Friday, June 5, 2026







চন্দ্ররঙা প্রেম পর্ব-১২

#চন্দ্ররঙা_প্রেম
#পর্ব-১২
#আর্শিয়া_সেহের

-“আরমান,তোমার সব টাকা আমি ফিরিয়ে দেবো। দয়া করে রুমঝুমের পেছনে আর পরে থেকো না।
-“আহা শ্বাশুড়ি আম্মা। এখন এই কথা বললে তো হবে না। এগ্রিমেন্টের কথা ভুলে গেছেন?”
-“দেখো আরমা..”
-“হুশশশ… হঠাৎ মেয়ের প্রতি দরদ উথলে উঠলো কিভাবে?আমার কাছে বিক্রি করে দেওয়ার সময় এই দরদ কোথায় ছিলো?”

রুশান কাঠ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে দরজার আড়ালে। ওদের দুজনের কথা শুনে নড়ার শক্তিটুকুও হারিয়েছে সে। তার বোনকে বিক্রি করে দিয়েছিলো? টাকার প্রতি এতো লোভ এই মহিলার?

-“আমি কাল সকালেই যাচ্ছি রুমঝুমকে আনতে। আর এই কথা যেন আপনার বিচ্ছু ছেলের কানে না‌ যায়।”

আরমানের বের হওয়ার আভাস পেয়ে রুশান দ্রুত লুকিয়ে পড়লো।‌ আরমান বাড়ি থেকে বের হয়ে গেলে রুশান তার মায়ের দরজার সামনে এসে দাঁড়ালো। তাচ্ছিল্যের হাসি হেঁসে বললো,
-“বাহ্ আম্মু বাহ্। মা না‌ হও ,একটা মেয়ে হয়ে কিভাবে করলে এমন? বিবেকে‌ বাঁধলো না তোমার? আমার ঘৃনা হচ্ছে তোমার প্রতি। জানিনা আল্লাহ কেন তোমার মতো মহিলার গর্ভে পাঠালো‌ আমাকে। এতো অন্যায় কিভাবে করো তুমি? তোমাকে মা ডাকতে লজ্জা করছে আমার।”

রুশানের কথায় চমকে উঠে পেছনে তাকালো‌ তাহমিনা বেগম। রুশানকে সে এই কথাটা জানতে দিতে চায়নি। সে জানে রুশান‌ কতটা ভালোবাসে রুমঝুমকে। রুশান কখনো ক্ষমা করবে না তাকে। রুশান তাকে ঘৃণা করে মা ডাকা বন্ধ করে দিবে ভেভেই তার বুক কেঁপে উঠলো।
তাহমিনা বেগম তড়িঘড়ি করে এগিয়ে এলেন রুশানের দিকে। রুশান দু’পা পিছিয়ে গেলো। কড়া কন্ঠে বললে,
-“কখনো‌ আমার আশেপাশে আসবে না তুমি। আমি ঘৃনা করি তোমাকে।”
বলেই ধুপধাপ পা ফেলে নিজের ঘরে চলে গেলো রুশান।

তাহমিনা বেগম অনুভূতিশূন্য হয়ে পড়েছে। এমন জীবন রেখে কি লাভ যেখানে নিজের সন্তানই তাকে ঘৃনা করে। তাহমিনা বেগম ধীরে ধীরে মেঝেতে বসে পড়লো। মনে মনে জীবনের সবচেয়ে বড় ডিসিশনটাও নিয়ে নিলো। তবে সেটা কার্যকর করার জন্য সঠিক সময়ের অপেক্ষা করতে হবে।

রুশান নিজের ঘরে ঢুকে দরজা আটকে দিলো। বিছানায় বসে দুহাতে মুখ চেপে বসে রইলো। কলিজা ছিড়ে যাচ্ছে তার। কষ্টে বুকের মধ্যে ভাঙচুর শুরু হয়েছে। তার মা ই কেন এমন হলো? মায়ের এই রুপ কোনো সন্তান কিভাবে সহ্য করে? রুশান নিজেকে সামলে নিলো। এখন তার আপুকে বাঁচাতে হবে। ওই স্বার্থপর মহিলার কথা ভেবে সময় নষ্ট করলে চলবে না।

