#বটবিবাহ (১)
#মৃধা_মৌনি
ঘুম থেকে ডেকে তুলে মীরুকে বলা হলো, আজ তার বিয়ে। তাও কিনা একটা গাছের সঙ্গে! প্রথম কিছুক্ষণ ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে হঠাৎই হেসে উঠল সে। হাসতে হাসতেই বলল, ‘তুমি কি মজা করছ খালামনি? গাছের সঙ্গে কারো বিয়ে হয়?’
‘হয়।’ চোখমুখ অন্ধকার করে বললেন মীরুর ছোট খালা শিখা, ‘তোর মতো কপাল পোড়াদের হয়। এখন কথা না বলে ঝটপট উঠে তৈরি হয়ে নে। বেরোতে হবে।’
‘কোথায়?’
‘মাত্রই তো বললাম…বিয়েটা দুই গ্রাম পরে হচ্ছে। বটগাছটা সেখানেই। ওকে তো তুলে এখানে আনা যাবে না। তাই তোকেই যেতে হবে ওর কাছে।’
‘ওর ওর করছ কেন খালামনি? একটা বটগাছের সঙ্গে আমার বিয়ে দেবে! আমার এখনো বিশ্বাস হচ্ছে না। তুমি নিশ্চয়ই জোক করছ। পাপা কই?’
শিখা ব্যস্ত হাতে কম্বল গোছাতে লাগলেন, ‘নিচে আছে। রেডি হয়ে নাম। গোসল করে নিস।’
‘এই শীতে ওই ঠান্ডা জলে আমি গোসল সাড়তে পারব না, মাফ চাই। আর প্লিজ তোমার এই জোকারি কথাবার্তা বন্ধ করো খালামনি। ইটস নট ফানি এট অল!’
মীরু বিছানা ছেড়ে নিচে নামলো। ওর পরনে বেবি পিংক স্লিপিং ড্রেস। ছোট চুল গুলি দুই বেনী করা, এলোমেলো হয়ে খানিকটা চুল কপালের উপর পড়েছে- চমৎকার লাগছে দেখতে। শিখা মনে মনে মুগ্ধ হলেন। তার নিজের কোলে সন্তান নেই। মা ছাড়া এই মেয়েকেই তিনি আগলে বড় করছেন বছর তিনেক ধরে। মীরুর প্রতি তার যত্ন, মমতা, ভালোবাসা সবটাই অতুলনীয়!
মীরু বাসী মুখেই নিচে নামলো।
মনোয়ার সাহেব গম্ভীর মুখে পত্রিকায় নজর বুলাচ্ছিলেন, যদিও তার মন নেই আজ খবরের কাগজে। বরং মাথার ভেতর ননস্টপ ঘুরপাক খাচ্ছে ব্যাপারটা। কি এক অদ্ভুত ঘটনা ঘটাতে যাচ্ছেন তিনি! তবে এতে যে যদি মেয়ে সুস্থ হয়, তবে তাই সই…
মীরু কাছে এগিয়ে এসেই ঠোঁট উলটে অভিযোগের সুরে বলল, ‘দেখো না পাপা, খালামনি কি ফালতু জোক করছে। বলছে কি না একটা বটগাছের সঙ্গে আমার বিয়ে! এমন ফালতু জোক করার কোনো মানে হয়?’
মনোয়ার সাহেব বেশ শান্ত চোখেই মেয়ের দিকে চোখ তুলে তাকালেন। তাকে টেনে নিয়ে নিজের কোলের উপর বসিয়ে বললেন, ‘মামনি, তুমি আমাকে ট্রাস্ট করো না?’
‘অফকোর্স করি।’
‘দ্যান পাপা যা বলি, তাই করবে কেমন?’
মীরু বাবার দিকে ঘুরে তাকিয়ে বলল, ‘কি করতে হবে পাপা?’
‘সত্যি সত্যি তোমাকে একটা বিয়ে করতে হবে। একটা গাছকেই। আর গাছটা একটা বটগাছই! না না ভয় পাবার কিছু নেই। তুমি শুধু ওখানে যাবে, তিনবার কবুল বলবে, তারপর আমরা সবাই ফিরে আসবো- শেষ!’
মীরু কাঁদো কাঁদো মুখ করে ফেলল এসব শুনে।
‘খালামনি তবে জোক করছিল না! সত্যিই এসব… কিন্তু কেন পাপা?’
‘মাঝে মাঝে পরিস্থিতি আমাদের অনেক কিছু করতে বাধ্য করে। এমন কিছু জিনিস আছে এই পৃথিবীতে, যা আমাদের চোখের দেখার বাইরে। জ্ঞানেরও উর্ধ্বে। তাই সেসবের সঙ্গে সমঝোতা করেই চলা ভালো। তুমি শুধু এইটুকু বিশ্বাস রাখো, আমি কিংবা তোমার খালামনি, আমরা কেউই তোমার খারাপ চাই না। যেটাতে তোমার ভালো হবে, সেটাই করছি। জাস্ট বিয়েটাই…এরপর তো আর এসব কিছুতে ইনভলভ থাকতে হবে না। তুমি আগের মতোই ড্রয়িং করবে, খেলবে, স্কুল যাবে- এভ্রিথিং উইল বি ফাইন।’
ক্ষণকাল মুখ ভোঁতা করে রইল মীরু।
তারপর ধীর কণ্ঠে বলল, ‘প্রমিস পাপা?’
