Friday, June 5, 2026







বাড়ি"ধারাবাহিক গল্প"ভালোবাসবে তুমিও পর্ব-১৯

ভালোবাসবে তুমিও পর্ব-১৯

#ভালোবাসবে_তুমিও❤
#পর্ব__১৯
#অদ্রিতা_জান্নাত

রুমের মধ্যে বিছানায় জ্ঞানহীন অবস্থায় পরে আছে শ্রেয়া ৷ বাড়ির সবাই চিন্তিত মুখে দাঁড়িয়ে আছে ৷ ডাক্তার ওর পাশে বসে ওর চেকআপ করছে ৷ কিছুক্ষন শ্রেয়াকে চেকআপ করে গম্ভীর মুখে বসে রইলেন তিনি ৷ তুহিন ওনার কাছে গিয়ে চিন্তিত স্বরে বলতে লাগলো,,,,,,,,,,

“আঙ্কেল শ্রেয়ার কি হয়েছে? ওর হঠাৎ করে কি হলো?”

লোকটি কিছুক্ষন গম্ভীরমুখে বসে রইল ৷ তারপর কিছু একটা ভেবে তুহিনের দিকে তাকিয়ে বললেন,,,,,,,,,,

“আমি ঠিক বুঝতে পারছি না ৷ তুমি আমার থেকেও ভালো একজন ডাক্তারের সাথে কথা বলে দেখো ৷”

“মানে?”

“শ্রেয়াকে একজন ভালো ডাক্তার দেখাও ৷ যত দ্রুত সম্ভব ৷ একজন ভালো ডাক্তার দিয়ে ওর চিকিৎসা করাও ৷ শ্রেয়ার লক্ষন মোটেও ভালো লাগছে না আমার৷”

তুহিন একবার শ্রেয়ার দিকে তাকিয়ে উঠে দাঁড়িয়ে বলতে লাগলো,,,,,,,,,,,,

“কি হয়েছে ওর? যে ওকে চিকিৎসা করাতে হবে?”

“আমি যেটা ধরেছি সেটা নাও হতে পারে ৷ তাই বলছি ভালো কাউকে দিয়ে ওর চেকআপ করাও ৷ আমারটা ভুল হলে শুধু শুধু তোমরা চিন্তা করবে ৷ তাই বলছি ভালো কোনো ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে ওর চিকিৎসা করাও ৷ ভালো রিপোর্ট আসতেও পারে ৷ চিন্তা না করে মনকে শক্ত করো ৷ আজ আমি আসি ৷ দরকার হলো আবার বলো ৷”

বলেই চলে গেলেন তিনি ৷ বাড়ির সবাই একপলক শ্রেয়াকে দেখে রুম থেকে বেরিয়ে গেল ৷ তুহিন একদৃষ্টিতে শ্রেয়ার শুকিয়ে যাওয়া মুখটার দিকে তাকিয়ে রইল ৷ চৈতি তুহিনের কাঁধে হাত রেখে বললো,,,,,,,,

“সব ঠিক যাবে ৷ তুমি যাও ভাইয়া ৷ আমি শ্রেয়ার পাশে আছি ৷ ওকে দেখে রাখবো ৷ কোনো চিন্তা করো না ৷”

তুহিন শ্রেয়ার দিক থেকে চোখ সরিয়ে চৈতির দিকে তাকিয়ে বললো,,,,,,,,,

“ওর জ্ঞান ফিরলে বলিস আমাকে ৷”

আর এক মূহুর্তও দাঁড়ালো না ও ৷ রুম থেকে বাহিরে বেরিয়ে গেল ৷ চৈতি তুহিনের দিকে একটু তাকিয়ে থেকে শ্রেয়ার পাশে গিয়ে বসলো ৷ শ্রেয়ার মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে বলে উঠলো,,,,,,,,,

“আমার আগেই সন্দেহ হয়েছিল ৷ কিন্তু তুমি তো ভাইয়াকে বলতে দিলে না ৷ ভেবেছো নিজে নিজেই ঠিক হয়ে যাবে ৷ অসুখ কি কখনো নিজে নিজে সাড়ে? আমিও যে কেন আগে বুঝলাম না ৷”

_________________________________

বাড়ির কলিংবেল বেজে উঠার শব্দে চৈতি নিচে নেমে দরজা খুলে দিল ৷ বাহিরে অরূপকে দেখে অবাক হলো ও ৷ অরূপ বাহির থেকে ভিতরে একবার উঁকি দিতে দিতে বলে উঠলো,,,,,,,,

“সরো সামনে থেকে ৷ এরকম খাম্বার মতো দাঁড়িয়ে আছো কেন?”

