Friday, June 5, 2026







শিউলি পাওয়া পর্ব-০৩

#শিউলি_পাওয়া <তৃতীয় পর্ব>
#ঈপ্সিতা_মিত্র
<৫>
অনিন্দর মনের অবস্থার কথা দীপ বেশ ভালো করেই বুঝতে পারছিলো | সেইদিন সন্ধ্যেবেলা ওর ওই থমকে যাওয়া মুখ দেখে দীপেরও খারাপ লাগছিলো | হ্যাঁ , মানছে যে ওর বন্ধু একটা সময় ভুল করেছে | কিন্তু ওই ভূমি মেয়েটা কি শুধু ভুলটাই দেখলো ? ভুলের পরে অনিন্দ যে কতভাবে সেটাকে ঠিক করার চেষ্টা করেছে , এলোমেলো সম্পর্কটাকে নতুন করে সাজানোর চেষ্টা করেছে , দিনের পর দিন একটা ফোন কলের অপেক্ষা করেছে , ভূমির অপেক্ষা করেছে , সেইসব কিছুই ওর নজরে এলো না ! আর একটা ভুল দিয়ে একজন মানুষকে বিচার করা কি ঠিক ! এইসব ভাবনাগুলো বার বার এসে ভিড় করছিলো ওর মনে | এর মধ্যে অনিন্দর বাবা দীপকে জোর করে সন্ধ্যেবেলা পাড়ার ফাংশনের রিহার্সালে নিয়ে গেলো | আর রিহার্সালে পৌঁছেই এনাউন্সও করে দিলো যে দীপ এইবার পুজোর ফাংশনে গান গাইবে | যাই হোক , সেইদিন রিহার্সালে এসে ওর বেশ ভালোই লাগছিলো | পাড়ার পুজোর একটা আলাদা ফ্লেভার আছে ! একদিকে পাড়ার কাকুদের নাটকের ডায়লগ প্র্যাকটিস , আর একদিকে সব কাকিমা জেঠিমাদের শ্যামা সংগীত প্র্যাকটিস , আর এদের মাঝখানে পাড়ার সব কচিকাচাগুলোর মম চিত্তে নীতি নৃত্যেতে নাচ , মানে যাকে বলে একেবারে জমজমাট ব্যাপার | এইসব দেখে দীপের মুখে একটা হাসি আপনাআপনিই চলে এলো , তবে সেই হাসিটা যদিও বিশেষ দীর্ঘ্যস্থায়ী হলো না ! কারণ ওই পাড়ার কাকিমা জেঠিমাদের ভিড়ের মাঝখান থেকে হঠাৎ একটা চেনা গলার আওয়াজ কানে এলো ! সেই সকালের লাল সালোয়ার , কথা | সে বেশ হাসি হাসি মুখেই পাড়ার সবাইকে শুনিয়ে শুনিয়ে বললো , ” দীপ শুধু ভালো গানই গান না , উনি দারুণ ফটোগ্রাফারও | প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখলে ফটো না তুলে থাকতেই পারেন না ! তা উনি যদি আমাদের পাড়ার ফাংশনের ফটোগ্রাফার এর দ্বায়িত্বটাও নেন , কেমন হয় ?” …………. কথাটা শুনে দীপের মুখটা রাগে লাল | খুব ভালো করে বুঝলো যে মেয়েটা ওকে বিধিয়ে বিধিয়ে কথাগুলো বলেছে | কিন্তু এর কোনো প্রত্যুত্তর দিলো না ও | কারণ এখন ওর এই মেয়েটাকেই দরকার | আসলে এই পাড়ার ফাংশনের রিহার্সালে আসার আর একটা কারণ হলো এই মেয়েটাই | ও জানতো এখানে এলে এই মেয়েটার সাথে দেখা হবেই হবে | অনিন্দ সকালে বলেছিলো না যে এই মেয়েটাই ভূমির বোন | তো এই বোনকে কাজে লাগিয়েই অনিন্দর ভাঙাচোড়া লাভস্টোরিটা কে জোড়া লাগাতে হবে ! এইসব ভেবেই সেইদিন কিছুক্ষণ পর ও নিজে যেচে পরেই কথার সামনে গেলো | তবে কথার যেন ওকে দেখলেই কথা শোনাতে ইচ্ছে করে , তাই দীপ সামনে আসতেই ও আস্তে আস্তে বলে উঠলো , ” দেখুন , আপনার নাম পাড়ার ফটোগ্রাফার হিসেবে রেকমেন্ড করেছি আমি | আমার নাম ডোবাবেন না কিন্তু | ভালো ফটো তুলতে হবে , ঠিক আছে |” ……..