‘প্রমিস।’
মীরুর মুখ থেকে তবু অন্ধকার সরল না। কেমন নির্জীব হয়ে গেল সে। ক্লান্ত পায়ে সিড়ি ভেঙে আবারও উপরে উঠে গেল। মনোয়ার সাহেব চুপচাপ সেই যাওয়া দেখলেন। ভাবতে লাগলেন, সেদিনের কথা, যেদিন থেকে শুরু হয়েছে সবকিছু….
মীরুর মা রিনা ছিলেন অতি হাসিখুশি, চঞ্চল স্বভাবের এক মহিলা। সবসময় ঘরে গুনগুন করে গান গাইতেন, ফুলে পানি দিতেন, কিংবা ছাদে গিয়ে মেয়েকে কোলে বসিয়ে গল্প বলতেন-
‘জানিস মীরু, আকাশের ওই তারা গুলো আসলে তোর বন্ধুরা… আমি যদি কখনও চলে যাই, তুই কিন্তু তাদের সঙ্গে গল্প করবি।’
তখন কেউ জানত না, সেই কথাটাই যেন একদিন ভবিষ্যদ্বাণী হয়ে দাঁড়াবে। রিনার সঙ্গে মনোয়ার সাহেবের পরিচয় হয়েছিল স্কুলে। দু’জনেই তখন শিক্ষকতা করতেন। একজন বাংলা, আরেকজন গণিতের শিক্ষক। প্রথমে সহকর্মী, তারপর বন্ধু, তারপর ভালোবাসা। বিয়ে হয়েছিল খুব শান্ত, সাধারণ আয়োজনেই। কিন্তু সুখের দিন টিকল না বেশিদিন। বিয়ের ছয় বছরের মাথায় ধরা পড়ল অভ্যন্তরীণ অগ্ন্যাশয়ের ক্যান্সার (Pancreatic cancer)।
রিনার শরীর দ্রুত ভেঙে পড়তে লাগল। মনোয়ার সাহেব বাড়ি-ঘর, জমি-বাগান সব বিক্রি করে দিলেন চিকিৎসার জন্য। একে একে হাসপাতালের করিডরে, ওষুধের গন্ধে, রাত জেগে থাকা প্রার্থনায় ক্লান্ত হয়ে গেলেন সবাই।
শেষ পর্যন্ত এক ভোরে রিনা নিঃশব্দে ঘুমিয়ে গেলেন—চিরতরে। মীরুর বয়স তখন মাত্র এগারো।
সেই দিন থেকে শুরু হলো এক অদ্ভুত সময়। মীরুর রাতে ঘুমোত না। মাঝরাতে দরজার ফাঁক দিয়ে কেউ একজন নরম গলায় গান গাইত- ‘ঘুম পাড়ানি মাসি পিসি…’
শিখা অনেকবার দৌড়ে গিয়ে দেখেছেন- ঘরে কেউ নেই, জানালাটা শুধু খোলা, পর্দা একটু দুলছে।
কখনও দেখা যেত মীরু বারান্দায় দাঁড়িয়ে ফিসফিস করে কথা বলছে-
‘মা, আজ আমি তোমার দেওয়া নীল ফ্রকটা পরেছি। ভালো লাগছে?’
