Friday, June 5, 2026







চন্দ্ররঙা প্রেম পর্ব-১১

#চন্দ্ররঙা_প্রেম
#পর্ব-১১
#আর্শিয়া_সেহের

সূর্য পশ্চিমে ঢলে পড়েছে। মেঘা আর রুমঝুম বাড়ির কাছাকাছি চলে এসেছে। রুমঝুম চোখ বন্ধ করে মেঘার ঘাড়ে মাথা হেলিয়ে বসে আছে। মুখে মুচকি হাঁসির ছটা লেগে আছে। মস্তিষ্কে ঘুরপাক জীবনের সবচেয়ে খুশির দিনটা। শানের চোখে আজ নিজের জন্য ভালোবাসার এক অতল সমুদ্র দেখেছে রুমঝুম। ওই সমুদ্রে একবার ডুবলে শানের ভালোবাসায় তার মৃত্যু নিশ্চিত। রুমঝুম নিজের কল্পনায় অন্য এক ভুবনে শানের সাথে ঘর বাঁধতে ব্যস্ত এখন।

চারপাশে আবছা অন্ধকার‌ নেমে গেছে। বাড়ির গেট খুলে মেঘা আগে আর পিছে পিছে রুমঝুম আসছে। মেইন দরজা খোলা ছিলো। দুজন দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকে দেখলো সারাবাড়ি অন্ধকার। রুমঝুম একটু এগিয়ে মেঘার হাত ধরে বললো,
-“বাড়ি এমন অন্ধকার হয়ে আছে কেন রে?”

মেঘার উত্তরের আগেই লাইট জ্বলে উঠলো। ড্রয়িং রুমের মেঝেতে বেলুনের ছড়াছড়ি। দরজার অপজিট দিকে দেয়ালে লাল জারবেরা ফুল দিয়ে লেখা,
* HAPPY BIRTHDAY
RUMJHUM *

রুমঝুম হাঁ করে তাকিয়ে আছে। আজকে তার চমকের উপর চমক পাওয়ার দিন। মাহেরা খাতুন মুচকি হেঁসে এগিয়ে গেলো রুমঝুমের দিকে। রুমঝুম তাকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে উঠলো। জন্মের পর কখনোই সে এমাবে জন্মদিন উদযাপন করার সুযোগ পায়নি। তার একটা মা ছিলো যে জন্মদিনের দিন তাকে বাড়িতে আটকে রাখতো। সমস্ত কাজ তাকে দিয়ে করাতো। রুমঝুমের মনে হতো তার প্রতিটি জন্মদিনই তার জন্য বেদনার তবে আজ তার সেই ধারনা ভুল প্রমাণ হলো। আজকের দিনটা তার জন্য অনেক কিছু বয়ে এনেছে।

রুমঝুম নাক টেনে কেঁদে বললো,
-” তোমাদেরকে অনেক ধন্যবাদ, আন্টি।”
মাহেরা খাতুন রুমঝুমের চোখের পানি মুছিয়ে দিয়ে বললো,
-“পাগলী মেয়ে। কাঁদছিস কেন? আর এই সবকিছু মেহেদী করেছে। আমি কিছুই করিনি।”

রুমঝুম মেহেদীর দিকে তাকালো। মেহেদী একটু দূরে দাঁড়ানো। রুমঝুম মুখ খুলতে যাবে তখনই মেহেদী বললো,
-“আমাকে ধন্যবাদ জানানোর কোনো দরকার নেই। এসে কেকটা কেটে আমাকে উদ্ধার করুন মহারানী।”
রুমঝুম ফিক করে হেঁসে ফেললো। চারজন মিলে কেক কাটলো, অনেক হাসি আনন্দের মধ্যে কিছু সময় কাটালো। কিছু সময় পর মেহেদী রুমঝুম আর মেঘার দিকে তাকিয়ে বললো,
-“সারাদিন দু’জন বাইরে ছিলে। গিয়ে ফ্রেশ হয়ে নাও। ”