চৈতি রেগে গিয়ে বললো,,,,,,,,

“কি বললেন আপনি? আমার বাড়িতে এসে আমাকেই ইনসাল্ট করছেন? কে আপনি? সরবো না আমি ৷ ভিতরেও যেতে দিবো না ৷ চলে যান ৷”

বলেই দরজা লাগাতে নিলে অরূপ ঠেলে ভিতরে ঢুকলো ৷ আশেপাশে তাকাতে তাকাতে সোজা উপরে চলে গেল ৷ চৈতি হা হয়ে দাঁড়িয়ে রইলো ৷ চেনা নেই জানা নেই এভাবে বাড়ির ভিতর ঢুকে পরলো? ওর বিষয়টা একটুও ভালো লাগলো না ৷

পুরো বাড়ি সার্চ করেও অরূপ শ্রেয়াকে খুঁজে পেল না ৷ এক প্রকার হতাশ হয়ে নিচে নেমে এলো ৷ বাড়ি থেকে বেরিয়ে যেতে নিতেই পিছন থেকে চৈতি বলে উঠলো,,,,,,,,,,,

“আপনি কে হ্যাঁ? এভাবে বাড়িতে ঢুকে পুরো বাড়ি সার্চ করে গেলেন ৷”

অরূপ চৈতির দিকে ঘুরে তাকালো ৷ ওর এখন কথা বলতে বিরক্ত লাগছে ৷ তাই কোনো প্রকার কথা না বলে চুপচাপ বাড়ির বাহিরে চলে গেল ৷ এদিকে চৈতি রাগে দাঁত কিড়মিড় করে বিড়বিড় করতে করতে উপরে চলে গেল ৷




একজন ডাক্তারের চেম্বার থেকে বের হলো শ্রেয়া ৷ সোজা নিচে গিয়ে গাড়িতে উঠে বসলো ও ৷ ওর মাথায় খালি কালকের ঘটনাগুলো ঘুরছে ৷ হঠাৎ করে কাল ওর কি হলো সেটাই বুঝতে পারছে না ৷ অরূপ কেন আসবে ওর কাছে তাও এতোদিন পর? আসার হলে তো আরো আগেই আসতে পারতো ৷ ওটা হয়তো ওর মনের কোনো ভুল ছিল ৷

কিছুক্ষন পর তুহিন এসে ড্রাইভিং সিটে বসলেন ৷ আমি একবার ওনার দিকে তাকিয়ে জানালা দিয়ে বাহিরে তাকালাম ৷ তুহিন কিছু না বলে গাড়ি স্টার্ট দিলেন ৷ কিছুদূর যেতেই একটা গাড়ির দিকে চোখ আটকে গেল ৷ কালকের মতো সেই গাড়িটা ৷ গাড়িটাকে দেখে তুহিনের দিকে তাকিয়ে গাড়ি থামাতে বললাম ৷ উনি অবাক হয়ে বলে উঠলেন,,,,,,,,,

“হঠাৎ করে কি হলো? গাড়ি কেন থামাতে বললে?”

আমি কিছু বললাম না ৷ তুহিন গাড়ি ব্রেক করলে সাথে সাথে কিছু না বলেই নেমে গেলাম ৷ রাস্তা পাড় হয়ে ওই গাড়িটার কাছে গেলাম ৷ গাড়ির জানালা দিয়ে উঁকি দিলেও ভিতরে কাউকে দেখতে পেলাম না ৷ আশেপাশে একটু তাকাতেই তুহিন আমার সামনে এসে বলতে লাগলেন,,,,,,,,,,,,,,,

“এসব কি শ্রেয়া? তুমি এভাবে গাড়ি থেকে নেমে চলে এলে কেন? চলো তাড়াতাড়ি ৷”

বলেই আমাকে গাড়ির দিকে নিয়ে যেতে লাগলেন ৷ আমি আশেপাশে তাকাতে তাকাতে গাড়িতে উঠে বসলাম ৷ পুরোটাই মনের ভুল ৷ কেন ওনার কথা বারবার ভাবছি আমি ৷ যে যাওয়ার সে চলেই যাবে ৷ তাহলে আবার তার কথা কেন ভাবছি আমি? উনি আসেন নি আর আসবেনও না কখনো ৷ শুধু শুধু তার জন্য তুহিনকে কষ্ট দিতে পারবো না ৷




বেশ কিছুক্ষন পর বাড়িতে এসে পৌঁছালাম ৷ বাড়িতে এসে সোজা নিজের রুমে চলে গেলাম ৷ ফ্রেশ হয়ে বিছানায় বসতেই চৈতি এলো ৷ আমার পাশে বসে বলতে লাগলো,,,,,,,,,

“এখন কেমন আছো?”