একা একাই কথা বলতে থাকত। নিজের মনে হাসত, কাঁদত। দিনের বেলায় ম রার মতো ঘুমাতো। রাতের বেলায় জেগে বসে থাকত। ঘুমাতে বললে বলত, মা আসবে তো। আমি তার জন্য অপেক্ষা করছি।
স্কুল যাওয়া ছেড়ে দিলো।
তবে ড্রয়িং এর প্রতি ঝোঁক বাড়তে লাগল।
সেইসব দৃশ্যও ঠিক করে বোঝা যায় না।
তবে একজন মহিলাকে দেখা যায় প্রতিটা ড্রয়িং পেইজে। মনোয়ার সাহেব সেই মহিলার চিত্রটির কোথায় যেন রিনার ছোঁয়া দেখতে পান। তিনি শিউরে ওঠেন।
প্রথমে সবাই ভেবেছিল, শোকে মেয়েটা একটু দুর্বল হয়ে গেছে। সময় গেলে সব ঠিক হয়ে যাবে।
কিন্তু দিন যত যাচ্ছিল, ততই ভয়ানক হয়ে উঠছিল তার আচরণ।
কখনও নিজের ঘরটাকে মায়ের ঘর বলে সাজাত, কখনও মাঝরাতে বাথরুমের আয়নায় তাকিয়ে দীর্ঘক্ষণ কথা বলত, তুমি আসো না মা? আমার একা লাগছে…
মনোয়ার সাহেব ও শিখা ধীরে ধীরে ভয়ে আচ্ছন্ন হয়ে পড়লেন। এলাকার কিছু মুরুব্বি মানুষ বললেন, মেয়েটার উপর ‘জ্বিনের আছড়’ পড়েছে।
কেউ কেউ পরামর্শ দিলেন ওঝা ডেকে ঝাড়ফুঁক করাতে।
মনোয়ার সাহেব শিক্ষিত মানুষ হয়েও অসহায়তার চাপে একসময় বিশ্বাস করতে শুরু করলেন ওদের কথাই। সেই জন্যেই শহর ফেলে রেখে এসেছেন এই গ্রামে। রিনার বাবার বাড়িতে। এখানে নাকি ভালো মানের পীর ফকিররা রয়েছে। তারা নিশ্চয়ই মীরুর এই সমস্যার সমাধান দিতে পারবেন। মীরু আবারও আগের মতো সুস্থ হয়ে উঠবে। মনোয়ার সাহেবের কাছে নিজের মেয়ের সুস্থতার উপরে আর কিছুই চাওয়ার নেই।
চার পাঁচদিন ধরে একজন নামকরা হুজুরের কাছে বেশ কয়েকবার গিয়েছিলেন মনোয়ার সাহেব। সেই বললেন, ‘আপনার মেয়ের উপর জ্বিনের নজর আছে৷ সেই জ্বিন যেমন তেমন জ্বিন না, কঠিন জ্বিন। সেই জ্বিন আপনার মেয়েকে বিবাহ করতে চায়। তাকে নিয়ে চলে যেতে চায় নিজের দুনিয়ায়। আমি তার সাথে কথা বলছি বৈঠকে বসে। তাকে অনেক বুঝিয়েও ফায়দা হয়নি। এমনকি ভয়ভীতি দেখিয়েও লাভ হয়নি। সে আপনার মেয়েকে কঠিন রকমের পছন্দ করে। আপনার মেয়ের বয়স আরেকটু বাড়লেই সে তাকে বিবাহ করে নিয়ে চলে যাবে। কোনো কিছুর বিনিময়েই তাকে সরানো যাবে না।’
মনোয়ার সাহেব কাঁদতে কাঁদতে বলেছিলেন, ‘তাহলে এখন কি উপায় হুজুর? আমার মেয়েটাকে… আমি বাঁচাতে পারব না কোনো ভাবেই?’
হুজুর আশ্বাস দেওয়ার ভঙ্গিতে একটা হাত উঁচু করে মনোয়ার সাহেবের মাথায় রাখলেন, নরম গলায় বললেন, ‘আপনার মেয়ের মতো আমারও একটা মেয়ে আছে ভাইজান। আপনি চিন্তা করবেন না। আমি এর সহজে হাল ছাড়ি না। কীভাবে তাকে পরাস্ত করতে হয় তা আমারও জানা আছে। দুই গ্রাম পরে একটা বড় বটগাছ আছে। যার বয়স কেউ জানে না। বহু প্রাচীন এবং শক্তিশালী। সেই বটগাছের রাশিফলও চমৎকার। তার সঙ্গে আপনার মেয়ের বিবাহ হইলে এই বজ্জাত জ্বিন অবশ্যই পালাতে বাধ্য হবে। কেননা তখন আপনার মেয়ে ওই বটগাছের বিবাহিত স্ত্রী হবে এবং তাকে রক্ষা করাও ওই বটগাছের দায়িত্বের ভেতর পড়বে। আপনি হয়তো বিশ্বাস করবেন না তবে সত্যি বলছি, ওঁর তুলনায় এই জ্বিন অতি নগন্য। তিনি তার স্ত্রী কে নিশ্চয়ই রক্ষা করবেন এবং মুক্ত করবেন।’