দুজনই চুপচাপ ফ্রেশ হতে চলে গেলো।রুমঝুম রুমে ঢুকে দরজা আটকে দিলো। কাঁধ থেকে ব্যাগটা নামিয়ে ব্যাগের মধ্যে থেকে শানের দেওয়া গাউন টা বের করলো। জামাটা বুকে জড়িয়ে বসে রইলো কিছুক্ষণ। জামাটা অতি যত্নে গুছিয়ে রেখে ফ্রেশ হতে ঢুকলো ওয়াশ রুমে।

-“ঝুম ,ঝুম দরজা খোল।”
খাটে উপুড় হয়ে শুয়ে আজকের তোলা ছবিগুলো দেখছিলো রুমঝুম। শান হোয়াটসঅ্যাপে পাঠিয়েছে ছবিগুলো। মেঘার ডাক শুনে ফোন রেখে দরজা খুললো রুমঝুম। মেঘা হুড়মুড়িয়ে রুমে ঢুকলো। রুমঝুমকে টেনে নিয়ে খাটে বসিয়ে বললো,
-“কি করছিলি রে? জিজু ফোন টোন দেয়নি এখনো?”
-“তার কি আর কোনো কাজ নেই? সারাক্ষণ চিপকে থাকবে আমার সাথে?”

মেঘা দাঁত কেলিয়ে হাসলো। খানিকক্ষণ পরে সিরিয়াস হয়ে বললো,
-“তুই খুশি তো ঝুম?”
রুমঝুম চুপ রইলো। তার লজ্জা লাগছে খুব। মেঘা টিপ্পনী কেটে বললো,
-“আহা !আবার লজ্জা পাওয়া হচ্ছে? দুই দুইবার জড়িয়ে ধরার সময় লজ্জা লাগেনি হু?”
রুমঝুমের এবার লজ্জায় কান গরম হয়ে গেলো। মেঘাকে মিছিমিছি মারতে লাগলো সে।

..

-“মা ,তুমি এগুলো উঠায় রাখো। আমি রুমঝুমকে ওর গিফটটা দিয়ে আসি।”
-“আচ্ছা যা। আমি এদিকে দেখছি।”
মেহেদী ধূসর পাঞ্জাবির পকেটে নুপুরজোড়া ঢুকিয়ে হাতে একটা চকোলেট বক্স নিয়ে রুমঝুমের ঘরের দিকে গেলো।তবে ভেতরে ঢুকতে পারলো না । তার আগেই কানে এলো রুমঝুমের উচ্ছাসিত কন্ঠ। রুমঝুম আর মেঘার কথপোকথন পুরোটাই তার কানে এলো।

মেহেদীর পুরো দুনিয়াটাই যেন ঘুরে উঠলো। তার বহু প্রতীক্ষিত ভালোবাসার মানুষটি নিজেকে হাসিমুখি অন্য কারো বন্দিনী বানাতে চায় । এর চেয়ে কঠিততম বাক্য এ পৃথিবীতে দ্বিতীয়টি কি হতে পারে? মেহেদী শরীরের ভার ধরে রাখতে পারলো না। ধপ করে মেঝেতে বসে পড়লো। হাত থেকে চকোলেট বক্সটা মেঝেতে পড়ে গেলো। সেই শব্দে মেঘা আর রুমঝুম বাইরে বেরিয়ে এলো।

মেহেদী সেকেন্ডের মধ্যেই নিজেকে সামলে নিলো। মেঘা আর রুমঝুম বাইরে এসে দেখলো মেহেদী মেঝেতে বসে আছে। মেঘা উচ্চকণ্ঠে বললো,
-“ভাইয়া ,পড়লে কিভাবে?”
মেহেদী আড়চোখে তাকিয়ে স্বাভাবিক কন্ঠে উত্তর দিলো,
-“নিজের পায়ে বেঁধে পড়ে গেছি।”
সাথে সাথেই রুমঝুম উচ্চ স্বরে হেঁসে উঠলো। মেহেদী অপলক তাকিয়ে রইলো সেই হাঁসি মাখা মুখটার দিকে। মন থেকে হাসছে মেয়েটা। কি সুন্দর লাগছে দেখতে। মেহেদী চোখ ফিরিয়ে নিলো । এই হাঁসি দেখার অধিকার বোধহয় সে হারিয়ে ফেলেছে।