কপাল হালকা কুচকে বলে উঠলাম,,,,,,,,,,,,,

“আমার আবার কি হবে?”

“না কিছু না ৷ তোমার কোথাও খারাপ লাগছে নাকি সেটাই জিজ্ঞেস করছিলাম ৷”

“আচ্ছা তুহিন হঠাৎ ডাক্তার দেখাতে নিয়ে গেলেন আমাকে ৷ কিন্তু কেন?”

“ওওওই যে তোমার মাথা ব্যাথা হয় কেন সেটা জানার জন্য ৷”

“কেন হয়?”

“উফ রিপোর্ট অাসলে বুঝতে পারবো ৷ তুমি এতো চাপ নিও না তো ৷ সব ঠিকঠাকই আসবে দেখো ৷”

“হুম ৷ আচ্ছা বাড়ির সবাই কোথায়? দেখতে পেলাম না তো কাউকে ৷”

“পাপার অফিসে গেছে সবাই ৷ এক্ষুনি চলে আসবে ৷ তুমি একটু রেস্ট নাও ৷ মাথায় চাপ দিও না একদম ৷ আমি আসছি এখন ৷”

আমি কিছু বলতে যাবো তার আগেই কাশি উঠে গেল ৷ মুখে হাত দিয়ে কাশতে লাগলাম ৷ চৈতি আমাকে পানির গ্লাস এগিয়ে দিল ৷ আমি পুরোটা পানি খেয়ে নিলাম ৷ হাতের দিকে তাকাতেই দেখি হাতে রক্ত লেগে রয়েছে ৷ সেটা দেখে চৈতি বলে উঠলো,,,,,,,,,,,

“রক্ত?”

“তুমি একটু যাবে প্লিজ ৷ আমি একটু একা থাকবো ৷”

চৈতি কিছু না বলেই দৌঁড়ে বাহিরে চলে গেল ৷ আমি হাত মুখ ধুয়ে এসে বিছানায় বসতেই আমার উপর একটা মোড়ানো কাগজ এসে পরলো ৷ জানালা দিয়ে বাহিরে উঁকি দিলাম কিন্তু কাউকে পেলাম না ৷ চোখ সরিয়ে অন্যদিকে তাকাতেই আবার আরেকটা কাগজ এসে পরলো ৷ সবগুলা সাদা কাগজ ৷ কিছুই লিখা নেই এতে ৷ তো কাগজ গুলো এভাবে দিচ্ছে কে? জানালার কাছে দাঁড়িয়ে দেখার চেষ্টা করলাম কে আছে ৷ কিন্তু এবারো কাউকে পেলাম না ৷ অন্যদিকে তাকাতেই আরেকটা কাগজ আমার উপর এসে পরলো ৷ রেগে জানালা লাগিয়ে দিয়ে বিছানায় গিয়ে বসে পরলাম ৷

এবার পাথর ছোঁড়ার আওয়াজ পাচ্ছি ৷ মানে কেউ পাথর ছুড়ছে আর সেটা জানালার গ্লাসের সাথে লেগে শব্দ হচ্ছে কিন্তু রুমের ভিতরে আসছে না ৷ আমি রুম থেকে বেরিয়ে সোজা বাড়ির বাহিরে চলে গেলাম ৷ যেদিক থেকে কাগজ ছোঁড়া হচ্ছিল সেদিকে গেলাম ৷ কিন্তু কাউকেই দেখতে পেলাম না ৷ আরেকটু সামনে এগিয়ে যেতেই হঠাৎ হাতে টান পরলো ৷ ভয়ে আমার হাত পা কেঁপে উঠলো ৷ কেউ আমার হাত ধরে টেনে দেয়ালের সাথে চেপে ধরলো ৷ আমি চোখ মুখ খিচে বন্ধ করে ফেললাম ৷ কোনো পরিচিত গলার আওয়াজ পেয়ে চোখ খুললাম ৷

অরূপকে আমার সামনে দেখতে পেয়ে অবাক হয়ে গেলাম ৷ পুরো এক বছর পর ওনার গলার আওয়াজ শুনতে পেলাম ৷ কষ্টটা যেন আরো বের হয়ে আসতে চাইছে ৷ এতোদিন পর কেন আজ আসলেন উনি? চাইলে তো আগেই আসতে পারতেন ৷ সেসব ভেবেই ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিলাম ওনাকে ৷ উনি কিছু কদম পিছিয়ে গেলেন ৷ আমি হালকা চেঁচিয়ে বলে উঠলাম,,,,,,,,,,

