার মুখ দেখা যাচ্ছে না, সম্ভবত অন্যদিকে তাকিয়ে নাচ করছে সে,পড়নে তার লাল রঙের শাড়ি। চুলগুলো উঁচু করে খোপা করা।
আদৃত একদৃষ্টিতে তাকিয়ে মেয়েটার নাচ দেখতে লাগলো, নিজের অজান্তেই মেয়েটার মুখ দেখার ভীষণ ইচ্ছে হলো তার।

_তোকে খুঁজতে খুঁজতে আমি পাগল হয়ে যাচ্ছি,আর তুই কিনা এখানে দাঁড়িয়ে আছিস!
ছাঁদে এসে হাপাতে হাপাতে কোমড়ে হাত দিয়ে কথাটা বলল সায়ান। সায়ান এর কথা শুনে আদৃত চোখ থেকে দুরবিন টা সরিয়ে একনজর সায়ান এর দিকে তাকালো। আবারো সেই ছাঁদের দিকে নজর দিলো সে,তবে কাউকেই দেখতে পেলো না। মুখ থেকে বিরক্তিসূচক “শিট” আওয়াজ বেড়িয়ে এলো আদৃত এর। পরক্ষণেই নিজের কাজে অবাক হলো সে। মনে মনে নিজেকে প্রশ্ন করলো,
_হুয়াট’স রং উইথ মি? এভাবে একটা মেয়ের দিকে তাকিয়ে ছিলাম আমি!

আদৃতকে নিজের ভাবনায় মগ্ন থাকতে দেখে সায়ান তার কাছে এসে বলল,
_কিরে ভাই, কোন দুনিয়ায় হারিয়ে গেলি?

আদৃত নিজের ভাবনা থেকে বেড়িয়ে এসে দুই আঙুল দিয়ে কপালে স্লাইড করে বলল,
_তেমন কিছু না। তুই বল,সকাল সকাল এখানে? কিছু হয়েছে?

সায়ান কপালে হাত দিয়ে বলল,
_তোর কি স্মৃতিশক্তি ও কমতে শুরু করলো ভাই? আমি না তোরে কাল রাতেই বললাম পূর্নকে এয়ারপোর্ট এ রিসিভ করতে যাবো, এর মধ্যেই ভুইলা গেলি?

_আসলে হাফ ঘুমের মধ্যে দেখেছিলাম তো,তাই মনে ছিলোনা। আচ্ছা তুই নিচে গিয়ে দাঁড়া,আমি জাস্ট পাঁচ মিনিট এ আসছি।

#চলবে

পূর্ববর্তী নিবন্ধ
পরবর্তী নিবন্ধ
গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