না , ব্যাস , অনেক হয়েছে | এর বেশি সহ্য শক্তি নেই দীপের | এইসব শোনার পর একটা প্রত্যুত্তর না দিলে ওর আজ রাতে শান্তিতে ঘুম হবে না ! তাই একটু হেসে বললো , ” আসলে সব কিছু তো আর ফোটোগ্রাফারের হাতে থাকে না | মানে যার ফটো তোলা হচ্ছে তার ওপরও ডিপেন্ড করে ব্যাপারটা | মানে ধরো একটা কাককে আমি যত রকম এঙ্গেল থেকে যত রকম এফেক্ট ইউজ করেই ফটো তুলি , সেই ফটো তে তো আর তাকে ময়ূর লাগবে না ! ”
কথাটা শুনে কথার মুখ রাগে লাল | কি হলো ব্যাপারটা ! এই ছেলেটা ইন্ডিরেক্টলি ওকে কাক বললো ! ইশ , কি অপমান | তবে হাজার চেষ্টা করেও এর কোনো উত্তর দিতে পারলো না কথা | আর সত্যি বলতে কি এর বেশি কথা বাড়িয়েও কাজ নেই | এই ছেলেকে ওর নিজের দরকার | দিদি বেকার বেকার অনিন্দদার ওপর রাগ দেখাচ্ছে ! এতদিন হয়ে গেছে ঘটনাটার , কিন্তু দিদি নিজেও তো আজ অব্দি অনিন্দদাকে ভুলতে পারেনি ! তাই তো কতগুলো বছর চাকরির নাম করে শান্তিনিকেতনে কাটিয়ে এলো | আসলে তো ও এই জায়গাটা থেকে , এই স্মৃতিগুলো থেকে পালাতেই চেয়েছিলো | আর এইবার পুজোয় যখন অনিন্দদা দিদিকে মানাতে চায় , ফিরে পেতে চায় , তখন কথারও ওকে হেল্প করা দরকার | তবে এইসব কিছুর জন্য একটা মাধ্যম চাই | এইসব কাজ একা একা হয় না | তাই এই বোম্বে থেকে আসা সিঙ্গার কাম ফোটোগ্রাফেরকেই ওর এখন খুব দরকার | কিছুক্ষণ সময় ধরে এইসব ভেবেই ও দীপকে বললো ,
” আপনার সাথে আমার কিছু দরকারি কথা আছে | একটু সামনের গঙ্গার ধারে চলুন | এখানে অনেক ভিড় | বলা যাবে না |”
দীপ এটা শুনে অবাক ! এ তো মেঘ না চাইতেই জল | এই মেয়েটার সাথে আলাদা কথা বলাটা তো এখন ওরও দরকার |
যাই হোক , এইসব কথার কিছুক্ষনের মধ্যেই দুজনে রিহার্সালের ভিড় পেরিয়ে গঙ্গার ধারের নির্জনতায় হাজির | এরপর কথা-ই কথা বলা শুরু করলো |
” দেখুন , আমি এখানে খুব গুরুত্বপূর্ন একটা কথা বলার জন্য আপনাকে ডেকে এনেছি | আপনার হেল্প চাই আমার | করবেন ?”
দীপ ব্যাপারটা বুঝতে পারলো না | এই ডায়লগ তো দীপ রেডি করে এসেছিলো ! কথা কি করে বলে ফেললো ! যাই হোক , একটু চিন্তান্বিত মুখ করেই জিজ্ঞেস করলো , ” কি হেল্প ? অনিন্দ আর ভূমির ঝামেলা সল্ভ করার ব্যাপারে কি ?”