দুপুর আড়াইটার মতো বাজে। শান আর রুমঝুম দু’জনই ঘেমে একাকার। কিছুক্ষণ আগেই ওরা নেভাল থেকে ফেরার উদ্দেশ্যে বাইকে বসেছে। বেশ কিছু পথ আসার পর রুমঝুমের ফোন বেজে উঠলো। রুমঝুম ফোন বের করে দেখলো রুশান কল করেছে। রুশানের কল দেখেই রুমঝুমের ভ্রু কুঁচকে এলো।‌ এমন টাইমে তো‌ রুশান কল করে না। রুমঝুম ভাবনা বাদ দিয়ে ফোন রিসিভ করলো।

-“হ্যালো, রুশান।”
ওপাশ থেকে থেকে কথা স্পষ্ট শুনতে পাচ্ছে না রুমঝুম। ছুটে চলা বাইকের শাঁ শাঁ শব্দে কথা শোনা মুশকিল হয়ে দাঁড়িয়েছে। রুমঝুম শানকে বাইকটা একটু সাইড করে দাঁড় করাতে বললো।শান‌ বাইক দাঁড় করালে রুমঝুম কথা শুরু করলো আবার।

-“হ্যালো, হ্যালো, আপু শুনতে পাচ্ছো?”
-“হ্যাঁ পাচ্ছি, বল এবার।”
-“আপু আরমান শয়তানটা আবার তোমার খোঁজ পেয়ে গেছে। আপু পালাও তুমি।আবার পালাও।”
রুমঝুম বাইক থেকে নেমে গেলো। আচমকা চোখ ফেটে জল বেরিয়ে এলো। আর কত সহ্য করবে ও?
রুমঝুমের হঠাৎ এমন অবস্থা দেখে ঘাবড়ে গেলো শান। রুমঝুমের কাঁধ ধরে নিজের দিকে ঘুরালো। রুমঝুম শানের বুকে হেলে পড়ে ঝরঝর‌ করে কেঁদে উঠলো। রুশান তখনও লাইনে আপু আপু করে যাচ্ছে।

শান রুমঝুমকে এক হাতে বুকে আগলে ধরে অন্য হাতে ফোন কানে ধরলো। রুশান আবারও আপু বলতেই শান উত্তর দিলো,
-“আমি তোমার আপু নই। তোমার আপুকে কি বললে যার জন্য সে এভাবে ভেঙে পড়লো?”

রুশান থেমে গেলো। কিছুটা সময় নিয়ে বললো ,
-“আপনি কে? আমার আপুর কাছে কি করছেন?”
-“তোমার আপুর শুভাকাঙ্ক্ষী আমি। তার সুরক্ষা বলয়।”
রুশানের বুঝতে বেশ কিছুক্ষণ সময় লাগলো। যখন বুঝলো তখন মুখে ফুটে উঠলো স্বস্তিময় হাঁসি। যাক ,তার বোনেরও শেষমেশ কেউ একজন হয়েছে।

রুশানের নিরবতা দেখে‌ শান আবারও বললো,
-“হ্যলো, শুনতে পারছো আমার কথা?”
-“জ্বি ভাইয়া শুনতে পাচ্ছি।”
-“কি সমস্যা হয়েছে আমাকে বলো।”
রুশান একে একে আজকের সব কাহিনী বললো। শানের চোয়াল শক্ত হয়ে এলো সব শুনে। রুশানকে আশ্বস্ত করে শান বললো,
-“তুমি চিন্তা করো না। তোমার আপুকে আমি দেখে রাখবো। নিজের খেয়াল রেখো।”
-“আপনারাও আপনাদের খেয়াল রাখুন ভাইয়া।”
ফোন কেটে রুশান‌ স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললো। তার কেন জানি আর চিন্তা হচ্ছে না আপুর জন্য। হয়তো তার চিন্তা কমানোর জন্য আরেকজন এসে গেছে‌ তাই।

রুমঝুম শানের বুকে নিস্তেজ হয়ে পড়ে আছে। শানও রুমঝুমকে আগলে ধরে বসে আছে । রুমঝুম দীর্ঘ সময় পর মাথা তুলে বললো,
-“ও আমাকে পেয়ে গেছে। ও আমাকে নিয়ে আঁটকে রাখবে। জোর করে বিয়ে করবে। অনেক বাজে লোক ও। আমি মরে যাবো এবার । বিশ্বাস করুন, আমি মরে যাবো।

শানের নিঃশ্বাস আটকে যাওয়ার উপক্রম হলো রুমঝুমের শেষ কথায়। সে রুমঝুমের মাথা শক্ত করে বুকের সাথে চেপে ধরলো। ধরা গলায় বললো,
-“এমন কিচ্ছু হবে না ,চন্দ্রকন্যা। আমি আছি তো।”