মেহেদীর হঠাৎ চোখ পড়লো রুমঝুমের পায়ের দিকে। মেঝে থেকে উঠতে উঠতে বললো,
-“নুপুর কোথায় পেলে, রুমঝুম?
রুমঝুম লজ্জা পেয়ে মাথা নিচু করে ফেললো। সে মেহেদীকে কি করে বলবে যে এটা তার ভালোবাসার মানুষটির কাছে ছিলো। রুমঝুম কোনো মতে বললো,
-“পেয়েছি একজায়গায়,ভাইয়া।”
বলেই রুমঝুম ঘরে ঢুকে গেলো।

আশ্চর্য! রুমঝুমের মুখে ভাইয়া ডাক শুনে এখন আর খারাপ লাগছে না মেহেদীর। মানুষের জীবনে হয়তো একটা মূহুর্তই যথেষ্ট অনেক কিছু পাল্টে দেওয়ার জন্য।

মেঘা হাসতে হাসতে মেহেদীর দিকে তাকিয়ে বললো,
-“বুঝলে ভাইয়া, আমাদের রুমঝুম ভয়ংকর প্রেমে পড়েছে।”
মেহেদী হাসলো।‌ সেই হাঁসিতে ফুটে উঠলো একরাশ কষ্ট,বেদনা আর ব্যার্থতা। মেঘা তা দেখতে পেলো না। মেহেদী মেঘার হাতে চকোলেটের বক্সটা দিয়ে বললো ,
-“দু’জনে ভাগ করে খেয়ে নিস।”
মেঘা মাথা হেলিয়ে রুমঝুমের রুমে ঢুকে পড়লো। নুপুরজোড়া আর বের করা হলো না। অবহেলিত ভাবে পড়ে রইলো মেহেদীর পাঞ্জাবির পকেটে।

মেহেদী বহু কষ্টে নিজেকে টেনে আনলো ড্রয়িং রুম পর্যন্ত। মাহেরা খাতুন টেবিল মুছছিলো তখন। ছেলের বিদ্ধস্থ দৃষ্টি তার চোখ এড়ালো না। অনেকটা দৌড়ে এলো মেহেদীর কাছে। মেহেদী মাকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে উঠলো। মাহেরা খাতুন কিছু একটা আন্দাজ করে মেহেদীকে নিয়ে মেহেদীর ঘরে চলে গেলেন। পাছে মেয়ে দুটো দেখে ফেলে এজন্য।

মেহেদী মায়ের কোলে মাথা রেখে ঝরঝর করে কেঁদে ফেললো। বাবার মৃত্যুর পর আজই প্রথম কাদলো মেহেদী। মাহেরা খাতুন ছেলের মাথায় হাত বুলিয়ে জিজ্ঞাসা করলেন,
-“কি হয়েছে বাবা? কাঁদছিস কেন তুই? ”
মেহেদী নিজেকে সামলাতে চেয়েও পারলো না। কেঁদে কেঁদেই বললো,
-“আমার ঝুমটা অন্য কাউকে ভালোবাসে, মা। ও আমাকে বোঝেনি, মা। আমাকে একটু খানি বুঝলে কি এমন ক্ষতি হতো বলো তো?”