কথাটা শুনে কথার মুখে চওড়া হাসি | যাক , ছেলের মাথায় বুদ্ধি আছে | বুঝেছে তাহলে ! ——– ” হ্যাঁ , রাইট | ঠিক ধরেছেন | অনিন্দদা আর দিদিকে মেলাতে হবে | যেভাবেই হোক | আসলে আমার মাথায় একটা প্ল্যান আছে | কিন্তু একা একা সেই প্ল্যানটা এক্সিকিউট করা সম্ভব না | তাই তোমার হেল্প চাই | ওহ , সরি , আপনাকে তুমি বলে ফেললাম |” …. কথাটা বলেই কথা জীব কামড়ালো |
অনিন্দ ব্যাপারটা দেখেই বলে উঠলো , ” না না , ইট’স ওকে | আমাকে তুমি বলাই যায় | আমি কোনো সিনিয়র সিটিজেন নোই | আর আমিও তোমার সাথে এই ব্যাপারেই কথা বলতে চাইছিলাম | অনিন্দ সিরিয়াসলি নিজের ভুলটা বুঝেছে | ও ভূমিকে খুব ভালোবাসে | তাই তোমার একটু নিজের দিদিকে বোঝানো দরকার , যাতে অনিন্দকে আবার একসেপ্ট করে নেয় |”
কথাটা শুনে কথা বেশ বিরোক্তভাবেই বললো , ” তুমি কি ভেবেছো ? আমি বোঝায়নি ! আর শুধু অনিন্দদাই না , আমার দিদিও তো খুব ভালোবাসে ওকে | শুধু প্রব্লেম হচ্ছে সেটা মানতে চায় না | আসলে সেইবার দিদির কোথাও একটা সেলফ রেসপেক্ট এ লেগেছিলো | অনিন্দদা ঐভাবে মুখের ওপর ফোনে ব্রেক আপ করে দিলো ! দিদি সেটা একসেপ্ট করতে পারেনি | কিন্তু এইভাবে তো সব শেষ হয়ে যেতে পারে না | তাই সোজা আঙুলে ঘি না বেরোলে তো আঙ্গুলটাকে বেঁকাতেই হবে | যাই হোক, তুমি হেল্প করবে কি না বলো ? আর বোঝাতে পারছি না আমি |”
” আচ্ছা আচ্ছা, ঠিক আছে | করবো হেল্প | কিন্তু প্ল্যানটা কি ?”
দীপের প্রশ্নটা শুনে কথা একটু হেসে বললো, ” তুমি ব্যান্ডেল চার্চ দেখেছো ?”
” কিইই ? ব্যান্ডেল চার্চ ! ” ,. দীপ যেন এবার আকাশ থেকে পড়লো !
” উফ , দেখেছো কি না বলো ? এক কথায় উত্তর প্লিজ |” …
” না , দেখিনি | কেন ? ব্যান্ডেল চার্চ এর সঙ্গে অনিন্দ আর ভূমির কি সম্পর্ক ?”
এটা শুনে কথা বেশ কনফিডেন্সের সঙ্গে একটু হেসে বললো , ” সেটা কাল বুঝবে | তুমি কাল সকাল দশটায় ব্যান্ডেল চার্চ দেখতে অনিন্দদাকে নিয়ে পৌঁছে যেও | ব্যাস তাহলেই হবে | বাকিটা আমার ওপর ছেড়ে দাও |”
দীপ এইসব শুনে একটা জিনিসই ভাবলো , মেয়েটা কি পাগল ! এই কথাটা ও যখন কথাকে প্রথমবার দেখেছিলো , তখনই মনে হয়েছে | তবে পাগলদের সাথে বেশি তর্ক করে লাভ নেই | তাই দীপও আর কথা বাড়ালো না | আর মেয়েটা যা বলছে সেটা একবার করেই দেখা যাক | কি হয় কাল ব্যান্ডেল চার্চে নয় গিয়েই বুঝতে পারবে !
<৬>
আগেরদিনের কথা মতন দীপ অনিন্দকে সঙ্গে নিয়ে ঠিক সকাল দশটার সময় পৌঁছে গেলো ব্যান্ডেল চার্চে | কিন্তু এ কি ! গেটের সামনে তো কেউ নেই ! কি হলো ব্যাপারটা ? কথা নিজেই তো কাল কি সব প্ল্যানের কথা বললো | আর তারপর কি নিজেই বেপাত্তা হয়ে গেলো ! কিছুই বুঝতে পারছিলো না দীপ | ওর এইসব ভাবনার ভিড়েই অনিন্দ বলে উঠলো , ” কি রে ? ভেতরে চল | গেটের সামনে এইভাবে দাঁড়িয়ে আছিস কেন ? সকাল থেকে তো আমার মাথা খারাপ করে দিলি , ব্যান্ডেল চার্চ দেখবো বলে | এখন দাঁড়িয়ে আছিস কেন ?”
এর উত্তরে কি বলবে দীপ ! যে পুরোটাই প্ল্যান ছিল রে | না , অতো সত্যি বলা যাবে না , তাই একটু মিথ্যে সাজিয়েই বললো ,
” উফ | এমনি | মানে বাইরে থেকে চার্চটা কে দেখছি | খুবই সুন্দর !”