আবারও কিছু সময় নিরবতায় কাটলো। হঠাৎ করেই রুমঝুম দাঁড়িয়ে পড়লো। আচমকা এমন হওয়াতে শান কিছুটা ভড়কে গেলো। সেও উঠে রুমঝুমের মুখোমুখি দাঁড়ালো। রুমঝুমের মুখে চোখের পানি শুকানোর দাগ পরে গেছে ইতোমধ্যে। রুমঝুম শানের চোখে চোখ রেখে বললো,
-“বিয়ে করবেন আমাকে? আজই ।”

শান হঠাৎ এমন কথা শুনে খানিক চমকে গেলো। বাড়িতে না জানিয়ে বিয়ে করবে কিভাবে? আবার রুমঝুমের দিকটাও ভাবতে হবে।
তাছাড়া এখানে না করার কোনো অপশন নেই। বাবার অফিসের অর্ধেক দায়িত্ব তার উপরে। এখন বিয়ে করা তার জন্য কঠিন কিছু না। তাছাড়া ভালোবাসাটাও হালাল হবে আর মেয়েটা শান্তিও পাবে। বাবা-মাকে বুঝিয়ে বললে তারা অবশ্যই বুঝবে।

শান কোনো কথা না বলে প্রান্তর কাছে ফোন করলো। প্রান্ত ,সিন্থিয়া আর মেঘা ক্যান্টিনে বসে খাচ্ছিলো তখন।
শানের কল দেখে প্রান্ত স্পিকার অন করে টেবিলে রেখে কথা বলা শুরু করলো।
-“হ্যাঁ শান‌, বল।”
-“ঘন্টা দুয়েকের মধ্যে কাজী অফিসে পৌঁছাবি। আমি রুমঝুমকে আজই বিয়ে করবো।”

প্রায় সাথে সাথেই মেঘা কেঁশে উঠলো। শান মেয়েলি শব্দ শুনে বললো,
-“তোর পাশে কে?”
প্রান্ত তখনও ঘোরের মধ্যে। শানের হঠাৎ বিয়ের ডিসিশন তার মস্তিষ্ক এখনো মেনে নিতে পারে নি। প্রান্তকে হতভম্ব হয়ে বসে থাকতে দেখে সিন্থিয়া ফোন তার দিকে টেনে নিলো।
গলা খাঁকারি দিয়ে বললো,
-“আমি,মেঘা আর প্রান্ত আছি এখানে। হঠাৎ এমন ডিসিশন কেন‌ নিলি?”
ভেবে চিন্তে নিয়েছিস?”

শান একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে রুশানের বলা সবকিছুই খুলে বললো। মেঘা, প্রান্ত ,সিন্থিয়া তিনজনই নির্বাক। এই মেয়েটার কপালটা এমন হলো‌ কেন?
প্রান্ত বললো,
-“কিন্তু আঙ্কেল-আন্টি? উনাদের বলবি না? ”
-“আমি ঝুমকে বউ করে নিয়ে উনাদের সামনে যাবো। বুঝিয়ে বললে নিশ্চয়ই বুঝবেন তারা। তোরা প্লিজ কাজী অফিসে চলে আসিস।”

প্রান্ত উত্তর দেওয়ার আগেই শান ফোন কেটে দিলো। রুমঝুম এতক্ষণ হা করে শানের মুখের দিকে চেয়ে ছিলো। সে ভাবতেই পারেনি যে শান এতো সহজে রাজি হয়ে যাবে। শান ফোন পকেটে ঢুকিয়ে রুমঝুমের দিকে তাকানো মাত্রই রুমঝুম মাথা নিচু করে ফেললো। বিয়ে করতে বলার সময় লজ্জা না‌ লাগলেও এখন বেশ লজ্জা লাগছে।

শান মুচকি হেঁসে প্যান্টের পকেটে হাত ঢুকিয়ে শিষ বাজাতে বাজাতে রুমঝুমের দিকে এগিয়ে এলো। কানের কাছে ফিসফিস করে বললো,
-“এখনই এতো‌ লজ্জা পেলে কি করে হবে লজ্জাবতী? আজকে রাতের জন্যও কিছু রাখো। ”
রুমঝুমের এবার লজ্জায় মাটির নিচে ঢুকে যাওয়ার মতো অবস্থা হলো। শান রুমঝুমের মুখভঙ্গি দেখে শব্দ করে হেঁসে ফেললো।