“এখানে কেন এসেছেন? চলে যান আপনি ৷ আর ঝামেলা করতে আসবেন না প্লিজ চলে যান ৷”

বলেই আমি চলে যেতে নিলে অরূপ আমার হাত চেপে ধরে দেয়ালের সাথে চেপে ধরলেন ৷ আমি ছাড়ানোর চেষ্টা করেও ছাড়াতে পারলাম না ৷ অরূপ বলতে লাগলেন,,,,,,,,,,

“এই একবছর আমাকে দূরে রেখেও শান্তি পাও নি?”

আমি কিছু বললাম না ৷ উনি আবার বলতে লাগলেন,,,,,,,,

“এই একবছর তো দূরে থেকেছো আমার থেকে ৷ বুঝেছি রাগ করে দূরে রয়েছিলে ৷ তাই বলে তুহিনকে বিয়ে করতেও রাজি হয়ে যাবে? এটা কীভাবে করলে?”

“আমার ইচ্ছা হয়েছে তাই আমি রাজি হয়েছি ৷ আপনি বলার কে? আপনি কোন অধিকারে বলবেন আমাকে এসব?”

“ভালোবাসার অধিকার নিয়ে বলবো ৷”

তাচ্ছিল্য হেসে বললাম,,,,,,,,

“ভালোবাসা? আপনি না মায়া আপুকে ভালোবাসতেন ৷ তো আমাকে কেন টানছেন আবার? মায়া আপুকে এখন আর ভালো লাগে না তার জন্য?”

অরূপ চোখ বন্ধ করে জোরে একটা শ্বাস নিয়ে বলে উঠলেন,,,,,,,,,,

“হ্যাঁ ওকে আমার ভালো লাগে না ৷ ও আমাকে মিথ্যা বলেছে তোমার নামে ৷”

“আপনি নাকি ভালোবাসতেন আমাকে? তো আপনার ভালোবাসা এতোটা সস্তা? কারো একটু মিথ্যা জালে নিজেকে জড়িয়ে ফেললেন?”

“আচ্ছা আমি ভুল করেছি ৷ হ্যাঁ এটাকে ভুল না অন্যায় বলে ৷ কিন্তু এর জন্য কি তুমি আমার থেকে দুরে চলে যাওয়ার চেষ্টা করবে? একটা কি সুযোগ দিবে না? স্বামী স্ত্রীর মাঝে তো কতই ঝগড়া হয় ৷ তাই বলে কি তারা আলাদা হয়ে যায়?”

“ঝগড়া আর কারো উপর মিথ্যা অপবাদ দেয়া এক না ৷ এতোই যখন আমাকে নিজের বউ মনে করতেন তাহলে বিয়ের পর অন্তত সেই মিথ্যা কথাগুলো বিশ্বাস না করে আমাকে মেনে নিতে পারতেন ৷ কিন্তু আপনার মধ্যে কোনো বিশ্বাস নেই ৷ এক ভুল তো আবারো করতে পারেন ৷ তখন?”

“তখন নাহয় নিজের হাতে মেরে ফেলো ৷”

অন্যদিকে মুখ ঘুরিয়ে নিলাম আমি ৷ চোখ ভিজে আসছে বারবার ৷ অরূপ আমাকে ছেড়ে দিয়ে বলতে লাগলেন,,,,,,,

“চলে যাওয়ার একটু আগে যদি একবার পিছনে ঘুরে দাঁড়াতে, পিছনে তাকিয়ে দেখতে তাহলে আজ এক বছর হয়তো আমরা একসাথেই থাকতাম ৷”