কথাটা শুনে অনিন্দ একটু ভদ্রতার হাসি হেসে বললো , ” বাহ্ , খুব ভালো কথা | চল আর একটু | তাহলে ভেতর থেকেও দেখতে পাবি |”
এই সময়েই হঠাৎ চার্চের গেটের সামনে একটা অটো এসে থামলো | আর সেই অটো থেকে নামা যাত্রীদের দেখে দীপের মুখে একটা চওড়া হাসি | কিন্তু অনিন্দর মুখটা একদম থমকে গেলো ! ভূমি দাঁড়িয়ে ওর সামনে , সঙ্গে ওর বোন কথা | ওরা এখানে কি করে এলো ! তাহলে কি আজকেও দেখা হওয়ার ছিল ওদের | এইসব এলোমেলো ভাবনার মাঝেই কথা অনিন্দ আর দীপের দিকে হাসি মুখে এগিয়ে এলো , ” আরে ! তোমরা ! এখানে ? ” … ওর ভাবটা এমন যেন কিছুই জানতো না | দীপের ব্যাপারটা দেখে এক সেকেন্ডের জন্য হাসি চলে এসেছিলো ! বাবা, কি এক্টিং জানে মেয়েটা | যাই হোক , ও আর সময় নষ্ট না করে নিজের ভেতর থেকে শাহরুখ খানটাকে বার করে দ্বিগুন এক্টিং দেখিয়ে বললো , ” আরে কথা ! তুমি | হোয়াট এ সারপ্রাইজ .. ” …
এই পুরো দৃশ্যটা দেখে ভূমির মুখটা যদিও ভীষণ কঠিন হয়ে গেছে এখন | এই ভাবে এখানে অনিন্দর সাথে দেখা হবে জানলে কখনোই আসতো না ! ও বেশ বিরক্তির সাথেই তাই কথার কানের কাছে এসে বললো , ” এইসব হচ্ছে টা কি কথা ? তুই কি এইসব দৃশ্য দেখানোর জন্য আমাকে সকাল সকাল জোড় করে চার্চে নিয়ে এলি ? আর ওই ছেলেটা আবার কে ? ওর সাথে তোর অত হেসে হেসে কথা কিসের !”
কথা এইসব প্রশ্নগুলোর জন্যই তৈরী ছিল | তাই রেডি করা উত্তর গুলো মুখস্ত বলে ফেললো , ” উফ , দিদি , আমি কি করে জানবো যে অনিন্দদা ওর বন্ধু দীপ কে নিয়ে আজকে এই সময়েই চার্চে আসবে ! আমি কি জ্যোতিষী না কি | আর ওই ছেলেটা মানে দীপ , ওর সাথে আমার কালকে রাত্রেই আলাপ হয়েছে | আমাদের পাড়ার ফাংশনের রিহার্সালে | দীপও ডাক্তার , অনিন্দদার সাথে একই হসপিটালে প্র্যাকটিস করে | আর ছেলেটার সাথে প্রথম আলাপেই আমার এতো ভালো বন্ধুত্ব হয়ে গিয়েছি , যে তোকে কি বলবো ! এবার চার্চে যখন হঠাৎ এইভাবে দেখা হয়েই গেলো আমাদের , তখন আলাদা আলাদা ঘুরলে কি ভালো দেখাবে বল ? দীপ কি ভাববে !”
এইসব যুক্তি শুনে ভূমির চোখ কপালে , ” মানে টা কি ? এখন কি আমি ওই অনিন্দর সাথে চার্চে যাবো ? তুই ভাবলি কি করে ?”
এই প্রশ্নের উত্তরটাও কথা বেশ হাসি মুখে দিলো , ” দিদি অনিন্দদাকে তো তুই একদম ভুলে গেছিস | ও তো তোর কাছে রাস্তার আর পাঁচটা লোকের মতনই | তাহলে ও থাকলো কি গেলো , তাতে তোর তো কোনো এফেক্ট হওয়ার কথা নয় | আর চার্চে তো রোজ কত লোকই আসে বল | ধরে নে অনিন্দদাও তাদের মধ্যেই একজন | যাই হোক, চল এবার |” … কথাটা শেষ করেই কথা ভূমির হাতটা ধরে টেনে চার্চের ভেতরে এগিয়ে গেলো | আর এতে ভূমির না বলার মতনও কিছু ছিল না | সত্যিই তো তাই | অনিন্দ তো ওর কাছে রাস্তার আর পাঁচটা অজানা অচেনা লোকের মতনই | ওর থাকা না থাকতে ভূমির কিছুই যায় আসে না | তবে এই পুরো ব্যাপারটায় অনিন্দর খুব যায় এসেছিলো , কারণ ভূমিকে যে এইভাবে হঠাৎ সামনে দেখতে পাবে , ও একদম এক্সপেক্ট করেনি | তবে আজও কিছু বলার ছিল না ওর | ভূমিকে সামনে দেখলে এখন এমনিই সব কিছু উল্টো পাল্টা হয়ে যায় , কথা হারিয়ে যায়|
এইসব ভাবতে ভাবতেই ওরা চার্চের প্রেয়ার হলে কখন গিয়ে পৌঁছেছে অনিন্দ খেয়ালই করেনি !