রুমঝুমের হাত ধরে নিয়ে বাইকে উঠে বসলো। রুমঝুম পেছন থেকে দুই হাতে জড়িয়ে ধরলো শানকে। মনের মধ্যে অন্যরকম প্রশান্তি কাজ করছে এখন।

-“আমি কাজী অফিসে যাবো না। ”
সিন্থিয়ার কথা শুনে মেঘা আর প্রান্ত দু’জনই বেশ‌ অবাক হলো। সবকিছু জেনেও মেয়েটা বেকে বসলো কেন?
প্রান্ত ভ্রু কুঁচকে বললো,
-“কেন যাবি না? সবকিছু শোনার পরও বলছিস যাবো না?”
সিন্থিয়া উল্টো দিকে ঘুরে ঠোঁট টিপে হাসলো। তারপর কন্ঠে গাম্ভীর্য ঢেলে বললো,
-” হ্যাঁ যাবো না। আমি চাই না ওদের বিয়ে এভাবে হোক।”

মেঘার এবার রাগ হলো। রুমঝুমের এমন বিপদের সময় সিন্থিয়ার এই রুপ ওর মোটেই ভালো লাগছে না। মেঘা ধপধপ করে এগিয়ে গেলো সিন্থিয়ার সামনে। রাগী মুখে সিন্থিয়ার দিকে তাকিয়ে বেকুব বনে গেলো। মেয়েটা মিটিমিটি হাসছে কেন?

সিন্থিয়া হা হা করে হেঁসে উঠলো। দুজনের দিকে তাকিয়ে বললো,
-“দু’জন তো দেখছি আমাকে চোখ দিয়েই গিলে খাবি। আরে আমি আসলেই চাই না ওদের বিয়ে এভাবে হোক কিন্তু এটা তো চাই যে ওদের বিয়ে হোক।”

প্রান্তের ভ্রু কুঁচকে কপালে ভাঁজ পড়লো‌ সিন্থিয়ার কথা শুনে। কপট রাগ দেখিয়ে বললো,
-“সরাসরি বল যা বলবি। এভাবে ঘুরায় পেঁচায় বলছিস কেন?”
সিন্থিয়া দাঁত কেলিয়ে বললো,
-“চল ওদের একটা সারপ্রাইজ দেই।”
মেঘা বললো,
-“কি সারপ্রাইজ?”

এরপর সিন্থিয়া ওদের সবটা বুঝিয়ে বললো। সবকিছু শুনে প্রান্ত আর মেঘার মুখেও হাঁসি ফুটে উঠলো। সিন্থিয়া মেঘার দিকে তাকিয়ে বললো,
-“কি মেঘা? পারবে তো?”
মেঘা ভাব নিয়ে বললো,
-“আলবাত পারবো।”
সিন্থিয়া হেঁসে বললো,
-“তাহলে কাজ সেরে ফেলো।”
মেঘা ওদের দুজনকে বিদায় জানিয়ে দ্রুতপদে বাড়ির রাস্তা ধরলো।

সিন্থিয়া উঠে দাঁড়াতে দাঁড়াতে প্রান্তের উদ্দেশ্যে বললো,
-“তিহান‌ আর বিথীকে ফোন‌ দে। হাতে সময় কম। তাড়াতাড়ি করতে হবে সবকিছু।”

শান কাজী অফিস থেকে বেশ দূরে একটা শপিং মলে ঢুকেছে রুমঝুমকে নিয়ে। উদ্দেশ্য রুমঝুমকে একটা শাড়ি আর একটা সোনার নাকফুল কিনে দেওয়া। কিছু না দিয়ে বিয়ে করাটা কেমন দেখায়। অ্যাটলিস্ট একটা নতুন শাড়ি তো পড়ুক।

রুমঝুম শানের পিছু পিছু হাঁটছে আর হাত দুইটা মুচড়াচ্ছে নিজেই। শান একবার পিছনে তাকিয়ে রুমঝুমের অবস্থা দেখে নিলো। আবার সামনে তাকিয়ে হাঁটতে হাঁটতে বললো,
-” এতো বেশি টেনশন‌ করছো কেন?”