অামি অরূপের দিকে তাকালাম ৷ উনি আবার বলতে লাগলেন,,,,,,,,,,,,,,,,,

“হুম হয়তো আমার ভালোবাসাটা অবিশ্বাসের ছিল ৷ কিন্তু কি বলো তো আমি তোমাকে তখন মাত্র ভালোবাসতে শুরু করেছিলাম ৷ সম্পূর্ণ ভালোবাসার আগেই মায়া আমাকে ভুল বুঝিয়ে দিল ৷ আমি তখন জানতাম না যে মায়া ছিল এসবের পিছনে ৷ কে এরকম করেছিল তাকে আমি খোঁজার চেষ্টা করেছিলাম কিন্তু পাই নি ৷ তুমি চলে যাওয়ার পর তোমার শুন্যতা আমাকে বুঝিয়ে দিয়েছে কাকে কতটা ভালোবাসি আমি ৷ কিন্তু ততদিনে অনেক দেরি হয়ে গিয়েছিল ৷ তুমি তো আমাকে ফেলেই চলে গিয়েছিলে ৷ কোথায় খুঁজি নি তোমাকে? সব জায়গায় তোমাকে খুঁজে বেরিয়েছি ৷ জায়গায় জায়গায় লোক লাগিয়েছি ৷ দেশের বাইরেও লোক পাঠিয়েছি ৷ নিজেও সব জায়গায় হন্ন হয়ে খুঁজেছি ৷ কিন্তু কোত্থাও পায় নি তোমায় ৷ তোমাদের বাড়িতেও গিয়েছিলাম ৷ তোমার মা বাবাকে বারবার বলতে বলেছিলাম তুমি কোথায় আছো? কিন্তু তারা কিছুই বলে নি আমাকে ৷ কত কাকুতি মিনতি করেছি তবুও বলেন নি তারা ৷ তাদের পায়ে ধরে ক্ষমা চেয়েছি ৷ হাত জোড় করে তোমার খবর দিতে বলেছিলাম ৷ কিন্তু তারা একটা টু শব্দও মুখ থেকে বের করেন নি ৷ ওই বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছিল তারা ৷ আমি আমার নিজের মতো খোঁজার চেষ্টা চালিয়ে গেছি কিন্তু পাই নি কোত্থাও ৷”

ধরা গলায় বলে উঠলাম,,,,,,,,,

“তো এখন কীভাবে জানলেন?”

“তোমার আব্বুর মোবাইল থেকে তোমার নাম্বারের লোকেশান পেয়েছিলাম ৷ আচ্ছা শ্রেয়া অতীতকে ভুলে কি আমার কাছে আসতে পারবে না?”

অন্যদিকে মুখ ঘুরিয়ে বলে উঠলাম,,,,,,,,,

“অতীত আমি ভুলতে পারবো না ৷ অতীত অতীতই ৷ আপনি আসতে অনেক দেরি করে ফেলেছেন ৷ আমার তুহিনের সঙ্গে বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে ৷ আমি তুহিনকে কষ্ট দিতে পারবো না ৷ এখন আমি চাইলেও আপনার কাছে ফিরতে পারবো না ৷ আমি চাই না আমার জন্য তুহিনের মন ভেঙ্গে যাক ৷ উনি তো কোনো দোষ করেন নি ৷ আমাকে সবসময় সাহায্য করেছেন ৷ সবসময় আমার পাশে ছিলেন ৷ তো আমি কীভাবে তাকে কষ্ট দিব? তাও আমার জন্য?”

অরূপ আমাকে ওনার দিকে ঘুরিয়ে নিয়ে বলতে লাগলেন,,,,,,,,,,,

“তাহলে তুমি আমাকে মেরে ফেলো ৷ এই এক বছর তো আমাকে কষ্ট দিয়েছো তাতে কি তুমি ভালো ছিলে? প্রত্যেকটা মূহুর্ত আমি জ্যান্ত লাশ হয়ে বেঁচে ছিলাম ৷ বারবার মাথায় আত্মহত্যার চিন্তা জেকে বসতো ৷ কিন্তু মনের মধ্যে একটা ছোট্ট আশা নিয়ে তোমার জন্য অপেক্ষা করতাম রোজ ৷ কিন্তু প্রতিদিনই নিরাশ হতে হতো আমাকে ৷ যখন তোমার খবর পেয়েছিলাম তখন কতটা খুশি হয়েছিলাম জানো? কিন্তু সেই খুশির থেকেও বেশি কষ্ট হয়েছে তখন যখন তোমার আর তুহিনের বিয়ের কথা শুনেছি আমি ৷ আচ্ছা আমার একটা ভুলের জন্য এতো বড় শাস্তি দিচ্ছো আমাকে? তাহলে নাও মেরে ফেলো আমাকে এক্ষুনি ৷ আমাকে নিজের হাতে মেরে যা ইচ্ছা করো তবুও আমার চোখের সামনে তুহিনকে বিয়ে করো না শ্রেয়া ৷ সহ্য করতে পারবো না আমি ৷ মরে যাবো আমি ৷”

বলতে বলতেই দুই হাঁটু গেড়ে মাটিতে বসে পরলো অরূপ ৷

চলবে,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,

পূর্ববর্তী নিবন্ধ
পরবর্তী নিবন্ধ
গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