মাহেরা খাতুনের হাত থেমে গেলো। ছেলেকে কি বলে শান্তনা দেবেন তিনি? ধরা গলায় বললেন,
-“ভালোবাসা মানুষের মন থেকে আসে বাবা। কাকে কখন মন ভালোবেসে ফেলে সেটা মানুষ নিজেও জানেনা। তোর কপালে ঝুম ছিলো না। হয়তো অন্য কেউ তোকে চেয়েছে আর আল্লাহ তোকে তার জন্যই কবুল করেছেন।”

মেহেদীর কান্না সাথে সাথেই বন্ধ হয়ে গেলো। চোখের পাতায় ভেসে উঠলো সেই আকাশপরী।

-“আমি আজকে ক্লাস করবো না। আমাকে ঘুরতে নিয়ে চলুন না প্লিজ।”
রুমঝুম বাচ্চাদের মতো আবদার করছে শানের কাছে।‌ মেঘা ডিপজল স্যারের ক্লাস করছে। রুমঝুম পেছনের দরজা দিয়ে বেরিয়ে এসেছে লুকিয়ে। জানালা দিয়ে শানকে ক্যাম্পাসে দেখেই তার মাথায় দুষ্টু বুদ্ধি চেপেছিলো।

রুমঝুমের বাচ্চামি আবদারে শান হেঁসে মেললো। বাইকে ভর করে দাঁড়িয়ে বললো,
-“তা কোথায় ঘুরতে যাবেন ,শুনি?”
রুমঝুম একটু এগিয়ে এসে বললো,
-“যেখানে ঘুরতে নিয়ে যাবেন।”
শান দাঁত দিয়ে ঠোঁট কামড়ে বললো,
-“একদিনেই তোমার মধ্যে প্রেমিকা প্রেমিকা ভাব চলে এসেছে দেখছি।”
রুমঝুম দুই ভ্রু উঁচু করে বললো,
-“প্রোপার্টি যখন পার্সোনাল,ভাব তো একটু হবেই স্যার।”

রুমঝুমের কথায় শব্দ করে হেঁসে দিলো শান সহ আরো তিনজন। এতো গুলা গলার আওয়াজ পেয়ে রুমঝুম ভড়কে গেলো। পেছনে তাকিয়ে দেখলো সিন্থিয়া, প্রান্ত আর বিথী দাঁড়ানো। সিন্থিয়া হাসতে হাসতে এগিয়ে এসে বললো,
-“হেব্বি উত্তর দিয়েছো রুমঝুম।”
রুমঝুম লজ্জায় নুইয়ে পড়লো। এরা কখন পেছনে এসে দাঁড়ালো? এদের অস্তিত্ব আগে টের পেলে ও কখনোই এমন করে কথা বলতো না। ইশশ কি লজ্জার ব্যাপার।

.
মেঘা ক্লাস থেকে বেরিয়ে চারপাশে রুমঝুমকে খুঁজছিলো। আশেপাশে কোথাও না পেয়ে সোজা চলে গেলো কৃষ্ণচূড়া তলায়। সেখানে সিন্থিয়া, প্রান্ত আর বিথী বসে আছে। প্রান্ত মেঘাকে দেখেই হাতের ইশারায় ডাকলো। মেঘা মুচকি হেঁসে সেদিকে এগিয়ে গেলো।

এদিক ওদিক তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলো,
-“রুমঝুমকে দেখেছেন,ভাইয়া?”
-“রুমঝুম আর এ জগতে নেই রে বইন। সে তার প্রেমিক পুরুষের সাথে এতক্ষণে কোথায় উড়ে বেড়াচ্ছে কে জানে?”
সিন্থিয়ার উত্তর শুনে মেঘার ভ্রু কুঁচকে গেলো।‌সিন্থিয়া মেঘার দিকে তাকিয়ে বললো,
-“বসো এখানে। রুমঝুম আর শান একটু ঘুরতে গেছে। চলে আসবে তাড়াতাড়িই।”

মেঘা ফসস করে একটা দম ফেলে বসে পড়লো সেখানে। তিহানকে দেখতে না পেয়ে জিজ্ঞাসা করলো,
-“তিহান ভাইয়া কই? উনাকে দেখতেছি না।”
মেঘার প্রশ্ন সিন্থিয়া আর প্রান্ত স্বাভাবিক ভাবে নিলেও বিথী স্বাভাবিক ভাবে নিলো না। সে তৎক্ষণাৎ বললো,
-“কেন? তিহানের কাছে কি প্রয়োজন তোমার?”