রুমঝুম হয়তো এই প্রশ্নের জন্যই অপেক্ষা করছিলো।‌ সে ধীর গতিতে দৌড়ে শানের পাশাপাশি এসে হাঁটা শুরু করলো। আড়চোখে একবার শানের দিকে তাকিয়ে বললো,
-“আপনার বাবা-মা,আন্টি, মেহেদী ভাইয়া এদেরকে নিয়ে টেনশন হচ্ছে। এরা ব্যাপারটা কিভাবে নিবে বুঝতে পারছি না। আমাকে খুব খারাপ মেয়ে ভাববে এরা।”

শান হাঁটার গতি কমিয়ে দিলো। রুমঝুমের হাতের আঙুলের ফাঁকে নিজের আঙুলের জায়গা করে নিয়ে শক্ত করে হাতটা ধরলো। রুমঝুমকে আশ্বস্ত করে বললো,
-“আমি সব্বাইকে ম্যানেজ করে নিবো দেখো। একটুও ভয় পেয়ো না তুমি।”
রুমঝুম মুচকি হেঁসে মাথা দোলালো।
মুখে এমন কথা বললেও মনে মনে শান বেশ ঘাবড়ে আছে। প্রথমে সবাই কেমন রিঅ্যাক্ট করবে সেটা ভেবেই ঘাম ছুটে যাচ্ছে তার। মনে মনে প্রার্থনা করছে, সবটা যেন ভালোয় ভালোয় মিটে যায়।

রুমঝুম শাড়ি পছন্দ করার দায়িত্ব শানের উপর ছেড়ে দিয়েছে। তার মতে,শানের পছন্দ অনেক সুন্দর। জন্মদিনের গাউনটা শান নিজের পছন্দে কিনেছে এটা জানার পরই তার এমন ধারনা জন্মেছে।
শান অনেক খুঁজে একটা সিঁদুর লাল রঙের শাড়ি বের করলো। রুমঝুমেরও বেশ পছন্দ হলো সেটা। শান‌ শাড়িটা কিনে রুমঝুমকে ট্রায়াল রুমে পাঠালো চেন্জ করে আসার জন্য। আর সে পাশের একটা জুয়েলারি দোকানে গেলো নাকফুল কিনতে।

রুমঝুম শাড়ি পড়ে বেরিয়ে এলো প্রায় সতেরো মিনিট পর। বের হয়ে আশেপাশে শান কে কোথাও দেখতে পেলো না সে। কিন্তু একেবারের জন্যও বুক কাঁপেনি তার। রুমঝুমের দৃঢ় বিশ্বাস,শান কখনোই তাকে ঠকাবে না।

প্রায় চার মিনিট পর শান রুমঝুমের পাশে এসে দাঁড়ালো। একসাথে হাঁটতে হাঁটতে রুমঝুমকে জিজ্ঞেস করলো,
-“কতক্ষন দাঁড়িয়ে আছো?”
রুমঝুম বললো,
-“পাঁচ মিনিটের মতো।”
-“ভয় পেয়েছো?”
রুমঝুম আড়চোখে তাকিয়ে বললো,
-“ভয় পাবো কেন?”
শান হেঁসে বললো,
-“এই যে তোমাকে বিয়ে না করার জন্য যদি ফেলে চলে যেতাম?”
রুমঝুম হাঁসলো । খুবই চমৎকার সেই হাঁসি। হাঁসির মাধ্যমেই হয়তো বুঝিয়ে দিলো যে সে কতখানি বিশ্বাস করে শান কে।

..

প্রায় একঘন্টা যাবৎ শান‌ আর রুমঝুম কাজী অফিসের সামনে দাঁড়িয়ে আছে। ওদের কারোরই পাত্তা নেই। শান এই পর্যন্ত প্রায় একশোবারের মতো কল করেছে ওদের চারজনকে। একজনও ফোন তুলছে না। শানের এবার প্রচন্ড রাগ হচ্ছে আর রুমঝুমের হচ্ছে ভয়।

কাজী অফিস থেকে বেশ কিছুটা দূরে পার্কিং এরিয়া। শান সেদিকে তাকাতেই হোঁচট খেলো। চোখ বড় বড় হয়ে গেলো তার।
খানিক দূরেই দেখা যাচ্ছে তার বাবা-মা,মেঘা ,মেঘার মা আর ভাই আসছে।
রুমঝুম তাদেরকে দেখে শানের হাত খামচে ধরলো।
শাফিয়া আক্তার শানের সামনাসামনি এসে দাঁড়ালো। কিছুক্ষণ শানের মুখের দিকে তাকিয়ে থেকে ঠাসস করে থাপ্পড় বসিয়ে দিলো তার বাম গালে।
রুমঝুম কেঁপে উঠলো থাপ্পড়ের শব্দে। শান হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে রইলো তার মায়ের দিকে।

চলবে…..

পূর্ববর্তী নিবন্ধ
পরবর্তী নিবন্ধ
গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