প্রেয়ার হলে ঢুকেই সামনে মাদার মেরির মূর্তি | তাঁর চারিদিকে জ্বালানো অনেক মোমবাতির আলো | বড়ো প্রেয়ার রুমের নিঃস্তব্ধতা , আর সেই মোমবাতির আলোয় অনিন্দর আজ একটা কথাই মনে হচ্ছিলো , জীবনে কি একটা দ্বিতীয় সুযোগ পাওয়া যায় না ! একবার কি পুরোনো হারিয়ে যাওয়া সময়টাকে ফিরে পাওয়া যায় না ! যেই সময়টা আজ শেষ | এইসব ভাবনার মাঝেই ও চোখটা বন্ধ করলো মাদার মেরির সামনে | একটা উইশের জন্য | যেই উইশটার নাম , ‘ভূমি’ |
চোখ খুললো ভূমির গলার আওয়াজে , ” কি হলো ব্যাপারটা ! কথা আর দীপ কোথায় গেলো ? আমাদের সঙ্গেই তো প্রেয়ার রুম অব্দি এলো | এই মাত্র তো এখানেই দাঁড়িয়ে ছিল | দু মিনিট প্রার্থনা করার জন্য চোখ বন্ধ করলাম, আর তার মধ্যেই বেপাত্তা !” ,…..
ভূমির কথাগুলো শুনে অনিন্দর ঘোরটা কাটলো। প্রেয়ার রুমের আসে পাশে চোখ ঘুরিয়ে দেখলো , সত্যিই তো ! কথা আর দীপ দুজনেই নেই | কোথায় গেলো আবার ওরা ! প্রেয়ার হলের সামনের বাগানটায় নেই তো ? ভেবেই ভূমি আর অনিন্দ সামনের বাগানটায় গেলো | কিন্তু না | এখানেও কিছু অচেনা লোকের ভিড় | ওই চেনা মুখ দুটোকে কোথাও দেখা যাচ্ছে না | কি অদ্ভুত | দু মিনিটে এইভাবে ভ্যানিশ কি করে হয়ে গেলো ওরা , এটা ভেবেই ভূমির অবাক লাগছিলো | আচ্ছা , এটা প্রিপ্ল্যান্ড না তো ! কথাটা ভেবেই ভূমি অনিন্দর দিকে এক পলক তাকালো | কিন্তু চোখটা ফেরাতে পারলো না | এ কি ! ও ওই ভাবে দেয়ালটা ধরে হঠাৎ দাঁড়িয়ে পড়লো কেন ? দেখে মনে হচ্ছে যেন টলছে | আচ্ছা , অনিন্দর তো লো প্রেশারের প্রবলেম ছিল একটা সময়ে | তাহলে কি ওর শরীর খারাপ লাগছে ! এইসব ভেবেই ভূমি অনিন্দর দিকে এগিয়ে গেলো | না , আর চুপ করে থাকা যায় না এই সময়ে | তাই জিজ্ঞেস করেই ফেললো ,
” কি হয়েছে ? তোমার শরীর ঠিক আছে তো ?”
” না মানে , ওই লো প্রেশারের প্রব্লেমটার জন্য | আর সকালে কিছু ব্রেক ফাস্টও করিনি | তাই একটু উইক লাগছিলো | ইট’স ওকে , আই এম ফাইন ..”
ভূমি কথাটা শুনে বড়ো বড়ো চোখ করে বললো , ” এই তুমি ডাক্তার ! চলো | সামনে একটা রেস্টুরেন্ট আছে , সেখানে কিছু খেয়ে নেবে | আর এখানে দাঁড়িয়ে কাউকে খুঁজে লাভ নেই | ওরা ইচ্ছে করেই বেপাত্তা হয়েছে | ”
” ইচ্ছে করে ? কিন্তু কেন ?”
অনিন্দর এই প্রশ্নের উত্তরে ভূমি এক কথায়ই দিলো , ” সেই ব্যাখ্যা ওদের কাছ থেকেই চেয়ে নিও | এখন চলো |” … কথাটার মধ্যে কেমন যেন একটা অর্ডার ছিল | তাই অনিন্দও আর সাহস করে কথা বাড়ালো না | চুপচাপ ভূমির সঙ্গে এগিয়ে গেলো |

<চলবে>

পূর্ববর্তী নিবন্ধ
পরবর্তী নিবন্ধ
গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