মেঘা ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেলো।কোনো মতে মুখে হাসি টেনে বললো,
-“এমনিতেই জিজ্ঞাসা করেছি আপু। প্রতিদিন আপনাদের সাথে থাকে কিন্তু আজ নেই ,তাই।”
বিথী মুখ বাঁকিয়ে অন্য দিকে তাকালো। সিন্থিয়া বিথীর এহেন আচরণে বেশ রেগে গেলো। বিথীর উদ্দেশ্যে বললো,
-“এটা কেমন কথার ধরন বিথী? ও একটা প্রশ্ন করেছে, সেটার উত্তর সোজা ভাবে দিয়ে দিলেই তো হয়।”

বিথী মুখ ভেঙচি দিয়ে বললো,
-“তোর হবু ননদের সাথে তুই মিষ্টি করে কথা বল সিন্থু। আমাকে প্লিজ জ্ঞান দিতে আসিস না।”

বিথীর কথায় মেঘার চোখ বড় বড় হয়ে গেলো। সিন্থিয়া বিথীকে আর কিছু না বলে মেঘার দিকে তাকালো। মেঘার এমন রিঅ্যাকশন দেখে কিছুটা ভড়কে গেলো । জোরপূর্বক হেঁসে বললো,
-“আরে ওর কথা সিরিয়াসলি নিও না। মজা করেছে ও।”

তিন নারীর কথপোকথনের মাঝে বসে প্রান্ত‌ হাসতে হাসতে খুন । অবশেষে পেট চেপে বললো,
-“এবার তিনটায় থাম। তোরা কেউ কারো ননদ-ভাবী না, সবগুলা আমার শালী।”

রুমঝুম শানের পিঠে মাথা এলিয়ে দিয়ে বসে আছে বাইকের পেছনে। শানের শরীরের কড়া পারফিউমের ঘ্রানে বেশ ভালো লাগছে তার। খোলা আকাশের নিচে ছুটে চলা দু’জন তরুন তরুনীকে দেখছে আকাশে উড়ে বেরানো মেঘগুলোও। দুজনের হৃদয়েই প্রস্ফুটিত হয়ে আছে ভালোবাসার পদ্ম।
রুমঝুম মাথা তুলে জিজ্ঞেস করলো,
-“আমরা কোথায় যাচ্ছি?”
-“নেভাল বীচে।”
-“ওখানে কি আছে?”
শান ভ্রু কুঁচকে বললো,
-“কি আছে মানে?”

রুমঝুম আমতা আমতা করে বললো,
-“মানে আমি তো এই জায়গার ব্যাপারে কিছু জানি না তাই বলছিলাম আর কি।”
শান হেঁসে ফেললো। রুমঝুম শানের পিঠে গুতা মেরে কপট রাগ দেখিয়ে বললো,
-“হাসছেন কেন? একদম হাসবেন না।”
শান‌ হাঁসি থামিয়ে বললো,
-“আচ্ছা শুনো, কর্ণফুলী আর বঙ্গোপসাগরের মোহনা চট্টগ্রামে নেভাল বীচ নামে পরিচিত। নদী আর সাগর এখানে একাকার। তোমার প্রিয় পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতের আগে থেকে হযরত শাহ আমানত (রা:) আন্তার্জাতিক বিমান বন্দরের সামনের এই স্পটটি চট্টগ্রামবাসীদের কাছে জনপ্রিয়। জাহাজ আর ওপারের শিল্প-কারখানার আলোতে সন্ধ্যায় আরো মায়াবী হয়ে উঠে নেভাল এলাকা।

রাতের বেলা নেভাল একাডেমী সংলগ্ন কর্ণফুলী পাড়ের নেভাল বীচ থেকে কর্ণফুলী এবং বঙ্গোপসাগরের মিলন কেন্দ্র মোহনার সৌন্দর্য উপভোগের মজাই আলাদা। মধ্যরাত পর্যন্ত পর্যটকের কোলাহলে মুখরিত থাকে নেভাল বীচ।”

শানের কথার মাঝেই রুমঝুম গাল ফুলিয়ে বললো,
-“তাহলে তো রাতে গেলেই ভালো হতো। সৌন্দর্য রাতে দেখা যাবে তাহলে এখন গিয়ে কি করবো।”
শান হেঁসে বললো,
-“এখনো তোমাকে রাতে নিয়ে যাওয়ার সময় হয়নি বুঝোছো?”
-“তা কবে‌ হবে হুহ?”
-“একটা পূর্ণিমা রাতে। সেদিন চারপাশে ঝলমলে জোৎস্না থাকবে। আর আমার পাশে থাকবে আমার চন্দ্রকন্যা।”

রুমঝুম মুগ্ধ হয়ে শুনলো শানের কথা। চোখের পাতায় নিজেই এঁকে নিলো ভবিষ্যতের সেই রাতটির ছবি।

এই ভরদুপুরে আরমান কেন এসেছে সেটা বুঝতে পারছে না রুশান। খেতে নামার সময় উপর থেকে আরমানকে দেখেই আড়ালে চলে গেলো সে। আরমান হন্তদন্ত হয়ে ভেতরে ঢুকে চারদিকে চোখ বুলালো। আসলে সে তাহমিনা বেগমকে খুঁজছে। তাকে কোথাও না দেখে কাজের মেয়েটাকে ডাক দিলো। কাজের মেয়েটাও আরমানকে খুব ভয় পায়। সে আরমানের সামনে এসে কাঁচুমাচু মুখ করে দাঁড়ালো। আরমান গমগমে কন্ঠে প্রশ্ন করলো,
-“তোমার ম্যাডাম কোথায়?”

মেয়েটি ছোট করে উত্তর দিলো,
-“উপরে নিজের ঘরে ।”
আরমান ধপধপ পা ফেলে সিঁড়ি বেয়ে উঠে গেলো। মাঝপথে গিয়ে আবার পেছনে তাকিয়ে বললো,
-“আর ওই বিচ্ছু ছেলেটা কোথায়?”
কাজের মেয়েটা বুঝতে না পেরে ফ্যালফ্যাল করে তাকালো আরমানের দিকে। আরমান বুঝতে পেরে বললো,
-“তোমার ছোট স্যার কোথায়?”
-“সে তো সকাল থেকেই নিজের ঘরে।”
-“ওকে।”
আরমান সোজা তাহমিনা বেগমের রুমে চলে গেলেন।

রুশান বুঝতে পারলো গুরুত্বপূর্ণ কোনো কথা আছে হয়তো। নাহলে তার ব্যাপারে শুনতো না। রুশান পা টিপে টিপে তার মায়ের ঘরের দরজার সাইডে দাঁড়ালো। তখনি ভেতর থেকে আরমানের কন্ঠ শোনা গেলো।
-“আপনার মেয়ের খোঁজ পেয়েছি আমি।চট্টগ্রাম গিয়ে রংঢং করে ছেলেদের সাথে জন্মদিন পালন করতেছে সে।ছবি তুলে আবার ফেসবুকেও ছাড়ে। এবার ওকে এনে বোঝাবো যে আরমানের থেকে পালানোর শাস্তি কেমন হতে পারে। এতোগুলো দিন নাকে দড়ি দিয়ে ঘুরিয়েছে আমায়।

রুশানের পিলে চমকে উঠলো আরমানের কথায়। জানোয়ারটা আবারও তার বোনের খোঁজ পেয়ে গেলো।

চলবে……….

পূর্ববর্তী নিবন্ধ
পরবর্তী নিবন্ধ
গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