‘এসব আপনি কি বলছেন হুজুর!’ বিস্ময়ে হতবিহ্বল হয়ে পড়লেন মনোয়ার সাহেব, ‘এ হয় নাকি!’ বিড়বিড়িয়ে উঠলেন তিনি।
হুজুর বললেন, ‘আল্লাহপাকের দুনিয়ায় সবই হয়। আমরা নাদান মানুষ। কতটুকুই বা জানি। এই একটা পদ্ধতিই আমি দেখি আপনার মেয়েকে এই কঠিন সমস্যার হাত থেকে রক্ষা করার জন্যে। বাকিটা আপনার ইচ্ছা। যদি আপনি আমার কথায় রাজি থাকেন তবে আমি দিন তারিখ সময় নির্ধারণ করে রাখব।’
মনোয়ার সাহেব অনেকক্ষণ কোনো কথা বলতে পারলেন না। কেবল ফ্যালফ্যাল দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলেন। শেষ পর্যন্ত পারিবারিক বৈঠকে বসে এটিই সিদ্ধান্ত হলো, তারা হুজুরের কথা মানবেন। তিনি যা করতে বলেছেন তাই করবেন। এতে যদি মীরু সুস্থ হয়ে ওঠে তবে আলহামদুলিল্লাহ। তাদের আর কিছু চাওয়ার নাই।
***
গাড়ির পেছনের সিটে হেলান দিয়ে বসে আছে মীরু। চোখ দুটো বন্ধ। আপাতদৃষ্টিতে দেখলে মনে হবে, ঘুমাচ্ছে সে। কিন্তু মনোয়ার সাহেব বেশ ভালো করেই জানেন, মীরু জেগে রয়েছে এবং রাগ করেছে। এই ধরনের ফাজলামো কর্মকান্ডে বিন্দুমাত্র মত নেই তার। আর ক’দিন পর জিএসসি দিবে যেই মেয়েটা, তার সঙ্গে এরকম কিছু করা সাজেও না। কিন্তু মনোয়ার সাহেব যে নিরুপায়। মীরুকে সে কথা বোঝাতে পারছে না। মীরু জানেও না, এইসবের পেছনের সঠিক কারণটি কি। তাকে আধা সত্য, আধা মিথ্যা বলে বুঝিয়েছেন শিখা। হুজুরই নিষেধ করে দিয়েছেন। মেয়েকে সব না জানালেই ভালো হয়।
মনোয়ার সাহেব চিন্তার গতিপথে লাগাম টেনে মৃদু গলায় ডেকে উঠলেন, ‘মীরু.. ঘুমুচ্ছিস মা?’
মীরু চোখ বন্ধ রেখেই জবাব দিলো, ‘উঁহু।’
‘চোখ খোল, কথা বলি।’
‘যা বলার বলো পাপা, আমি শুনছি।’
‘চোখ খুলবি না?’
‘উঁহু, আলো লাগে, কষ্ট হয়।’
‘ঠিক আছে তাহলে বন্ধই ভালো। তোদের পরীক্ষা কবে রে?’
‘জানি না।’
‘সে কীরে! এক্সাম দিবি না?’
মীরু চোখ খুলল এবং কঠিন গলায় বলল, ‘পাপা আমার আর পড়াশোনা করতে ভালো লাগে না। তুমি জানো তো তাই না? আই লাভ ড্রয়িং! আমি একজন বড় আর্টিস্ট হতে চাই। পড়াশোনা করতে চাই না। অথচ তুমি জোর করে আমার স্কেচবুক নিয়ে গেছো। স্কুলে পাঠাচ্ছো।’
মনোয়ার সাহেব মৃদু হেসে বললেন, ‘ছোট থাকতে তুই অনেক ভালো স্টুডেন্ট ছিলি। একবার অংকে একশোতে ৯৫ পেলি। পাঁচ মার্ক কেন কা ট ল, এই নিয়ে বাসায় এসে সে কী কান্না! তোর মা তোকে থামাতে পারে না।’
‘আমি জানি।’
‘তাই নাকি? আমি বোধহয় এই গল্পটা আগেও করেছিলাম।’
‘না, তুমি বলোনি। মা বলেছে।’
মনোয়ার সাহেব চুপ করে গেলেন।
শিখা বুঝতে পেরে আগ্রহ করে বললেন, ‘আপা এই গল্পটা করেছিল নাকি? নিশ্চয়ই আপা চলে যাওয়ার আগে বলেছিল, তাই না রে?’
মীরু খালার দিকে ঠান্ডা চোখে তাকিয়ে জবাব দিলো, ‘না। মা পরশু রাতে এই গল্পটা করেছে। বলেছে, আমাকে আবারও পড়াশোনা করতে। আমি নাকি হাইয়েস্ট স্কোর করে বড় কিছু এচিভ করতে পারব। বাট আমি মা কে বুঝিয়ে বলেছি, আমার স্কেচ করতেই ভালো লাগে। তখন মা বলেছে, বাবা একটা গাঁধা, সে নাকি মাকেও কোনোদিন বোঝেনি, আমাকেও বোঝে না।’
এবার শিখাও চুপ করে গেলেন। ও যা বলছে তা সত্যি- কেননা মীরু কখনো অহেতুক মিথ্যা কথা বলে না। তাছাড়া এরকম ছোট ছোট ঘটনা তো আরও ঘটে গেল এ ক’দিনে। শিখা একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে জানালা দিয়ে বাইরে তাকালেন। কি সুন্দর রোদ ঝলমলে প্রকৃতি। দু’পাশ দিয়ে গাছগাছালি শাঁই শাঁই করে চলে যাচ্ছে। দূরের ক্ষেতে হলুদের সমারোহ। ভারী সুন্দর লাগছে দেখতে। কিন্তু এই সৌন্দর্য শিখা কিংবা মনোয়ার সাহেবের মন জয় করতে পারছে না। তারা দু’জনেই চিন্তিত মীরুকে নিয়ে। অপরদিকে মীরু পুনরায় চোখ বন্ধ করে ফেলেছে। নিজেকে বিচ্ছিন্ন করে নিয়েছে দুনিয়ার বাস্তব জগত থেকে। সমস্ত ধ্যান ধারণা একটি কেন্দ্রবিন্দুতে এনে জড়ো করেছে। মীরুর হঠাৎ করেই ভীষণ ঘুম পাচ্ছে। গাঢ় গভীর ঘুম।
***
বটগাছটা কত বছরের পুরোনো, কেউ ঠিক করে বলতে পারে না। তবে যাকেই জিজ্ঞেস করা হয়, সেই বলে, যবে থেকে এ গ্রামে এসেছে তবে থেকেই এটাকে এভাবেই দাঁড়িয়ে থাকতে দেখছে। এর চারপাশ কত পরিবর্তন হলো। গ্রাম ছেড়ে নগর গড়ে উঠল। টিনের ঘর বাড়ি পালটে বিল্ডিং হলো। স্কুল, কলেজ, রাস্তাঘাট – কারেন্ট এলো। কিন্তু এই বটগাছটির কোনো পরিবর্তন নেই। আগেও যেমন ছিল, এখনো তাই আছে- সগৌরবে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে। ডাল-পালা ছড়িয়ে- যেন অজান্তেই কত কিছু কে আগলে নিয়েছে তার ছায়া তলে।
মীরু মুগ্ধ চোখে বটগাছটির দিকে তাকিয়ে রইল।
অজান্তেই ঠোঁট ভেঙে জানতে চাইলো, ‘এর সঙ্গে আমার বিয়ে হবে খালামনি?’
শিখা চোখের তারায় দুষ্টুমি ফুটিয়ে বললেন, ‘হ্যাঁ, কেন রে, বর পছন্দ হলো?’
‘ধুর..’ লজ্জায় লাল হয়ে গেল মীরু।
তাই দেখে শিখা খিলখিল করে হেসে ওঠেন। মীরুর গাল টেনে দেন, ‘বড় লজ্জাবতী লতা সাজছিস যে! প্রথমে তো আসতেই চাইছিলি না, এখন কেমন মুগ্ধ হয়ে দেখছিস।’
‘মুগ্ধ হওয়ারই মতো। কি শান্ত, নীরব জায়গাটা.. ইশ এমন জায়গায় যদি সারা জীবন থাকতে পারতাম!’
‘থাক না, কে মানা করেছে? তোর তো বরই হয়ে যাচ্ছে। বরের সঙ্গে এখানেই থেকে যা…’
মীরু আবারও দারুণ লজ্জায় লাল হয়ে উঠল।
পরের কার্য গুলো সমাধা হলো খুব দ্রুত। মীরুকে নিয়ে বসানো হলো বটগাছের গুড়ির উপর। মাথার উপর বড় একটি ওড়না দিয়ে তাকে আপাদমস্তক ঢেকে দেওয়া হলো। তার হঠাৎ করেই ভীষণ লজ্জা লাগতে শুরু করল। মনে হতে লাগল, সত্যি সত্যি তার বিয়ে হয়ে যাচ্ছে!
হুজুর কীসব দোয়া পড়লেন।
এরপর মীরুর কাছে জানতে চাইলেন, এই বিয়েতে তার মত আছে কি না। অদ্ভুত ভাবে মীরু মাথা ঝাঁকিয়ে হ্যাঁ বলল। হুজুর আবারও দোয়া পড়ে মীরুর মাথায় ফুঁ দিয়ে তাকে কবুল বলতে বললেন। মীরু কবুল বলল। বলার সময় খেয়াল করল, হঠাৎ করেই তার শরীরের উপর দিয়ে একটা হালকা নরম বাতাস বয়ে চলে গেছে। কেমন শিহরিত হয়ে উঠল মনটা। মীরু আরও গুটিয়ে গেল। হুজুর আলহামদুলিল্লাহ বলে সবাইকে হাত তুলে দোয়া করতে বললেন।
এ মোনাজাতে কেউ দম্পতির আগাম জীবনের জন্য দোয়া চাইলেন না বরং মীরুর সুস্থ নির্ঝঞ্ঝাট জীবন চাইলেন। সব শেষ হলে ওরা আবার গাড়িতে করে বেরিয়ে পড়ল বাড়ির উদ্দেশ্যে। মীরু বারবার পেছন ফিরে চাইলো। ওর কেন যেন মনে হতে লাগল, কিছু একটা অতি গুরুত্বপূর্ণ জিনিস ফেলে যাচ্ছে এখানে…এই বটগাছের কাছে!
মনোয়ার সাহেব খানিকটা নিশ্চিন্ত বোধ করছেন এবারে।
তিনি আরামে মাথাটা এলিয়ে দিলেন সিটে। তার ঘুম পেয়ে যাচ্ছে। তিনি ঘূনাক্ষরেও ভাবতে পারলেন না, আসল সমস্যা তো এখান থেকেই শুরু…..
বাসায় আসার পরও মীরুর অস্থিরতা কমল না। বরং বুকের ভেতরটাও চাপ দিতে থাকল। কেমন একটা শূন্যতা ঘিরে ধরল চারপাশে। বারবার মনে হতে থাকল, কেউ তার অপেক্ষা করছে কিন্তু মীরু তার কাছে যেতে পারছে না। কেউ ডাকছে তাকে। বহুদূর থেকে…
মীরু… এসো মীরু… এসো আমার কাছে…
মীরু দু’হাতে কান চেপে ধরল।
সে রাতে ঠিকঠাক ঘুমাতেও পারল না।
ছাড়া ছাড়া ভাবে স্বপ্ন দেখল। সেসব স্বপ্নেও ভীষণ অদ্ভুত। একটা বটগাছ, তার গুড়িতে চুপ করে বসে আছে মীরু। বটগাছটার একটা ডাল বেঁকে তার মাথার উপর পড়েছে। যেন সে হাত বুলিয়ে দিচ্ছে তার চুলে। সেই ডাল আস্তে আস্তে মাথা থেকে গাল বেয়ে গলা দিয়ে নিচের দিকে নামতে লাগল। মীরু লজ্জায় স্থির হয়ে গেল।
হাঁসফাঁস করে ঘুম ভেঙে জেগে উঠল সে। বাইরে সবেমাত্র ভোরের আলো ফুটছে। আড়মোড়া ভেঙে বিছানা ছেড়ে নেমে এলো। কুয়াশায় মোড়া চারদিক। বেশি দূরের জিনিস দেখা যায় না। একটা ভেজা ভেজা ভাব সবখানে। যেন সবকিছুই সদ্য জন্ম নিয়েছে। স্নিগ্ধতায় মোড়া। মীরুর মন ভালো হয়ে গেল। এই সময় এক কাপ চা পাওয়া গেলে মন্দ হতো না। সে বারান্দায় এসে দাঁড়াল। রেলিং ভেজা। তার উপর কনুই ভর দিয়ে নিচের দিকে তাকাল।
মনোয়ার সাহেব বসে আছেন বাগানে। গায়ে একটা পাতলা চাদর দেওয়া। পেছন থেকে তাকে দু’হাতে জড়িয়ে ধরে আছেন শিখা। মীরুর চোখ সরিয়ে নিলো। ভালো মনটা পুনরায় খারাপ হয়ে গেল তার। একা একাই দাঁড়িয়ে রইল বারান্দায়।
কিছুক্ষণ পর মনোয়ার সাহেবই দেখতে পেলেন তাকে। হাঁক ছেড়ে নিচ থেকে ডাকলেন, ‘মা, নিচে এসো।’
মীরু যাবে না ভেবেও নামলো।
খালি পায়ে লনে পা রাখল। ভেজা ঘাসের উপর পা ফেলতে খুব ভালো লাগছে। এক ধরনের সুরসুরি অনুভূতি হচ্ছে।
মনোয়ার সাহেব বললেন, ‘জুতা পরে এসো। ঠান্ডা লেগে যাবে।’
‘নো নিড পাপা।’ বলে একটা চেয়ার টেনে বসল মীরু।
শিখা পট ভর্তি কফি নিয়ে এলেন, তারা দু’জন খাবে আর গল্প করবে বলে। মীরুকে দেখে সামান্য হতাশ ভাব তার চোখেমুখে ফুটে উঠল। মীরু সেটা খেয়াল করল। তবে বসে রইল যেন কিছুই হয়নি, এই ভাব ধরে।
শিখা বললেন, ‘তোমায় কফি দেবো?’
মীরু নির্লিপ্ত গলায় বলল, ‘দাও।’
তারপর বাবার দিকে তাকিয়ে কঠিন করে বলল, ‘তোমরা চাইলে বিয়েটা করে নিতে পারো পাপা। কেন শুধু শুধু আমার বাহানায় নিজেদের দূরে দূরে রাখছ? আই ফিল গিলটি। এন্ড আমার তো তোমাদের বিয়ে নিয়ে কোনো মাথাব্যথা নেই। আগেও বলেছি।’
শিখা দারুণ লজ্জা পেলেন।
মীরু এমনই, ঠোঁট পাতলা, মুখে যা আসে বলে ফেলে। মনোয়ার সাহেব ও তেমন কিছু মনে করেন না।
‘আমরা এখনো এসব নিয়ে ভাবিনি।’
‘না ভাবলে এখন ভাবো পাপা। আমি বড় হচ্ছি। নিজেকে সামলে নিতে একাই যথেষ্ট। আমার জন্য তোমার বা শিখা খালামনির প্রবলেম হোক, আমি চাই না। তাছাড়া লোকেও তো নানান কথা বলে শুনলাম। শিখা খালামনি সেদিন খুব কাঁদছিলেন একা একা। আমি দেখেছি।’
শিখা বিব্রতভাবে উঠে দাঁড়াল, ‘কিছু লাগলে ডেকো।’
তারপর অতি দ্রুত পায়ে ফিরে গেল ঘরের ভেতর।
তাই দেখে ঠোঁটের কোণে মুচকি হাসি ফুটিয়ে তুলল মীরু। সে একদমই পছন্দ করে না এই মানুষটিকে। বরং বাবা যদি ওকে বিয়ে করে তবে একটা বড় আপত্তি আছে। মায়ের জায়গাটায় অন্য কাউকে দেখতে চায় না সে।
মীরুও উঠে দাঁড়াল। শক্ত কণ্ঠে বলল, ‘হয় বিয়ে করো আর নইলে খালামনিকে অন্যত্র বিয়ে করে নিতে বলো পাপা। এভাবে পাবলিকলি তোমরা হাগ করো, আই ফিল ব্যাড ফর দ্যাট।’
মীরু গট গট পায়ে হেঁটে চলে এলো।
মনোয়ার সাহেব অনেকক্ষণ থম ধরে বসে রইলেন পরে।
***
হঠাৎ করেই বুকের ভেতরটা কেমন ফাঁকা ফাঁকা লাগছে। চারপাশ কুয়াশার চাদরে ঢেকে আছে। গা হীম করা শীত পড়েছে এ বছর। হাড্ডি শুদ্ধ জমিয়ে দেয়। তার ভেতর কোনো রকম শীত পোশাক ছাড়া খালি পায়ে হেঁটে বেড়াতে মীরুর খুব একটা খারাপ লাগছে না। বরং এভাবে ছন্নছাড়া হয়ে অনন্তকাল ধরে হেঁটে যেতে পারলে তার ভীষণ ভালো লাগতো।
এই বাগানটা তার দাদুর করা।
তিনি চলে গেলেও বড় মামা বাগানের যত্ন নেন। দু’জন মালিও আছে। তারাও চলে এসেছে। একজন পাতা ছেটে দিচ্ছে। আরেকজন গোড়ার মাটি আলগা করছে। মীরু তাদের দিকে এগিয়ে গিয়ে বেশ আগ্রহ করে কাজগুলি দেখতে লাগল।
একজন বলল, ‘আপনার পছন্দের ফুল কি ছোট আফা?’
অপরজন বলল, ‘গোলাবই হইবো। গোলাবের উপরে ফুল আছেনি।’
মীরু ঘাড় নাড়ল, ‘নাহ। আমার কোনো ফুল পছন্দ না।’
‘ওমা.. কেন?’
‘এমনিতেই। সবার সব পছন্দ হবে, এমন কোনো কথা আছে?’
‘না সেডা ঠিক আছে।’
মীরু ওদের ছাড়িয়ে বেঞ্চে গিয়ে বসল। বেঞ্চ ও ভিজে আছে। তবে বসতে খুব একটা অসুবিধে হচ্ছে না। সেখানে বসে বসে একা একাই পা দোলাতে লাগল।
মালি দু’জন ঘাড় ফিরিয়ে তা দেখে ফিসফিস করল, ‘মাইয়ার মাথায় গন্ডগোল মনে হয়।’
‘বড়লোকের আদরের বেটিগো মদ্দ্যে এরম সমস্যা থাকেই।’
‘সুন্দর মাইয়া, এডি সব জ্বিনের আছড়। শুনলি না তারা শহর থেইকা বড় হুজুরের কাছে আসছে।’
‘থাক, এডি নিয়া কথা না বলাই ভালো। হুনলে মালিকে আবার গাইল দিবো। কাম কর।’
দুজনে আবারও পেছন ফিরে তাকাল। অবাক হয়ে দেখল, মীরু একা একাই কথা বলছে, যেন তার পাশে সত্যিই কেউ বসে আছে। দুজনেরই মাথা ঘুরে গেল এ দৃশ্য দেখে…
‘তোমার গরম পোশাক কই? এভাবে খালি পায়ে হাঁটছ। ঠান্ডা লেগে যাবে তো।’
‘পাপা কিন্তু দেখেইনি আমার গায়ে সুয়েটার নাই।’
‘থাক, তুমি মন খারাপ করো না। তোমার চিন্তায় নিশ্চয়ই তোমার বাবা এলোমেলো হয়ে গেছে।’
মীরু রিনার দিকে তাকিয়ে হঠাৎ করুণ গলায় বলল, ‘তুমি কেন চলে গেলে মা?’
রিনা এ প্রশ্নের জবাব দিতে না পেরে মেয়ের দিকে নির্জীব চোখে তাকিয়ে রইলেন। মীরু কেঁদে উঠল। রিনা মেয়েকে নিজের কাছে টেনে নিল।
মনোয়ার সাহেব তার ঘরে শিখাকে ডেকে পাঠালেন।
‘কিছু লাগবে তোমার?’ বলতে বলতে শিখা এসে মনোয়ার সাহেব কে জড়িয়ে ধরতে গেলে তাকে সরিয়ে দিয়ে স্থির দৃষ্টি নিক্ষেপ করলেন।
শিখা থতমত খেয়ে দূরত্ব বজায় রাখল। সামনের চেয়ারটা ইশারা করে বসতে বললে চুপচাপ বসলেন।
মনোয়ার সাহেব সময় নিয়ে বললেন, ‘তুমি বিয়ে করে নাও শিখা। আমার জন্য অপেক্ষা করে থেকো না।’
শিখা আহত গলায় বললেন, ‘এসব তুমি কি বলছ মনোয়ার! বড় আপা মা রা যাওয়ার পর আমি তো তোমাকেই শয়নে স্বপনে ভেবে এসেছি। তুমি সব জেনেও..’
‘মীরু বোধহয় আমাদের ঠিক মেনে নিতে পারছে না। এমনিতেই ওকে নিয়ে আমি অনেক ক্রিটিকাল ফেইজ পার করছি। চাই না সেটা আরও জটিল হোক। তারচে তুমি তোমার লাইফ গুছিয়ে নাও। এই ভালো হয়।’
শিখা বললেন, ‘ও তোমায় এ কথা বলেছে?’
‘না। বরং ও আমাকে বরাবরই বলছে তোমায় বিয়ে করে নেওয়ার জন্য।’
‘তাহলে প্রবলেমটা কোথায়?’
মনোয়ার সাহেব অনেকক্ষণ সময় নিয়ে প্রশ্নটার জবাবে বললেন, ‘আমার মনে হচ্ছে মীরু ছোট একটা ট্রিক করছে এখানে। ও ওর মনের এক্সাক্ট অপোজিট কথাগুলো বলছে। ওর প্রবলেম আছে আমাদের বিয়েতে। সেটা সরাসরি বলতে না পারায় এভাবে জানাচ্ছে। আমার গাট ফিলিং অন্তত তাই বলে। আর ওর প্রবলেম হোক, এরকম টা আমি বিন্দু মাত্র চাই না। সো এটাই বেটার- তুমি তোমার লাইফ বেছে নাও।’
শিখা ঠান্ডা গলায় বললেন, ‘ডিড’ন্ট ইউ লাভ মি? নট ইভেন আ লিটেল?’
মনোয়ার সাহেব তারচেয়েও ঠান্ডা স্বরে বললেন, ‘আই লাভ মাই ডটার মোর দ্যান ইউ।’
এরপর আর কথা চলে না। শিখা নীরবে উঠে বেরিয়ে গেলেন। বাইরে ক্লান্ত অপরাহ্ন। কুন্ডুলি পাকিয়ে নামছে কুয়াশা। অন্য সময় এমন দৃশ্য দেখতে ভালো লাগলেও আজ লাগছে না। মনোয়ার সাহেবের জীবনটা হঠাৎ করেই কেমন অগোছালো হয়ে গেছে।
***
প্রতি রাতে ঘুমাবার আগে মীরুর সাথে অনেকক্ষণ গল্প করা শিখার অভ্যেস। তবে আজ তিনি গেলেন না। দরজা পর্যন্ত গিয়েও আর ভিতরে ঢুকলেন না। মনটা থমথম করছে। এ অবস্থায় মীরুর কাছে যাওয়াটা উচিত হবে না। তিনি ঠিক করলেন দরজা খুলে মীরু শুয়েছে কিনা এক নজর দেখেই চলে আসবেন। যেই ভাবনা সেই কাজ থেকেই তিনি ভেজানো দরজা ঠেলে ভেতরে উঁকি দিলেন। মীরু নেই, ঘর শূন্য। শিখা অবাক হয়ে ভেতরে এলেন। বাথরুমেও মীরু নেই। ঘড়ির কা টায় দশটা বাজছে। ঢাকা শহরের জন্য এটা খুব বেশি রাত না হলেও গ্রাম এলাকায় এখন গভীর নিশুতি রাত, তার উপর হাড় কাঁপানো ঠান্ডা বাইরে। এমন সময়ে মীরু কোথায় যাবে? ওর বাবার ঘরে?
শিখা সেখানেও খুঁজল। মীরু নেই। রান্নাঘর, স্টোর রুম, দাদীর ঘর, বড় মামা মামীর ঘর, সব খানে খুঁজল। মালিরা খুঁজল বাগানে৷ মীরু নেই, কোত্থাও নেই, এমনকি দারোয়ান ও কিছু বলতে পারছে না ঠিক করে।
মনোয়ার সাহেব বুকের ভেতর একটা চাপ অনুভব করলেন। তার অতি আদরের মীরুটা কোথায় গেছে?
(চলবে)
